Tag: নরেন্দ্র মোদি

  • PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশে ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে দেশ’ শপথ নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, সমাজে বিভাজন তৈরি করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, এমন শক্তিগুলিকে সম্মিলিতভাবে চিহ্নিত করে পরাস্ত করার ডাক দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীতে বিজয়া দশমী উদযাপনে অংশ নিয়ে মোদি বলেন, সত্য ও মানবতার পাশে দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত জয় হয় সত্যেরই।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভগবান রামের আদর্শ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকা এবং অন্যায়, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের বার্তা। তাঁর মতে, রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা এবং চিরন্তন সত্যের মিথ্যার বিরুদ্ধে জয়ের বিশ্বাস শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভারতের প্রাণশক্তির অংশ।

    ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ, দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা

    বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ গ্রহণ করা। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে, যারা জাতীয় সম্মানের ক্ষতি করতে চায়, সমাজকে বিভক্ত করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা ছড়ায়।

    মোদি বলেন, “সত্য ও মানবতার পাশে যখন আমরা দাঁড়াই, তখন শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হয়।” তাঁর এই বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং দেশের অগ্রগতির প্রশ্নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মূল সুর, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বানও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

    ভগবান রামের আদর্শে সত্য, ন্যায় ও সহনশীলতার শিক্ষা

    বিজয়া দশমীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভগবান রামের জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্যাভিষেকের পরিস্থিতি হোক বা বনবাসের কঠিন সময়—রামচন্দ্র সত্য ও নৈতিকতার পথ থেকে কখনও সরে যাননি।

    সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে মোদি বোঝানোর চেষ্টা করেন, অনুকূল ও প্রতিকূল—উভয় পরিস্থিতিতেই নিজের কর্তব্য ও আদর্শে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছেন ভগবান রাম। তাঁর মতে, সংকটের মধ্যেও ন্যায় ও সত্যের পথ অনুসরণ করাই রামের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভগবান রাম দয়া, করুণা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর সাংস্কৃতিক ও নৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি। অন্যায় ও অত্যাচারের অবসান, সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাকেই উৎসবের মূল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসান’, উৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা মোদির

    মোদি বলেন, ভগবান রামের আদর্শকে জীবন্ত রাখা, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের ঘোষণা এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে চিরন্তন সত্যের জয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস—এই বিষয়গুলি ভারতের কাছে শুধুমাত্র উৎসবের উপলক্ষ নয়, বরং দেশের প্রাণশক্তি।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিজয়া দশমীকে কেবল ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও সামাজিক ঐক্যের মতো মূল্যবোধের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    ‘সমুদ্র সামনে, লঙ্কা দূরে’, বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছনোর বার্তা

    ভগবান রামের জীবন থেকে সাফল্যের সূত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পথে বাধা এলেই যাত্রা থেমে যেতে পারে না। তাঁর কথায়, “সামনে সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে, কিন্তু সংকল্প ছিল অটুট।”

    রামের লঙ্কা অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বোঝান, কঠিন পরিস্থিতিতে লক্ষ্য স্থির রাখা এবং সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগানোই সাফল্যের অন্যতম শর্ত। ভগবান রাম মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে জাগ্রত করেছিলেন, জনসাধারণের অংশগ্রহণকে নিজের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং উপলব্ধ সম্পদকে একত্রিত করে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্যকে সম্ভব করে তুলেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রীর মতে, সাফল্যের মৌলিক সূত্র হল নিজের শক্তির উপর আস্থা রাখা, নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা।

    এই বার্তাকে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক বলে ব্যাখ্যা করা যায়। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত সংকল্পের পাশাপাশি জনঅংশগ্রহণের গুরুত্বও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক চাপের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নজর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে প্রতিবাদকারীরা।

    অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, রাজধানী-সহ বিভিন্ন জায়গায় হওয়া এই প্রতিবাদ দেশের অগ্রগতি চায় না, এমন বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় পরিচালিত হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

    এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদির ‘নেশন ফার্স্ট’ আহ্বান এবং দেশের অগ্রগতির বিরোধী শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করার বার্তা বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর বিজয়া দশমীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় ঐক্য, ভগবান রামের আদর্শ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, তবু চলতি রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও আলোচনায় আসতে পারে।

    সব মিলিয়ে, বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা ছিল—দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। ভগবান রামের জীবন ও আদর্শকে সামনে রেখে তিনি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দৃঢ় সংকল্প, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে কঠিন বাধাও অতিক্রম করা সম্ভব।

  • PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা রুখে দেওয়া ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে কথা বলার সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় পরিস্থিতি অন্যরকম হলে শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই বিপন্ন হত না, ভারতীয় পাইলটদের নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারত। তাঁর মতে, মচ্ছরের সাহসিকতা কার্যত বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তিও রক্ষা করেছে।

