Tag: কলকাতা জেল

  • Presideny Jail: প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, স্মার্টফোন থেকে ওটিজি, রাউটার! কীভাবে ঢুকল? শুরু তদন্ত

    Presideny Jail: প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, স্মার্টফোন থেকে ওটিজি, রাউটার! কীভাবে ঢুকল? শুরু তদন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার অতি সুরক্ষিত প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন, রাউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস। জেল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কারা দফতর ও রাজ্য পুলিশে।

    কারা সূত্রে খবর, গত ১৩ অগাস্ট প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই সময় আফতাব আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হয় দুটি স্মার্টফোন, একটি আইফোন এবং দুটি রাউটার। এর পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি কার্ড রিডার, পেনড্রাইভ, ওটিজি (অন-দ্য-গো) কেবল এবং ওটিজি অ্যাডাপ্টার। একটি হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দি একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির কাছে কীভাবে এতগুলি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম পৌঁছল, তা নিয়েই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে।

    জেলের ভিতর থেকে কার সঙ্গে যোগাযোগ?

    আফতাব আনসারির সেল থেকে একসঙ্গে এতগুলি যোগাযোগ ও ডেটা-সংক্রান্ত ডিভাইস উদ্ধারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জেলের ভিতরে বসে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন? উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও রাউটারগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেগুলি দিয়ে বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না এবং কোনও সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বিশেষ করে রাউটার, স্মার্টফোন, আইফোনের পাশাপাশি কার্ড রিডার ও ওটিজি সংক্রান্ত সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ডিভাইসগুলির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার বা তথ্য আদানপ্রদানের কোনও প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    আগেও উঠেছিল করাচিতে যোগাযোগের অভিযোগ

    আফতাব আনসারিকে ঘিরে জেলের ভিতর থেকে যোগাযোগের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে করাচিতে থাকা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই জেলবন্দি এই কুখ্যাত জঙ্গির যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা সামনে আসে। নতুন করে তাঁর সেল থেকে একাধিক মোবাইল ও নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় সেই পুরনো অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

    হেস্টিংস থানায় এফআইআর

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। গতকাল রাতে হেস্টিংস থানায় আফতাব আনসারির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছেন কারা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক সামগ্রী পৌঁছনোর পিছনে কোনও অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে কি না। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকা বন্দির সেলে কীভাবে একাধিক স্মার্ট ডিভাইস ঢুকল, তা নিয়েও জেল প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    আমেরিকান সেন্টার হামলার মূল চক্রী

    আফতাব আনসারি কলকাতার আমেরিকান সেন্টার হামলার মূল চক্রী হিসেবে পরিচিত। ওই হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রেসিডেন্সি জেলের হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দি রয়েছেন।

    এমন একজন উচ্চ-ঝুঁকির বন্দির সেল থেকেই যদি একসঙ্গে একাধিক মোবাইল ফোন, রাউটার এবং ডেটা-ট্রান্সফারের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়, তাহলে প্রেসিডেন্সি জেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য—এই ডিভাইসগুলি কীভাবে জেলে ঢুকল, কারা তা সরবরাহ করল এবং সেগুলি ব্যবহার করে আফতাব আনসারি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

LinkedIn
Share