Tag: ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর

  • Smit Machchhar Health Update: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে কেমন আছেন ক্যাপ্টেন স্মিত? ‘হাসিমুখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন’, জানালেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

    Smit Machchhar Health Update: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে কেমন আছেন ক্যাপ্টেন স্মিত? ‘হাসিমুখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন’, জানালেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তরের পর হাসপাতালে পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাঁর। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসিমুখে সময় কাটাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। শুক্রবার এই খবর জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল।

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হাসপাতালে ক্যাপ্টেন স্মিতের সঙ্গে দেখা করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। পরে প্রসার ভারতীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাইলটের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁর কথায়, স্মিতের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি এবং তাঁকে দেখে স্বস্তি পেয়েছেন।

    দীপক মিত্তল বলেন, “আমি ওঁর সঙ্গে এবং ওঁর পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেছি। উনি ভালো আছেন। ওঁকে দেখে আমি খুব খুশি এবং স্বস্তি পেয়েছি। ওঁর অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল।”

    রাষ্ট্রদূত আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন স্মিত। কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও তাঁর চিকিৎসা ভালোভাবেই চলছে। মিত্তলের কথায়, “উনি কথা বলছিলেন, পরিবারের সঙ্গে গল্প করছিলেন। কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে, তবে ভালো চিকিৎসা চলছে।”

    পরিবারের সঙ্গে ফের দেখা, স্বস্তি ক্যাপ্টেন স্মিতের

    ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার পর ক্যাপ্টেন স্মিতের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে ছিল তাঁর পরিবার। প্রথমে সৌদি আরবের তাবুকে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার ব্যবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন।

    রাষ্ট্রদূত মিত্তল জানান, পরিবারের সদস্যরাও স্মিতকে দেখে যথেষ্ট স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁরা তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর স্মিতও খুশি হয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন।

    ভারতীয় দূতাবাসও জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার ভালোভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।

    কী হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। মাঝআকাশে বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বিমানের সহকারী পাইলট কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা করেন।

    ঘটনার জেরে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    শেষ মুহূর্তে গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন স্মিত ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যানকে উদ্ধৃত করে দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল জানিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থাতেও নিজের “শেষ শক্তিটুকু” ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলেন স্মিত।

    দরজা খোলার পর যাত্রী এবং বিমানের কর্মীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। ওই বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা আরও দুই ফ্লাইদুবাই পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করানো হয়।

    ১৭৪ জনের প্রাণরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ককপিটে হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের নেওয়া সিদ্ধান্তই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা ভিতরে ঢোকার সুযোগ পান। এরপর হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।

    এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে ক্যাপ্টেন স্মিতকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করা হচ্ছে। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল তাঁকে “ভারতের সাহসী সন্তান” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, স্মিতের ভূমিকা শুধু বিমানের যাত্রীদের রক্ষা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি একটি বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করে মানবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।

    বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি—এই খবরেই আপাতত স্বস্তি ফিরেছে তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে।

LinkedIn
Share