Tag: জগন্নাথদেব

  • Rath Yatra 2026: পুরীর রথযাত্রার ৩ রথের অজানা রহস্য! নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলনের বিশেষত্ব জানেন?

    Rath Yatra 2026: পুরীর রথযাত্রার ৩ রথের অজানা রহস্য! নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলনের বিশেষত্ব জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, কোটি কোটি ভক্তের কাছে এটি আস্থা, ভক্তি ও পুণ্যলাভের এক মহামুহূর্ত। ওড়িশার পুরীতে অনুষ্ঠিত শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে ভিড় জমান। সংস্কৃত ভাষায় ‘রথ’ শব্দের অর্থ গাড়ি এবং ‘যাত্রা’ অর্থ শোভাযাত্রা বা মিছিল। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথে আরোহী জগন্নাথদেবের এক ঝলক দর্শন করাও বহু জন্মের পুণ্যের ফল। একইসঙ্গে রথের রশি স্পর্শ করা বা রথ টানার সুযোগকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের বলে মনে করা হয়।

    পুরীর রথযাত্রার বিশেষ ঐতিহ্য

    পুরীর রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হল শতাব্দীপ্রাচীন রাজপরম্পরা। আজ রাজতন্ত্র না থাকলেও পুরীর রাজপরিবারের উত্তরাধিকারীই প্রতি বছর এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। রথযাত্রা শুরুর আগে তিনি তিনটি রথের সামনে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের চারপাশ পরিষ্কার করার বিশেষ আচার, ‘ছেরা পহরা’, সম্পন্ন করেন। এই আচার শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় রথ টানার পর্ব।

    কেন তিনটি আলাদা রথ?

    পুরীর রথযাত্রা মূলত শ্রীজগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র (বলরাম) এবং বোন সুভদ্রার গুণ্ডিচা মন্দির যাত্রার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। এই কারণে তিন দেবতার জন্য থাকে তিনটি পৃথক রথ। যাত্রার ক্রমও নির্দিষ্ট—

    • প্রথমে বলভদ্রের রথ
    • এরপর সুভদ্রার রথ
    • সব শেষে জগন্নাথদেবের রথ

    উল্টো রথ বা বাহুদা যাত্রা শেষে প্রতিবছর নতুন করে রথ নির্মাণ করা হয়। তবে রথের পার্শ্বদেব-দেবী, সারথি ও ঘোড়ার কাঠের মূর্তিগুলি সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

    নন্দীঘোষ: জগন্নাথদেবের মহারথ

    জগন্নাথদেবের রথের নাম নন্দীঘোষ। প্রচলিত বিশ্বাস, দেবরাজ ইন্দ্র এই রথ জগন্নাথদেবকে প্রদান করেছিলেন। এই রথ নির্মাণে প্রায় ৮৩২টি কাঠের অংশ ব্যবহৃত হয়। উচ্চতা প্রায় ১৩.৫ মিটার (৪৪ ফুট ২ ইঞ্চি)। বর্তমানে এতে ১৬টি চাকা থাকে। রথটি লাল ও হলুদ কাপড়ে আবৃত। চারটি কালো ঘোড়ার নাম— শঙ্খ, বলাহক, শ্বেত ও হরিদাক্ষ। রথের ধ্বজার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী, রশির নাম শঙ্খচূড়, আর রক্ষক হিসেবে থাকেন গরুড়। রথের সারথি দারুক। নন্দীঘোষে বরাহ, নৃসিংহ, রাম, নারায়ণ, হনুমান, রুদ্র-সহ একাধিক পার্শ্বদেবতার পাশাপাশি নারদ, ব্যাসদেব, বিশ্বামিত্র, বশিষ্ঠ প্রমুখ ঋষিদের প্রতীকী উপস্থিতিও থাকে।

