Tag: ধনতেরাস

  • Dhanteras 2026: সোনা কেনার সামর্থ্য নেই? ধনতেরাসে এই সামান্য কয়েকটি জিনিস কিনলেও মিলতে পারে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ!

    Dhanteras 2026: সোনা কেনার সামর্থ্য নেই? ধনতেরাসে এই সামান্য কয়েকটি জিনিস কিনলেও মিলতে পারে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে দীপাবলি ও কালীপুজোর প্রস্তুতি। আর এই উৎসবের সূচনা হয় ধনতেরাসের (Dhanteras) মধ্য দিয়ে। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরাস, যা ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত। এই দিন দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের এবং ধন্বন্তরীর আরাধনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, ধনতেরাসে শুভ সময়ে সোনা, রুপো কিংবা অন্যান্য ধাতব সামগ্রী কিনলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে।

    তবে ধনতেরাস মানেই শুধু কেনাকাটা নয়। এই দিন কোন জিনিস কেনা শুভ, কোন সামগ্রী কেনা এড়িয়ে চলা উচিত, কীভাবে পুজো করবেন এবং সন্ধ্যায় কেন জ্বালানো হয় যম প্রদীপ—এসব নিয়েও রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি। জেনে নিন ধনতেরাসে কী করবেন, কী করবেন না এবং কেনাকাটার তালিকায় কোন কোন জিনিস রাখবেন।

    ধনতেরাসে কী কী কেনা শুভ?

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধনতেরাসের দিনে কয়েকটি বিশেষ সামগ্রী কেনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা-রুপো থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসও কেনা যেতে পারে।

    • ১. সোনা ও রুপো: ধনতেরাসে সোনা ও রুপো কেনার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে মূল্যবান ধাতু কিনলে সংসারে ধনসম্পত্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। সোনার গয়না, রুপোর কয়েন কিংবা রুপোর সামগ্রী কেনা যেতে পারে।
    • ২. কাঁসা ও পিতলের বাসন: সোনা বা রুপো কেনা সম্ভব না হলে কাঁসা কিংবা পিতলের বাসন কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। নতুন বাসন খালি অবস্থায় বাড়িতে না এনে তার মধ্যে জল, চাল, দুধ কিংবা মধু ভরে নিয়ে আসার রীতি রয়েছে। অনেকে সাত ধরনের শস্য ভরে বাসন বাড়িতে আনাকেও শুভ মনে করেন।
    • ৩. ঝাড়ু: ধনতেরাসে ঝাড়ু কেনার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঝাড়ুকে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনে নতুন ঝাড়ু কিনলে সংসার থেকে দারিদ্র্য ও আর্থিক সমস্যা দূর হয়।
    • ৪. জমি, বাড়ি ও গাড়ি: অনেকেই ধনতেরাসকে নতুন সম্পত্তি কেনার শুভ দিন হিসেবে বেছে নেন। এই দিনে জমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়।
    • ৫. লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি: ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের মূর্তি কেনার প্রচলন রয়েছে। দীপাবলির পুজোয় এই মূর্তি ব্যবহার করা হয়।
    • ৬. অন্যান্য শুভ সামগ্রী: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধনতেরাসে নুন, গুড়ের বাতাসা, গাঁট হলুদ, কড়ি, গোমতীচক্র, জায়ফল, হরিতকি, সুপুরি ও ধান কেনাও শুভ। অনেকে এই দিন বাড়িতে নতুন নুন নিয়ে আসেন এবং সেই নুন দিয়েই রান্না করেন।

    ধনতেরাসে কোন কোন জিনিস কেনা উচিত নয়?

    যেমন কিছু জিনিস কেনাকে শুভ মনে করা হয়, তেমনই কিছু সামগ্রী কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন অনেকে। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে কেনাকাটার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত।

    • ● লোহার সামগ্রী: এই দিনে লোহার জিনিস কেনা এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

    • ● কাচের জিনিস: কাচের তৈরি সামগ্রী কেনাও অনেকে অশুভ বলে মনে করেন।

    • ● অ্যালুমিনিয়ামের বাসন: ধনতেরাসে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি জিনিস না কেনার প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।

    • ● প্লাস্টিকের সামগ্রী: প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস কেনাও এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

