Author: Susanta Das

  • QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ উপাদান (Rare Earth Materials) ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত ও আমেরিকা। মঙ্গলবার কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ (Rare Earth) সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যান (EV), সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শিল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল চিনের উপর নির্ভরতা কমানো।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক কাঠামো (Framework Agreement) তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণের সরবরাহ সুরক্ষিত করার জন্য ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক কাঠামো স্বাক্ষর করছি। কোয়াড বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিকভাবে হোক বা কোয়াডের মাধ্যমে—সমমনা দেশগুলির জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    বর্তমানে বিশ্বে রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ও বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে সবচেয়ে বড় আধিপত্য রয়েছে চিনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, মিসাইল, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন, সোলার প্যানেল ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত বহু উপাদানের জন্য বিভিন্ন দেশ এখনও চিনের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার নতুন অংশীদারিত্বকে “সাপ্লাই চেইন সিকিউরিটি” নিশ্চিত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে বহু দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

    কোন কোন খনিজের উপর জোর?

    এই চুক্তির আওতায় ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে অনুসন্ধান (Exploration), খনন (Mining), প্রক্রিয়াকরণ (Processing), পরিশোধন (Refining) এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষভাবে যে খনিজগুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল—

    • ● লিথিয়াম (Lithium)
    • ● কোবাল্ট (Cobalt)
    • ● নিকেল (Nickel)
    • ● গ্রাফাইট (Graphite)
    • ● রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements)

    এই খনিজগুলি বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি, নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের জন্য কী লাভ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের সামনে একাধিক সুবিধার দরজা খুলে যেতে পারে।

    ● ১. বৈদ্যুতিক যান ও ব্যাটারি শিল্পে গতি

    ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি তৈরির জন্য লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বহুগুণ বাড়বে। এই চুক্তি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ● ২. প্রতিরক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধি

    রেয়ার আর্থ উপাদান আধুনিক মিসাইল সিস্টেম, রাডার, যুদ্ধবিমান ও উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও ভারতের স্বনির্ভরতা বাড়তে পারে।

    ● ৩. প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ

    চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থাগুলি উন্নত প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এর ফলে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

    আমেরিকার লক্ষ্য কী?

    আমেরিকাও দীর্ঘদিন ধরে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ক্ষমতা চিনের হাতে থাকায় আমেরিকা বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। ভারতের সঙ্গে এই চুক্তিকে তাই “বিশ্বস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল অংশীদারিত্ব” হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোয়াডভুক্ত দেশগুলির মধ্যেও এই ইস্যু এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে।

    ভারতের আগাম প্রস্তুতি

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি খনিজকে “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশে খনিজ সম্পদ অধিগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গতিশীলতার দিকে বিশ্ব যত এগোবে, ততই এই খনিজগুলির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়বে।

    রেয়ার আর্থ কেন এত মূল্যবান?

    রেয়ার আর্থ উপাদান ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি শিল্প কার্যত অচল। এগুলি ব্যবহার করা হয়—

    • ● বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি
    • ● উইন্ড টারবাইন
    • ● মোবাইল ফোন
    • ● সেমিকন্ডাক্টর
    • ● সোলার প্রযুক্তি
    • ● মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে

    ফলে ভারত-আমেরিকার এই নতুন অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

  • 100 Days Work Restart: ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত! ১ জুন থেকেই বাংলায় ফের ১০০ দিনের কাজ, তবে বাদ পড়ছে এই ২ জেলা

    100 Days Work Restart: ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত! ১ জুন থেকেই বাংলায় ফের ১০০ দিনের কাজ, তবে বাদ পড়ছে এই ২ জেলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক গতি বাড়াতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নতুন সরকার। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, আগামী ১ জুন থেকে বাংলায় ফের চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প বা মনরেগা। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। তবে আপাতত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রকল্প চালু করা হচ্ছে না বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদে

    নবান্ন সূত্রের খবর, এই দুই জেলাতেই পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো জব কার্ড তৈরি, কাজ না করেই টাকা তোলা, কাজের খতিয়ানে কারচুপি এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই জেলায় প্রকল্প চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ বাদে বাকি সমস্ত জেলাতেই দ্রুত গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প শুরু করতে হবে। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এলেই যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায় এবং প্রকল্পে গতি আনা সম্ভব হয়, সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে।

    বিতর্কের সূত্রপাত ২০২২ সালে

    উল্লেখ্য, বাংলায় ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গে মনরেগা প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। ভুয়ো জব কার্ড, বেআইনি নিয়োগ এবং কাজের হিসাবপত্রে অসংখ্য অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে। এর পরেই কেন্দ্র ‘৭ নম্বর ধারা’ প্রয়োগ করে বাংলার জন্য মনরেগার সমস্ত তহবিল এবং বকেয়া অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। তৎকালীন তৃণমূল সরকার অবশ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি ছিল, বাংলার গরিব মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। বকেয়া টাকার দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনেও নামে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে রাজধানীতে ধরনা কর্মসূচিও হয়েছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, আগের খরচের পূর্ণ হিসাব এবং দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব নয়।

    উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’

    রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এখন ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর তত্ত্ব সামনে এনে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার মনে করছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় থাকলে গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের কাজ আরও দ্রুত এগোবে। সেই লক্ষ্যেই ১ জুন থেকে পুনরায় প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল আমলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার ‘কর্মশ্রী’ নামে একটি বিকল্প প্রকল্প চালু করেছিল। সেখানে জব কার্ড হোল্ডারদের ৫০ থেকে ৭০ দিনের কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকার ফের কেন্দ্রীয় মনরেগা প্রকল্প চালু করার উপরেই জোর দিচ্ছে।

    নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক…

    শুধু ১০০ দিনের কাজ নয়, প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতেও বড় পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রতি মাসে সব দফতরের সচিবদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করা হবে। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।

  • Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য সতর্কতার অভাবেই বাড়ছে বিপদ! বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য নিঃশব্দে বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা জরুরি। না হলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এ দেশের জনস্বাস্থ্যে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে থাইরয়েড। গলায় থাকা এই হরমোন গ্রন্থি এখন উদ্বেগের কারণ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    ভারতীয় মহিলাদের জন্য কেন বাড়তি উদ্বেগ?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ১৫ শতাংশ মহিলা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা আরও বাড়ছে। বিশেষত বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোলেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতীয় পুরুষদের তুলনায় ভারতীয় মহিলারা ৪ গুন বেশি থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হন।

    থাইরয়েডের সমস্যা কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গলার কাছে থাকে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণ হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশি বা কম হরমোন নিঃসরণ শুরু হলে শরীরের একাধিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সেটাই থাইরয়েড সমস্যা হয়। ভারতে অধিকাংশ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্তের দেখা গিয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হয়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়ছে।

    কেন ভারতীয় মহিলারা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন?

    জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ভারসাম্যের ব্যাপাক পরিবর্তন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা থাইরয়েড সমস্যায় কয়েক গুণ বেশি ভুগছেন। তার প্রধান কারণ হলো হরমোন ঘটিত পরিবর্তন। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলাদের জীবনের একাধিক সময়ে শরীরে হরমোন ঘটিত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়। তার ফলে একাধিক হরমোন গ্রন্থির সক্রিয়তার সমীকরণ বদলে যায়। বয়ঃসন্ধিকালে ঋতুস্রাব শুরুর সময়, গর্ভাবস্থায়, সন্তান প্রসবের পরে এবং ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী সময়ে মহিলাদের শরীরের একাধিক হরমোন ঘটিত পরিবর্তন হয়। এর জেরে থাইরয়েড গ্রন্থির উপরেও গভীর প্রভাব পড়ে। থাইরয়েড নিঃসরণের পরিবর্তন ঘটে। তাই মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। বিশেষত মহিলাদের গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসব পরবর্তীকালে একাধিক শারীরিক পরিবর্তন হয়। তাই সেই সময়ে এই ধরনের হরমোন ঘটিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    আয়রনের ঘাটতি!

    ভারতীয় মহিলারা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগে। ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ ভারতীয় মেয়ের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। আয়রনের অভাব মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া, বহু মহিলা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। ভারতীয় মেয়েদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অপুষ্টি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    মানসিক চাপ এবং অনিদ্রা!

    ভারতীয় মহিলারা অধিকাংশ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভোগেন। পারিবারিক সমীকরণ এবং কাজের পরিবেশ‌ ভারতে বদলে যাচ্ছে। মহিলাদের জন্য চাপ বাড়ছে। পরিবারের একাধিক দায়িত্ব তাদের সামলানোর পাশপাশি পেশাগত জীবনেও দায়িত্ব বাড়ছে। একদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন, আবার আরেক দিকে সামাজিক চাপ বেড়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে ভারতীয় মহিলাদের মানসিক চাপ ও অবসাদের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শহুরে ভারতীয় মহিলারা অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। এগুলো শরীরের হরমোন নিঃসরণে প্রভাব ফেলছে। তাই থাইরয়েড গ্রন্থিতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    অটোইমিউন রোগের জেরে বিপদ বাড়ছে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় মহিলারা অটোইমিউন রোগের শিকার বেশি হন। অর্থাৎ, নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। তাই অটোইমিউন ডিজিজ থাকলে, তার থাইরয়েড গ্রন্থিও সমস্যায় পড়ে। রোগের জটিলতা বাড়ে।

    কেন থাইরয়েড বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনের বেশি বা কম পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হলে শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা একাধিক জটিলতা তৈরি করছে—

    • ● চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হলে মহিলাদের একাধিক হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়। যার ফলে মহিলাদের গর্ভধারণ জটিল হয়ে যায়। দেশ জুড়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে। আর তার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হলো থাইরয়েডের সমস্যা। এই সমস্যায় আক্রান্ত মহিলা গর্ভধারণ করলেও একাধিক ঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি হয়‌। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাছাড়া, গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই রোগের প্রভাব পড়তে পারে।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার রক্তচাপ ওঠানামা করে। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে দ্রুত হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলা করলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজমে শরীরে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে হাড় দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। এতে ক্যালসিয়াম কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে, বিশেষত মেনোপজের পর এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সময়মতো থাইরয়েড পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা, ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।
    • ● তবে যে দিকটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে, তা হলো মানসিক স্বাস্থ্য। দেশ জুড়ে একাধিক মানসিক সমস্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অবসাদ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপের মতো নানান মানসিক সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। থাইরয়েডের সমস্যা হলে মানসিক স্বাস্থ্যে তার গভীর প্রভাব পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই হরমোন ঘটিত সমস্যার জেরে খিটখিটে ভাব বাড়ে, কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়, ক্লান্তি বোধ বাড়ে, আবার রাগ এবং দুশ্চিন্তার মতো সমস্যা বেশি হয়। সব মিলিয়ে আক্রান্তের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। ভারতের এই বিপুল সংখ্যক মহিলার থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর জেরে আরও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    থাইরয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে সচেতনতা জরুরি। স্কুল স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক করলে, সামাজিক সচেতনতার মান বাড়বে। অত্যন্ত বেশি চুল পড়ার সমস্যা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, রুক্ষভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ এবং অকারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকার মতো সমস্যায় দিনের পর দিন ভুগলে, কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। সাধারণ সহজ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়, থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত কিনা! তাই সেই পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাহলেই পরিস্থিতি জটিল হবে না। বর্তমানে ভারতে থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার উপযুক্ত ওষুধ রয়েছে। তাই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রোগ চিহ্নিত হলেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হয়ে যাবে।

  • 114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান চুক্তির পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ (LoR) চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্র। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ফ্রান্স সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পের অধীনে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে এই বিপুল প্রতিরক্ষা ক্রয় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    কী এই ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’?

    প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা এলওআর হল একটি আনুষ্ঠানিক নথি, যার মাধ্যমে ক্রেতা দেশ বিক্রেতা দেশের সরকারকে জানায় তারা কত সংখ্যক যুদ্ধাস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে চায় এবং তার প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল চাহিদা কী। ভারতের পাঠানো এলওআর-এর ভিত্তিতে ফ্রান্স সম্ভাব্য মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠাবে। তারপর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ (RFP) জারি করে বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু করবে।

    ভারতে তৈরি হবে অধিকাংশ রাফাল

    প্রস্তাবিত ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রায় ৯০টি ভারতেই তৈরি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফরাসি সংস্থা ‘দাসো’র সঙ্গে একটি ভারতীয় সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই উৎপাদন হবে। বাকি বিমানগুলি ফ্রান্স থেকে সরাসরি ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেশীয় উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে বড়সড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বছরের শেষেই চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য

    সূত্রের খবর, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তি সই করতে চাইছে কেন্দ্র। তবে তার আগে প্রয়োজন হবে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বা সিসিএস-এর অনুমোদন। ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ডিফেন্স অ্যাকুইডিশন কাউন্সিল (DAC) এই প্রস্তাবকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আগামী মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এপি সিংয়ের ফ্রান্স সফর এবং জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সম্ভাব্য ফ্রান্স সফরকে ঘিরেও এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইতিমধ্যেই ৩৫টি রাফাল ব্যবহার করছে ভারত

    ভারতীয় বায়ুসেনা বর্তমানে ৩৫টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে, যা পূর্ববর্তী ভারত-ফ্রান্স চুক্তির অধীনে কেনা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২৬টি রাফাল-এম (Rafale Marine) যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছে, যা বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একই প্ল্যাটফর্মের আরও রাফাল অন্তর্ভুক্ত হলে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র সংযোজন এবং লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমবে। কারণ ইতিমধ্যেই রাফাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভারতীয় বাহিনীর হাতে রয়েছে।

    ভারতীয় অস্ত্র সংযোজনের চেষ্টা

    ভারত বর্তমানে ফ্রান্সের সঙ্গে ইন্টারফেস কনট্রোল ডকুমেন্ট, সংক্ষেপে আইসিডি (ICD) নিয়ে আলোচনা করছে। এই প্রযুক্তিগত নথি হাতে এলে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থা যেমন অ্যাস্ট্রা (Astra) ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভবিষ্যতের ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG) মিসাইল রাফাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এটি সফল হলে রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতীয় প্রতিরক্ষা চাহিদা অনুযায়ী আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে।

    কেন জরুরি এই চুক্তি?

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৯-এ, যেখানে অনুমোদিত সংখ্যা ৪২। ফলে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে দেশীয় প্রকল্প যেমন হ্যাল-এর তেজসের মার্ক-১এ (Tejas Mk1A), মার্ক-২ (Tejas Mk2) সংস্করণ এবং পঞ্চম প্রজন্মের অ্যামকা (AMCA) সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে আরও অনেক সময় লাগবে। অ্যামকা পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের পর পরিষেবায় আসতে পারে বলে অনুমান।

    রাশিয়ার সু-৫৭ জেটও বিবেচনায়

    অন্তর্বর্তী সময়ে ভারত বিদেশি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে। তার মধ্যে রাশিয়ার সুখোই সু-৫৭ (Sukhoi Su-57) স্টেলথ ফাইটারের নামও উঠে এসেছে। তবে আপাতত রাফাল এফ-৪ সংস্করণই ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান পছন্দ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য কত?

