Author: Krishnendu Bakshi

  • Donald Trump: “ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে”, আয়াতুল্লাকে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    Donald Trump: “ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে”, আয়াতুল্লাকে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে ঘিরে ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইরান (Iran) যদি আবার পরমাণু পরীক্ষার কর্মসূচিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করে অথবা দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও রক্তাক্ত আকার নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এদিন ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই ইরান সরকার শত শত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন (Donald Trump)

    ইরানের (Iran) ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র (Donald Trump) ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বিরাট পরিমাণে সামরিক শক্তি মোতায়েন শুরু করেছে। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে একাধিক এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, গাইডেড মিসাইলবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। ফলে ইরান সরকারের প্রধান আয়াতুল্লা খামেনিকে ভাবতেই হচ্ছে।

    পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্র দেশগুলিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্যাট্রিয়ট ও থাড মোতায়েন করছে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিহত করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার চেয়ে বেশি শক্তি প্রদর্শন এবং কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছুই না।

    ইরানের ভেতরে বিক্ষোভ ও দমন অভিযান

    ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপ নেয়। ইসলাম ধর্মগুরু খোমেনির ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

    তবে ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে কঠোর সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) এই কঠোর দমন নীতির অভিযানকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইরান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    ইরানের পাল্টা বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে ইরানও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান (Iran) সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, আমাদের দেশ সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত। যে কোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে আমরা ট্রিগারে আঙুল রেখে দিয়েছি। একই ভাবে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উস্কে দিচ্ছে এবং সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বাইরের শক্তির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।

    কেন এখন ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের (Donald Trump) চাপ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—

    • ইরানের ভেতরে চলমান বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
    • ইরানের (Iran) সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা
    • মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশেরদের নিরাপত্তা উদ্বেগ

    ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি পারমাণবিক পথে ফেরে, তাহলে তা গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। তাই আরও কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

    হামলা হলে কী হতে পারে?

    যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে তা ধাপে ধাপে হতে পারে। প্রথমে সীমিত আকারে সতর্কতামূলক হামলা, এরপর ইরানের সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র বা ড্রোন পরিকাঠামো লক্ষ্য করা হতে পারে। চরম পরিস্থিতিতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলিও নিশানায় আসতে পারে।

    ইজরায়েলের সম্ভাব্য ভূমিকা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে ইজরায়েলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারে। ইজরায়েল ইরানকে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করে। ফলে সংঘাত বাড়লে ইজরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান যদি পরমাণু শক্তিধর দেশ হয়ে যায় তাহলে ইহুদীয়ের ধর্মীয় অস্তিত্বে সবথেকে বড় সঙ্কটে নেমে আসবে।

    সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র (Donald Trump) ও ইরানের  (Iran) মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। এখনও পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধ শুরু না হলেও সামরিক প্রস্তুতি, কড়া হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।

  • I-PAC: অবৈধ কয়লা খনন  ও আর্থিক দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে কীভাবে ইডির নজরে আই-প্যাক?

    I-PAC: অবৈধ কয়লা খনন ও আর্থিক দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে কীভাবে ইডির নজরে আই-প্যাক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে, তা নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। এই অভিযানের কেন্দ্রে নাম উঠে এসেছে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I-PAC) এবং সংস্থার অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের নাম।

    ইডির বক্তব্য

    ইডি তাদের একটি প্রেস রিলিজে পরিষ্কার জানিয়েছে, এই তল্লাশি কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অবৈধ কয়লা খনন ও অর্থপাচার (Coal Mining Corruption Cases) সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবেই চালানো হয়েছে। মামলাটি আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী তদন্ত চলছিল। সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই অভিযানে কলকাতা ও দিল্লির একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। আই প্যাক (I-PAC) এর অফিস, প্রতীক জৈনের বাসভবন – সব মিলিয়ে প্রায় ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ইডির এই অভিযান।

    অবৈধ কয়লা খননের সূত্রপাত (Coal Mining Corruption Cases)

    এই মামলার সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলা এবং তার সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (Coal Mining Corruption Cases)-এর খনন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন ও চোরাচালান চলছিল। এই চক্রে রেলওয়ে, সিআইএসএফ-সহ বিভিন্ন দফতরের কিছু অসাধু কর্মীর যোগসাজশ ছিল। অবৈধভাবে উত্তোলিত কয়লা পরে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বিক্রি করার চক্র চলত। হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ২,৭৪২ কোটি টাকার কয়লা এভাবে পাচার হয়েছে বলে অনুমান।

    এই সিন্ডিকেটের মূল মাথা হিসেবে একাধিকবার উঠে আসে অনুপ মজির নাম। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ২০০০ সাল থেকে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সিবিআই এই মামলায় হস্তক্ষেপ করে এবং তদন্ত আরও জোরদার হয়।

