Author: Susanta Das

  • Suvendu Adhikari: ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের পর বুধবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন বিজেপির দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উপস্থিতিতে বেলা ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই বিধায়ককে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি উপনির্বাচনের ফলাফল, বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট’, বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা

    শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের কাঁধে উত্তরীয় পরিয়ে তাঁদের নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ফলতায় দেবাংশু পণ্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে শাখারভ সরকারের ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ তো সবে ব্রেকফাস্ট হচ্ছে। যা দেখছেন, তা সকালের চা-বিস্কুট। এখনও লাঞ্চ হয়নি। দেখতে থাকুন।” নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামে বিরোধীরা ভোটের আগেই ময়দান ছেড়ে পালিয়েছিল। রেজিনগরে বিরোধীরা জামানতের টাকাও বাঁচাতে পারেনি বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

    চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

    এদিনের অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানি রথের ছেলে চন্দ্রনাথ একসময় তাঁর সহযোগী ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর সহযোগী হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের জন্য ২ কোটি টাকার সুপারি কে দিয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হওয়া বাকি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেই সুপারি কি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে দেওয়া হয়েছিল, নাকি ডায়মন্ড হারবার কিংবা কালীঘাট থেকে—সেটা স্পষ্ট হলেই গোটা তদন্তের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সুপারি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও সামনে আসেনি।

    মমতাকে নিশানা, নন্দীগ্রাম বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা

    কেন ভবানীপুরের পরিবর্তে নন্দীগ্রাম আসনটি বেছে নিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গও এদিন ফের সামনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমি যদি ওই আসন ছেড়ে আসতাম, তবে উনি ফের উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। কিন্তু এই বয়সে আর ওসব করা উচিত নয়, অনেক বয়স হয়েছে, ওঁর এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত।”

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফলকে সামনে রেখে বিরোধীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, উপনির্বাচনের ফলকে আগামী দিনের রাজনীতিতে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে শাসক শিবির।

    ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা খারিজে রেজিনগরের উদাহরণ

    বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে আক্রমণ করার বিরোধী প্রচারকেও এদিন চ্যালেঞ্জ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলাফলকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিজেপির প্রতি সমর্থন বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম বোনেরা যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরাও আমাদের ভোট দিয়েছেন।”

    রেজিনগরের বুথভিত্তিক ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দুর দাবি, প্রায় ৩০০টি বুথের মধ্যে মাত্র ১০০টি বুথ সনাতনী অধ্যুষিত। বাকি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা সনাতনী, আমরা হিন্দু, আমরা মাথায় টিকা লাগাই। কিন্তু সরকার চালাতে গেলে আমরা দলের সংকীর্ণতা পেরিয়ে সমস্ত মানুষের উন্নয়কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই।”

    দুই বিধায়কের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে এদিন বিধানসভায় যেমন নতুন জনপ্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগ্রহণ সম্পন্ন হল, তেমনই উপনির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও আরও তীব্র হল। বিজেপির জয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু সমর্থন এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান—এই তিনটি বিষয়কেই বিশেষ গুরুত্ব দিলেন।

  • Suvendu Adhikari: ‘এক বছরের মধ্যে সুফল’, গঙ্গাভাঙন রুখতে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, মালদা-মুর্শিদাবাদে কী পরিকল্পনা?

    Suvendu Adhikari: ‘এক বছরের মধ্যে সুফল’, গঙ্গাভাঙন রুখতে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, মালদা-মুর্শিদাবাদে কী পরিকল্পনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গার ভাঙন সমস্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার যৌথভাবে কাজ করার পথে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে গঙ্গার ভাঙন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ফরাক্কা ব্যারেজের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই উদ্যোগের সুফল পেতে শুরু করবেন সাধারণ মানুষ। তবে নদীভাঙন পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কাজের গতি এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    ড্রেজিংয়ে জোর, ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গঙ্গা অববাহিকার ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নদী এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং বা নদীখাত থেকে পলি তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। নদীর গতিপথ ও জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চ্যানেল তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে ঝাড়খণ্ড সরকারকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল।

    সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ড সীমানায় ড্রেজিং ও চ্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে আগে যে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে ফরাক্কা ব্যারেজের গেট পরিবর্তন এবং নদীর পাড় বাঁধানোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    গঙ্গা ও ফুলহারের দূরত্ব মাত্র ৭৫০ মিটার, বাড়ছে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    মালদা ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গাভাঙনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমশ কাছাকাছি চলে আসা। প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে গঙ্গা তার গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ছ’কিলোমিটার সরে এসেছে। গত ১৫-২০ বছরে ফুলহার নদীর গতিপথও প্রায় দু’কিলোমিটার সরে গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে দুই নদীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৫০ মিটারে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ছ’-সাত বছরের মধ্যে গঙ্গা ও ফুলহার পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এর আগে আরও কম সময়ের মধ্যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ করা না হলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেও দুই নদীর মিলিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    দুই নদী মিশে গেলে তার প্রভাব শুধু মালদার নদীতীরবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আশঙ্কা, এর ফলে ফরাক্কা ব্যারেজের কার্যকারিতা গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিপদের মুখে পড়তে পারে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরও। পাশাপাশি মালদহ শহর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা এবং ব্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জাতীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগে।

