Author: Susanta Das

  • Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক তৎপরতার এবার ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তর এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা অমিত শাহর

    বৃহস্পতিবার গান্ধিনগরে নিজের সংসদীয় ক্ষেত্রের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। কিন্তু রাজ্যে আমাদের সরকার আসার পর সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।

    সাত দিনের মধ্যেই ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড়সড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৬০০ হেক্টর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করেছে। অমিত শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই নীতিতেই কাজ করছে।”

    ‘চিকেন’স নেক’ করিডরের ১২১ হেক্টর জমিও হস্তান্তর

    সভা থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গের কৌশলগত ‘চিকেন’স নেক’ করিডর এলাকার ১২১ হেক্টর জমিও ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই করিডরটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষা করে। ফলে এলাকাটির নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। অমিত শাহের দাবি, এই জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    এদিনের বক্তব্যে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কড়া সমালোচনাও করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রতিদিনই পশ্চিমবঙ্গে অবাধ অনুপ্রবেশ চলত এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনিক উদাসীনতা ছিল স্পষ্ট।
    অমিত শাহ বলেন, বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    দ্রুত শুরু হবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল বলে কেন্দ্রের দাবি। কেন্দ্র মনে করছে, সীমান্তে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, অতিরিক্ত চৌকি নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া অনুপ্রবেশ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

    জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশও জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, “কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।”

    দেশজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা

    সভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কার করার ব্যাপারে কেন্দ্র সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “যাঁরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।” অমিত শাহের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অভিযানের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বড়সড় অভিযান শুরু হওয়ার আগেই অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অমিত শাহের এই বক্তব্যকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।

  • CM Suvendu Adhikari: বাংলায় রেলের ৬১টি প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত কেন্দ্রের! জমি জট কাটাতে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: বাংলায় রেলের ৬১টি প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত কেন্দ্রের! জমি জট কাটাতে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির গতি বাড়াতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আটকে থাকা রেলের ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সমস্ত সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর জন্য রেলওয়েকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্পগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ প্রশাসন থাকায় দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটানো এখন অনেক সহজ হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে এবং সাধারণ মানুষ খুব শীঘ্রই তার সুফল পাবেন।

    দিনাজপুর থেকে মেদিনীপুর— ৬১টি রেল প্রকল্প

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আটকে থাকা ৬১টি প্রকল্পের মধ্যে উত্তর দিনাজপুর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রেল প্রকল্প এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ প্রকল্পও রয়েছে। এতদিন জমি সমস্যার কারণে এই কাজগুলি কার্যত থমকে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের গতিকে দ্বিগুণ করতে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগানো হবে।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করলেই বাংলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সেই পথেই ‘উন্নত ভারত’-এর স্বপ্ন সফল হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৯২ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রেললাইন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন। রাজ্য সরকারের জমি হস্তান্তরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে এই বিপুল বিনিয়োগের প্রকল্পগুলি আরও দ্রুত এগোবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কী বলছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত?

    একই সুর শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) গলাতেও। তিনি বলেন, “রাজ্যে ৬১টি প্রকল্প জমির অভাবে আটকে ছিল। এখন আর কোনও বাধা থাকবে না। ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার পর জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই সহজ হবে।” শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি “পশ্চিমবঙ্গের নতুন রূপকার” বলেও উল্লেখ করেন। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউষ্কর জানান, চন্দনপুর-শক্তিগড় ফোর্থ লাইন, কল্যাণী-রানাঘাট থার্ড লাইন এবং রানাঘাট-বনগাঁ ডবল লাইনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এছাড়াও বহু জায়গায় লেভেল ক্রসিং তুলে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজও থমকে ছিল। এখন রাজ্য ও রেলের সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই কাজ দ্রুত এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাজ্য সরকারের তরফে রেলের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য বিশেষ অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান পূর্ব রেলের জিএম।

    তালিকা নিয়ে তুমুল জল্পনা…

    তবে এখনও পর্যন্ত ঠিক কোন কোন প্রকল্প এই তালিকায় রয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সম্ভাব্য রেল প্রকল্পের তালিকা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বাংলার বিভিন্ন জেলায় নতুন রেললাইন, ডবল লাইন, স্টেশন উন্নয়ন ও ফ্লাইওভার নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও রেলমন্ত্রক বা রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত ৬১টি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করছে একটি সম্ভাব্য তালিকা—

