Tag: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন

  • West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বাংলাকে নতুন করে শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার লক্ষ্ণী বারে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি (West Bengal Industrial Policy) ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়, দীর্ঘদিনের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, বন্ধ ও রুগ্‌ণ কারখানার পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পের প্রসার—সবকিছুকেই এই নীতির আওতায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই নীতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শুধু করছাড় বা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থায়ী নীতিগত সহায়তা, পরিকাঠামোগত সুবিধা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দক্ষ কর্মী পাওয়ার নিশ্চয়তা। নয়া শিল্পনীতিতে এই বিষয়গুলির উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরির সঙ্গে আর্থিক সুবিধাকে যুক্ত করা, মহিলা কর্মীদের নিয়োগে বাড়তি উৎসাহ এবং ভবিষ্যৎমুখী শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার সংস্থান রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

    বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা, কর্মসংস্থানই অগ্রাধিকার

    • ● নয়া শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে শিল্প সংস্থাগুলিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ইপিএফ (EPF) অবদানের একটি অংশ ফেরত দেবে রাজ্য সরকার। এর ফলে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোগীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
    • ● ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ১০০ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের যোগ্য সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও মহিলা কর্মীদের নিয়োগে ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ইপিএফ সহায়তার সংস্থান রাখা হয়েছে। ২০০-র বেশি কর্মী থাকা যোগ্য পরিষেবা ইউনিটগুলি পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পেতে পারে।
    • ● বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রয়েছে পিএফ সহায়তা। অগ্রাধিকার এলাকায় অন্তত ২০০ জন এবং অন্যত্র অন্তত ৪০০ জন কর্মী থাকা যোগ্য শিল্প ইউনিট পাঁচ বছর পর্যন্ত নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ৫০ শতাংশ সহায়তা পেতে পারে।
    • ● এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মহিলা কর্মসংস্থান এবং শিল্পক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন শিল্পের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও নজর

    বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান বলতে শুধু নতুন কারখানা তৈরি বোঝায় না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা রুগ্‌ণ অবস্থায় থাকা শিল্প ইউনিটগুলিকে পুনরায় উৎপাদনের উপযোগী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নয়া শিল্পনীতিতে সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● অনুমোদিত পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার আওতায় রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ সহায়তা, জমির ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় এবং জমির বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট পুনরুজ্জীবন সেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    এর ফলে রাজ্যের বিদ্যমান শিল্প সম্পদকে নতুন করে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। নতুন করে বিপুল পরিমাণ জমি ও পরিকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি আগে থেকেই থাকা শিল্প পরিকাঠামোর পুনর্ব্যবহারও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    • ● শুধু তাই নয়, পুরনো শিল্প ইউনিট সম্প্রসারণ করেও সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের অনুমতির শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়টিও নীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিছিয়ে থাকা এলাকাতেও শিল্পের প্রসারের পরিকল্পনা

    • ● শিল্পায়নের সুফল যাতে শুধু কয়েকটি পরিচিত শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে রাজ্যের নির্দিষ্ট মহকুমাগুলিকে অগ্রাধিকার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই সমস্ত এলাকায় বিনিয়োগ করলে তুলনামূলক বেশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি, কিছু সুবিধার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ন্যূনতম শর্তও কম রাখা হবে।

    এই উদ্যোগের গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ, পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্প স্থাপিত হলে শুধু প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানই তৈরি হয় না, স্থানীয় পরিবহণ, আবাসন, বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়।

    • ● অগ্রাধিকার এলাকার তালিকা প্রতি তিন বছর অন্তর পর্যালোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে এলাকার শিল্প ও পরিকাঠামোগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বিবেচনা করে নীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

    বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

    শিল্পোদ্যোগীদের কাছে আর্থিক নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। সেই দিকটি বিবেচনা করেই প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতিতে অনুমোদিত বিনিয়োগের ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    • ● সাধারণ শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, থ্রাস্ট সেক্টর অথবা অগ্রাধিকার এলাকার শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অগ্রাধিকার এলাকায় অবস্থিত থ্রাস্ট সেক্টরের ইউনিটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সীমা রাখা হয়েছে।