    রতুয়া-মানিকচক বাঁচাতে ১৫৫০ কোটির প্রকল্প

    এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা মোকাবিলায় মালদার রতুয়া ও মানিকচক এলাকার নদীভাঙন রোধে প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকার একটি বিস্তারিত প্রকল্পের প্রস্তাব আগেই কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছে নবান্ন। প্রস্তাবিত প্রকল্পে রাজ্য সরকারের আর্থিক অংশ প্রায় ৬১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই পক্ষকেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে।

    প্রকল্পের পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখতে আইআইটি রুরকি এবং আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৪৫ কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ দ্রুত শুরু করা জরুরি। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, পলি জমা এবং জলপ্রবাহের চরিত্র বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ না করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

    তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ কবে থেকে পুরোদমে শুরু হবে এবং কোন পর্যায়ে কতটা কাজ করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ের পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত কাজ শুরু করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    ‘এক বছরের মধ্যে সুফল পেতে শুরু করবেন’, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

    দিল্লির বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনারা হাতেনাতে ফল পেতে শুরু করবেন এক বছর পর থেকে। এখন ছ’মাস হয়েছে। দু’বছরের মধ্যে চোখে দেখতে পাবেন। আর পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলা দেখতে পাবেন।”

    এরপর রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আবার দ্বিতীয় টার্মে যখন বিজেপি আসবে, তখন বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে গোটা ভারতবর্ষের জিডিপি থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-সহ সব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় অবদান থাকবে, যেটা স্বাধীনতার আগে ছিল।”

    সব মিলিয়ে, গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমবর্ধমান ভাঙন রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ জনপদ, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ফরাক্কা ব্যারেজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘোষিত উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

  • World Stroke Day 2026: হঠাৎ স্ট্রোক, নাকি আগাম ইঙ্গিত? বিপদ চিনতে জেনে রাখুন BEFAST-এর ৬টি সঙ্কেত

    World Stroke Day 2026: হঠাৎ স্ট্রোক, নাকি আগাম ইঙ্গিত? বিপদ চিনতে জেনে রাখুন BEFAST-এর ৬টি সঙ্কেত

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হঠাৎ করেই কি বিপদ হয়! নাকি ইঙ্গিত আগে থেকেই পাওয়া যায়? প্রয়োজনীয় সচেতনতা এবং সতর্কতার অভাব বিপদ ক্রমশ বাড়িয়ে দেয়!
    ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস! সেই উপলক্ষে দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে ক্রমশ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। আর স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যাওয়া। ২০২৬ সালে স্ট্রোক দিবসে মূল থিম হলো প্রত্যেক মিনিট গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু এই প্রতি মিনিটের গুরুত্ব বোঝার জন্য ‘BEFAST’ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    স্ট্রোক কী? কেন প্রতি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের কোনও নির্দিষ্ট অংশে হঠাৎ রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা মস্তিষ্কের রক্তনালী হঠাৎ ফেটে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে শুরু হয়। এই শারীরিক পরিস্থিতিকেই স্ট্রোক বলা হয়।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা হঠাৎ রক্তক্ষরণ শুরু হলে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেহের সমস্ত স্নায়ুর উপরেই তার প্রভাব পড়তে থাকে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। প্রত্যেক মুহূর্তে শরীরের একেকটা অঙ্গের কার্যশক্তি হ্রাস পায়। গভীর ক্ষত তৈরি হয়‌। পেশি এবং স্নায়ুর উপরে এমন প্রভাব পড়ে, যার জেরে দীর্ঘমেয়াদি একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রত্যেক মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতি মুহূর্তে রক্তক্ষরণ বাড়লে শারীরিক অবস্থার অবনতির ঝুঁকি বাড়ে। আবার মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন না হলেও আজীবন শরীরে অসাড়তা আসতে পারে। যত দেরি হবে, তত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে। তাই স্ট্রোকের চিকিৎসায় দ্রুত চিকিৎসা শুরুর দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    স্ট্রোক রুখতে কেন BEFAST ধারণায় বাড়তি গুরুত্ব?

    স্ট্রোকের বড় বিপদ রুখতে চিকিৎসকেরা BEFAST ধারণায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই সম্পর্কে যত সচেতনতা বাড়বে, প্রাণনাশের আশঙ্কা কমবে। এমনকি যে কোনও বড় দীর্ঘমেয়াদি বিপদ আটকানোও সহজ হবে। তাই দেশ জুড়ে এই বছরে BEFAST ধারণাকে আরও বেশি তুলে ধরা হচ্ছে। যাতে সময় মতো বিপদ আটকানো যায়।

    BEFAST কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, BEFAST হলো স্ট্রোকের লক্ষণ বোঝার একটি সহজ পদ্ধতি। পরিবার কিংবা পরিচিতদের এই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    B হলো ব্যালেন্স বা ভারসাম্য!

    হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটাচলার অসুবিধা হতে থাকা কিংবা শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে মনে হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটা স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ।

    E হলো আইজ বা চোখের সমস্যা!

    স্ট্রোকের বিপদ প্রথম জানান দেয় দৃষ্টিশক্তি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ দেখতে অসুবিধা হলে কিংবা ঝাপসা হয়ে গেলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। হঠাৎ কোনও একটি চোখে সমস্যা দেখা দিলে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

    F হলো ফেস বা মুখ বেঁকে যাওয়া!

    হঠাৎ ঠোঁটের পাশ হালকা বেঁকে যাওয়া কিংবা মুখে হঠাৎ আকৃতিগত পরিবর্তন দেখা দিলে‌ সচেতন হতে হবে। সামান্য পরিবর্তন ও আসলে স্ট্রোকের ইঙ্গিত বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, তাই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।

    A হলো আর্মস বা হাতের দূর্বলতা!

    স্ট্রোক শরীরের স্নায়ু এবং পেশির উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করে। তাই পেশি জানান দেয়। হঠাৎ করেই হাতের পেশির দূর্বলতা, শিথিল হয়ে যাওয়া, দুই হাত সমানভাবে কাজ করতে না পারার উপসর্গ আসলে স্ট্রোকের ইঙ্গিত।

    S হলো স্পিচ বা কথা বলার সমস্যা!

    ঠোঁট বা জিভের জড়তা স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ কথা বলায় আড়ষ্টতা দেখা দিলে বুঝতে হবে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে সমস্যা হয়েছে। তাই সময় নষ্ট করা একেবারেই চলবে না।

    T হলো টাইম বা সময়!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন স্ট্রোকের বড় বিপদ রুখতে সময় সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই সময় নিয়ে সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যায় আক্রান্তদের স্ট্রোকের যে কোনও একটা উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ সময় মতো চিকিৎসা শুরু করতে পারলে তবেই বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে।

    ভারতে স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

    ভারতে ক্রমশ স্ট্রোকের প্রকোপ বাড়ছে। কম বয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জেরেই ভারতে স্ট্রোকের প্রকোপ উর্ধ্বমুখী। কারণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং জীবন যাপন এ দেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া আধুনিক জীবনে বাড়ছে উদ্বেগ, অবসাদের মতো মানসিক সমস্যা। তাই সবমিলিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে। তবে স্ট্রোকের চিকিৎসায় এ দেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূলত তিনটি!

    ১. দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছনো!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছনো। অর্থাৎ চিকিৎসা শুরু হতেই অনেক দেরি হয়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতে ৫৩ শতাংশ বেশি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর আক্রান্ত হওয়ার ৪ ঘণ্টা পরে চিকিৎসা শুরু হয়। যেখানে স্ট্রোক পরবর্তী প্রথম এক ঘণ্টা সবচেয়ে জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার জেরে অনেক বেশি ক্ষতি হয়। প্রাণ সংশয় দেখা দেয়।

    ২. পুর্নবাসন চিকিৎসায় অবহেলা!

    স্ট্রোকের চিকিৎসায় পুর্নবাসন বা রিহ্যাবিলিটেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সাময়িক চিকিৎসার পরে একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা থাকে। নানান ওষুধের পাশপাশি রোগীকে নানান রকমের থেরাপি করতে হয়। যেগুলো আক্রান্তের পেশি, স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেবে। আবার মস্তিষ্কের ক্ষত সারিয়ে তুলবে। কিন্তু ভারতে এই পুনর্বাসন চিকিৎসা নিয়ে অসচেতনতা রয়েছে। স্ট্রোক পরবর্তী এই চিকিৎসা অধিকাংশ আক্রান্ত করেন না। এর জেরে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন না। অনেক সময়েই তাঁদের নিয়মিত কাজের জন্য অন্যের উপরে নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র প্রাণ বাঁচিয়ে দিলেই চিকিৎসা পর্ব শেষ হয়ে যায় না। রোগীকে সুস্থ জীবন যাপনের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। আর সেই পর্বে এই রিহ্যাবিলিটেশন অত‌্যন্ত প্রয়োজনীয়।

    ৩. উপসর্গ সম্পর্কে অবহেলা!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্ট্রোকের উপসর্গ সম্পর্কে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। কেমন জীবন যাপন করলে স্ট্রোকের ঝুকি কমবে সেই সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ট্রোকের প্রাথমিক উপসর্গ সম্পর্কেও জানতে হবে। তবেই বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও এক বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিপুল অঙ্কের কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশই করা হবে ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার সামরিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড়সড় উৎসাহ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি-র (DAC) বৈঠক। সেখানেই তিন বাহিনীর একাধিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাবে Acceptance of Necessity (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ২,১২,০০০ কোটি টাকা।

