Author: Susanta Das

  • WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, দ্বিতীয় দফায় (Second Phase Polling) ভোট হচ্ছে ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটদান। বিভিন্ন বুথে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হচ্ছে আজ, বুধবার ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন?

    এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর সঙ্গে জুড়বে ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ করা আরও ১,৪৬৮ নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

    কতজন প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

    বুথের সংখ্যা কোথায় কত

    দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

    কোন কেন্দ্রে কতজন করে প্রার্থী?

    দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড়জু কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দা, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপাদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (র্বএসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচপাঁলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

  • WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (WB Assembly Polls 2026 Second Phase)। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তার জন্য একাধিক কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম।

    কোথায় কত বাহিনী…

    দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— মোট ৫০৭ কোম্পানি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

    আরও বাহিনী…

    হাওড়া জেলার হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি। হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব বর্ধমানে মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি। কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন।

    আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ

    দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ২৬ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও। ব্যারাকপুরে নিয়ে আসা হল অতিরিক্ত ৪ জন পুলিশ অফিসারকে। অন্যদিকে, হাওড়া-কৃষ্ণনগরে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। বারাসাত-বসিরহাট-বারুইপুরে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। পূর্ব বর্ধমান, চন্দননগর, হাওড়া গ্রামীণ, হাওড়া শহরে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসার। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবারে অতিরিক্ত ৩ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। আর সুন্দরবন ও বনগাঁয় অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বাহিনীর বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর

    বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কোঅর্ডিনেটর সিআরপিএফের আইজি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। ভোটের দিন কোনও সমস্যা হলে বা অভিযোগ থাকলে হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে। দুটো মোবাইল ও একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর দুটি হল- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও ল্যান্ড লাইন নম্বরটি হল- ০৩৩২৩৬৭১১১৭। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘প্রথম দফার থেকেও বেশি ভোট পড়বে দ্বিতীয় দফায়। নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোটই হবে দ্বিতীয় দফাতেও।’’

  • WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে কলকাতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

    বিশেষ বৈঠকে কমিশন

    শহরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সূত্রের খবর, বৈঠকে যোগ দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরাও। পাশাপাশি, জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO), রিটার্নিং অফিসার (RO) সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই এই সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে বুথে বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারি, রুট মার্চ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সেই বার্তাই স্পষ্ট।

    কলকাতায় আলাদা করে নজর

    কলকাতার পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ ভাবনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার সমস্ত সিভিল সেক্টর অফিসার, পুলিশ সেক্টর অফিসার, জেনারেল অবজ়ার্ভার, পুলিশ অবজ়ার্ভার, স্পেশ্যাল অবজ়ার্ভার, পুলিশের সিনিয়র আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। বৈঠক পর নগরপাল জানান, বুথ ধরে ধরে যে সব পরিকল্পনা রয়েছে, কোথায় কত কুইক রেসপন্স টিম, কন্ট্রোল রয়েছে, অভিযোগ জানানোর কী ব্যবস্থা আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব কী কী, কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কী করা হবে, এই সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

    বাইকে টহল পুলিশ-আধাসেনার

    সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটে গোটা শহর জুড়েই টহল দেবে পুলিশ-আধাসেনার বাইক। অজয় জানান, কলকাতা জুড়ে মোট ১৬০টি বাইক টহল দেবে। এই কাজ পুলিশ এবং আধাসেনা মিলে করবে। পাশাপাশি, বুথে বুথে নজরদার ক্যামেরা থাকবে। বুথের পরিস্থিতি বুঝে আরও ক্যামেরা লাগানো হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ড্রোনের সংখ্যা বৃদ্ধি

    তবে শুধু কলকাতা নয়, সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনতে চাইছে কমিশন। কমিশন সূত্রেই খবর, স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি চালাতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এ ছাড়াও শুধু বুথ বা বুথ সংলগ্ন এলাকা নয়, এ বার বুথ‌মুখী সব রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত‌ নিয়েছে কমিশন। মূলত কলকাতা এবং হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি বা ঘনবসতি এলাকায় যে সমস্ত বুথ থাকবে, সেই সমস্ত বুথের ক্ষেত্রেই তা মেনে চলা হবে। ‌

  • Adult Vaccination India: ভারতে বিপুল সাফল্য শিশুদের টিকাকরণে! চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা?

