Author: Susanta Das

  • S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতকে প্রশ্ন করতে গিয়ে ওই সাংবাদিক পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন, সরাসরি জবাব জয়শঙ্করের

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের হাই-লেভেল উইকের জন্য বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন জয়শঙ্কর। শুক্রবার লাইবেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী সারা বেইসোলো নাইয়ান্তির সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকটির মূল বিষয় ছিল ‘গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস অন সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অফ শিপিং অ্যান্ড সিফ্যারার্স’। বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগে এটিকে মূলত ‘শুধুমাত্র বক্তব্যের বিবরণী’ হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিক বৈঠকের শেষদিকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি জানতে চান, “আপনাদের সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করবে?” এর পরেই প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    নির্মম সত্যের মুখোমুখি পাক সাংবাদিক!

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ—নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান ফের স্পষ্ট হয়ে যায়। পরে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতানেনি ওই পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেন, “আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর শুনেছেন। খুব স্পষ্টভাবেই আপনার জবাব পেয়ে গিয়েছেন।” আসলে, গতকাল ভারতীয় সংবাদসংস্থার এক সাংবাদিক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে প্রশ্ন করেছিলেন, “লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে মামলা চালাবেন?” শাহবাজের কাছে এর কোনও জবাব ছিল না, তিনি সেখান থেকে চলে যান। আজ ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু জয়শঙ্করের কাছ থেকে নির্মম সত্যের মুখোমুখি হন তিনি।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান কী?

    সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে বিশ্বাসযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। একইসঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ, পরিকাঠামো বা অন্য কোনও ধরনের সহায়তা বন্ধ করার জন্যও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    পহেলগাঁও হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা। ওই হামলায় ২৬ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হন।

    এর পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালায়। ভারতীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের পরিকাঠামো, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক পরিকাঠামো নয়।

    নয়াদিল্লি আরও দাবি করেছে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অধিকারের প্রয়োগ। এই হামলা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চেও উঠে এসেছে।

    ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নিয়ে ভারতের দাবি

    পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ-এর যোগ থাকার দাবি করেছে ভারত। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই টিআরএফ-কে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

    ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আমেরিকা টিআরএফ-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির একটি রিপোর্টেও টিআরএফ এবং পহেলগাঁও হামলার মধ্যে যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার জন্যও ভারত নিয়মিত ভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উদ্যোগ নিয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নিয়েও পাকিস্তানকে ঘিরে চাপ

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থের উৎস বন্ধ করাও ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন রোধের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি।

    ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর নজরদারিও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং অর্থপাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না করার কারণে পাকিস্তান একাধিকবার এফএটিএফ-এর ‘গ্রে লিস্টে’ ছিল। সর্বশেষ পর্যায়ে ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান বর্ধিত নজরদারির আওতায় ছিল।

    এই সময় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন চিহ্নিত ও বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পৌঁছনোর পথ আটকানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ করতে হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য ছিল, এফএটিএফ-এর নজরদারির ফলে পাকিস্তানকে একাধিক জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামও ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলেছে।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের সরব জয়শঙ্কর

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদ-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক টানাপড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বারবার নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেছে, সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে স্বাভাবিক করে তোলা উচিত নয়।

    নিউইয়র্ক সফরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বৈঠকও করছেন জয়শঙ্কর। শনিবার সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁর শুক্রবারের মন্তব্য তাই শুধুমাত্র একটি সাংবাদিক বৈঠকের তাৎক্ষণিক উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠনগুলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান—সবকটি বিষয়ই এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে।

  • Rabies Vaccine: প্রাণীর কামড়ে রেবিস টিকা পেতে আর ঘুরতে হবে না, ৪ মডেল কেন্দ্র তৈরির পথে রাজ্য

    Rabies Vaccine: প্রাণীর কামড়ে রেবিস টিকা পেতে আর ঘুরতে হবে না, ৪ মডেল কেন্দ্র তৈরির পথে রাজ্য

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাড়ির পোষ্য হোক কিংবা পথ চলতে গিয়ে, কখনও আবার হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা—বিভিন্ন প্রাণীর কামড় বা আঁচড় মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। জ্বর, মাথাব্যথা, কামড়ের জায়গায় জ্বালা বা অস্বস্তি প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। পরবর্তী সময়ে জল বা খাবার গিলতে সমস্যা, হাত-পায়ে খিঁচুনি, এমনকি বারবার অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    এই ধরনের বিপদ এড়াতে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পরে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেবিস টিকাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজ্যের বহু জায়গায় পর্যাপ্ত রেবিস টিকার জোগান না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সরকারি হাসপাতালে ঘুরতে হয়। ফলে টিকাকরণের উপযুক্ত সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    এই হয়রানি কমাতেই রাজ্য সরকার রেবিস ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করার দিকে বাড়তি নজর দিতে চাইছে। পাশাপাশি রাজ্যে চারটি পৃথক রেবিস টিকাকরণের মডেল কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্দেশ্য, জেলা থেকে শহর—সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে যাতে প্রয়োজনমতো রেবিস টিকাকরণের ব্যবস্থা থাকে এবং রোগীদের অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়।

    কেন মডেল টিকাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা?

    চিকিৎসকদের মতে, রেবিস ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের পরে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাকরণ না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশের দাবি, রাজ্যের একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনেক সময় রেবিস ভ্যাকসিনের জোগান ঠিকমতো থাকে না। আবার কোথাও ভ্যাকসিন থাকলেও টিকাকরণের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। এর জেরেই সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।

    এই পরিস্থিতি বদলাতেই চারটি মডেল রেবিস টিকাকরণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি থেকে রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকার জোগান রয়েছে কি না, তা নজরদারি করা হবে। কোথাও কর্মীর ঘাটতি থাকলে তা সমাধানেরও চেষ্টা করা হবে।

    রেবিসের টিকাকরণ একাধিক ডোজে সম্পূর্ণ করতে হয়। তাই কোনও রোগী নিয়ম মেনে টিকাকরণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন কি না, সেদিকেও নজর রাখা হবে। সামগ্রিকভাবে জলাতঙ্কে মৃত্যুর হার কমাতেই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    শুধু কুকুর নয়, কোন কোন প্রাণীর কামড়ে প্রয়োজন রেবিস টিকা?