    স্থলসেনার জন্য আধুনিক কামান, হেলিকপ্টার ও আত্মঘাতী ড্রোন

    স্থলসীমান্তে অভিযান, দুর্গম এলাকায় সেনা চলাচল, নজরদারি এবং শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলা মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় সেনার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    অনুমোদিত সরঞ্জামগুলির মধ্যে রয়েছে হাই মোবিলিটি ভেহিকল (HMV), স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম, গান শট রেসপন্স সিস্টেম (GSRS), লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH), ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS), প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS), দূরপাল্লার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম, নজরদারি ড্রোন, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন যানগুলি দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং অভিযানের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে, স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম যান্ত্রিক বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কামানের গতিশীলতা ও গোলাবর্ষণের ক্ষমতা বাড়াবে। গান শট রেসপন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেনা আরও দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোথা থেকে গুলি চালানো হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করতে ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বুঝতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ড্রোন হামলা মোকাবিলা ও নজরদারিতে বাড়তি জোর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ড্রোন, মনুষ্যবিহীন আকাশযান এবং নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সেনার জন্য একাধিক ড্রোন ও ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS) নতুন প্রজন্মের ছোট আকারের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS) আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা ও টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    এছাড়া নজরদারি ইউএভি, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সেনার শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে।

    বিশেষত, দূরপাল্লার ড্রোন ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার সংযোজনের ফলে দূরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কার্যকর হতে পারে।

    সেনা ও বায়ুসেনার জন্য একসঙ্গে হেলিকপ্টার

    লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH) কেনার প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে ভারতীয় সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনা—দুই বাহিনীই।

    পুনরীক্ষণ ও নজরদারি, যুদ্ধকালীন অভিযান, বিপদে পড়া সেনাকর্মীদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবিলার মতো একাধিক কাজে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

    দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত এমন এলাকায় সেনার কাছে দ্রুত পৌঁছনো, আহতদের উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    নৌসেনার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য অ্যাক্টিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম (AODS) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্ম কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    AODS-এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুপক্ষের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে নৌসেনার প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো। এই ধরনের ডিকয় সিস্টেম শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে আসল জাহাজ থেকে সরিয়ে অন্যদিকে আকৃষ্ট করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে জাহাজের উপর সরাসরি আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই প্রযুক্তি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও নির্মাণ করা গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলি আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে এবং ভারতীয় নৌসেনার সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়াবে।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স ও আবহাওয়া রেডার

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অস্ত্রশস্ত্র এবং মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সিস্টেম কেনার প্রস্তাবেও প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ উপযোগিতার হেলিকপ্টারগুলি বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহণের চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ, দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন অভিযানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার কার্যকর হতে পারে।

    অন্যদিকে, মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সামনের সারির সামরিক এলাকাগুলিতে স্থানীয় আবহাওয়ার উচ্চ রেজোলিউশনের তথ্য সরবরাহ করবে। এর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

    সামরিক অভিযানে দৃশ্যমানতা, বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই রেডার ব্যবস্থা বিমান অভিযান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

    দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় সুযোগ

    এই অনুমোদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল, মোট প্রস্তাবিত কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশ ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে করা হবে। অর্থাৎ, প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মোট প্রস্তাবিত ব্যয়ের বড় অংশ দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

    এর সম্ভাব্য প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে পড়তে পারে। প্রথমত, দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উৎপাদনের বাজার সম্প্রসারিত হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উৎপাদন পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, দেশীয় সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    তবে মনে রাখতে হবে, AoN বা Acceptance of Necessity চূড়ান্ত বরাত কিংবা সরঞ্জাম সরবরাহের সমান নয়। এটি কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক অনুমোদন। এর পরে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী দরপত্র, চুক্তি, উৎপাদন এবং সরবরাহের মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

    সব মিলিয়ে, তিন বাহিনীর জন্য এই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাবিত সামরিক কেনাকাটা ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়ার ফলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যও আরও গতি পেতে পারে। তবে বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলি কত দ্রুত চুক্তি, উৎপাদন ও কার্যকর সামরিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছয়, তার উপর।

  • Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধে কোনও রকম আপস নয়, অপরাধীদের মনে আইনের ভয় থাকা জরুরি—এই বার্তাই কি আরও একবার সামনে এল গাইঘাটার ঘটনায়? একাদশ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশকর্মীরা।

    পুলিশের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত

    গত রবিবার, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে গাইঘাটা থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে। সে নির্যাতিতারই এক আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে।

    সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফেরার পথে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলে প্রহ্লাদ। গাড়ি থেকে নামার পর এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে। প্রাণ বাঁচাতে এক পুলিশকর্মী পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হন বলে খবর।

    এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি। তাতে প্রহ্লাদের পায়ে ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লাগে। পরে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

    আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বার্তা ছিল, ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। অর্থাৎ, অপরাধের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না, এমনই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের রেয়াত করা হবে না এবং আইন ভাঙলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃতের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সেই বার্তাকেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    ‘পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে’, বলছেন দিলীপ ঘোষ

    গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষও অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করা এবং পুলিশের উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইন অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে।”

    পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি করা জরুরি। দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দু’টো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা। যাতে লোকে এই ধরনের কাজ না করে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”

    বারুইপুরের ঘটনারও পুনরাবৃত্তি?