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, ১১৪টি রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) মাল্টিরোল ফাইটার কেনার জন্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার সরকার-টু-সরকার চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। মার্কিন ডলারে যার মূল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটিই হবে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান ক্রয়।

  • Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলের পর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নবগঠিত বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই “ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট” নীতির কথা তুলে ধরেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব স্তরেও শুরু হতে চলেছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” তৈরির নির্দেশ পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।

    জেলায় জেলায় তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    রাজ্য প্রশাসনের তরফে সমস্ত জেলা শাসকদের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের অবৈধ বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের সীমান্ত পার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বিএসএফ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বিশেষভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার বা জেল থেকে মুক্তি পাওয়া যেসব বিদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, তাঁদেরও সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশ কার্যকর করল নতুন সরকার

    ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ, আটক এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নির্দেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্যের তরফে জেলাগুলিতে যে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে, তা মূলত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকার ভিত্তিতেই তৈরি।

    কারা সিএএ-র আওতায়, কারা ডিপোর্টের মুখে

    সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় পড়েন, তাঁদের বৈধ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, যাঁরা ওই আইনের আওতায় পড়েন না—বিশেষত বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা—তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করে ডিপোর্ট করা হবে বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।

    কেমন হবে এই হোল্ডিং সেন্টার

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলার কৃষক মান্ডি, সরকারি স্কুল বা সরকারি পরিকাঠামোকেই আপাতত হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আলাদা করে বড়সড় ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে ওই সেন্টারগুলিতে রাখা ব্যক্তিরা বাইরে অবাধে চলাফেরা করতে পারবেন না। নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    কীভাবে শনাক্ত করা হবে অনুপ্রবেশকারীদের

    কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ধরা পড়া বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি এবং অন্যান্য পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য। এই সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে (FIP)। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় অবৈধ বিদেশি শনাক্ত ও প্রত্যর্পণের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

    কেউ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে কী হবে

    যদি কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন, তাহলে তাঁর তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা বা রাজ্যের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হবে।

    অবৈধ প্রমাণিত হলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা

    যাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারেন।
    এছাড়া তাঁদের সমস্ত তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে এবং ইউআইডিএআই (আধার কর্তৃপক্ষ), নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ-সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আধার, ভোটার কার্ড বা অন্য সরকারি পরিচয়পত্র ও সুবিধা বাতিল করার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

    খরচ বহন করবে কে

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য প্রাথমিক পরিবহণ ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে। পরে সেই অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া যাবে। অন্যদিকে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

    রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করেছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে বিজেপি প্রশাসনিক কঠোরতা হিসেবে তুলে ধরলেও, বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দিনে এই হোল্ডিং সেন্টার ও ডিপোর্টেশন নীতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

  • Chingrighata Viaduct: তৃণমূল জমানায় থমকে ছিল ১৮ মাস, বিজেপি আসতেই চিংড়িঘাটায় মাত্র ১২০ ঘণ্টায় শেষ হল ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ

    Chingrighata Viaduct: তৃণমূল জমানায় থমকে ছিল ১৮ মাস, বিজেপি আসতেই চিংড়িঘাটায় মাত্র ১২০ ঘণ্টায় শেষ হল ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা, আদালত পর্যন্ত গড়ানো টানাপোড়েন এবং দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকার পর অবশেষে বড় সাফল্য পেল কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন প্রকল্প। ইএম বাইপাসের ব্যস্ত চিংড়িঘাটা মোড়ে মাত্র ১২০ ঘণ্টার মধ্যে দু’দফায় গুরুত্বপূর্ণ ভায়াডাক্ট বসিয়ে ‘মিসিং লিংক’-এর বড় অংশ সম্পূর্ণ করল রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)। এই কাজ শেষ হওয়ায় নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট করিডরের অরেঞ্জ লাইনের সেক্টর ফাইভ সংযোগের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেল।

    দু’দফায় ৬২ মিটার ভায়াডাক্ট বসানোর নজির

    প্রথম ধাপের কাজ শুরু হয়েছিল ১৫ মে রাত ৮টা থেকে। টানা ৬০ ঘণ্টার ট্র্যাফিক ব্লকের মধ্যে ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর পিলারের মাঝে ২৮ মিটার দীর্ঘ কংক্রিট ভায়াডাক্ট বসানো হয়। এই ভায়াডাক্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল মোট ১০টি কংক্রিট সেগমেন্ট। এর মধ্যে আটটির ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন এবং দু’টির ওজন প্রায় ৪০ টন। প্রথম পর্যায়ের কাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগেই শেষ হয়। ফলে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যেই উল্টোডাঙামুখী রাস্তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

    এরপর দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হয় ২২ মে রাত ৮টা থেকে। ২৫ মে সকাল পর্যন্ত চলা আরও একটি ৬০ ঘণ্টার ব্লকে ৩১৮ ও ৩১৯ নম্বর পিলারের মধ্যে ৩৪ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট বসানো হয়। এই অংশে ১২টি কংক্রিট সেগমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। দু’দফার কাজ মিলিয়ে মোট ৬২ মিটার ভায়াডাক্ট সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ৩১৭ থেকে ৩১৯ নম্বর পিলারের সংযোগ সম্পূর্ণ হয়েছে, যা এতদিন অরেঞ্জ লাইনের সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ চিংড়িঘাটা অংশ?