    • ১. পাঁশকুড়া – ঘাটাল নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৩২.৮ কিমি)
    • ২. কাঁথি – এগরা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৬.২ কিমি)
    • ৩. দেশপ্রাণ – নন্দীগ্রাম নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ১৮.৫ কিমি)
    • ৪. নন্দীগ্রাম – কেন্দামারী (নয়াচর) নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৭ কিমি)
    • ৫. নন্দকুমার – বলাইপন্ডা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৮ কিমি)
    • ৬. দিঘা – এগরা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৮ কিমি)
    • ৭. দিঘা – জলেশ্বর নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৪৯ কিমি)
    • ৮. ঘাটাল – ইরপালা নতুন লাইন
    • ৯. ইরপালা – আরামবাগ নতুন লাইন
    • ১০. আরামবাগ – বোয়াইচন্ডী নতুন লাইন
    • ১১. আরামবাগ – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
    • ১২. বোয়াইচণ্ডী – খানা নতুন লাইন
    • ১৩. হাসনাবাদ – হিঙ্গলগঞ্জ নতুন লাইন
    • ১৪. তারকেশ্বর – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
    • ১৫. তারকেশ্বর – ধানিয়াখালি নতুন লাইন
    • ১৬. তারকেশ্বর – মগরা নতুন লাইন
    • ১৭. তারকেশ্বর – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
    • ১৮. নামখানা – চন্দ্রনগর নতুন লাইন
    • ১৯. চন্দ্রনগর – বকখালি নতুন লাইন
    • ২০. কাটোয়া (দাঁইহাট) – মন্তেশ্বর নতুন লাইন
    • ২১. মন্তেশ্বর – মেমারী নতুন লাইন
    • ২২. বজবজ – পূজালী নতুন লাইন
    • ২৩. পূজালী – উলুবেড়িয়া (বীর শিবপুর) নতুন লাইন
    • ২৪. পূজালী – বাকরাহাট নতুন লাইন
    • ২৫. মছলন্দপুর – স্বরূপনগর নতুন লাইন
    • ২৬. নেগুন – মঙ্গলকোট নতুন লাইন
    • ২৭. বনগাঁ – চন্দবাজার নতুন লাইন
    • ২৮. বারাবনি – চুরুলিয়া নতুন লাইন
    • ২৯. ভাঙ্গনখালী – বাসন্তী নতুন লাইন
    • ৩০. বাসন্তী – ঝাড়খালি নতুন লাইন
    • ৩১. জয়নগর – রায়দিঘী নতুন লাইন
    • ৩২. সংগ্রামপুর – কৃষ্ণচন্দপুর নতুন লাইন
    • ৩৩. ডায়মন্ড হারবার (গুরুদাসনগর) – বাখরাহাট নতুন লাইন
    • ৩৪. ডানকুনি – জঙ্গলপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
    • ৩৫. বড়গাছিয়া – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
    • ৩৬. আমতা – বাগনান নতুন লাইন
    • ৩৭. জঙ্গিপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
    • ৩৮. বাঁকুড়া (ছাতনা) – মুকুটমণিপুর নতুন লাইন
    • ৩৯. মুকুটমণিপুর – উপারসোল নতুন লাইন
    • ৪০. বাঁকুড়া (কলাবতী) – পুরুলিয়া ভায়া হুড়া নতুন লাইন
    • ৪১. রায়গঞ্জ – ইটাহার নতুন লাইন
    • ৪২. কাজল – ইটাহার নতুন লাইন
    • ৪৩. কালিয়াগঞ্জ – বুনিয়াদপুর নতুন লাইন
    • ৪৪. প্রান্তিক – সিউড়ি নতুন লাইন
    • ৪৫. কাকদ্বীপ – বুধাখালি নতুন লাইন
    • ৪৬. ময়নাপুর – কামারপুকুর ভায়া বীরসা নতুন লাইন
    • ৪৭. কালিকাপুর – মিনাখান ভায়া ঘটকপুর নতুন লাইন
    • ৪৮. কৃষ্ণনগর সিটি (ধুবুলিয়া) – চারাতলা নতুন লাইন
    • ৪৯. কৃষ্ণনগর – চাপড়া নতুন লাইন
    • ৫০. বনগাঁ – পরমহেশতলা নতুন লাইন
    • ৫১. চন্দবাজার – বাগদা নতুন লাইন
    • ৫২. চৌরীগাছা – সাঁইথিয়া ভায়া কান্দি নতুন লাইন
    • ৫৩. জয়নগর – দুর্গাপুর নতুন লাইন
    • ৫৪. ডায়মন্ড হারবার (গুরুদাসনগর) – কুলপি নতুন লাইন
    • ৫৫. রানাঘাট (আঙড়ঘাটা) – দত্তফুলিয়া নতুন লাইন
    • ৫৬. বিরা – চাকলা নতুন লাইন
    • ৫৭. বারুইপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
    • ৫৮. ভাদুতলা – ঝাড়গ্রাম ভায়া লালগড় নতুন লাইন
    • ৫৯. মুকুটমণিপুর – ঝিলিমিলি নতুন লাইন
    • ৬০. ইটাহার – বুনিয়াদপুর নতুন লাইন
    • ৬১. রাধানগর ফাইডিং লাইন – বরাচক লাইন
  • International Yoga Day 2026: পালাবদলের জন্য বাংলাকে বড় ‘উপহার’ কেন্দ্রের! এবছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান কলকাতায়, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

    International Yoga Day 2026: পালাবদলের জন্য বাংলাকে বড় ‘উপহার’ কেন্দ্রের! এবছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান কলকাতায়, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর কেন্দ্রের তরফ থেকে সম্ভবত সবথেকে বড় উপহার পেল পশ্চিমবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গবাসী। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়। এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রতাপরাও যাদব। সম্প্রতি নবান্নে যোগবিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি কলকাতায় মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে এক ধরনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    যোগ দিবসের কাউন্টডাউন শুরু

    মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর পশ্চিম মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘যোগ মহোৎসব ২০২৬’-এ এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি করেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী (Ayush Ministry) প্রতাপরাও যাদব। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ২৫ দিনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির সূচনা করে তিনি জানান, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের পীঠস্থান কলকাতাই এবার যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজক। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের অধীনস্থ মোরারজি দেশাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ যোগ (MDNIY)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার যোগপ্রেমী অংশ নেন এবং একযোগে ‘কমন যোগ প্রোটোকল’-এর প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। একইসঙ্গে প্রতাপরাও যাদব এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম হিসেবে ঘোষণা করেন — “Yoga for Healthy Ageing”। বয়স বাড়ার সঙ্গে সুস্থ জীবনযাপন, মানসিক স্থিতি এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যে যোগব্যায়ামের গুরুত্বকে সামনে রেখেই এই থিম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের শহর কলকাতায় যোগ দিবসের আসর

    প্রতাপরাও যাদব বলেন, “সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ কলকাতা এবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল আয়োজক শহর হতে চলেছে। যোগ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, এটি একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন বজায় রাখতে সাহায্য করে।” তিনি আরও বলেন, যোগ ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ও ঐতিহ্যের প্রতীক এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম জীবনযাপন, মানসিক শান্তি এবং দৈনন্দিন শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনধারার মাধ্যমে যোগ মানুষের সামগ্রিক উন্নতিতে সাহায্য করে। খাজুরাহোকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সুস্থতা চর্চার এক অনন্য প্রতীক বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এই শহরের বিশ্বব্যাপী যোগ ও ওয়েলনেস কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আয়ুষ মন্ত্রক দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম, স্কুল, অফিস এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগচর্চা পৌঁছে দিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান যাদব। তিনি বলেন, “যোগ এবং ‘আয়ুষ আহার’-এর মতো উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সুষম খাদ্যাভ্যাস, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং সামগ্রিক সুস্থতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।”

    শহরের যোগপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ

    কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন এবং তাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতির ঘোষণা ঘিরে শহরের যোগপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে যোগবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই বৈঠকের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ক্রীড়াভারতীর প্রদেশ সম্পাদক বিভাস মজুমদার জানান, “অনেকদিন ধরেই আমরা কলকাতায় মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। নানা রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবার সেই সুযোগ বাস্তবায়িত হতে চলেছে।” অন্যদিকে, যোগ দিবস উদযাপন কমিটির সম্পাদক ডক্টর অভিজিৎ ঘোষের মতে, আগামী ২১ জুন কলকাতার ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন হয়ে উঠবে।

    কেন্দ্রীয় স্তরে প্রস্তুতি শুরু

    ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্তরে এই নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। এই আবহে খুব শীঘ্রই নিরাপত্তা আধিকারিকদের একটি দল ব্রিগেড পরিদর্শনে যেতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। প্রতাপরাও যাদব ‘যোগ সঙ্গম পোর্টাল’-এর নতুন সংস্করণ চালু করেন। এই পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করা আরও সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে ‘যোগ পার্ক পোর্টাল’, যার উদ্দেশ্য বিভিন্ন রাজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী যোগচর্চার পরিকাঠামো গড়ে তোলা। অনুষ্ঠানে নতুন ডিজাইনের যোগ টি-শার্টও প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ‘যোগ ৩৬৫ অভিযান’-এর আওতায় ১০০ দিনের বিনামূল্যের যোগ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই দুই লক্ষের বেশি মানুষ অংশ নিয়ে ‘যোগ মিত্র’ শংসাপত্র অর্জন করেছেন।

  • Amit Shah: সীমান্তে কড়া অ্যাকশন অমিত শাহের, ১৫ কিমির মধ্যে সব অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    Amit Shah: সীমান্তে কড়া অ্যাকশন অমিত শাহের, ১৫ কিমির মধ্যে সব অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি সীমান্ত জেলায় বেআইনি আর্থিক লেনদেন, জাল আধার চক্র, মাদক পাচার, অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজস্থানের বিকানেরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে এই নির্দেশ দেন অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক, পাঁচ সীমান্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা। এই পাঁচ জেলা হল বিকানের, জয়সলমের, বারমের, শ্রীগঙ্গানগর এবং ফলোদি।

    ১৫ কিমি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া সমস্ত নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এই ধরনের সমস্ত অবৈধ কাঠামো চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ নির্মাণ অনেক সময় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং জঙ্গি কার্যকলাপের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এই ধরনের নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ব্যাঙ্ক লেনদেন ও ভুয়ো সংস্থার উপর কড়া নজর

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসকদের আরও বেশি ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় সমস্ত ব্যাঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বৈধতা খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অর্থের উৎস যাচাই, ভুয়ো সংস্থা বা শেল কোম্পানি শনাক্ত করা, মিউল অ্যাকাউন্টের সন্ধান এবং জাল আধার কার্ড চক্র ধরতে হবে প্রশাসনকে। আধিকারিকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনেক সময় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চালানো হয়। সেই কারণেই আর্থিক নজরদারিকে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা হচ্ছে।

    মাদক পাচার ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

    বৈঠকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে মাদক পাচার ও অপরাধ চক্রের উৎস, নেটওয়ার্ক এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান নয়, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ ফের মাথাচাড়া না দেয়, সেই লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরির উপর জোর দিয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘সীমান্ত সুরক্ষা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ নয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষ, প্রশাসন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও একযোগে কাজ করতে হবে। সেই কারণে প্রতিটি সীমান্ত জেলার জন্য ‘৩৬০ ডিগ্রি সিকিউরিটি কভার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

    বিএসএফ, এনসিবি ও কর দফতরের যৌথ সমন্বয়ের উপর জোর

    অমিত শাহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিএসএফ, সিবিডিটি, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, জমি দখল, জঙ্গি অর্থায়ন এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম-২ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ

    সীমান্তবর্তী গ্রামের উন্নয়নেও জোর দিয়েছে কেন্দ্র। বৈঠকে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম-২’ দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য সীমান্ত গ্রামের পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, অর্থনৈতিক অপরাধ রোধ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। শাহ নির্দেশ দেন, সীমান্ত গ্রামের প্রতিটি পরিবার যাতে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ‘স্যাচুরেশন’ নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

    সাইবার অপরাধ রুখতে ‘১৯৩০’ হেল্পলাইনের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ

    সাইবার অপরাধ মোকাবিলাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দেন, জাতীয় সাইবার প্রতারণা হেল্পলাইন ‘১৯৩০’-এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধ রুখতে এই ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে।

    দু’মাস পর ফের পর্যালোচনা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী দু’মাস পর এই সমস্ত নির্দেশের অগ্রগতি নিয়ে ফের পর্যালোচনা বৈঠক করা হবে। তাই প্রতিটি জেলাকে ফলপ্রসূ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা রাজস্থানের মরু অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচার, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্র এবার আরও কড়া নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করছে।

  • CM Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৯ জেলায় বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিল রাজ্য, কোথায় কত, ঘোষণা শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৯ জেলায় বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিল রাজ্য, কোথায় কত, ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্ত চৌকি (আউটপোস্ট) তৈরির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই মোট ১৪২.৭৯ একর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দিয়েছে বলে বুধবার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠনের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ হিসেবে এই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিএসএফ আউটপোস্ট এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে বিএসএফ আউটপোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তরের পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিরিক্ত জমি হস্তান্তরের ফলে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়াল ১৪২.৭৯ একর।”

    কোন জেলায় কত জমি দেওয়া হয়েছে

    মুখ্যমন্ত্রী জেলা-ভিত্তিক জমির পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছেন। সেই তালিকা অনুযায়ী—

    • ● কোচবিহার – ২২.৯৫ একর
    • ● জলপাইগুড়ি – ৩৫.১৬৫ একর
    • ● দার্জিলিং – ৮.৮১৫ একর
    • ● উত্তর দিনাজপুর – ২.৮৪ একর
    • ● দক্ষিণ দিনাজপুর – ২০.১৭০১ একর
    • ● মালদা – ১০.৯০ একর
    • ● মুর্শিদাবাদ – ৩৮.৮০৫ একর
    • ● নদিয়া – ০.৫৫ একর
    • ● উত্তর ২৪ পরগনা – ২.৬ একর

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে মোট ৫০০ একর জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর হওয়াকে সেই লক্ষ্যপূরণের পথে “গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন” বলে বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় সিদ্ধান্তগুলির একটি

    গত ১১ মে নতুন সরকার গঠনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জমি আটকে রেখেছিল, যার ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই বর্তমান সরকার দ্রুত প্রশাসনিক জট কাটিয়ে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে। সরকারের মতে, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার ও সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

    কলকাতা হাইকোর্টের কড়া অবস্থান

    এর আগে, এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টও তৃণমূল পরিচালিত বিগত রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এপ্রিল মাসে প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার জমি অধিগ্রহণের টাকা দিলেও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়নি। আদালত (তৎকালীন) রাজ্য সরকারের রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের যুগ্ম অধিকর্তার উপর ব্যক্তিগতভাবে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনিক গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার।

    ফাঁসিদেওয়ায় শুরু বেড়া নির্মাণের কাজ

    এরই মধ্যে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার পর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, বহু বছর ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই কাজ আটকে ছিল। নতুন সরকারের হস্তক্ষেপের পর সেই জট কাটিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

    রাজ্যের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি

    এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপি সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির জেরে উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ওই আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে অনথিভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। বর্তমান সরকারের অনুপ্রবেশ বিরোধী কঠোর অবস্থানের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। বাংলাদেশিদের দাবি, আইনি জটিলতা ও পুলিশি অভিযানের ভয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও বাড়ির মালিকরা এখন সতর্ক। যে সমস্ত বাড়ি বা বস্তি এলাকায় এই বাংলাদেশিরা এতদিন ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন, ভারতীয় বাড়ির মালিকরা আইনি ঝামেলার ভয়ে তাঁদের আর আশ্রয় দিতে চাইছেন না।

    ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন পেতাম’’ বলছেন অবৈধ বাংলাদেশিরা!

    হাওড়ায় মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করা এক বাংলাদেশি নাগরিক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং স্থানীয়ভাবে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেই তিনি দেশে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “এখানে এখন অনেক সমস্যা চলছে। কাজ পাচ্ছি না, কেউ থাকতে দিচ্ছে না। দুই-তিন বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলাম। আধার বা রেশন কার্ড কিছুই ছিল না।” তিনি আরও জানান, তাঁদের সঙ্গে মোট দশজন এসেছিলেন, তবে বর্তমানে তিনিই একমাত্র ফিরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা মণিরুল শেখ বলেন, ‘‘চব্বিশে ভোট দিয়েছি। কিন্তু ছাব্বিশে সালে ভোট হল না। বাতিল হয়ে গেল। কিন্তু, আমার স্ত্রীর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড হয়েছে৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন সমস্ত কিছুই পেতাম। এবার সরকার পরিবর্তন হল। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের তারা থাকতে দেবে না। কারণ আমরা অনুপ্রবেশকারী। আমাদের এখন ভালোভাবে দেশে ফেরত পাঠালেই খুশি।’’

    জেলাগুলিতে তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর সমস্ত জেলা শাসকদের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ধৃত বিদেশি নাগরিক এবং সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও এখনও দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি— এমন বিদেশিদের জন্য বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়।
    ২৩ মে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) নির্দেশিকা মেনে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা সহ অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের শনাক্তকরণ, আটক, পুনর্বাসন এবং প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সূত্রে দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের উপর এর প্রভাব পড়ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি আরও তপ্ত হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Skin Problems: হিটওয়েভে বিপদে ত্বক! তীব্র গরমে ত্বকের কোন বিপদ বাড়ছে? কাদের বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি?

