Tag: মাধ্যম

  • P-75I: চেয়েছিল পাকিস্তানও, আগ্রহ দেখায়নি বার্লিন! জার্মানির সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সাবমেরিন চুক্তির পথে ভারত! কী এই ‘প্রজেক্ট ৭৫আই’?

    P-75I: চেয়েছিল পাকিস্তানও, আগ্রহ দেখায়নি বার্লিন! জার্মানির সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সাবমেরিন চুক্তির পথে ভারত! কী এই ‘প্রজেক্ট ৭৫আই’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) সাবমেরিন শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পে অবশেষে বড় অগ্রগতি ঘটল। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং জার্মান সংস্থা টুসেনক্রপ মারিনা সিস্টেমস্ (TKMS)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা খরচ সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হয়েছে। সূত্রের মতে, আগামী অর্থবছরের শুরুতেই এই বহুচর্চিত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব

    প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পের আওতায় ভারতে ছয়টি আধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরি হবে, যেগুলিতে থাকবে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিন দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকতে পারবে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে। এই প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ডুবোজাহাজ কেনার চুক্তি নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ, চুক্তিটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গে এটি সরাসরি সংযুক্ত হতে চলেছে।

    খরচ ও দরকষাকষির বাস্তবতা

    প্রকল্পটির চূড়ান্ত মূল্য প্রকাশ না হলেও অনুমান করা হচ্ছে, মোট ব্যয় কমপক্ষে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা)। এটিই হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রচলিত শক্তিচালিত সাবমেরিন চুক্তি। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা মাঝগাঁও ডকইয়ার্ড লিমিটেড (MDL) ও টুসেনক্রপ-এর দর ছিল ১.২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ২০১৮ সালে প্রকল্পের ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র ৪৩,০০০ কোটি টাকা। ফলে ব্যয়ের এই বিপুল বৃদ্ধি নিয়ে প্রতিরক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে, জার্মান সংস্থার সঙ্গে নতুন করে দর-কষাকষি করে খরচের ভার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয় এমডিএলের নতুন ম্যানেজমেন্ট। নৌসেনার লক্ষ্য ছিল ৬০,০০০–৭০,০০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তা ৮০ থকে ৮২ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলে অনুমান।

    কানাডার চুক্তির সঙ্গে তুলনা

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের এই প্রকল্পের খরচকে ব্যতিক্রমী বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, কানাডা জার্মানির থেকে ১২টি এই একই ‘টাইপ-২১৪’ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন কিনছে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি ডলারে। অর্থাৎ, প্রতিটি সাবমেরিনের খরচ আনুমানিক ১ লক্ষ কোটি ডলার। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষেত্রে এই দর পড়ছে প্রায় দেড়গুণ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ার মূল কারণ প্রযুক্তি হস্তান্তর (Technology Transfer) এবং দেশীয় উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব। অন্যদিকে কানাডার ক্ষেত্রে সব সাবমেরিন জার্মানিতেই তৈরি হবে, প্রযুক্তি স্থানান্তরেরও কোনও শর্ত নেই। ফলে, সেই দিক দিয়ে দাম ঠিক আছে।

    প্রক্রিয়াগত বাধা ও সময়সীমা

    সূত্র জানাচ্ছে, খরচ সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হলেও এখনও কিছু প্রশাসনিক ধাপ বাকি রয়েছে। ফাইলটি অর্থমন্ত্রক হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা-বিষয়ক মন্ত্রিসভার কমিটি (CCS)-এর অনুমোদনের জন্য যাবে। এই প্রক্রিয়ার কারণেই চুক্তি স্বাক্ষর চলতি অর্থবছর থেকে পিছিয়ে পরবর্তী অর্থবছরে যেতে পারে। রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সাত বছরের মধ্যে প্রথম সাবমেরিন সরবরাহ করতে হবে, যেখানে ৪৫ শতাংশ দেশীয় উপাদান থাকবে। পরবর্তী বছরগুলিতে একটির পর একটি সাবমেরিন যুক্ত হবে এবং দেশীয়করণের হার ধীরে ধীরে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

    এই সাবমেরিন পাকিস্তানও চেয়েছিল, পাত্তা দেয়নি জার্মানি

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক তাৎপর্যও রয়েছে। অতীতে পাকিস্তানও জার্মান সাবমেরিন প্রযুক্তি অর্জনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, যার মধ্যে টাইপ ২১৪ প্ল্যাটফর্মও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসলামাবাদের সঙ্গে জ্বালানি, জলবায়ু প্রকল্প ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালায় বার্লিন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তাও প্রদান করে। তবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে জার্মানি এত সহজে পাকিস্তানের মতো দেশকে সন্তুষ্ট করবে না। ফলে, বার্লিন এই নিয়ে আগ্রহই দেখায়নি। সেখানে ভারতেই তৈরি হবে এই ৬টি সাবমেরিন। যার জন্য ভারতকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর করতেও রাজি বার্লিন। এখানেই তফাত।

    সাবমেরিনের ক্ষেত্রে ভারত-জার্মানি দীর্ঘ সম্পর্ক

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সাবমেরিন নির্মাণ ও উন্নত সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে জার্মানির প্রধান অংশীদার হিসেবে ভারত উঠে এসেছে। এই প্রথম নয় যে, ভারত জার্মানির থেকে সাবমেরিন নিচ্ছে। এর আগে জার্মানি থেকে শিশুমার শ্রেণির ৪টি ডিজেল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ কিনেছিল ভারতীয় নৌসেনা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে। ফলত, জার্মান প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই মজবুত করছে না, বরং অঞ্চলজুড়ে সাবমেরিন শক্তির সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত এখন জার্মানির উন্নত সাবমেরিন প্রযুক্তির প্রধান গ্রাহক ও অংশীদার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজ অবস্থান সুদৃঢ় করছে।