    Adult Vaccination India: ভারতে বিপুল সাফল্য শিশুদের টিকাকরণে! চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ, রোগ মুক্ত জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা। সেই সতর্কতা এবং সচেতনতার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে টিকাকরণ। টিকাকরণ সম্পর্কে অবগত থাকা এবং সময় মতো টিকা করণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর ভারত গত দু’বছরে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে‌। শিশুদের টিকাকরণে দেশে বিপুল সাফল্য দেখা দিয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা (Adult Vaccination India)। এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ জুড়ে চলে ইমিউনাইজেশন উইক (World Immunization Week)। অর্থাৎ, শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি অটুট রাখতে টিকা করণ জরুরি। সেই টিকা করণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে এবং সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই প্রচার কর্মসূচি চলে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চ্যালেঞ্জের দিকে নজর রেখেই ইমিউনাইজেশন উইকে দেশ জুড়ে কর্মসূচি পালন হবে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে দেশ জুড়ে শিশু টিকাকরণে বিপুল সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। দেশের ৯৪ শতাংশ শিশুর নিয়ম মাফিক টিকা করণ হয়েছে। জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি মেনেই শিশুর সমস্ত টিকা করণ হয়েছে। কোনও কোনও রাজ্যে শিশু টিকাকরণে সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি। যক্ষ্মা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি, রুবেলা, ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য উল্লেখযোগ্য। জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি মেনে জিরো ডোজ চাইল্ড অর্থাৎ একটিও টিকা পায়নি এমন শিশু ০.০৬ শতাংশ রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তারা অবশ্য জানাচ্ছেন, তাঁদের টার্গেট ১০০ শতাংশ শিশুর টিকা করণ। তাই আরও বেশি নজরদারি দেওয়া হচ্ছে।

    ভারতে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ

    তবে, চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা। করোনা আবহে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণ নিয়ে সচেতনতা বেড়েছিল। যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা যথেষ্ট নয়। এ দেশে শিশু টিকা করণ নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণের হার কম। প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণের হার ২ শতাংশ। দেশে নিউমোনিয়ায় বয়স্কদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়লেও, প্রাপ্তবয়স্কদের নিউমো-কক্কাল টিকাকরণের হার ০.৭ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের হেপাটাইটিস বি টিকা করণের হার ২ শতাংশ। টাইফয়েড এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাকরণের হার ১.৫ শতাংশ। বয়স্কদের টিকার করণের হার এত কম হওয়ায় উদ্বিগ্ন দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স্কদের মধ্যে টিকা করণ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। টিকা শুধুই শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। সুস্থ জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত। এ সম্পর্কে এখনও সব স্তরে ধারণা স্পষ্ট হয়নি। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ এখন ভারতে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    কোন দিকে বাড়তি গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চলতি বছরে ইমিউনাইজেশন উইকের মূল ভাবনা হলো, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখবে টিকা। অর্থাৎ, টিকা করণ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির সুরক্ষা কবচ নয়। বরং একটি রোগ নির্মূল করতে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ জীবনযাপনের পথে নিয়ে যেতেও সাহায্য করে। হেপাটাইটিস, টাইফয়েড কিংবা নিউমোনিয়ার মতো রোগের দাপট কমাতে টিকা করণ জরুরি। পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যের এই রোগ হলে, বাকিদের মধ্যেও, রোগ সংক্রামিত হতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণ জরুরি। শৈশবে টিকা নেওয়া না হলে, চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিয়ে, পরবর্তী সময়ে টিকা করণ করা যায়। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখা জরুরি। যাতে দেশ থেকে একাধিক ভাইরাসঘটিত অসুখ নির্মূলের কাজ সহজ হয়। সেদিকে নজর রেখে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণে বাড়তি সচেতনতা প্রসার চালানো হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

  • PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

    PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিন। ব্যারাকপুরের ভাটপাড়ায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে, বড়মার ছবি তুলে দেওয়া হয়। ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে ভাষণ শুরু করেন নরেন্দ্র মোদি। যাঁরা তাঁর ছবি এঁকে এনেছিলেন, তাঁদের থেকে তা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রার্থীদের ডেকে নেন পাশে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াইকে শক্তি জুগিয়েছিল। আজ এই ভূমি বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার।’’ রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষণা ৪ মে। এই প্রেক্ষিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন পরবর্তী সরকার গঠনের সময় বঙ্গে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, ‘‘সকাল সকাল আমাকে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন বহু মানুষ। হেলিপ্যাড থেকে যখন আসছিলাম, রাস্তার দু’পাশে মানুষের উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত। কল্পনা করতে পারিনি। এই ভোটে আমার এটা শেষ সভা। বাংলায় যেখানে যেখানে গিয়েছি, মানুষের যা মেজাজ দেখেছি, এই বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছি যে, ৪ মে-র পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতেই হবে।’’