    অর্থপাচারের পথে আই প্যাক (I-PAC)-এর নাম

    তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্ক। ইডির দাবি, অবৈধ কয়লা বিক্রির টাকা বিভিন্ন হাওলা অপারেটরের মাধ্যমে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং সেই লেনদেনের একটি বড় অংশ আই প্যাক (I-PAC)-এর কাছেও আসে। এই অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কারণেই ইডির নজরে আসে। ইডির দাবি, এই অর্থ কীভাবে, কোন পরিষেবার বিনিময়ে এবং কোন চুক্তির আওতায়  প্রতীক জৈনের কাছে এসেছে – তা যাচাই করতেই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

    ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক বিতর্ক

    তল্লাশি চলাকালীন পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এবং তিনি প্রকাশ্যে এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজ্যের শাসক দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। প্রতীক জৈন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত কাজ দেখতেন, ফলে ইডির তল্লাশি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই প্রতিফলন।”

    ইডির পাল্টা অবস্থান

    ইডি অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ।  স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও প্রমাণনির্ভর। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে না। তল্লাশির সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে।

    রাজনীতি ও তদন্ত – দুটোর মাঝখানে  আই প্যাক

    অবৈধ কয়লা খনন ও অর্থপাচার মামলার (Coal Mining Corruption Cases) তদন্ত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনা এখন স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার আর্থিক তদন্ত, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া-সব মিলিয়ে  আই প্যাক-এর নাম জড়িয়ে পড়ায় এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং এই অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রকৃত ছবি কতটা স্পষ্ট হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

  • Hindus in Bangladesh: বাংলাদেশে বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ, ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    Hindus in Bangladesh: বাংলাদেশে বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ, ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ করে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া এবং ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সাব-ডিসট্রিক্ট শহর কালীগঞ্জের ওয়ার্ড নম্বর ৭-এ ঘটে বলে স্থানীয় পুলিশ এবং সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর (Hindus in Bangladesh)। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুসারে, প্রায় দুই বছর আগে ওই মহিলা শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে কুড়ি লাখ টাকা দিয়ে একটি জমি ও একটি দুই তলা বাড়ি কিনেছিলেন। পরে শাহিন ওই মহিলাকে অশ্লীল প্রস্তাব দিতে শুরু করে ও তাঁকে নানাভাবে হয়রান করতে থাকে (Gang Rape)।

    কাঠগড়ায় দুই মুসলিম যুবক (Hindus in Bangladesh)

    শনিবার সন্ধ্যায় ওই মহিলা যখন তাঁর বাড়িতে ছিলেন, তখন শাহিন এবং তার সহযোগী হাসান ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা মহিলার কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা দাবি করে, যা তিনি দিতে অস্বীকার করেন। তখন তারা ওই মহিলার আত্মীয়দের ওপরও হামলা চালায়। এরপর তারা ওই মহিলাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে, তাঁর চুল কেটে ফেলে ও ভিডিও রেকর্ড করে, এবং সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। হামলার সময় মহিলাকে মারধর করা হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ডাক্তারি পরীক্ষার পর ওই মহিলা কালীগঞ্জ থানার পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে শাহিন ও হাসানকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ তদন্ত করছে (Hindus in Bangladesh)।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হিংসার অভিযোগ

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হিংসার ঘটনা (Gang Rape) নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ডিসেম্বর মাসে কালীমহর ইউনিয়নে অমৃত মণ্ডল নামে আর এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহে ২৫ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে মারধর করে গাছে ঝুলিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। শরিয়তপুরে আবার খোকন দাস নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে ছুরি মেরে ও আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয় (Hindus in Bangladesh)।

  • Magh Mela 2026: প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রস্তুতি শুরু, কবে কবে অমৃত স্নান জানেন?

    Magh Mela 2026: প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রস্তুতি শুরু, কবে কবে অমৃত স্নান জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ৩-জানুয়ারি থেকে প্রয়াগরাজে (Prayagraj) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী মাঘ মেলা (Magh Mela 2026)। এই মাঘ মেলা ৩ জানুয়ারি (পৌষ পূর্ণিমা) থেকে শুরু হবে আর চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মহাশিবরাত্রি) পর্যন্ত। এক মাসব্যাপী এই ধর্মীয় সমাবেশকে ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। মাঘ মেলার মূল আকর্ষণ পবিত্র অমৃত স্নান। গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থল ত্রিবেণী সঙ্গমে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই সময় পুণ্যস্নানে ডুব দেন। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিশ্বাস, এই স্নানের মাধ্যমে পাপমোচন ও আত্মিক শুদ্ধি লাভ হয়।

    শাহী স্নানের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি (Magh Mela 2026)

    প্রয়াগরাজের (Prayagraj) প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মাঘ মেলা ২০২৬-এ মোট ছ’টি প্রধান স্নান তিথি রয়েছে—

    • ৩ জানুয়ারি ২০২৬ (পৌষ পূর্ণিমা): মাঘ মেলার সূচনা ও কল্পবাসের শুরু
    • ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ (মকর সংক্রান্তি): দ্বিতীয় অমৃত স্নান
    • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ (মৌনী অমাবস্যা): তৃতীয় অমৃত স্নান
    • ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ (বসন্ত পঞ্চমী): চতুর্থ অমৃত স্নান
    • ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মাঘী পূর্ণিমা): কল্পবাসীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্নান
    • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মহাশিবরাত্রি): শেষ অমৃত স্নান ও মেলার সমাপ্তি

