Author: Susanta Das

  • Summer Fruits: গ্রীষ্মে নিয়মিত এই চার ফল মেনুতে থাকছে তো! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    Summer Fruits: গ্রীষ্মে নিয়মিত এই চার ফল মেনুতে থাকছে তো! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। বেলা বাড়তেই রোদের দাপটে জেরবার বঙ্গবাসী। দুপুরে বাইরে থাকতে হলে, অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে চার ফলেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কোন চার ফলেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    গরমে বাড়তে পারে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি। গরমের শরীর ঠাণ্ডা রাখা জরুরি। তবেই শরীর সুস্থ রাখা যাবে।

    তরমুজ!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে তরমুজ খুবই জরুরি। কারণ, তরমুজে ৯০ শতাংশ জল থাকে। তাই এই ফল ডিহাইড্রেশন রুখতে বিশেষ সাহায্য করে‌। শরীরের জলের ঘাটতি গরমে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত গরম এবং ঘামের জেরে যাতে শরীরে জলের ঘাটতি না হয়, তাই এই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তরমুজ শরীরের ক্লান্তি দূর করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরের ক্লান্তি বাড়ে। তাই তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ তরমুজ শরীরের ক্লান্তি দূর করতে বিশেষ সাহায্য করে। আবার এই ফল হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়। এই আবহাওয়ায় বেশি সময় বাইরে থাকলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই ফল খেলে সেই বিপদ কিছুটা এড়ানো যাবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আম!

    গরমে বাজারে দেদার পাওয়া যায় আম। বাঙালির পছন্দের খাবারের তালিকায় চিরকাল থাকে আম।‌ আম কাঁচা হোক বা পাকা, বাঙালি নানান ভাবেই এই ফল খেতে পছন্দ করে। কখনো কাঁচা আমের সরবত আবার কখনো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পাকা আম, নানা রকম ভাবেই আম খায়। স্বাদের পাশপাশি আম এই গরমে স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আম ভিটামিন এ এবং সি সমৃদ্ধ একটি ফল। তাই এই ফল রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। গরমে নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের দাপট বাড়তে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখা জরুরি। তাই আম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আম খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। তাছাড়া কাঁচা আম শরীর ঠাণ্ডা রাখতে বিশেষ সাহায্য করে‌। যা এই গরমে খুবই জরুরি। আম অতিরিক্ত ঘাম এবং জলের ঘাটতি গরমে দ্রুত পূরণ করে। তাই এই আবহাওয়ায় আম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    শশা!

    শশা ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শশা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করার পাশপাশি ফাইবারের চাহিদাও মেটায়। তাই এই গরমে নিয়মিত শশা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাছাড়া শশা হজমের জন্য খুবই উপকারি। লিভার ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে শশা খাওয়া বিশেষ উপকারি। তাই শশা গরমে বাড়তি সাহায্য করে। কারণ, গরমে অনেক সময়েই হজমের গোলমাল হয়। তাই এমন খাবার খাওয়া জরুরি, যা অন্ত্র ও লিভার সুস্থ রাখে। তাই নিয়মিত শশা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    বেল!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বেল গরমে বিশেষ উপকারি একটি ফল। এই ফলে থাকে ভালো ব্যাকটেরিয়া। তাই ডায়ারিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে ডায়ারিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই গরমে এই ফল খাওয়া জরুরি। তাছাড়া বেল হজম শক্তি বাড়ায়। গরমে হজমের গোলমাল এড়ানোর দিকে বিশেষ নজরদারি দেওয়া প্রয়োজন। তাই বেল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরম থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর খাওয়া প্রয়োজন। এই চার ফল সেই খাবারের তালিকায় রাখা জরুরি। এতে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। আবার শরীর সুস্থ থাকবে। তবে রাস্তার পাশের কাটা ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কাটা ফেলে রাখা ফলে নানান ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ডায়রিয়া সহ নানান রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তাই তাজা ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে ফল কেটে সঙ্গে সঙ্গে খেলে তবেই শরীরের উপকার হবে। গরমে সুস্থ থাকা সম্ভব হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • BJP: বাংলায় কি ঘুরছে হাওয়া! বিজেপির অন্দরমহলে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ, সামনে দ্বিতীয় দফা, কী পরিকল্পনা দলের?

    BJP: বাংলায় কি ঘুরছে হাওয়া! বিজেপির অন্দরমহলে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ, সামনে দ্বিতীয় দফা, কী পরিকল্পনা দলের?

    সুশান্ত দাস

    প্রথম দফার ভোট মিটতেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শিবিরে যেন এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণের পর দলের অন্দরমহলে আশাবাদের সুর ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। এই আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্য— প্রথম দফাতেই ১১০-র বেশি আসন জয়ের সম্ভাবনা— দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

    শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের ছাপ

    কলকাতায় সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। তাঁর মতে, এবারের ভোট শুধু আসনসংখ্যা বাড়ানোর লড়াই নয়, বরং ব্যবধান বাড়ানোর লড়াইও। ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে জনসমাগম দেখা গিয়েছে, সেটিকেই তিনি বিজেপির পক্ষে জনমতের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে মধ্যমগ্রামের রোড শো-এর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা তীব্র।

    ‘এই লড়াই জেতা সম্ভব’