    ভারতের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্প ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও সামুদ্রিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যদিও এর উচ্চ ব্যয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবু প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার দিক থেকে এটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু সাবমেরিন শক্তিতে নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্প মানচিত্রেও একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে (IOR) ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও সাবমেরিন মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পের সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্রতল যুদ্ধক্ষমতায় একটি কৌশলগত সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উন্নতমানের সাবমেরিনগুলি কেবল প্রতিরক্ষা শক্তিই বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে অন্যান্য নৌশক্তির দ্রুত সম্প্রসারিত সাবমেরিন বহর ভারতের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় ভারতের দীর্ঘপাল্লার টহল ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি সমুদ্রের গভীরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ভারতীয় নৌবাহিনী অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া-ডিনায়াল (A2/AD) কৌশলকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হবে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্রতলের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বাসযোগ্য শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • S-400 Sudarshan: “শত্রু নজরের বাইরে হতে পারে, কিন্তু নাগালের বাইরে নয়”, বায়ুসেনার ভিডিওতে পাকিস্তানকে বার্তা?

    S-400 Sudarshan: “শত্রু নজরের বাইরে হতে পারে, কিন্তু নাগালের বাইরে নয়”, বায়ুসেনার ভিডিওতে পাকিস্তানকে বার্তা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force) সম্প্রতি দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা (Air Defence) ব্যবস্থার এস-৪০০ সুদর্শন (S-400 Sudarshan) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি লক্ষ্যবস্তুকে অত্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বে ধ্বংস করতে দেখা গিয়েছে। বায়ুসেনা এই ইন্টারসেপ্টকে “সামরিক ইতিহাসে সর্বাধিক দূরত্বের সফল ইন্টারসেপ্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে রাজস্থানের পোখরানে অনুষ্ঠিত হতে চলা বায়ুশক্তি-২০২৬ (Vayu Shakti-2026) মহড়ার ঠিক আগে, যা এর কৌশলগত তাৎপর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

    কৌশলগত বার্তা ও সময় নির্বাচন

    বিশ্লেষকদের মতে, মহড়ার আগে এই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ভারত তার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা দিতে চেয়েছে। ভিডিওতে ব্যবহৃত বাক্য—“Enemy may be out of sight but never out of reach”, যার অর্থ— “শত্রু নজরের বাইরে হতে পারে, কিন্তু নাগালের বাইরে নয়”— শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের উদ্দেশে একটি মনস্তাত্ত্বিক সতর্কবার্তাও।

    অপারেশন সিঁদুর–এর প্রসঙ্গ

    ভিডিওতে ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত অপারেশন সিঁদুর–এর (Operation Sindoor) উল্লেখ রয়েছে। আইএএফ সূত্র জানিয়েছে, ওই অভিযানে এস-৪০০ ব্যবস্থা (S-400) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে, পাকিস্তানের ভূখণ্ডের ভেতরে একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। এই দাবি ভারতের স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক সক্ষমতার একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

    এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ (S-400 Triumf) ব্যবস্থা তৈরি করেছে রাশিয়ার আলমাজ-আন্তেই। ভারতীয় পরিষেবায় এটি “সুদর্শন চক্র” (Sudarshan Chakra) নামে পরিচিত এবং পরিচালনা করে ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এস-৪০০ (S-400) এই ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হল—

    • ● ৪০এন৬ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
    • ● নজরদারি রেডার অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরত্বে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে।
    • ● একযোগে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক ও আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে।
    • ● এতে যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং নির্দিষ্ট ব্যালিস্টিক মিসাইল মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
    • ● স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো

    ভূরাজনৈতিক প্রভাব

    এখন ভারতের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Layered Air Defence) কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। আকাশ (Akash) ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এটি একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা গ্রিড তৈরি করেছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকাশসীমার নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালে প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে পাঁচটি এস-৪০০ (S-400 Sudarshan) রেজিমেন্ট কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে নতুন মাত্রা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ঝুঁকি সত্ত্বেও এই চুক্তি কার্যকর করা হয়, যা ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।

    ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

    এস-৪০০–এর (S-400 Sudarshan) দূরপাল্লার ইন্টারসেপ্ট ভিডিও শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্যের দলিল নয়, বরং ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতির দৃঢ়তার প্রতীক। ‘বায়ুশক্তি-২০২৬’ (Vayu Shakti-2026) মহড়ার প্রাক্কালে এই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট করেছে যে, তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন বহুস্তরীয়, আধুনিক এবং দূরপাল্লার হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

  • BJP Parivartan Yatra: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট, মানতে হবে কিছু শর্তও

    BJP Parivartan Yatra: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট, মানতে হবে কিছু শর্তও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অগত্যা সেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েই রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি আদায় করতে হল বিজেপিকে। গেরুয়া শিবিরের ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে, সঙ্গে কয়েকটি শর্ত চাপিয়েছে হাইকোর্ট।

    রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এই আবহে রাজ্যে পরিবর্তন যাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। সেই মতো, পুলিশের কাছে পরিবর্তন যাত্রার অনুমতি চেয়ে বিজেপি ২২ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু তার কোনও জবাব পুলিশ দেয়নি। পুলিশের কাছ থেকে জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে মামলা করে গেরুয়া শিবির। ফলে বাধ্য হয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বঙ্গ বিজেপিকে। শুক্রবার সেই আদালত থেকেই মিলল অনুমতি। বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে, সঙ্গে কয়েকটি শর্ত চাপিয়েছে হাইকোর্ট।

    কী বলল আদালত?

    শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কর্মসূচি পালন করা গেলেও মানতে হবে একগুচ্ছ নিয়ম। বিশেষ করে জনসমাগম এবং সময়ের ওপর আদালত কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এদিন শুনানিতে বিজেপির তরফে কোন জেলায় কোন জায়গায় কবে এই যাত্রা বা মিছিল হবে, তার তালিকা দেওয়া হয় হাইকোর্টকে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত এই পরিবর্তন যাত্রা করা যাবে। তবে মিছিলে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। একইসঙ্গে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে আদালত। প্রতিদিন বেলা ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্তই এই মিছিল করার অনুমতি মিলবে। পাশাপাশি, কর্মসূচিপথে যাতে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে।

    বিজেপির কর্মসূচি ও অমিত শাহের সফরে রদবদল

    আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বিজেপি (BJP) তাদের কর্মসূচিতে কিছুটা রদবদল ঘটিয়েছে। দোল উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ যাত্রা বন্ধ থাকবে। তাই ১ ও ২ মার্চেই অধিকাংশ বিভাগের উদ্বোধন সেরে ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আগামী ১ মার্চ কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি ও গড়বেতা থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ আরও কয়েকটি জায়গায় কর্মসূচি রয়েছে। সেগুলি হল ইসলামপুর, হাসন, সন্দেশখালি এবং আমতা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে যাত্রার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ১ মার্চেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাতে বদল হয়েছে। শাহের সফর এক দিন পিছিয়ে গিয়েছে। বিজেপি জানাচ্ছে, শাহ ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধন করতে পারেন।

    লক্ষ্য ১৪ মার্চের ব্রিগেড, থাকবেন মোদি!

    বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মধ্যে ৯টিতেই এই পরিবর্তন যাত্রা হবে। একমাত্র কলকাতা মহানগর বিভাগে কোনও যাত্রা হবে না, কারণ এই বিভাগের ওপর দায়িত্ব রয়েছে ১৪ মার্চের মেগা ব্রিগেড সমাবেশ সফল করার। সেখানেই উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘যোগদান মেলা’র মতো বড় কোনও কর্মসূচি না থাকলেও, এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমেই জনমত নিজেদের দিকে টানতে চাইছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল।

    পাখির চোখ নির্বাচন

    বিধানসভা নির্বাচনে এবার রাজ্যে পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে রাজ্যজুড়ে পরিবর্তন যাত্রাকে প্রচারের হাতিয়ার করতে সচেষ্ট হয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এই পরিবর্তন যাত্রায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন। আগামীদিনে এই যাত্রার হাত ধরেই রাজ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীর আনাগোনা বাড়বে।

  • INS Anjadip: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন সদস্য, উপকূল রক্ষায় নামল ‘ডলফিন হান্টার’, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    INS Anjadip: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন সদস্য, উপকূল রক্ষায় নামল ‘ডলফিন হান্টার’, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ আইএনএস অঞ্জদীপ (INS Anjadip)। এটি উপকূলবর্তী এলাকায় অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধক্ষমতা জোরদার করতে নেওয়া ১৬টি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ কর্মসূচির অংশ। জাহাজটি ভারতের পূর্ব নৌ-কমান্ডের অধীনে চেন্নাইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদিন কমিশনিং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। এই অন্তর্ভুক্তি শুধু একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ সংযোজন নয়, বরং উপকূলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট

    নৌবাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, আইএনএস অঞ্জদীপ-এর (INS Anjadip) গুরুত্ব বেড়েছে বিশেষ করে পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক পরিস্থিতির নিরিখে। পাকিস্তানের নৌবহরে সারফেস যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা সীমিত এবং তাদের নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ অ্যান্টি-সাবমেরিন প্ল্যাটফর্মের অভাব রয়েছে। ফলে, ভবিষ্যৎ সংঘাতে তারা সাবমেরিনের উপর বেশি নির্ভর করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। এই বাস্তবতায় ভারতের উপকূলবর্তী জলসীমা নিরাপদ রাখতে আইএনএস আর্নালা (INS Arnala)-শ্রেণির জাহাজগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক বলয় তৈরি করবে, যাতে বড় ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ারগুলো গভীর সমুদ্রে কৌশলগত অভিযানে বেশি মনোযোগ দিতে পারে। উপকূলীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন অভিযানে এই জাহাজের বিশেষ ভূমিকাকে মাথায় রেখে করে ভারতীয় নৌবাহিনী একে “ডলফিন হান্টার” বলে আখ্যা দিয়েছে।

    উপকূলজুড়ে অ্যান্টি-সাবমেরিন প্রতিরক্ষা বলয়

    আইএনএস অঞ্জদীপকে (INS Anjadip) এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে অগভীর উপকূলীয় এলাকায় (৫০–৬০ মিটার গভীরতা) শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করা যায়। এটি অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফট প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আটটি জাহাজের মধ্যে তৃতীয়। ‘লিটোরাল ওয়াটার্স’ বা উপকূলীয় ও অগভীর জলে যুদ্ধপরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য এই জাহাজের নকশা করা হয়েছে। আইএনএস অঞ্জদীপ-এর (INS Anjadip) আগে গত বছরের জুনে আইএনএস আর্নালা (INS Arnala) এবং অক্টোবরে আইএনএস আনদ্রোথ (INS Androth) কমিশন করা হয়েছিল। নৌবাহিনী পরিকল্পনা করেছে, উপকূলজুড়ে একটি স্তরভিত্তিক অ্যান্টি-সাবমেরিন প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে এই ১৬টি জাহাজকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে মোতায়েন করা হবে।

    আইএনএস অঞ্জদীপের মূল বৈশিষ্ট্য

    সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৭৭ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজটিতে উচ্চগতির ওয়াটার-জেট প্রোপালশন ব্যবস্থা রয়েছে, যার ফলে এটি সর্বোচ্চ ২৫ নট গতিতে চলতে সক্ষম। এর ফলে উপকূলের কাছাকাছি দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো সম্ভব হবে। জাহাজটির মূল কাজ উপকূলীয় এলাকায় শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত করা, ট্র্যাক করা ও ধ্বংস করা।

    এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    • ● দেশীয় হাল-মাউন্টেড সোনার ‘অভয়’
    • ● হালকা টর্পেডো ও সাবমেরিন-বিধ্বংসী রকেট
    • ● সর্বোচ্চ ২৫ নট গতিসম্পন্ন ওয়াটার-জেট প্রপালশন ব্যবস্থা
    • ● উচ্চ ম্যানুভারেবিলিটি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা

    পূর্ণসময়ের জন্য নিবেদিত সাবমেরিন-শিকারি

    এতদিন পর্যন্ত ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজগুলো অ্যান্টি-সাবমেরিন ভূমিকা পালন করলেও তাদের মূল কাজ ছিল আক্রমণাত্মক। অর্থাৎ, বিমান ও সারফেস লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আইএনএস অঞ্জদ্বীপ-এর (INS Anjadip) মতো পূর্ণসময়ের জন্য নিবেদিত প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ায় নৌবাহিনী এখন দায়িত্ব বণ্টনে আরও স্পষ্টতা আনতে পারছে। এর ফলে—

    • ● বড় যুদ্ধজাহাজগুলো কৌশলগত অভিযানে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
    • ● উপকূলীয় এলাকায় সাবমেরিন হুমকি আলাদাভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
    • ● স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে উঠবে।
    • ● দেশীয় নির্মাণ ও শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

    লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ আইএনএস অঞ্জদীপ (INS Anjadip) এবং আর্নালা-শ্রেণির অন্যান্য জাহাজ তৈরি করেছে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, কারণ এর আগে নৌবাহিনী নিজেই যুদ্ধজাহাজের নকশা দিত। এই প্রকল্প ভারত সরকারের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে রপ্তানিযোগ্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    পুরনো প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে নতুন যুগ

    এই যুদ্ধজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে অঞ্জদীপ দ্বীপের নামে, যা উত্তর কর্নাটকের কারওয়ার উপকূলের কাছে আরবসাগরে অবস্থিত। এর অন্তর্ভুক্তি বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূল বরাবর ভারতের বিস্তৃত সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন আর্নালা-শ্রেণির জাহাজগুলো ধীরে ধীরে অবসরপ্রাপ্ত অভয় (Abhay)-শ্রেণির করভেটগুলোর জায়গা নেবে, যেগুলি সোভিয়েত-ঘরানার ওপর নির্মিত পেটয়া (Petya)-শ্রেণির প্ল্যাটফর্ম ছিল। নতুন জাহাজগুলো আকার, টিকে থাকার ক্ষমতা এবং আধুনিক সেন্সর ও অস্ত্রব্যবস্থার দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত। আইএনএস অঞ্জদ্বীপ-এর (INS Anjadip) কমিশনিং ভারতের উপকূলীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে গেল। এটি শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং ভারতের নৌকৌশলে বিশেষায়িত প্রতিরক্ষার সূচনার প্রতীক। পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক নৌশক্তির পরিবর্তিত কৌশলের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

  • Earthquake in Kolkata: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও আশপাশের জেলা, উৎসস্থল বাংলাদেশ

    Earthquake in Kolkata: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও আশপাশের জেলা, উৎসস্থল বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: থরথরিয়ে কেঁপে উঠল খাট। দুলে উঠল সিলিংয়ের পাখা। টেবিল-চেয়ার থেকে শুরু করে এক নিমেষে কেঁপে উঠল গোটা বাড়ি। জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা থেকে জেলা।

    শুক্র দুপুরে কাঁপল কলকাতা

    শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিট এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কম্পনটি স্থায়ী ছিল ৭-১০ সেকেন্ডের মতো। জানা যাচ্ছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশ। বিভিন্ন এলাকার বহুতলে জোর ঝটকা অনুভূত হয়। কলকাতার বিভিন্ন অংশে আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। নবান্ন খালি করে দেন কর্মীরা। বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে আসেন বিধায়ক ও অন্য কর্মীরা। এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার সময় কলকাতাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মায়ানমার এবং কম্পনের মাত্রা ছিল ৬।

    কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা

    সূত্র অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এদিনের ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল প্রায় ৫.৪। কম্পনের কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। সাতক্ষীরা থেকে কলকাতার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও কম হওয়ায় কলকাতায় এই ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে।

    কেঁপে উঠল গোটা দক্ষিণবঙ্গ

    কলকাতার আশপাশের বেশ কিছু জেলাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, সুন্দরবনেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহরেও ভূমিকম্পের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেলা শাসকের কার্যালয়ের কর্মীরা কম্পন অনুভব করেই নিরাপত্তার জন্য বাইরে বেরিয়ে আসেন। এলাকার একাধিক বাড়ি ও আবাসনে স্পষ্টভাবে কম্পন অনুভূত হয়। বন্ধ অবস্থায় থাকা সিলিং ফ্যান কিছুক্ষণ ধরে দুলতে থাকে। একইভাবে ঝাড়গ্রাম জেলাতেও বহু মানুষ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পান। হাওড়া ও হুগলি জেলাতেও অনুরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ সিকিমে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার তীব্রতা ছিল ২.৪। তবে এই কম্পনে সেখানে কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

     

  • Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে সময়! জীবন যাপনের অভ্যাস। আর বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকটাই বদলে গিয়েছে আমাদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তাই এগিয়ে এসেছে বয়ঃসন্ধিকাল। কয়েক দশক আগেও বয়ঃসন্ধিকাল বলতে ১৪-১৫ বছরের সময় বোঝানো হতো। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্ত লক্ষণ এখন এগিয়ে আসছে। এখন ১১-১২ বছর বয়স থেকেই ছেলেমেয়েরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে বয়ঃসন্ধিকালে পোঁছে যাচ্ছে। তাই অভিভাবদের ও আলাদা ভাবে প্রস্তুতি প্রয়োজন। সন্তানের সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য এই সন্ধিক্ষণের সময়ে সবরকম বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি।

    বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে যাওয়া কাকে বলে?