    গাইঘাটার আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও ওঠে। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় প্রভাসের। গাইঘাটার ঘটনাতেও পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তের গুলির মুখে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার, এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ’, বিজয়া সম্মিলনীতে বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার, এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ’, বিজয়া সম্মিলনীতে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। কিন্তু ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্বও তার তার।” পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো-পরবর্তী বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ, পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গ।” সোমবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে রাজ্য সরকারের আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একদিকে যেমন রাজ্যের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের পরিবেশের কথা তুলে ধরেন, অন্যদিকে চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন তিনি। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে তদন্ত কমিটির সুপারিশ রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার’

    বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, উৎসব পালন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয় প্রত্যেকের নিজস্ব বিষয় হলেও ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের। এ বার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই বিষয়টি বুঝেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ধর্ম যার যার উৎসব সবার—এটা তো ঘটনা। কিন্তু ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্বও তার তার। এটা এবারে পশ্চিমবঙ্গের সকলে বুঝেছেন। এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ, পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গ।”

    দুর্গাপুজোয় মাইক ব্যবহারের অনুমতি এবং প্রতিমা বিসর্জনের রুট নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গেও অতীতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপুজোর মাইক বাজানো নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হত। আলিপুরদুয়ারের ভালাকাটা, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার মহেশপুর এবং কলকাতার উপকণ্ঠে গার্ডেনরিচের মতো এলাকার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। বিসর্জনের রুট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আমি কোনও সম্প্রদায়কে দায়ী করি না। আমি দায়ী করি বিগত দিনে যারা প্রশাসনে ছিলেন তাঁদের। তাঁরা আত্মসমর্পণ করতেন।”

    চোরবাগান দুর্ঘটনা ‘হিউম্যান এরর’, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস

    বক্তব্যের শুরুতেই চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “চোরবাগানের ঘটনা আমাদের মন, হৃদয় একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে।” দুর্ঘটনাটিকে ‘হিউম্যান এরর’ বা মানুষের ভুল বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তবে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং কারা দায়ী, তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্ত কমিটির উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শে এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার নিজেরাই তদন্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হাতে তুলে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    তদন্তে কোনও পক্ষপাতের জায়গা থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আনব না। আমি ছোট্ট ঘটনা বলব না। আমি বলব, যাদেরই ভুলে এই ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন, তার মূল্যায়ন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ম্যাডাম মহোদয়া করবেন। ওই ঘটনার জন্য দায়ী কাউকে আড়াল করবে না সরকার।”

    তদন্ত কমিটির সুপারিশ শুধু প্রকাশ্যে আনাই নয়, আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে প্রচারপত্রের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটির কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আহত ২৫ জনের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য

    চোরবাগানের দুর্ঘটনায় আহত ২৫ জনের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান তিনি। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নেওয়ার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও অহঙ্কারকে গুরুত্ব না দিয়ে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার ছিল।

    এ দিনের বিজয়া সম্মিলনীতে দুর্ঘটনার কারণে শোকের আবহ বজায় ছিল। বাতিল করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের লোকসংস্কৃতিকে একই মঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনাও সংক্ষিপ্ত করা হয়।চোরবাগানের ঘটনায় বিহারের মুজফফরপুরের দুই বাসিন্দার মৃত্যুর প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায়ের নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধি দল সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    রাজ্যে প্রায় ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো, শান্তিপূর্ণ উৎসবের দাবি

    দুর্গাপুজোর সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এ বছর রাজ্যে ৫৮ হাজার অনুমোদিত দুর্গাপুজো হয়েছে। বাড়ি এবং মঠ-মিশনের পুজো যুক্ত করলে মোট সংখ্যা প্রায় ৬৬ হাজার। চোরবাগানের দুর্ঘটনা বাদ দিলে রাজ্যের বাকি দুর্গাপুজোগুলি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    সোমবারের অনুষ্ঠানে কলকাতা, হাওড়া, চন্দননগর, বিধাননগর ও ব্যারাকপুরের প্রায় ছ’হাজার পুজো কমিটির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনে আগামী দিনের উৎসব আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সতর্কতা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কালীপুজো, ছটপুজো ঘিরে আগাম প্রস্তুতি

    দুর্গাপুজো শেষ হলেও রাজ্যে একের পর এক উৎসব রয়েছে। সামনে কালীপুজো, দীপাবলি, ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো ও কার্তিক পুজো। এই উৎসবগুলিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বিশেষ করে ছটপুজোয় বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দেন তিনি। আগামী ২৮ অক্টোবর সরকারি অফিস খোলার পর উৎসবগুলির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষ বৈঠক হবে বলে জানান শুভেন্দু।

    চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বড় জমায়েতগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আন্তর্জাতিক মানে গঙ্গাসাগর মেলা, সামনে ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’

    গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও এ দিনের সভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে মেলার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব, প্রবাসী ভারতীয় সম্মেলন এবং ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’-এর মতো আসন্ন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। আগামী ২৭ জানুয়ারি কলকাতায় ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’ আয়োজনের প্রসঙ্গ তুলে বড় কর্মসূচিগুলির প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

    এ দিনের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী, পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ ওরফে কার্তিক মহারাজ, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    চোরবাগান দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুপারিশগুলি সমস্ত পুজো কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এ দিনের সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যও রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

  • India Polio-Free Status: পোলিওমুক্ত ভারত, তবুও কাটেনি বিপদ! কোন ৫টি সতর্কতা শিশুদের জন্য জরুরি?