    বিজেপির অন্দরে এই মুহূর্তে যে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা হল— ‘এই লড়াই জেতা সম্ভব।’ দলের নেতাদের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে শাসকবিরোধী মনোভাব বেড়েছে, আর সেই ক্ষোভই এবার ভোটে প্রতিফলিত হচ্ছে। নারী সুরক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে বিজেপি নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

    “ভয়মুক্ত ভোট”-এর বার্তা

    একই সঙ্গে বিজেপির প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল “ভয়মুক্ত ভোট”-এর বার্তা। অমিত শাহের অভিযোগ, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে বিজেপি সমর্থকরা ভয়ের কারণে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলেই দলের বিশ্বাস। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে নিজেদের সমর্থকদের আরও সক্রিয় করতে চাইছে, অন্যদিকে নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যেও আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

    সংগঠন আরও মজবুত করায় নজর

    দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিজেপি এখন সংগঠন আরও মজবুত করার দিকে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় তৃণমূলের শক্তি বেশি বলে ধরা হয়, সেখানেই বাড়তি নজর দিচ্ছে দল। দমদমের জনসভায় শাহের আক্রমণাত্মক ভাষণ সেই প্রস্তুতিরই অংশ। তিনি সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে—আর সেই অভিযোগের জবাব দিতেই বিজেপি নেতৃত্ব আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে।

    ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট

    প্রচারের পাশাপাশি ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট করতে চাইছে বিজেপি। নারী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ, কৃষকদের জন্য গবেষণা কেন্দ্র, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত— এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে সামনে এনে দল বোঝাতে চাইছে, তারা শুধু ক্ষমতায় আসতে চায় না, বরং প্রশাসনিক পরিবর্তন আনতেও প্রস্তুত।

    বিজেপি শিবিরে বার্তা একটাই…

    সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের পর বিজেপির প্রচারে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, তা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও তৈরি করছে। এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা অবশ্য নির্ভর করবে পরবর্তী দফার ভোট এবং চূড়ান্ত ফলাফলের উপর। তবে আপাতত বিজেপি শিবিরে বার্তা একটাই— এই লড়াইয়ে তারা পিছিয়ে নেই, বরং এগিয়ে থাকার বিশ্বাস নিয়েই পরবর্তী পর্যায়ে ঝাঁপাচ্ছে।

  • Amit Shah: ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’’, শুক্র-সকালে ঘোষণা শাহ-র

    Amit Shah: ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’’, শুক্র-সকালে ঘোষণা শাহ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি কেন্দ্রে। তার পরের দিন সকালেই নিউ টাউনের হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রথম দফার ‘রিপোর্ট-কার্ড’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়ে দিলেন ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। একইসঙ্গে, তাঁর ঘোষণা, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় জন্ম নেওয়া, একজন বাঙালিই হবেন।

    ‘‘৫ তারিখের পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে’’

    সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেন, ‘‘প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের অনেক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ। ভয় থেকে ভরসার দিকে যাত্রা খুব ভাল ভাবে আপনারা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটারেরা এই যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশকে অভিনন্দন। কারণ, বহু যুগ পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কোনও মৃত্যু হয়নি।’’ তিনি বলেন, ‘‘৫ তারিখের পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। পশ্চিমে বিকাশ হয়েছে। পূর্ব দিক এখনও পিছিয়ে আছে। বিজেপি আসার পর সেখানেও বিকাশের গতি বাড়বে।’’ তিনি বললেন, ‘‘১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। সারা রাত ধরে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব। সারা রাত ধরে বিশ্লেষণ করেছি।’’

    ‘‘রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন’’

    রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দুরবস্থা ও নারী নিরাপত্তার অবনতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ বলেন, ‘‘প্রথম দফাতেই বাংলার মানুষ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে ফেলেছেন। এই মাটি বিকাশকে বেছে নিয়েছেন। মোদির নেতৃত্বে সারা দেশে বিকাশের যাত্রা চলছে। বাংলাও তাতে শামিল হতে চলেছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মেয়েরা কেন বাইরে বেরোচ্ছেন? তাঁর শাসন করার অধিকার নেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন। কোনও গুণ্ডা আসবে না। মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করার জবাবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন।’’

    ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন’’

    বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বলে ঘোষণা করে দিলেন অমিত শাহ। বললেন, ‘‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে চাই, ৫ তারিখের পর বাংলা মাধ্যমে পড়া, বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বদলে যাবে। আর কোনও কাজের জন্য কাটমানি দিতে হবে না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের কাছে পরিবর্তন চেয়েছি। পরিবর্তন মানে বিধায়ক বা দল বদলে দেওয়া হয়। পরিবর্তনের অর্থ দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট রাজ সমাপ্ত করা, প্রশাসনের উপর থেকে রাজনৈতিক চাপ তুলে দেওয়া। পুরনো নির্বাচন ভুলে যান। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করছে কমিশন।’’

    ‘‘ঝালমুড়ি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খান, মোদিজি খেলে আপত্তি কিসের?’’