    ভারতের পাশপাশি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধিকালের লক্ষণ প্রকট হয়েছে। অর্থাৎ, গত কয়েক দশক আগেও যে সময়ে শিশু কৈশোরে পা দিতো, সম্প্রতি কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট বয়সের আগেই সে শারীরিক ও মানসিক ভাবে কৈশোর জীবনে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের ১৭ শতাংশ মেয়েদের ১২ বছরের আগে ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। ২০ শতাংশ ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ৮-১০ বছরের মধ্যেই গোপনীয়তা বোধ, জোরালো মতামত এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ে। এই লক্ষণগুলো মানসিকভাবে বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
    এই সমীক্ষার তথ্য জানান দিচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে এসেছে। অর্থাৎ ১৪-১৫ বছর বয়সের পরিবর্তন এখন ১০-১২ বছর বয়সেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    কেন এগিয়ে আসছে বয়ঃসন্ধিকাল?

    এই পরিবর্তনের মূলত তিনটি কারণ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসার মূলত কারণ খাদ্যাভ্যাস। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে শিশুদের অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। প্রয়োজনের বেশি প্রাণীজ প্রোটিন তারা নিয়মিত খায়। এর ফলে শরীরে স্থুলতা দেখা দেয়। এই জন্য দ্রুত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন শুরু হয়‌। তাছাড়া অধিকাংশ শিশু প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত। এই খাবারগুলোতে ব্যবহৃত রাসায়নিক শরীরের হরমোন পরিবর্তন ঘটায়। তাই বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসছে।

    শরীরের পাশাপাশি বয়ঃসন্ধিকালে মনের পরিবর্তন হয়। এই মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। ইন্টারনেট ও মোবাইল শিশুর জানার পৃথিবী পরিবর্তন করেছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এখন অনেক কিছুই শিশুর কাছে সহজলভ্য। বড়দের অনেক বিষয় তারা সহজেই জানতে পারছে‌। এর ফলে তাদের মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে। সময়ের আগেই গোপনীয়তা বোধ তৈরি হচ্ছে।

    পরিবারের ধরন বদলে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশু এখন আর যৌথ পরিবারে থাকে না। বাবা-মা এবং সন্তান। অধিকাংশ পরিবারে এখন তিন সদস্য। পরিবারের ছোট্ট সদস‌্য বাবা-মায়ের আলোচনা, কথা শুনেই বড় হচ্ছে। অনেক সময়েই বাবা-মায়ের আলোচনার বিষয় অনেক পরিণত হয়। সেগুলো সন্তানের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। সময়ের আগেই তারা এমন অনেক বিষয় জানতে পারে, যেগুলো পরিণত বয়সে জানা উচিত। পরিবারে একাধিক সদস্য থাকলে ছোটোদের নিজের আলাদা মেলামেশার সুযোগ বাড়ে। কিন্তু ছোটো পরিবারে সেটা সম্ভব নয়। এর ফলেও তাদের মধ্যে দ্রুত মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে।

    কীভাবে সন্তানের যত্ন নেবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আর্লি টিনএজ বা সময়ের আগেই দ্রুত বয়ঃসন্ধিকালে দাঁড়ানো, এখন বিশ্বজনীন সমস্যা। তাই এই সঙ্কট মোকাবিলার জন্য অভিভাবকদের আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। শিশুর ৮-১০ বছর বয়স থেকেই তাকে শরীর ও মনের পরিবর্তন সম্পর্কে জানানো জরুরি। বিশেষত মেয়েদের সেই পাঠ বাড়তি যত্নের সঙ্গে শেখানো জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ বড়‌ কোনো শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে, সন্তান ঘাবড়ে যেতে পারে। তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। জীবনের যে পরিবর্তনগুলো খুবই স্বাভাবিক সে সম্পর্কে জানানো জরুরি। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা প্রয়োজন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা বহু প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়েই জানতে পারে। কিন্তু সেই জানার মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণা মিশে থাকে। অভিভাবকদের কথা বলে সেগুলো স্পষ্ট করা জরুরি। তবেই মানসিক গঠন ঠিক মতো হবে। তাছাড়া তাদের মতামত শোনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে তারা আত্মবিশ্বাস পাবে। অকারণ গোপনীয়তা তৈরি হবে না। তবে সন্তান কী ধরনের কন্টেন্ট দেখছে, সেগুলো তার জন্য উপযুক্ত কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। কৈশোরে এমন অনেক বিষয়েই আগ্রহ জন্মায়, যা সময়োপযোগী নয়। কথা বলেই সে সম্পর্কে সজাগ করতে হবে।

    মানসিক চাপ কমানো এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তার পাশপাশি কৈশোরে পা দেওয়ার সময় শরীরের একাধিক পরিবর্তন হয়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থ খাওয়া জরুরি। খনিজ পদার্থ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। তাই ১০ বছরের পরে ছেলেমেয়েদের নিয়মিত বাদাম, কিসমিস, কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোট জাতীয় খাবার দেওয়া উচিত। যাতে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাহলে শরীর ও মন সুস্থ থাকবে‌।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Trinamool Criminal Nexus: কাঁকুলিয়া থেকে গোলাবাড়ি— তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রাজ্যে চরমে সমাজবিরোধী-দুষ্কৃতীরাজ, নিস্তার কবে?

