Category: বিনোদন

Get updates on Entertainment News Celebrities, Hollywood, Bollywood, Tollywood Movies, Web series, OTT from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট, জগদ্ধাত্রী তারপর বড়দিন! কলকাতা এখন উৎসব মুখর। ডিসেম্বরে তিলোত্তমা মাতবে চলচ্চিত্র উৎসবে (Kolkata Film Festival)। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শহরে। এখন তার প্রস্তুতিই তুঙ্গে। রবিবার উন্মোচিত হল ৩২ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো। জানানো হল, চেনা মঞ্চ ছেড়ে এবার ইতিহাসের শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বসতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আসর। উৎসব ঘিরে এবার রয়েছে চমকের পর চমক। দক্ষিণী ছবির মহাতারকা রজনীকান্ত থেকে প্রভাস, বলিউডের অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, অনুপম খের, পরেশ রাওয়াল, কঙ্গনা রানাউত- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চলা তারকাদের তালিকা দীর্ঘ। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে কলকাতা দেখতে চলেছে তারকার মেলা।

    কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো

    রবিবার নন্দনে ২- প্রেক্ষাগৃহে সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির সূচনা হল। পরিচালক সন্দীপ রায়ের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে এবারের লোগো। সেটির উদ্বোধন করেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ এবং উৎসব কমিটির পদাধিকারীরা। সাংবাদিক বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন মিঠুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ বিশিষ্টরা। এ’বছর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড। ৫ নভেম্বর থেকে www.kiff.in ওয়েবসাইট থেকে চলচ্চিত্র উৎসব সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে, আবেদন করা যাবে কার্ডেরও।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা

    লোগো প্রকাশের মঞ্চ থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা প্রকাশ্যে এনে কার্যত চমক দেন মহাগুরু। তাঁর কথায়, রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার এবং কঙ্গনা রানাউতের মতো তারকাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালক অনুরাগ বসু ও মধুর ভাণ্ডারকরও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তবে এই তালিকার আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ঘোষণা উৎসব কমিটির তরফে এখনও বাকি। তবে এবারের উৎসবে মোট কতগুলি ছবি দেখানো হবে, কোন কোন দেশের ছবি জায়গা পাবে, কিংবা প্রতিযোগিতা বিভাগের তালিকায় কারা থাকবে- সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি আয়োজকরা। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, ছবি বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রথম সাংবাদিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল লোগো প্রকাশ এবং উৎসবের প্রাথমিক পরিকল্পনা জানানো । নির্দিষ্ট সময়ে বাকি তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

    পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্ন

    এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্নে উৎসব কমিটির এক কর্তা আশ্বস্ত করেছেন, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। কোনও আইন বা বিধি লঙ্ঘন করা হবে না। উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উদ্বোধনের দিনে যে ছবি প্রদর্শিত হবে, প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে সেটি অন্য কোনও প্রেক্ষাগৃহে আবারও দেখানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। অর্থাৎ ভিক্টোরিয়ায় উদ্বোধনী আয়োজন হলেও দর্শকদের জন্য ছবিটি দেখার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার ভাবনা রয়েছে কমিটির। উৎসবের থিম মিউজিক এবং বিশেষ প্রোমো তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন রাতুল শঙ্কর ও অতনু।

    ‘ফিল্ম বাজার’-এর আয়োজন

    কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে এবার বড় আকারে ‘ফিল্ম বাজার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ ও কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুধু ছবির প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উদ্বোধন, মহাতারকাদের সম্ভাব্য উপস্থিতি, আয়ারল্যান্ডকে ফোকাস কান্ট্রি নির্বাচন এবং ফিল্ম বাজারের পরিকল্পনা জমজমাট কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রাথমিক তথ্য জানানো হয়েছে। উৎসব কমিটির সদস্য অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানান, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে উৎসবের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আবেদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতেও ডেলিগেট কার্ড সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

    চলচ্চিত্র উৎসব উৎসাহী মুখ্যমন্ত্রী

    হাওড়ার সাঁতরাগাছি থেকে নতুন একটি ট্রেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবছর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘চলতি বছরের কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অনেক জাতীয় স্তরের কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রবাসী ভারতীয় সম্মেলন হবে।” প্রতি বছরই দুর্গাপুজো শেষ হতেই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ বার রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব। ফলে এবারের উৎসব ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র মহলে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের৷ চলচ্চিত্রপ্রেমী থেকে শুরু করে সিনেদুনিয়ার কলাকুশলীরা, সকলেই এখন ১৭ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে। রবিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসবের লোগো প্রকাশের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল প্রস্তুতি পর্ব।

    নন্দন চত্বরে পরিবর্তনের ছোঁয়া

    বদলের বাংলায় নন্দন চত্বরেও এল পরিবর্তন। শহরের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকের উপরে সাদা রং করে দেওয়া হয়েছে। তবে অক্ষত রয়েছে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক। ১৯৮০–তে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু যা স্থাপন করেছিলেন। তার ঠিক বছর পাঁচেক পর ১৯৮৫–তে সত্যজিৎ রায় নন্দনের উদ্বোধন করেছিলেন। ২০১১–তে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়। ২০১৬–য় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকও লাগানো হয়েছিল নন্দন–রবীন্দ্রসদন চত্বরে সৌন্দর্যায়নের কাজের পরে। ২০২৬–এ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফের পালাবদল হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসন শেষে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রিত্বে হতে চলেছে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে এখানে নতুন ফলক আবার বসবে। মিঠুন জানান সেখানে বাংলার কারুরই নাম আসবে, তবে কার কী নামের ফলক বসবে, সেটা তিনি এখনই জানাতে চাননি।

  • Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুম্বই পুলিশের দাবি, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে পরিকল্পিত অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক। অমৃতসর থেকে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন অনিল পণ্ডিতের নামও উঠে এসেছে।

    এই ঘটনায় রাজস্থানের কোটা থেকে ধৃত তিন অভিযুক্তকে বুধবার, ২১ অক্টোবর সকালে মুম্বইয়ে নিয়ে এসেছে পুলিশ। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই মামলায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা রয়েছেন।

    কী এই ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি?

