মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে বিশেষ জাঁকজমক সহকারে পালিত হয় দীপান্বিতা কালীপুজো (Kali Puja)। আজ কালীপুজো। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি কালীপুজোতেও রয়েছে নানা আচার-নিয়ম। আর এই পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হল মায়ের ভোগ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শ্যামামায়ের অসংখ্য মন্দির। প্রতিটি মন্দিরেই নিজস্ব রীতি মেনে দেবীকে নিবেদন করা হয় নানা ধরনের ভোগ। কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত কালীমন্দির হল কালীঘাট মন্দির। এটি অন্যতম সতীপীঠ। এছাড়া দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি, আদ্যাপীঠ, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি-সহ কলকাতার একাধিক কালীমন্দির বিশেষভাবে পরিচিত। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরও বেশ বিখ্যাত।
কোন মন্দিরে মাকে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়?
কালীপুজোর সময় মায়ের ভোগের আয়োজন অন্যান্য পুজোর তুলনায় বেশ কিছুটা আলাদা। মন্দিরভেদে ভোগের পদেও রয়েছে বৈচিত্র্য। এক নজরে দেখে নিন, রাজ্যের কয়েকটি বিখ্যাত কালীমন্দিরে দেবীকে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়।
- কালীঘাট মন্দির: সতীর একান্ন পীঠের অন্যতম হল কালীঘাট (Kalighat)। এখানে সকালে মাকে আমিষ পদ দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই ভোগের তালিকায় রয়েছে বেগুনভাজা, পটলভাজা, কপি, আলু ও কাঁচকলাভাজা, ঘিয়ের পোলাও, ঘি-ডাল, শুক্তো, শাকভাজা, মাছের কালিয়া, পাঁঠার মাংস এবং চালের পায়েস। তবে রাতে মাকে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। লুচি, বেগুনভাজা, আলুভাজা, দুধ, ছানার সন্দেশ ও রাজভোগ থাকে কালীঘাটের রাতের ভোগে।
- সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির: কথিত আছে, আনুমানিক ১৭০৩ সালে উদয়ননারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী সেই সময় জঙ্গলের মধ্যে পঞ্চমুণ্ডির আসনে ও ঘটে পুজো শুরু করেন। কালীপুজোর রাতে এখানে মাকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় লুচি, পটলভাজা, ধোঁকা বা আলুভাজা, আলুর দম এবং মিষ্টি।
- দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির: ভোরে দেবী ভবতারিণীর বিশেষ আরতি দক্ষিণেশ্বরের কালীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ। আর মায়ের ভোগে নিবেদন করা হয় সাদা ভাত, ঘি, পাঁচ রকমের ভাজা, শুক্তো, তরকারি, পাঁচ রকমের মাছের পদ, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি।
- তারাপীঠ মন্দির: কালীপুজোর দিন খুব সকালে ডাবের জল দিয়ে শুরু হয় মায়ের ভোগের আয়োজন। সকালের ভোগে থাকে পাঁচ বা ন’রকমের ভাজা, সাদা অন্ন, পায়েস ও মিষ্টি। এখানকার আমিষ ভোগের অন্যতম প্রধান উপাদান শোল মাছ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভোগের পাতে এই মাছ না থাকলে মা তারা ভোগ গ্রহণ করেন না। কালীপুজোর দিন তারা মায়ের ভোগে থাকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি। এখানকার অন্নভোগের বিশেষত্ব হল পোড়া শোলমাছ মাখা।
- সেবকেশ্বরী কালীমন্দির: শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত এই কালীমন্দির। কালীপুজোর দিনগুলিতে সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। সেবক পাহাড়ের নির্জন পরিবেশে হয় মা কালীর আরাধনা। অনেকেরই বিশ্বাস, দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। এখানে মায়ের ভোগে থাকে সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, তরকারি, পায়েস, লুচি, দই ও মিষ্টি। তবে এখানকার ভোগের অন্যতম আকর্ষণ বোয়াল মাছ। কালীপুজোর দিন এই মাছ দেবীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।