    অমিত শাহ বলেন, ‘‘দ্বিতীয় দফার আসনগুলি আলাদা করে নয়, পুরো পশ্চিমবঙ্গই আমাদের জন্য কঠিন ছিল। আপাতত ৭৭টি আসনে আমরা বসে আছি। সরকার বিজেপি বানায় না। সরকার বানায় জনগণ। আমি সুনামি দেখতে পাচ্ছি।’’ শাহ বলেন, ‘‘কেউ গঙ্গায় নৌকাভ্রমণ করলে কেন আপত্তি? ঝালমুড়ি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খান। মোদিজি খেলে আপত্তি কিসের?’’ শাহ আরও বলেন, ‘‘এখানে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগেও ছিল। কিন্তু ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছিল না। এ বার পুলিশ, প্রশাসন, কেন্দ্রীয় বাহিনী সুরক্ষার ভাল বন্দোবস্ত করেছে। ভয়মুক্ত পরিবেশ রয়েছে। তাই আমাদের বিশ্বাস, পরিণাম আমাদের পক্ষে আসবে।’’

    ‘‘আমার জীবনের খুব বড় একটা অভিজ্ঞতা’’

    মধ্যমগ্রামের রোড-শোর কথা উঠে আসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলায়। অমিত শাহ বলেন, ‘‘মধ্যমগ্রামের রোড শো-তে যা ভিড় হয়েছিল, আমার কল্পনার বাইরে। এত ধাক্কাধাক্কির মধ্যে এক বয়স্ক মহিলা তার মধ্যেও দাঁড়িয়েছিলেন। এটা আমার জীবনের খুব বড় একটা অভিজ্ঞতা। আমি গাড়ি থেকে নেমে তাঁর কাছে গিয়েছি। ব্যক্তিগত জীবনেও এটা অনেক বড় শক্তি জোগায়। বিরোধীদের গালিগালাজ আর গায়ে লাগে না।’’ প্রথম দফার ভোটে কোনও কোনও বুথে ইভিএম বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাহ জানান, এ বিষয়ে বিজেপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।

    ‘‘নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস’’

    এর আগে, অমিত শাহ ইতিমধ্যেই শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। বাংলায় সকল ভোটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মহোৎসবে অংশগ্রহণের সকল রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য রাজ্যের সম্মানিত ভোটারবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন, সকল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। এটি বাংলায় সুশাসনের এক নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস।’’

  • Rajnath Singh: ‘ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন করুন’, জার্মানিতে আহ্বান রাজনাথের

    Rajnath Singh: ‘ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন করুন’, জার্মানিতে আহ্বান রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানি সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার জার্মান শিল্পপতিদের ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের আহ্বান জানালেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে নির্ভরযোগ্যতা ও অভিন্ন স্বার্থভিত্তিক অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ জার্মানির মিউনিখ শহরে আয়োজিত ডিফেন্স ইনভেস্টর সামিটে ভারত ও জার্মানির প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সিং বলেন, ‘‘বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর—এই সবই গভীরতর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।’’

    দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভারত

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে দেশ ও শিল্প সংস্থাগুলি এখন নির্ভরশীলতা পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত একটি দ্রুত বর্ধনশীল বাজার, দক্ষ ও তরুণ কর্মশক্তি এবং ক্রমবিকাশমান শিল্প পরিকাঠামো প্রদান করছে। তিনি বলেন, “ভারত কোনও স্বল্পমেয়াদি সুযোগ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা।”

    উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় ভারতীয় সংস্থাগুলি জার্মান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নত রেডার ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর এবং সাবমেরিন প্রযুক্তিতে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। দেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার।’’

    আত্মনির্ভরতা, তবে সহযোগিতার মাধ্যমেই

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গে রাজনাথ স্পষ্ট করেন, এই নীতি কোনওভাবেই অন্তর্মুখী নয়। বরং এটি বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ‘‘ভারত এখন শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্রেতা নয়, বরং ডিজাইন ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে অংশীদার হয়ে উঠছে। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি জাতীয় নিরাপত্তা যেমন জোরদার করবে, তেমনই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থান মজবুত করবে।’’

    জার্মানির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর

    সফরকালে সিং কিয়েলে অবস্থিত একটি সাবমেরিন নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করেন, যা ভারত-জার্মানি সামুদ্রিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। এর আগে তিনি বার্লিনে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা রোডম্যাপ এবং রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়।

    ৯০ দিনের মধ্যে ৮০০ কোটি ডলারের সাবমেরিন চুক্তি

    জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিস্টোরিয়াস জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই ভারত ও জার্মানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ সাবমেরিন চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। এই প্রকল্পে ভারতে ছয়টি সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মান সংস্থা থিসেনক্রাপ মেরিন সিস্টেমস (Thyssenkrupp Marine Systems) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (Mazagon Dock Shipbuilders Limited) যৌথভাবে এই সাবমেরিন নির্মাণে অংশ নেবে। পিস্টোরিয়াস জানান, আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

  • Measles Outbreak Warning: শক্তিবৃদ্ধি রুবেলা ভাইরাসের, গরমে বাড়তে পারে হাম সংক্রমণ! কাদের ঝুঁকি বেশি?