    Trinamool Criminal Nexus: কাঁকুলিয়া থেকে গোলাবাড়ি— তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রাজ্যে চরমে সমাজবিরোধী-দুষ্কৃতীরাজ, নিস্তার কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার গোলপার্ক-কাঁকুলিয়ার পর হাওড়ার গোলাবাড়ি-পিলখানা। ফের শাসক-আশ্রিত দুষ্কৃতী তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল রাজ্যের দুই সিস্টার-সিটি। আর এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— সমাজ-বিরোধী, খুনে অভিযুক্তের সঙ্গে কীসের এত সখ্যতা তৃণমূল নেতাদের? ভোট যত এগিয়ে আসছে, কেন বাড়ছে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য?

    প্রধান অভিযুক্ত তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ

    হাওড়ার গোলাবাড়ি-পিলখানা এলাকায় বুধবার ভোরে চায়ের দোকানের সামনে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক প্রোমোটার শফিক খানকে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এই গুলিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে যে দু’জনকে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে, তাঁরা হলেন হারুন খান ও রোহিত। এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হারুন খানের সঙ্গে হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর একাধিক ভিডিও সামনে এনেছে বিজেপি। এমনকী, তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে হারুনের বাইকে চেপে প্রচারেও দেখা গিয়েছে। ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, হারুন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ।

    চলছে ‘মহাজঙ্গল রাজ’, রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ

    বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এক ভিডিও পোস্ট করে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর নবান্নও হাওড়াতেই অবস্থিত। তার পরেও এ ধরনের দুঃসাহসিক অপরাধ ঘটছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার একাধিক জায়গা থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি গতকালই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার আদালতে বোমা হামলার হুমকিতে আতঙ্ক ছড়ায়। এই পরিস্থিতিকে ‘মহাজঙ্গল রাজ’ আখ্যা দিয়ে বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি চান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে বিজেপির তরফে।

    ভয়ে, আতঙ্কে সিঁটিয়ে স্থানীয়রা

    কাঁকুলিয়ায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যে অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। সেই ঘটনার পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সোনা পাপ্পুর নাগাল পায়নি পুলিশ। আর বুধবার ভোরে হাওড়ার পিলখানায় গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হল প্রোমোটারকে। ৪৮ ঘণ্টা পার করতে চললেও, মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত অধরা। কাঁকুলিয়া থেকে হাওড়া, ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর সব ঘটনার নেপথ্যে বারবার উঠে আসছে শাসক-যোগ। যদিও, হারুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।

    হামলা সংবাদমাধ্যমের ওপরও

    যে বিধানসভা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে, সেই হাওড়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লর সঙ্গেও অভিযুক্ত হারুন খানের ভাইরাল ছবি সামনে এসেছে। লক্ষ্মীরতন শুক্ল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না। এদিকে, প্রোমোটার খুনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হন সাংবাদিকরা। রক্তাক্ত হন এবিপি আনন্দের প্রতিনিধি ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। বেধড়ক মারধরে নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে তাঁর। এবিপি আনন্দের চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষকেও হেনস্থা করে কয়েক জন দুষ্কৃতী।

    হাওড়ার মূল অভিযুক্ত যুব তৃণমূল নেতা!

    প্রশ্ন উঠছে, খুনে অভিযুক্ত থেকে শুরু করে দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধীদের সঙ্গে কীসের এত সখ্যতা তৃণমূল বিধায়কদের? বিজেপির অভিযোগ, হারুন খান হাওড়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা। বিজেপি-র রাজ্য নেতা উমেশ রাইয়ের দাবি, ‘হারুন খান উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। বাইকে চেপে তাঁকে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবি ভাইরাল। অন্য অভিযুক্ত রোহিত আর্মস ডিলার। জেলখাটা আসামি। যাঁকে খুন করা হয়েছে সেই সফিক একটা ক্রিমিনাল গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত।’ বিধায়কের মদতে এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘‘তৃণমূলের ভোট টিকে আছে দুষ্কৃতী ভোটব্যাঙ্কে’’

    এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অভ্যন্তরেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “বাহুবলীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, না করলে কপালে দুঃখ আছে, আমি বাহুবলীদের উপর ভরসা করি না। এটাকে যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে। কড়া ব্যাবস্থা নিতে হবে। বাহুবলীরা যে দিকে যায়, মানুষ তার বিপরীত দিকে যায়। এদের নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে নাগরিক সমাজ পাশ থেকে সরে যাবে।” তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের এহেন মন্তব্যের পালটা প্রতিক্রিয়া জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। প্রাক্তন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‘এটা ওনার বিলম্বিত বোধদয়, তৃণমূলের ভোট টিকে আছে দুষ্কৃতী ভোটব্যাঙ্কে। উনি জানেন উনি আর ভোটে লড়তে পারবেন না ওনার দল থেকে আর কিছু পাওয়ার নেই তাই এইসব মন্তব্য করছেন।’’

    ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে হিংসা!

    দোষীদের গ্রেফতার না করলে ভোট বয়কট করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে দু’জন জিন্সের প্যান্টের ব্যবসা করত। টাকা নিয়ে বিবাদ ছিল। অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি সেই পরিকল্পনা বদলে ভোটের আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন উঠছে, এভাবেই কি সাধারণ মানুষকে সন্ত্রস্ত করে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে?

  • Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি ছানা! বাবা-মায়ের সঙ্গ পায়নি। অন্যদের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারে না। সময় মতো খাবার পেলেও, সে ভালো নেই। পুষ্টিকর খাবার শরীরের চাহিদা মেটালেও, মনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। সুস্থ রাখতে তাকে দেওয়া হল একখানা পুতুল! আর তাতেই বাজিমাত! সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠল সেই পুতুল! ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে একরত্তি! মিশতে শেখে। মানিয়ে নিতেও শেখে! জাপানের চিড়িয়াখানার সেই একরত্তি ম্যাকাকের (এক প্রজাতির বাঁদর) একাকিত্ব আর সেরে ওঠার ঘটনায় উত্তাল বিশ্ব। তবে তার এই একাকিত্বের সমস্যা কেবল পশুজগতের সমস্যা নয়। মানব শিশুর জীবনেও একাকিত্বের সমস্যা (Loneliness in Children) প্রবল ভাবে বাড়ছে‌।‌ সামাজিক আচরণে (Social Isolation) যার প্রভাব গভীর ভাবে পড়ছে! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণ (Child Mental Health) সংযত ও স্বাভাবিক রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এই একাকিত্ব!

    শিশুর আচরণে কেন সমস্যা হয়ে উঠছে একাকিত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অধিকাংশ পরিবার ছোটো। বাবা-মা দুজনেই কাজে ব্যস্ত থাকেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাদের অফিসেই কাটে। পরিবারের একরত্তির সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। অধিকাংশ শহুরে পরিবারে শিশু পরিবারের সদস্যদের বিশেষ কাছে পায় না। যার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব শিশুকে আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে। পরিবারের যথেষ্ট সময় না পেলে শিশু হীনমন্যতায় ভোগে। এর ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়‌। তাই সে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গেও মিশতে পারে না।

    পরিবারই পৃথিবী, একাকিত্ব শিশুমনে তৈরি করে মানসিক অবসাদ

    একাকিত্ব একধরনের মানসিক অবসাদ তৈরি করে। শিশুর কাছে প্রাথমিক পর্বে, তার পরিবার তার পৃথিবী। পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত যত্ন ও সময় না পেলে, তার মধ্যে অবসাদ তৈরি হবে। যার ফলে সে কোনও কাজ সময় মতো করতে চাইবে না। তার মধ্যে অনীহা তৈরি হবে। স্কুল যাওয়া ও পড়াশোনার প্রতিও অনাগ্রহ বাড়বে। এমনকি বন্ধু তৈরি করার ইচ্ছেও থাকবে না। যা একাকিত্বের সমস্যাকে আরও জটিল করবে। শিশুর একাকিত্ব একদিকে তার সামাজিক যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে (Social Isolation)। আবার শিশুকে জেদি করে তোলে। এমন মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে সে কোনোভাবেই অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছে হারিয়ে ফেলে। এর ফলে নিজের মতো থাকে। যেকোনও কাজ বললেই একধরনের অনীহা তৈরি হয়‌। জেদ তৈরি হয়।

    সন্তানের একাকিত্ব কাটিয়ে আচরণ ‘স্বাভাবিক’ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের একাকিত্ব কাটাতে এবং সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক রাখতে দিনের অন্তত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করতেই হবে। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের সঙ্গে প্রতি দিন অন্তত ২০ মিনিট গল্প করতে হবে। সন্তানের বয়স অনুযায়ী সেই গল্প হবে। পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর সঙ্গে বসে গল্পের বই পড়া, সারা দিন তার কেমন কাটলো সেই সম্পর্কে গল্প করা জরুরি। আবার বয়ঃসন্ধিকালে থাকা সন্তানের সঙ্গেও তার কেমন সময় কাটছে সে নিয়ে গল্প করা, বা তার পছন্দের গান শোনা, তার পছন্দের যে কোনও বিষয় নিয়ে গল্প করা জরুরি। এতে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একাকিত্ব গ্রাস করে না। তার মনের অবস্থা (Child Mental Health) সম্পর্কেও অভিভাবক বুঝতে পারে।

    অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে পড়ছে বাড়তি চাপ

    আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সন্তানকে অনেকটা সময় দেওয়া কঠিন। কিন্তু তার বিকল্প কখনই স্ক্রিন টাইম নয়। এমনটাই মত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। খিটখিটে মেজাজ হচ্ছে। তাই স্ক্রিন টাইম নয়। বরং খেলাধুলা সঙ্গে যাতে সন্তান যুক্ত হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হলেই যেকোনও ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এতে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে না। মেলামেশার অভ্যাস তৈরি হয়। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জেদ, একঘেয়েমি দূর হয়।

    সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি

    শিশুর গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি জরুরি বলেই মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একসঙ্গে অনেকে মিলে নাচ, গান বা নাটক করা। কিংবা যে কোনও ধরনের খেলাধুলা করলে শিশুর সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক ও সংযত হয়। নানান জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য (Child Mental Health) ভালো রাখতে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি। শিশুর সুস্থ মানসিক গঠনের জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তার কথা শুনতে হবে। তাহলেই অনেক সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Prahaar: ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ প্রকাশ কেন্দ্রের, নাশকতায় ‘জিরো টলারেন্সে’ জোর

    Prahaar: ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ প্রকাশ কেন্দ্রের, নাশকতায় ‘জিরো টলারেন্সে’ জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ (PRAHAAR) প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। এই নীতির মূল লক্ষ্য— সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় “জিরো টলারেন্স” (Zero Tolerance) অবস্থান বজায় রেখে ডিজিটাল যুগে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক প্রতিরোধ, সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা। নীতিটি এমন সময়ে প্রকাশ পেল, যখন একদিন আগেই ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ অভিযানে কিশতওয়ার জেলায় তিন জঙ্গি খতম হয়। নিহতদের মধ্যে একজন কুখ্যাত লস্কর কমান্ডার সইফুল্লা বলে শনাক্ত হয়েছে।

    প্রহার (PRAHAAR) কী?

