Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Guru Purnima 2026: আজ গুরুপূর্ণিমা, কেন হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-শিখ— চার ধর্মেই এত বিশেষ এই দিন?

    Guru Purnima 2026: আজ গুরুপূর্ণিমা, কেন হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-শিখ— চার ধর্মেই এত বিশেষ এই দিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বুধবার, ২৯ জুলাই, গুরুপূর্ণিমা। ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে এই দিনটি গুরু বা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মজাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু হিন্দুধর্মেই নয়, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ ধর্মেও গুরুপূর্ণিমার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই চার ধর্মের অনুসারীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালন করেন। সংস্কৃত ভাষায় ‘গু’ শব্দের অর্থ অন্ধকার এবং ‘রু’ শব্দের অর্থ দূর করা। সেই অর্থে ‘গুরু’ হলেন তিনি, যিনি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞান ও আত্মোপলব্ধির পথে পরিচালিত করেন। তাই গুরুপূর্ণিমা কেবল কোনও ধর্মীয় আচার পালনের দিন নয়, বরং নিজের ভিতরকে নতুন করে জানারও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

    কেন পালিত হয় গুরুপূর্ণিমা?

    হিন্দু ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মত অনুযায়ী, এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহর্ষি বেদব্যাস। তিনি মহাভারতের রচয়িতা এবং বৈদিক জ্ঞানকে ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ— এই চার ভাগে সংকলিত করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই কারণেই গুরুপূর্ণিমাকে অনেকেই ‘ব্যাস পূর্ণিমা’ নামেও চিহ্নিত করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গুরুপূর্ণিমা নতুন কোনও শুভ কাজ শুরু করার জন্য অত্যন্ত শুভ দিন। এই তিথিতে পূজা, দান, জপ, হোম বা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান করলে সংসারে শুভ ফল আসে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে বলে মনে করা হয়।

    শিবের দক্ষিণামূর্তি রূপের সঙ্গে সম্পর্ক

    হিন্দু দর্শনের আর একটি প্রচলিত বিশ্বাসে, মহাদেবের দক্ষিণামূর্তি রূপই হল আদিগুরুর প্রতীক। এই দিনেই ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং সপ্তঋষি শিবের কাছ থেকে পরম জ্ঞান লাভ করেছিলেন বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। সেই কারণেই বহু ভক্ত শিবকে প্রথম গুরু বা আদিগুরু হিসেবে শ্রদ্ধা জানান।

    বৌদ্ধধর্মে গুরুপূর্ণিমার গুরুত্ব

    বৌদ্ধ ঐতিহ্যেও গুরুপূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বোধিবৃক্ষের নীচে বুদ্ধত্ব লাভের কয়েক সপ্তাহ পরে গৌতম বুদ্ধ সারনাথে গিয়ে তাঁর পাঁচ প্রাক্তন সঙ্গীকে প্রথম ধর্মদেশনা দেন। বৌদ্ধধর্মে এটিকে ধর্মচক্র প্রবর্তনের সূচনা হিসেবে ধরা হয়। এই উপলক্ষে বহু বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গৃহী ভক্ত অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ, ধ্যান এবং বিপাসনা সাধনায় অংশ নেন। নেপালে দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবেও পালিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বিভিন্ন উপহার, মালা এবং ঐতিহ্যবাহী টপি দিয়ে সম্মান জানান।

    জৈন ধর্মেও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা

    জৈন সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুপূর্ণিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এই দিনটিকে ‘ত্রিনোক গুহ পূর্ণিমা’ হিসেবে পালন করেন। জৈন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান মহাবীর কৈবল্য লাভের পর ইন্দ্রভূতি গৌতমকে প্রথম শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সেই ঘটনাকেই গুরু-শিষ্য পরম্পরার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।

    বিভিন্ন দেশে ভিন্ন আচার

    শ্রীলঙ্কায় এই সময় থেকে শুরু হয় ‘বর্ষাবাস’ পালনের প্রথা। আবার থাইল্যান্ডে একই উৎসব ‘ফানসা’ নামে পরিচিত। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভিক্ষুরা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে ধর্মচর্চা করেন। ভিয়েতনাম, তিব্বত, কোরিয়া এবং মায়ানমারের বহু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও এই সময় বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করেন।

    শিখ ধর্মেও গুরুপূর্ণিমার তাৎপর্য

    শিখ ধর্মে গুরুপূর্ণিমা গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। শিখ ধর্মাবলম্বীরা গুরুদের ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মান করেন। এই দিনে গুরু গ্রন্থ সাহিব পাঠ, গুরুদের জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং তাঁদের দেখানো পথে চলার অঙ্গীকার করা হয়। শুধু ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক উন্নতি নয়, শিখ সমাজে পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি এবং মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুপূর্ণিমা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    গুরুপূর্ণিমার মূল বার্তা

    ধর্মভেদে আচার-অনুষ্ঠানের রীতি আলাদা হলেও গুরুপূর্ণিমার মূল দর্শন একটাই— জ্ঞান, শৃঙ্খলা, আত্মোপলব্ধি এবং গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার পিছনেই কোনও না কোনও গুরুর অবদান থাকে। তাই গুরুপূর্ণিমা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, মানবজীবনে জ্ঞানের আলোকে সম্মান জানানোরও এক অনন্য দিন।

  • Shravan Somvar 2026: আজ শ্রাবণের প্রথম সোমবার, এই ১২টি নিয়ম মানলেই প্রসন্ন হবেন মহাদেব!

    Shravan Somvar 2026: আজ শ্রাবণের প্রথম সোমবার, এই ১২টি নিয়ম মানলেই প্রসন্ন হবেন মহাদেব!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পবিত্র শ্রাবণ মাস শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ, শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। শ্রাবণ মাস হিন্দু ধর্মে ভগবান শিবের আরাধনার অন্যতম পবিত্র সময় হিসেবে বিবেচিত। এই মাসের প্রতিটি সোমবার বা শ্রাবণ সোমবার (Shravan Somvar) বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে এই দিনে মহাদেবের পুজো করলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয়, পূরণ হতে পারে মনের ইচ্ছাও। তাই প্রতি বছরই অসংখ্য শিবভক্ত উপবাস রেখে শিবলিঙ্গে জল ও বিভিন্ন উপাচার নিবেদন করেন। তবে শুধুমাত্র জল ঢাললেই নয়, শাস্ত্র ও প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কিছু নিয়ম মেনে শিবপুজো করলে তার শুভ ফল আরও বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়। একই সঙ্গে এমন কিছু কাজও রয়েছে, যা শ্রাবণ সোমবারে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন শাস্ত্রবিশারদরা।