    অঙ্গ, কলিঙ্গের পর বঙ্গ…

    বাংলার এই ভোটকে পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার সেবা করা, সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাকে রক্ষা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট। যখন ভারত সমৃদ্ধ ছিল অতীতে, তখন তিনটি মজবুত স্তম্ভ ছিল— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার, বাংলা, ওড়িশা। এই তিন স্তম্ভ দুর্বল যখন হয়, গোটা ভারতে ঝটকা লেগেছে। আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পরের পরিপূরক। ২০১৩ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে বলছি, পূর্ব ভারত যখন এগোবে, তখন দেশ এগোবে। অঙ্গ, কলিঙ্গে কমল ফুটেছে। এখন বাংলার পালা।’’

    বাংলায় পূর্বোদয় হচ্ছেই…

    বাংলায় পূর্বোদয় যে হচ্ছেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের নারীশক্তি ভরসা করে বিজেপি-তে। বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সাংসদ করেছিল। তার প্রেরণা বিজেপির সঙ্কল্প হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে তাঁর একটি সঙ্কল্প পূরণ করেছি। আরও একটি সঙ্কল্প রয়েছে শ্যামাপ্রসাদের— বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন হলে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ‘‘বাংলায় যে বিজেপি সরকার আসছে, তারা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করবে। ভারতের প্রগতি, সংস্কৃতি, স্বাধীনতায় বাংলার সন্তানদের ভূমিকা ছিল বড়। কিছু দূরে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তিতে বাংলাও ঐতিহাসিক পরিবর্তন করতে চলেছে। বন্দে মাতরম দাসত্ব থেকে মুক্তির মন্ত্র ছিল। এ বার বাংলার নব নির্মাণের মন্ত্র তৈরি করতে হবে। সুজলং, সুফলংকে নীতি করব, শস্য শ্যামলং -কে রোজগারের পথ করব। মলয়জ শীতলং-কে সুখ সমৃদ্ধির পথ করব। দুর্গার শক্তিকে সুরক্ষার গ্যারান্টি করব।’’

    তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই…

    মোদি জানান, বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। তাই কোনও তৃণমূল নেতা রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। তিনি বলেন, ‘‘প্রচারের সময় বাংলার বিকাশ নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তৃণমূলের নেতারা একবারও মা-মাটি-মানুষের নাম নেয়নি এই ভোটে। যে মন্ত্র নিয়ে তারা বাংলায় সরকার গড়েছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছর ওদের সুযোগ দিয়েছেন, মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্য কিছু করেনি। কিছু বলার নেই বলে একটাই ফর্মুলা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে। তৃণমূলের এক জন নেতাও রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। যারা নিজের কাজের রিপোর্ট দিতে পারে না, তাঁদের কি সুযোগ দেওয়া উচিত? কিছু করেন, বরবাদীর জন্য সুযোগ দেবেন?’’ বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। কী করা হবে, কোথায় নিয়ে যাবে, তা-ও বলে না তৃণমূল। কারণ ওদের কোনও ইচ্ছা নেই, দূরদর্শিতা নেই।’’

    তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক

    ব্যারাকপুরে কেন পরিবর্তন প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা এদিন সভায় দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পরিবর্তন কেন জরুরি, তা ব্যারাকপুরের থেকে বেশি কেউ জানে না। যে ব্যারাকপুরে আগে বাইরে থেকে লোক আসতেন, কাজের জন্য, আজ সেখান থেকে লোক পালিয়ে যাচ্ছেন। বাধ্য হচ্ছেন। এখানে কারখানার শব্দ আসত এক সময়, আজ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। অকল্যান্ড পাটকলে কী হল, সবাই দেখেছেন। আজ ব্যারাকপুরের দুর্ভাগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাট, কাপড়কল বন্ধ হয়েছে একটার পর একটা। ব্যারাকপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্টে গত কয়েক মাসে এক ডজন পাটকল বন্ধ হয়েছে।’’ এক সময় শিল্পের জন্য পরিচিত ব্যারাকপুর এখন গুলি-বোমার জন্য কুখ্যাত। সেই কথা মনে করিয়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক দেন মোদি। বলেন, ‘‘আপনাদের রোজগার বন্ধ হচ্ছে। গুন্ডাদের রোজগারের জায়গা, বোমার কারখানা ফুলেফেঁপে উঠছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেটের দোকান বাড়ছে। এটাই ওদের জঙ্গলরাজ। নিজের বাড়ি, দোকান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ওদের সিন্ডিকেটকে জিজ্ঞেস করতে হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ভাগাতে হবে, ওদের হারাতে হবে। তৃণমূলকে সরাবেন তো? আজ ভারতের জন্য গোটা দুনিয়া উৎসাহিত। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, কলকাতা এবং আশপাশের এসব এলাকা মেক ইন্ডিয়ার বড় হাব হবে। বিজেপি সরকার কারখানা নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করবে। পরিকল্পনা করব। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন। পিএম, সিএম এক সঙ্গে উন্নয়ন করবে।’’