    রেবিসের ক্ষেত্রে শুধু কুকুরের কামড়কেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয় না। বাঁদর বা হনুমানের কামড় কিংবা আঁচড় থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    বাদুড়ের সংস্পর্শের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদুড়ের কামড় বা আঁচড় অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। এমনকি ঘুমন্ত অবস্থাতেও কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    গ্রামাঞ্চলে শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ের ঘটনাও ঘটে। এমন ক্ষেত্রেও রেবিস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী টিকাকরণ করতে হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালার সংস্পর্শে এলে রেবিস ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই কুকুর, বেড়াল, হনুমান, বাঁদর, বাদুড়, শিয়াল-সহ কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া প্রয়োজন।

    কেন রেবিস টিকাকরণে বাড়তি গুরুত্ব?

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৯৫ লক্ষ মানুষ প্রাণীর কামড়ের শিকার হন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশই কুকুরের কামড়ের ঘটনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ রেবিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

    চিকিৎসকদের মতে, রেবিসের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পরে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই সংক্রমণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় টিকাকরণ অত্যন্ত জরুরি।

    একই সঙ্গে রেবিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন। কোনও প্রাণীকে বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হলেও তার মধ্যে রেবিস ভাইরাস থাকতে পারে। তাই কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে হালকা ভাবে না নিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কামড়ের জায়গায় কী করবেন?

    প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পরে ক্ষতস্থানে হলুদ, মাটি বা অন্য কোনও পদার্থ লাগানো উচিত নয়। বরং দ্রুত ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেবিস টিকাকরণই এই প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে ফের ভোটের প্রস্তুতি। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম-সহ মোট সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে বলে প্রশাসনিক ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত ভোটের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নভেম্বরের ২৭ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফলপ্রকাশের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

    কোন সাত পুরসভায় ভোট?

    প্রথম দফায় কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা। এই সাতটি পুর এলাকায় প্রায় ৬,৩০০-৬,৪০০ বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের সাম্প্রতিক পরিকল্পনায় ৬,৩০১টি বুথের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। এরপর নভেম্বরের ২৭, ২৮ অথবা ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটের ফল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    জেলাশাসকদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক

    ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। ভোটকেন্দ্র, ভোটকর্মী, ইভিএম, ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কমিশনের প্রস্তুতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ভোটকর্মী বাছাই ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়াও এগোনোর কথা জানানো হয়েছে। সাতটি পুর এলাকায় কয়েক হাজার ভোটকর্মীর প্রয়োজন হবে। সামগ্রিকভাবে ভোট পরিচালনার জন্য বুথভিত্তিক কর্মী নিয়োগ, তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলিও এখন কমিশনের অগ্রাধিকারে।

    রাজ্যে এল ২১ হাজারের বেশি ইভিএম

    পুরভোটের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছেছে ২১ হাজারের বেশি ইভিএম। প্রথম দফায় ২১,১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯,৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    এই ইভিএমের একটি অংশ নভেম্বরের সাত পুরসভার নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। বাকি ইভিএম পরবর্তী ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাতটি পুর এলাকার জন্য প্রায় ৬,৪০০ ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।

    হাওড়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভোট

    এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরে রয়েছে হাওড়া পুরনিগম। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। ২০১৩ সালে শেষবার পুরভোট হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পুর পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    কলকাতা পুরনিগমের ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটের আগে এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ আপত্তি জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কমিশনের বৈঠকে সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।

    ভোটার তালিকা নিয়েও নজর

    এবারের পুরভোটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটার তালিকাকেই ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত ভোটার তালিকাই পুরভোটের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে; মূল পরিবর্তন হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বুথ বিন্যাসে।

    এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ঘিরে যেহেতু একাধিক আবেদন ও আপত্তি এখনও প্রক্রিয়াধীন, তাই পুরভোটের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলির দিকে নজর রাখছে কমিশন। কলকাতা পুর এলাকার এসআইআর-সংক্রান্ত বহু আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হীত

    ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত না হলেও রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের বক্তব্য আগেই জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে নির্বাচন করার বিষয়েও দলের অবস্থান থাকবে বলে জানান বৈশ্বানর।

    বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিত সরকার জানান, তাঁদের দল সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। পুরভোটকে রাজ্যের নগর প্রশাসন ও উন্নয়নের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের কাছে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

    তবে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতির মধ্যেই এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই ভোটের দিন, মনোনয়ন, প্রচার, ভোটগ্রহণ ও গণনার চূড়ান্ত সময়সূচি স্পষ্ট হবে।

    সব মিলিয়ে, পুজোর পরেই রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হতে চলেছে। কলকাতা, হাওড়া-সহ সাত পুর এলাকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করানোর লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যে ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে, ইভিএম পাঠানো থেকে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক—একাধিক পদক্ষেপেই তার ইঙ্গিত মিলছে।

  • Bank Strike: ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর টানা ৩ দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, গ্রাহকদের সুবিধার্থে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

    Bank Strike: ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর টানা ৩ দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, গ্রাহকদের সুবিধার্থে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতি। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তাহান্তের ছুটির পরই ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (UFBU)। তার সঙ্গে মাসের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের পরিষেবায় যাতে বড় ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য আগাম একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    ২৫ সেপ্টেম্বরেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন-পেনশন

    ধর্মঘট ও পরপর ছুটির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সেপ্টেম্বর মাসের বেতন, মজুরি ও পেনশন আগেভাগে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কন্ট্রোলার জেনারেল অফ অ্যাকাউন্টসের জারি করা অফিস মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী, শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সেপ্টেম্বরের বেতন ও মজুরি দেওয়া যাবে।