    এই দিনগুলিতে বিপুল ভিড়ের সম্ভাবনা থাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় উত্তর প্রদেশ প্রশাসন।

    কল্পবাসের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

    মাঘ মেলার (Magh Mela 2026) অন্যতম প্রধান দিক হল কল্পবাস। পৌষ পূর্ণিমা থেকে মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত একমাস ধরে বহু ভক্ত ত্রিবেণী (Prayagraj) সঙ্গমতটে অস্থায়ী কুটির বা তাঁবুতে বসবাস করেন। এই সময় তাঁরা কঠোর নিয়ম মেনে জীবনযাপন করেন – প্রতিদিন ভোরে পুণ্যস্নান, উপবাস, প্রার্থনা, বেদপাঠ ও ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেন। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, কল্পবাস আত্মসংযম, শুদ্ধাচার এবং আত্মশুদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক কল্পবাসী মকর সংক্রান্তির দিন থেকে এই ব্রত শুরু করেন।

    প্রশাসনের প্রস্তুতি

    মাঘ মেলা (Magh Mela 2026) ২০২৬ ঘিরে উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের (Prayagraj) তরফে পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উল্লেখ্য, মাঘ মেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

  • Arunachal Anti-Infiltration Protest: অরুণাচলে অনুপ্রবেশ বিরোধী আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি

    Arunachal Anti-Infiltration Protest: অরুণাচলে অনুপ্রবেশ বিরোধী আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার বিশাল গণবিক্ষোভের রূপ নিল। গত ২৭শে ডিসেম্বর রাজধানী ইটানগরে কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী যুবক রাজপথে নেমে এক অভাবনীয় প্রতিবাদ মিছিল করেন। মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা কথিত “মিয়া-মুসলিম” অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের দেওয়া ইনার লাইন পারমিট (ILP) বাতিলের দাবিতে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

    ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে মুখরিত রাজপথ

    শনিবার সকাল থেকেই ইটানগরের রাজপথ মিছিলে মিছিলে ভরে ওঠে। ‘ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ ফোর্স অফ অরুণাচল প্রদেশ’ (IYFA) এবং ‘অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’ (APIYO) এর নেতৃত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে শোনা যায় “বন্দে মাতরম” এবং “ভারত মাতা কি জয়” স্লোগান। সমাবেশ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, “অরুণাচল প্রদেশে মিয়া-মুসলিমদের কোনো জায়গা নেই।”

    “উত্তর-পূর্ব ভারত বাংলাদেশের অংশ হবে না”

    সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে IYFA নেতা কামতা পাসান্দ বলেন, “বাংলাদেশের কিছু নেতা জনসমক্ষে উত্তর-পূর্ব ভারতকে তাদের দেশের অংশ করার স্বপ্ন দেখছেন। আমরা ভারত মাতার গর্বিত সন্তান হিসেবে স্পষ্ট জানাচ্ছি, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত। আমাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার কোনো বহিরাগতকে কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না।”

    অন্যদিকে, APIYO নেতা টারো সোনাম অভিযোগ করেন যে, হাজার হাজার মানুষ ভুয়া আধার কার্ড এবং জাল আইএলপি (ILP) ব্যবহার করে রাজ্যে ঢুকে পড়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০ জন অবৈধ বসতি স্থাপনকারীকে চিহ্নিত করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরালো হবে।

    নিরাপত্তা ও সামাজিক অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ

    প্রতিবাদকারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান খুন, ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের পেছনে অনুপ্রবেশকারীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও রাজধানী এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ১২টি অবৈধ মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগঠনের নেতাদের মতে, বিপুল সংখ্যক বহিরাগতদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

    রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান

    মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা রাজ্য সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেন। তাদের প্রধান দাবি হলো—অবিলম্বে সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর করতে হবে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যতক্ষণ না অরুণাচল থেকে শেষ অনুপ্রবেশকারীকে উপড়ে ফেলা হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই লড়াই চলবে।

    এই আন্দোলনের ফলে অরুণাচল প্রদেশের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক আবারও জাতীয় স্তরে নতুন মাত্রা যোগ করল।

  • Christmas Carbon Footprint: ক্রিসমাসের উদযাপনের আড়ালে বাড়ছে পরিবেশগত সংকট

    Christmas Carbon Footprint: ক্রিসমাসের উদযাপনের আড়ালে বাড়ছে পরিবেশগত সংকট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আলো, সাজসজ্জা, উপহার আর উৎসবের আনন্দে ভরপুর ক্রিসমাস। কিন্তু এই উৎসবের আড়ালেই তৈরি হচ্ছে এক বিশাল পরিবেশগত সংকট। পরিবেশবিদ ও গবেষকদের মতে, আধুনিক সময়ে ক্রিসমাস কেবল ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি বিশ্বজুড়ে অন্যতম বড় বার্ষিক ভোগবাদী ও পরিবেশ-ক্ষতিকর উৎসবে পরিণত হয়েছে।