    তালধ্বজ: বলভদ্রের শক্তির প্রতীক

    বলভদ্রের রথের নাম তালধ্বজ। এটি তৈরি করতে প্রায় ৭৬৩টি কাঠের অংশ লাগে। উচ্চতা প্রায় ১৩.২ মিটার (৪৪ ফুট) এবং বর্তমানে এতে ১৪টি চাকা থাকে। সবুজ ও লাল কাপড়ে মোড়া এই রথের ধ্বজার নাম উন্মনী, আর রশির নাম বাসুকী নাগ। চারটি সাদা ঘোড়ার নাম— তীব্র, ঘোর, শ্রম (স্বর্ণনাভ) ও দীর্ঘ (দীর্ঘশর্মা)। রথের সারথি মাতলি এবং রক্ষক বাসুদেব। এই রথে গণেশ, কার্তিক, সর্বমঙ্গলা, মহেশ্বর, মৃত্যুঞ্জয়, শেষদেব-সহ ন’জন পার্শ্বদেবতার অবস্থান রয়েছে।

    দর্পদলন: সুভদ্রার রথের বিশেষত্ব

    দেবী সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন। এটি তিনটি রথের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ছোট। নির্মাণে লাগে ৫৯৩টি কাঠের অংশ। উচ্চতা প্রায় ১২.৯ মিটার (৪২ ফুট ৩ ইঞ্চি) এবং এতে থাকে ১২টি চাকা। লাল ও কালো কাপড়ে ঢাকা এই রথের ধ্বজার নাম নাদম্বিক, আর রশির নাম স্বর্ণচূড় নাগ। চারটি লাল ঘোড়ার নাম— রচিকা, মোচিকা, জিতা ও অপরাজিতা। রথের সারথি অর্জুন এবং রক্ষক জয়দুর্গা। দর্পদলনে চণ্ডী, চামুণ্ডা, মঙ্গলা, উগ্রতারা, বনদুর্গা, শ্যামাকালী, বিমলা ও বরাহী-সহ ন’জন পার্শ্বদেবীর প্রতীকী উপস্থিতি দেখা যায়। দ্বারপালিকার দায়িত্বে থাকেন ভূদেবীশ্রীদেবী

    কেন আজও কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্র পুরীর রথযাত্রা?

    পুরীর রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প, আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তির এক অনন্য সমন্বয়। প্রতি বছর নতুন করে রথ নির্মাণ, শতাব্দীপ্রাচীন রাজপরম্পরা, তিন দেবতার পৃথক রথ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের একসঙ্গে রথ টানার দৃশ্য এই উৎসবকে বিশ্বের অন্যতম অনন্য ধর্মীয় আয়োজনে পরিণত করেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, রথযাত্রার দিনে জগন্নাথদেবের দর্শন এবং রথের রশি স্পর্শ করার সৌভাগ্য অর্জন করলে জীবনে শুভফল ও পুণ্য লাভ হয়। সেই বিশ্বাসই প্রতিবছর পুরীর পথে লাখো মানুষের পদচারণাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

  • Rath Yatra 2026: রথযাত্রায় কেন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন ছাপ্পান্ন ভোগের নেপথ্যের পুরাণকাহিনি

    Rath Yatra 2026: রথযাত্রায় কেন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন ছাপ্পান্ন ভোগের নেপথ্যের পুরাণকাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা মানেই শুধু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মহারথ টানা নয়। এই মহোৎসবের আর এক বড় আকর্ষণ হল শ্রীজগন্নাথদেবের উদ্দেশে নিবেদন করা ছাপ্পান্ন ভোগ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য ধর্মীয় বিশ্বাস, পুরাণকথা এবং ভক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন ঠিক ৫৬টি পদই নিবেদন করা হয়? এর পেছনে কী রয়েছে পুরাণের ব্যাখ্যা?