    এই সুবিধার আওতায় থাকবেন প্রতিরক্ষা, ডাক এবং টেলিকম দফতরের কর্মীরাও। একই দিনে কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগীদের সেপ্টেম্বরের পেনশনও দেওয়া যেতে পারে। পরে পুরো মাসের প্রাপ্য অর্থের সঙ্গে কোনও সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা অক্টোবর ২০২৬-এর পেমেন্টে করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার দফতরগুলিকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যে সমস্ত পেমেন্ট ও ব্যাঙ্কিং লেনদেন হওয়ার কথা, সম্ভব হলে সেগুলিও আগেভাগে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।

    ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবারও খুলবে ব্যাঙ্ক

    ধর্মঘট শুরুর আগে গ্রাহকদের জন্য আরও একটি সুযোগ তৈরি করতে রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর সব ব্যাঙ্ক, এমনকী রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক (RRB)-গুলিকেও শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক শাখা, এটিএম-সংযুক্ত শাখা, অফিস এবং কারেন্সি চেস্টগুলির পূর্ণাঙ্গ কাজকর্মের অনুমোদন দিয়েছে। কারণ, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তাহান্তের ছুটি এবং তার পরেই ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ধর্মঘট। ফলে ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় শাখাভিত্তিক লেনদেন সেরে নেওয়ার অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হবে।

    কেন ধর্মঘট?

    ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (UFBU) ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাঙ্ককর্মীর প্রতিনিধিত্ব করে। ধর্মঘটের অন্যতম দাবির মধ্যে রয়েছে পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা এবং ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে অভিন্ন পেনশন ব্যবস্থা কার্যকর করা।

    গ্রাহকদের কী করা উচিত?

    ব্যাঙ্কগুলি ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেভাগে সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। জরুরি কাজ থাকলে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন করে নেওয়া যেতে পারে।

    ধর্মঘট চলাকালীন গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, ইউপিআই, এটিএম এবং বিজনেস করেসপন্ডেন্ট (BC) পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যাঙ্কগুলিকে ধর্মঘটের সময় এটিএম-গুলিতে পর্যাপ্ত নগদের ব্যবস্থা রাখতেও বলা হয়েছে।

    অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং টানা তিন দিনের ধর্মঘট মিলিয়ে ব্যাঙ্ক পরিষেবায় টানা কয়েকদিন চাপ তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার ব্যাঙ্ক খোলা থাকা এবং ২৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন-পেনশন দেওয়া—দুই পদক্ষেপই গ্রাহক ও সরকারি কর্মীদের জন্য আগাম প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করবে।

  • Project 75I: ভারতের সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি সই করতে প্রস্তুত, বড় দাবি জার্মানির, ৮০ হাজার কোটি টাকার অঙ্কই নেপথ্য কারণ!

    Project 75I: ভারতের সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি সই করতে প্রস্তুত, বড় দাবি জার্মানির, ৮০ হাজার কোটি টাকার অঙ্কই নেপথ্য কারণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বড়সড় অগ্রগতির ইঙ্গিত। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি) মূল্যের ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত বার্লিন। জার্মান রাষ্ট্রদূত জ্যাসপার ভিক জানিয়েছেন, চুক্তির নথিপত্র জার্মানির তরফে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা।

    প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি ভারতের প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর আওতায়। জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL) যৌথভাবে ভারতে ছয়টি সাবমেরিন তৈরি করবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি শুধু বিদেশ থেকে তৈরি সাবমেরিন কেনার চুক্তি নয়। ভারতে উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরই এই অংশীদারিত্বের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

    সইয়ের জন্য প্রস্তুত জার্মানি, অপেক্ষা ভারতের অনুমোদনের

    ২৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জার্মান রাষ্ট্রদূত জ্যাসপার ভিক জানান, জার্মানির দিক থেকে চুক্তির নথি চূড়ান্ত। ভারতের তরফে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব। তিনি জানান, জার্মানি “যে কোনও মুহূর্তে” চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত।

    অর্থাৎ, এই মুহূর্তে মূল বিষয় চুক্তির জার্মান অংশের প্রস্তুতি নয়, বরং ভারতের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পূর্ণ করা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার, যদিও চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য ভারতের অনুমোদন ও চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।

    ছয় সাবমেরিন তৈরি হবে ভারতেই

    প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর আওতায় ছয়টি পরবর্তী প্রজন্মের প্রচলিত সাবমেরিন তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলিতে থাকবে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় দীর্ঘ সময় জলের নীচে অবস্থান করা সম্ভব হয়, কারণ বারবার বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের জন্য ভেসে ওঠার প্রয়োজন কমে যায়।

    প্রকল্পটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সাবমেরিনগুলির নির্মাণ ভারতে করার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব সাবমেরিন উৎপাদন পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা। ২০২৫ সালেই থাইসেনক্রুপ এবং মাঝগাঁও এই প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি আলোচনায় প্রবেশ করেছিল।

    শুধু সাবমেরিন নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরই বড় বিষয়

    জার্মান রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘রিয়েল পার্টনারশিপ’ বা প্রকৃত অংশীদারিত্বের কথা। অর্থাৎ, থাইসেনক্রুপ শুধু তৈরি সাবমেরিন ভারতে সরবরাহ করবে না; ভারতীয় শিল্প সংস্থার সঙ্গে মিলে দেশেই উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

    এর প্রভাব একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সাবমেরিন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, সেন্সর, যুদ্ধব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেনের একাধিক ভারতীয় সংস্থা এই সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। থাইসেনক্রুপও জানিয়েছে, মাঝগাঁও-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ভারতের দেশীয় সাবমেরিন নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত।

    জার্মানির প্রতিরক্ষা রফতানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    এই সাবমেরিন চুক্তির তাৎপর্য শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জার্মানির ভারতের প্রতি প্রতিরক্ষা রফতানি নীতির পরিবর্তনও।

