Category: বিনোদন

Get updates on Entertainment News Celebrities, Hollywood, Bollywood, Tollywood Movies, Web series, OTT from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Rahul Arunoday Banerjee: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়র রহস্যমৃত্যু, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Rahul Arunoday Banerjee: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়র রহস্যমৃত্যু, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণের পর আড়াই মাস কেটে গেলেও এখনও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে, যার উত্তর মেলেনি।। অভিনেতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে এবার রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আজ এক বিশেষ প্রশাসনিক ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই মৃত্যুরহস্যের তদন্তভার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও পরিবারের আর্জি (Rahul Arunoday Banerjee)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অভিনেতার (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এর পেছনে কোনও গভীর রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। নিরপেক্ষ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” উল্লেখ্য, অভিনেতার পরিবার এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকেও এই মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। সেই আর্জিকে গুরুত্ব দিয়েই রাজ্য সরকার সিআইডি-কে দ্রুত তদন্তভার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

    তদন্তের অভিমুখ

    প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, এখন থেকে সিআইডি-র বিশেষ দল এই মামলার সমস্ত নথিপত্র, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (Rahul Arunoday Banerjee) এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখবে। বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রতিভাবান এই অভিনেতার মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও মানসিক চাপ, প্ররোচনা নাকি অন্য কোনও কারণ জড়িত ছিল—তা সুনির্দিষ্টভাবে জানার অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরিবার এবং অগণিত অনুরাগী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সত্য অনুসন্ধানে কোনও খামতি রাখা হবে না।

  • BJP: স্বরূপ গ্রেফতার হতেই টলিপাড়া নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন লকেট-রুদ্রনীল, ক্ষোভ উগরে দিলেন মানুষও

    BJP: স্বরূপ গ্রেফতার হতেই টলিপাড়া নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন লকেট-রুদ্রনীল, ক্ষোভ উগরে দিলেন মানুষও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হারতেই নির্বিষ হয়ে পড়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই টলিউডের একছত্রাধিপতি ঘাসফুল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস (Biswas Brothers)। সেই স্বরূপ গ্রেফতার হতেই ক্ষোভের জ্বলন্ত লাভা উগরে দিল টলিউড নামক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি (BJP)! দাদা মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে ব-কলমে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া চলত স্বরূপের অঙ্গুলিহেলনে। তৃণমূলের আশীর্বাদধন্য এহেন স্বরূপ গ্রেফতার হতেই তাঁর স্বরূপ প্রকাশ করে দিলেন টলিউডের কলাকুশলীরা। তাঁর বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং তোলাবাজির অভিযোগে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। এদিন ছোট বিশ্বাসকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা।

    স্বরূপকে নিশানা লকেটের (BJP)

    পদ্ম-নেত্রী লকেট বলেন, “স্বরূপ বিশ্বাস, অরূপ বিশ্বাস দু’জনে মিলে যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিকে বরবাদ করে দিয়েছেন, ১২ বছর আগের থেকে, আজ ২০২৬…শেষ করে দিয়েছেন। ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। শুধু স্বরূপ বিশ্বাস একা নন। স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আরও অনেক লোক আছেন। যাঁরা তাঁকে পাত্তা দিতেন। তাঁর সঙ্গে হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাতেন, না-তে না মেলাতেন। এর জন্য প্রচুর টেকনিসিয়ান, প্রচুর আর্টিস্টের পেটের ভাত চলে গিয়েছে। আমার মনে হয়, তাঁদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। তাঁর বড় ভাই তো ওয়েট করে আছেন, বড় রাঘববোয়াল যারা আছেন, একজন বড় ভাই রয়েছেন। আমরা অপেক্ষায় আছি, কখন সেই রাঘববোয়াল অ্যারেস্ট হন। লজ্জার কথা! আমরা টালিগঞ্জে এরকম কখনও দেখিনি…এই পরিস্থিতি হতে পারে। যা দৃশ্য দেখেছি, তা আমাদের জন্য…একজন শিল্পী হিসাবে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এ জিনিস আপনারা যা দেখে নিয়েছেন, দেখে নিয়েছেন…আগামিদিনে অন্তত এই জিনিস আর আপনারা দেখবেন না।”

    আক্রমণ শানালেন সুকান্তও

    প্রাক্তন মন্ত্রীর ‘গুণধর’ ভাইটিকে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির (BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে তো বহু অভিযোগ। এর আগেও অভিযোগ ছিল। এতদিন পুলিশ সাহস করত না। কে কাজ পাবেন কোন গিল্ড থেকে, সেটা এই ভদ্রলোক ঠিক করে দিতেন। আপনি তাঁর বিরোধিতা করলে কাজ পাবেন না। আপনার বাড়িতে উনুনে হাঁড়ি চড়বে না। সেই ব্যবস্থা এই দুই ভাই মিলে করতেন। স্বরূপ আর অরূপ। দাদার নাম নিয়ে ভাই মস্তানি করতেন। এখন সব বিচার হবে। কেউ ছাড় পাবেন না। প্রত্যেকটি অন্যায়ের হিসেব আমরা করব।” বৃহস্পতিবার রাতে (Biswas Brothers) নিউ আলিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন স্বরূপ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক মহিলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সাহাপুর কলোনির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপকে। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।