    চিংড়িঘাটা মোড়ের ৩৬৬ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ ছিল। এই ‘মিসিং লিংক’-এর কারণেই নিউ গড়িয়া থেকে চলা অরেঞ্জ লাইন এখনও সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। বর্তমানে এই লাইন নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা মেট্রোপলিটন স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার চালু রয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, চিংড়িঘাটার এই ভায়াডাক্ট সম্পূর্ণ হলে অরেঞ্জ লাইন সরাসরি সেক্টর ফাইভের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর গ্রিন লাইনের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করবে। এতে নিউ টাউন, সেক্টর ফাইভ, রুবি, গড়িয়া এবং বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের যাতায়াতে বড় সুবিধা হবে।

    দেড় বছর কেন আটকে ছিল কাজ?

    আরভিএনএল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই অংশে কাজ কার্যত থমকে ছিল। মূল সমস্যা ছিল ট্র্যাফিক ব্লকের অনুমতি। চিংড়িঘাটা মোড় কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ট্র্যাফিক করিডর হওয়ায় দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধে আপত্তি জানানো হয়েছিল। বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আরভিএনএল আইআইটি-গৌহাটির একটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাঝপথে কাজ থামালে নির্মাণের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক অনুমতি মেলায় টানা ৬০ ঘণ্টার ট্র্যাফিক ব্লকের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

    ৫০০ টনের লঞ্চার মেশিন এখন এগোবে নিক্কো পার্কের দিকে

    চিংড়িঘাটার গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ শেষ হওয়ার পর এবার ৫০০ মেট্রিক টনের বিশাল লঞ্চার মেশিন ধাপে ধাপে ৩২৯ নম্বর পিলারের দিকে এগোবে। সেখানেই নিক্কো পার্ক সংলগ্ন গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে ভায়াডাক্টের সংযোগ ঘটানো হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, এই সংযোগ সম্পূর্ণ হলে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ট্রায়াল এবং পরবর্তী পরিষেবা চালুর কাজ দ্রুত এগোবে।

    তৈরি হচ্ছে নতুন ৬০ মিটার রাস্তা

    ভবিষ্যতের কাজ সহজ করতে চিংড়িঘাটা সংলগ্ন সল্টলেক বাইপাসের ধারের খালের পাশে নতুন ৬০ মিটার রাস্তা তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ এবং আরভিএনএল যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেছে। এই রাস্তা তৈরি হলে ভবিষ্যতের ট্র্যাফিক ডাইভারশন এবং মেট্রো নির্মাণের কাজ আরও সহজ হবে।

    কবে চালু হতে পারে পরিষেবা?

    মেট্রো সূত্রের দাবি, সব কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষের দিকেই নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের পরিষেবা চালু হতে পারে। যদিও পুরো নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট করিডর চালু হতে ২০২৭ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অরেঞ্জ লাইন সম্পূর্ণ চালু হলে কলকাতার পূর্বাংশে যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ইএম বাইপাস এবং ভিআইপি রোডের উপর চাপ কমবে, পাশাপাশি সেক্টর ফাইভ ও বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের জন্য এটি হবে অন্যতম দ্রুততম গণপরিবহণ ব্যবস্থা।

  • NJP Varanasi Bullet Train: মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে বারাণসী, এনজেপি থেকে বারাণসী বুলেট ট্রেন! উত্তরবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মেগা চমক

    NJP Varanasi Bullet Train: মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে বারাণসী, এনজেপি থেকে বারাণসী বুলেট ট্রেন! উত্তরবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মেগা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উচ্চগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক বড় অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দেশের বুলেট ট্রেন মানচিত্রে এবার জুড়তে চলেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ির নাম। নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পর্যন্ত একটি অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেন করিডর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী জুলাই মাস থেকেই এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হতে পারে।

    ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসতেই রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আবহে এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রেল সূত্রের দাবি, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই প্রকল্পের ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ (ডিপিআর) তৈরি হয়ে যাবে। এরপর তা রেল বোর্ডে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। বোর্ডের সবুজ সঙ্কেত মিললেই শুরু হবে করিডর নির্মাণের কাজ।

    জুলাই থেকেই শুরু হতে পারে সমীক্ষা

    সূত্রের খবর, ‘ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ (NHSRCL)-এর তরফে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ সমীক্ষক দল গঠন করা হয়েছে। এই দল আকাশপথ ও স্থলপথে সম্ভাব্য করিডর চিহ্নিত করার কাজ করবে।

    সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হবে—

    • ● চূড়ান্ত রুট নির্ধারণ
    • ● সম্ভাব্য স্টেশন চিহ্নিতকরণ
    • ● জমি ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমীক্ষা
    • ● প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন

    রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বুলেট ট্রেন চালু হলে বারাণসী থেকে পাটনা হয়ে এনজেপি পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। বর্তমানে একই যাত্রাপথ অতিক্রম করতে ট্রেনে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। এই করিডর পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যকে উচ্চগতির রেল যোগাযোগে যুক্ত করবে।

    জাপানের ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তিতে তৈরি হবে পরিষেবা

    ভারতে প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেই প্রকল্পের আদলেই শিলিগুড়ি-বারাণসী করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রেলের দাবি, এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে জাপানের অত্যাধুনিক ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তি। ট্রেনের নকশা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, নিরাপত্তা মানদণ্ড—সব ক্ষেত্রেই জাপানি প্রযুক্তির ছাপ থাকবে। মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেনের মতোই এই করিডরেও ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন ছুটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