    ‘কীভাবে দেখা হত ভারতীয় পাইলটদের, কে জানে’

    মচ্ছরের সঙ্গে কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যদি এটা না ঘটত, কে জানে ভারতকে কী কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত, ভারতীয় পাইলটদের কী কী সহ্য করতে হত এবং ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত। আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি অংশের তরফে এমন প্রশ্ন উঠেছিল—বিমানটি যদি শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনার শিকার হত, তাহলে কি পুরো ঘটনার দায় ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর চাপত? প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ওই সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলির উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তি নিয়ে যে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে, তা সেই বিতর্কের সঙ্গেই সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘ভারতীয়রা প্রাণ নেয় না, প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখে’

    মোদির কথায়, ‘‘দেশ গর্ব করে বলতে পারে, ভারতীয়রা এমন মানুষ নয় যারা প্রাণ নেয়। বরং অন্যদের বাঁচাতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত।’’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মচ্ছরের ভূমিকার বৃহত্তর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কেবল একটি বিমানের ভিতরে হামলা প্রতিহত করার ঘটনা ছিল না। একজন ভারতীয় পাইলট হিসেবে মচ্ছর এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বিপন্ন করে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    কী হয়েছিল সেই বিমানে?

    ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, ওমানি কো-পাইলট আচমকাই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। গুরুতর আঘাত পেয়েও মচ্ছর প্রতিরোধ চালিয়ে যান।

    পরিস্থিতি সামলাতে তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। এই পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই বা আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

    বিমানে ১৭০-রও বেশি যাত্রী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আত্মসংযমই বড় বিপর্যয় ঠেকানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে তাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে।

    ‘আমি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম’

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে ৩৯ বছর বয়সি দুই সন্তানের বাবা মচ্ছর জানান, হামলার সময় তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে ফের পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

    মচ্ছর প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘‘আমি এত আঘাত পেয়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম, আমাকে উঠতেই হবে এবং ব্যবস্থা নিতেই হবে। তা না হলে আমি মারা যেতাম।’’

    তাঁর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, হামলার মুহূর্তে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল এবং নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাঁকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছিল।

    কেন মোদির মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ?

    মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনের পর নতুন করে সামনে এসেছে সামাজিক মাধ্যমের সেই বিতর্ক। ঘটনার পর একাংশের পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বিমানটি যদি তেল আভিভে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে পড়ত, তাহলে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারত।

    কিছু পোস্টে এমনও দাবি করা হয়, কো-পাইলটের হামলা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেনকেই বিমানটির পরিণতির জন্য দায়ী করা হত। তবে এগুলি সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বক্তব্য; এগুলিকে কোনও সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না।

    প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যে এই পোস্টগুলির সত্যতা বা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগকে সমর্থন করেননি। বরং তিনি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটি অন্যভাবে ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত, তা বলা কঠিন।

    এয়ার ইন্ডিয়া এআই১৭১ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও কেন উঠছে?

    মোদির মন্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তখন আলোচনা চলছিল।

    বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারান।

    দুর্ঘটনার প্রায় এক মাস পরে প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পর বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ প্রায় একই সময়ে অন্য অবস্থানে চলে গিয়েছিল। সেই রিপোর্টে পাইলটদের উপর কোনও দায় চাপানো হয়নি।

    তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের একটি সংক্ষিপ্ত অংশকে কেন্দ্র করে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটদের দায়ী করা হয়নি।

    দুই ঘটনার মধ্যে পার্থক্য কী?

    এআই১৭১ দুর্ঘটনা এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি এক নয়। একটি হল দুর্ঘটনা, অন্যটি হল বিমানের ভিতরে সম্ভাব্য হামলা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘটনা। তাই দুটির তদন্ত, পরিস্থিতি এবং দায় নির্ধারণের বিষয়ও আলাদা।

    তবে দুটির মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তৈরি হয়েছে—বিমান দুর্ঘটনা বা মাঝআকাশে গুরুতর বিপদের ক্ষেত্রে পাইলটের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং তদন্তের আগে সামাজিক মাধ্যমে কীভাবে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ে।

    এই প্রেক্ষাপটেই মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তির প্রসঙ্গ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

    ‘শুধু বিমান নয়, আরও বড় কিছু বাঁচিয়েছেন’

    মচ্ছর বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি যে ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে সেই সাহসিকতার পাশাপাশি আরও একটি দিক সামনে এসেছে—বিপদের মুহূর্তে একজন ভারতীয় পাইলটের সিদ্ধান্ত শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই নির্ধারণ করতে পারে না, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর পেশাগত পরিচয় এবং বৃহত্তরভাবে ভারতীয় বিমানচালকদের ভাবমূর্তিও জড়িয়ে থাকতে পারে।

    মচ্ছরের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তের ফল হয়েছে জীবনরক্ষা। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে বলেছেন, ‘‘আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    মচ্ছরের সাহসিকতা তাই এখন শুধু একটি বিমানকে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার ঘটনা নয়; মাঝআকাশের সংকটময় মুহূর্তে পাইলটের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জনপরিসরে তৈরি হওয়া বয়ান—সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

  • Exam Reform Task Force: প্রশ্নফাঁস রুখতে মোদির বড় সিদ্ধান্ত, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স, প্যানেলে আর কারা?

