Tag: উত্তম কুমার

  • Uttam Kumar Tollygunge Tribute: জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে তারকার মেলা টালিগঞ্জে! শুভেন্দুর আবেদনে উত্তম কুমারকে প্রথম মাল্যদান রঞ্জিত মল্লিকের

    Uttam Kumar Tollygunge Tribute: জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে তারকার মেলা টালিগঞ্জে! শুভেন্দুর আবেদনে উত্তম কুমারকে প্রথম মাল্যদান রঞ্জিত মল্লিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে বৃহস্পতিবার আবেগ ও স্মৃতিতে ভাসল কলকাতা। টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন টালিগঞ্জে কার্যত বসেছিল চাঁদের হাট। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একের পর এক তারকা, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

    রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, দেব, জিৎ থেকে শুরু করে পরিচালক গৌতম ঘোষ—মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ-সহ আরও অনেকে। উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিও এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

    রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই প্রথম মাল্যদান

    বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রবীণ অভিনেতা এবং উত্তম কুমারের সহকর্মী হিসেবে রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই প্রথম মাল্যদানের আবেদন করেন শুভেন্দু। সেই মতো নিজের সহকর্মী ও বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমারের মূর্তিতে প্রথমে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান রঞ্জিত মল্লিক। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানান। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব রঞ্জিত মল্লিককে। প্রথা অনুযায়ী আমাকে বলা হয়েছিল মালা দিতে কিন্তু আমার মনে হয় ওঁর হাত দিয়েই সূচনা হওয়া উচিত।’এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের মতো একটি বিশেষ বছরে তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    উত্তম কুমারের ব্যাপ্তি বাংলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে

    মহানায়ককে স্মরণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি শ্রদ্ধা জানানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মহানায়কের জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বাংলা কিংবা ভারতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। শুভেন্দু বলেন, ‘মহানায়ক সম্পর্কে আমি পোস্ট করার আগে, একদম সকালে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।’

    ‘গোটা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের দিন’, মহানায়ককে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর

    জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারকে স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আজ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের জন্যই অত্যন্ত গর্বের দিন। বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া মহানায়কের শিল্পসৃষ্টি এখনও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে রয়েছে।’’ উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা ও অবদান নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে অমর হয়ে রয়েছেন উত্তম কুমার। সমস্ত বাঙালি গর্বিত।’’

    মহানায়কের জন্মশতবর্ষ বিশেষভাবে উদ্‌যাপন

    উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রাজ্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়েছে, তেমনই মহানায়কের জন্মশতবর্ষও বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে গুরুত্ব দিয়েছি, মহানায়কের ক্ষেত্রেও তাই। আগামিকাল উত্তমকুমার নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। তার ভূমি পুজো আছে, আমরা অনুষ্ঠান করব। অনেকগুলো প্রোগ্রাম নিয়েছি,  চারদিন ব্যাপী প্রোগ্রাম আছে।’

    একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক উদ্যোগের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর চার দিনের অনুষ্ঠানেই আয়োজন সীমাবদ্ধ থাকছে না। বছরভর মহানায়ককে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তম মঞ্চের সংস্কার, মহানায়কের বিভিন্ন মূর্তি সাজানো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে উত্তম কুমারের জীবন ও কর্মকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য

    উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জন্মদিনের সকালে তাঁর জন্মস্থান আহিরীটোলা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা টালিগঞ্জে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিজলী সিনেমা হলের সামনেও মহানায়ককে স্মরণ করে বিশেষ আয়োজন রয়েছে। তাঁর জনপ্রিয় ছবির দৃশ্য ও চরিত্রকে সামনে রেখে সাজানো হচ্ছে এলাকা। পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবে পাঁচটি বিশেষ এলইডি ভ্যান। সেখানে প্রদর্শিত হবে উত্তম কুমারের অভিনীত জনপ্রিয় ছবির নানা দৃশ্য এবং তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত।

    নন্দন থেকে বিড়লা তারামণ্ডল, ‘ট্রিবিউট ওয়াক’

    জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ট্রিবিউট ওয়াক’। নন্দন চত্বর থেকে শুরু হয়ে এসএসকেএম, অ্যাকাডেমি, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল এবং বিড়লা তারামণ্ডল হয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা পর্যন্ত এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকাতেও এদিন বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের তারকা ও কলাকুশলীদের পাশাপাশি লোকশিল্পী এবং উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা অভিনেতা, অভিনেত্রী ও প্রযুক্তিবিদরাও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মহানায়কের পরিবারের সদস্যরাও এই পদযাত্রায় পা মেলাবেন বলে জানা গিয়েছে।

    প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, কেক-পায়েস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    সন্ধ্যায় একতারা মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। থাকবে কেক কাটা ও পায়েস খাওয়ার আয়োজনও। এরপর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিনয়জীবনের বিভিন্ন দিক, জনপ্রিয় ছবি এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান তুলে ধরা হবে সেই প্রদর্শনীতে।

    নিউ টাউনে তৈরি হবে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’

    জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম বড় ঘোষণা নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’। আধুনিক চলচ্চিত্র পরিকাঠামোকে সামনে রেখে এই কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ফিল্ম সেন্টারে প্রায় এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম, ওপেন-এয়ার থিয়েটার-সহ একাধিক আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মহানায়কের নামে এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিসর হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    নন্দন থেকে রাধা স্টুডিও, পর্দায় ফিরবেন মহানায়ক

    চার দিনের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবেরও আয়োজন করা হয়েছে। নন্দন-১, নন্দন-২ এবং রাধা স্টুডিওতে প্রদর্শিত হবে উত্তম কুমারের একাধিক জনপ্রিয় ও নির্বাচিত ছবি। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ‘নায়ক’ দিয়ে এই বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সূচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি নন্দন, রাধা স্টুডিও-সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মহানায়কের আরও একাধিক ছবি দেখানো হবে। বিজলী সিনেমা হলের সামনেও উত্তম কুমারের ছবি দিয়ে তৈরি বিশেষ কাটআউট বসানো হবে। সিনেমা, গান, নৃত্য, আলোচনা এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহানায়কের শিল্পজীবনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

    উত্তমের সহশিল্পীদের বিশেষ সম্মান

    জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদেরও বিশেষভাবে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন সবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দীপঙ্কর দে, শকুন্তলা বড়ুয়া এবং মিঠুন চক্রবর্তী-সহ একাধিক বিশিষ্ট শিল্পী।এছাড়াও ইন্ডিয়া পোস্টের উদ্যোগে মহানায়ককে উৎসর্গ করে প্রকাশ করা হবে বিশেষ স্মারক খাম ও ডাকটিকিট।

    ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’ থেকে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’

    ৬ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে হবে দুটি বিশেষ আলোচনা সভা। একটি ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’, অন্যটি ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’। মহানায়কের সমসাময়িক শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও এই আলোচনায় অংশ নেবেন। চার দিনের এই বিশেষ উদ্‌যাপনের শেষ হবে রবীন্দ্রসদনে। সেখানে আয়োজিত হবে বিশেষ সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।

  • Uttam Kumar Birth Centenary: জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা মোদি-শুভেন্দুর, আবেগঘন বার্তায় স্মরণ কিংবদন্তি অভিনেতাকে

    Uttam Kumar Birth Centenary: জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা মোদি-শুভেন্দুর, আবেগঘন বার্তায় স্মরণ কিংবদন্তি অভিনেতাকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য অধ্যায়। কোটি কোটি বাঙালির কাছে আজও তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি চিরকালের ‘মহানায়ক’। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে জন্ম নেওয়া অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় পরবর্তীকালে উত্তম কুমার নামে রুপোলি পর্দায় এমন এক জাদু সৃষ্টি করেছিলেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমান উজ্জ্বল। তাঁর জন্মের ১০০ বছর পূর্তিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ ভিডিও পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর

    মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ভিডিওতে মহানায়কের জীবনের নানা মুহূর্ত, চলচ্চিত্রের বিভিন্ন স্থিরচিত্রের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজের কণ্ঠে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার প্রিয় দেশবাসী, ৩ সেপ্টেম্বর আমরা মহানায়ক উত্তম কুমারজির জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। বন্ধুরা, উত্তম কুমারজি ছিলেন একজন বহুমুখী অভিনেতা, যিনি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। চলচ্চিত্র প্রেমীদের বিশ্বাস যে, সত্যজিৎ রায়জি ‘নায়ক – দ্য হিরো’ চলচ্চিত্রের পুরো চিত্রনাট্য মহানায়ক উত্তম কুমারজি-কে মনে রেখেই লিখেছিলেন। শ্রীমান সত্যজিৎ রায় একবার বলেছিলেন যে, উত্তম কুমারের মধ্যে সংযম ও নীতিবোধের পাশাপাশি এক অদ্ভুত আবেগ ছিল। চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন।”

    ‘কখনও হাল না ছাড়া’— উত্তমের জীবন থেকে শিক্ষার কথা মোদির

    শুধু অভিনয় প্রতিভাই নয়, উত্তম কুমারের ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহানায়কের জীবন নতুন প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

    মোদির কথায়, “উত্তম কুমারজি শুধু তাঁর সহজ-স্বাভাবিক অভিনয়ের জন্যই পরিচিত ছিলেন না, বরং তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবন আমাদের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও দেয় — তা হল কখনও হাল না ছাড়া। তাঁর শুরুর দিকের চলচ্চিত্রগুলো খুব একটা সফল হয়নি, কিন্তু তিনি নিজের কাজে মনোযোগ বজায় রেখেছিলেন। আর সেই উৎসর্গই তাঁকে এত উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।”

    ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করলেন মোদি

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর কলকাতা সফরের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিও ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, “বন্ধুরা, আমার মনে আছে যখন আমি কলকাতায় রোড শো করছিলাম, তখন আমি উত্তম কুমারজির বাড়ির সামনে দিয়েও গিয়েছিলাম। সেখানে একজন ব্যক্তি আমাকে তাঁর একটি ছবি উপহার দিয়েছিলেন। আমি আরও একবার মহানায়ক উত্তম কুমারজির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। তিনি সর্বদাই আমাদের সবার হৃদয়ে রাজত্ব করবেন। মহানায়ক উত্তম কুমার চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন।”

    ভিডিওটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে ক্যাপশনটি পোস্ট করেন, সেখানে লেখা হয়— “মহানায়ক উত্তম কুমার… এক কিংবদন্তি যাঁর কালজয়ী পরিবেশনা প্রজন্মান্তরের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে চলেছে। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। গত রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে আমি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছিলাম, তাও শেয়ার করছি।”

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শ্রদ্ধার্ঘ্য

    মহানায়ক উত্তম কুমারের শতবর্ষ জন্মজয়ন্তীতে সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। নিজের পোস্টে তিনি মহানায়কের অভিনয় প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “তাঁর অনন্য অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও চিরস্মরণীয় উপস্থিতি বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালির হৃদয়ে তিনি চিরকাল মহানায়ক হয়েই বেঁচে থাকবেন।”

    ভবানীপুরের অরুণ থেকে বাংলা সিনেমার চিরন্তন মহানায়ক

    ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার ভবানীপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয়েছিল অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। পরবর্তীকালে ‘উত্তম কুমার’ নামেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেতাদের অন্যতম। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, সংযত অভিব্যক্তি, পর্দার ব্যক্তিত্ব এবং দর্শকের সঙ্গে গভীর আবেগের সংযোগ তাঁকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

    বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের প্রতীক উত্তম কুমার আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী চরিত্র এখনও বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ এবং স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী— সকলের শ্রদ্ধার্ঘ্য যেন আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল, মহানায়ক কেবল রুপোলি পর্দাতেই নন, মানুষের হৃদয়েও আজীবন অমর।

LinkedIn
Share