    প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই আশাবাদী উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী ও পর্যটন মহল। তাঁদের মতে, বুলেট ট্রেন চালু হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, পর্যটন এবং বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। বর্তমানে উত্তর ভারতের পর্যটকদের ডুয়ার্স, দার্জিলিং বা কালিম্পং পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগে। বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু হলে বারাণসী ও উত্তর ভারতের অন্যান্য শহর থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিলিগুড়ি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে।

    এর ফলে—

    • ● ডুয়ার্স ও পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে
    • ● হোটেল ও পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়তে পারে
    • ● পরিবহণ ও লজিস্টিক খাতে উন্নতি হতে পারে
    • ● স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে

    শিলিগুড়ির তিন দিকে তিন আন্তর্জাতিক সীমান্ত!

    শিলিগুড়ি, যা ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের উপর অবস্থিত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত সড়ক ও রেলপথ এই সরু ভূখণ্ডের উপর দিয়েই গিয়েছে। তাই একে বলা হয়ে থাকে, ‘উত্তরপূর্বের দুয়ার’। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন বিদেশসচিব ও বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা শিলিগুড়ি অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র সংসদীয় কেন্দ্র, যার সঙ্গে তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত যুক্ত রয়েছে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমে নেপাল, পূর্বে ভুটান এবং দক্ষিণে বাংলাদেশ রয়েছে। আর একটু উত্তরে গেলেই চিন সীমান্তও এসে যায়।”

    এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দোরগোড়ায় উত্তরবঙ্গ

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই হাই-স্পিড রেল করিডর ভবিষ্যতে অসমের রাজধানী গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের ‘অষ্টলক্ষ্মী’ রাজ্যগুলির সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি বুলেট ট্রেনে মানুষ অতি কম সময়ে বারাণসী পৌঁছে যেতে পারবেন। উত্তরবঙ্গ এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ শিলিগুড়িকে শুধুমাত্র একটি ট্রানজিট শহর হিসেবে নয়, বরং পূর্ব ভারতের একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে।

    বাগডোগরা বিমানবন্দর ও এনজেপি স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ

    এলাকায় আরও একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে। বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনের ব্যাপক আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাগডোগরা বিমানবন্দরের নতুন সিভিল এনক্লেভ নির্মাণে প্রায় ১,৫৪৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সেখানে ৭০,৩৯০ বর্গমিটারের অত্যাধুনিক টার্মিনাল তৈরি হবে, যা একসঙ্গে ৩,০০০ জন পিক আওয়ার যাত্রী সামলাতে পারবে এবং বছরে প্রায় ১ কোটি যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এই প্রকল্পের আওতায় এ-৩২১ ধরনের বিমানের জন্য ১০টি পার্কিং বে-সহ নতুন অ্যাপ্রন, দুটি লিঙ্ক ট্যাক্সিওয়ে এবং মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং সুবিধাও তৈরি করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ২০২৭ সালের মধ্যে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে বাগডোগরা একটি অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Kolkata Airport: রাজ্যে পালাবদল হতেই সরতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা মসজিদ?  প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু

    Kolkata Airport: রাজ্যে পালাবদল হতেই সরতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা মসজিদ? প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের জোরদার হল কলকাতা বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ের পাশে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরিপুর জামে মসজিদ বা ‘বাঁকড়া মসজিদ’ সরানোর উদ্যোগ। প্রায় তিন দশক ধরে বিতর্কে থাকা এই মসজিদকে ঘিরে এবার প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেল। মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা মসজিদ পরিদর্শন করেন। পরদিন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দফতরে বৈঠকে বসেন প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা।

    বিমানবন্দর সূত্রে খবর, বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা, উড়ান পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের স্বার্থেই মসজিদ স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে মসজিদ কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি শুধুমাত্র স্থানীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। তারা এই বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এবং জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের মতো সংগঠনের মতামতের উপর নির্ভর করতে চায়। কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিক্রম সিং বলেন, “বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা তৈরি করছে। উড়ান পরিচালনায় একাধিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বুধবারও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।”

    রানওয়ের একেবারে কাছে মসজিদ

    ১৩৬ বছরের পুরনো এই মসজিদটি এখন বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকার গভীরে অবস্থিত। সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৬৫ মিটার। অথচ আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, রানওয়ের কাছাকাছি স্থায়ী নির্মাণের ন্যূনতম দূরত্ব হওয়া উচিত ২৪০ মিটার। মসজিদটি বিমানবন্দরের বাউন্ডারি ওয়ালেরও প্রায় ১৫০ মিটার ভিতরে অবস্থিত।

    বিমানবন্দর আধিকারিকদের দাবি, মসজিদের কারণে সেকেন্ডারি রানওয়ের টাচডাউন পয়েন্ট ৮৮ মিটার দক্ষিণে সরিয়ে দিতে হয়েছে। এর ফলে রানওয়ের কার্যকর দৈর্ঘ্য কমে গিয়ে বর্তমানে তা মূলত এয়ারবাস এ৩২০ বা বোয়িং ৭৩৭-এর মতো ন্যারো-বডি বিমান পরিচালনার উপযোগী থাকলেও বোয়িং ৭৮৭ বা এয়ারবাস এ৩৩০-এর মতো ওয়াইড-বডি বিমান ওঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। এক আধিকারিকের কথায়, “জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রেও এটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।”