    Measles Outbreak Warning: শক্তিবৃদ্ধি রুবেলা ভাইরাসের, গরমে বাড়তে পারে হাম সংক্রমণ! কাদের ঝুঁকি বেশি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। প্রখর রোদে দিনে নাজেহাল বঙ্গবাসী। শিশু থেকে বয়স্ক, এই আবহাওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অস্বস্তি বাড়ছে। তারমধ্যেই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সময়ে হাম সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। রুবেলা ভাইরাসের সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং শক্তি বৃদ্ধি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষত শিশুদের জন্য এই রোগ বেশি উদ্বেগের। তাই এই আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    গরমে কি বাড়তে পারে হাম?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার সঙ্গে রুবেলা ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়লেই যে এই ভাইরাস অধিক সক্রিয় হবে এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু চলতি বছরে শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে শিশুদের শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরে জলের অভাব হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই রুবেলার মতো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাছাড়া বছরের এই সময়ে শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যায়। স্কুল থেকে সহজেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। আবার গরম থেকে রেহাই পেতে অনেকেই একসঙ্গে একটি ঘরে এসি চালিয়ে থাকে‌। বন্ধ ঘর থেকে যেকোনও রোগের সংক্রমণ সহজেই হয়। তাই চলতি বছরে এই সময়ে রুবেলা ভাইরাসের দাপট বেশি দেখা দিচ্ছে।

    শিশুকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টিকা করণ জরুরি। ঠিকমতো টিকা করণ হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। তবে এরপরেও কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের হাত ধোয়ার অভ্যাস করা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, হাত থেকেই অধিকাংশ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই খাওয়ার আগে ও পরে ঠিকমতো হাত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। শিশুর হাত পরিষ্কার রয়েছে কিনা সেটা দেখা দরকার।

    অসুস্থ শিশুকে আইসোলেট করা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর হাঁচি-কাশি এবং জ্বর হলে, তাকে স্কুলে পাঠানো উচিত নয়। ভিড় জায়গাতেও নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আবার আক্রান্ত শিশুর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। শিশুর ব্যবহৃত জিনিস যেমন জামা কাপড়, রুমাল, তোয়ালে নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এই ধরনের জিনিস থেকেই রুবেলার মতো ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাই শিশুকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া জরুরি। বিশেষত রুবেলার মতো ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে শিশুকে নিয়মিত প্রোটিন এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া প্রয়োজন। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, শিশুকে নিয়মিত শাক, পটল, কুমড়ো, পেঁপে, গাজর, টমেটোর মতো সব্জি দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁরা শিশুদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় ডিম, মাছ, পনীর এবং দই রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টিকাকরণ না হলে রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। হামের ভোগান্তি এড়াতে নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মেনে শিশুদের ন’মাস এবং ১৫ মাস বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়। সেই বয়সে টিকা অবশ্যই দিতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কোনো ভাবে নির্দিষ্ট বয়সে টিকা করণ না হলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকা কবে দেওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। তবেই এই সংক্রমণের ঝুঁকি সহজে এড়ানো যাবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটগ্রহণে আক্রান্ত বিজেপি। দিকে দিকে বিজেপি প্রার্থী বা এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে।

    ভাঙল অগ্নিমিত্রার গাড়ির কাচ

    আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের উপর হামলার অভিযোগ। তাঁর গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণের হীরাপুর থানা এলাকায়। অগ্নিমিত্রার গাড়ির পিছনের দিকের কাচ বেশির ভাগটাই ভেঙে গিয়েছে। হীরাপুর থানায় গিয়ে ইতিমধ্যে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। অগ্নিমিত্রা জানান, তিনি বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। রহমতনগর হাই স্কুলের বুথ পরিদর্শন করে বেরোন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, সেই সময়েই চলন্ত গাড়িতে পিছন থেকে পাথর ছোড়া হয়েছে।

    রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুর

    প্রথম দফার ভোটে রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুরও। মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার এজেন্টের। আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থীর এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। জানা গিয়েছে, বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভ্রমরকল অঞ্চলে ৬৮ নম্বর বুথে সকাল থেকেই অশান্তির খবর আসছিল। সেই অশান্তির খবর পেয়েই বুথ পরিদর্শনে যান বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তাঁকে ঘিরে ফেলে কিছু লোকজন। অভিযোগ, মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আক্রান্ত বিজেপি নেতাকে। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আজকে আমি বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ফেরার সময়ে আমার উপরে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন হামলা চালায়। আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।’ বিশ্বজিৎ বর্তমানে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্বজিৎ ছাড়াও লাভপুরের প্রার্থীর দেবাশিস ওঝার ছেলে বিশ্বরূপ ওঝাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে ‘বেধড়ক মার’

    দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের স্বয়ং প্রার্থীকেই মারধরের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পুলিশের সামনেই কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। যাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিছু আগেই তাঁর এজেন্টকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ছাঞ্চল্য ছড়ায়! দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করতে দেখা যায় স্বয়ং বিজেপি প্রার্থীকেই। তারা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বলে অভিযোগ ওঠে। কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন প্রার্থী শুভেন্দু সরকার।

    মালদার চাঁচলে আক্রান্ত বিজেপি

    মালদার চাঁচল বিধানসভার ২২১ নম্বর বুথের ধুম সাডাগী পানপাড়া এলাকায় বিজেপির এক নির্বাচনী এজেন্টের উপর হামলার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ওই এজেন্টের পরনের পাঞ্জাবিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলল তৃণমূল। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। শেষে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সিতাই-ঘাটালে আক্রান্ত বিজেপি

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে ছুরি মারার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সিতাই বিধানসভার ২৭০ নম্বর বুথের ঘটনা। বিজেপির পোলিং এজেন্ট বুথ থেকে বাড়িতে খেতে যান। তখনই তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করার অভিযোগ। আহত এজেন্টকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। ঘাটালের মারিচা গ্রামে ‘আক্রান্ত’ বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। ঘাটালের ৫ নম্বর অঞ্চলের ১৭০ নম্বর বুথে উত্তেজনা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে, অভিযোগ শীতল কপাটের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হামলাকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে।