    শ্রাবণ সোমবার শিবপুজোর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

    ১. সকালে স্নান করে শিবমন্দিরে যান

    শ্রাবণ সোমবার ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরে শিবমন্দিরে যাওয়া শুভ বলে মনে করা হয়। সম্ভব হলে খালি পায়ে মন্দিরে যান এবং বাড়ি থেকে জল নিয়ে গিয়ে শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন। এরপর ১০৮ বার শিবমন্ত্র জপ করুন। অনেকেই এদিন অন্নগ্রহণ না করে ফলাহার করেন।

    ২. শিবলিঙ্গে নিবেদন করুন প্রিয় উপাচার

    মহাদেবের পুজোয় গঙ্গাজল, বেলপাতা, ধুতুরা, ভাঙ, কর্পূর, দুধ, রুদ্রাক্ষ ও ভস্ম নিবেদন করা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই উপাচার সৌভাগ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক।

    ৩. আরতি করে শেষ করুন পুজো

    শিবলিঙ্গে জল অর্পণের পর প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করুন। এরপর ভক্তিভরে প্রার্থনা করে ফল খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করা যেতে পারে।

    ৪. চন্দন ও গঙ্গাজলের অভিষেক

    চন্দন, আতপ চাল, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, বেলপাতা, দুধ ও গঙ্গাজল দিয়ে শিবের অভিষেক করলে মহাদেব সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস।

    ৫. ঠাকুরঘর পরিষ্কার রাখুন

    পুজোর আগে ও চলাকালীন ঠাকুরঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। পাশাপাশি ঘর অন্ধকার না রেখে আলো জ্বালিয়ে পুজো করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    ৬. সকালে পুজো করাই শ্রেয়

    ধর্মীয় মতে, সন্ধ্যার তুলনায় সকালে শিবপুজো করলে বেশি শুভ ফল লাভ করা যায়।

    ৭. ফলাহার করুন

    অনেকে এদিন নির্জলা বা ফলাহার ব্রত পালন করেন। ফলের পাশাপাশি আলু, লাউ ও কুমড়ো খাদ্যতালিকায় রাখা শুভ বলে মনে করা হয়।

    ৮. সৎ জীবনযাপন করুন

    ব্রতের দিন সংযম, সততা ও শান্ত মন বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ৯. পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেক

    ঘি, মধু, দুধ, সিদ্ধি ও গঙ্গাজল দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করলে তা বিশেষ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।

    ১০. বেলপাতা ও ধুতুরা অর্পণ করতে ভুলবেন না

    বেলপাতা, ধুতুরা ও আকন্দ ফুল মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় উপাচার হিসেবে বিবেচিত। তাই পুজোয় এগুলি রাখার চেষ্টা করুন।

    ১১. আতপ চাল ও যব নিবেদন

    শিবলিঙ্গে আতপ চাল ও যব অর্পণ করলে শুভ ফল প্রাপ্তির বিশ্বাস রয়েছে।

    ১২. সূর্যদেবকে জল অর্পণ

    শিবপুজো শুরুর আগে সূর্যদেবকে জল নিবেদন করাও অত্যন্ত শুভ বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    শ্রাবণ সোমবার শিবপুজোয় যেসব ভুল করবেন না

    • শিবপুজোয় কখনও কেতকী ফুল নিবেদন করবেন না।
    • তুলসীপাতা শিবের পুজোয় ব্যবহার করা উচিত নয়।
    • পুজোয় যতটা সম্ভব সাদা রঙের উপাচার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
    • শিবলিঙ্গে হলুদ, সিঁদুর, কুমকুম, তিল, ডাল, লাল ফুল বা শঙ্খ অর্পণ করা থেকে বিরত থাকার কথা বলেন শাস্ত্রবিশারদরা।
    • শিবলিঙ্গ সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ না করাই প্রচলিত ধর্মীয় রীতি।
    • সোমবার বেলপাতা না ছিঁড়ে আগের দিন সংগ্রহ করে রাখাই শ্রেয়।
    • শিবলিঙ্গে অভিষেকের জন্য পেতলের পাত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
    • উপবাসের সময় দুধ পান না করে তা মহাদেবকে নিবেদন করাই ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শুভ বলে মনে করা হয়।

    শ্রাবণ সোমবারের মূল বার্তা

    শ্রাবণ মাসের সোমবার শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, ভক্তদের কাছে এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ঈশ্বরচিন্তারও একটি বিশেষ উপলক্ষ। ভক্তিভরে শিবের আরাধনা, নিয়ম মেনে ব্রত পালন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসতে পারে— এমনটাই বিশ্বাস বহু শিবভক্তের।

  • Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৮ জুলাই শনিবার, বিপত্তারিণী পুজো। প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসে রথযাত্রা এবং উল্টোরথের মধ্যে যে শনি এবং মঙ্গলবার পড়ে সেই দুই দিনেই পালিত হয় বিপত্তারিণী ব্রত উত্‍সব। কথিত আছে, এই ব্রত পালন করার সময় দেবীর চরণে উৎসর্গকৃত ‘লাল তাগা’ বা লাল সুতো হাতে বাঁধা থাকলে বিপদ ধারকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। এবছর, আজ এবং ২১ জুলাই, মঙ্গলবার পালিত হবে বিপত্তারিণী ব্রত।

    যিনি বিপদকে তারণ করেন তিনিই বিপত্তারিণী

    দেবাদিদেব মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী, আদি শক্তি হলেন দেবী দুর্গা। অন্যান্য দেবী তাঁরই অবতার বা ভিন্ন রূপ। দেবী দুর্গার ১০৮ রূপের মধ্যে এক রূপ, দেবী বিপত্তারিণী। সঠিক অর্থে বিশ্লেষণ করলে ‘বিপত্তারিণী’ বা ‘সঙ্কটনাশিনী’ দেবীর নাম নয়, উপাধি। যিনি বিপদ তারণ করেন, তিনিই বিপত্তারিণী। আবার সব রকমের সঙ্কটকে বিনাশ করেন, তাই তিনিই সঙ্কটনাশিনী। আসলে, মহামায়ার আলাদা করে কোনও নাম হয় কি? ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ইনিই। আবার ‘দশমহাবিদ্যা’ও তাঁরই রূপের প্রকাশ।

    স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় বিপত্তারিণী

    বাংলায় ঘরে ঘরে বিবাহিত মহিলারা স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় মা বিপত্তারিণী পুজো করেন। গ্রামাঞ্চলে বিপত্তারিণী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর আরাধনা করা হয়। মহিলারা গঙ্গা বা কোনও নদীতে স্নান করে দণ্ডী কাটেন। তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়। বিপত্তারিণী পুজো উপলক্ষে মেয়েরা উপবাস করেন। কিন্তু জানেন কি এই পুজোর মাহাত্ম্য? দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত রয়েছে। দেবীর বিপত্তারিণী রূপ নিয়ে ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কাহিনীটি বেশ জনপ্রিয়—

    ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কী বলা হয়েছে?