    শীতকালে বাড়ছে সমস্যা

    বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, কলকাতার ৩,৬৩৩ মিটার দীর্ঘ প্রধান রানওয়েতে অত্যাধুনিক ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) রয়েছে, যার ফলে ঘন কুয়াশাতেও বিমান ওঠানামা সম্ভব হয়। কিন্তু সেকেন্ডারি রানওয়েতে সেই ব্যবস্থা বসানো যাচ্ছে না মূলত মসজিদের অবস্থানের কারণে। ফলে শীতকালে যখন মূল রানওয়ে ব্যবহারযোগ্য থাকে না, তখন বিমান পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।

    আগে কেন হয়নি সমাধান?

    এই মসজিদ সরানোর চেষ্টা নতুন নয়। অতীতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও রাজ্যের তৎকালীন সরকারগুলি— জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)— বিষয়টি এগোতে দেয়নি বলে বিমানবন্দর সূত্রের দাবি। এখন কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় প্রশাসনের একাংশ আশাবাদী যে এবার সমাধানের রাস্তা খুলতে পারে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকার ভিতরে মসজিদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং স্থানান্তরের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

    কী বলছে মসজিদ কমিটি?

    মসজিদ কমিটির সদস্য আবুল কালাম জানিয়েছেন, “শুধুমাত্র বাঁকড়ার স্থানীয় মানুষজন এখানে নামাজ পড়তে আসেন। বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আমরা সবসময় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি। তল্লাশি, পরিচয়পত্র দেখানো— সব নিয়ম মেনেই চলি। কিন্তু মসজিদ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।” বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ১০ থেকে ২৫ জন পর্যন্ত ভক্ত আসেন। শুক্রবার জুমার নামাজে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮০ হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএসএফ যশোর রোডের গেট থেকে তাঁদের তল্লাশি করে বাসে করে মসজিদে নিয়ে যায় এবং পরে ফেরত পাঠায়।

    ধর্মীয় আবেগ বনাম বিমান নিরাপত্তা

    এই বিতর্কে একদিকে যেমন রয়েছে বহু পুরনো ধর্মীয় স্থাপনার আবেগ, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রশ্ন। প্রশাসন এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খুঁজতে চাইছে। তবে মুসলিম সংগঠনগুলির অবস্থান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • BSF Women Expedition Team: এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’! ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুনমুন সহ বিএসএফ-এর ৪ মহিলা জওয়ান

    BSF Women Expedition Team: এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’! ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুনমুন সহ বিএসএফ-এর ৪ মহিলা জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়লেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর (Border Security Force) চার মহিলা কনস্টেবল। বিএসএফ এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘মিশন বন্দে মাতরম’। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ইতিহাসে এটিই বিএসএফ-এর প্রথম সর্ব-মহিলা এভারেস্ট অভিযান। দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই বিএসএফ-এর এই কৃতিত্ব নিয়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। বলা হচ্ছে, এই সাফল্য শুধু পর্বতারোহণ নয়, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও সক্ষমতারও প্রতীক।

    চার সাহসিনী কারা?

    এই চার সাহসী আরোহী হলেন লাদাখের কাউসার ফাতিমা, পশ্চিমবঙ্গের মুনমুন ঘোষ, উত্তরাখণ্ডের রেবেকা সিং এবং কার্গিলের সেরিং চোরোল। গত ৬ এপ্রিল নয়াদিল্লি থেকে বিএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমার অভিযানের সূচনা করেছিলেন। বিএসএফ-এর ডায়মন্ড জুবিলি বর্ষ এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই এই বিশেষ অভিযান সংগঠিত হয়। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছে ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গেয়ে নজির সৃষ্টি করেন তাঁরা।

    এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’

    বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শৃঙ্গে পৌঁছনোর পর চার মহিলা কনস্টেবল একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গেয়ে ওঠেন। এত উচ্চতায় দাঁড়িয়ে এই প্রথমবার জাতীয় গান পরিবেশিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প থেকে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে দলের সঙ্গে কথা বলেন বিএসএফ ডিজি প্রবীণ কুমার। তিনি অভিযাত্রীদের অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের এই সাফল্যকে গোটা দেশের গর্ব বলে উল্লেখ করেন।

    অমিত শাহের অভিনন্দনবার্তা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বিএসএফ-এর সর্ব-মহিলা দলের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “নারীশক্তি বিএসএফ-এর অদম্য ক্ষমতার প্রমাণ দিল। বাহিনীর ডায়মন্ড জুবিলি উপলক্ষে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে এবং আকাশে বন্দে মাতরম ধ্বনি তুলে তাঁরা সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মনিবেদনের এক বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছেন।” এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, বিএসএফ অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ।