  • Bengal Elections 2026: ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’, মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে জেতানোর ডাক মোদির

    Bengal Elections 2026: ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’, মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে জেতানোর ডাক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জোড়া জনসভা। প্রথম জনসভা হয় কৃষ্ণনগরে। সেই সভা সেরে তিনি পৌঁছে যান মথুরাপুরে। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় জনসভা। বিজেপিকে জেতানোর ডাক দিয়ে মোদি বলেন, ‘‘সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভোট দিন। বিজেপি প্রার্থীদের জেতান।’’

    ‘‘বাংলায় পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’

    এদিন বক্তব্যের শুরুতে মথুরাপুরের জনসভায় জমায়েত দেখে মোদি বলেন, ‘‘আপনারা এখানে এসেই তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করে দিয়েছেন। সকাল ৯টা-১০টা থেকে মানুষ চলে এসেছেন। অনেকে রোদে দাঁড়িয়ে আছেন। এত উৎসাহ! চারদিক থেকে একটাই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, গ্রাম থেকে, শহর থেকে, গলি থেকে— পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। বাংলায় পরিবর্তনের আঁধি চলছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে। যাঁরা প্রথম ভোটার, তাঁদের বলব, ভরসার পক্ষে ভোট দিন। ভয় দূর করুন। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, যে হারে ভোট পড়ছে, তাতে ভয় হারছে, ভরসা জিতছে।’’

    ‘‘তৃণমূলের মহিলা-বিরোধী রূপ প্রকাশ্যে’’

    মোদি বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে লোকসভায় যা হয়েছে, তাতে তৃণমূল-সহ সমস্ত দলের মহিলাবিরোধী রূপ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মহিলারাই এর জবাব দেবেন। মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব সংসদে নিয়ে এসেছিল। তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে ওরা। বাংলা তো মা দুর্গার পুজো করে। তৃণমূল এখানেই মহিলাদের সম্মানকে নষ্ট করেছে, আপনাদের একটি ভোটই তার হিসাব করতে পারে। অন্যায় সহ্য করবেন না। অনেক হয়েছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘এখানে দুর্নীতি ছাড়া কোনও কাজ হয় না। সব কাজে টাকা দিতে হয়। চাকরি কে পাবে, সেটাও ঘুষ খেয়ে ওরা ঠিক করে। যদি কাউকে জমি কিনতে হয়, তাতে মস্তান দাদাকে টাকা দিতে হয়। এই সিন্ডিকেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে এসেছে। কাটমানির খেলা আর চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না।’’

    বাম-তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ

    মোদি বলেন, ‘‘বাংলা ৩৪ বছর ধরে বামেদের কুশাসন সহ্য করেছে। তার পর তৃণমূলকে তিন-তিন বার, ১৫ বছর ধরে সুযোগ দিয়েছেন এখানকার মানুষ। কেন্দ্রে বিজেপির ১১ বছরের শাসন রয়েছে, বাংলায় তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন। আমরা সর্বত্র বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি, পিএম আবাস দিয়েছে। ১২ কোটির বেশি শৌচালয় বানিয়ে দিয়েছি। ৫৫ কোটির বেশি মানুষের ব্যাঙ্কে জনধন অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছি, তিন কোটি মহিলাকে লাখপতি দিদি বানিয়েছি। ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র থেকে বার করে এনেছি। তালিকা দিতে দিতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবে। কিন্তু তৃণমূল এত বছরে কী দিয়েছে এই রাজ্যকে? শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হয়নি। প্রতি জেলায় মেগা ফুডপার্ক তৈরির ঘোষণা হয়েছিল। সেটাও এখনও হয়নি। সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী মথুরাপুরের লোকজন।’’

    গঙ্গাসাগর-মথুরাপুর মেলা প্রসঙ্গ…

    মোদি বলেন, ‘‘সারা দেশ থেকে গঙ্গাসাগরে মানুষ আসেন। কিন্তু এখানে এখনও একটা পাকা সেতু নেই। প্রতি বছর ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার পর সব হাওয়া। ফেরির উপর মানুষকে নির্ভর করতে হয়। বান আসে, মানুষের ঘর ভেসে যায়। ফসল নষ্ট নয়। কিন্তু এই সরকারে তাতে কিছু যায় আসে না। নিজেরা কোনও কাজ করে না। কেন্দ্রকেও বাধা দেয়।’’
    মোদি বলেন, ‘‘মথুরাপুরের ভাঙা মেলা রাজ্য সরকারের সমর্থন পায়নি, যা পাওয়া উচিত ছিল। এটা রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন। এই ভাঙা মেলাকে আমরা স্বচ্ছ ভারতের অংশ বানাব। মেলার প্রাঙ্গনে আমরা মার্কেট হাব তৈরি করব।’’

    অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি

    মোদী বলেন, ‘‘মৎস্যজীবীরাও এখানে সমস্যায়। চারদিকে লুট চলছে। তৃণমূল সরকার তাতে মদত দিচ্ছে। এখানকার শিশুদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারই কেন্দ্রে প্রথম মৎস্যপালনের আলাদা মন্ত্রক বানিয়েছে। সমুদ্রে যান যে মৎস্যজীবীরা, তাঁদের সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে আমাদের সরকার। তাঁদের আয় বাড়বে। তৃণমূল এখানকার সমুদ্রকে অসুরক্ষিত করে রেখেছে।’’ মোদী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল। কাদের মদতে তারা ঢুকছে? তৃণমূলের মদতে। ওরা চায়, অনুপ্রবেশ বন্ধ না-করতে। যখনই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলি, তখনই ওরা প্রতিবাদ করে। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করব এখানে ক্ষমতায় এলে।’’

     

  • Bengal Elections 2026: ‘‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’, কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ মোদির

    Bengal Elections 2026: ‘‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’, কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের দিন রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ তাঁর দু’টি জনসভা রয়েছে। প্রথম সভা বেলা সাড়ে ১২টায় কৃষ্ণনগরে। মোদির দ্বিতীয় জনসভা মথুরাপুর। তার পরে বিকেলে হাওড়ায় রোড শো রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

    কমিশনের প্রশংসা…

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘‘আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট চলছে। আমি সকলকে ভোটারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সকলে গণতন্ত্রের উৎসব পালন করতে হবে।’’ তার পরেই মোদি বলেন, ‘‘আমি যত দিন রাজনীতিতে এসেছি, বলতে পারি গত ৫০ বছরে প্রথম এমন নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে কম হিংসার ঘটনা ঘটছে। আগে তো লোককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বলত আত্মহত্যা করেছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাই।’’

    ‘‘ভয় থেকে মুক্তি পেতে ভোট’’

    মোদি বলেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি ভয় দূর হচ্ছে। ভয় থেকে মুক্তি পেতে ভোট দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। আমি সব জায়গা দেখতে পাচ্ছি, সকলেই বলছেন পাল্টানো দরকার।’’ কৃষ্ণনগরের সভা থেকে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের অভিনন্দন জানালেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভোটদানের হার সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে।’’

    ‘‘…ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে আবার ঝালমুড়ির প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়োৎসব হবে। মিষ্টি দেওয়া হবে, দেওয়া হবে ঝালমুড়িও। তবে আমি শুনেছি, ঝালমুড়ি কিছু লোককে জোর ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘আমি এ বার বাংলায় অনেক জায়গায় ঘুরেছি। দেখেছি মানুষ তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রীদের কাজে অতিষ্ঠ। সেই কারণে অনেক জেলার অনেক জায়গায় খাতাই খুলতে পারবে না তৃণমূল।’’

    জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে…

    মোদি বলেন, ‘‘১৫ বছর আগে বামেদের বিরুদ্ধে জনতা কেবল ফুঁ দিয়েছিল। কিন্তু এ বার তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে। আমরা ভোটে লড়ছি না। এ বারের ভোট জনতা লড়ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সরকারি কর্মচারীরা ভয় থেকে বেরিয়ে এসে ভোট দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা ভাল ব্যবস্থার জন্য ভোট দিচ্ছেন। আইনজীবীরা ভোট দিচ্ছেন ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। শিক্ষক ভয়মুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভোট দিচ্ছেন। জনতার সেবা করার জন্য ভোট দিচ্ছে পুলিশ।’’

    অনুপ্রবেশ নিয়ে নিশানা তৃণমূলকে

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে নিশানা করেন মোদি। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করতে ব্যর্থ। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের লোক কেবল লুট করতে ব্যস্ত।’’ মোদি বলেন, ‘‘অত্যাচারী, দুর্নীতিবাজদের কোনও জায়গা হবে না পশ্চিমবঙ্গে। কেউ ছাড় পাবে না। বিচার করবে আইন। লুটের টাকা সকলে ফেরত পাবেন।’’ মোদি বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা।’’ অনুপ্রবেশের জন্য আবার একবার তৃণমূল সরকারকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘সীমান্তের সুরক্ষা তখনই সম্ভব যখন পুলিশ, সেনা, বিএসএফ এবং নাগরিকেরা একসঙ্গে কাজ করবে। ৪ মে-র পর সুরক্ষার নতুন গ্যারান্টি শুরু হবে।’’

    মতুয়াদের অভয় দিলেন মোদি…

    মোদি বলেন, ‘‘মতুয়াদের তৃণমূলকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনাদের কেউ হাত লাগাতে পারবে না।’’ তিনি আরও বলেন, শরণার্থীদের ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁরা ধর্মীয় বিভাজনের কারণে ভারতে এসেছেন তাঁদের সঙ্গে মোদী রয়েছে। মোদীর প্রতিশ্রুতি, ‘‘৪ মে-তে বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পর পরই সিএএ দিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজের গতি আরও বাড়বে।’’

    মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে সরব…

    আবার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সরব হলেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল চায় না সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বাড়ুক। কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে সংসদে ওই বিল আটকে দিয়েছে তৃণমূল।’’ মোদি বলেন, ‘‘প্রতি ব্লকে মহিলা থানা হবে। রাস্তায় সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হবে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহিলাদের উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপ করা হবে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের মাধ্যমে বছরের ৩৬ হাজার টাকা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েদের সাহায্য করা হবে। শিশুদের লালনপালনের জন্য অতিরিক্ত ৩৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে।’’

  • West Bengal Elections 2026: ৩.৬ কোটি ভোটারের রায় আজ! শুরু প্রথম দফার ভোটগ্রহণ, ১৫২ আসনে ভাগ্য পরীক্ষা ১,৪৭৮ প্রার্থীর