    পুলিশ সূত্রে খবর, অস্ত্র পাচারের ক্ষেত্রে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় অস্ত্র রেখে দেওয়া হয়। যাঁদের অস্ত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাঁদের সেই জায়গার ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে, তা সরাসরি জানা কঠিন হয়ে পড়ে।

    তদন্তকারীদের দাবি, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে কুণাল ও সুমিত অমৃতসরে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেন। অস্ত্র কোথায় রাখা হয়েছিল, সেই তথ্য তাঁদের আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে অস্ত্রগুলি ঠিক কে সেখানে রেখে গিয়েছিল, তা কুণাল ও সুমিত জানেন না বলে দাবি।

    এই কাজের জন্য কুণাল ও সুমিতকে ৭০-৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। ওই টাকা থেকে ১০-১২ হাজার টাকা দেওয়া হয় রাধা ও বাবিতাকে। অভিযোগ, এই দুই মহিলা অস্ত্রগুলি মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

    কীভাবে অস্ত্র পৌঁছেছিল মুম্বইয়ে?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কুণাল চলতি বছরের জুলাই মাসে সোনিপতের জেল থেকে মুক্তি পান। এরপর এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অনিল পণ্ডিতের পরিচয় হয়। পরে একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    প্রায় দু’সপ্তাহ আগে কুণালকে অমৃতসর থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই কাজে নিজের বান্ধবী রাধাকে ব্যবহার করেন কুণাল। রাধার সঙ্গে বাবিতাও মুম্বইয়ে যান।

    পুলিশের দাবি, রাধা ও বাবিতা সোনিপতের একটি কারখানায় কাজ করতেন। তাঁদের উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা মুম্বইয়ের দাদরে গিয়ে তিনজনের হাতে অস্ত্রের একটি বড় চালান তুলে দেন। এই অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    কোটা থেকে মুম্বইয়ে তিন অভিযুক্ত

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত তিন অভিযুক্ত হল রেহান ওরফে সুক্কা, হরিয়ানার বাসিন্দা ফুল সিং এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ঋত্বিক কুর্মি ওরফে রোশন, যিনি মুম্বইয়ে থাকতেন।

    কোটা পুলিশ তাঁদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করানো হলে অভিযুক্তদের মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয়। বুধবার সকালে সড়কপথে মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর তাঁদের জিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলের দফতরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    শুধু টাইগার নয়, টার্গেটে ছিলেন সলমন-আমির-অক্ষয়ও!

    প্রায় ১৬ ঘণ্টার সড়কযাত্রার সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা কয়েকজন বলিউড অভিনেতাকে নিশানা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। সেই তালিকায় সলমন খান, অক্ষয় কুমার ও আমির খানের নাম রয়েছে বলে খবর। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, সলমন খানের কড়া নিরাপত্তার কারণে তাঁকে নিশানা করা কঠিন বলে মনে হয়েছিল অভিযুক্তদের। এরপর তুলনামূলক কম নিরাপত্তা রয়েছে বলে মনে করে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা করা হয়। জুহুতে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে টাইগার আসবেন বলে কেউ তাঁদের জানিয়েছিল বলে অভিযোগ।

    এমনকী, গত ১১ অক্টোবর অভিযুক্তরা ওই ফুটবল মাঠে গিয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে সেদিন অভিনেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।

    জুহুতে কী ঘটেছিল?

    রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত দু’জন বাইক আরোহী গুলি চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছ’টি গুলি চালানো হয়েছিল। অভিনেতা বড়সড় আঘাত এড়ালেও তাঁর গাড়ির চালক এবং এক পথচারী আহত হন।

    ঘটনার পর অন্ধেরিতে একটি পরিত্যক্ত মোটরবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। সেটি হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা প্রথমে সুরাটে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে জয়পুরগামী ট্রেনে ওঠে। পরে বাসে দিল্লি হয়ে নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ।

    এই ঘটনায় খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ।

    দিল্লি থেকে আরও চারজন গ্রেফতার

    মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনায় কুণাল (২১), সুমিত (১৯), রাধা (২৩) এবং বাবিতা (২৩) নামে চারজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের দিল্লি ও হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    অভিযোগ, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশেই কুণাল ও সুমিত অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং রাধা ও বাবিতা তা মুম্বইয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন। অনিল পণ্ডিত বিদেশে বসে অপরাধচক্র পরিচালনা করেন বলে পুলিশের সন্দেহ। তবে এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

    চারজনকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৩৫(১)(বি) ধারার অধীনে আদালতে পেশ করা হয় বলে সূত্রের খবর। পরে মহারাষ্ট্র পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মুম্বই, তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের অনুমতি চায়। আদালত সেই অনুমতি দেয়। এরপর মুম্বই পুলিশ তাঁদের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড পায়।

    তদন্তে কোন দিকগুলি গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ঘটনায় তদন্তকারীদের মূল নজর তিনটি বিষয়ে—গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশদাতা কে, অস্ত্র সরবরাহের গোটা নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত এবং হামলার পিছনে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকৃত ভূমিকা কী।

    রেহান ও অনিল পণ্ডিতের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। অনিল পণ্ডিতকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে একটি অযাচাইকৃত পোস্টে ওই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর। তবে পোস্টটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে গ্যাংয়ের প্রত্যক্ষ যোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা যে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং এর পিছনে অস্ত্র সংগ্রহ, পরিবহণ এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতাদের নিয়ে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করেছে কি না, এখন সেই দিকেই নজর মুম্বই ও দিল্লি পুলিশের।