    কৃষ্ণের সাত দিনের উপবাস থেকেই ৫৬ ভোগের সূচনা

    হিন্দু পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, মা যশোদা বালক কৃষ্ণকে দিনে আট প্রহরে আটবার আহার করাতেন। সেই সময় দেবরাজ ইন্দ্রের ক্রোধে ব্রজভূমিতে ভয়াবহ বৃষ্টি ও প্রলয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্রজবাসীদের রক্ষা করতে কৃষ্ণ নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরেন। টানা সাত দিন তিনি সেই অবস্থায় থাকায় কোনও খাবার বা জল গ্রহণ করেননি। প্রলয় থেমে যাওয়ার পর কৃষ্ণ যখন গোবর্ধন পর্বত নামিয়ে রাখেন, তখন মা যশোদা ও ব্রজবাসীরা তাঁর জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন করেন। সাত দিন × দিনে আটবার খাবার— এই হিসেবেই ৭ × ৮ = ৫৬। সেই থেকেই কৃষ্ণ তথা জগন্নাথদেবের উদ্দেশে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদনের প্রথা চালু হয়েছে বলে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে।

    বিষ্ণুর চার ধাম যাত্রার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই বিশ্বাস

    আরও একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যে এসে চারটি পবিত্র ধামে পরিক্রমা করেন। প্রথমে বদ্রীনাথে স্নান, এরপর দ্বারিকায় বস্ত্র পরিধান, তারপর পুরীতে ভোজন এবং সবশেষে রামেশ্বরমে বিশ্রাম নেন। এই বিশ্বাস থেকেই পুরীধামে ভগবানকে রাজকীয় ভোজ নিবেদন করার রীতি প্রচলিত হয়েছে। পুরাণ মতে, জগন্নাথদেবকে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণের রূপ হিসেবেও মানা হয়। তাই তাঁর উদ্দেশে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    জগন্নাথের ৫৬ ভোগে কী কী পদ থাকে?

    পুরীর মন্দিরে নিবেদন করা ঐতিহ্যবাহী ছাপ্পান্ন ভোগে মিষ্টি, পিঠে, ভাত, ডাল, সবজি, ক্ষীর, ফল ও নানা ধরনের বিশেষ প্রস্তুত খাবার থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল—

    • উকখুড়া (মুড়ি)
    • নাড়িয়া কোড়া (নারকেল নাড়ু)
    • খুয়া (খোয়া ক্ষীর)
    • দই
    • পাকা কলা
    • কণিকা (সুগন্ধি ভাত)
    • শুকনো খিচুড়ি
    • এন্ডুরি
    • আদা চাটনি
    • শাক ভাজা
    • করলা ভাজা
    • আরিশা
    • বুন্দিয়া
    • পাখাল (পান্তা ভাত)
    • ক্ষীর বা পায়েস
    • কাদাম্বা
    • দলমা
    • কাকারা
    • আমালু
    • খাস্তা পুরি
    • কদলি বড়া
    • মিষ্টি চাটনি
    • পদ্ম পিঠে
    • দই পাখাল
    • সুজি ক্ষীর
    • মুগ সিজা
    • মাগাজা লাড্ডু
    • পানা
    • অন্ন
    • ঘি ভাত
    • ডাল
    • বেসর
    • মাহুর (লাবরা)
    • সাগা নাড়িয়া-সহ মোট ৫৬টি ঐতিহ্যবাহী পদ

    কেন আজও এত গুরুত্বপূর্ণ ছাপ্পান্ন ভোগ?

    শুধু ধর্মীয় আচার নয়, ছাপ্পান্ন ভোগ ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা, ভক্তি এবং সমৃদ্ধির প্রতীক। কৃষ্ণের প্রতি যশোদার মাতৃস্নেহ, ব্রজবাসীদের ভালোবাসা এবং ভগবান বিষ্ণুর পুরীধামে ভোজনের পুরাণকাহিনি— এই দুই বিশ্বাস মিলিয়েই গড়ে উঠেছে এই অনন্য প্রথা। তাই রথযাত্রার সময় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন আজও কোটি কোটি ভক্তের কাছে অন্যতম পবিত্র এবং আকর্ষণীয় ধর্মীয় আচার।

  • Rath Yatra 2026: কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথদেবের মূর্তি? রথযাত্রার পবিত্র দিনে পৌরাণিক ইতিহাস জানুন

    Rath Yatra 2026: কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথদেবের মূর্তি? রথযাত্রার পবিত্র দিনে পৌরাণিক ইতিহাস জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা ২০২৬ (Rath Yatra 2026)। হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় বিশেষ উৎসাহ। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতেই পালিত হয় রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া। ওড়িশার পুরীর জগন্নাথধাম এই উৎসবের প্রধান কেন্দ্র হলেও পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বহু রাজ্যে রথযাত্রা অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই উৎসবের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ডাবলিন, মস্কো, নিউ ইয়র্ক-সহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও ভক্তরা রথযাত্রা পালন করেন।

    রথযাত্রার তাৎপর্য কী?