    ধুয়ে দিলেন রুদ্রনীলও 

    স্বরূপকে নিশানা করেছেন হাওড়ার শিবপুরের পদ্ম-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রশাসনিক প্রশ্রয়ের সংস্কৃতিই এক সময় দুর্বল করেছিল রাজ্যে আইনের শাসনকে। আর তাই প্রভাবশালী মহলের একাংশ নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে ভাবতে শুরু করেছিল। শুক্রবার হাওড়ার ডুমুরজলা ক্রীড়াঙ্গণে পরিবেশ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রুদ্রনীল। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই (BJP) খুলে দেন স্বরূপের মুখোশ। রুদ্রনীল বলেন, “চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের দুষ্কৃতী ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস৷ তাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে৷ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাস এই ইন্ডাস্ট্রিটাকে নষ্ট করেছেন৷ ক্ষতি করে দিয়েছেন সিনেমা জগতের৷ আগে বছরে ১০০টা সিনেমা হত৷ এখন ৩০টা অর্থাৎ, ৭০ শতাংশ সিনেমা কমে গিয়েছে৷ তাই কাজ হারিয়েছেন টেকনিশিয়ান, আর্টিস্ট থেকে সবাই।” তিনি বলেন, “সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, উত্তম কুমারদের এই গৌরবান্বিত জায়গা ওঁরা কলুষিত করেছেন৷” স্বরূপের গ্রেফতারি যে (Biswas Brothers) রাজনৈতিক উদ্দেশে নয়, এদিন তা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছেন শিবপুরের বিধায়ক। বলেন, “সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত হয়েছে, এবং আইন নিজের পথেই চলেছে।”

    জনরোষ আছড়ে পড়ল সুরুচি সংঘে

    স্বরূপ গ্রেফতার হতেই জনরোষ আছড়ে পড়ে বিশ্বাস ব্রাদার্সের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত সুরুচি সংঘে। নিউ আলিপুরের এই ক্লাবে ছড়ি ঘোরাতেন অরূপ-স্বরূপ। তাই ক্লাবটিতে ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। তালা ভেঙে হুড়মুড়িয়ে তারা ঢুকে পড়ে ক্লাবঘরের ভেতরে (BJP)। তার পরেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। দেখা যায়, ক্লাবের ওপর তলায় রয়েছে আস্ত একটি কিং সাইজ বেড, বিলাসবহুল শৌচালয়, এসি এবং দামি ফ্যান। মজুত ছিল প্রচুর সরকারি ‘প্রাণধারা’ জলের বোতল ও ত্রাণের শাড়ি। বিজেপি নেত্রী প্রিয়া সরকার বলেন, “সংসার করতে হলে যেমনটা হয় আর কি! ক্লাবের ভেতরে ঢুকেও আমরা সেই ছবি দেখতে পেয়েছি। প্রচুর জামা-কাপড়, শাড়ি, ওই এলাকার ভোটার তালিকা। বিভিন্ন নথিপত্র থেকে শুরু করে সিডিও পাওয়া গিয়েছে।” তাঁর দাবি, “কেউ ক্লাব ভাঙচুর করেননি (BJP)।”

     

  • Tollywood Federation: ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ জমানার অবসান, বাতিল ফেডারেশন-গিল্ড, এখন থেকে দিল্লির কনফেডারেশনের আওতায় টলিপাড়া

    Tollywood Federation: ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ জমানার অবসান, বাতিল ফেডারেশন-গিল্ড, এখন থেকে দিল্লির কনফেডারেশনের আওতায় টলিপাড়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে তৃণমূলের বিসর্জনের পর এবার টলিউড ফেডারেশনের (Tollywood Federation) ভবিষ্যৎ নিয়েই উঠল বড়সড় প্রশ্ন। মমতা জমানায় ফেডারেশনের রাশ ছিল বিশ্বাস ব্রাদার্সের হাতে। এই বিশ্বাস ব্রাদার্সের একজন অরূপকে ছাব্বিশের ভোটে পরাস্ত করেন পদ্ম-প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। অরূপ-বিদেয় হওয়ার পর বাকি ছিলেন স্বরূপ। বুধবার টলিউডে স্বরূপের কর্তৃত্বে দাঁড়ি টেনে দিলেন পাপিয়া। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় দাঁড়িয়ে বললেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সাহায্যে দিল্লির ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশনের আওতাভুক্ত হবেন (Tollywood Restructured) টলিউডের সমস্ত কলাকুশলী। লক্ষ্য, দুর্নীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি।” বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, টলিউডে আর ফেডারেশনের অস্তিত্ব রইল না। থাকবে না ২৬টি গিল্ডও।

    আট ঘণ্টা কাজের নীতি (Tollywood Federation)

    পাপিয়া জানান, তিন থেকে চারটি কমিটি থাকবে –  পরিচালক, ক্যামেরা, প্রোডাকশন ম্যানেজার এবং শিল্প নির্দেশনা বিভাগ। বলিউডের মতো এবার টলিউডেও চালু হতে পারে আট ঘণ্টা কাজের নীতি। ফেডারেশনকে তার করে যাওয়া কাজের জন্য জবাবদিহিও করতে হবে। পদ্ম-বিধায়ক কথা বলবেন ওয়েব প্ল্যাটফর্ম এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষগুলির সঙ্গে। তাঁরা সিরিজ কিংবা ধারাবাহিক দেখানোর জন্য কোথা থেকে টাকা পাচ্ছেন, খতিয়ে দেখবেন তিনি। ধারাবাহিক, সিরিজের গল্প এবং বিষয়বস্তু নিয়েও হবে আলোচনা।