    জ্যাসপার ভিক জানিয়েছেন, ভারতকে ঘিরে জার্মানির প্রতিরক্ষা রফতানি নীতিতে কার্যত “১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন” এসেছে। ভারতের জন্য লাইসেন্স দেওয়া এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বার্লিন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুত বলে তিনি জানিয়েছেন। জার্মানির দৃষ্টিতে ভারত একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

    ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুদ্ধে ড্রোন ও অন্যান্য মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব—এই পরিবর্তনের পটভূমিতে রয়েছে বলে জার্মান পক্ষের বক্তব্য।

    কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    ভারতের জন্য এই প্রকল্পের গুরুত্ব কয়েকটি স্তরে দেখা যায়।

    • প্রথমত, সাবমেরিন বহর আধুনিকীকরণ। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য প্রচলিত সাবমেরিনের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো দীর্ঘদিনের প্রয়োজন। প্রজেক্ট-৭৫(আই) সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
    • দ্বিতীয়ত, দেশে সাবমেরিন তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি। বিদেশি প্রযুক্তি ও ভারতীয় উৎপাদন পরিকাঠামোর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্পের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
    • তৃতীয়ত, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বৈচিত্র্য। রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নয়াদিল্লি একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। জার্মানির সঙ্গে গভীরতর অংশীদারিত্ব সেই বৈচিত্র্যকেই আরও বিস্তৃত করবে।
    • চতুর্থত, ইউরোপীয় প্রযুক্তির সঙ্গে বৃহত্তর সংযোগ। জার্মানির সঙ্গে সাবমেরিন প্রকল্প সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর বাইরেও অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    সাবমেরিনের বাইরে ড্রোন, সাইবার, ক্ষেপণাস্ত্রেও সহযোগিতা?

    জার্মান রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র শুধু সাবমেরিনে সীমাবদ্ধ নয়। মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং সেন্সর—এই ক্ষেত্রগুলিতেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

    এর ফলে সাবমেরিন চুক্তিকে একটি পৃথক প্রতিরক্ষা ক্রয়চুক্তি হিসেবে না দেখে ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা যায়। ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে জার্মান সংস্থাগুলির যৌথ কাজ বাড়লে ভবিষ্যতে সহ-উৎপাদন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিকেও বাড়ছে ভারত-জার্মানি যোগাযোগ

    সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত ও জার্মানির যোগাযোগ বাড়ছে। দুই দেশের বাহিনী বিভিন্ন আকাশ ও সামুদ্রিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি জার্মানি নয়াদিল্লির ইন্দো-প্যাসিফিক ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারে একজন লিয়াজোঁ অফিসার মোতায়েন করেছে। এর লক্ষ্য ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদানপ্রদান ও মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস বাড়ানো।

    এছাড়া চলতি বছর দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোডম্যাপের মাধ্যমে সহযোগিতার কাঠামো এগিয়ে নিয়েছে। ফলে প্রজেক্ট-৭৫(আই)-কে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বৃহত্তর শিল্পভিত্তিক পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    অতীতেও জার্মান প্রযুক্তির সাবমেরিন ভারতে এসেছে

    ভারত-জার্মানি সাবমেরিন সহযোগিতা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ভারতের মাজাগন ডক ১৯৮০-র দশকে জার্মান ডিজাইনের টাইপ-২০৯ শ্রেণির সাবমেরিন নির্মাণ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভারতের সাবমেরিন নির্মাণ পরিকাঠামোর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

    তবে প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর পরিসর অনেক বড়। এবার লক্ষ্য শুধু সাবমেরিন তৈরি নয়, উন্নত প্রযুক্তি, দেশীয় উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সক্ষমতাকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।

    বদলাচ্ছে ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সমীকরণ

    সব মিলিয়ে, প্রজেক্ট-৭৫(আই) ভারতের জন্য ছয়টি নতুন সাবমেরিন পাওয়ার প্রকল্পের চেয়েও বেশি কিছু। একদিকে এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রচলিত সাবমেরিন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তি আনার সুযোগ তৈরি করছে।

    জার্মানির দিক থেকেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে দেখার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আর ভারতের জন্য জার্মানি হয়ে উঠছে উন্নত ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

    তবে এখনই চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে বলা যাচ্ছে না। জার্মানি সইয়ের জন্য প্রস্তুত হলেও ভারতের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ অনুমোদন এখনও বাকি। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রজেক্ট-৭৫(আই) আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

  • KAL Attack Drone: পোখরানে সফল ‘কাল’-এর পরীক্ষা! ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় কামিকাজে ড্রোনে বড় সাফল্য ভারতের

    KAL Attack Drone: পোখরানে সফল ‘কাল’-এর পরীক্ষা! ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় কামিকাজে ড্রোনে বড় সাফল্য ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘপাল্লার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন (Long-Range One-Way Attack Drone) তৈরির ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সম্প্রতি, নয়ডার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা আইজি ডিফেন্স (IG Defence)-এর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কাল’ (KAL) ড্রোন রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সফলভাবে পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে। এই পরীক্ষা দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় ড্রোন-ভিত্তিক আক্রমণ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা

    সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘কাল’ ড্রোনের সর্বোচ্চ পাল্লা ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর ফ্লাইট এন্ডিওরেন্স বা একটানা উড়ে থাকার ক্ষমতা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। সর্বোচ্চ ৫০ কেজি পেলোড (বিস্ফোরক) বহন করতে পারে এই ড্রোন। অপারেটিং অল্টিটিউড সর্বোচ্চ ৫০০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ টেক-অফ ওজন প্রায় ২০০ কেজি। ড্রোনটি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতিতে ক্রুজ করতে পারে। দীর্ঘপাল্লার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটিকে তৈরি করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অস্ত্র বা মিশন কনফিগারেশন এবং কার্যকরী অনুমোদনের উপর এর ব্যবহার নির্ভর করবে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘কাল’?

    ‘কাল’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন ব্যবস্থা। ম্যানুয়াল পাইলটিংয়ের প্রয়োজন কমাতে এতে মাল্টি-ব্যান্ড জিএনএসএস (GNSS) এবং ইনারশিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS)-এর সমন্বিত নেভিগেশন স্যুট ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত মিশন প্রোফাইল অনুযায়ী ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছতে সক্ষম হওয়ার কথা। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘কাল’-কে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, রেডার, এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আঘাতের জন্য কনফিগার করা যেতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর বদলেছে ড্রোন যুদ্ধের সমীকরণ

    দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানি উৎসের শাহেদ-১৩৬ (Shahed-136) এবং রুশ গেরান-২ (Geran-2)-এর ব্যবহার দেখিয়েছে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়েও দীর্ঘপাল্লার হামলা চালিয়ে শত্রুর এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থার উপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করা সম্ভব।

    পরবর্তী সময়ে শাহেদ-শ্রেণির ড্রোনের ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্য এবং লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক সংঘাতেও দেখা গিয়েছে। ফলে দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় স্ট্রাইক ড্রোন এখন আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তিত যুদ্ধকৌশলের প্রেক্ষাপটেই দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘কাল’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরির গুরুত্ব বাড়ছে।

    ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ প্রকল্পের অংশ ‘কাল’

    আইজি ডিফেন্সের ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ (GRID STRIKE) দীর্ঘপাল্লার প্রিসিশন-স্ট্রাইক পোর্টফোলিওর অংশ ‘কাল’। সংস্থার গ্রিড ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (GRID Battle Management System) সঙ্গেও এটি সংযুক্ত করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থা একটি এআই-চালিত সি৫আইএসআরটি (C5ISRT) আর্কিটেকচার, যার লক্ষ্য যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য এবং বিভিন্ন আনম্যানড প্ল্যাটফর্মকে সমন্বয় করা।

    আইজি ডিফেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বোধিসত্ত্ব সংঘপ্রিয় বলেন, পোখরানে ‘কাল’-এর সফল পরীক্ষা সংস্থার পাশাপাশি ভারতের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলি দেখিয়েছে যে দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন আর কোনও প্রান্তিক সক্ষমতা নয়; আধুনিক যুদ্ধে প্রিসিশন স্ট্রাইক, এয়ার-ডিফেন্স এবং কৌশলগত প্রতিরোধের হিসাবেও এগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

    ‘কাল’-এর পোখরান পরীক্ষা তাই শুধু একটি নতুন ড্রোনের ট্রায়াল নয়; দীর্ঘপাল্লার, স্বয়ংক্রিয় এবং দেশীয় মানববিহীন স্ট্রাইক প্রযুক্তি গড়ে তোলার ভারতের বৃহত্তর প্রচেষ্টারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

  • Liver Disease Skin Symptoms: বারবার ব্রণ, ত্বক ফ্যাকাসে ও কালচে ছোপ! সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, লিভার নিয়ে সতর্ক হোন

    Liver Disease Skin Symptoms: বারবার ব্রণ, ত্বক ফ্যাকাসে ও কালচে ছোপ! সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, লিভার নিয়ে সতর্ক হোন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ত্বকের মসৃণ ভাব ক্রমশ কমে আসছে! ত্বকের রং বদলে যাচ্ছে। এমনকি গাল, নাক ও থুতনির নীচে কালচে ছোপ, ক্রমশ গভীর হচ্ছে। তার সঙ্গে বারবার ব্রণ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ত্বকের সমস্যা বলে এড়িয়ে গেলে চলবে না। বরং, বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। কারণ, অনেক সময়েই এগুলো এক গভীর রোগের উপসর্গ হিসাবে জানান দেয়। কিন্তু অসচেতনতার কারণে শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।

    কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ত্বকের এই ধরনের উপসর্গ লিভারের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারের অসুখ সম্পর্কে সচেতনতা কম। শুধু হেপাটাইটিস লিভারের রোগ নয়। এছাড়াও লিভারে একাধিক সমস্যা হয়।

    লিভারের বিষাক্ত উপাদান বেড়ে যাওয়ায় কালো ছাপ!

    লিভারে টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান তৈরি হলে বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়। তার জেরে শরীরের একাধিক কোষে প্রভাব পড়ে। ত্বকের মেলানোসাইট কোষগুলোতে পরিবর্তন হয়। অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি হয়। এর ফলেই কোষের রং পরিবর্তন হতে পারে। থুতনি, গালের বিভিন্ন অংশে কালো ছাপ‌ দেখা দেয়।

    হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় ব্রণ!

    লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকলে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অ্যান্ড্রোজেন এবং ইস্ট্রোজেন নামে দুই হরমোন বেড়ে যায়। এই দুই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জেরেই মুখের সিবেসিয়াস গ্রন্থীতে অতিরিক্ত তৈলাক্ত উপাদান তৈরি হতে থাকে। যার ফলে মুখে বারবার ব্রণ দেখা দেয়। ব্রণের সমস্যা কমতে চায় না।

    ইস্ট্রোজেন বেড়ে যাওয়ায় শিরা ফুলে যায়!