    কথিত আছে, শুম্ভ-নিশুম্ভ, অসুর ভ্রাতৃদ্বয়ের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে দেবগণ একবার মহামায়ার স্তব করছেন, এমন সময় শিবজায়া পার্বতী সেখানে হাজির হয়ে শুধালেন, “তোমরা কার স্তব করছ গো?” যাঁর স্তব, তিনি স্বয়ংই এ প্রশ্ন করছেন। কিন্তু দেবতারা তাঁকে চিনতে পারলেন না। তখন পার্বতী নিজের স্বরূপ দেখিয়ে বললেন, “তোমরা আমারই স্তব করছ।” এর পরবর্তীতে দেবী শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন। দেবতাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন। সেই থেকে বিপত্তারিণী পুজোর উৎস।

    দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত

    এই পুজোর একটি কাহিনি রয়েছে। ব্রতকথা অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির এক নিম্নবর্ণের সখী ছিলেন। তিনি জাতে মুচি। এই মহিলা নিয়মিত গোমাংস খেতেন। রানিও একদিন কৌতূহলী হয়ে গোমাংস খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রথমে তিনি নিমরাজি হন। পরে তিনি রানির আদেশ রক্ষার্থ গোমাংস আনেন। অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করেছে— এই খবর রাজার কাছে পৌঁছে যায়। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। রানি গোমাংস তাঁর বস্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে রেখে বিপত্তারিণী মা দুর্গাকে স্মরণ করতে থাকেন। রানিকে তল্লাশি করে রাজা দেখতে পান তাঁর বস্ত্র আড়ালে গোমাংস নয়, রয়েছে একটি লাল জবা ফুল। লাল জবা কালী পুজোর অন্যতম উপকরণ। মায়ের এই পুষ্প দেখে রাজা তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। রানিকে ক্ষমা করে দেন। মা বিপত্তারিণী দুর্গার কৃপায় রানির বিপদ কেটে গেল। এরপর থেকে রানি নিষ্ঠা-সহকারে বিপত্তারিণীর ব্রত করতে থাকলেন। সেই থেকেই বিপত্তরিণীর পুজো প্রচলিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ব্রত পালনে কী কী লাগে?

    ঘট, আম্র পল্লব, শীষ সহ ডাব, একটি নৈবেদ্য, ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো (সঙ্গে ১ত টি দূর্বা বাঁধা), ১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি দূর্বা, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি।

    এই পুজোয় তেরো সংখ্যার তাৎপর্য

    এই পুজোর একটা বিশেষ নিয়ম হল সবকিছু ১৩টা করে উৎসর্গ করতে হয় দেবীকে। ব্রতর আচার হিসেবে সব কিছু দিতে হয় তেরোটি করে। যেমন— তেরোটি নৈবেদ্য সাজাতে হয়। ব্রত পালনে লাগে তেরো রকম ফুল, তেরো রকম ফল, তেরোটি পান, তেরোটি সুপুরি, তেরোটি এলাচ। এছাড়া, বিপত্তারিণী ব্রতপালনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে হাতে বাঁধতে হয় লাল ডুরি বা ডোর বা তাগা। এই ডোর তৈরির ক্ষেত্রেও তেরো সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। তেরো গাছা লাল সুতোর সঙ্গে তেরোটি দূর্বা রেখে তেরোটি গিঁট বেঁধে তৈরি হয় এই পবিত্র তাগা বা ডোর। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে তাঁকে কোনও বিপদ স্পর্শ করতে পরে না৷

    লাল রঙের তাগা কেন বাঁধা হয়

    বিপত্তারিণীর পুজো শেষে হাতে লাল তাগা বাঁধার চল রয়েছে। মেয়েরা এই তাগা বাঁ হাতে পরেন আর ছেলেরা ডান হাতে পরেন। সেই তাগাতেও ১৩টি গিঁট বাঁধা হয়। সেই ১৩টি গিঁটে দেবী দুর্গার ১৩টি রূপে বিরাজ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ১৩টি গিঁট ছাড়াও তাতে ১৩টি দূর্বাঘাস বাঁধা হয়। এই তাগা অনেকে সারা বছর ধরে পরে থাকেন, অনেকে আবার তিন দিন পরার পর নদী বা পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে বিপদ কোনও দিন আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

    খাবারেও ১৩ সংখ্যা আবশ্যিক

    বিপত্তারিণী পুজোর শেষে সকলেই হাতে ওই ডোর বেঁধে দেওয়া হয়৷ মেয়েরা বাম হাতে ও ছেলেরা ডান হাতে এটি পরেন৷ এটি শুধু ব্রত পালন যিনি করছেন তিনিই যে বাঁধেন তা নয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাঁধেন বিপন্মুক্তির জন্য৷ ব্রতপালনের পর খাবার যা খেতে হয়, সেখানেও ১৩ সংখ্যা রাখা আবশ্যিক৷ মায়েরা প্রসাদ হিসেবে খান, তেরোটি লুচি বা পরটা সঙ্গে তেরো রকমের ফল। চাল-চিঁড়ে-মুড়ি এসব খাওয়া যায় না৷ ফল বা ময়দার রান্না যাই খাওয়া হোক না কেন সেটা ১৩ সংখ্যায় গ্রহণ করার কথাই ব্রতে বলা হয়৷ তবে যদি সেটা না হয় তাহলে পুজো মিটে যাওয়ার পর বিজোড় সংখ্যাতেও খাদ্যগ্রহণ করা যায়৷

    বিশ্বাস করা হয়, বিপত্তারিণী পুজো (Bipadtarini Puja) করলে শুধু বিপদই নয় অর্থ সঙ্কট থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। এবং ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ হয়। তবে, বিপত্তারিণী পুজোর বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে, যা নিয়ম নিষ্ঠা করে পালন করতে হয়। তবে না জেনে এই বিপত্তারিণী পুজো করলেই হতে পারে চরম বিপদ।

  • Rath Yatra 2026: পুরীর রথযাত্রার ৩ রথের অজানা রহস্য! নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলনের বিশেষত্ব জানেন?