    সবাই কাজ পাবেন

    পাপিয়ার আশ্বাস, “সবাই কাজ পাবেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। মতবিরোধ থাকলেও, কাউকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। শুটিং বন্ধ করা যাবে না। কলাকুশলীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্বও নেবে কনফেডারেশন।” নানা অছিলায় কেউ যাতে আর কাটমানি নিতে না পারে, সে দিকেও কড়া নজর রাখা হবে বলে জানান বিধায়ক। পাপিয়া বলেন, “ফেডারেশন এবং গিল্ডের বেশ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। বেশ কিছু অভিযোগ প্রশাসনের কাছেও (Tollywood Federation) পৌঁছেছে। তবে আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে চাই না। বদলে ‘ডি কিউব’- ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট- ব্যবহার করতে চাই।”

    কাজ হারালেন যাঁরা

    তিনি বলেন, “ম্যানেজার গিল্ডের সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদক মহম্মদ হাসান, নিরুপম দে, মেকআপ আর্টিস্ট গিল্ডের বাপি মালাকার, ক্যামেরা গিল্ডের স্বপন মজুমদার এবং সুজিত হাজরা – এই ক’জনের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ। এঁদের আর টলিউডে কাজ করতে দেওয়া হবে না। চাইলে ভিন্‌রাজ্যে, অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে অবশ্যই এঁরা কাজ করতে পারবেন, কিন্তু বাংলায় আর (West Bengal) নয়।” পাপিয়া বলেন, “আমাদের সময় পরিচালক ছিলেন ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ। পরে তাঁরাই যেন হয়ে গেলেন ‘চাকর’! আমি সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব। ফিরিয়ে আনা হবে সেই সব প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, কলাকুশলীকে, যাঁরা এত দিন (Tollywood Federation) ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্বাস ব্রাদার্সে দৌলতে ব্রাত্য ছিলেন।”

  • Anik Dutta: টলিউডে শোকের ছায়া, গরমের দুপুরে ছাদ থেকে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তের

    Anik Dutta: টলিউডে শোকের ছায়া, গরমের দুপুরে ছাদ থেকে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টলিউডে ফের শোকের ছায়া। বুধবার দুপুরে আচমকাই ছড়িয়ে পড়ে খবর— গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Dutta)। প্রথমে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানা যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কী করে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন অনীক, নেহাত দুর্ঘটনা, না কি অন্য কিছু, এখনও স্পষ্ট নয়। ভরদুপুরে তিনি ছাদে উঠেছিলেন কেন, তাও জানা যায়নি। গড়িয়াহাট থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পরিচালকের মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

    কীভাবে ঘটে দুর্ঘটনা

    বুধবার দুপুরে বহুতলের ছ’তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। বহুতলের গা ঘেঁষে থাকা একটি গাছের ডালও ভেঙে যায়। ছাদ থেকে পড়ার সময় অনীক ওই গাছে ধাক্কা খান বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন অনীকের স্ত্রী। তবে অনীক দুর্ঘটনাবশত পড়ে যান, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। (Anik Dutta Dies)হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মারা যান অনীক। তাঁর সারা শরীরে চাপ চাপ রক্ত ছিল। মাথায়, কাঁধে, বুকে আঘাত ছিল তাঁর। তাঁকে এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হলেও, মারা যান। অনীকের স্ত্রী হাসপাতালে রয়েছেন। মেয়ে আসছেন মুম্বই থেকে। দুপুর ৩টে বেজে গিয়েছে বলে আজ ময়নাতদন্ত হবে না। দেহ সংরক্ষণ করা হবে। ময়নাতদন্ত হবে কাল। দেহ নিয়ে কী হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে মেয়ে এসে পৌঁছনোর পর। গড়িয়াহাট থানার একটি টিমও হাসপাতালে রয়েছে। যে চিকিৎসক প্রথন অনীককে দেখেন, জিজ্ঞাসাবাদ কার হবে তাঁকেও।

    বাংলা সিনেমায় ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা

    বাংলা সিনেমায় ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা এবং তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন অনীক দত্ত (Anik Dutta)। বিজ্ঞাপনের জগৎ থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসা অনীক দত্ত ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন। মুক্তির পরই ছবিটি দর্শকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। ভৌতিক আবহের আড়ালে সমাজ ও সময়কে ব্যঙ্গ করার অভিনব ভাষা তাঁকে বাংলা ছবির অন্যতম স্বতন্ত্র নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। এরপর একে একে তিনি পরিচালনা করেন ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘অপরাজিত’-র মতো একাধিক আলোচিত ছবি। সত্যজিৎ রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি ‘অপরাজিত’ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক ও সমালোচক মহলে। তাঁর ছবিতে বারবার উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত বাঙালির মনন, সামাজিক টানাপোড়েন এবং সূক্ষ্ম রসবোধ। কেরিয়ারে মোট আটটি ছবি পরিচালনা করেন অনীক দত্ত। তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’, যা ২০২৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল। কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং নিজস্ব ঘরানার জন্য বরাবরই আলাদা মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি। সুদীর্ঘ কেরিয়ারে একাধিক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন অনীক। সেই তালিকায় রয়েছে ‘আনন্দলোক পুরস্কার’, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’।