  • Ramayana Release Date: বিশ্বজুড়ে একই দিনে মুক্তি পাবে রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’, ঘোষণা নির্মাতাদের

    Ramayana Release Date: বিশ্বজুড়ে একই দিনে মুক্তি পাবে রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’, ঘোষণা নির্মাতাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহু প্রতীক্ষার অবসান। রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor’s Ramayana) অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত পৌরাণিক ছবি ‘রামায়ণ’-এর প্রথম পর্বের (Ramayana Release Date) মুক্তির দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন নির্মাতারা। আগামী ৫ নভেম্বর, ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি। এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ৬ নভেম্বর এবং ভারতে ৮ নভেম্বর ছবি মুক্তির সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে এবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই দিনে ছবি মুক্তির কথা জানিয়েছেন নির্মাতারা। ছবির প্রযোজক নমিত মালহোত্রা এবং পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির এই মহাকাব্যিক প্রজেক্ট ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। সম্প্রতি নবরাত্রির শুভ সূচনায় ছবির নির্মাতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টার প্রকাশ করে মুক্তির দিন ঘোষণা করেন। পোস্টারে দেখা গিয়েছে রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী, যশ এবং রবি দুবেকে। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আগামী ২০ অক্টোবর, বিজয়া দশমীর দিন থেকে ছবির প্রথম পর্বের অগ্রিম টিকিট বুকিং শুরু হবে। অর্থাৎ, দুর্গাপুজোর উৎসবের আবহেই শুরু হয়ে যাবে বহু প্রতীক্ষিত এই ছবির টিকিট কাটার পালা।

    বাল্মীকি রামায়ণের আধারে তৈরি মহাকাব্যিক ছবি

    মহর্ষি বাল্মীকি রচিত রামায়ণের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ‘রামায়ণ’। বিশাল বাজেট, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে ছবিটিকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী পৌরাণিক প্রজেক্ট হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ছবিটি দুটি পর্বে মুক্তি পাবে। নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই ছবির প্রযোজনায় রয়েছে নমিত মালহোত্রার প্রাইম ফোকাস স্টুডিওজ, ডিএনইজি এবং যশের মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনস। ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুরকার হ্যান্স জিমার এবং ভারতের অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান। আইম্যাক্স প্রযুক্তিতে নির্মিত ছবিটি একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাষায় মুক্তি পাওয়ার কথা। হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার পাশাপাশি তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, জাপানি, ম্যান্ডারিন, বাহাসা ইন্দোনেশিয়া, থাই এবং আরবি ভাষাতেও ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    ছবির প্রথম পর্ব মুক্তি পাবে ৫ নভেম্বর

    ছবির অভিনয়শিল্পীদের তালিকাও যথেষ্ট আকর্ষণীয়। রামচন্দ্রের ভূমিকায় রণবীর কাপুর এবং সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবীকে দেখা যাবে। যশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সানি দেওল, রবি দুবে, রাকুল প্রীত সিং, অরুণ গোভিল, কাজল আগরওয়াল, বিবেক ওবেরয়, শোভনা, কুণাল কাপুর, লারা দত্ত, শিবা চাড্ডা, ইন্দিরা কৃষ্ণন, অনুপম খের-সহ একাধিক পরিচিত অভিনেতা। ছবির প্রথম পর্ব মুক্তি পাবে ৫ নভেম্বর, ২০২৬। অন্যদিকে, দ্বিতীয় পর্বটি ২০২৭ সালের দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়ার কথা। ভারতীয় মহাকাব্যকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরার এই উদ্যোগ কতটা সাফল্য পায়, এখন সেদিকেই নজর চলচ্চিত্রপ্রেমীদের। বিশ্বজুড়ে একই দিনে মুক্তি এবং দশেরায় অগ্রিম বুকিং শুরুর ঘোষণায় ‘রামায়ণ’ নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে চলচ্চিত্র মহল।

  • Nana Patekar Dies: প্রয়াত নানা পটেকর, গোয়ার বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার বর্ষীয়ান অভিনেতা

    Nana Patekar Dies: প্রয়াত নানা পটেকর, গোয়ার বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার বর্ষীয়ান অভিনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত হলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর (Nana Patekar Dies)। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, গোয়ার ফ্ল্যাটে তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করার পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সং‌বাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, তার আগে ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন সেখানকার চিকিৎসকেরা। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অভিনেতার ছেলে মালহার পাটেকর জানান, বুকে ব্যথা অনুভব করার পরেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নানা। তার পরেই চিকিৎসকদের একটি দল অভিনেতার গোয়ার বাড়িতে যায়। সেখানে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে

    দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক স্মরণীয় চরিত্র

    নানার আসল নাম বিশ্বনাথ পটেকর। তবে অভিনয়জীবনে নানা নামেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। মূলত হিন্দি এবং মরাঠি সিনেমায় চুটিয়ে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন তামিল সিনেমাতেও। মুম্বইয়ের স্যার জে জে স্কুল অব আর্ট থেকে পড়াশোনা করার পর থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় তাঁর অভিষেক। এরপর ‘আজ কি আওয়াজ’, ‘প্রতিঘাত’, ‘মোহরে’ এবং ‘ত্রিশাগ্নি’-র মতো ছবিতে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ১৯৮৬ সালের ‘অঙ্কুশ’ তাঁর কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়। তবে ১৯৮৯ সালে বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘পরিন্দা’ ছবিতে গ্যাংস্টার ‘আন্না’র চরিত্রে অভিনয় তাঁকে জাতীয় স্তরে বিশেষ পরিচিতি দেয়। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান পান। একই সঙ্গে পান ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও।

    ‘ক্রান্তিবীর’ থেকে ‘অগ্নিসাক্ষী’