    Skin Problems: হিটওয়েভে বিপদে ত্বক! তীব্র গরমে ত্বকের কোন বিপদ বাড়ছে? কাদের বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে! আবহাওয়ায় বাড়াচ্ছে অস্বস্তি! একাধিক শারীরিক সমস্যার মতোই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ত্বকের সমস্যা। শিশু থেকে বয়স্ক, এই গরমে ত্বকের সমস্যায় কমবেশি সকলেই ভুগছেন। তীব্র গরমে তাই ত্বক নিয়ে বাড়তি সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন ত্বক-বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, রোদের তাপ প্রচন্ড। তার সঙ্গে দিনভর ঘাম! সব মিলিয়ে একটা অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। এই সময়ে ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে, বাড়তি ভোগান্তি হবে। তাই ত্বক ভালো রাখতে কয়েকটি দিকে নজর রাখা জরুরি। তাহলে সহজেই ত্বকের ভোগান্তি কমানো যাবে।

    এই আবহাওয়ায় কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে?

    ত্বকে ছড়াতে পারে ছত্রাক সংক্রমণ!

    ত্বক বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, প্রচন্ড গরমে ত্বকে নানা রকম ফ্যাঙ্গাল ইনফেকশন হয়। সাধারণত মহিলাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। গরমে কুঁচকি, বগলের নীচে কিংবা স্তনের নীচে অতিরিক্ত ঘামের জেরে একধরনের ছত্রাক জন্মায়। যার ফলে শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। চুলকানি, লাল দাগ হয়। এমনকি সংক্রমণ বাড়লে ঘা হয়ে যেতে পারে। গরমে যাতে ত্বকে এই ধরনের সংক্রমণ না হয়, সেদিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি।

    সানবার্ন!

    দিনের বেশির ভাগ সময় যাদের বাড়ির বাইরে থাকতে হচ্ছে, তাদের সানবার্নের মতো‌ ত্বকের সমস্যা হতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রচন্ড রোদের মধ্যে থাকলে ত্বক পুড়ে যায়। এর ফলে ত্বকের রং পরিবর্তন হয়। তাছাড়া, ত্বকের উপরে একটা কালো আস্তরণ পড়ে। এর জেরে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়।

    ঘামাচির ভোগান্তি বাড়ে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে সবচেয়ে বড় ত্বকের সমস্যা হলো ঘামাচি। ছোটো ছোটো লাল ফুসকুড়ি শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ঘাম থেকেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই সমস্যা শিশুদের সবচেয়ে বেশি হয়। কারণ, শিশুরা অতিরিক্ত দৌড়াদৌড়ি করে। এর ফলে ঘাম হয়। তার ফলেই ত্বকে এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

    ব্রণর সমস্যা বেড়ে যায়!

    ত্বক বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, অনেকেই ব্রনের সমস্যায় ভোগেন। এই আবহাওয়ায় সেই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই সময়ে অতিরিক্ত ঘাম। ত্বকের মধ্যে তেল ভাব বেশি হয়। এই তৈলাক্ত ত্বক ব্রণর সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

    ডিহাইড্রেশন ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপদ বাড়ায় ডিহাইড্রেশন। অর্থাৎ, শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ এবং ঘামের জেরে শরীরে জলের ঘাটতি হয়। তার ফলে ত্বকের একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের আদ্রতা কমে। ফলে ত্বকে নানান অ্যালার্জি হতে পারে।

    এই আবহাওয়ায় কীভাবে ত্বকের ভোগান্তি কমবে?

    ঘরোয়া ডিটক্স ওয়াটার কমাবে বিপদ!

    ত্বক বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়া মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ডিটক্স ওয়াটার। তাঁদের পরামর্শ, ঘরোয়া সহজ পদ্ধতিতে তৈরি ডিটক্স ওয়াটার বড় বিপদ আটকাতে সাহায্য করবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দু’লিটার জলের মধ্যে কুচানো আদা, একটি পাতিলেবুর রস এবং একটি আমলকি মিশিয়ে রাখতে হবে। সারাদিন ওই জল মাঝেমধ্যে খেলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণ হবে। এই আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরে যে ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সেগুলো মোকাবিলা করা সহজ হবে।

    পর্যাপ্ত পরিমাণ জল ও রসালো ফল খাওয়া জরুরি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন,এই আবহাওয়ায় শরীরে জলের ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা সবচেয়ে জরুরি। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া দরকার। প্রাপ্ত বয়স্কদের নিয়মিত চার লিটার জল খাওয়া জরুরি। ছোটোদের অন্তত তিন লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন। এর পাশপাশি ডাব, তরমুজ, আমের মতো রসালো ফল খাওয়া জরুরি। এতে শরীরে জলের চাহিদা মেটায়।‌ ফলে ত্বকের শুষ্কতা কমে।

    সানস্ক্রিন ব্যবহার অপরিহার্য!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়ার পাশপাশি ত্বকের একাধিক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই রোদে বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার অপরিহার্য। তাঁদের পরামর্শ, বাচ্চা থেকে বয়স্ক, সকলের উচিত বাইরে যাওয়ার আগে হাতে, মুখের যে অংশে রোদ লাগতে পারে, সেখানে ভালোভাবে সানস্ক্রিন লাগিয়ে তারপরে বাইরে যাওয়া। আবার, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।

    গরমে অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহার করা উচিত নয়!