    Exam Reform Task Force: প্রশ্নফাঁস রুখতে মোদির বড় সিদ্ধান্ত, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স, প্যানেলে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস রুখে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেছেন। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আধার প্রকল্পের অন্যতম রূপকার নন্দন নিলেকানিকে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সরকার ইতিমধ্যেই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ করেছে। তবে শুধুমাত্র শাস্তি নয়, গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাকেই আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ফেরানো যায়।

    নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের রূপরেখা

    ১৯৫৫ সালের ২ জুন কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে জন্ম নন্দন নিলেকানির। পরিবারের আদি বাড়ি কর্নাটকের সিরসিতে। বেঙ্গালুরুর বিশপ কটন বয়েজ স্কুল এবং ধারওয়াড়ের সেন্ট জোসেফস্ হাই স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি আইআইটি বম্বে থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক সম্পন্ন করেন। ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিলেকানি আধার ডিজিটাল পরিচয় প্রকল্পের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত। এবার তাঁর নেতৃত্বে টাস্ক ফোর্স পরীক্ষা ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থীদের ডিজিটাল যাচাই এবং ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করার সুপারিশ করবে।

    মহাকাশ প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা নিয়ে এস সোমনাথ

    ১৯৬৩ সালে কেরলের আলাপ্পুঝা জেলার থুরাভুরে জন্ম এস সোমনাথের। তিনি কোল্লামের টিকেএম কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি) থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এম.টেক সম্পন্ন করেন। পরে আইআইটি মাদ্রাজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইসরোর চেয়ারম্যান ও মহাকাশ দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রায় চার দশকের অভিজ্ঞ এই মহাকাশ বিজ্ঞানী বৃহৎ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও জটিল প্রকল্প পরিচালনায় বিশেষ দক্ষ।

    নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করবেন তপন কুমার ডেকা

    অসমের বরপেটা জেলার সারথেবাড়িতে ১৯৬৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জন্ম তপন কুমার ডেকার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৮ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। হিমাচল প্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) ডিরেক্টর ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ দমন, ২৬/১১ মুম্বই হামলার তদন্ত, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা অভিযানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

    আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটির প্রযুক্তিগত পরামর্শ

    চেন্নাইয়ে ১৯৬৮ সালে জন্ম ভি কামাকোটির। তিনি শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিই এবং আইআইটি মাদ্রাজ থেকে এমএস (রিসার্চ) ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। কম্পিউটার আর্কিটেকচার, তথ্য নিরাপত্তা এবং ভিএলএসআই ডিজাইনের বিশেষজ্ঞ কামাকোটি জাতীয় স্তরের মাইক্রোপ্রসেসর উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের গঠিত এআই টাস্ক ফোর্সেরও চেয়ারম্যান ছিলেন।

    শিক্ষা নীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে অনিতা কারওয়াল

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষে ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন অনিতা কারওয়াল। গুজরাত ক্যাডারের এই আইএএস অফিসারের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ৩৬ বছরেরও বেশি। ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি সিবিএসই-র চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের সচিব হিসেবে জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে অমৃত লাল মীনা

    ১৯৬৫ সালে রাজস্থানে জন্ম অমৃত লাল মীনার। ১৯৮৯ ব্যাচের বিহার ক্যাডারের আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিহারে প্রায় ২৫ বছর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৪-২৫ সালে বিহারের মুখ্যসচিব এবং ২০২২-২৪ সালে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের সচিব ছিলেন। প্রশাসন, সমন্বয় এবং বৃহৎ পরিসরের লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা পরীক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগবে।

    কী করবে এই টাস্ক ফোর্স?

    কেন্দ্রের গঠিত এই বহুমুখী বিশেষজ্ঞ কমিটি দেশের সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করবে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, পরীক্ষা পরিচালনা, পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ করার সুপারিশ করবে এই টাস্ক ফোর্স। একই সঙ্গে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র কাঠামোগত সংস্কার এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী সমাধানের রূপরেখাও তৈরি করবে কমিটি। কেন্দ্রের দাবি, এই টাস্ক ফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে দেশের উচ্চঝুঁকির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একাধিক সংস্কার কার্যকর করা হবে।

LinkedIn
Share