    নব্বইয়ের দশকে নানা পাটেকর হিন্দি সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯২ সালে ‘অঙ্গার’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কার পান। ১৯৯৩ সালের ‘তিরঙ্গা’র পর ১৯৯৪ সালে ‘ক্রান্তিবীর’-এ প্রতাপ নারায়ণ তিলকের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান এবং ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। ১৯৯৬ সালের ‘অগ্নিসাক্ষী’র জন্য আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো ছবিতেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে নানা পাটেকরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের বৈচিত্র্য। কখনও ভয়ঙ্কর খলনায়ক, কখনও জটিল মানসিকতার নায়ক, আবার কখনও আবেগপ্রবণ ও অসহায় চরিত্র—প্রতিটি ভূমিকাতেই নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর ছাপ রেখেছেন তিনি।

    ‘অব তক ছাপ্পন’ থেকে ‘ওয়েলকাম’

    ২০০০-এর দশকেও নানা পাটেকর ছিলেন হিন্দি সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা। ২০০৪ সালের ‘অব তক ছাপ্পন’-এ মুম্বই পুলিশের কঠোর অফিসার সাধু আগাশের চরিত্রে অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। ২০০৫ সালের ‘অপরাধ’-এ রাজনৈতিকভাবে জটিল চরিত্রে অভিনয়ের জন্যও তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কার পান। তবে তাঁর অভিনয়ের পরিসর শুধু গম্ভীর চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০০৭ সালের ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এও একই চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। ২০১০ সালের ‘রাজনীতি’ ছবিতে আবারও রাজনৈতিক নাটকের জগতে নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।

    মারাঠি ও তামিল সিনেমাতেও উজ্জ্বল উপস্থিতি

    হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নানা পাটেকরের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালের ‘নটসম্রাট’ ছবিতে অবসরপ্রাপ্ত এক থিয়েটার অভিনেতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। বার্ধক্য, পরিবার ও জীবনের নানা হারানোর বেদনা—চরিত্রটির আবেগকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতা (মারাঠি) পুরস্কার পান। নানা পাটেকর তামিল সিনেমাতেও কাজ করেছেন। ভরতীরাজার ‘বোম্মালাট্টম’-এর পর ২০১৮ সালে রজনীকান্ত অভিনীত ‘কালা’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। ছবিতে হরিনাথ দেশাই নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

    পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ

    অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সৈনিকদের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবি তাঁর সামরিক জীবনের প্রতি আগ্রহেরও প্রতিফলন ঘটায়। সামাজিক কাজেও সক্রিয় ছিলেন নানা পাটেকর। ২০১৫ সালে মারাঠি অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে তিনি ‘নাম ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। মহারাষ্ট্রের কৃষক, বিশেষ করে খরা-পীড়িত কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে এই সংস্থা কাজ করে।

    টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত

    সেনাবাহিনীর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁকে সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। সাত দশক পেরিয়েও অভিনয় চালিয়ে গিয়েছেন নানা পাটেকর। তাঁর সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে ছিল ‘ভানবাস’ (২০২৪), ‘হাউসফুল ৫’ (২০২৫), ‘ও’ রোমিও’ এবং ‘সুবেদার’ (২০২৬)। বহুমুখী অভিনয় প্রতিভা, স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ধরন এবং পর্দায় তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতির জন্য ভারতীয় সিনেমায় নানা পাটেকরের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • Actress Mithu Mukherjee: প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়, নিভৃত জীবনেই থামল ‘কলকাতার রেখা’র পথচলা

    Actress Mithu Mukherjee: প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়, নিভৃত জীবনেই থামল ‘কলকাতার রেখা’র পথচলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের চক্কর থেকে সরে গিয়েছিলেন আগেই। এবার জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকেই চিরতরে বিদায় নিলেন অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় (Actress Mithu Mukherjee)। একসময় জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

    মিঠুর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের আবহ টলিপাড়ায়। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রয়াত অভিনেত্রীর ছবি শেয়ার করে শোকপ্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক (Cancer Battle)। তাঁর স্মৃতি ও তাঁর কাজ আমাদের মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকবে। গভীর শ্রদ্ধা।”

    ভিন্ন মেজাজে মিঠু (Actress Mithu Mukherjee)

    সাতের দশকের বাংলা ছবিতে মিঠুর উপস্থিতি ছিল স্বতন্ত্র। সৌন্দর্য, সাবলীল অভিনয় এবং সহজাত আকর্ষণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কখনও প্রেমিকা, কখনও প্রাণবন্ত তরুণী, আবার কখনও সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। নিজেকে কোনও নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে আটকে রাখেননি অভিনেত্রী।

    তাঁর অভিনয়ে যেমন ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা, তেমনই ক্যামেরার সামনে ছিল প্রাণখোলা উপস্থিতি। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘মৌচাক’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’র মতো একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

    মিঠুর সৌন্দর্য ও পর্দার আকর্ষণের সঙ্গে বলিউডের অভিনেত্রী রেখার মিল খুঁজে পেতেন দর্শকদের একাংশ। সেই কারণেই তাঁকে ভালোবেসে ‘কলকাতার রেখা’ নামে অভিহিত করা হয়েছিল। তবে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও খুব বেশি দিন আলোয় থাকেননি মিঠু।

    মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পর বাংলা ছবির জগতে মিঠুই এমন এক নায়িকা, যিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও স্বেচ্ছায়  নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। ব্যক্তিগত জীবনকে রেখেছিলেন সম্পূর্ণ আড়ালে। কেন তিনি এই দূরত্ব তৈরি করেছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে গিয়েছে।