    Rath Yatra 2026: পুরীর রথযাত্রার ৩ রথের অজানা রহস্য! নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলনের বিশেষত্ব জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, কোটি কোটি ভক্তের কাছে এটি আস্থা, ভক্তি ও পুণ্যলাভের এক মহামুহূর্ত। ওড়িশার পুরীতে অনুষ্ঠিত শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে ভিড় জমান। সংস্কৃত ভাষায় ‘রথ’ শব্দের অর্থ গাড়ি এবং ‘যাত্রা’ অর্থ শোভাযাত্রা বা মিছিল। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথে আরোহী জগন্নাথদেবের এক ঝলক দর্শন করাও বহু জন্মের পুণ্যের ফল। একইসঙ্গে রথের রশি স্পর্শ করা বা রথ টানার সুযোগকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের বলে মনে করা হয়।

    পুরীর রথযাত্রার বিশেষ ঐতিহ্য

    পুরীর রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হল শতাব্দীপ্রাচীন রাজপরম্পরা। আজ রাজতন্ত্র না থাকলেও পুরীর রাজপরিবারের উত্তরাধিকারীই প্রতি বছর এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। রথযাত্রা শুরুর আগে তিনি তিনটি রথের সামনে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের চারপাশ পরিষ্কার করার বিশেষ আচার, ‘ছেরা পহরা’, সম্পন্ন করেন। এই আচার শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় রথ টানার পর্ব।

    কেন তিনটি আলাদা রথ?

    পুরীর রথযাত্রা মূলত শ্রীজগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র (বলরাম) এবং বোন সুভদ্রার গুণ্ডিচা মন্দির যাত্রার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। এই কারণে তিন দেবতার জন্য থাকে তিনটি পৃথক রথ। যাত্রার ক্রমও নির্দিষ্ট—

    • প্রথমে বলভদ্রের রথ
    • এরপর সুভদ্রার রথ
    • সব শেষে জগন্নাথদেবের রথ

    উল্টো রথ বা বাহুদা যাত্রা শেষে প্রতিবছর নতুন করে রথ নির্মাণ করা হয়। তবে রথের পার্শ্বদেব-দেবী, সারথি ও ঘোড়ার কাঠের মূর্তিগুলি সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

    নন্দীঘোষ: জগন্নাথদেবের মহারথ

    জগন্নাথদেবের রথের নাম নন্দীঘোষ। প্রচলিত বিশ্বাস, দেবরাজ ইন্দ্র এই রথ জগন্নাথদেবকে প্রদান করেছিলেন। এই রথ নির্মাণে প্রায় ৮৩২টি কাঠের অংশ ব্যবহৃত হয়। উচ্চতা প্রায় ১৩.৫ মিটার (৪৪ ফুট ২ ইঞ্চি)। বর্তমানে এতে ১৬টি চাকা থাকে। রথটি লাল ও হলুদ কাপড়ে আবৃত। চারটি কালো ঘোড়ার নাম— শঙ্খ, বলাহক, শ্বেত ও হরিদাক্ষ। রথের ধ্বজার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী, রশির নাম শঙ্খচূড়, আর রক্ষক হিসেবে থাকেন গরুড়। রথের সারথি দারুক। নন্দীঘোষে বরাহ, নৃসিংহ, রাম, নারায়ণ, হনুমান, রুদ্র-সহ একাধিক পার্শ্বদেবতার পাশাপাশি নারদ, ব্যাসদেব, বিশ্বামিত্র, বশিষ্ঠ প্রমুখ ঋষিদের প্রতীকী উপস্থিতিও থাকে।

    তালধ্বজ: বলভদ্রের শক্তির প্রতীক

    বলভদ্রের রথের নাম তালধ্বজ। এটি তৈরি করতে প্রায় ৭৬৩টি কাঠের অংশ লাগে। উচ্চতা প্রায় ১৩.২ মিটার (৪৪ ফুট) এবং বর্তমানে এতে ১৪টি চাকা থাকে। সবুজ ও লাল কাপড়ে মোড়া এই রথের ধ্বজার নাম উন্মনী, আর রশির নাম বাসুকী নাগ। চারটি সাদা ঘোড়ার নাম— তীব্র, ঘোর, শ্রম (স্বর্ণনাভ) ও দীর্ঘ (দীর্ঘশর্মা)। রথের সারথি মাতলি এবং রক্ষক বাসুদেব। এই রথে গণেশ, কার্তিক, সর্বমঙ্গলা, মহেশ্বর, মৃত্যুঞ্জয়, শেষদেব-সহ ন’জন পার্শ্বদেবতার অবস্থান রয়েছে।

    দর্পদলন: সুভদ্রার রথের বিশেষত্ব

    দেবী সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন। এটি তিনটি রথের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ছোট। নির্মাণে লাগে ৫৯৩টি কাঠের অংশ। উচ্চতা প্রায় ১২.৯ মিটার (৪২ ফুট ৩ ইঞ্চি) এবং এতে থাকে ১২টি চাকা। লাল ও কালো কাপড়ে ঢাকা এই রথের ধ্বজার নাম নাদম্বিক, আর রশির নাম স্বর্ণচূড় নাগ। চারটি লাল ঘোড়ার নাম— রচিকা, মোচিকা, জিতা ও অপরাজিতা। রথের সারথি অর্জুন এবং রক্ষক জয়দুর্গা। দর্পদলনে চণ্ডী, চামুণ্ডা, মঙ্গলা, উগ্রতারা, বনদুর্গা, শ্যামাকালী, বিমলা ও বরাহী-সহ ন’জন পার্শ্বদেবীর প্রতীকী উপস্থিতি দেখা যায়। দ্বারপালিকার দায়িত্বে থাকেন ভূদেবীশ্রীদেবী

    কেন আজও কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্র পুরীর রথযাত্রা?