  • Vivek Agnihotri: “মমতা আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন”, কুর্সি খোয়াতেই তৃণমূল নেত্রীকে তোপ বিবেকের

    Vivek Agnihotri: “মমতা আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন”, কুর্সি খোয়াতেই তৃণমূল নেত্রীকে তোপ বিবেকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘খাসতালুক’ ভবানীপুর কেন্দ্রেই গোহারা হেরেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁকে হারিয়ে মুখের মতো জবাব দিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুধু ভবানীপুর কেন, রাজ্যের ২০০টিরও বেশি আসনেও তৃণমূল প্রার্থীদের ধরাশায়ী করেছেন পদ্ম-প্রার্থীরা। ভবানীপুরের ফল প্রকাশের পর চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী (Vivek Agnihotri) একটি নোট শেয়ার করে এই ঘটনাকে বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত ৫ মে ইনস্টাগ্রামে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলসে’র পরিচালক একটি দীর্ঘ বিবৃতি পোস্ট করে দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর সিনেমা পশ্চিমবঙ্গে দর্শকদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    অগ্নিহোত্রীর তোপ (Vivek Agnihotri)

    অগ্নিহোত্রীর অভিযোগ, তাঁর ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’, যা নয়ের দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসনকে কেন্দ্র করে তৈরি, সেটি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা হল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে রাজ্যে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি। তিনি লেখেন, “নেভার এগেইন. যাঁরা জানেন না, @মমতাঅফিসিয়াল ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির পর আমায় বাংলায় বাতিল করে দেন। সিনেমা হল থেকে ছবিটি তুলে নেওয়া হয় এবং তিনি বলেন আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।” অগ্নিহোত্রী আরও বলেন, “গত বছর তিনি ‘দ্য বেঙ্গলস ফাইলস’ সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেছিলেন। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাদের ওপর হামলা হয়। আমার বিরুদ্ধে বহু এফআইআর দায়ের করা হয়। আমি বাংলায় কার্যত ‘ক্যানসেল’ হয়ে যাই। রাজ্যপালের কাছ থেকে পুরস্কার নিতেও যেতে পারিনি।”

    ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’

    এই দু’টি চলচ্চিত্র, যা অগ্নিহোত্রীর “ফাইলস” ট্রিলজির অংশ, প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযোগ, এগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ঐতিহাসিক ঘটনাকে বিকৃত করে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ করে। ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ বিশেষভাবে সমালোচিত হয় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসনের চিত্রায়ণের জন্য, আর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ১৯৪০-এর দশকের সহিংস ঘটনাকে তুলে ধরায় বিতর্কে জড়ায় এবং পশ্চিমবঙ্গে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে (Mamata Banerjee)। অগ্নিহোত্রীর দাবি, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনের সময় ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ পশ্চিমবঙ্গে দেখানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, গোপনে বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, “আমরা হাল ছাড়িনি। এই নির্বাচনের সময় আমরা নিশ্চিত করেছি যে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ যত বেশি সম্ভব মানুষ দেখতে পারেন (গোপনে)। আমরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছি।”

    বাংলার মানুষকে অভিনন্দন

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘হোয়্যার দ্য মাইন্ড ইজ উইদাউট ফিয়ার’ থেকে উদ্ধৃত করে বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান তিনি। বলেন, তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অগ্নিহোত্রী লেখেন, “অবশেষে এই অভূতপূর্ব জয়। বাংলার মহান মানুষদের অভিনন্দন (Vivek Agnihotri)। এখন আপনারা নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে হাঁটতে পারবেন।” ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তি পায় ভারতে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বিবেক অগ্নিহোত্রী এবং এতে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, পল্লবী জোশী, দর্শন কুমার, অনুপম খের এবং শিমরাত কাউর। ছবিটি ১৯৪৬ সালের ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ এবং ‘নোয়াখালি দাঙ্গা’কে কেন্দ্র করে নির্মিত।

    সামনের সারিতে ছিলেন কর্তাভজারা

    প্রসঙ্গত, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের রাজত্বে সামনের সারিতে ছিলেন কর্তাভজা (মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেবতার আসনে বসিয়েছিলেন এঁরা) করিৎকর্মারা। তৃণমূল নেত্রীর কাছের এই ধামাধরাধারীরাই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বঙ্গের সাংস্কৃতিক মঞ্চ। তাই সংখ্যালঘু সম্পর্কিত (সে প্রত্যক্ষই হোক কিংবা পরোক্ষ) কিংবা তৃণমূল বিরোধী কোনও কাজ (সিনেমা, ছবি ইত্যাদি) করলেই তাঁকে কার্যত ব্ল্যাকলিস্টে ফেলে দেওয়া হত (Mamata Banerjee)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁদেরই একজন (Vivek Agnihotri)।

     

  • Ranveer Singh: নাগপুরে আরএসএস দফতরে রণবীর সিং, কেন জানেন?

