Tag: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি

  • Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মিসভা থেকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯-এ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করার পাশাপাশি রেজিনগরের মানুষের জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করেই নিশানা করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে।

    ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    রেজিনগরের কর্মিসভা থেকেই কার্যত উপনির্বাচনের প্রচারের সূচনা করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি একেবারেই আত্মবিশ্বাসী। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামটা আমার উপর ছেড়ে দিন। ওখানে কত ভোটে জিতব আমি জানি। সীমা নেই, অনেক বড় ভোটে জিতব।” এরপরই রেজিনগরের মানুষের উদ্দেশে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “রেজিনগরটা দেবেন তো? একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাব। যত আবাস লাগে দেব। যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব। নন্দীগ্রাম জিতে ২০৮ বিধায়ক হবে বিজেপির। এবার সংখ্যাটা ২০৯ হবে কিনা রেজিনগরের উপর নির্ভর করবে।”

    পদ্ম ফোটানোর লক্ষ্যে…

    রেজিনগর দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫১ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন প্রায় ৬৪ হাজার ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ২৭ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল ১৭ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও উপনির্বাচনে রেজিনগর থেকেই পদ্ম ফোটানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব।

    হুমায়ুনকে নাম না করেই আক্রমণ

    সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের নাম উচ্চারণ না করেই তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “কাকে পাঠাবেন বিধানসভায়? যে ঝগড়া করবে, ধমকাবে, কমিউনিটির কথা বলবে, হিন্দু-মুসলমান করবে, মন্দির-মসজিদ করবে, না উন্নয়ন চাইবেন?” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি বলেন, “দম্ভটা ভাঙতে হবে, অহঙ্কারটা ভাঙতে হবে। কার অহঙ্কার ভাঙতে হবে নামটা বললাম না। সামঝদারো কা ইশারা কাফি হ্যা। নাম বললে অনেকে হিরো হয়। তাই নাম বলার দরকার নেই।” উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন যদি চান, হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ, আরও স্কুল, আরও কলেজ, আরও রাস্তা, আরো ব্রিজ, ঘরে ঘরে জল, কৃষকের অধিকার, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরবে– যদি চান তাহলে পদ্ম ফোটাতে হবে। ৮ বিধায়ক দিয়েছেন, ৯ জন চাই। রেজিনগরটা চাই।”

    আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা

    বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। (কিন্তু) থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি আর করবেন না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যও ছিল হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাল্টা জবাব।

    পুলিশের উদ্দেশে ‘ডু ইট নাউ’ নির্দেশ

    পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙা, রেজিনগর, শক্তিপুরের মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে ফোন করার দরকার নেই। ভারতীয় ন্যয় সংহিতাতে যা বলা আছে, আপনি যে শৃঙ্খলিত বাহিনীর ট্রেনিং নিয়ে এসেছে সেই অনুযায়ী ডু ইট নাউ। পরিষ্কার খোলা ছুট দেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, “ট্রেন, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এ বার অতীত। নারীসুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার বিচার হবে দ্রুত। শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সে সব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা।”

    নারী সুরক্ষায় জোর

    নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নারী, শিশু কন্যাদের উপর অত্যাচার কার্যত ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যধিকে কী করে মুক্ত করতে হয় আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু জানে।” পুলিশের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “থানায় থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে, দুর্গা স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। আপনারা বারুইপুরে পুলিশ মন্ত্রীর ভূমিকা দেখেছেন। আরও দেখতে পাবেন।” এরপর পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আজই বলেছি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির যত পুরনো কেস আছে সব বের করুন। চার্জশিট না হলে তা করুন, এফআইআর না হলে তা করুন। ছাড়া হবে না কাউকে।”

    ‘ফলতা মডেল’-এর উদাহরণ

    বক্তৃতার শেষদিকে একাধিকবার ‘ফলতা মডেল’-এর উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ফলতার মানুষ যেমন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তেমনই রেজিনগরেও উন্নয়নের পক্ষে মানুষ ভোট দেবেন। বারুইপুরের সাম্প্রতিক পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফলতার মানুষ কথা দিয়েছিল রেখেছে। বারুইপুরের ওই ছোট্ট মেয়েটির পরিবারের লোকেরাও সংখ্যালঘু। ওনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। বাকিরাও রাখুন। ফল হাতেনাতে পাবেন।” রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বার্তা— দুইয়ের মিশেলেই বিজেপির প্রচারের সুর স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

  • Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকৃত মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতেই এই ‘এনকাউন্টার’ ঘটানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

    ‘অপরাধীর ঠাঁই জেল বা মৃত্যু’— শমীকের কড়া বার্তা

    বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, খুন বা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। শমীকের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে অপরাধচক্র ও দৌরাত্ম্য চলছিল, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। কোনও রাজনৈতিক নেতার আশ্রয় বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিল বিজেপি

    তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশের এই পদক্ষেপ। সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের বক্তব্যের আর জনসমর্থন বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গত ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের মানুষ তাদের কার্যকলাপ দেখেছেন।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কামদুনি-সহ অতীতের একাধিক ঘটনায় তৃণমূলের ভূমিকা মানুষ ভোলেনি। তাই এই ধরনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেবে না।’’

    কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবি

    বারুইপুর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে কামদুনি গণধর্ষণ মামলারও উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কামদুনি মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হোক এবং সেই মামলার তদন্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হোক।’’ তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনায় নির্যাতিতারা পূর্ণ বিচার পাননি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেই সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছেন। ফলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।’’

    পুলিশের পদক্ষেপের পাশে সুকান্ত মজুমদার

    ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষেই সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তার বক্তব্য, কোনও অভিযুক্ত যদি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়, তাহলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতেই বাধ্য। সুকান্ত বলেন, ‘‘পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে পুলিশ তো আর জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না, পাল্টা গুলিই চালাবে।’’

    কী দাবি পুলিশের?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলে ঘটনাক্রমের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সে আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশের দিকেই গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে শাসক বিজেপি।

LinkedIn
Share