    উৎসবের সঙ্গে বাড়ছে অতিরিক্ত ভোগ

    যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে পালিত এই উৎসবটি একসময় ছিল সংযম, দান ও মানবিকতার প্রতীক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিসমাস এখন কেনাকাটা, ভ্রমণ, উপহার আদান-প্রদান, সাজসজ্জা ও খাদ্য উৎপাদনের সবচেয়ে বড় বার্ষিক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

    শপিং মল, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, কৃষিখামার, বনাঞ্চল থেকে শুরু করে বর্জ্যভূমি – সব জায়গাতেই এই উৎসবের প্রভাব পড়ে। ডিসেম্বর শেষ হলেও তার পরিবেশগত ক্ষতি দীর্ঘদিন থেকে যায়।

    বনসম্পদের উপর বাড়ছে অদৃশ্য চাপ

    ক্রিসমাসের অন্যতম বড় কিন্তু কম আলোচিত প্রভাব পড়ছে বনসম্পদের উপর। প্রাকৃতিক ক্রিসমাস ট্রি, র‍্যাপিং পেপার, কার্ডবোর্ড বাক্স, কাঠের সাজসজ্জা ও কাগজ-ভিত্তিক উপহার – এই সবকিছুর উৎসই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বনভূমি।

    উৎসবের মরশুমে এই পণ্যের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায়, এমনকি নিয়ন্ত্রিত প্ল্যান্টেশন থেকেও অতিরিক্ত কাঠ ও কাগজ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে বন সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্যের উপর চাপ বাড়ছে।

    বর্জ্য ব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে বড় সংকট

    ক্রিসমাসের সময় বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। উন্নত দেশগুলির পৌর সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উৎসবের সময়ে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।

    একবার ব্যবহারযোগ্য সাজসজ্জা, অতিরিক্ত প্যাকেজিং, প্লাস্টিক মোড়া উপহার – এই সব মিলিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা কার্যত হিমশিম খায়। এই বর্জ্যের বড় অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এবং শেষ পর্যন্ত ল্যান্ডফিলে গিয়ে জমা হয়।

    প্লাস্টিক ও মিথেনের দ্বৈত বিপদ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিসমাসে ব্যবহৃত প্যাকেজিং সামগ্রী পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর দিকগুলির একটি। গবেষণা জানাচ্ছে, উৎসবের মরশুমে সারা বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি বর্জ্য উৎপন্ন হয়।

    অতিরিক্ত খাদ্য অপচয় ও ব্যবহৃত ক্রিসমাস ট্রি যখন ল্যান্ডফিলে পচে যায়, তখন সেখান থেকে নির্গত হয় মিথেন গ্যাস। এই গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় বহু গুণ বেশি ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস।

    ক্রিসমাস আনন্দের উৎস, তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু সেই আনন্দ যদি অজান্তেই প্রকৃতির উপর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে, তাহলে সচেতন হওয়া জরুরি। জলবায়ু সংকটের এই সময়ে উৎসবের সংজ্ঞা বদলাতে হবে – ভোগ থেকে দায়িত্বের দিকে।

  • Winter Health: বছরশেষের উদযাপনে স্বাস্থ্যঝুঁকি! সতর্ক না হলে বাড়বে সংক্রমণ

    Winter Health: বছরশেষের উদযাপনে স্বাস্থ্যঝুঁকি! সতর্ক না হলে বাড়বে সংক্রমণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছরশেষের উদযাপনে স্বাস্থ্যে কোন সঙ্কট দেখা দিতে পারে? কীভাবে সুস্থ থাকবেন? কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা বিশেষজ্ঞ মহলের?

    উত্তর থেকে দক্ষিণ, শীত জাঁকিয়ে পড়েছে। বছর শেষের এই মরশুমে থাকে নানান উদযাপন। বন্ধুদের সঙ্গে দিনভর পিকনিক, রাত জেগে আড্ডা! পরিবারের সঙ্গে একটু বিশেষ সময় কাটানো! অনেকেরই এমন নানান পরিকল্পনা থাকে। তবে, এই সবকিছুই উপভোগ করা যায়, যদি শরীর সুস্থ থাকে। বছর শেষে এই শীতের মরশুমে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সতর্ক আর সচেতন না থাকলেই বিপদ বাড়বে। তবে শরীর সুস্থ রাখতে সচেতনতা আর সতর্কতার পাশপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদানেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কোন স্বাস্থ্য সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    বাড়তে পারে ফুসফুসের সংক্রমণ!