    Ranveer Singh: নাগপুরে আরএসএস দফতরে রণবীর সিং, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস কর্তা মোহন ভাগবতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জের তারকা অভিনেতা রণবীর সিং (Ranveer Singh)। তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুক্রবার তিনি গিয়েছিলেন নাগপুরে, বিজেপির সদর কার্যালয়ে (Mohan Bhagwat)।  সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, ভগবতের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অভিনেতা সাদা কুর্তা-পায়জামা পরেছিলেন। জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল ৪টা নাগাদ বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন ধুরন্ধরের তারকা। সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান নাগপুরে, আরএসএসের সদর দফতরে। সেখানে তিনি ছিলেন ঘণ্টা দেড়েক।

    ভগবতের সঙ্গে সাক্ষাৎ (Ranveer Singh)

    জানা গিয়েছে, রণবীর আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের সঙ্গে দেখা করেন। আলোচনা করেন তাঁর ছবিটি নিয়ে। তাঁকে সংগঠনের কাজকর্ম ও সেবামূলক উদ্যোগ সম্পর্কে জানানো হয়। রণবীর রেশিমবাগে অবস্থিত ড. হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দিরেও যান। সেখানে তিনি আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা কেবি হেডগেওয়ার এবং সরসংঘচালক এমএস গোলওয়াকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সঙ্ঘের তরফে তাঁকে ওই দুই নেতার জীবন সম্পর্কে অবহিত করা হয়। রণবীর সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আরএসএস সদস্যের সঙ্গেও কথা বলেন। রণবীরের এই সফর এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পাচ্ছে। আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ১৯ মার্চ। রোজগার করেছে ১০০০ কোটি টাকারও বেশি (Ranveer Singh)।

    প্রোপাগান্ডা বলে সমালোচনার কড়া জবাব

    তবে, অনেকেই এই ছবিটিকে প্রোপাগান্ডা বলে সমালোচনা করেছেন (Mohan Bhagwat)। সম্প্রতি, চলচ্চিত্র নির্মাতা সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সমালোচকদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন এবং ছবির পরিচালক আদিত্য ধর ও অভিনেতা রণবীর সিংকে সমর্থন করেন। ছবিটি দেখে তিনি প্রশংসাও করেন।

    তিনি লিখেছেন, “অনেক লেখক ও অভিনেতা প্রোপাগান্ডার ওপর কেরিয়ার গড়েছেন, আর ইন্ডাস্ট্রি চুপ করে থেকেছে। এখন একই দল ধুরন্ধরকে নিয়ে মজা করছে। আপনি নিজেকে লিবারাল বলতে পারেন না যদি আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় উপহাস করা। কবে থেকে সত্যকে প্রোপাগান্ডা বলা শুরু হয়েছে, জানি না… অদ্ভুত সময়। মূল কথায় আসি… আমি @আদিত্যধর ফিল্মস এবং @রণবীরঅফিসিয়ালকে বলতে চাই, এই খারাপ নজর এভাবে যাবে না… এক মুঠো লাল লঙ্কায় কাজ হবে না… পুরো ক্ষেত জ্বালাতে হবে (Mohan Bhagwat)। গত রাতে (Ranveer Singh) ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ দেখলাম… অসাধারণ ছবি (এসআইসি)।”

     

  • Arindam Sil: ‘কর্পূর’ নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল আদালত পর্যন্ত, কেন জানেন?

    Arindam Sil: ‘কর্পূর’ নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল আদালত পর্যন্ত, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিচালক অরিন্দম শীলের (Arindam Sil) বাংলা সিনেমা ‘কর্পূর’ (Korpur) নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল আদালত পর্যন্ত। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯ মার্চ। এই ছবির দুই চরিত্রে অভিনয় করছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং বিদায়ী মন্ত্রী তৃণমূলেরই ব্রাত্য বসু। ঘটনাচক্রে দুজনেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে হাজির ভোট-বাজারে। সেই কারণেই এই ছবির প্রদর্শন বন্ধের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা।

    বিতর্কের কেন্দ্রে ‘কর্পূর’ (Arindam Sil)

    বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে ১৪ মার্চ। তারপরেই রাজ্যজুড়ে এই সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। অভিযোগ, বড় পর্দা ও প্রচারের হোর্ডিংকে হাতিয়ার করে নিজেদের কেন্দ্রেও কার্যত পরোক্ষভাবে ভোটের প্রচার সারছেন এই দুই তৃণমূল নেতা। বিরোধীদের দাবি, সিনেমার প্রচারের মাধ্যমে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মামলাকারীদের পক্ষে আবেদনে ২০১৯ সালের একটি ছবির নজির টেনে নিয়ে আসা হয়েছে। সেই সময় লোকসভা নির্বাচনের আগে ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ বায়োপিকটির মুক্তি ঠিক একইভাবে পিছিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে ‘কর্পূর’-এর ক্ষেত্রে কমিশন কেন নীরব? এই প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, কমিশনে অভিযোগ জানানোর পরেও লাভ হয়নি।

    মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্য

    জানা গিয়েছে, নয়ের দশকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা হয়নি আজও। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি এই ছবি অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে। রাজনৈতিক থ্রিলারধর্মী এই ছবির পোস্টার মুক্তি পেয়েছিল আগেই। এবার প্রকাশ্যে এল ছবির প্রথম ঝলক। সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের চরিত্রে এই ছবিতে দেখা যাবে কুণাল ঘোষকে। এই ছবির মাধ্যমেই বড়পর্দায় অভিনেতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে কুণালের। ‘কর্পূরে’ মনীষা মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন ব্রাত্য বসু, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এক বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে খোদ অরিন্দম শীলকেও (Arindam Sil)।