    সরে যান বিনোদন জগতের আলো থেকে

    অভিনেত্রীর শেষ ছবি ছিল ‘আশ্রিতা’। ছবিটি দর্শকের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। শুধু অভিনয়ই নয়, ছবিটির প্রযোজনার দায়িত্বও সামলেছিলেন মিঠু। ‘আশ্রিতা’র সাফল্যের পর তাঁর সামনে আরও কাজের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি। বরং ধীরে ধীরে সরে যান বিনোদন জগতের আলো থেকে (Actress Mithu Mukherjee)।

    তাই দীর্ঘদিন মিঠুকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। জীবনের শেষ পর্বও কেটেছে নিভৃতেই। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার রাতে থেমে গেল সেই লড়াইও।

    মিঠুর প্রয়াণের (Cancer Battle) সঙ্গে সঙ্গে যেন বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও অবসান হল। একসময়ের আলোচিত এই অভিনেত্রী পর্দা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অভিনয় ও উপস্থিতির স্মৃতি (Actress Mithu Mukherjee) থেকে যাবে অমলিন।

     

  • Asha Bhosle: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান

    Asha Bhosle: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান ‘এই মেরি জিন্দেগি’। ২০২৩ সালের শেষ দিকে গানটি রেকর্ড করেছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা। হরিশ ব্যাস পরিচালিত বাবা-ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কাহিনি ‘ওম কা হরি’ ছবিতে গানটি (Final Film Song) ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে (Asha Bhosle) অভিনয় করেছেন রঘুবীর যাদব, অংশুমান ঝা এবং সোনি রাজদান। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর হলে মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটির।

    আশা ভোঁসলের মৃত্যুর কয়েক মাস পর ছবির নির্মাতারা ইউটিউবে গানটি প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত গানের সঙ্গে থাকা ভিডিওতে স্টুডিয়োতে গান রেকর্ড করার সময় আশার বেশ কিছু মুহূর্ত ধরা পড়েছে। পাশাপাশি ছবির নির্মাতাদের এবং অভিনেতা অংশুমান ঝার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কিছু দৃশ্যও রয়েছে। ফলে এটি শুধুমাত্র গান প্রকাশের ভিডিও নয়, বরং আশার শেষ ছবির গান তৈরির নেপথ্যের কিছু মুহূর্তও তুলে ধরেছে।

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ (Asha Bhosle)

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ গানটির সুর করেছেন রাজীব সারং। কথা লিখেছেন প্রদীপ শর্মা খুসরো। গানটি প্রকাশের পর শ্রোতাদের মধ্যেও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। ভিডিওতে আশা ভোঁসলেকে বলতে শোনা যায়, কীভাবে তিনি গানটি রেকর্ড করতে রাজি হয়েছিলেন।

    আশা ভোঁসলের কথায়, “ওঁরা যখন আমাকে ফোন করে বলেছিলেন যে গানটি পাঠাচ্ছেন, তখন আমি গানটি শুনেই হ্যাঁ বলে দিয়েছিলাম। আর কিছু জানতে চাইনি। গানটি আমার এতটাই ভালো লেগেছিল।”

    গানটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায়ও আশার অনুরাগীরা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক অনুরাগী লিখেছেন, “স্বর্গ থেকে আরও একটি রত্ন! জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আপনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।” অন্য এক জন লিখেছেন, “সবসময়ই কানে মধু ঢালে। তাঁকে খুব মনে পড়ছে।” আরও অনেকে হার্টের চিহ্ন এবং প্রিয় গায়িকাকে স্মরণ করে নানা বার্তা দিয়েছেন (Asha Bhosle)।

    আশা ভোঁসলে ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যান। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

    ‘ওম কা হরি’

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ এখন হরিশ ব্যাস পরিচালিত ‘ওম কা হরি’ ছবির অংশ হয়ে উঠেছে। ছবিতে নামভূমিকায় রয়েছেন অংশুমান ঝা এবং রঘুবীর যাদব। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোনি রাজদান, সমতা সুদীক্ষা এবং আয়েশা কাপুর। ফার্স্ট রে ফিল্মস প্রযোজিত ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে বাবা ও ছেলের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

    আশার শেষ ছবির গান হিসেবে ‘এই মেরি জিন্দেগি’ প্রকাশ পাওয়ায় গানটি তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের একটি বিশেষ স্মারক হয়ে রইল (Final Film Song)। ১৮ সেপ্টেম্বর ছবিটি হলে মুক্তি পেলে বড় পর্দায় তাঁর কণ্ঠের এই শেষ উপহার শোনার সুযোগ পাবেন দর্শকরা (Asha Bhosle)।

     

  • Uttam Kumar Tollygunge Tribute: জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে তারকার মেলা টালিগঞ্জে! শুভেন্দুর আবেদনে উত্তম কুমারকে প্রথম মাল্যদান রঞ্জিত মল্লিকের

    Uttam Kumar Tollygunge Tribute: জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে তারকার মেলা টালিগঞ্জে! শুভেন্দুর আবেদনে উত্তম কুমারকে প্রথম মাল্যদান রঞ্জিত মল্লিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে বৃহস্পতিবার আবেগ ও স্মৃতিতে ভাসল কলকাতা। টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন টালিগঞ্জে কার্যত বসেছিল চাঁদের হাট। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একের পর এক তারকা, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

    রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, দেব, জিৎ থেকে শুরু করে পরিচালক গৌতম ঘোষ—মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ-সহ আরও অনেকে। উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিও এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

    রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই প্রথম মাল্যদান

    বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রবীণ অভিনেতা এবং উত্তম কুমারের সহকর্মী হিসেবে রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই প্রথম মাল্যদানের আবেদন করেন শুভেন্দু। সেই মতো নিজের সহকর্মী ও বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমারের মূর্তিতে প্রথমে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান রঞ্জিত মল্লিক। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানান। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব রঞ্জিত মল্লিককে। প্রথা অনুযায়ী আমাকে বলা হয়েছিল মালা দিতে কিন্তু আমার মনে হয় ওঁর হাত দিয়েই সূচনা হওয়া উচিত।’এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের মতো একটি বিশেষ বছরে তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    উত্তম কুমারের ব্যাপ্তি বাংলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে

    মহানায়ককে স্মরণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি শ্রদ্ধা জানানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মহানায়কের জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বাংলা কিংবা ভারতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। শুভেন্দু বলেন, ‘মহানায়ক সম্পর্কে আমি পোস্ট করার আগে, একদম সকালে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।’

    ‘গোটা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের দিন’, মহানায়ককে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর

    জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারকে স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আজ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের জন্যই অত্যন্ত গর্বের দিন। বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া মহানায়কের শিল্পসৃষ্টি এখনও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে রয়েছে।’’ উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা ও অবদান নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে অমর হয়ে রয়েছেন উত্তম কুমার। সমস্ত বাঙালি গর্বিত।’’

    মহানায়কের জন্মশতবর্ষ বিশেষভাবে উদ্‌যাপন

    উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রাজ্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়েছে, তেমনই মহানায়কের জন্মশতবর্ষও বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে গুরুত্ব দিয়েছি, মহানায়কের ক্ষেত্রেও তাই। আগামিকাল উত্তমকুমার নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। তার ভূমি পুজো আছে, আমরা অনুষ্ঠান করব। অনেকগুলো প্রোগ্রাম নিয়েছি,  চারদিন ব্যাপী প্রোগ্রাম আছে।’

    একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক উদ্যোগের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর চার দিনের অনুষ্ঠানেই আয়োজন সীমাবদ্ধ থাকছে না। বছরভর মহানায়ককে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তম মঞ্চের সংস্কার, মহানায়কের বিভিন্ন মূর্তি সাজানো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে উত্তম কুমারের জীবন ও কর্মকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য

    উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জন্মদিনের সকালে তাঁর জন্মস্থান আহিরীটোলা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা টালিগঞ্জে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিজলী সিনেমা হলের সামনেও মহানায়ককে স্মরণ করে বিশেষ আয়োজন রয়েছে। তাঁর জনপ্রিয় ছবির দৃশ্য ও চরিত্রকে সামনে রেখে সাজানো হচ্ছে এলাকা। পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবে পাঁচটি বিশেষ এলইডি ভ্যান। সেখানে প্রদর্শিত হবে উত্তম কুমারের অভিনীত জনপ্রিয় ছবির নানা দৃশ্য এবং তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত।

    নন্দন থেকে বিড়লা তারামণ্ডল, ‘ট্রিবিউট ওয়াক’

    জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ট্রিবিউট ওয়াক’। নন্দন চত্বর থেকে শুরু হয়ে এসএসকেএম, অ্যাকাডেমি, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল এবং বিড়লা তারামণ্ডল হয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা পর্যন্ত এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকাতেও এদিন বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের তারকা ও কলাকুশলীদের পাশাপাশি লোকশিল্পী এবং উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা অভিনেতা, অভিনেত্রী ও প্রযুক্তিবিদরাও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মহানায়কের পরিবারের সদস্যরাও এই পদযাত্রায় পা মেলাবেন বলে জানা গিয়েছে।

    প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, কেক-পায়েস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    সন্ধ্যায় একতারা মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। থাকবে কেক কাটা ও পায়েস খাওয়ার আয়োজনও। এরপর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিনয়জীবনের বিভিন্ন দিক, জনপ্রিয় ছবি এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান তুলে ধরা হবে সেই প্রদর্শনীতে।

    নিউ টাউনে তৈরি হবে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’

    জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম বড় ঘোষণা নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’। আধুনিক চলচ্চিত্র পরিকাঠামোকে সামনে রেখে এই কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ফিল্ম সেন্টারে প্রায় এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম, ওপেন-এয়ার থিয়েটার-সহ একাধিক আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মহানায়কের নামে এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিসর হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    নন্দন থেকে রাধা স্টুডিও, পর্দায় ফিরবেন মহানায়ক

    চার দিনের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবেরও আয়োজন করা হয়েছে। নন্দন-১, নন্দন-২ এবং রাধা স্টুডিওতে প্রদর্শিত হবে উত্তম কুমারের একাধিক জনপ্রিয় ও নির্বাচিত ছবি। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ‘নায়ক’ দিয়ে এই বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সূচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি নন্দন, রাধা স্টুডিও-সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মহানায়কের আরও একাধিক ছবি দেখানো হবে। বিজলী সিনেমা হলের সামনেও উত্তম কুমারের ছবি দিয়ে তৈরি বিশেষ কাটআউট বসানো হবে। সিনেমা, গান, নৃত্য, আলোচনা এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহানায়কের শিল্পজীবনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

    উত্তমের সহশিল্পীদের বিশেষ সম্মান

    জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদেরও বিশেষভাবে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন সবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দীপঙ্কর দে, শকুন্তলা বড়ুয়া এবং মিঠুন চক্রবর্তী-সহ একাধিক বিশিষ্ট শিল্পী।এছাড়াও ইন্ডিয়া পোস্টের উদ্যোগে মহানায়ককে উৎসর্গ করে প্রকাশ করা হবে বিশেষ স্মারক খাম ও ডাকটিকিট।

    ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’ থেকে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’

    ৬ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে হবে দুটি বিশেষ আলোচনা সভা। একটি ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’, অন্যটি ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’। মহানায়কের সমসাময়িক শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও এই আলোচনায় অংশ নেবেন। চার দিনের এই বিশেষ উদ্‌যাপনের শেষ হবে রবীন্দ্রসদনে। সেখানে আয়োজিত হবে বিশেষ সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।

  • Uttam Kumar Birth Centenary: জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা মোদি-শুভেন্দুর, আবেগঘন বার্তায় স্মরণ কিংবদন্তি অভিনেতাকে