    পুরীর রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প, আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তির এক অনন্য সমন্বয়। প্রতি বছর নতুন করে রথ নির্মাণ, শতাব্দীপ্রাচীন রাজপরম্পরা, তিন দেবতার পৃথক রথ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের একসঙ্গে রথ টানার দৃশ্য এই উৎসবকে বিশ্বের অন্যতম অনন্য ধর্মীয় আয়োজনে পরিণত করেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, রথযাত্রার দিনে জগন্নাথদেবের দর্শন এবং রথের রশি স্পর্শ করার সৌভাগ্য অর্জন করলে জীবনে শুভফল ও পুণ্য লাভ হয়। সেই বিশ্বাসই প্রতিবছর পুরীর পথে লাখো মানুষের পদচারণাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

  • Rath Yatra 2026: রথযাত্রায় কেন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন ছাপ্পান্ন ভোগের নেপথ্যের পুরাণকাহিনি

    Rath Yatra 2026: রথযাত্রায় কেন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন ছাপ্পান্ন ভোগের নেপথ্যের পুরাণকাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা মানেই শুধু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মহারথ টানা নয়। এই মহোৎসবের আর এক বড় আকর্ষণ হল শ্রীজগন্নাথদেবের উদ্দেশে নিবেদন করা ছাপ্পান্ন ভোগ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য ধর্মীয় বিশ্বাস, পুরাণকথা এবং ভক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন ঠিক ৫৬টি পদই নিবেদন করা হয়? এর পেছনে কী রয়েছে পুরাণের ব্যাখ্যা?

    কৃষ্ণের সাত দিনের উপবাস থেকেই ৫৬ ভোগের সূচনা

    হিন্দু পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, মা যশোদা বালক কৃষ্ণকে দিনে আট প্রহরে আটবার আহার করাতেন। সেই সময় দেবরাজ ইন্দ্রের ক্রোধে ব্রজভূমিতে ভয়াবহ বৃষ্টি ও প্রলয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্রজবাসীদের রক্ষা করতে কৃষ্ণ নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরেন। টানা সাত দিন তিনি সেই অবস্থায় থাকায় কোনও খাবার বা জল গ্রহণ করেননি। প্রলয় থেমে যাওয়ার পর কৃষ্ণ যখন গোবর্ধন পর্বত নামিয়ে রাখেন, তখন মা যশোদা ও ব্রজবাসীরা তাঁর জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন করেন। সাত দিন × দিনে আটবার খাবার— এই হিসেবেই ৭ × ৮ = ৫৬। সেই থেকেই কৃষ্ণ তথা জগন্নাথদেবের উদ্দেশে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদনের প্রথা চালু হয়েছে বলে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে।

    বিষ্ণুর চার ধাম যাত্রার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই বিশ্বাস

    আরও একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যে এসে চারটি পবিত্র ধামে পরিক্রমা করেন। প্রথমে বদ্রীনাথে স্নান, এরপর দ্বারিকায় বস্ত্র পরিধান, তারপর পুরীতে ভোজন এবং সবশেষে রামেশ্বরমে বিশ্রাম নেন। এই বিশ্বাস থেকেই পুরীধামে ভগবানকে রাজকীয় ভোজ নিবেদন করার রীতি প্রচলিত হয়েছে। পুরাণ মতে, জগন্নাথদেবকে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণের রূপ হিসেবেও মানা হয়। তাই তাঁর উদ্দেশে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    জগন্নাথের ৫৬ ভোগে কী কী পদ থাকে?

    পুরীর মন্দিরে নিবেদন করা ঐতিহ্যবাহী ছাপ্পান্ন ভোগে মিষ্টি, পিঠে, ভাত, ডাল, সবজি, ক্ষীর, ফল ও নানা ধরনের বিশেষ প্রস্তুত খাবার থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল—

    • উকখুড়া (মুড়ি)
    • নাড়িয়া কোড়া (নারকেল নাড়ু)
    • খুয়া (খোয়া ক্ষীর)
    • দই
    • পাকা কলা
    • কণিকা (সুগন্ধি ভাত)
    • শুকনো খিচুড়ি
    • এন্ডুরি
    • আদা চাটনি
    • শাক ভাজা
    • করলা ভাজা
    • আরিশা
    • বুন্দিয়া
    • পাখাল (পান্তা ভাত)
    • ক্ষীর বা পায়েস
    • কাদাম্বা
    • দলমা
    • কাকারা
    • আমালু
    • খাস্তা পুরি
    • কদলি বড়া
    • মিষ্টি চাটনি
    • পদ্ম পিঠে
    • দই পাখাল
    • সুজি ক্ষীর
    • মুগ সিজা
    • মাগাজা লাড্ডু
    • পানা
    • অন্ন
    • ঘি ভাত
    • ডাল
    • বেসর
    • মাহুর (লাবরা)
    • সাগা নাড়িয়া-সহ মোট ৫৬টি ঐতিহ্যবাহী পদ

    কেন আজও এত গুরুত্বপূর্ণ ছাপ্পান্ন ভোগ?

    শুধু ধর্মীয় আচার নয়, ছাপ্পান্ন ভোগ ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা, ভক্তি এবং সমৃদ্ধির প্রতীক। কৃষ্ণের প্রতি যশোদার মাতৃস্নেহ, ব্রজবাসীদের ভালোবাসা এবং ভগবান বিষ্ণুর পুরীধামে ভোজনের পুরাণকাহিনি— এই দুই বিশ্বাস মিলিয়েই গড়ে উঠেছে এই অনন্য প্রথা। তাই রথযাত্রার সময় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন আজও কোটি কোটি ভক্তের কাছে অন্যতম পবিত্র এবং আকর্ষণীয় ধর্মীয় আচার।

  • Rath Yatra 2026: কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথদেবের মূর্তি? রথযাত্রার পবিত্র দিনে পৌরাণিক ইতিহাস জানুন

    Rath Yatra 2026: কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথদেবের মূর্তি? রথযাত্রার পবিত্র দিনে পৌরাণিক ইতিহাস জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা ২০২৬ (Rath Yatra 2026)। হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় বিশেষ উৎসাহ। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতেই পালিত হয় রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া। ওড়িশার পুরীর জগন্নাথধাম এই উৎসবের প্রধান কেন্দ্র হলেও পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বহু রাজ্যে রথযাত্রা অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই উৎসবের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ডাবলিন, মস্কো, নিউ ইয়র্ক-সহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও ভক্তরা রথযাত্রা পালন করেন।

    রথযাত্রার তাৎপর্য কী?

    ‘রথ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ চাকাযুক্ত যান বা যুদ্ধরথ। তবে সনাতন ধর্মে রথের ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। ভক্তদের বিশ্বাস, কাঠের নির্মিত বিশাল রথে আরোহন করে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করেন। দেবতাদের এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রাকেই বলা হয় রথযাত্রা

    রথযাত্রার ইতিহাস: কী বলছে পৌরাণিক কাহিনি?