    বাস্তব ঘটনার প্রেরণায় নির্মিত এই রাজনৈতিক থ্রিলার, বহু অজানা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে দর্শককে। ‘কর্পূরে’র প্রথম ঝলক থেকে যা জানা গেল, তা মোটামুটি অনেকটা (Korpur) এই রকম। ১৯৯৭ সাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মৌসুমী সেন আচমকাই উধাও হয়ে যান। বহু আলোচিত ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতিকাণ্ডের মধ্যেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। খবরে প্রকাশিত হয়, তিনি নাকি লন্ডনে পালিয়ে গিয়েছেন। যদিও তদন্তে যুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক, যাঁর কণ্ঠ পরে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, সন্দেহ করেছিলেন এর নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের (Arindam Sil)।

     

  • Dhurandhar-2: ১৮ দিনে ১০০০ কোটি! দুরন্ত গতিতে ছুটছে ‘ধুরন্ধর ২’, গড়ল বলিউডের নয়া রেকর্ড

    Dhurandhar-2: ১৮ দিনে ১০০০ কোটি! দুরন্ত গতিতে ছুটছে ‘ধুরন্ধর ২’, গড়ল বলিউডের নয়া রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বলিউড (Bollywood) বক্স অফিসে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar-2)। মুক্তির ১৮তম দিনেই ভারতীয় বক্স অফিসে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল এই ছবি। আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলারটি প্রথম বলিউড সিনেমা হিসেবে ভারতের বাজারে নিট (Net) ১০০০ কোটি টাকার কালেকশন ছাড়িয়ে গেছে।

    ঐতিহাসিক মাইলফলক (Dhurandhar-2)

    ভারতের বক্স অফিসে (Dhurandhar-2) সব সংস্করণ হিন্দি, তামিল, তেলুগু ইত্যাদি মিলিয়ে ১০০০ কোটি টাকার গণ্ডি পার করা প্রথম হিন্দি সিনেমা হল ‘ধুরন্ধর ২’ (Bollywood)। এর আগে কেবল ‘বাহুবলী ২’ এবং ‘পুষ্পা ২’ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। কিন্তু, উভয় দক্ষিণী সিনেমা।

    রণবীর সিং-এর রেকর্ড

    এই সাফল্যের সঙ্গে রণবীর সিং বলিউডের প্রথম অভিনেতা হিসেবে ১০০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করলেন। ছবিতে তার দ্বৈত চরিত্র জাসকিরাত এবং হামজা দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাত্র ৬ দিনে হিন্দি সংস্করণে ৫০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে ছবিটি (Dhurandhar-2) এর আগেই রেকর্ড গড়েছিল।

    বিশ্বজুড়ে আয়

    বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে সিনেমাটি ইতিমধ্যেই ১৫০০ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে। উত্তর আমেরিকায় এটি সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্র (Bollywood) হিসেবে ‘বাহুবলী ২’-এর (Dhurandhar-2) রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে (আড়াই কোটি ডলারের বেশি)।এই মাইলফলকের মাধ্যমে রণবীর সিং ভারতে ১,০০০ কোটি টাকার নেট গ্রসার সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র তারকা হয়েছেন। জসকিরাত এবং হামজা হিসেবে তাঁর দ্বৈত ভূমিকা ব্যাপকভাবে দর্শক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে।

    টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড

    অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘বুক মাই শো’-তে (BookMyShow) ১.৫ কোটির (Dhurandhar-2) বেশি টিকিট বিক্রি হওয়া প্রথম বলিউড ছবি এটি। হিন্দি সংস্করণের পাশাপাশি তেলুগু, তামিল এবং কন্নড় সংস্করণের আয়ও এই বিশাল মাইলফলক ছুঁতে সাহায্য করেছে। ১৮তম দিনেও সিনেমাটি বক্স অফিসে (Bollywood) দাপট বজায় রেখেছে। রণবীর সিং ছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন এবং সারা অর্জুন।

  • Dhurandhar-2: “আয়ের অর্ধেক চাই”, ‘ধুরন্ধর-২’-র সাফল্যে অদ্ভুত দাবি পাকিস্তানের লিয়ারির বাসিন্দাদের

    Dhurandhar-2: “আয়ের অর্ধেক চাই”, ‘ধুরন্ধর-২’-র সাফল্যে অদ্ভুত দাবি পাকিস্তানের লিয়ারির বাসিন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধুরন্ধর ব্লকবাস্টার। আর ধুরন্ধর ২- (Dhurandhar: The Revenge) আরও বড় হিট। বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছে আদিত্য ধরের এই ছবি। ইতিমধ্যেই ১৩০০ কোটির গণ্ডি পার করে গিয়েছে ধুরন্ধর-২ এর বক্সঅফিস কালেকশন। মার্কিন মুলুকেও ধুরন্ধর-২ সবথেকে হিট ভারতীয় সিনেমা। আর ভারতীয় সিনেমার এই সাফল্য দেখে, এবার আজব দাবি পাকিস্তানের বাসিন্দাদের। বিশ্বজুড়ে ধুরন্ধর ২ যে ব্যবসা করছে, সেই লাভের টাকা থেকে ভাগ চাই পাকিস্তানবাসীর। পাকিস্তানের লিয়ারির উপরে তৈরি ধুরন্ধর ও ধুরন্ধর ২-র গল্প। তাই সাফল্যের ভাগ দিতে হবে লিয়ারিবাসীকেও। ওমনই দাবি এলাকার বাসিন্দাদের।