    ‘রথ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ চাকাযুক্ত যান বা যুদ্ধরথ। তবে সনাতন ধর্মে রথের ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। ভক্তদের বিশ্বাস, কাঠের নির্মিত বিশাল রথে আরোহন করে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করেন। দেবতাদের এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রাকেই বলা হয় রথযাত্রা

    রথযাত্রার ইতিহাস: কী বলছে পৌরাণিক কাহিনি?

    রথযাত্রার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ভগবান জগন্নাথকে শ্রীকৃষ্ণেরই এক বিশেষ রূপ হিসেবে মানা হয়। প্রাচীন গ্রন্থ ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ-এর বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে এই রথযাত্রার প্রচলন শুরু হয় বলে মনে করা হয়। সেই সময়ের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি স্বপ্নাদেশ পান জগন্নাথরূপী বিষ্ণুমূর্তি প্রতিষ্ঠা করার এবং সেই সঙ্গে রথযাত্রার আয়োজন করার। লোককথা অনুযায়ী, রাজাকে নির্দেশ দেওয়া হয় পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা এক বিশেষ কাঠ দিয়ে জগন্নাথের মূর্তি নির্মাণ করতে। কিন্তু উপযুক্ত শিল্পীর সন্ধান না পেয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় এক বৃদ্ধ এসে নিজেই মূর্তি নির্মাণের দায়িত্ব নেন। তবে তিনি শর্ত দেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন বা দরজা না খোলেন।

    কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথের মূর্তি?

    বৃদ্ধ শিল্পী একটি বন্ধ কক্ষে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ঘরের ভেতর থেকে হাতুড়ির শব্দ শোনা গেলেও একদিন আচমকাই সব শব্দ থেমে যায়। উদ্বিগ্ন হয়ে রানির অনুরোধে রাজা দরজা খুলে ফেলেন। দরজা খুলেই দেখা যায়, তিনটি মূর্তি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। হাত-পা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং রহস্যময় সেই শিল্পীও নিখোঁজ। পরে জানা যায়, তিনি আসলে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ছিলেন। এই ঘটনায় রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন গভীর অনুতাপে ভেঙে পড়েন। পরে স্বপ্নে ভগবান জগন্নাথ তাঁকে দর্শন দিয়ে জানান, এই অসম্পূর্ণ রূপেই তিনি পূজিত হতে চান। সেই থেকেই হাত-পা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শুরু হয় তাঁদের আরাধনা। পরবর্তীকালে পুরীতে নির্মিত হয় জগন্নাথ মন্দির এবং রথযাত্রা পায় স্থায়ী রূপ।

    পুরীর তিন রথের বিশেষ পরিচয়

    পুরীর রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ তিনটি পৃথক রথ, যেগুলির প্রত্যেকটির নাম, রঙ, উচ্চতা এবং চাকার সংখ্যা আলাদা।

    • জগন্নাথদেবের রথ: নান্দীঘোষ — ১৮টি চাকা
    • বলরামের রথ: তালধ্বজ — ১৬টি চাকা
    • সুভদ্রার রথ: দর্পদলন — ১২টি চাকা

    প্রতিবছর নতুন কাঠ দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই রথগুলি নির্মাণ করা হয়। লক্ষ লক্ষ ভক্ত রশি টেনে রথ টানার মধ্য দিয়ে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তি প্রকাশ করেন।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রথযাত্রা?

    রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে পুরীর শ্রীক্ষেত্রে এই সময় লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এই ঐতিহাসিক উৎসবের সাক্ষী হতে আসেন। সময়ের সঙ্গে রথযাত্রার জনপ্রিয়তা ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আজও ভক্তদের কাছে এই উৎসব ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভের এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।

LinkedIn
Share