    রথযাত্রার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ভগবান জগন্নাথকে শ্রীকৃষ্ণেরই এক বিশেষ রূপ হিসেবে মানা হয়। প্রাচীন গ্রন্থ ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ-এর বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে এই রথযাত্রার প্রচলন শুরু হয় বলে মনে করা হয়। সেই সময়ের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি স্বপ্নাদেশ পান জগন্নাথরূপী বিষ্ণুমূর্তি প্রতিষ্ঠা করার এবং সেই সঙ্গে রথযাত্রার আয়োজন করার। লোককথা অনুযায়ী, রাজাকে নির্দেশ দেওয়া হয় পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা এক বিশেষ কাঠ দিয়ে জগন্নাথের মূর্তি নির্মাণ করতে। কিন্তু উপযুক্ত শিল্পীর সন্ধান না পেয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় এক বৃদ্ধ এসে নিজেই মূর্তি নির্মাণের দায়িত্ব নেন। তবে তিনি শর্ত দেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন বা দরজা না খোলেন।

    কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথের মূর্তি?

    বৃদ্ধ শিল্পী একটি বন্ধ কক্ষে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ঘরের ভেতর থেকে হাতুড়ির শব্দ শোনা গেলেও একদিন আচমকাই সব শব্দ থেমে যায়। উদ্বিগ্ন হয়ে রানির অনুরোধে রাজা দরজা খুলে ফেলেন। দরজা খুলেই দেখা যায়, তিনটি মূর্তি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। হাত-পা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং রহস্যময় সেই শিল্পীও নিখোঁজ। পরে জানা যায়, তিনি আসলে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ছিলেন। এই ঘটনায় রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন গভীর অনুতাপে ভেঙে পড়েন। পরে স্বপ্নে ভগবান জগন্নাথ তাঁকে দর্শন দিয়ে জানান, এই অসম্পূর্ণ রূপেই তিনি পূজিত হতে চান। সেই থেকেই হাত-পা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শুরু হয় তাঁদের আরাধনা। পরবর্তীকালে পুরীতে নির্মিত হয় জগন্নাথ মন্দির এবং রথযাত্রা পায় স্থায়ী রূপ।

    পুরীর তিন রথের বিশেষ পরিচয়

    পুরীর রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ তিনটি পৃথক রথ, যেগুলির প্রত্যেকটির নাম, রঙ, উচ্চতা এবং চাকার সংখ্যা আলাদা।

    • জগন্নাথদেবের রথ: নান্দীঘোষ — ১৮টি চাকা
    • বলরামের রথ: তালধ্বজ — ১৬টি চাকা
    • সুভদ্রার রথ: দর্পদলন — ১২টি চাকা

    প্রতিবছর নতুন কাঠ দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই রথগুলি নির্মাণ করা হয়। লক্ষ লক্ষ ভক্ত রশি টেনে রথ টানার মধ্য দিয়ে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তি প্রকাশ করেন।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রথযাত্রা?

    রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে পুরীর শ্রীক্ষেত্রে এই সময় লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এই ঐতিহাসিক উৎসবের সাক্ষী হতে আসেন। সময়ের সঙ্গে রথযাত্রার জনপ্রিয়তা ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আজও ভক্তদের কাছে এই উৎসব ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভের এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম, স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের ভিত্তি নির্মাণ কিংবা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই—এই প্রতিটি অধ্যায়ে বারবার ফিরে আসে একটি নাম। তিনি ‘ভারত কেশরী’ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ, ৬ জুলাই, তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্ব, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে।

    কলকাতার এক মেধাবী ছাত্র থেকে জাতীয় নেতা

    ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মা যোগমায়া দেবী। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অসামান্য মেধার পরিচয় মিলেছিল। মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মেধাবৃত্তিসহ ম্যাট্রিক, প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ-তেও প্রথম স্থান—প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হওয়া ছিল সেই সময়ের এক বিরল নজির।

    শিক্ষাক্ষেত্রে যে সংস্কার আজও স্মরণীয়

    আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে তিনি কেবল আইনজীবী হয়ে থেমে থাকেননি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮—এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবর্তনগুলি তিনি আনেন, তা সময়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল। কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স, চীনা ও তিব্বতি ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের সূচনা—সবই তাঁর উদ্যোগে। তাঁর আমলেই প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন তিনি।

    বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের ভারত ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়। এই সময়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৪১ সালে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন শ্যামা-হক মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির দাঙ্গার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা সেই সময়ের নানা বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক ভোটাভুটি পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আজও আলোচিত।

    স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের প্রথম রূপরেখা

    স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ভারতের প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানা, সিন্ধ্রি সার কারখানা এবং একাধিক শিল্পপ্রকল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। খড়্গপুরে দেশের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠার ভাবনা এবং কলকাতায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। আজ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির যে আলোচনা হয়, তার প্রাথমিক শিল্পভিত্তি নির্মাণের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    মতাদর্শের প্রশ্নে মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসা

    ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এটি ছিল কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; তাঁর আদর্শগত অবস্থানেরও প্রকাশ। এরপরই তিনি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ: যে বীজ থেকে বিজেপির উত্থান

    ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই দলেই পরবর্তীকালে যুক্ত হন দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ বহু নেতা। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই জনসঙ্ঘই পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্ব কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক ধারার স্থপতি হিসেবেও মূল্যায়িত হয়।

    ৩৭০ ধারা নিয়ে যে আন্দোলন ইতিহাস হয়ে রয়েছে

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা। ‘এক দেশে দুই বিধান, দুই নিশান, দুই প্রধান চলবে না’— এই স্লোগান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পারমিট ব্যবস্থা অমান্য করে কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ১৯৫৩ সালের ১১ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৩ জুন বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা আজও নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর তাঁর এই আন্দোলন নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসে।

    ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক?