    ত্বক বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় অতিরিক্ত মেকআপ করা উচিত নয়। অনেক সময়েই অতিরিক্ত মেকআপ করলে ঘাম আরও বেশি হয়। এই গরমে যা ত্বকের বাড়তি ক্ষতি করবে!

    দিনে একাধিকবার ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি!

    চিকিৎসকদের, একাংশ জানাচ্ছেন, দিনে একাধিকবার ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি। বিশেষত যারা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করছেন, ঘাম বেশি হচ্ছে, তাদের বারবার পরিষ্কার জলে ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে। শরীরে বেশি সময় ঘাম থাকলেই ত্বকে অ্যালার্জি, ছত্রাক সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনে বারবার শরীর পরিচ্ছন্ন রাখলে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সহজ হবে।

    হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার জরুরি!

    গরমে ত্বক তেলতেলে মনে হলেও, ঘাম হলেও নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার জরুরি বলেই জানাচ্ছেন ত্বক বিশেষজ্ঞেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হালকা ময়েশ্চারাইজার নিয়মিত রাতে ব্যবহার করলে এই গরমে ত্বকের শুষ্ক ভাব এড়ানো সহজ হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Supreme Court SIR Verdict: দেশজুড়ে এসআইআর-কে বৈধ ঘোষণা, নাগরিকত্ব যাচাই করতেই পারে নির্বাচন কমিশন, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court SIR Verdict: দেশজুড়ে এসআইআর-কে বৈধ ঘোষণা, নাগরিকত্ব যাচাই করতেই পারে নির্বাচন কমিশন, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক ঐতিহাসিক রায়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ সংক্ষেপে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই উদ্যোগ সংবিধানের “স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন” নিশ্চিত করার মূল উদ্দেশ্যকে শক্তিশালী করে এবং নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যেই থেকে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়। ২০২৫ সালের জুন মাসে দায়ের হওয়া একাধিক রিট পিটিশনের শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। মামলাগুলিতে বিহারে শুরু হওয়া প্রথম দফার এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

    কী ছিল মামলাকারীদের অভিযোগ?

    আবেদনকারীদের দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশন এই বিশেষ পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে কার্যত নাগরিকত্ব নির্ধারণকারী সংস্থার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যাঁরা ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের আবার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করা আইনের পরিপন্থী। মামলাকারীদের আরও অভিযোগ ছিল, এই প্রক্রিয়া সাধারণ ভোটারদের উপর অতিরিক্ত নথিপত্রের চাপ তৈরি করছে এবং বহু মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয়।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং ১৯৫০-এর জনপ্রতিনিধি আইনের (Representation of the People Act) ২১(৩) ধারার অধীনে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুনর্বিবেচনা চালানোর পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, আইন যখন কমিশনকে “যে কোনও সময় বিশেষ পুনর্বিবেচনা” করার অনুমতি দিয়েছে, তখন শুধুমাত্র নিয়মিত পুনর্বিবেচনার প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল না থাকার কারণে এসআইআরকে অবৈধ বলা যায় না। বেঞ্চের মতে, এই এসআইআর (SIR) কোনওভাবেই বিদ্যমান আইনকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্যকে কার্যকর করছে।

    “ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা জরুরি”

    সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানায়, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন শুধুমাত্র ভোটগ্রহণের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে না, বরং নির্ভর করে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার উপর। আদালতের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ একটি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদক্ষেপ। আদালত উল্লেখ করে, নির্বাচন কমিশন যে কারণগুলি দেখিয়ে এসআইআর (SIR) চালু করেছে, তা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। যেমন—

    • ● চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে পূর্ণাঙ্গ নিবিড় সংশোধন হয়নি
    • ● বছরের পর বছর ব্যাপক হারে নাম সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছে
    • ● দ্রুত নগরায়ন ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ফলে ডুপ্লিকেট বা ভুল এন্ট্রির সম্ভাবনা বেড়েছে

    নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের

    রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নাগরিকত্ব যাচাই প্রসঙ্গে আদালতের অবস্থান। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা প্রস্তুতি বা সংশোধনের সময় নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রশ্ন পরীক্ষা করতে পারে। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ, কাউকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া মানেই তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। শীর্ষ আদালত জানায়, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নাগরিকত্ব আইন (Citizenship Act) অনুযায়ী নির্ধারিত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে।

    ভোটারদের নথি চাওয়া বৈধ

    সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, ভোটারদের কাছ থেকে নথি চাওয়া মানেই তাঁদের নাগরিকত্বের পূর্বধারণাকে অস্বীকার করা নয়। আদালতের মতে, এটি কেবলমাত্র একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কমিশন বিদ্যমান তথ্য পুনরায় নিশ্চিত করতে বা প্রয়োজন হলে সংশোধন করতে পারে।