    India Polio-Free Status: পোলিওমুক্ত ভারত, তবুও কাটেনি বিপদ! কোন ৫টি সতর্কতা শিশুদের জন্য জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পোলিও মুক্ত দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও পুরোপুরি বিপদ মুক্ত নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাই সাবধানতা এবং সচেতনতা অবশ্যই নিতে হবে। ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পোলিওমুক্ত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু পোলিওমুক্ত হওয়া মানেই পোলিওর ঝুঁকি চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। যত দিন বিশ্বের অন্য কোথাও পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ থাকবে, তত দিন ভারতেও বিদেশ থেকে ভাইরাস প্রবেশের আশঙ্কা এবং টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
    বিশেষ করে শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং পোলিও সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    ভারত পোলিওমুক্ত হলেও ঝুঁকি কোথায়?

    বিদেশ থেকে ভাইরাসের প্রবেশ!

    পোলিও মুক্ত হলেও পোলিও-র বিপদ কমেনি। কারণ বিদেশ থেকে পোলিও-র ভাইরাস সংক্রমণ হতেই পারে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রচুর পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ এখনও রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াতের মাধ্যমে ভাইরাস অন্য দেশেও পৌঁছতে পারে।

    টিকাবিহীন শিশুদের ঝুঁকি

    কোনও এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশু টিকা না পেলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই শিশুদের ঠিকমতো টিকা দেওয়া হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বিশেষত সদ্যোজাতেরা যাতে কোনো টিকার ডোজ থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

    ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে উপলক্ষে কী বিশেষ বার্তা?

    এ বছরে ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে- উপলক্ষে বিশেষ ভাবে বলা হচ্ছে, পোলিও রুখতে একটি দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অর্থাৎ, টিকা করণের দিন সবচেয়ে জরুরি। একদিন পোলিও টিকা করণ পোলিও বিপদ অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তাই এ বছরের বার্তা, “One day, one focus, ending polio for good: Together let us build a polio-free future.” অর্থাৎ, একটি দিন, একটি লক্ষ্য—চিরতরে পোলিও নির্মূল। এবছর প্রচারের মূল লক্ষ্য হলো, বিশ্ব থেকে পোলিও সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত টিকাকরণ, জনসচেতনতা ও নজরদারি অব্যাহত রাখা কতখানি প্রয়োজন, সেদিকে নজর দেওয়া।

    পোলিও রুখতে কোন কোন দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলিও ভাইরাসের বিপদ কমাতে কয়েকটি দিকে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি জরুরি।

    পালস পোলিও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ!

    নিয়মিত টিকা নেওয়া থাকলেও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী পালস পোলিও অভিযানে শিশুকে নিয়ে যেতে হবে। অভিযানের অতিরিক্ত ডোজ এবং নিয়মিত টিকাকরণ পরস্পরের বিকল্প নয়।

    প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পরিযায়ী পরিবারের কাছে টিকাকরণ কর্মসূচি পৌঁছনো!

    পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার, বস্তি, দুর্গম এলাকা, নবজাতক এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত শিশুদের টিকাকরণে বিশেষ নজর প্রয়োজন। বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেন। সেই শিশুদের নিয়মিত টিকাকরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে। কোনো ভাবেই যাতে পোলিও-র ডোজ বাদ না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

    সংক্রমণের দ্রুত শনাক্তকরণ

    স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে পোলিও-সদৃশ উপসর্গ, বিশেষত হঠাৎ হাত-পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে। মল পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় এবং পরিবেশগত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।

    অভিভাবকদের জন্য কোন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি সহজ বিষয়ে নজর রাখলেই সন্তানের পোলিও সংক্রমণের ঝুঁকি নিশ্চিহ্ন করা যাবে। তাই পোলিও রুখতে চিকিৎসকদের কিছু বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

    • ● শিশুর টিকাকরণের কার্ড দেখে সমস্ত ডোজ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।
    • ● সরকারি পালস পোলিও অভিযানের ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে। তাহলে টিকার ডোজ বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকবে না।
    • ● শিশুর টিকা বাদ পড়লে পরবর্তী সুযোগের জন্য অপেক্ষা না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
    • ● পোলিওমুক্ত দেশ বলে টিকা বন্ধ করলে চলবে না বা ঝুঁকিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
    • ● শিশুর হঠাৎ হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষত সন্তানের বয়স পাঁচ বছরের কম হলে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।
  • Tibet Earthquake: তিব্বতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃত অন্তত ১৬, ধ্বংস শতাধিক বাড়ি

