Tag: তিব্বতে হ্রদ ভাঙার আশঙ্কা

  • Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের সিচুয়ান প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তিব্বতে ফের একটি জলাধার বা ব্যারেজ লেক ভেঙে যাওয়ার খবর ঘিরে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপাল প্রশাসন নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সম্ভাব্য ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নেপালের ধাদিং ও নুওয়াকোট জেলায় চলা উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানের কাজও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিব্বতের কিছু এলাকাতেও একই কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

    ভূমিকম্পের পর নতুন বিপদ

    শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরেই তিব্বতের একটি নতুন হ্রদ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে নেপালকে সতর্ক করে চিন। জানা গিয়েছে, শুওকেন এবং পোয়েক সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমেছিল। সেই হ্রদের বাঁধ ভেঙে জল নীচের দিকে নেমে এলে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নেপালজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ প্রশাসনের সমস্ত স্তরকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে নেপাল সরকার। পরিস্থিতির উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে।

    নদীর ধারে থাকা মানুষদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

    হ্রদ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসার পরই নেপালের রাসুয়া জেলার প্রশাসন নদীর কাছাকাছি এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলেছে। তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান উদ্ধার অভিযানে যুক্ত নিরাপত্তাকর্মীদেরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কারণ, আচমকা জলস্তর বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরাও বিপদের মুখে পড়তে পারেন।এদিকে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে থাকা আরও একটি ব্যারেজ লেকে জল ক্রমশ বাড়ছে। সেটিও ভেঙে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

    ৫০ লক্ষ ঘনমিটার পর্যন্ত জল জমতে পারে

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, চোচেন খোলা এবং পুরপু সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে আনুমানিক ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। ইতিমধ্যেই হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করেছিল বলে জানানো হয়েছে। চিনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল ওই হ্রদে ঢুকতে পারে। সেক্ষেত্রে হ্রদটির মোট জলধারণের পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ ঘনমিটার হয়ে যেতে পারে। ফলে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট’ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক হ্রদটির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ বুঝতে জলপ্রবাহের সিমুলেশন এবং ঝুঁকি মূল্যায়নও করা হচ্ছে। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    এখনও নিখোঁজ শত শত মানুষ

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন চিন ও নেপাল—দুই দেশেই আগের বিপর্যয়ের পর শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ। চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে এখনও ৫৫৮ জন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, চিনের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, নেপালের ভূখণ্ডেও প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে হ্রদ ভেঙে বন্যা হলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেই কারণেই ধাদিং ও নুওয়াকোটে চলা উদ্ধার অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল প্রশাসন।

    আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গত ২৬ তারিখ, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলির ওপর আছড়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায় নিমেষে। ওই হড়পা বানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ সহস্রাধিক। সেই ভয়াবহতার মধ্যেই এখন ভূমিকম্প, পাহাড়ি এলাকায় জল জমে হ্রদ তৈরি হওয়া এবং সেই হ্রদ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। নেপাল সরকার জানিয়েছে, চিনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নতুন হ্রদের জলস্তর এবং সম্ভাব্য জলপ্রবাহের গতিপথের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

LinkedIn
Share