    যাঁদের নাম বাদ, তাঁদের তালিকা কেন্দ্রকে পাঠানোর নির্দেশ

    রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

    ইতিমধ্যেই দুই দফা সম্পন্ন

    নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দেশের বহু অংশে এসআইআর সম্পন্ন করেছে।

    প্রথম দফা

    বিহার (সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ শেষ)

    দ্বিতীয় দফা

    এপ্রিল ২০২৬-এ সম্পন্ন হয়েছে নিম্নলিখিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে—

    • ● ছত্তিশগড়
    • ● গোয়া
    • ● গুজরাট
    • ● কেরলম
    • ● মধ্যপ্রদেশ
    • ● রাজস্থান
    • ● তামিলনাড়ু
    • ● উত্তরপ্রদেশ
    • ● পশ্চিমবঙ্গ

    এছাড়াও—

    • ● আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
    • ● লাক্ষাদ্বীপ
    • ● পুদুচেরি

    তৃতীয় দফার প্রস্তুতি

    নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই তৃতীয় দফার ঘোষণা করেছে। আগামী মাসগুলিতে ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● অন্ধ্রপ্রদেশ
    • ● কর্নাটক
    • ● তেলঙ্গানা

    তৃতীয় দফা সম্পূর্ণ হলে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ বাদে গোটা দেশেই এসআইআর (SIR) কার্যকর হয়ে যাবে।

    রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হল, অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাল। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলির একাংশ এখনও আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে বহু প্রকৃত নাগরিক হয়রানির শিকার হতে পারেন। ফলে আগামী দিনে এসআইআর (SIR)-এর বাস্তব কার্যকারিতা এবং তার প্রশাসনিক প্রয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) কার্যকর করার সরকারি প্রক্রিয়া বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে। কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, বুধবার থেকেই প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করা হবে এবং তা অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। পাশাপাশি ‘মা ক্যান্টিন’-এ সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত চালু, ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তন, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা এবং আয়ুষ দফতরকে পৃথক করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

    কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে কী আলোচনা হল

    মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’-কে আয়ুষ্মান ভারতের কাঠামোয় রূপান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্নে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেই ফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, যত দ্রুত নথিভুক্তিকরণ হবে, তত দ্রুত উপভোক্তারা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

    ১ জুন থেকেই টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি

    প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফর্ম পূরণ ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ মানুষ যাতে আর্থিক সমস্যায় না পড়েন, সে দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু না হচ্ছে, ততদিন পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা আগের নিয়মেই উপভোক্তারা পাবেন।

    অনলাইন-অফলাইন দুই ব্যবস্থাতেই ফর্ম জমা

    শুভেন্দু জানান, বুধবার থেকেই সাধারণ মানুষ ফর্মের প্রতিলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ব্যবস্থাই রাখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র জনগণের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিধায়কেরা নিজ উদ্যোগে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। পাশাপাশি বিডিওদের নেতৃত্বে সরকারি কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সহায়তা করবেন।

    নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন, সে বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ দেশের বৈধ নাগরিকদের জন্যই বরাদ্দ।

    মা ক্যান্টিনে সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত

    সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে ‘মা ক্যান্টিন’-এ নতুন খাদ্যতালিকার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪০০টি মা ক্যান্টিন চালু রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’দিন ৫ টাকাতেই মাছ-ভাত দেওয়া হবে। বাকি পাঁচ দিন আগের মতোই ডিম-ভাত মিলবে একই মূল্যে। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।

    ‘দিদিকে বলো’-র নতুন নাম ‘আপনার সরকারকে বলুন’

    রাজ্যের জনপ্রিয় জনসংযোগ কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিষেবাটির নতুন নাম হবে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। তিনি জানান, পুরনো টোল-ফ্রি নম্বরও পরিবর্তন করা হবে এবং পরিষেবা চালুর দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। পরিষেবার নতুন নাম নির্ধারণ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

    মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি বাসে আপাতত সমস্ত মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভা আগেই এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই পরিষেবার জন্য বিশেষ কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি পালন করবে রাজ্য

    কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিও রাজ্যে পালন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ ও বন দফতর প্রত্যেক বিধায়ককে গাছ বিতরণের জন্য চারাগাছ সরবরাহ করবে। এছাড়া ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হবে।

    বিশ্ব যোগ দিবস ও আয়ুষ দফতর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

    ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস রাজ্যজুড়ে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকবে আয়ুষ দফতর এবং ক্রীড়া দফতর। এদিন তিনি আরও জানান, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করা হবে। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পৃথক দফতর গঠনের মাধ্যমে আয়ুষ পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্তরের সুযোগ-সুবিধা রাজ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

  • QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ উপাদান (Rare Earth Materials) ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত ও আমেরিকা। মঙ্গলবার কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ (Rare Earth) সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যান (EV), সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শিল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল চিনের উপর নির্ভরতা কমানো।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক কাঠামো (Framework Agreement) তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণের সরবরাহ সুরক্ষিত করার জন্য ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক কাঠামো স্বাক্ষর করছি। কোয়াড বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিকভাবে হোক বা কোয়াডের মাধ্যমে—সমমনা দেশগুলির জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    বর্তমানে বিশ্বে রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ও বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে সবচেয়ে বড় আধিপত্য রয়েছে চিনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, মিসাইল, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন, সোলার প্যানেল ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত বহু উপাদানের জন্য বিভিন্ন দেশ এখনও চিনের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার নতুন অংশীদারিত্বকে “সাপ্লাই চেইন সিকিউরিটি” নিশ্চিত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে বহু দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

    কোন কোন খনিজের উপর জোর?