    সময়ের সঙ্গে রাজনীতি বদলেছে, দল বদলেছে, কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা থামেনি। কারণ, তাঁর জীবনকে একমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষাবিদ, সফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতির অন্যতম স্থপতি, সংসদীয় রাজনীতির প্রভাবশালী বক্তা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম সংগঠক। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন নেতা, যাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আদর্শগত ভিত্তির অংশ।

    ইতিহাসের মূল্যায়ন কখনও একরৈখিক নয়

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে একটি বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে— স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা এবং কাশ্মীর প্রশ্নের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সম্ভব নয়। ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাই তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন নেতাকে স্মরণ করা নয়; বরং স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখা।

  • Samrajya Diwas: শিবাজির আদর্শেই আধুনিক ভারত গঠনের আহ্বান, সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা মিলল প্রবন্ধে

    Samrajya Diwas: শিবাজির আদর্শেই আধুনিক ভারত গঠনের আহ্বান, সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা মিলল প্রবন্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে (Shivaji Maharaj) শুধু একজন ঐতিহাসিক যোদ্ধা বা মারাঠা সাম্রাজ্যের (Samrajya Diwas) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় সভ্যতার পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এক প্রবন্ধে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত তিনশো বছরে ভারত যে কয়েকজন অনন্য সাধারণ শাসক দেখেছে, তাঁদের মধ্যে শিবাজি মহারাজ অন্যতম। লেখাটিতে তাঁর জীবন, প্রশাসন, সামরিক কৌশল, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তাকে বর্তমান সমাজের জন্য অনুসরণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ‘হিন্দবী স্বরাজ্যে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা (Samrajya Diwas)

    প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, শিবাজির আবির্ভাবের বহু আগেই মহারাষ্ট্রের বহু সাধু-সন্ত তাঁর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। লেখকের দাবি, মুঘল শাসনের সময় হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে শিবাজি হিন্দু সমাজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন এবং ‘হিন্দবী স্বরাজ্যে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির সবচেয়ে বড় অবদান ছিল মানুষের মানসিক দাসত্ব ভেঙে দেওয়া। বহু স্থানীয় হিন্দু শাসক বিদেশি সুলতানদের অধীনে ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও, শিবাজি স্বাধীন ও স্বশাসিত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখান। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল শাসক পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, বরং নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্ম ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

    শিবাজি এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক

    ওই প্রবন্ধে আরও দাবি করা হয়েছে, মুঘল আমলে নারী নির্যাতন, প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন এবং একের পর এক হিন্দু মন্দির ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছিল। এই প্রেক্ষাপটে শিবাজির সংগ্রামকে সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে ওই প্রবন্ধে। সেখানে (Samrajya Diwas) শিবাজিকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি ভৌগোলিক বাস্তবতা অনুযায়ী নতুন সামরিক কৌশল প্রয়োগ করেন, দুর্গকেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির সম্ভাব্য সামুদ্রিক হুমকি উপলব্ধি করে শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করেন। লেখকের মতে, ভারতীয় নৌবাহিনীর ভিত্তি নির্মাণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখায় বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনে ফার্সির পরিবর্তে সংস্কৃত ব্যবহারের উদ্যোগ নেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং রাজধর্ম পালনের নীতিকেও আদর্শ শাসনের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ

    সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রসঙ্গে প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির কাছে ভূমি কেবল কর আদায়ের ক্ষেত্র ছিল না, বরং তা ছিল পবিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তিনি বিভিন্ন মন্দির সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগী হয়েছিলেন। গোয়ার সপ্তকোটেশ্বর, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলম এবং তামিলনাড়ুর সমুদ্রতীরবর্তী কয়েকটি মন্দির পুনর্নির্মাণে তাঁর ভূমিকা ছিল (Samrajya Diwas) গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধে বাবরের সময় অযোধ্যার রামজন্মভূমি, আওরঙ্গজেবের আমলে কাশী বিশ্বনাথ ও মথুরার মন্দির ধ্বংসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শিবাজি সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনকে রাষ্ট্ররক্ষার অংশ হিসেবে দেখতেন। এই অংশে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্ধৃতিরও উল্লেখ রয়েছে (Shivaji Maharaj)।

    জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা

    লেখাটিতে সমকালীন সমাজের জন্যও একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিজস্ব ইতিহাস পুনর্লিখন ও গবেষণার প্রসার, শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারতীয় সভ্যতার অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া, মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী কাঠামো সংরক্ষণ, সামাজিক ঐক্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুবসমাজকে রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির শাসনব্যবস্থা জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত (Samrajya Diwas) করেছিল। বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন। লেখকের মতে, বর্তমান সমাজেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

    সনাতন ধর্মের আদর্শে দীক্ষিত শিবাজি

    সবশেষে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, শিবাজির জীবন ও আদর্শ কেবল ইতিহাসের অংশ নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্র গঠন, সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং সামাজিক সংহতির ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রবন্ধের উপসংহারে শিবাজিকে সনাতন ধর্মের আদর্শে পরিচালিত এক দূরদর্শী শাসক হিসেবে (Shivaji Maharaj) উল্লেখ করে তাঁর চিন্তাধারাকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে (Samrajya Diwas) অভিহিত করা হয়েছে।

     

  • Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চারদিনের প্রতীক্ষার অবসান। অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর শুক্রবার ভোর থেকে পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল অসমের অন্যতম শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার। এদিন ভোরে দেবীর নিত্যপুজো সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই সাধারণ ভক্তদের দর্শনের জন্য মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নীলাচল পাহাড়ে শুরু হয় দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়।

    অম্বুবাচী মহাযোগের নিবৃত্তি

    গত ২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডে অম্বুবাচী মহাযোগের সূচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী টানা তিন দিন, অর্থাৎ ২৫ জুন পর্যন্ত মন্দিরে সাধারণ দর্শন ও পুজো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। ২৫ জুন রাতে অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান এবং নিত্যপূজা সম্পন্ন করে শুক্রবার সকাল থেকে আবার ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

    নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

    অম্বুবাচী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের ঢল নামে। অসমের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য সাধু-সন্ন্যাসী, তপস্বী, অঘোরী, সন্ন্যাসী ও সাধারণ ভক্ত মা কামাখ্যার আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মন্দিরে প্রবেশের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে। এই সময় নীলাচল পাহাড় কার্যত এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধু-সন্ন্যাসীদের বিচিত্র বেশভূষা, ধর্মীয় আচার এবং ভক্তদের ভিড় উৎসবের আবহকে আরও গাঢ় করে তোলে।

    কেন চারদিন বন্ধ থাকে কামাখ্যা মন্দির?