    Tibet Earthquake: তিব্বতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃত অন্তত ১৬, ধ্বংস শতাধিক বাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন অন্তত ১৬ জন। আহত হয়েছেন আরও ৫৪ জন। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিট নাগাদ ৭.০ মাত্রার এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর তিব্বতের নাগকু শহর ও সংলগ্ন এলাকায়। সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের জেরে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি এবং ২০টি পশু রাখার শেড ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে চলছে তল্লাশি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আশ্রয়, খাবার ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু করেছে প্রশাসন।

    নাগকুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধারকাজে ১,৬০০ জন

    ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নাগকু শহর ও তার আশপাশের এলাকায়। নাগকু প্রশাসনের মিডিয়া দফতর জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি ও ২০টি পশু রাখার শেড ধসে পড়ার খবর মিলেছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছেন। দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠেছে।

    উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে সাহায্য করতে স্থানীয় জেলা থেকে ১,৬০০-রও বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ করছেন তাঁরা। মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য বিপুল পরিমাণ জরুরি সামগ্রী পাঠিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে ১,০০০টি প্রিফ্যাব্রিকেটেড আবাসন ইউনিট, প্রায় ৩,০০০টি তাঁবু, ভাঁজ করা বিছানা, টর্চ এবং শীতের পোশাক। তিব্বতের এই পার্বত্য অঞ্চলে ঠান্ডার মধ্যে বহু মানুষ ঘরছাড়া হওয়ায় অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ধসের জেরে বন্ধ জাতীয় সড়ক, ব্যাহত রেল পরিষেবা

    ভূমিকম্পের প্রভাবে তিব্বতের একাধিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষও জরুরি পদক্ষেপ করেছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    অন্যদিকে, ভূমিকম্পের জেরে পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ায় জাতীয় সড়ক ৩১৭-এর একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তা থেকে পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। আপাতত ওই অংশ দিয়ে শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার গাড়ি, উদ্ধারকারী দল এবং প্রশাসনের ত্রাণবাহী যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং দুর্গত এলাকাগুলিতে দ্রুত পৌঁছনোর জন্য রাস্তা পরিষ্কারের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    কোথায় ছিল ভূমিকম্পের উৎস? জানাল ইউএসজিএস

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উপকেন্দ্র ছিল নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।

    উত্তর তিব্বতের এই অঞ্চলটি উচ্চ পার্বত্য এবং তুলনামূলকভাবে কম জনবসতিপূর্ণ। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা এবং একাধিক বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    প্রাথমিক কম্পনের পর অন্তত সাতটি পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকেরও রেকর্ড পেয়েছে USGS। সেগুলির মাত্রা ছিল ৪.৩ থেকে ৫.২-এর মধ্যে। প্রতিটি আফটারশকের উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার গভীরে।

    তুষারপাতের পূর্বাভাস, বাড়ছে উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ

    ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের এলাকায় আগামী তিন দিন ধরে থেমে থেমে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। এর ফলে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    বিশেষত যাঁরা বাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের জন্য ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই তাঁবু, অস্থায়ী আবাসন, বিছানা ও শীতের পোশাক সরবরাহের উপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

    উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শি জিনপিংয়ের

    ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলগুলি।

    চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে নাগকুর দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি।

    প্রাণহানি, বাড়িঘর ধসে পড়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আপাতত উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘরছাড়া পরিবারগুলির জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

  • Suvendu Adhikari: নতুন সরকারের প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপে শুভেন্দু, কী কী পরিকল্পনা?

    Suvendu Adhikari: নতুন সরকারের প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপে শুভেন্দু, কী কী পরিকল্পনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পরিকাঠামো—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে শনিবার কাকদ্বীপ সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তাঁর। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের অধীনে প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৭ সালে। তাই মেলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সুন্দরবন এলাকার উন্নয়ন, একাধিক বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭: নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় বিশেষ নজর

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, শনিবার কাকদ্বীপে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সামগ্রিক পরিস্থিতি, চলতি উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিবছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। এই বিপুল জনসমাগম সামলাতে নিরাপত্তা, পরিবহণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে হয়। বিশেষ করে কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত যাতায়াত, নদীপথে পারাপার, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সেই কথা মাথায় রেখে আসন্ন মেলার জন্য আগাম পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নতুন সরকারের অধীনে গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা

    মুখ্যমন্ত্রীর কাকদ্বীপ সফরের আগে কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে গিয়ে সভাস্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। জনসভার আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

    এরপর মহকুমা শাসকের দফতরে প্রশাসনিক বৈঠকও করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘শনিবার কাকদ্বীপে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে।’

    জাতীয় মেলার স্বীকৃতি ও পৃথক সুন্দরবন জেলা নিয়ে জল্পনা

    গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। ফলে আসন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা হয় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানা যায়নি।

    অন্যদিকে, সুন্দরবনের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং পৃথক সুন্দরবন জেলা গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সুন্দরবন এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে শনিবারের বৈঠকে এ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা পরিষদের আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাকদ্বীপ সফর ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ছে। প্রশাসনিক বৈঠকে কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

