Author: Ishita Mondal

  • National Education Policy: ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবসে’ পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ডাক, ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে চাঁদের হাট

    National Education Policy: ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবসে’ পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ডাক, ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে চাঁদের হাট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৪ সালের ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা বাঁচাও আন্দোলনে’র স্মৃতি এবং ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসে’র প্রতিষ্ঠা দিবসের স্মরণে দেশজুড়ে পালিত হল ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’ (Indian Education Day)। প্রতি বছরের মতো এবারও ২ জুলাই পালিত হয় ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’। সেই মতোই কলকাতার ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজ ও শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের যৌথ উদ্যোগে ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’ (Indian Education Day) উদযাপন করা হয়। আয়োজন করা হয়েছিল আলোচনা সভারও।

    আলোচনার মূল বিষয় (National Education Policy)

    আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ”পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বাস্তবায়ন ” (National Education Policy)। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) পশ্চিমবঙ্গে কতখানি এবং কীভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা নিজেদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন ওই অনুষ্ঠানে।

    আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথা বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের পূর্ব ক্ষেত্রের ক্ষেত্র সঙ্ঘচালক জয়ন্ত রায়চৌধুরী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ সুরেশ গুপ্ত এবং পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক অধ্যাপক রঞ্জিত প্রসাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ তথা আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এবং প্রান্ত সংযোজিকা সুচেতা মুখার্জী।

    অতিথিদের তালিকায় ছিলেন প্রজ্ঞা প্রবাহের পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক অরবিন্দ দাস, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্র সংগঠনমন্ত্রী অপাংশু শেখর শীল এবং ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক রমেশ প্রামাণিক। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা, কেন্দ্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, গবেষক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বহু অভিভাবক। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) প্রয়োগের বিভিন্ন দিক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এই আলোচনা ও যৌথ প্রয়াস আগামী দিনে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।

    দেশের প্রগতি ও শিক্ষার মেলবন্ধন

    অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বক্তা জয়ন্ত তাঁর বক্তব্যে ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই লক্ষ্যগুলি পূরণে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। ন্যাসের পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) কার্যকরের একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরেন। ভারতকেন্দ্রিক ও মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক বার্তা

    শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এবং পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বাংলায় এর বিস্তারের দিক-নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিক্ষকদের ভূমিকা

    ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজের অধ্যক্ষ শুভ্রনীল সোম তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন,”জাতীয় শিক্ষানীতি তখনই পুরোপুরি সফল হবে, যখন পঠন-পাঠনে শিক্ষকরা আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবেন এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে”। তিনি এও বলেন,”পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয় স্তরে এখনও রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি এবং তার নির্ধারিত $৫+৩+৩+৪$ পাঠ্যক্রম প্রণালী চালু করা সম্ভব হয়নি, যা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন”। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই নয়া শিক্ষানীতি চালু হলে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি সুবিধা পাবে। তখন আর শুধু মুখস্থ করে পাশ করার চাপ থাকবে না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বিষয় নিয়ে বাস্তবমুখী ও কাজের উপযোগী শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবে। কোনও কারণে মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও, পরে ফের সেখান থেকেই পড়া শুরু করা যাবে। মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন বাংলার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল ও স্বাবলম্বী করে তুলবে বলেই আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত গুণীজনেরা।

  • Attack In Balochistan: বালোচিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, গুঁড়িয়ে গেল পাক সেনা শিবির, নিহত ৩০

    Attack In Balochistan: বালোচিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, গুঁড়িয়ে গেল পাক সেনা শিবির, নিহত ৩০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত গদর (Gwadar)। এবার সেখানেই আত্মঘাতী হামলা (Gwadar Attack) বালোচ বিদ্রোহীদের। পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর (Coast Guard) শিবিরে হামলায় অন্তত ৩০ জন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির’ (BLA)। রক্তক্ষয়ী হামলার পুরো দায় স্বীকার করেছে ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA)।

    স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত হামলার হুঁশিয়ারি

    বিএলএ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বালোচিস্তানের পূর্ণ স্বাধীনতাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নিশানা করে এই ধরনের হামলা চলতেই থাকবে। এমনকী আগামী দিনে এই হামলার ঝাঁঝ এবং তীব্রতা আরও বাড়বে বলেও হুমকি দিয়েছে বিদ্রোহীরা।

    আত্মঘাতী হামলা (Attack In Balochistan)

    ইতিমধ্য়েই, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে হামলার (Attack In Balochistan) পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ এই অপারেশন চালানো হয়। বিএলএর এক আত্মঘাতী স্কোয়াড সদস্য বিস্ফোরক বোঝাই একটি বড় ট্রাক নিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবিরে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে সেনা শিবিরের একটি বড় অংশ মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিএলএ জানিয়েছে, এই আত্মঘাতী হামলাকারীর নাম আত্তাউল্লা বালোচ ওরফে আজমল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বালোচ বিদ্রোহীরা ভারী ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবিরে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে। এরপরই পাকিস্তানি জওয়ানদের লক্ষ্য করে চলে এলোপাথাড়ি গুলি। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই সংঘর্ষে বহু পাক জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

    ব্যর্থতা ঢাকতে ইসলামাবাদের দোষারোপের রাজনীতি

    পাক-ভূখণ্ডে এই বালোচ গোষ্ঠীটিকে অনেক আগেই নিষিদ্ধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অগাস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও (USA) বিএলএকে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের দেশের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা এই সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের এই চরম ব্যর্থতা ঢাকতে পাক সরকার প্রতিবারের মতো এবারও ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের দাবি, বিএলএ আসলে ভারতের মদতপুষ্ট এবং ভারতই তাদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করে।

    নয়াদিল্লির কড়া জবাব

    যদিও এই দাবির পক্ষে আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলে কোনও তথ্য বা প্রমাণ দিতে পারেনি পাকিস্তান সরকার। স্বভাবতই ভারত সরকারও পাকিস্তানের এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং হাস্যকর বলেই দাবি করেছে। কিছু দিন আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “বালোচিস্তানের সমস্যার জন্য অন্য কোনও রাষ্ট্রকে দোষারোপ করার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা। অন্যকে কাঠগড়ায় না তুলে নিজেদের ত্রুটিপূর্ণ নীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা নিয়ে পাকিস্তানের গভীরভাবে আত্মবিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।” আত্মঘাতী হামলা নিয়ে পাক সেনা এখনও নীরব। তারা এই হামলার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত যেমন করেনি, তেমনই ঠিক ক’জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যাও সাধারণ মানুষের সামনে আনেনি। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পুরো ছবি জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে।

LinkedIn
Share