    মোদির গ্যারান্টি…

    ক্ষমতায় এলে বিজেপি কী কী করবে, তার একটা আভাস দিয়ে রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এখানে রোজগার নেই। তাই যুবসমাজ বাধ্য হয়ে বাইরে কাজ করতে গিয়েছে। বৃদ্ধেরা একা হয়ে গিয়েছেন। বৃদ্ধাবাসের সংখ্যা বাড়ছে। বিজেপি সরকার এসে বাংলার যুবকদের এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। সরকারি নিয়োগ সময়ে হবে। নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে। শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে। সরকারি কর্মীদের তৃণমূলের ভয় থেকে মুক্ত করা হবে। মোদির গ্যারান্টি শুনে নিন, সপ্তম কমিশনের লাভ পাবেন সরকারি কর্মীরা। এখানে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিস্তার হবে। আর্ট, গেমিং ক্ষেত্রে নতুন মঞ্চ করা হবে যুবসমাজের জন্য। বাংলার স্কুলে যাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব হয়, সেই চেষ্টা করা হবে। গ্রামে ১২৫ দিনের আয়ের গ্যারান্টি দেওয়া হবে। জিরামজি আইন কার্যকর করা হবে। পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, মৎস্য যোজনা কার্যকর করা হবে, যাতে কারিগর, শিল্পীরা, মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি হবে।’’ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হয়ে জোর সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পিএম স্বনিধি যোজন, ফুটপাথে যারা কাজ করেন, তারাও ব্যাঙ্ক থেকে সাহায্য পাবেন। এগুলো মোদির গ্যারান্টি। এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন, ডাবল ইঞ্জিনের লাভ পাবেন। কলকাতায় মেট্রোর যাতে দ্রুত বিস্তার হয়, তাই বিজেপি-কে ভোট দিন। বৈদ্যুতিন বাসের নতুন নেটওয়ার্ক হবে।

    মহিলাদের বিশেষ প্রতিশ্রুতি…

    মহিলাদের ওপর হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের প্রত্যেকটা হিসেব নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এই মাটি রানি রাসমণির সাহসের গাঁথায় সমৃদ্ধ। সেখানকার মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল। এই রাজ্যকে অসুরক্ষিত করেছে মহিলাদের জন্য। ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে গুন্ডাদের কথা মনে করবেন। যে বোনদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাঁরা ন্যায় পাবেন। হিসাব নেব। সব ফাইল খুলব। মহিলাদের রোজগার, চিকিৎসা বিজেপির প্রাথমিক লক্ষ্য। বাংলায় বিজেপি সরকার গর্ভবতীদের ২১ হাজার টাকা দেবে। মেয়ে হলে সুকন্যা সমৃদ্ধির সুবিধা দেবে। কলেজে ভর্তি হলে টাকা পাবেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। পাকা ঘর পাবেন। তৃণমূল আপনাদের অধিকারের চাল লুটে নেয়। বিজেপি বন্ধ করবে। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্ত চিকিৎসা হবে। ১৫ বছরে কলকাতার পরিচয় বদলে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের এনেছে। সকলে মিলে এ সব বন্ধ করব। কলকাতাকে সিটি অফ ফিউচার করব।’’

    বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি করার ডাক

    বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য সব ধর্মের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘বিজেপি জমানায় কোনও ভারতীয় নাগরিক, যে ধর্মেরই হোন তিনি, তাঁদের সমস্যা হবে না। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের ছাড়া হবে না। মতুয়া, নমশূদ্রদের বলছি, নাগরিকত্ব মিলবেই। সব কাগজ, অধিকার পাবেন, যা ভারতীয় নাগরিকেরা পান। এটা মোদির গ্যারান্টি। নেতাজি বলেছিলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। আপনারা ৭০ বছর কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে দিয়েছেন। আজ তারা সব জোটে রয়েছে। একটা সুযোগ বিজেপি-কে দিন, মোদিকে দিন, সকলে মিলে বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি দেব। হিংসা, তৃণমূলের দুর্নীতি, ভয়, সিন্ডিকেট, অনুপ্রবেশকারী, বেকারত্ব, পরিবারবাদ, তোষণের রাজনীতি থেকে মুক্তি দেব। পুরনো গৌরব ফিরে আসবে। সব বুথ থেকে তৃণমূলকে সাফ করুন। কমল চিহ্নে ভোট দিন।’’