    বাংলার মুনমুন ঘোষের এভারেস্ট-জয়

    চারজনই দেশের চার ভিন্ন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন। কাউসার ফাতিমা এবং সেরিং চোরোল উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই কম অক্সিজেনের পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম। হিমালয় অভিযানে এই অভিজ্ঞতা বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুনমুন ঘোষ এবং উত্তরাখণ্ডের রেবেকা সিং বিএসএফ-এর সর্বভারতীয় নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চারজনই কনস্টেবল পদমর্যাদার জওয়ান। ভারতীয় সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীতে উচ্চতর পর্বতারোহণ অভিযানে সাধারণত উচ্চপদস্থ বা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরই দেখা যায়। সেই জায়গায় কনস্টেবল পদে থাকা মহিলা জওয়ানদের এই সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএসএফ-এর পর্বতারোহণ ইতিহাস

    বিএসএফ-এর দীর্ঘদিনের পর্বতারোহণ ঐতিহ্য রয়েছে। বাহিনীটি ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গ জয় করেছে। এর আগে ২০০৬ এবং ২০১৮ সালে বিএসএফ-এর পুরুষ সদস্যদের দল সফলভাবে এভারেস্ট অভিযান সম্পন্ন করেছিল। ভারতীয় মহিলা পর্বতারোহণের ইতিহাসে প্রথম বড় মাইলফলক আসে ১৯৮৪ সালে, যখন বচেন্দ্রী পাল প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। পরে ১৯৯২ সালে সাত ভারতীয় মহিলার একটি দল একসঙ্গে এভারেস্টে ওঠেন। ২০১৩ সালে ৪৮ বছর বয়সে প্রেমলতা আগরওয়ালও এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়েছিলেন। বিএসএফ-এর এই নতুন সাফল্য সেই দীর্ঘ সংগ্রামী ঐতিহ্যেরই নতুন অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে।

    ২০২৬ মরশুমে এভারেস্টে ভিড়

    এ বছর নেপালের দিক থেকে এভারেস্ট অভিযানে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নেপাল সরকার রেকর্ড সংখ্যক ক্লাইম্বিং পারমিট ইস্যু করেছে। ফলে ২০২৬ সালের মরশুমকে এভারেস্ট ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ত মরশুম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এবার লক্ষ্য লোৎসে

    মহিলা দলের এভারেস্ট জয়ের পর এবার বিএসএফ-এর একটি সর্ব-পুরুষ দল বিশ্বের চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে (৮,৫১৬ মিটার) জয়ের চেষ্টা করবে। এভারেস্ট এবং লোৎসের রুট অনেকটাই এক হলেও ক্যাম্প ৩-এর পর পথ আলাদা হয়ে যায়। লোৎসে ফেস পেরিয়ে আলাদা কুলোয়ার ধরে শৃঙ্গে পৌঁছতে হয়।

  • Marco Rubio India Visit: কলকাতা থেকেই শুরু মার্কো রুবিওর ভারত সফর, মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক জল্পনা

    Marco Rubio India Visit: কলকাতা থেকেই শুরু মার্কো রুবিওর ভারত সফর, মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio) শনিবার কলকাতায় পৌঁছলেন। ভারত সফরের প্রথম দিনেই তাঁর কলকাতায় আগমনকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আগামী চারদিনের এই সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলা এই সফরকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোয়াড (Quad) জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর।

    ১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিব

    কলকাতায় কোনও মার্কিন বিদেশ সচিবের সফর শেষবার হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিন্টন শহরে এসেছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর ফের কলকাতায় সেই পর্যায়ের সফর হওয়ায় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক মহলে তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor) সামাজিক মাধ্যমে জানান, কলকাতা সফরের পরই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রুবিও। তিনি লেখেন, “বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগামী কয়েকদিনে আলোচনা ও অগ্রগতি হবে।”

    মাদার হাউস সফরের সম্ভাবনা

    কলকাতা দিয়ে চার দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন রুবিয়ো। তবে, শহরে তিনি কয়েক ঘণ্টাই কাটাবেন। মার্কিন বিদেশ দফতর রুবিওর ভারত সফরের বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সোজা গিয়েছেন তালতলার মাদার হাউসে। এটি হল মাদার টেরেসা (Mother Teresa) প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতর। মাদার হাউস পরিদর্শনের পর তিনি মিশনারিজ অফ চ্যারিটি পরিচালিত কলকাতার একটি চিলড্রেনস হোমে যাবেন। সেখান থেকে দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিয়ো। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত তাঁর ভারত সফর চলবে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির পাশাপাশি আগরা ও জয়পুর সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    দিল্লিতে মোদি-রুবিও বৈঠক

    দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রুবিওর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেই জোর দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়, সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলি আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক দ্রুত গভীর হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী ভূমিকাকে মাথায় রেখে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে দুই দেশই।

    জ্বালানি সহযোগিতায় বড় বার্তা

    ভারত সফরে রওনা হওয়ার আগে মায়ামিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিও বলেন, “ভারত যতটা জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমরা ততটাই বিক্রি করতে চাই।” তিনি জানান, বর্তমানে আমেরিকার জ্বালানি উৎপাদন ও রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে এবং ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদার হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। স্ট্রেট অফ হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রুবিও ভারতকে “দারুণ অংশীদার” বলে উল্লেখ করেন।

    কোয়াড বৈঠকে নজর

    ২৬ মে নির্ধারিত কোয়াড বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির। এই বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রুবিওর ভারত সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত সমীকরণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

LinkedIn
Share