    এই চুক্তির আওতায় ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে অনুসন্ধান (Exploration), খনন (Mining), প্রক্রিয়াকরণ (Processing), পরিশোধন (Refining) এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষভাবে যে খনিজগুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল—

    • ● লিথিয়াম (Lithium)
    • ● কোবাল্ট (Cobalt)
    • ● নিকেল (Nickel)
    • ● গ্রাফাইট (Graphite)
    • ● রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements)

    এই খনিজগুলি বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি, নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের জন্য কী লাভ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের সামনে একাধিক সুবিধার দরজা খুলে যেতে পারে।

    ● ১. বৈদ্যুতিক যান ও ব্যাটারি শিল্পে গতি

    ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি তৈরির জন্য লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বহুগুণ বাড়বে। এই চুক্তি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ● ২. প্রতিরক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধি

    রেয়ার আর্থ উপাদান আধুনিক মিসাইল সিস্টেম, রাডার, যুদ্ধবিমান ও উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও ভারতের স্বনির্ভরতা বাড়তে পারে।

    ● ৩. প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ

    চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থাগুলি উন্নত প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এর ফলে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

    আমেরিকার লক্ষ্য কী?

    আমেরিকাও দীর্ঘদিন ধরে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ক্ষমতা চিনের হাতে থাকায় আমেরিকা বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। ভারতের সঙ্গে এই চুক্তিকে তাই “বিশ্বস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল অংশীদারিত্ব” হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোয়াডভুক্ত দেশগুলির মধ্যেও এই ইস্যু এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে।

    ভারতের আগাম প্রস্তুতি

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি খনিজকে “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশে খনিজ সম্পদ অধিগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গতিশীলতার দিকে বিশ্ব যত এগোবে, ততই এই খনিজগুলির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়বে।

    রেয়ার আর্থ কেন এত মূল্যবান?

    রেয়ার আর্থ উপাদান ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি শিল্প কার্যত অচল। এগুলি ব্যবহার করা হয়—

    • ● বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি
    • ● উইন্ড টারবাইন
    • ● মোবাইল ফোন
    • ● সেমিকন্ডাক্টর
    • ● সোলার প্রযুক্তি
    • ● মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে

    ফলে ভারত-আমেরিকার এই নতুন অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

  • 100 Days Work Restart: ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত! ১ জুন থেকেই বাংলায় ফের ১০০ দিনের কাজ, তবে বাদ পড়ছে এই ২ জেলা

    100 Days Work Restart: ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত! ১ জুন থেকেই বাংলায় ফের ১০০ দিনের কাজ, তবে বাদ পড়ছে এই ২ জেলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক গতি বাড়াতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নতুন সরকার। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, আগামী ১ জুন থেকে বাংলায় ফের চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প বা মনরেগা। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। তবে আপাতত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রকল্প চালু করা হচ্ছে না বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদে

    নবান্ন সূত্রের খবর, এই দুই জেলাতেই পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো জব কার্ড তৈরি, কাজ না করেই টাকা তোলা, কাজের খতিয়ানে কারচুপি এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই জেলায় প্রকল্প চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ বাদে বাকি সমস্ত জেলাতেই দ্রুত গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প শুরু করতে হবে। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এলেই যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায় এবং প্রকল্পে গতি আনা সম্ভব হয়, সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে।

    বিতর্কের সূত্রপাত ২০২২ সালে

    উল্লেখ্য, বাংলায় ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গে মনরেগা প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। ভুয়ো জব কার্ড, বেআইনি নিয়োগ এবং কাজের হিসাবপত্রে অসংখ্য অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে। এর পরেই কেন্দ্র ‘৭ নম্বর ধারা’ প্রয়োগ করে বাংলার জন্য মনরেগার সমস্ত তহবিল এবং বকেয়া অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। তৎকালীন তৃণমূল সরকার অবশ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি ছিল, বাংলার গরিব মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। বকেয়া টাকার দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনেও নামে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে রাজধানীতে ধরনা কর্মসূচিও হয়েছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, আগের খরচের পূর্ণ হিসাব এবং দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব নয়।

    উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’

    রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এখন ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর তত্ত্ব সামনে এনে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার মনে করছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় থাকলে গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের কাজ আরও দ্রুত এগোবে। সেই লক্ষ্যেই ১ জুন থেকে পুনরায় প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল আমলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার ‘কর্মশ্রী’ নামে একটি বিকল্প প্রকল্প চালু করেছিল। সেখানে জব কার্ড হোল্ডারদের ৫০ থেকে ৭০ দিনের কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকার ফের কেন্দ্রীয় মনরেগা প্রকল্প চালু করার উপরেই জোর দিচ্ছে।

    নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক…

    শুধু ১০০ দিনের কাজ নয়, প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতেও বড় পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রতি মাসে সব দফতরের সচিবদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করা হবে। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।

LinkedIn
Share