  • Summer Fruits: গ্রীষ্মে নিয়মিত এই চার ফল মেনুতে থাকছে তো! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    Summer Fruits: গ্রীষ্মে নিয়মিত এই চার ফল মেনুতে থাকছে তো! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। বেলা বাড়তেই রোদের দাপটে জেরবার বঙ্গবাসী। দুপুরে বাইরে থাকতে হলে, অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে চার ফলেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কোন চার ফলেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    গরমে বাড়তে পারে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি। গরমের শরীর ঠাণ্ডা রাখা জরুরি। তবেই শরীর সুস্থ রাখা যাবে।

    তরমুজ!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে তরমুজ খুবই জরুরি। কারণ, তরমুজে ৯০ শতাংশ জল থাকে। তাই এই ফল ডিহাইড্রেশন রুখতে বিশেষ সাহায্য করে‌। শরীরের জলের ঘাটতি গরমে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত গরম এবং ঘামের জেরে যাতে শরীরে জলের ঘাটতি না হয়, তাই এই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তরমুজ শরীরের ক্লান্তি দূর করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরের ক্লান্তি বাড়ে। তাই তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ তরমুজ শরীরের ক্লান্তি দূর করতে বিশেষ সাহায্য করে। আবার এই ফল হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়। এই আবহাওয়ায় বেশি সময় বাইরে থাকলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই ফল খেলে সেই বিপদ কিছুটা এড়ানো যাবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আম!

    গরমে বাজারে দেদার পাওয়া যায় আম। বাঙালির পছন্দের খাবারের তালিকায় চিরকাল থাকে আম।‌ আম কাঁচা হোক বা পাকা, বাঙালি নানান ভাবেই এই ফল খেতে পছন্দ করে। কখনো কাঁচা আমের সরবত আবার কখনো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পাকা আম, নানা রকম ভাবেই আম খায়। স্বাদের পাশপাশি আম এই গরমে স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আম ভিটামিন এ এবং সি সমৃদ্ধ একটি ফল। তাই এই ফল রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। গরমে নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের দাপট বাড়তে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখা জরুরি। তাই আম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আম খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। তাছাড়া কাঁচা আম শরীর ঠাণ্ডা রাখতে বিশেষ সাহায্য করে‌। যা এই গরমে খুবই জরুরি। আম অতিরিক্ত ঘাম এবং জলের ঘাটতি গরমে দ্রুত পূরণ করে। তাই এই আবহাওয়ায় আম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    শশা!

    শশা ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শশা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করার পাশপাশি ফাইবারের চাহিদাও মেটায়। তাই এই গরমে নিয়মিত শশা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাছাড়া শশা হজমের জন্য খুবই উপকারি। লিভার ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে শশা খাওয়া বিশেষ উপকারি। তাই শশা গরমে বাড়তি সাহায্য করে। কারণ, গরমে অনেক সময়েই হজমের গোলমাল হয়। তাই এমন খাবার খাওয়া জরুরি, যা অন্ত্র ও লিভার সুস্থ রাখে। তাই নিয়মিত শশা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    বেল!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বেল গরমে বিশেষ উপকারি একটি ফল। এই ফলে থাকে ভালো ব্যাকটেরিয়া। তাই ডায়ারিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে ডায়ারিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই গরমে এই ফল খাওয়া জরুরি। তাছাড়া বেল হজম শক্তি বাড়ায়। গরমে হজমের গোলমাল এড়ানোর দিকে বিশেষ নজরদারি দেওয়া প্রয়োজন। তাই বেল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরম থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর খাওয়া প্রয়োজন। এই চার ফল সেই খাবারের তালিকায় রাখা জরুরি। এতে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। আবার শরীর সুস্থ থাকবে। তবে রাস্তার পাশের কাটা ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কাটা ফেলে রাখা ফলে নানান ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ডায়রিয়া সহ নানান রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তাই তাজা ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে ফল কেটে সঙ্গে সঙ্গে খেলে তবেই শরীরের উপকার হবে। গরমে সুস্থ থাকা সম্ভব হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • BJP: বাংলায় কি ঘুরছে হাওয়া! বিজেপির অন্দরমহলে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ, সামনে দ্বিতীয় দফা, কী পরিকল্পনা দলের?

    BJP: বাংলায় কি ঘুরছে হাওয়া! বিজেপির অন্দরমহলে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ, সামনে দ্বিতীয় দফা, কী পরিকল্পনা দলের?