    ভারত টাকা দিলেই উন্নতি সম্ভব

    রণবীর সিংয়ের সিনেমা ব্লকবাস্টার হিট হতেই লিয়ারির বাসিন্দারা সিনেমার লাভের টাকায় ভাগ চেয়ে বসলেন। তাদের দাবি, লিয়ারির রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ধুরন্ধর: দ্য় রিভেঞ্জ সিনেমার আয়ের ভাগ দেওয়া হোক তাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিয়োয় লিয়ারির স্থানীয় বাসিন্দাদের বলতে শোনা যাচ্ছে যে সিনেমায় যেহেতু লিয়ারির নাম ও ব্যাকড্রপ ব্যবহার করা হয়েছে, তাই লিয়ারির বাসিন্দাদের লাভবান হওয়া উচিত। এক বাসিন্দা বলেই বসেন যে ভারত যদি টাকা দেয়, তাহলেই একমাত্র রাস্তাঘাটের উন্নতি সম্ভব। আবার অনেকে বলেন যে লিয়ারির জনগণের উন্নয়নের জন্য অন্তত কয়েকশো কোটি টাকা পাঠানো উচিত। যেহেতু পাকিস্তানে সত্যি লিয়ারি নামক জায়গাটি রয়েছে এবং সেখানকার গল্পের উপরে ভর করেই আদিত্য ধরের তৈরি এই দুই সিনেমা বিপুল আয় করেছে, তাই ধুরন্ধর-২ সাফল্যে তাদেরও ভাগ রয়েছে।

    অন্তত ৫০০ কোটি লিয়ারির মানুষদের দিন!

    সম্প্রতি, সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের লিয়ারির বাসিন্দারা ‘ধুরন্ধর ২’-এর সাফল্যে মুখ খুলেছেন। তাঁদের মতে, ‘‘যদি ১০০০ কোটি টাকা আয় করেন , তাহলে অন্তত ৫০০ কোটি লিয়ারির মানুষদের দিন। যদি আপনাদের আয়ের অর্ধেকও দেন, তাহলে এখানকার রাস্তাগুলো তৈরি হয়ে যাবে। বাচ্চারা এগুলোর উপর দিয়ে হাঁটলে পায়ে ফোস্কা পড়ে যায়।’’ ঘটনার সূত্রপাত ছবির চিত্রনাট্য ও চিত্রায়ণ নিয়ে। লিয়ারি এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছবিটিতে তাঁদের এলাকা এবং সেখানকার সংস্কৃতিকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিতে লিয়ারিকে অপরাধের মূল কেন্দ্র এবং সন্ত্রাসবাদের আখড়া হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চরম অপমানজনক প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি বাণিজ্যিক ছবি নিজের মুনাফার জন্য একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে না।

  • Rahul Arunoday Death: চোরাবালিতে আটকে অস্তাচলে অরুণোদয়! শ্যুটিংয়ের অনুমতি ছিল না, দাবি ওড়িশা পুলিশের

    Rahul Arunoday Death: চোরাবালিতে আটকে অস্তাচলে অরুণোদয়! শ্যুটিংয়ের অনুমতি ছিল না, দাবি ওড়িশা পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: থেমে গেল “সহজ কথা”। শ্যুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Death)। রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন ৪৩ বছরের অভিনেতা। জানা গিয়েছে, শ্যুটিঙের পর তালসারির সমুদ্রে নামেন তিনি। জলে ডুবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। সূত্রের খবর, আজ সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে। তারপর দুপুরেই বাড়িতে নিয়ে আসা হবে অভিনেতার মরদেহ।

    কী ঘটেছিল রাহুলের সঙ্গে

    সূত্রের খবর, ওড়িশা পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, আজকের গোটা ঘটনা তারা জানতে পেরেছে দিঘা থানার থেকে। এর পাশাপাশি, ওড়িশার বালাসোর জেলার পুলিশ সুপারের দাবি, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে শ্যুটিং করার, জলে নেমে শ্যুটিং করার কোনও অনুমতি পুলিশের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, আজ যে জায়গায় শ্যুটিং হয়েছে সেটি তালসারি বিচ। এটা তালসারি মেরিন থানার আওতাধীন। সাধারণত যেখানে এই থানা রয়েছে বা যেখানে পর্যটকরা থাকেন, তার থেকে বেশ কিছুটা দূরে, আজ দুপুরবেলায় নিরবিলি ফাঁকা জায়গায় তালসারি বিচে সমুদ্রে নেমে শ্যুটিং চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সমুদ্রের অনেকটা ভিতরে শ্যুটিং চলছিল। সেই সময় জোয়ারের প্রভাব ছিল। চোরাবালির খাঁজ ছিল। সেখানে পড়ে রাহুল তলিয়ে যান। উপস্থিত ক্রু মেম্বাররাই কোনওমতে রাহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তাররা অভিনেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, সমুদ্রের বেশ কিছুটা ভিতরে একটি নাচের দৃশ্যের শ্যুটিং চলছিল। অনুমান, সেই সময় চোরাবালিতে পড়ে ডুবে তলিয়ে যান অভিনেতা।