    তবে এই সহায়তা এককালীন নগদ অনুদান নয়। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়মে ধাপে ধাপে তা পাওয়া যাবে। বার্ষিক সীমা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য। নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছলে অথবা ১০ বছর পূর্ণ হলে, যেটি আগে হবে, সেই অনুযায়ী সহায়তা বন্ধ হবে।

    ভবিষ্যতের শিল্পে বাংলাকে এগিয়ে রাখার পরিকল্পনা

    • ● বিশ্বজুড়ে শিল্প ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, গ্রিন হাইড্রোজেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বাড়তি সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    এই শিল্পগুলি আগামী দিনে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে বাংলার শিল্প অর্থনীতির বহুমুখীকরণের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ এলে তার সঙ্গে যুক্ত আনুষঙ্গিক শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    মেগা প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজ, পরিকাঠামোতেও সহায়তা

    • ● বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কৌশলগত ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে পৃথক বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পক্ষেত্র এবং একসঙ্গে অন্তত ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুবিধার আবেদন করা যাবে।
    • ● বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাস্তা, জল সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো পরিকাঠামো তৈরিতেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

    এই সংস্থান বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি ও মূলধনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক বাধা কমাতে পারে।

    উৎপাদন ও পরিষেবা—দুই ক্ষেত্রেই পৃথক সুবিধা

    • ● উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য এসজিএসটি-সংযুক্ত আর্থিক সহায়তা, পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতিপূরণ, প্রকল্পের জমিতে স্ট্যাম্প ডিউটি ফেরত এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্যও পৃথক প্যাকেজ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর্যন্ত এসজিএসটি-সংযুক্ত সহায়তা, ইপিএফ প্রতিপূরণ, বিদ্যুৎ শুল্কে সুবিধা এবং লিজে নেওয়া জায়গার ভাড়ায় সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
    • ● এছাড়া, হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিকাঠামো ক্ষেত্রকেও নির্দিষ্ট শর্তে শিল্পনীতির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং নির্ধারিত পরিষেবা দেওয়ার শর্ত পূরণ করলে এই প্রতিষ্ঠানগুলিও সুবিধা পেতে পারে। পিএম-শ্রী মডেলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সবুজ শিল্প ও প্রশাসনিক সরলীকরণে বিশেষ গুরুত্ব

    • ● আধুনিক শিল্পায়নের অন্যতম শর্ত পরিবেশবান্ধব উৎপাদন। সেই বিষয়টিও নয়া শিল্পনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত সারচার্জ মকুবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলি বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারে।
    • ● অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে একটিমাত্র আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● নীতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ স্থির হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব ইনটেন্ট এবং উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ৪৫ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক সহায়তার দাবি মঞ্জুর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ইউনিটের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও ৩০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে।

    প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গতি আনা গেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যে সংস্থাগুলি একাধিক রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে, তাদের কাছে দ্রুত অনুমোদন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

    শিল্পের পুনরুত্থানে নীতিগত পদক্ষেপ, এবার নজর বাস্তবায়নে

    সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন করে গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবন, মহিলা কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ শিল্পে বিনিয়োগ—একাধিক দিককে একই ছাতার তলায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    এই নীতির ইতিবাচক দিক হল, শিল্প সংস্থাকে শুধু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং কর্মসংস্থান তৈরি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি সহায়তাকে যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য।

    অবশ্যই, কোনও শিল্পনীতি ঘোষণার পরই রাতারাতি শিল্পের চেহারা বদলে যায় না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, জমি ও পরিকাঠামোর জোগান, দক্ষ শ্রমশক্তি, বিদ্যুৎ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক কাজ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ঘোষিত সুবিধা যাতে যোগ্য শিল্প সংস্থার কাছে সময়মতো পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    তবে নীতিগতভাবে শিল্পের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির যে বার্তা এই নয়া শিল্পনীতিতে দেওয়া হয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এবার তার প্রমাণ মিলবে বাস্তব বিনিয়োগ ও নতুন শিল্প প্রকল্পের হাত ধরে।

LinkedIn
Share