    অনেকের নাক ও মুখের শিরা লাল হয়ে ফুলে যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শরীরের হরমোন ভারসাম্যের জন্য লিভারের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো থাকা জরুরি। সেটায় ব্যাঘাত হলেই ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে, ত্বকের নীচে থাকা রক্তনালী প্রসারিত ও স্ফিত হয়ে যায়। এর জেরেই মুখে বিশেষত নাক ও তার আশপাশের জায়গার শিরা ফুলে যায়। লালচে দেখায়।

    বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ায় ত্বকের রং বদলে যায়!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই ত্বক ফ্যাকাসে দেখায়। আবার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্বলতা এবং মসৃণ ভাব নষ্ট হয়ে যায়। এর নেপথ্যে থাকে লিভারের সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারের ক্ষতি হলে শরীরে বিলিরুবিন নামে একটি উপাদান বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বক, চোখ উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

    কেন বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে লিভারের অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ লিভারের অসুখে আক্রান্ত। যেকোনো ধরনের লিভারের রোগ তাদের রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে লিভারের অসুখ রয়েছে। কিন্তু উদ্বেগজনক হলো, অধিকাংশ আক্রান্ত লিভারের অসুখ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। ফলে, অনেক সময়েই গভীর সমস্যা তৈরি হয়। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে লিভারের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে লিভারের রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাছাড়া যাদের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যেও লিভারের রোগের ঝুঁকি বেশি হয়। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তের ত্বকে কোনো সমস্যা বারবার দেখা দিলে, তাঁর আরও বেশি সচেতন হতে হবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Owned By India: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’! বদলাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল

    Owned By India: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’! বদলাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তিত ও অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে আত্মনির্ভরতা এখন আর শুধুমাত্র ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লক্ষ্য ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত—প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ভারতে তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, উৎপাদন, সরবরাহশৃঙ্খল এবং যুদ্ধক্ষমতার নিয়ন্ত্রণও ভারতের হাতে রাখা। গত এক বছরে নীতি সংস্কার, দেশীয় বরাত, বেসরকারি শিল্পের অংশগ্রহণ, স্টার্টআপ এবং তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণে একাধিক পদক্ষেপ সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা কেনাকাটা নীতিতে বড় বদল

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আধুনিকীকরণ বাজেটের ৭৫ শতাংশ দেশীয় শিল্প থেকে কেনাকাটার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি ভারতীয় শিল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। অর্থাৎ, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বাজারে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সংস্থার বাইরে বেসরকারি শিল্পকেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল পরিকাঠামোর অংশ করে তোলার চেষ্টা হয়েছে।

    ২০২০ সালের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিওর বা ডিএপি-র পর্যালোচনাও শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত ডিএপি ২০২৬-এ দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘স্পাইরাল অ্যাকুইজিশন’-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম কেনার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও নিচের স্তরে দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো এবং অটোমেশনের মাধ্যমে কেনাকাটার সময় কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    নতুন ‘বাই গ্লোবাল, ম্যানুফ্যাকচার ইন ইন্ডিয়া’ ব্যবস্থার লক্ষ্য বিদেশি অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার বা ওইএম-কে ভারতে উৎপাদন পরিকাঠামো তৈরিতে উৎসাহিত করা। ফলে শুধু মূল অস্ত্র নয়, যন্ত্রাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ স্পেয়ারও ধীরে ধীরে দেশেই তৈরি করার সুযোগ তৈরি হবে।

    আমদানি কমাতে স্থানীয় উৎপাদন, এমএসএমই-তে জোর

    দেশে আগে তৈরি হয়নি, কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব—এমন গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট ও সাব-সিস্টেমকে আমদানির বিকল্প হিসেবে তৈরি করতে চালু হয়েছে মেক-৩ ক্যাটেগরি। এদিকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনী প্রতিরক্ষা প্রকল্পে এমএসএমই-দের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্তত দু’টি যোগ্য এমএসএমই অংশ নিলে এই সীমা ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে ছোট ও মাঝারি ভারতীয় সংস্থাগুলিও বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহশৃঙ্খলে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে।

    শুধু গবেষণাগারে প্রযুক্তি তৈরিই নয়, সেটিকে দ্রুত সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। আইডেক্স এবং টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড-এর মাধ্যমে তৈরি সফল স্টার্টআপ প্রোটোটাইপকে দ্রুত অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি বা এওএন-এর পথে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রযুক্তি পরীক্ষায় সফল হলে সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিশ্চিত বরাত দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    মেক-১ ব্যবস্থায় দেশীয় প্রোটোটাইপ তৈরির খরচের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সরকার বহন করছে। একইসঙ্গে আগে সীমিত থাকা সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিও বেসরকারি শিল্পের জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার আর্থিক ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা হচ্ছে।

    ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি বড় অনুমোদন

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি প্রায় ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি মূলধনী প্রতিরক্ষা প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের তালিকায় ছিল দেশীয় কিউআরএসএএম এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম, উন্নত ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারডিকশন সিস্টেম এবং নেট্রা-র উন্নত এইডব্লিউঅ্যান্ডসি এমকে-১এ সংস্করণ।

    তিন বাহিনীর জন্য মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডিউরেন্স বা মেল ড্রোন, আরও ৯৭টি তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর জন্য রাফাল মেরিন-এর মতো বড় প্রকল্পও রয়েছে। অর্থাৎ, আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য শুধু ছোট অস্ত্র বা যন্ত্রাংশে সীমাবদ্ধ থাকছে না; যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি বিমান এবং ড্রোনের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

    ‘রুদ্র’, ‘ভৈরব’, ‘অশ্নি’—বদলাচ্ছে সেনাবাহিনীর কাঠামো

    যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ভারতীয় সেনাবাহিনীও কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোনোমাস সিস্টেম, হাইপারসনিক অস্ত্র, ড্রোন এবং ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনকারী প্রযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মার্ড ব্রিগেড এবং মাউন্টেন ব্রিগেডকে পুনর্গঠন করে রুদ্র অল-আর্মস ব্রিগেড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন যুদ্ধশাখার ক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত অভিযান চালানো।

    এর পাশাপাশি প্রায় ২৬৪ জন সদস্যের ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন, শক্তিবাণ আর্টিলারি রেজিমেন্ট এবং দিব্যাস্ত্র ব্যাটারি গঠনের কাজ এগিয়েছে। প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে অশ্নি ড্রোন প্লাতুন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ব্যাটালিয়ন স্তরেই ড্রোন-নির্ভর নজরদারি শক্তিশালী করা যায়।