    হঠাতই জল বাড়ে

    স্থানীয় সূত্রে এও শোনা যাচ্ছে, রাহুল (Rahul Arunoday Banerjee) যখন সমুদ্রে নেমেছিলেন, তখন শান্তই ছিল সমুদ্র। তবে ৪টে নাগাদ আচমকাই জল বেড়ে যায়। অনুমান হয়তো জোয়ারের প্রভাবে এমন ঘটনা ঘটেছিল। এমনিতেও তালসারির সমুদ্র সম্পর্কে এ কথা প্রচলিত যে আচমকা সেখানে জল বেড়ে যায়। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। সিনেমা এবং সাহিত্য জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। ৪৩ বছর বয়সে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০০০ সালে ‘চাকা’ ছবিতে অভিনয় দিয়ে কেরিয়ার শুরু। রাহুলকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল ‘চির দিনই তুমি যে আমার’। ২০০৮ সালে ‘আবার আসব ফিরে’ ও ‘জ্যাকপট’ ছবিতে অভিনয়। ‘জুলফিকার’, ‘বিদায় ব্যোমকেশ’, ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাহুল। ২০০৮ সাল। কৃষ্ণ ও পল্লবীর প্রেম দেখে একটা গোটা প্রজন্ম নতুন করে বাংলা ছবির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। পর্দার জুটির প্রেম বাস্তবেও পরিণতি পায়। ২০১০ সালে বিয়ে হয় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার। তার পরে পুত্রসন্তানের জন্ম। দাম্পত্যে দূরত্বও আসে একসময়। কিন্তু, তখনও দর্শকের কাছে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি অটুট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙা সম্পর্ক আবার জোড়া লাগতে থাকে।

    মৃত্যুর কারণে একাধিক অসংগতি

    বিভিন্ন ব্যক্তিরা যা যা বলছেন, তাতে একাধিক অসংগতি রয়েছে। শ্যুটিং সেটে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ বলছেন যে, শ্যুটিং চলাকালীনই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। তবে সেই সময়ে শট চলছিল না। শট চেঞ্জ হচ্ছিল। সেই সময়টা সমুদ্রের জলেই দাঁড়িয়েছিলেন রাহুল আর তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা। তাঁরা ২ জনেই সমুদ্রের দিকে এগোচ্ছিলেন। হঠাৎই টাল সামলাতে না পেরে জলের মধ্যে পড়ে যান ২ জনেই। শ্যুটিং ক্রু-রা সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়েন। শ্বেতাকে ধরা গেলেও, সেই সময়ের মধ্যে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেন রাহুল। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকেই বলছেন, যে সময়ে রাহুলকে জল থেকে উদ্ধার করা হয় ও গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, সেই সময় ও তাঁর জ্ঞান ছিল। কথাও বলেছেন।

    অভিনেতা, লেখক, সঞ্চালক

    টলিউডের পর্দায় এক আলাদা স্বকীয়তা নিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)। নায়ক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও খুব দ্রুতই প্রমাণ করেছিলেন, শুধু রোম্যান্টিক হিরো নন, চরিত্রের গভীরে ঢুকে অভিনয় করতে পারাই ছিল তাঁর প্রকৃত ইউএসপি। মঞ্চ থেকে অভিনয়ে হাতেখড়ি রাহুলের। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন লেখকও। বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখালেখি প্রকাশিত হয়েছে। বহুমুখী সত্তাই যেন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। অভিনয় ছাড়াও সম্প্রতি ‘সহজ কথা’ নামক একটি পডকাস্ট শো সঞ্চালনা করতেন রাহুল। সেটিও তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল। রাহুলের অকাল প্রয়াণ যেন অসময়ে থেমে যাওয়া এক সম্ভাবনাময় যাত্রা। তবুও তাঁর কাজ, তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি, আর চরিত্রের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা—সব মিলিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে থাকবেন দর্শকের স্মৃতিতে।

    শোকস্তব্ধ টলিউড

    রাহুলের প্রথম ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রথম ছবিতেই নায়ক তিনি। পরিচালক হিসেবেও রাজের সেই ছবিতেই হাতেখড়ি। রাজের কথায়, “এখনও মনে হচ্ছে খবরটা ভুল। আমাদের প্রথম ছবি একসঙ্গে। ১৮ বছর হয়ে গিয়েছে সেই ছবির। ও মঞ্চেও ভালো কাজ করেছে। ভালো লেখালিখি করত। খুব গুণী ছেল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় ক্ষতি। ওর পরিবারেরও বড় ক্ষতি।” ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। রাহুল প্রয়াণে আজ চোখে জল তাঁর। বলেন, “ওর সঙ্গে চিরদিনই তুমি যে আমারের সেটে আলাপ। বন্ধু বলব না, ভাই ছিল, বড্ড ভালো ছাত্র ছিল। শেষ একসঙ্গে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস করলাম। কী করে বুঝব এমন হবে? আমরা একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়ার খাওয়া-দাওয়া করার প্ল্যান করেছিলাম ক’দিন ধরে। ওর সঙ্গে তো আত্মার সম্পর্ক ছিল।”

    বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি

    অভিনেতার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সমাজমাধ্যমে লেখেন, “টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর অসাধারণ অভিনয়, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং স্পষ্ট মতামত আমাদের মনে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা— সর্বত্র তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের প্রতি রইল আন্তরিক সমবেদনা।”  অভিনেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

LinkedIn
Share