Tag: বাংলা নিউজ

  • FIR Against Abhishek: ‘সেবাশ্রয়’ নাকি সর্বনাশের আখড়া? অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের তৃতীয় এফআইআর

    FIR Against Abhishek: ‘সেবাশ্রয়’ নাকি সর্বনাশের আখড়া? অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের তৃতীয় এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞাপনের চোখা চমক বনাম বাস্তবের করুণ ছবি! বিনামূল্যে চিকিৎসারই পুরস্কার? সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার বদলে আস্ত পা-টাই খোয়ালেন অসহায় মহিলা। প্রশ্নের মুখে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’। সেবাশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যেই এবার আরও চাপ বাড়ল তৃণমূলের এই নেতার। পা খুইয়ে রবীন্দ্রনগর থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR Against Abhishek) দায়ের দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের। ‘সেবাশ্রয়ে’র অনিয়ম ও গাফিলতি নিয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে এটি তৃতীয় এফআইআর (FIR Against Abhishek)। পাশাপাশি, অভিষেকের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছে এফআইআর (FIR)।

    ‘সেবাশ্রয়ে’র ভুল ওষুধেই মর্মান্তিক পরিণতি?

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘সেবাশ্রয়ে’র বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে আসছে। হাতুড়ে কিংবা মেডিক্যাল পড়ুয়াদের দিয়ে চিকিৎসা থেকে করানো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ওষুধ বিলি করার মতো মারাত্মক সব অভিযোগ রয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। মালতীর ঘটনাই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ঘটনার সূত্রপাত মাস দু’য়েক আগেই। হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে এলাকার একটি ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে গিয়েছিলেন মালতী। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কিছু ওষুধ দেন। অভিযোগ, সেই ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই তাঁর পায়ের অবস্থার চরম অবনতি হয়, যন্ত্রণা আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে।

    বিনামূল্যে চিকিৎসার নামে মোটা টাকা দাবি!

    শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে মালতি বাধ্য হন অন্য একটি সেবাশ্রয় ক্যাম্পে। অভিযোগ, সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা চান। তাহলে, সাংসদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ক্যাম্পেনিংয়ের কী হল? অভিযোগ, টাকা দিতে না চাওয়ায় মালতীকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করে দেন ওই ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের কর্তারা। এরপর মালতি ছুটেছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। প্রথমে এমআর বাঙুর (M.R. Bangur), পরে সেখান থেকে চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল ও শেষে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। সেখানেই মালতীর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সংক্রমণ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়া আটকাতে ডান পা-টি কেটে বাদ দেওয়া (Amputation) ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

    বাদ পড়ল পা, তাও মুখে কুলুপ ‘সেবাশ্রয়’

    মালতির করুণ পরিণতির পর বহুবার অভিষেক ও সেবাশ্রয় ক্যাম্পের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, তাঁরা বিষয়টি পাত্তাই দিতে চাননি বলে অভিযোগ। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের উপস্থিতিতে পুলিশের দ্বারস্থ হন অসহায় মালতির পরিবার।

    স্বাস্থ্যভবনের ভূমিকা

    এদিকে ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে। নড়েচড়ে বসেছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। ভুক্তভোগী মহিলা ও তাঁর পরিবারকে সমস্ত নথিপত্র-সহ সোমবার সকাল ১১টায় সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে (Swasthya Bhawan) ডেকে পাঠানো হয়েছে। এবার তাঁদের মুখেই পুরো অভিযোগ শুনবেন স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।

    চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ধুমধাম করে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু বাস্তবে একের পর এক ক্যাম্পে অনিয়ম, চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। খোদ সাংসদ এবং তাঁর পিএর নামে এফআইআর দায়ের হওয়ায় এই প্রকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন খাদের কিনারে। রাজ্যে পালাবদলের পর যেভাবে একের পর এক মামলায় জর্জরিত হচ্ছেন অভিষেক, তাতে তাঁর চাপ যে আরও কয়েকগুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

  • MHA order on National Anthem and National Song: ‘একটুও ভুল উচ্চারণ চলবে না’, কেন্দ্রীয় দফতর থেকে লোকভবন, দেশের গানের মর্যাদা রক্ষায় নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

    MHA order on National Anthem and National Song: ‘একটুও ভুল উচ্চারণ চলবে না’, কেন্দ্রীয় দফতর থেকে লোকভবন, দেশের গানের মর্যাদা রক্ষায় নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গীতের অবমাননা রুখতে এবার কড়া কেন্দ্রীয় সরকার। ‘আর চলবে না কোনও ভুল উচ্চারণ’, একেবারে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিল সরকারি নির্দেশিকা। দেশের জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গীত (National Song) ‘বন্দে মাতরম্‌’ গাওয়া বা বাজানোর ক্ষেত্রে সুর এবং উচ্চারণে যাতে কোনও ভুল না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। গত ৯ জুলাই দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস এবং লোকভবনে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে।

    কী রয়েছে নির্দেশিকায় (MHA order on National Anthem and National Song)?