    West Bengal Elections 2026: ৩.৬ কোটি ভোটারের রায় আজ! শুরু প্রথম দফার ভোটগ্রহণ, ১৫২ আসনে ভাগ্য পরীক্ষা ১,৪৭৮ প্রার্থীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন বুথে ভোট নেওয়া হচ্ছে, যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই দফায় ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুর—এই জেলাগুলির ভোটাররা আজ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন।

    ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩১০ ভোটার…

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শেষে এই দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লক্ষের বেশি, মহিলা ভোটার প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪৬৫ জন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাইবুনালে অনুমোদিত আরও ১৩৯ জন ভোটার যুক্ত হওয়ায় মোট ভোটারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩১০।

    ১,৪৭৮ প্রার্থীর ভাগ্যপরীক্ষা…

    এই দফায় ৫৫টি রাজনৈতিক দলের মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ১,৩১১ জন পুরুষ এবং ১৬৭ জন মহিলা। কোচবিহার দক্ষিণ, ইটাহার ও করণদিঘি কেন্দ্রে সর্বাধিক ১৫ জন করে প্রার্থী লড়ছেন, অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা কেন্দ্রে প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে কম—মাত্র ৫ জন। সংরক্ষণের দিক থেকে ৩৪টি আসন তফসিলি জাতি এবং ১৫টি আসন তফসিলি উপজাতির জন্য নির্দিষ্ট। আয়তনে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র শিলিগুড়ি এবং সবচেয়ে বড় কালিম্পং। ভোটারের সংখ্যার বিচারে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে প্রায় ২.৯৬ লক্ষ ভোটার থাকায় এটি সবচেয়ে বড়, আর মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে প্রায় ১.৬১ লক্ষ ভোটার থাকায় সেটি সবচেয়ে ছোট।

    ৪৪,৩৭৬টি বুথ, ৫ লক্ষাধিক ভোটকর্মী…

    ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। মোট ৪৪,৩৭৬টি বুথে ভোট হচ্ছে, যার মধ্যে ৪১,৪১৮টি মূল বুথ এবং ২,৯৫৮টি সহায়ক বুথ। মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা ৫,৬৪৪টি, পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের দ্বারা পরিচালিত ২টি বুথও রয়েছে। ২০৭টি মডেল পোলিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রায় ৬৪ হাজার ভিভিপ্যাট ও ৬০ হাজার ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি বুথে প্রায় ৮১৩ জন ভোটার রয়েছে। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে মক পোল শুরু হয়ে সকাল ৭টা থেকে মূল ভোটগ্রহণ চলছে।

    ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাহিনী রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী দায়িত্বে রয়েছেন। প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতেই এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে ৯২টি জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ৫৯টি বিজেপি। ফলে এবারের প্রথম দফার ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • R-37M Missile: পাকিস্তান-চিনকে টেক্কা দিতে ভারতের বড় চাল! রাশিয়া থেকে আসছে ‘কুঠারের ফলা’, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধে বড় বদলের ইঙ্গিত

    R-37M Missile: পাকিস্তান-চিনকে টেক্কা দিতে ভারতের বড় চাল! রাশিয়া থেকে আসছে ‘কুঠারের ফলা’, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধে বড় বদলের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যেতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের সমীকরণ। ‘বন্ধু’ ভারতকে নিজেদের সেরা অতি-দবরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ‘আর-৩৭এম’ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। এই মর্মে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করা হলেও, বিভিন্ন সূত্রের মতে নয়াদিল্লির হাতে এই অস্ত্র এলে, খেলা একেবারে ঘুরে যাবে। কারণ, এমন ক্ষেপণাস্ত্র চিনের কাছেও নেই। রুশ সংবাদসংস্থার দাবি, প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই সম্ভাব্য চুক্তি ভারতীয় বায়ুসেনাকে এমন একটি অস্ত্র দেবে, যা শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ বিমানকে শত শত কিলোমিটার দূর থেকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম। খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু হতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভারত দেশীয় আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ও মার্ক- প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে চাইছে।

    চিনা ‘পিএল-১৫’ ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব রাশিয়ার ‘আর-৩৭এম’

    এই সিদ্ধান্তের সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০২৫ সালের মে মাসে হওয়া “অপারেশন সিঁদুর” সংঘর্ষে ভারতের ‘বিয়ন্ড ভিজুয়াল রেঞ্জ’ বা দৃষ্টিসীমার বাইরে সক্ষমতার একটি বড় দুর্বলতা সামনে এসেছিল। ভারতের সামরিক মহলের মতে, পাকিস্তানের জে-১০সি এবং জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান যদি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত থাকে, তাহলে তারা ভারতের সুখোইয়ের বর্তমান আক্রমণ সীমার বাইরে থেকেই ভারতীয় বিমানের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘আর-৩৭এম’ ক্ষেপণাস্ত্রকে একটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভারতের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য সময় দেবে। রাশিয়ায় আরভিভি-বিডি নামে পরিচিত এবং বকলমে “অ্যাক্সহেড” নামে খ্যাত এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত অ্যাওয়াক্স, মিড-এয়ার রিফুয়েলার ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের জন্য তৈরি।

    আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি দিল্লি বা মস্কো

    এটি ভারতীয় বায়ুসেনার মিশনের পরিধিও বাড়াবে— শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান ধ্বংস নয়, বরং তাদের আকাশভিত্তিক কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও তৈরি করবে। এর ফলে বড় কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে, কারণ পাকিস্তান ও চিন— দুই দেশই এখন নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক সেন্সর, অ্যাওয়াক্স এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। যদিও মস্কো বা নয়াদিল্লি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে রাশিয়া ইতিমধ্যেই রফতানির অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে রাশিয়ার ভূমিকা আরও মজবুত করবে, বিশেষ করে যখন পশ্চিমি দেশ ও দেশীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ভারতের জন্য এটি শুধু একটি নতুন অস্ত্র নয়, বরং পাকিস্তান ও চিনের বিরুদ্ধে দ্রুত দীর্ঘ-পাল্লার প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য ভবিষ্যতে নির্ভর করবে—কে আগে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে, তার ওপর।

    আকাশভিত্তিক কমান্ড নেটওয়ার্ক ধ্বংসের জন্য তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র

    • ● ‘আর-৩৭এম’ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা দীর্ঘ-পাল্লার কার্যকর এয়ার-টু-এয়ার (আকাশ থেকে আকাশ) ক্ষেপণাস্ত্র। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, আদর্শ পরিস্থিতিতে এর পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
    • ● ভারতের সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার হতে পারে, যা এখনও অধিকাংশ পশ্চিমি ও এশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি।
    • ● এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় মাক ৬ বা শব্দের চেয়ে ৬ গুণ দ্রুত (প্রায় ৭,৪০০ কিমি/ঘণ্টা) গতিতে পৌঁছাতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় খুব কম থাকে।
    • ● প্রায় ৪.২ মিটার লম্বা এবং প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রে ৬০ কেজির উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড থাকে, যা বড় আকারের বিমান ধ্বংসের জন্য তৈরি।
    • ● এর গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে ইনর্শিয়াল ন্যাভিগেশন, মাঝপথে ডেটা-লিঙ্ক আপডেট এবং শেষ পর্যায়ে অ্যাক্টিভ রেডার হোমিং—যার ফলে লক্ষ্যবস্তু চলন্ত থাকলেও তা ট্র্যাক করা সম্ভব।
    • ● এছাড়া এতে “লফটেড ট্র্যাজেক্টরি” ব্যবহার করা হয়—অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথমে উপরে উঠে তারপর লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে, ফলে শক্তি সঞ্চয় হয় এবং পাল্লা বাড়ে।
    • ● এই বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে এটি বিশেষভাবে কার্যকর অ্যাওয়াক্স ও ট্যাঙ্কারের মতো দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমানের বিরুদ্ধে।
    • ● এই ধরনের বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের অনেক পিছনে অবস্থান করে, ‘আর-৩৭এম’ সেই দূরত্ব থেকেই তাদের আঘাত করতে সক্ষম।
    • ● ফলে পাকিস্তান ও চিনকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে নিতে হতে পারে, যা তাদের রাডার কভারেজ ও সমন্বয় ক্ষমতা কমিয়ে দেবে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানে সংযোজন: ভারতের দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি

    • ● ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হল— আর-৩৭এম দ্রুত সুখোই-৩০এমকেআই বিমানে সংযোজন করা সম্ভব।
    • ● বর্তমানে ভারতের কাছে ২৭০টিরও বেশি সুখোই-৩০এমকেআই রয়েছে, ফলে আংশিক সংযোজন হলেও বড় পরিসরে ক্ষমতা বৃদ্ধি হবে।
    • ● রাশিয়ার সুখোই-৩০এসএম-এ ইতিমধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে প্রযুক্তিগত ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
    • ● সংযোজনের জন্য মূলত সফটওয়্যার আপডেট দরকার হবে—যেমন রেডার, মিশন কম্পিউটার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন নয়।
    • ● ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনকে সুখোই-৩০ আধুনিকীকরণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে, যেখানে প্রথম পর্যায়ে ৮৪টি বিমান আপগ্রেড করা হবে।
    • ● প্রতিটি আপগ্রেড করা বিমানে অন্তত দুটি আর-৩৭এম বহন করা সম্ভব হবে, যদিও মিশ্র অস্ত্র বিন্যাসে আরও বেশি বহন করা যেতে পারে।
    • ● কিছু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি সুখোই-৩০এমকেআই সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৮টি আর-৩৭এম বহন করতে সক্ষম হতে পারে, সঙ্গে স্বল্প-পাল্লার আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রও থাকবে।

    আকাশযুদ্ধের ভবিষ্যৎ: “ফার্স্ট-ডিটেক্ট, ফার্স্ট-শুট”

    ফলে, আর-৩৭এম শুধু একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং ভারতের জন্য দ্রুতগতিতে দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর ফলে ভারত-পাকিস্তান-চিন ত্রিভুজে আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারিত হতে পারে। আর-৩৭এম অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে লড়াই শুধুমাত্র যুদ্ধবিমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না— বরং নির্ভর করবে কে আগে শত্রুপক্ষের “চোখ ও কান” অর্থাৎ অ্যাওয়াক্স ও সাপোর্ট প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করতে পারে। অর্থাৎ, আকাশযুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে “ফার্স্ট-ডিটেক্ট, ফার্স্ট-শুট” কৌশল—এবং সেই প্রতিযোগিতায় ভারত বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

LinkedIn
Share