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর সময় ধরিত্রী বা বসুমতী রজস্বলা হন। সেই বিশ্বাসের কারণেই এই কয়েকদিন কামাখ্যা মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং দেবীর নিয়মিত পূজাও স্থগিত থাকে। শুধু কামাখ্যা মন্দিরই নয়, অসমের বহু মঠ, মন্দির এবং নামঘরেও এই সময় পূজা-অর্চনা করা হয় না। কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ। হালচাষ, জমি কোপানো বা মাটি খোঁড়ার মতো কাজ এই কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয়। অসমের বহু মানুষ এই সময়কে ‘সাত’ বা ‘আমতি’ হিসেবে পালন করেন। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির দিন বাড়িঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া এবং শুচিতা পালনের পরেই আবার মন্দির ও নামঘরে নিয়মিত পূজা শুরু হয়।

    আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের বিশেষ বিশ্বাস

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচী মহাযোগের সময় মা কামাখ্যার আরাধনা করলে বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি এবং দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। সেই কারণেই প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই সময় কামাখ্যা ধামে এসে উপস্থিত হন। শক্তি উপাসকদের কাছে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

    রাজ্যপালের শুভেচ্ছা

    কামাখ্যা মন্দির পরিদর্শন করে অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য বলেন, “এই শুভ অনুষ্ঠানের উপলক্ষে আমি রাজ্যবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মা কামাখ্যার দর্শনে এসেছেন এবং তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য অত্যন্ত সুসংগঠিত ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তা

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “পবিত্র অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর আজ পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে গেল মা কামাখ্যা ধামের পবিত্র দ্বার। নীলাচল পাহাড়ে আবার অনুভূত হল আদ্যাশক্তির অপরিসীম মহিমা ও আধ্যাত্মিক শক্তির স্পন্দন। এই শুভক্ষণে মা কামাখ্যার শ্রীচরণে সকলের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি। কামাখ্যা ধাম অসমের ঐতিহ্যে নারীশক্তির কেন্দ্রীয় প্রতীক। গত কয়েকদিনে ৮ লক্ষেরও বেশি ভক্ত এই অনন্য ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন।”

    ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ভক্তির এক মহামিলন

    অম্বুবাচী মহাযোগ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অসমের সংস্কৃতি, শাক্ত উপাসনা এবং নারীশক্তির প্রতীকী উদযাপন হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রতিবছরের মতো এ বছরও লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে নীলাচল পাহাড় সাক্ষী থাকল এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহের। মন্দিরের দ্বার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের প্রার্থনা, আরতি এবং ‘জয় মা কামাখ্যা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা কামাখ্যা ধাম।

  • Ramakrishna 673: “সন্ন্যাসীর বেশে বুদ্ধগয়া দর্শন করিতে গিয়াছিলেন, বড় বড় সাধু দেখতে!”

    Ramakrishna 673: “সন্ন্যাসীর বেশে বুদ্ধগয়া দর্শন করিতে গিয়াছিলেন, বড় বড় সাধু দেখতে!”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২৩শে – ২৪শে এপ্রিল

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও নরেন্দ্রাদি ভক্তের মজলিশ

    সুরেন্দ্র, শরৎ, শশী, লাটু, নিত্যগোপাল, কেদার, গিরিশ, রাম, মাস্টার 

     

    সুরেন্দ্র একটু অভিমানী। ভক্তেরা কেহ কেহ বাগানের খরচের জন্য বাহিরের ভক্তদের কাছে অর্থ সংগ্রহ করিতে গিয়াছিলেন। তাই বড় অভিমান হইয়াছে। সুরেন্দ্র বাগানের অধিকাংশ খরচ দেন।

    সুরেন্দ্র (কেদারের প্রতি) — অত সাধুদের কাছে কি আমি বসতে পারি! আবার কেউ কেউ (নরেন্দ্র) কয়দিন হইল, সন্ন্যাসীর (Ramakrishna) বেশে বুদ্ধগয়া দর্শন করিতে গিয়াছিলেন। বড় বড় সাধু দেখতে!

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সুরেন্দ্রকে ঠাণ্ডা করিতেছেন। বলছেন, হাঁ, ওরা ছেলেমানুষ, ভাল বুঝতে পারে না।

    সুরেন্দ্র (কেদারের প্রতি) — গুরুদেব কি জানেন না, কার কি ভাব। উনি টাকাতে তুষ্ট নন; উনি ভাব নিয়ে তুষ্ট!

    ঠাকুর মাথা নাড়িয়া সুরেন্দ্রের কথায় সায় দিতেছেন। “ভাব নিয়ে তুষ্ট”, এই কথা শুনিয়া কেদারও আনন্দ প্রকাশ করিতেছেন।

    ভক্তেরা খাবার আনিয়াছেন ও ঠাকুরের সামনে রাখিয়াছিলেন। ঠাকুর জিহ্বাতে কণিকামাত্র ঠেকাইলেন। সুরেন্দ্রের হাতে প্রসাদ দিতে বলিলেন ও অন্য সকলকে দিতে বলিলেন।

    সুরেন্দ্র নিচে গেলেন। নিচে প্রসাদ বিতরণ হইবে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — তুমি বুঝিয়ে দিও। যাও একবার — বকাবকি করতে মানা করো।

    মণি হাওয়া করিতেছেন। ঠাকুর বলিলেন, “তুমি খাবে না?” মণিকেও নিচে প্রসাদ পাইতে পাঠাইলেন।

    সন্ধ্যা হয় হয়! গিরিশ ও শ্রীম — পুকুরধারে বেড়াইতেছেন।

    গিরিশ — ওহে তুমি ঠাকুরের বিষয় — কি নাকি লিখেছো?

    শ্রীম — কে বললে?

    গিরিশ — আমি শুনেছি। আমায় দেবে?

    শ্রীম — না; আমি নিজে না বুঝে কারুকে দেব না — ও আমি নিজের জন্য লিখেছি।

    অন্যের জন্য নয় (Kathamrita)!

    গিরিশ — বল কি!

    শ্রীম — আমার দেহ যাবার সময় পাবে।

    ঠাকুর অহেতুক-কৃপাসিন্ধু — ব্রাহ্মভক্ত শ্রীযুক্ত অমৃত 

    সন্ধ্যার পর ঠাকুরের ঘরে আলো জ্বালা হইয়াছে। ব্রাহ্মভক্ত শ্রীযুক্ত অমৃত (বসু) দেখিতে আসিয়াছেন। ঠাকুর তাঁহাকে দেখিবার জন্য ব্যস্ত হইয়াছিলেন। মাস্টার ও দুই-চারিজন ভক্ত বসিয়া আছেন। ঠাকুরের সম্মুখে কলাপাতায় বেল ও জুঁই ফুলের মালা রহিয়াছে। ঘর নিস্তব্ধ। যেন একটি মহাযোগী নিঃশব্দে যোগে বসিয়া আছেন। ঠাকুর মালা লইয়া এক-একবার তুলিতেছেন। যেন গলায় পরিবেন।

    অমৃত (স্নেহপূর্ণস্বরে) — মালা পরিয়ে দেব?

LinkedIn
Share