    আর ভুল উচ্চারণ ও শব্দ বদল করা চলবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) এবং জাতীয় গীত (National Song) গাওয়ার সময় ভুল উচ্চারণ করা বা শব্দের হেরফের করা চলবে না। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাদের ওয়েবসাইটে সঠিক শব্দ এবং উচ্চারণের একটি গাইডলাইনও প্রকাশ করেছে।

    সঠিক নিয়ম

    আমাদের দেশের কিছু রাজ্যে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি নিজস্ব ‘রাজ্য সঙ্গীত’ (State Song) গাওয়ারও চল রয়েছে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যদি কোনও অনুষ্ঠানে রাজ্য সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় গীত বাজানো হয়, তবে জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গীত-দুটিই একসঙ্গে গাইতে বা বাজাতে হবে। প্রথমে গাইতে হবে জাতীয় গীত (বন্দে মাতরম্‌), আর ঠিক তারপরেই গাইতে হবে জাতীয় সঙ্গীত (জন গণ মন)। গত জানুয়ারি মাসের একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গীতের ছয়টি স্তবক বা প্যারা গাইতেই হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।

    কোন কোন অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক?

    নতুন নির্দেশিকায় (MHA Order) বেশ কিছু বিশেষ অনুষ্ঠানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতীয় গীত (বন্দে মাতরম্‌), আর জাতীয় সঙ্গীত (জন গণ মন) বাধ্যতামূলক। এগুলি হল, রাষ্ট্রপতি যখন কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে আসবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে চলে যাবেন, রেডিও (AIR) এবং দূরদর্শনে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঠিক আগে এবং পরে, নিজ নিজ রাজ্যে রাজ্যপাল বা লেফটেন্যান্ট গভর্নর (LG) যখন কোনও বড় সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং বিদায় নেবেন, এবং প্যারেডের সময় যখন জাতীয় পতাকা সম্মানসহকারে সামনে নিয়ে আসা হবে।

    সোজা কথায়, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গীত গাওয়ার সময় উচ্চারণ একদম নিখুঁত হওয়া বাধ্যতামূলক। আর কোনও অনুষ্ঠানে দুটিই থাকলে, প্রথমে বন্দে মাতরম্‌ (জাতীয় গীত) এবং তার ঠিক পরেই জন গণ মন (জাতীয় সঙ্গীত) গাইতে বা বাজাতে হবে।

  • One Tunnel, One Highway: ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যানে আমূল বদলে যাচ্ছে দিল্লি-এনসিআর, যোগীরাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা

    One Tunnel, One Highway: ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যানে আমূল বদলে যাচ্ছে দিল্লি-এনসিআর, যোগীরাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির বুকে এক অভূতপূর্ব পরিকাঠামো উন্নয়নের জোয়ার আসতে চলেছে। যাতায়াতের কষ্ট দূর করতে এবং বাণিজ্যকে এক ধাক্কায় রকেটের গতি দিতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট প্রায় ১৪,১১৫ কোটি টাকার দুটি মেগা সড়ক প্রকল্পের (One Tunnel, One Highway) সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। এই প্রকল্পের হাত ধরে একদিকে যেমন দিল্লির যানজট কমবে, তেমনই উত্তরপ্রদেশের (UP) বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের অর্থনীতিতে ঘটতে চলেছে বিরাট বিপ্লব। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সময় বাঁচবে, ব্যবসার লজিস্টিক খরচ কমবে, তেমনি চোখ ধাঁধানো উন্নতি দেখা যাবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়।

    কানপুর-কাবরাই গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে (Kanpur Kabrai Greenfield Highway Cabinet)

    উত্তরপ্রদেশবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর হলো, যোগী রাজ্য পেতে চলেছে এক দুর্দান্ত অর্থনৈতিক করিডর। এই প্রজেক্টের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭,১৪৫.১৪ কোটি টাকা। ১১৭.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাইওয়েটি হবে সম্পূর্ণ ‘অ্যাক্সেস-নিয়ন্ত্রিত গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে’। যার ফলে সাড়ে ৩ ঘণ্টার রাস্তা পার হতে সময় লাগবে মাত্রই ৯০ মিনিট।

    অর্থনৈতিক বিপ্লব

    কানপুর-কাবরাই গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে করিডরটি ভোপাল-কানপুর ইকোনমিক করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। এর ফলে বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে, কানপুর রিং রোড, NH-34 এবং NH-35-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠবে। মধ্যপ্রদেশের খনি ও কৃষি অঞ্চলের পণ্য সরাসরি পৌঁছে যাবে উত্তরপ্রদেশের শিল্পতালুকে।

    ৬ লেনের আধুনিক সুড়ঙ্গ (6 Lane Modern Tunnel)

    দিল্লি-এনসিআর এবং গুরুগ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিনের ট্রাফিক জ্যামের নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে তৈরি হচ্ছে ৬ লেনের আধুনিক টানেল। আনুমানিক ৬,৯৬৯.৬৭ কোটি টাকা খরচে তৈরি হচ্ছে ৮.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেনের এই টানেলটি। এই সুড়ঙ্গ দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে দক্ষিণ দিল্লির নেলসন ম্যান্ডেলা মার্গকে সরাসরি যুক্ত করবে। আইজিআই (IGI) বিমানবন্দর, বসন্ত কুঞ্জ এবং দ্বারকার মধ্যে যাতায়াত হবে জলভাত। এর সঙ্গেই তৈরি হতে চলা ‘এমস-মহিপালপুর এলিভেটেড করিডর’ যুক্ত হলে নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং পূর্ব দিল্লির দিকে যাওয়া আরও সহজ হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই টানেলটি তৈরির সময় কাজ পাবেন প্রায় ১৭.৩৪ লাখ মানুষ (UP Government)।

    শিল্পে ব্যাপক উন্নতি!