    সুশান্ত দাস

    প্রথম দফার ভোট মিটতেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শিবিরে যেন এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণের পর দলের অন্দরমহলে আশাবাদের সুর ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। এই আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্য— প্রথম দফাতেই ১১০-র বেশি আসন জয়ের সম্ভাবনা— দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

    শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের ছাপ

    কলকাতায় সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। তাঁর মতে, এবারের ভোট শুধু আসনসংখ্যা বাড়ানোর লড়াই নয়, বরং ব্যবধান বাড়ানোর লড়াইও। ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে জনসমাগম দেখা গিয়েছে, সেটিকেই তিনি বিজেপির পক্ষে জনমতের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে মধ্যমগ্রামের রোড শো-এর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা তীব্র।

    ‘এই লড়াই জেতা সম্ভব’

    বিজেপির অন্দরে এই মুহূর্তে যে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা হল— ‘এই লড়াই জেতা সম্ভব।’ দলের নেতাদের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে শাসকবিরোধী মনোভাব বেড়েছে, আর সেই ক্ষোভই এবার ভোটে প্রতিফলিত হচ্ছে। নারী সুরক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে বিজেপি নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

    “ভয়মুক্ত ভোট”-এর বার্তা

    একই সঙ্গে বিজেপির প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল “ভয়মুক্ত ভোট”-এর বার্তা। অমিত শাহের অভিযোগ, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে বিজেপি সমর্থকরা ভয়ের কারণে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলেই দলের বিশ্বাস। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে নিজেদের সমর্থকদের আরও সক্রিয় করতে চাইছে, অন্যদিকে নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যেও আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

    সংগঠন আরও মজবুত করায় নজর

    দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিজেপি এখন সংগঠন আরও মজবুত করার দিকে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় তৃণমূলের শক্তি বেশি বলে ধরা হয়, সেখানেই বাড়তি নজর দিচ্ছে দল। দমদমের জনসভায় শাহের আক্রমণাত্মক ভাষণ সেই প্রস্তুতিরই অংশ। তিনি সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে—আর সেই অভিযোগের জবাব দিতেই বিজেপি নেতৃত্ব আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে।

    ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট

    প্রচারের পাশাপাশি ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট করতে চাইছে বিজেপি। নারী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ, কৃষকদের জন্য গবেষণা কেন্দ্র, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত— এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে সামনে এনে দল বোঝাতে চাইছে, তারা শুধু ক্ষমতায় আসতে চায় না, বরং প্রশাসনিক পরিবর্তন আনতেও প্রস্তুত।

    বিজেপি শিবিরে বার্তা একটাই…

    সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের পর বিজেপির প্রচারে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, তা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও তৈরি করছে। এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা অবশ্য নির্ভর করবে পরবর্তী দফার ভোট এবং চূড়ান্ত ফলাফলের উপর। তবে আপাতত বিজেপি শিবিরে বার্তা একটাই— এই লড়াইয়ে তারা পিছিয়ে নেই, বরং এগিয়ে থাকার বিশ্বাস নিয়েই পরবর্তী পর্যায়ে ঝাঁপাচ্ছে।

  • Amit Shah: ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’’, শুক্র-সকালে ঘোষণা শাহ-র

    Amit Shah: ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’’, শুক্র-সকালে ঘোষণা শাহ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি কেন্দ্রে। তার পরের দিন সকালেই নিউ টাউনের হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রথম দফার ‘রিপোর্ট-কার্ড’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়ে দিলেন ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। একইসঙ্গে, তাঁর ঘোষণা, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় জন্ম নেওয়া, একজন বাঙালিই হবেন।

    ‘‘৫ তারিখের পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে’’

    সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেন, ‘‘প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের অনেক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ। ভয় থেকে ভরসার দিকে যাত্রা খুব ভাল ভাবে আপনারা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটারেরা এই যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশকে অভিনন্দন। কারণ, বহু যুগ পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কোনও মৃত্যু হয়নি।’’ তিনি বলেন, ‘‘৫ তারিখের পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। পশ্চিমে বিকাশ হয়েছে। পূর্ব দিক এখনও পিছিয়ে আছে। বিজেপি আসার পর সেখানেও বিকাশের গতি বাড়বে।’’ তিনি বললেন, ‘‘১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। সারা রাত ধরে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব। সারা রাত ধরে বিশ্লেষণ করেছি।’’

    ‘‘রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন’’

    রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দুরবস্থা ও নারী নিরাপত্তার অবনতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ বলেন, ‘‘প্রথম দফাতেই বাংলার মানুষ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে ফেলেছেন। এই মাটি বিকাশকে বেছে নিয়েছেন। মোদির নেতৃত্বে সারা দেশে বিকাশের যাত্রা চলছে। বাংলাও তাতে শামিল হতে চলেছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মেয়েরা কেন বাইরে বেরোচ্ছেন? তাঁর শাসন করার অধিকার নেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন। কোনও গুণ্ডা আসবে না। মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করার জবাবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন।’’

    ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন’’

    বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বলে ঘোষণা করে দিলেন অমিত শাহ। বললেন, ‘‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে চাই, ৫ তারিখের পর বাংলা মাধ্যমে পড়া, বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বদলে যাবে। আর কোনও কাজের জন্য কাটমানি দিতে হবে না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের কাছে পরিবর্তন চেয়েছি। পরিবর্তন মানে বিধায়ক বা দল বদলে দেওয়া হয়। পরিবর্তনের অর্থ দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট রাজ সমাপ্ত করা, প্রশাসনের উপর থেকে রাজনৈতিক চাপ তুলে দেওয়া। পুরনো নির্বাচন ভুলে যান। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করছে কমিশন।’’

    ‘‘ঝালমুড়ি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খান, মোদিজি খেলে আপত্তি কিসের?’’

    অমিত শাহ বলেন, ‘‘দ্বিতীয় দফার আসনগুলি আলাদা করে নয়, পুরো পশ্চিমবঙ্গই আমাদের জন্য কঠিন ছিল। আপাতত ৭৭টি আসনে আমরা বসে আছি। সরকার বিজেপি বানায় না। সরকার বানায় জনগণ। আমি সুনামি দেখতে পাচ্ছি।’’ শাহ বলেন, ‘‘কেউ গঙ্গায় নৌকাভ্রমণ করলে কেন আপত্তি? ঝালমুড়ি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খান। মোদিজি খেলে আপত্তি কিসের?’’ শাহ আরও বলেন, ‘‘এখানে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগেও ছিল। কিন্তু ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছিল না। এ বার পুলিশ, প্রশাসন, কেন্দ্রীয় বাহিনী সুরক্ষার ভাল বন্দোবস্ত করেছে। ভয়মুক্ত পরিবেশ রয়েছে। তাই আমাদের বিশ্বাস, পরিণাম আমাদের পক্ষে আসবে।’’

    ‘‘আমার জীবনের খুব বড় একটা অভিজ্ঞতা’’

    মধ্যমগ্রামের রোড-শোর কথা উঠে আসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলায়। অমিত শাহ বলেন, ‘‘মধ্যমগ্রামের রোড শো-তে যা ভিড় হয়েছিল, আমার কল্পনার বাইরে। এত ধাক্কাধাক্কির মধ্যে এক বয়স্ক মহিলা তার মধ্যেও দাঁড়িয়েছিলেন। এটা আমার জীবনের খুব বড় একটা অভিজ্ঞতা। আমি গাড়ি থেকে নেমে তাঁর কাছে গিয়েছি। ব্যক্তিগত জীবনেও এটা অনেক বড় শক্তি জোগায়। বিরোধীদের গালিগালাজ আর গায়ে লাগে না।’’ প্রথম দফার ভোটে কোনও কোনও বুথে ইভিএম বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাহ জানান, এ বিষয়ে বিজেপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।

    ‘‘নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস’’

    এর আগে, অমিত শাহ ইতিমধ্যেই শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। বাংলায় সকল ভোটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মহোৎসবে অংশগ্রহণের সকল রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য রাজ্যের সম্মানিত ভোটারবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন, সকল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। এটি বাংলায় সুশাসনের এক নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস।’’

  • Rajnath Singh: ‘ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন করুন’, জার্মানিতে আহ্বান রাজনাথের

    Rajnath Singh: ‘ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন করুন’, জার্মানিতে আহ্বান রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানি সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার জার্মান শিল্পপতিদের ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের আহ্বান জানালেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে নির্ভরযোগ্যতা ও অভিন্ন স্বার্থভিত্তিক অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ জার্মানির মিউনিখ শহরে আয়োজিত ডিফেন্স ইনভেস্টর সামিটে ভারত ও জার্মানির প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সিং বলেন, ‘‘বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর—এই সবই গভীরতর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।’’

    দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভারত

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে দেশ ও শিল্প সংস্থাগুলি এখন নির্ভরশীলতা পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত একটি দ্রুত বর্ধনশীল বাজার, দক্ষ ও তরুণ কর্মশক্তি এবং ক্রমবিকাশমান শিল্প পরিকাঠামো প্রদান করছে। তিনি বলেন, “ভারত কোনও স্বল্পমেয়াদি সুযোগ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা।”

    উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় ভারতীয় সংস্থাগুলি জার্মান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নত রেডার ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর এবং সাবমেরিন প্রযুক্তিতে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। দেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার।’’