    Uttam Kumar Birth Centenary: জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা মোদি-শুভেন্দুর, আবেগঘন বার্তায় স্মরণ কিংবদন্তি অভিনেতাকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য অধ্যায়। কোটি কোটি বাঙালির কাছে আজও তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি চিরকালের ‘মহানায়ক’। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে জন্ম নেওয়া অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় পরবর্তীকালে উত্তম কুমার নামে রুপোলি পর্দায় এমন এক জাদু সৃষ্টি করেছিলেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমান উজ্জ্বল। তাঁর জন্মের ১০০ বছর পূর্তিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ ভিডিও পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর

    মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ভিডিওতে মহানায়কের জীবনের নানা মুহূর্ত, চলচ্চিত্রের বিভিন্ন স্থিরচিত্রের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজের কণ্ঠে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার প্রিয় দেশবাসী, ৩ সেপ্টেম্বর আমরা মহানায়ক উত্তম কুমারজির জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। বন্ধুরা, উত্তম কুমারজি ছিলেন একজন বহুমুখী অভিনেতা, যিনি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। চলচ্চিত্র প্রেমীদের বিশ্বাস যে, সত্যজিৎ রায়জি ‘নায়ক – দ্য হিরো’ চলচ্চিত্রের পুরো চিত্রনাট্য মহানায়ক উত্তম কুমারজি-কে মনে রেখেই লিখেছিলেন। শ্রীমান সত্যজিৎ রায় একবার বলেছিলেন যে, উত্তম কুমারের মধ্যে সংযম ও নীতিবোধের পাশাপাশি এক অদ্ভুত আবেগ ছিল। চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন।”

    ‘কখনও হাল না ছাড়া’— উত্তমের জীবন থেকে শিক্ষার কথা মোদির

    শুধু অভিনয় প্রতিভাই নয়, উত্তম কুমারের ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহানায়কের জীবন নতুন প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

    মোদির কথায়, “উত্তম কুমারজি শুধু তাঁর সহজ-স্বাভাবিক অভিনয়ের জন্যই পরিচিত ছিলেন না, বরং তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবন আমাদের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও দেয় — তা হল কখনও হাল না ছাড়া। তাঁর শুরুর দিকের চলচ্চিত্রগুলো খুব একটা সফল হয়নি, কিন্তু তিনি নিজের কাজে মনোযোগ বজায় রেখেছিলেন। আর সেই উৎসর্গই তাঁকে এত উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।”

    ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করলেন মোদি

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর কলকাতা সফরের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিও ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, “বন্ধুরা, আমার মনে আছে যখন আমি কলকাতায় রোড শো করছিলাম, তখন আমি উত্তম কুমারজির বাড়ির সামনে দিয়েও গিয়েছিলাম। সেখানে একজন ব্যক্তি আমাকে তাঁর একটি ছবি উপহার দিয়েছিলেন। আমি আরও একবার মহানায়ক উত্তম কুমারজির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। তিনি সর্বদাই আমাদের সবার হৃদয়ে রাজত্ব করবেন। মহানায়ক উত্তম কুমার চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন।”

    ভিডিওটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে ক্যাপশনটি পোস্ট করেন, সেখানে লেখা হয়— “মহানায়ক উত্তম কুমার… এক কিংবদন্তি যাঁর কালজয়ী পরিবেশনা প্রজন্মান্তরের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে চলেছে। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। গত রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে আমি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছিলাম, তাও শেয়ার করছি।”

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শ্রদ্ধার্ঘ্য

    মহানায়ক উত্তম কুমারের শতবর্ষ জন্মজয়ন্তীতে সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। নিজের পোস্টে তিনি মহানায়কের অভিনয় প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “তাঁর অনন্য অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও চিরস্মরণীয় উপস্থিতি বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালির হৃদয়ে তিনি চিরকাল মহানায়ক হয়েই বেঁচে থাকবেন।”

    ভবানীপুরের অরুণ থেকে বাংলা সিনেমার চিরন্তন মহানায়ক

    ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার ভবানীপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয়েছিল অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। পরবর্তীকালে ‘উত্তম কুমার’ নামেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেতাদের অন্যতম। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, সংযত অভিব্যক্তি, পর্দার ব্যক্তিত্ব এবং দর্শকের সঙ্গে গভীর আবেগের সংযোগ তাঁকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

    বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের প্রতীক উত্তম কুমার আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী চরিত্র এখনও বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ এবং স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী— সকলের শ্রদ্ধার্ঘ্য যেন আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল, মহানায়ক কেবল রুপোলি পর্দাতেই নন, মানুষের হৃদয়েও আজীবন অমর।

  • Uttam Kumar Birth Centenary: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চার দিনের বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপন, সম্মান জানানো হবে বরেণ্য শিল্পীদের

    Uttam Kumar Birth Centenary: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চার দিনের বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপন, সম্মান জানানো হবে বরেণ্য শিল্পীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ (Uttam Kumar Birth Centenary) উপলক্ষে চার দিন ধরে বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হচ্ছে। আজ, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নন্দনকে (Nandan) কেন্দ্র করে চলবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, আইএনসিএ এবং টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র শিল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উঠে আসবে মহানায়কের দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অনন্য অবদানের নানা দিক।

    কী বলছেন প্রসেনজিৎ (Uttam Kumar Birth Centenary)

    নন্দনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শুধু স্মৃতিচারণ নয়, আগামী প্রজন্মের কাছেও উত্তমকুমারের কাজ ও অবদানকে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।” তাঁর কথায়, আগামী একশো বছর পরেও যেন নতুন প্রজন্ম একই আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মহানায়কের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, “উত্তমকুমার কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সময়ের প্রতীক, বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং আবেগের অন্য নাম।” মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগেই এই চার দিনের বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    মহানায়কের সহ-অভিনেতাদের বিশেষ সম্মাননা