    পরিকাঠামো ও আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই প্রকল্প (One Tunnel, One Highway) উত্তরপ্রদেশের ভোল বদলে দেবে। দ্বারকা টানেলের ফলে দক্ষিণ দিল্লি ও গুরুগ্রাম সংলগ্ন এলাকার ফ্ল্যাট ও জমির দাম এবং ভাড়া বাড়বে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ঘরবাড়ি কেনার জন্য সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের ঢল নামবে। কানপুর-কাবরাই হাইওয়ের কারণে লজিস্টিক ও পণ্য পরিবহণের খরচ এক ধাক্কায় অনেকখানি কমে যাবে, যা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত ডেলিভারি দিতে সাহায্য করবে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে নতুন গুদামঘর (Warehousing), বড় বড় হোটেল, মল এবং লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে, যা কর্পোরেট দুনিয়াকে এখানে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করবে। কেন্দ্রের এই ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান শুধু রাস্তাই তৈরি করছে না, বরং দিল্লি-এনসিআর এবং উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের ভাগ্য বদলে এক নতুন অর্থনৈতিক করিডর তৈরি করছে। এবার যাতায়াত হবে সুপারফাস্ট, আর ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে আসবে জোয়ার!

  • Uniform Civil Code: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বাংলা, গঠিত হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

    Uniform Civil Code: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বাংলা, গঠিত হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের দিকে আরও একধাপ এগোল পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও অসমের পর, এবার সেই পথেই হাঁটছে বাংলা (UCC In West Bengal)। ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৯ জনের একটি বিশেষ কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বিলের খসড়া তৈরি করতে কমিটি গঠন করা হবে। সেইমতোই জারি হয়েছে কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি।

    কারা রয়েছেন কমিটিতে?

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর বিষয়ে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের (UCC In West Bengal)। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন, মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় (Tathagata Roy), আবাসিক কমিশনার দুষ্যন্ত নারিয়ালা, আইএএস অফিসার শত্রুঘ্ন সিং, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, বঙ্গবাসী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন গোপাল চন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং বেঙ্গল সম্ভোগের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মাল্য ভট্টাচার্য।

    ঠিক কী কাজ করবে কমিটি?

    কমিটির কাজ বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মতামত নেওয়া। নবান্ন সূত্রে খবর, এই আইনের রূপরেখা ঠিক করতে যে কমিটি গঠন করা হচ্ছে, তার সদস্যরা এবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সরাসরি সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করবেন। এক্ষেত্রে মূল বিলের খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে আমজনতার মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    ইতিমধ্যেই অসম এবং উত্তরপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে একটি প্রাথমিক ড্রাফট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এই আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকায় তাড়াহুড়ো করতে চায় না প্রশাসন। সেই কারণেই কমিটি দেড় মাসের মধ্যে সব পক্ষের মতামত যাচাই করে রাজ্যের কাছে জমা দেবে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র। এই কমিটি গঠনের জন্য রাজ্যের আইন দফতর ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে, দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন কমিটির প্রধান রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। বৈঠকে মূলত এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি রাজ্যে কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় চালু করা যায়, তার আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে।

    কী এই ইউসিসি (Uniform Civil Code)?

    বর্তমানে আমাদের দেশে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি বণ্টন, সন্তান দত্তক নেওয়া বা উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তাঁদের নিজস্ব ধর্মীয় আইন অনুযায়ী পালন করেন। কিন্তু অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু হয়ে গেলে দেশের সমস্ত নাগরিক–তিনি যে ধর্ম, জাতি কিংবা লিঙ্গেরই হোন না কেন, সবার জন্য একটিই মাত্র আইন কার্যকর হবে।

    মূল উদ্দেশ্য (UCC In West Bengal)

    এই বিধি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হল, আইনের চোখে সমতা – ধর্ম কিংবা জাতি নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে একই আইনের ছায়ায় নিয়ে আসা। এবং নারীর অধিকার রক্ষা। বিভিন্ন ধর্মীয় নিয়মে নারীরা সম্পত্তি বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের শিকার হন, তা দূর করে পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাও এই বিধি প্রণয়নের উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সব ধর্মের আলাদা আইন বন্ধ হয়ে যাবে। তখন দেশ বা রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিকের বিয়ে, ডিভোর্স কিংবা সম্পত্তির অধিকার, একটি মাত্র সরকারি আইন দিয়েই পরিচালিত হবে। এক কথায়, চালু হয়ে যাবে “এক দেশ, এক আইন”।

LinkedIn
Share