    আত্মনির্ভরতা, তবে সহযোগিতার মাধ্যমেই

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গে রাজনাথ স্পষ্ট করেন, এই নীতি কোনওভাবেই অন্তর্মুখী নয়। বরং এটি বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ‘‘ভারত এখন শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্রেতা নয়, বরং ডিজাইন ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে অংশীদার হয়ে উঠছে। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি জাতীয় নিরাপত্তা যেমন জোরদার করবে, তেমনই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থান মজবুত করবে।’’

    জার্মানির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর

    সফরকালে সিং কিয়েলে অবস্থিত একটি সাবমেরিন নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করেন, যা ভারত-জার্মানি সামুদ্রিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। এর আগে তিনি বার্লিনে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা রোডম্যাপ এবং রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়।

    ৯০ দিনের মধ্যে ৮০০ কোটি ডলারের সাবমেরিন চুক্তি

    জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিস্টোরিয়াস জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই ভারত ও জার্মানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ সাবমেরিন চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। এই প্রকল্পে ভারতে ছয়টি সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মান সংস্থা থিসেনক্রাপ মেরিন সিস্টেমস (Thyssenkrupp Marine Systems) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (Mazagon Dock Shipbuilders Limited) যৌথভাবে এই সাবমেরিন নির্মাণে অংশ নেবে। পিস্টোরিয়াস জানান, আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

  • Measles Outbreak Warning: শক্তিবৃদ্ধি রুবেলা ভাইরাসের, গরমে বাড়তে পারে হাম সংক্রমণ! কাদের ঝুঁকি বেশি?

    Measles Outbreak Warning: শক্তিবৃদ্ধি রুবেলা ভাইরাসের, গরমে বাড়তে পারে হাম সংক্রমণ! কাদের ঝুঁকি বেশি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। প্রখর রোদে দিনে নাজেহাল বঙ্গবাসী। শিশু থেকে বয়স্ক, এই আবহাওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অস্বস্তি বাড়ছে। তারমধ্যেই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সময়ে হাম সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। রুবেলা ভাইরাসের সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং শক্তি বৃদ্ধি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষত শিশুদের জন্য এই রোগ বেশি উদ্বেগের। তাই এই আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    গরমে কি বাড়তে পারে হাম?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার সঙ্গে রুবেলা ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়লেই যে এই ভাইরাস অধিক সক্রিয় হবে এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু চলতি বছরে শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে শিশুদের শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরে জলের অভাব হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই রুবেলার মতো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাছাড়া বছরের এই সময়ে শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যায়। স্কুল থেকে সহজেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। আবার গরম থেকে রেহাই পেতে অনেকেই একসঙ্গে একটি ঘরে এসি চালিয়ে থাকে‌। বন্ধ ঘর থেকে যেকোনও রোগের সংক্রমণ সহজেই হয়। তাই চলতি বছরে এই সময়ে রুবেলা ভাইরাসের দাপট বেশি দেখা দিচ্ছে।

    শিশুকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টিকা করণ জরুরি। ঠিকমতো টিকা করণ হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। তবে এরপরেও কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের হাত ধোয়ার অভ্যাস করা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, হাত থেকেই অধিকাংশ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই খাওয়ার আগে ও পরে ঠিকমতো হাত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। শিশুর হাত পরিষ্কার রয়েছে কিনা সেটা দেখা দরকার।

    অসুস্থ শিশুকে আইসোলেট করা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর হাঁচি-কাশি এবং জ্বর হলে, তাকে স্কুলে পাঠানো উচিত নয়। ভিড় জায়গাতেও নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আবার আক্রান্ত শিশুর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। শিশুর ব্যবহৃত জিনিস যেমন জামা কাপড়, রুমাল, তোয়ালে নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এই ধরনের জিনিস থেকেই রুবেলার মতো ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাই শিশুকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া জরুরি। বিশেষত রুবেলার মতো ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে শিশুকে নিয়মিত প্রোটিন এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া প্রয়োজন। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, শিশুকে নিয়মিত শাক, পটল, কুমড়ো, পেঁপে, গাজর, টমেটোর মতো সব্জি দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁরা শিশুদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় ডিম, মাছ, পনীর এবং দই রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টিকাকরণ না হলে রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। হামের ভোগান্তি এড়াতে নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মেনে শিশুদের ন’মাস এবং ১৫ মাস বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়। সেই বয়সে টিকা অবশ্যই দিতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কোনো ভাবে নির্দিষ্ট বয়সে টিকা করণ না হলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকা কবে দেওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। তবেই এই সংক্রমণের ঝুঁকি সহজে এড়ানো যাবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share