    • ● ধারালো জিনিস: ছুরি, কাঁচি, ব্লেডের মতো ধারালো সামগ্রী এই দিনে না কেনাই ভাল বলে মনে করা হয়।

    • ● নকল সোনার গয়না: আসল সোনার পরিবর্তে নকল সোনার গয়না কেনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    • ● কালো পোশাক: এই দিনে পোশাক কিনলে কালো রং এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

    • ● মিশ্র ধাতুর সামগ্রী: অনেকে ধনতেরাসে মিশ্র ধাতুর বদলে বিশুদ্ধ ধাতুর জিনিস কেনাকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

    এছাড়া প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসের দিনে কাউকে টাকা ধার দেওয়া কিংবা অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া উচিত নয়। তেল ও ঘি পুজোয় প্রয়োজন হলেও এই দিনে না কিনে আগে থেকেই কিনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    সন্ধ্যায় কেনাকাটার তালিকায় কী রাখবেন?

    ধনতেরাসের সন্ধ্যায় কেনাকাটার পাশাপাশি পুজোর প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত লক্ষ্মী-কুবেরের আরাধনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা উচিত। সোনা, রুপো কিংবা পিতল-কাঁসার বাসন কেনার পাশাপাশি নুন, ধান, হলুদ, কড়ি ও গোমতীচক্রের মতো সামগ্রীও কেনাকাটার তালিকায় রাখতে পারেন। তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অপ্রয়োজনীয় খরচ বা ঋণ করে কেনাকাটা করার কোনও প্রয়োজন নেই।

    ধনতেরাসে কেন জ্বালানো হয় যম প্রদীপ?

    ধনতেরাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল যম প্রদীপ বা যম দীপদান। এই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির দক্ষিণ দিকে মৃত্যুর দেবতা যমরাজের উদ্দেশ্যে একটি চারমুখী প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে।

    পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির দক্ষিণ দিকের অধিপতি যমরাজ। ধনতেরাসের সন্ধ্যায় তাঁর উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালালে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা দূর হয় এবং পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

    প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আটার তৈরি চারমুখী প্রদীপে সর্ষের তেল দিয়ে তা বাড়ির বাইরে দক্ষিণ দিকে মুখ করে জ্বালানো হয়। অনেকে বাড়ির বাইরে আবর্জনা ফেলার স্থানের কাছেও এই প্রদীপ রাখেন। বিশ্বাস করা হয়, যমরাজের উদ্দেশ্যে এই দীপদান করলে পরিবারকে অকালমৃত্যুর ভয় থেকে রক্ষা করা যায়।

    কিছু পরিবারে ধনতেরাস থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন যম প্রদীপ জ্বালানোর রীতিও রয়েছে। প্রদীপ জ্বালানোর সময় পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

    ধনতেরাসে কোথায় কোথায় প্রদীপ জ্বালাবেন?

    ধনতেরাসের সন্ধ্যায় ১৩টি প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। যম প্রদীপ ছাড়াও বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে।

    • ● বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারে।

    • ● তুলসী গাছের কাছে।

    • ● বাড়ির ছাদে।

    • ● পিপল (অশ্বত্থ বা বোধি) গাছের নীচে।

    • ● বাড়ির বাথরুম ও জানলার কাছে।

    • ● কাছাকাছি কোনও মন্দিরে।

    এছাড়া বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে গরুর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানোও শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ হয় এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

    ধনতেরাসের পৌরাণিক তাৎপর্য কী?

    ধনতেরাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভগবান ধন্বন্তরীর আবির্ভাবের কাহিনি। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ধন্বন্তরী। তাঁকে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাশাস্ত্রের দেবতা হিসেবেও মানা হয়। তাই এই দিন ধনসম্পদের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাও বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    সব মিলিয়ে ধনতেরাস শুধু সোনা-রুপো বা নতুন সামগ্রী কেনার উৎসব নয়। এই দিন লক্ষ্মী-কুবেরের আরাধনা, ধন্বন্তরীর পুজো, যম প্রদীপ জ্বালানো এবং পরিবারের মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে দীপাবলির উৎসবের সূচনা হয়। প্রচলিত রীতি ও বিশ্বাস মেনে উৎসবে সামিল হওয়ার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করাই হতে পারে ধনতেরাস উদযাপনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

LinkedIn
Share