    বছর শেষের এই সময়ে বাড়তে পারে ফুসফুসের সংক্রমণ। এমনটাই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বাড়ে। তাছাড়া কলকাতা, হাওড়া সহ রাজ্যের একাধিক শহরে শীতের মরশুমে বায়ু দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে। ইংরেজি বছর শেষের এই উদযাপনে অনেকেই বাজি পোড়ায়। এর ফলে পরিবেশ আরও বেশি দূষিত হয়। ফলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট বাড়ে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে বাতাসে নানান ভাইরাস সক্রিয়তা বাড়ে। তাই ভাইরাস ঘটিত জ্বর-সর্দির ভোগান্তি হয়। আবার এই সময়ে নানান উৎসব উদযাপনের জন্য ভিড় হয়। তাই ভিড় থেকে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাছাড়া ফুসফুসের সংক্রমণের জেরে শ্বাসনালীর নানান রোগের দাপট বাড়ে। তাই অনেকেই কাশিতে নাজেহাল হন।

    বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জেরেই হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে। আবার শীতের মরশুমে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হয়। তাছাড়া, অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, নিয়মিত শারীরিক কসরত না করার মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের জেরেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। উৎসবের মরশুমে অনেকেই অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করেন, পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। এগুলো শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি করে আবার কোলেস্টেরলের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

    পেটের অসুখ আর হজমের সমস্যা বাড়তে পারে!

    বছর শেষের এই সময় পিকনিকের মরশুম। তাই দেদার খানাপিনা চলে। অনেকেই অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় প্রাণীজ প্রোটিন খান। এর ফলেই পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। আবার অনেক সময়েই নানান উদযাপনে জল পরিশ্রুত কিনা সেদিকে নজরদারি থাকে না। তাই পেটের অসুখের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাছাড়া, এই সময়ে অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়ার জেরে এবং রাত জাগলে হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। বমি, পেট ব্যথার মতো নানান সমস্যায় ভোগান্তি দেখা যেতে পারে।

    লিভারের ক্ষতি হতে পারে!

    হজম সমস্যা লাগাতার হলে লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বছর শেষের নানান উৎসবে অনেকের উদযাপনের অংশ হয় মদ্যপান। আর এই অভ্যাস বিপজ্জনক। মদ্যপানের অভ্যাস লিভারের জন্য ক্ষতিকারক। তাই প্রত্যেক বছরেই শীতের পরে লিভারের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়।

    কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    রান্নাঘরের চেনা উপাদানে কমবে সংক্রমণের ঝুঁকি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে নানান ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে রান্নাঘরের চেনা উপাদান সাহায্য করবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আদা, রসুন, হলুদ, এলাচ, দারুচিনির মতো পরিচিত মশলা নিয়মিত রান্নায় ব্যবহার করলে একদিকে শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। বক্ষঃনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতেও সাহায্য করবে। এই মশলাগুলো শরীরকে ভাইরাস ঘটিত অসুখের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।

    উৎসবের মেনু নির্বাচনেও থাকুক সচেতনতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, উৎসব উদযাপনে দেদার খাওয়া চলে। কিন্তু সামান্য সচেতনতা থাকলে ভোগান্তি কমবে। খাবারের মেনু নির্বাচনের সময়েও স্বাস্থ্য সচেতনতার দিক বাদ দিলে চলবে না। বিশেষত রাতের দিকে খাবারের সময় পরিমাণের দিকে নজরদারি জরুরি। আবার কী খাওয়া হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণ চর্বি জাতীয় মাংসের পদ এড়িয়ে চলা উচিত। আবার অনেক রকম তেলেভাজা জাতীয় খাবার খাওয়া চলবে না।‌ বরং পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, মেনুতে নানান রকমের স্যালাড রাখা যেতেই পারে। সব্জি, ফলের স্যালাড সহজে হজম হয়। আবার ফল রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। তার পাশপাশি তেলে ভাজার বদলে হরেক রকমের স্যুপ রাখা যেতে পারে। শীতের আমেজে গরম স্যুপ ভালো লাগবে।‌ আবার হজম সহজেই হবে। মাংসের পদ রান্না করলেও তেল মশলা নিয়ে সজাগ থাকা জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, মাংসের পদ রান্নার সময় খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে মাংসের সঙ্গে নানান সব্জি থাকে। প্রোটিনের সঙ্গে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন, ফাইবার, মিনারেল পৌঁছলে হজম শক্তি ভালো থাকে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি। শীতের আবহাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরত করেন না। আর উপরে বাড়তি খাওয়া শরীর সুস্থ থাকার পথে বাড়তি বিপদ তৈরি করে‌। নিয়মিত শারীরিক কসরত করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। ফলে অতিরিক্ত ওজন এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

  • Amit Shah: “শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে ভারত, শুরু হবে রপ্তানি”, অমিত শাহ

    Amit Shah: “শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে ভারত, শুরু হবে রপ্তানি”, অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ধীরে ধীরে কেবল একটি বড় বাজার নয়, বরং একটি উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। সেই দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গোয়ালিয়রে অনুষ্ঠিত ‘অভ্যুদয় মধ্যপ্রদেশ গ্রোথ সামিট’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানালেন, সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors) ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে ভারত দ্রুত এডেস্কঃ এবং অদূর ভবিষ্যতেই এই খাতে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে ভারত।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কেবল স্লোগান নয় (Amit Shah)

    অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রবেশ করতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রবেশটা হয়েছে খুব শক্ত ভিতের উপর। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত শুধু এই ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরই হবে না, বরং বিশ্বের বাজারে সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors) রপ্তানি শুরু করবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এখন কেবল স্লোগান নয়, বরং প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে।

    মধ্যপ্রদেশের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থান ও উর্বর জমির বিশেষ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রদেশ এমন একটি রাজ্য যেখানে তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগেও বড় মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির রাজ্য থেকে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্যে রূপান্তর এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকেও তিনি ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে তুলে ধরেন।

    এই গ্রোথ সামিটে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগমূল্যের একাধিক শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-র ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে। বাজপেয়ীকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “অটলজি ছিলেন এক অসাধারণ বক্তা, সংবেদনশীল কবি, জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং রাজনীতিতে ‘অজাতশত্রু’ – যাঁর কোনও শত্রু ছিল না।”

    এদিন অমিত শাহ শ্রদ্ধা জানান সমাজ সংস্কারক পণ্ডিত মদন মোহন মালব্যের জন্মবার্ষিকীতে এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল সি রাজাগোপালাচারীর মৃত্যুবার্ষিকীতেও। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, আধুনিক ভারতের নির্মাণে এই মনীষীদের অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

    অটল মিউজিয়াম

    সামিট উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) গোয়ালিয়র মেলার উদ্বোধন করেন এবং অটল মিউজিয়ামের সংস্কার কাজ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। জানা গেছে, এই গ্রোথ সামিটে প্রায় ২৫ হাজার উপভোক্তা, পাশাপাশি হাজার হাজার উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী (Semiconductors) অংশগ্রহণ করছেন। সামিটে ঘোষিত ও উদ্বোধন হওয়া শিল্প প্রকল্পগুলির মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৯৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, এই সামিট কেবল একটি বিনিয়োগ সম্মেলন নয়-বরং তা ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আত্মনির্ভরতার দিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Swami Shraddhanand: বৈদিক মূল্যবোধ ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পুনরুজ্জীবনে নিজেকে উৎসর্গ করেন স্বামী শ্রদ্ধানন্দ

    Swami Shraddhanand: বৈদিক মূল্যবোধ ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পুনরুজ্জীবনে নিজেকে উৎসর্গ করেন স্বামী শ্রদ্ধানন্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগের ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন স্বামী শ্রদ্ধানন্দ। ২৩ ডিসেম্বর ১৯২৬ সালে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। শিক্ষা সংস্কার, সামাজিক ন্যায়, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং হিন্দু সমাজের পুনর্গঠনে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার জন্য তিনি আজও স্মরণীয়। তাঁর শহিদ হওয়া ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

    স্বামী শ্রদ্ধানন্দের জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৬, পাঞ্জাব প্রদেশের জলন্ধর জেলার তালওয়ান গ্রামে। তাঁর আসল নাম ছিল বৃহস্পতি বিজ, যিনি লালা মুন্সি রাম নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর পিতা লালা নানক চাঁদ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনে পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিলেন। মুন্সি রাম তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন বারাণসীতে (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ) এবং পরে লাহোরে আইন নিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তিনি প্রথমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন, কিন্তু পরে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর ফিল্লৌর ও জলন্ধরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে তিনি একটি সফল পেশাগত জীবন গড়ে তোলেন। তিনি শিব দেবী–কে বিবাহ করেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে স্ত্রীর মৃত্যু তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাঁদের দুই পুত্র—হরিশচন্দ্র ও ইন্দ্র—এবং দুই কন্যা ছিল, যাদের মধ্যে একজনের নাম বেদ কুমারী। এই ব্যক্তিগত শোকই তাঁর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে রূপ দেয়।

    স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে পরিচয়

    আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে পরিচয় স্বামী শ্রদ্ধানন্দের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রথমে সংশয় থাকলেও, বেরেলিতে স্বামী দয়ানন্দের একটি বক্তৃতা শোনার পর তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। দয়ানন্দের যুক্তিবাদ, নির্ভীকতা ও সংস্কারমূলক চেতনা তাঁকে আকৃষ্ট করে। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আর্য সমাজে যোগ দেন এবং বৈদিক মূল্যবোধ ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পুনরুজ্জীবনে নিজেকে উৎসর্গ করেন।

    দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রদূত

    স্বামী শ্রদ্ধানন্দ ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেশীয় ঐতিহ্য ও জাতীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তোলার অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। উনিশ শতকের শেষভাগে আর্য সমাজ ডিএভি (দয়ানন্দ অ্যাংলো-বৈদিক) বিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ভারতীয় মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পশ্চিমি শিক্ষার ভূমিকা নিয়ে আর্য সমাজের অভ্যন্তরে মতভেদ দেখা দেয় এবং ১৮৯২ সালে বিভাজন ঘটে। শ্রদ্ধানন্দ গুরুকুল শিক্ষাপদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নেন—যেখানে আবাসিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, আধ্যাত্মিকতা ও চরিত্র গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়। তিনি গুরুকুলপন্থীদের নেতৃত্ব দেন এবং পাঞ্জাব আর্য প্রতিনিধি সভা গঠন করেন। ১৯০০ সালে, তিনি গুজরানওয়ালায় (বর্তমান পাকিস্তান) প্রথম গুরুকুল প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এটি হরিদ্বারের কাছে কাংরি অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয় এবং পরিচিত হয় গুরুকুল কাংরি নামে—ভারতের দেশীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে। তিনি নিজে এর প্রথম আচার্য ছিলেন এবং তাঁর পুত্ররাও সেখানে শিক্ষা গ্রহণ করেন। গুরুকুল কাংরি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বৌদ্ধিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে এখানে অবস্থান করেন এবং এখানেই তাঁকে প্রথম “মহাত্মা” সম্বোধনে ডাকা হয়। ১৯৬২ সালে, ভারত সরকার গুরুকুল কাংরিকে ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়–এর মর্যাদা দেয়।

    আধ্যাত্মিক যাত্রা ও সন্ন্যাস গ্রহণ

    ৩৫ বছর বয়সে মুন্সি রাম বানপ্রস্থ আশ্রম গ্রহণ করেন এবং পরিচিত হন মহাত্মা মুন্সি রাম নামে। ১৯১৭ সালে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। তাঁর নাম হয় স্বামী শ্রদ্ধানন্দ। এরপর তিনি সম্পূর্ণরূপে বেদ প্রচার ও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

    ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা

    স্বামী শ্রদ্ধানন্দ স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি রাওলাট আইন–সহ ব্রিটিশদের দমনমূলক আইনগুলোর বিরোধিতা করেন এবং পাঞ্জাবে সামরিক শাসনের প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেন। ১৯১৯ সালে, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড–এর পর তিনি কংগ্রেসকে অমৃতসরে অধিবেশন করার আহ্বান জানান এবং অন্যরা পিছিয়ে গেলে নিজেই সভাপতিত্ব করেন। দিল্লিতে ব্রিটিশ দমননীতির বিরুদ্ধে বৃহৎ প্রতিবাদ মিছিলে তিনি নেতৃত্ব দেন। চাঁদনি চকে এক ঘটনায়, ব্রিটিশ সেনারা যখন গুলি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তিনি প্রথমে নিজেকে সামনে এগিয়ে দেন যাতে সাধারণ মানুষ রক্ষা পায়। সেনারা তখন অস্ত্র নামিয়ে রাখে এবং মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যায়।

    জামা মসজিদে ঐতিহাসিক ভাষণ

    ১৯২২ সালে, দিল্লির জামা মসজিদে তিনি একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেখানে বৈদিক মন্ত্র পাঠের পর তিনি প্রধানত মুসলিম শ্রোতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন—যা তাঁর সংলাপ-বিশ্বাস, সাহস ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

    কংগ্রেস ত্যাগ ও হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ততা

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু স্বার্থ ও সামাজিক সংস্কারের প্রশ্নে কংগ্রেসের অবস্থানে তিনি হতাশ হন। পরে মদন মোহন মালব্য–সহ অন্যান্য নেতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি হিন্দু মহাসভা–র সঙ্গে কাজ করেন এবং হিন্দু সমাজের সংগঠনের পক্ষে সওয়াল করেন।

    অস্পৃশ্যতা বিরোধী আন্দোলন

    অস্পৃশ্যতা দূরীকরণে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কল্যাণমূলক প্রকল্পে কংগ্রেস পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা না করায় তিনি কংগ্রেসের উপ-কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ড. বি. আর. আম্বেদকর তাঁকে “অস্পৃশ্যদের সবচেয়ে বড় ও আন্তরিক সমর্থক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি কেরালার ভাইকোম সত্যাগ্রহ-কেও সমর্থন করেন।

    সাংবাদিকতা ও সামাজিক প্রচার

    স্বামী শ্রদ্ধানন্দ ছিলেন এক দক্ষ লেখক ও সাংবাদিক। তিনি উর্দু পত্রিকা ‘তেজ’ এবং হিন্দি দৈনিক ‘অর্জুন’ প্রতিষ্ঠা করেন। দেবনাগরী লিপিতে হিন্দি ভাষার প্রসার, নারী শিক্ষা ও সমাজসেবায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা নেন।

    শুদ্ধি আন্দোলন ও হিন্দু পুনর্গঠন

    ধর্মান্তর নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি শুদ্ধি আন্দোলন–এর নেতৃত্ব দেন, যার লক্ষ্য ছিল ধর্মান্তরিত হিন্দুদের পুনরায় হিন্দু সমাজে ফিরিয়ে আনা। আগ্রা, মথুরা ও ভরতপুর অঞ্চলে—বিশেষত রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে—বৃহৎ শুদ্ধি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

    চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার

    ২৩ ডিসেম্বর ১৯২৬, দিল্লিতে নিজের বাসভবনে নিউমোনিয়া থেকে সেরে ওঠার সময় আবদুল রশিদ নামে এক ব্যক্তি আলোচনার ছলে এসে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। সব চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি প্রাণ হারান। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত শিবির থেকে নিন্দা জানানো হয়। প্রায় এক শতাব্দী পরও স্বামী শ্রদ্ধানন্দ নির্ভীক সংস্কার, বৌদ্ধিক সাহস ও জাতীয় সেবার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়। শিক্ষা, সমাজ সংস্কার, স্বাধীনতা আন্দোলন ও সভ্যতাগত পুনর্জাগরণে তাঁর অবদান আজও প্রেরণা জোগায়। সহিংসতায় তাঁর জীবন থেমে গেলেও, তাঁর চিন্তা ও কর্ম—বিশেষত গুরুকুল কাংরি–র মাধ্যমে—আজও জীবিত।

  • Bangladesh: মৌলবাদী ইউনূসের বাংলাদেশে অব্যাহত বুদ্ধিজীবী নির্যাতন, গ্রেফতার অর্থনীতিবিদ

    Bangladesh: মৌলবাদী ইউনূসের বাংলাদেশে অব্যাহত বুদ্ধিজীবী নির্যাতন, গ্রেফতার অর্থনীতিবিদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বৃহস্পতিবার ১০ই জুলাই, রাতে ঢাকার ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বরকতকে (Abul Barkat)। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোঃ নাসিরুল ইসলাম।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউনূস সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করেছিল আবুল বরকতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ — তিনি জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার সময় (২০০৯-২০১৪) ২৯৭.৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের সাথে যুক্ত ছিলেন।

    অভিযোগে বলা হয়, বরকত এবং তৎকালীন বাংলাদেশ (Bangladesh) ব্যাংকের গভর্নর মিলে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে AnonTex গ্রুপের ২২টি কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ অনুমোদন করেন। অদৃশ্য কারখানা ও ভবনের নামে ঋণ প্রদান, ভূয়া দলিল তৈরি ও অস্বাভাবিক দামে জমি কিনে ব্যাংকের অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ড. আবুল বরকত বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। তিনি জাপান সরকারের “অর্ডার অফ দ্য রাইজিং সান” পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং ২০২১ সাল থেকে TIGER (Transformation, Integration and Globalization Economic Research)-এর বৈজ্ঞানিক গবেষণা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

    “বাংলাদেশে ৩০ বছরের মধ্যে হিন্দু থাকবে না” — আবুল বরকতের সতর্কবার্তা (Abul Barkat)

    ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাগ্রন্থ “Political Economy of Reforming Agriculture-Land-Water Bodies in Bangladesh”-এ ড. বারকত আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যে হারে সংখ্যালঘু হিন্দুরা দেশত্যাগ করছে, সেই ধারা বজায় থাকলে ২০৪৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু থাকবে না।

    ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন:
    “গত ৪৯ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু বাংলাদেশ ত্যাগ করছেন — অর্থাৎ বছরে প্রায় ২,৩০,৬১২ জন। ১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১.১৩ কোটি হিন্দু বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন ধর্মীয় বৈষম্য ও নিপীড়নের কারণে।”

    তিনি জানান, বাংলাদেশে সেনাশাসনের সময় এই নিপীড়ন ছিল সর্বোচ্চ স্তরে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার আগে ‘শত্রু সম্পত্তি আইন’ এবং স্বাধীনতার পরে ‘ভেস্টেড প্রপার্টি আইন’-এর মাধ্যমে সরকারের হাতে ৬০% হিন্দুদের জমি চলে যায়।

    তাঁর বইটি তিনি উৎসর্গ করেন তাঁর শৈশবের বন্ধুদের, যারা ‘বুনো’ উপজাতির সদস্য ছিলেন — এবং বর্তমানে যাদের আর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    ইউনূসের ইসলামপন্থী তোষণ নীতি (Yunus)

    মোহাম্মদ ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে ইসলামপন্থার উত্থান নজিরবিহীনভাবে বেড়ে যায়। তিনি প্রথমেই উগ্র ইসলামি সংগঠন জামায়াতে ইসলামী-র উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।

    এরপর ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’-এর প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানিকে মুক্তি দেন। এই একই সময়ে হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হামলাগুলোকে ছোট করে দেখাতে শুরু করেন ইউনূস। কখনও তিনি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কখনও বলেছেন, “এগুলোর মাত্রা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে”।

    এই সময়কার শিক্ষাব্যবস্থায়ও ইতিহাস বিকৃতি ঘটে। নতুন পাঠ্যবইয়ে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা নাকি করেছিলেন জিয়াউর রহমান — যিনি ইসলামপন্থীদের কাছে প্রিয় মুখ।

    এছাড়া, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় Hizb ut-Tahrir নামক এক জঙ্গি সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ আজাজকে।

    ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে কূটনীতিকের ক্ষোভ (Yunus Government)

    পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়ে যে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ প্রকাশ্যে ফেসবুকে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

LinkedIn
Share