    অপারেশন সিঁদুরের পর ড্রোনে আরও জোর

    ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা বিশেষ করে আনম্যান্ড এরিয়াল সার্ভেল্যান্স বা ইউএএস, কাউন্টার-ইউএএস এবং লয়টারিং মিউনিশনের ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। সেই অনুযায়ী সেনাবাহিনীতে ইউএএস ও কাউন্টার-ইউএএস ব্যবস্থার জন্য একটি বিশেষ কোর কমিটি তৈরি হয়েছে।

    দ্রুত গবেষণা ও উৎপাদনের জন্য বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পেশাল পারপাস ভেহিকল তৈরির পরিকল্পনা এবং অদিতি ও আইডেক্স-এর অধীনে নয়টি ফাস্ট ট্র্যাক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য—যেসব প্রযুক্তির ঘাটতি যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়েছে, সেগুলি দ্রুত দেশীয়ভাবে তৈরি করা।

    নৌবাহিনীতেও একের পর এক দেশীয় যুদ্ধজাহাজ

    আত্মনির্ভরতার সবচেয়ে দৃশ্যমান ছবি পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনীতে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে একের পর এক দেশীয় যুদ্ধজাহাজ কমিশন হয়েছে—আইএনএস অর্নালা, আইএনএস নিস্তার, আইএনএস উদয়গিরি, আইএনএস হিমগিরি, আইএনএস অন্ধ্রোথ, আইএনএস ইক্ষক এবং আইএনএস মাহে।

    ২০২৬ সালে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আইএনএস অঞ্জদীপ। এরপর একসঙ্গে আইএনএস অরিধমন ও আইএনএস তারাগিরি নৌবহরে যুক্ত হয়। আইএনএস অরিধমন ভারতের পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন বহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এরপর কলকাতায় একদিনে আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয় কমিশন করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয়েছে আইএনএস নিপুণ। অর্থাৎ, যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশীয় শিপইয়ার্ডের সক্ষমতা এবং উৎপাদনের গতি—দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    অপারেশন সিঁদুরে তিন বাহিনীর সক্ষমতার পরীক্ষা

    ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের বাস্তব পরীক্ষাও হয়ে ওঠে। নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ ও সাবমেরিন-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম মোতায়েন করে। সারফেস, এয়ার, স্পেস এবং শোর-বেসড সেন্সরের সমন্বয়ে মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস বজায় রাখা হয়।

    বিমানবাহিনীর ক্ষেত্রেও অপারেশন সিঁদুর ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দূরপাল্লার প্রিসিশন-গাইডেড ওয়েপন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সামরিক ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়ে ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা আইএসিসিএস-এর মাধ্যমে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালিত হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময়ে একটি ভারতীয় এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন এয়ারক্র্যাফ্ট ধ্বংস করে। রিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লক্ষ্য শুধু অস্ত্র তৈরি নয়, গোটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশীয় করা

    গত এক বছরের নীতি ও সামরিক পরিবর্তনকে একসঙ্গে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতি এখন শুধু বিদেশি অস্ত্রের পরিবর্তে ভারতীয় অস্ত্র কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    কাঁচামাল, কম্পোনেন্ট, ডিজাইন, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রোটোটাইপ, পরীক্ষা, উৎপাদন, সরবরাহশৃঙ্খল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার—পুরো ব্যবস্থাটিকেই দেশীয় করার দিকে এগোচ্ছে ভারত।

    এই প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি শিল্প, এমএসএমই এবং স্টার্টআপকে আরও বেশি করে যুক্ত করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্প থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য মূলধনী বাজেটের ৭৫ শতাংশ নির্দিষ্ট রাখার নীতি এই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    ফলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এখন ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’ ধারণার দিকে এগোচ্ছে—যেখানে শুধু অস্ত্রের গায়ে ভারতের নাম থাকাই নয়, সেই অস্ত্রের প্রযুক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা, সরবরাহশৃঙ্খল এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণও দেশের হাতে রাখাই হয়ে উঠছে মূল লক্ষ্য।

  • Suvendu-Ambani Meeting: অ্যান্টিলিয়ায় আম্বানিদের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক, বাংলায় বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত!

    Suvendu-Ambani Meeting: অ্যান্টিলিয়ায় আম্বানিদের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক, বাংলায় বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি। বাংলায় রিলায়েন্সের নতুন বিনিয়োগ, বর্তমানে চালু থাকা ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং একাধিক নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রিলায়েন্সের তরফেও বৈঠকের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অ্যান্টিলিয়ায় প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক

    শিল্পমহলের নজরে থাকা এই বৈঠকটি হয় মুম্বইয়ে আম্বানি পরিবারের বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-য়। সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং রাজ্যে রিলায়েন্সের ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োগ্যাস-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    বৈঠকের আগে থেকেই অবশ্য বাংলায় রিলায়েন্সের বিনিয়োগ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কয়েক দিন আগে একটি শিল্প সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন, অনন্ত আম্বানির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সেখানেই রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে ডেটা সেন্টার এবং সেমিকন্ডাক্টর হাবের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “অনন্ত আম্বানির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি ও মুকেশ আম্বানি বাংলায় আসছেন। বাংলায় বিনিয়োগ করবেন ওঁরা। ডেটা সেন্টার ও সেমি কন্ডাক্টর হাবে কাজ করবেন।” এরপর গণেশ উৎসবের পর মুম্বই গিয়ে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠকের কথা প্রকাশ্যে জানান শুভেন্দু। সেই ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, এই সফর কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি বাংলায় বড় বিনিয়োগের রূপরেখা তৈরিই মূল লক্ষ্য?

    ‘বনতারা’ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা?