    চার দিনের এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গে অভিনয় করা বরেণ্য শিল্পীদের বিশেষ সম্মাননা। এই তালিকায় রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে, রঞ্জিত মল্লিক, কল্যাণী মণ্ডল, প্রভাত রায়, রত্না ঘোষাল এবং বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা। উত্তমকুমার অভিনীত একাধিক জনপ্রিয় ছবিও প্রদর্শিত হবে এই আয়োজনের অংশ হিসেবে। প্রসেনজিৎ জানান, নন্দনের পাশাপাশি রাধা স্টুডিওতেও মহানায়ক অভিনীত নির্বাচিত কয়েকটি ছবি দেখানো হবে।

    শিশির মঞ্চে বিশেষ আলোচনা

    আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দু’টি বিশেষ আলোচনা সভা। একটি আলোচনার বিষয় ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’। অন্য আলোচনায় পরিচালকদের অংশগ্রহণে উঠে আসবে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’কে ঘিরে নানা স্মৃতি ও বিশ্লেষণ। উত্তমকুমারের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব—এই সমস্ত বিষয়ই আলোচনায় উঠে আসবে বলে জানা গিয়েছে।

    সত্যজিৎ রায়ের বক্তৃতার রেকর্ডিং ঘিরে তথ্যচিত্র

    মহানায়ককে স্মরণ করে আয়োজিত এক সভায় সত্যজিৎ রায়ের দেওয়া বক্তৃতার রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে সন্দীপ রায়ের তৈরি একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসেনজিৎ জানান, “জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রথম ও শেষ দিনে এই তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হবে।”

    স্মৃতিচারণে যুক্ত হবেন বর্ষীয়ান সাংবাদিকরাও

    উত্তমকুমারের কর্মজীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তৎকালীন সাংবাদিকদের একাংশ। তাঁদেরও এই বিশেষ উদ্‌যাপনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে (Uttam Kumar Birth Centenary)। অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, এমন বহু সাংবাদিক রয়েছেন, যাঁরা উত্তমকুমারকে কাছ থেকে দেখেছেন, চিনেছেন এবং তাঁর কর্মজীবনের নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতাও এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রবীন্দ্র সদনে মহানায়কের ছবির গানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    উদ্‌যাপনের শেষ দিন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের শিল্পীরা মহানায়ক উত্তমকুমারের জনপ্রিয় ছবির গান পরিবেশন করবেন। ফলে তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গীতজগতেও তাঁর প্রভাব ও জনপ্রিয়তার স্মৃতিচারণ হবে এই অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিনেতা জিৎ। তাঁর কথায়, “আমাদেরই জগতের একজনকে এভাবে সম্মান জানানো হচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে। আগামী প্রজন্মকে এই উদ্যোগ দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।”

    বর্ণাঢ্য আয়োজন

    অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত বলেন, “খুব অল্প সময়ের নোটিশে হলেও মহানায়ককে ঘিরে এই বিশেষ আয়োজনকে সফল করতে ইন্ডাস্ট্রির সকলেই একজোট হয়েছেন। এই উদযাপন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের।”

    ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নন্দন-সহ কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে যে বর্ণাঢ্য আয়োজন হতে চলেছে, তা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে বলেই (Nandan) মনে করছে টলিপাড়া। শুধু মহানায়কের স্মৃতিচারণ নয়, তাঁর শিল্পসৃষ্টিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা (Uttam Kumar Birth Centenary) নেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

     

  • PM Modi: প্রয়াত প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাই, শোকস্তব্ধ ভারত, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: প্রয়াত প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাই, শোকস্তব্ধ ভারত, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাইয়ের (Teejan Bai) প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারত (PM Modi)। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ, রবিবার রায়পুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পাণ্ডবাণী শিল্পকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন তীজন বাই। ছত্তীসগঢ়ের এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পকে দেশ-বিদেশের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনন্য।

    তীজন বাইয়ের প্রয়াণে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    তীজন বাইয়ের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক বার্তায় তিনি বলেন, “প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাইজির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর অসাধারণ পরিবেশনার মাধ্যমে ছত্তীসগঢ়ের এই লোকশিল্প বিশ্বজুড়ে স্বতন্ত্র পরিচিতি লাভ করেছে। তাঁর প্রয়াণ শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। এই শোকের মুহূর্তে তাঁর পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। ওঁ শান্তি!” ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, “তীজন বাইয়ের অবদান রাজ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ সম্মান এনে দিয়েছে। তাঁর সাফল্য ছত্তীসগঢ়ের সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে আরও উজ্জ্বল করেছে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে।” রাজ্যের মন্ত্রী কেদার কাশ্যপ শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তাঁর প্রয়াণ শুধু ছত্তীসগঢ় নয়, গোটা দেশের জন্যই বড় ক্ষতি। তিনি রাজ্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে দেশের অন্যতম সম্মানিত সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

    কী এই পাণ্ডবাণী শিল্প?

    শতাব্দীপ্রাচীন পাণ্ডবাণী মহাভারতের বিভিন্ন পর্ব অবলম্বনে গড়ে ওঠা একটি মৌখিক কাহিনি পরিবেশনার ধারা। তীজন বাই তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠ, আবেগঘন বর্ণনা ও মঞ্চে অসাধারণ উপস্থিতির মাধ্যমে এই শিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলেন। কয়েক দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে (PM Modi) তিনি পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন। তাঁর (Teejan Bai) প্রয়াণে ভারত এক অসামান্য লোকশিল্পীকে হারালেও, পাণ্ডবাণীকে সংরক্ষণ ও জনপ্রিয় করে তোলার তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে (PM Modi) থাকবে চিরস্মরণীয়।

     

LinkedIn
Share