  • India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান এবং নির্দিষ্ট দেশ সম্পর্কে পর্যবেক্ষণহীন রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারত। একইসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা ও সহযোগিতায় নয়াদিল্লি প্রস্তুত। তবে সেই প্রক্রিয়া হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং তথ্যনির্ভর। মানবাধিকারকে কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা বেছে বেছে নিশানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বা জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা চলাকালীন ভারতের এই অবস্থান সামনে আসে। সেখানে বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বরখা তামরাকার ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, যাচাই না করা অভিযোগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা এবং মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে দেশের বিরুদ্ধে রায়ের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

    ‘যাচাইহীন অভিযোগ দিয়ে ভারতকে কলঙ্কিত করা যাবে না’

    রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি বরখা তামরাকার বলেন, “যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান কিংবা ভারত সম্পর্কে কোনও দেশ-নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ নেই এমন রিপোর্টকে ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ভারত।”

    একইসঙ্গে তিনি জানান, নির্দিষ্ট এবং যথাযথ নথিপত্র-সহ উপস্থাপিত ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিতে ভারত প্রস্তুত। অর্থাৎ, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দরজা বন্ধ করতে চাইছে না নয়াদিল্লি। বরং ভারতের আপত্তি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতায়।

    ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে আলোচনা, পরামর্শ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা। কোনও নির্দিষ্ট দেশকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়কে ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি কোথায়?

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা ঘিরে ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্ট ও অভিযোগের তথ্যগত ভিত্তি নিয়ে। ভারতের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিবেদক তাঁদের রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে কখনও কখনও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বা পক্ষের জমা দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করেন। সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলে তাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    তামরাকার রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের রিপোর্টের বক্তব্য যথাযথভাবে উদ্ধৃত করার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, কোনও মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে অতিরঞ্জিত করে একটি দেশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের মতো তুলে ধরা উচিত নয়।

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা করার পরিবর্তে তার পদ্ধতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও প্রতিটি অভিযোগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত প্রামাণ্য তথ্য, নির্দিষ্ট ঘটনা এবং যাচাইযোগ্য নথির ভিত্তিতে।

    সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ ও বিচারব্যবস্থার কথা তুলে ধরল ভারত

    ভারতের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচগুলির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।

    ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তির বেআইনি আটক বা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ চাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিশেষত, হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দি-উপস্থাপন সংক্রান্ত রিটের মাধ্যমে আদালত কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখার বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।

    ভারতের বক্তব্য, এই স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নাগরিকের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তার প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি পরীক্ষা করা জরুরি বলেও ভারতের অবস্থান থেকে স্পষ্ট।

    তথ্যের অধিকার থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কী কী যুক্তি ভারতের?

    মানবাধিকার রক্ষায় ভারতের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উল্লেখ করেন বরখা তামরাকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    • ● তথ্যের অধিকার আইন (RTI): সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    • ● জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC): মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ রয়েছে।

    • ● রাজ্য মানবাধিকার কমিশন: রাজ্যস্তরেও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

    • ● স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

    • ● স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ: প্রশাসনের কাজকর্মের উপর নজরদারি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলির ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি সম্মিলিতভাবে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মূল্যায়ন করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বাস্তব তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

    দিল্লিতে যুব বিক্ষোভ ঘিরে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

    ভারতের এই কড়া অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে দিল্লিতে যুবকদের বিক্ষোভ ঘিরে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কও। মঙ্গলবার জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ দিল্লিতে যুবকদের কথিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর পুলিশের বারবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিক্ষোভ চলাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

    অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য, যাচাইহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনও দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তবে দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ—দুটি বিষয়কেই পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা জরুরি।

    ককরোচ জনতা পার্টি বিতর্কেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টকে ‘শোনা কথা’ বলেছিল ভারত

    রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি এই প্রথম নয়। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের রিপোর্টেরও বিরোধিতা করেছিল নয়াদিল্লি।

    সেই রিপোর্টে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘শোনা কথা’ বা ‘হিয়ারসে’ বলে অভিহিত করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের উপর নির্ভর করে এবং যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগ তোলা কোনওভাবেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

    ভারতের প্রতিনিধি সেই সময় বলেছিলেন, “অজ্ঞাত এবং যাচাই না করা দাবির উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যার বিরুদ্ধে এমন বিস্তৃত অভিযোগ কোনও প্রমাণ নয়। এটি রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের মোড়কে সাজানো শোনা কথা।”

    এই অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্টের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চের নিরপেক্ষতা নিয়ে।

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন প্রসঙ্গ

    আলোচনায় জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ভারত জানিয়েছে, নয়াদিল্লি International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-এর স্বাক্ষরকারী।

    এই কনভেনশন জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার কাঠামো। তবে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এবং সেটির অধীনে পূর্ণাঙ্গ আইনগত বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। কোনও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কনভেনশনের আইনগত বাধ্যবাধকতার পরিধি নির্ধারণে তার অনুমোদন বা অনুসমর্থনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

    তাই ভারতের স্বাক্ষরকারী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হলেও, একে কনভেনশনের সমস্ত বাধ্যবাধকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করার সমতুল্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

     

LinkedIn
Share