    শুধু শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্র নয়, আম্বানিদের ‘বনতারা’ প্রকল্প নিয়েও বাংলার সঙ্গে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, পূর্ব ভারতে বন্যপ্রাণ ও সংরক্ষণকেন্দ্রিক একটি প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার চাইছে উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অথবা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের অরণ্যাঞ্চলকে সম্ভাব্য প্রকল্পের জন্য তুলে ধরতে।

    সম্প্রতি পুরুলিয়া সফরে গিয়ে দক্ষিণবঙ্গের প্রথম বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণার সঙ্গে ‘বনতারা’-র সম্ভাব্য প্রকল্পের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এই মুহূর্তে বাংলায় বনতারা প্রকল্প স্থাপনের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বিষয়টি এখনও সম্ভাবনার স্তরেই রয়েছে।

    বাংলায় ইতিমধ্যেই রিলায়েন্সের জমি

    বাংলায় রিলায়েন্সের বিনিয়োগের সম্ভাবনা একেবারে নতুন নয়। নিউ টাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি হাবে ইতিমধ্যেই ডেটা সেন্টারের জন্য রিলায়েন্সকে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর হাব গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন। ফলে মুম্বইয়ের এই বৈঠককে শুধু নতুন বিনিয়োগের আলোচনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। রাজ্যে রিলায়েন্সের ইতিমধ্যে থাকা ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করা এবং নতুন ক্ষেত্রের দরজা খোলার বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

    শিল্পমহলে বিনিয়োগ ঘিরে তৎপরতা

    মে মাসে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ টানার উদ্যোগের কথা বারবার সামনে এনেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়ও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সরকারের দাবি, নতুন শিল্প স্থাপন, পুরনো শিল্পের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

    সম্প্রতি আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর সঙ্গেও বাংলায় বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিল্পমহলে আরও একাধিক বড় গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের যোগাযোগের খবর সামনে এসেছে। এই আবহে রিলায়েন্সের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    আদানি গোষ্ঠীর প্রকল্পও সামনে

    একই সময়ে বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর প্রকল্প নিয়েও তৎপরতা চলছে। নিউ টাউনে ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে গোষ্ঠীটির। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের শিলান্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে এবং গৌতম আদানির উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্পটির জন্য ১,০০০ শয্যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য রাখার পরিকল্পনার কথাও আগে জানানো হয়েছে।

    এদিকে দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের ৩৩টি শিল্প সংস্থাকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও রয়েছে। শিল্প স্থাপন ও ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিকে সামনে রেখে একাধিক শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার।

    এই আবহে মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় মুকেশ ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক বাংলায় রিলায়েন্সের পরবর্তী বিনিয়োগ-পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে কোন প্রকল্পে কত বিনিয়োগ হবে, তার চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও হয়নি।

  • Birla Group Bengal Investment: বাংলায় বড় লগ্নির ইঙ্গিত! কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক শমীকের, এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষা

    Birla Group Bengal Investment: বাংলায় বড় লগ্নির ইঙ্গিত! কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক শমীকের, এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই আবহেই বাংলায় নতুন করে লগ্নির বার্তা দিল আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী। রাজ্যসভায় সাংসদ তথা বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বলে দাবি শমীকের। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই সেই বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

    বাংলায় পুরনো ব্যবসা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা

    রবিবার কলকাতায় কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক ভট্টাচার্য। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর বর্তমান ব্যবসায়িক পরিসর আরও বাড়ানো এবং নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শমীকের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে এবং রাজ্যে গোষ্ঠীটির নতুন লগ্নির সম্ভাবনা রয়েছে।

    শমীক জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নতুন ও সমন্বিত শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের রাজ্যে আরও বেশি করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রেক্ষাপটে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর মতো দীর্ঘদিনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বঙ্গ বিজেপি সভাপতির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিড়লা গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অতীতে শ্রমিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া শিল্প-পরিবেশের কারণে রাজ্য থেকে বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি বদলে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই স্পষ্ট হতে পারে লগ্নির রূপরেখা

    শমীকের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কুমার মঙ্গলম বিড়লার সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে শিল্পমহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, চলতি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রকল্প নিয়ে আরও নির্দিষ্ট আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    অর্থাৎ শুধু নতুন করে লগ্নি নয়, বাংলায় ইতিমধ্যে যে ক্ষেত্রগুলিতে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ব্যবসা রয়েছে, সেগুলির পরিসর বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে সম্ভাব্য বিনিয়োগের নির্দিষ্ট অঙ্ক বা প্রকল্পের তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    পুরুলিয়ায় এক বছরে ১ লক্ষ কোটির বিনিয়োগের লক্ষ্য

    আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর বিনিয়োগ-বার্তার পাশাপাশি রাজ্যের শিল্পায়নের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পুরুলিয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী এক বছরে জেলায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে। প্রতিরক্ষা, স্টিল, সিমেন্ট এবং সৌরবিদ্যুৎ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভূমিপুজো হয়েছে। পাশাপাশি পুরুলিয়ায় আরও শিল্প প্রকল্প আনার জন্য জমি ও পরিকাঠামোগত সুযোগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। শিল্পের পাশাপাশি পর্যটন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লক্ষ্য, পুরুলিয়াকে শুধু শিল্পাঞ্চল নয়, একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা।

    উড়ান প্রকল্পে পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর

    পুরুলিয়ার শিল্পায়নের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিমান যোগাযোগও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের উড়ান (UDAN—‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’)—প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের তরফে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রাজ্য সরকারের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে পুরুলিয়ার শিল্প, পর্যটন এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসতে পারে। বিশেষ করে শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শিল্পায়নের সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর

    পুরুলিয়াকে একটি বড় শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি রাস্তা, বিমান যোগাযোগ, পর্যটন পরিকাঠামো এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের দিকেও নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা থেকে স্টিল, সিমেন্ট থেকে সৌরবিদ্যুৎ—বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে প্রস্তাব আসছে। একই সঙ্গে পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফলে একদিকে কলকাতা ও রাজ্যের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ টানার চেষ্টা, অন্যদিকে পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলিতে নতুন শিল্প ও যোগাযোগ পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা—দুই দিকেই জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে বিনিয়োগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্প বা আর্থিক প্রতিশ্রুতি সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।

LinkedIn
Share