    ‘প্রহার’ (হিন্দিতে যার অর্থ আঘাত) নামে এই নীতিতে একটি বহুস্তরীয় কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদী, তাদের অর্থ জোগানদাতা ও সমর্থকদের অর্থ, অস্ত্র এবং নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা। মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কৌশল কয়েকটি মূল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরোধ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার সমন্বয় ইত্যাদি।

    সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ‘প্রহার’ (PRAHAAR)-এর পূর্ণ অর্থ হল:

    • P – প্রিভেনশন (Prevention) বা প্রতিরোধ: ভারতীয় নাগরিক ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আগাম সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো
    • R – রেসপন্স (Response) বা প্রতিক্রিয়া: হুমকির মাত্রা অনুযায়ী দ্রুত ও উপযুক্ত জবাব
    • A – অ্যাগ্রিগেশন (Aggregation) বা সমন্বয়: সমগ্র সরকারের সমন্বিত অংশগ্রহণে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা একত্রিত করা
    • H – হিউম্যান রাইটস (Human Rights) বা মানবাধিকার ও আইনের শাসন: আইনসম্মত ও মানবাধিকারভিত্তিক প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাস মোকাবিলা
    • A – অ্যাটেনুয়েশন (Attenuation) বা কারণ দুর্বল করা: উগ্রপন্থা ও মৌলবাদের উৎসগুলো কমিয়ে আনা
    • A – অ্যালাইনমেন্ট (Alignment) বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও নেতৃত্ব
    • R – রিকভারি (Recovery) বা পুনরুদ্ধার: সমাজভিত্তিক অংশগ্রহণে স্থিতিস্থাপকতা ও পুনর্গঠন

    এই কাঠামো স্পষ্ট করে যে, নীতিটি শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান নয়, বরং প্রশাসনিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক স্তরেও সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলছে।

    সীমান্ত পারের “স্পনসরড টেররিজম”-এর উল্লেখ

    নীতিনথিতে বলা হয়েছে, ভারতের আশপাশের অঞ্চলে “ছিটেফোঁটা অস্থিরতার ইতিহাস” রয়েছে এবং কয়েকটি দেশ কখনও কখনও “রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করেছে।” এতে সীমান্তপারের “স্পনসরড টেররিজম”-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে জিহাদি সংগঠন ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ক ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। “ভারত সবসময় সন্ত্রাসবাদের শিকারদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে বিশ্বের কোথাও হিংসার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না,” নথিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনরুল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মন্ত্রক জোর দিয়ে জানিয়েছে, “ভারত সন্ত্রাসবাদকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম, জাতিসত্তা, জাতীয়তা বা সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত করে না।” এটি নীতিগতভাবে ভারতের অবস্থানকে ধর্মনিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।

    প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ: ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টো অর্থনীতি

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নীতিনথিতে উল্লেখ করেছে যে, আধুনিক সন্ত্রাসবাদ এখন কেবল অস্ত্রনির্ভর নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। আল কায়েদা (Al-Qaeda) ও ইসলামিক স্টেট (ISIS)-এর মতো সংগঠন বিদেশ থেকে পরিচালিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতের ভেতরে হামলার ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    নথিতে বলা হয়েছে—

    • ● ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার
    • ● সামাজিক মাধ্যম ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার ও নিয়োগ
    • ● এনক্রিপশন, ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে গোপন আর্থিক লেনদেন
    • ● এই প্রবণতা মোকাবিলায় সাইবার নজরদারি ও আর্থিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

    কেন ‘প্রহার’ গুরুত্বপূর্ণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘প্রহার’ নীতির গুরুত্ব তিনটি ক্ষেত্রে—

    • ● সমন্বিত পদ্ধতি: শুধুমাত্র সামরিক বা পুলিশি ব্যবস্থা নয়, গোটা সরকার ও সমাজভিত্তিক অংশগ্রহণের উপর জোর
    • ● ডিজিটাল হুমকি মোকাবিলা: এনক্রিপশন, ক্রিপ্টো ও সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন নিরাপত্তা কৌশল
    • ● আন্তর্জাতিক বার্তা: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট ও কূটনৈতিকভাবে জোরালো করা

    একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ

    ‘প্রহার’ নীতি ভারতের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গিকে একটি কাঠামোবদ্ধ রূপ দিয়েছে। সীমান্তপারের হুমকি, প্রযুক্তিনির্ভর জঙ্গি কার্যকলাপ এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক—এই তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নীতিটির বাস্তব প্রয়োগ ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটাই আগামী দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কৌশলের সফলতা নির্ধারণ করবে।

  • Rubella in Children: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় বিপদ বাড়ছে রুবেলার! ভাইরাস আক্রমণ থেকে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    Rubella in Children: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় বিপদ বাড়ছে রুবেলার! ভাইরাস আক্রমণ থেকে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হঠাৎ করেই বেড়েছে তাপমাত্রার পারদ। বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। এমনকি সন্ধ্যার পরেও অস্বস্তি হচ্ছে। এদিকে ভোরে বেশ ঠান্ডা ভাব। হঠাৎ বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি হলেও তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আর এই পরিস্থিতিতে বিপদ বাড়াচ্ছে রুবেলা ভাইরাস (Rubella in Children)। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এই আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষত পরিবারের খুদে সদস্যকে (Child Immunity Care) সুস্থ রাখার জন্য সজাগ থাকতে হবে। কারণ রুবেলা ভাইরাসের দাপট শিশু শরীরেই সবচেয়ে বেশি হয়।

    কেন এই আবহাওয়ায় রুবেলা ভাইরাসের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্ত ঋতুতে রুবেলা ভাইরাসের (Rubella in Children) দাপট বাড়ে। তার মূল কারণ আবহাওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রা কম থাকে। কিন্তু বসন্ত হলো শীত আর গরমের মাঝের সময়। এই সময়ে শীতের দাপট থাকে না। আবার প্রবল গরমের দাপট ও থাকে না। এই সময়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। অর্থাৎ মরশুমের পরিবর্তন হয়। তার ফলে বাতাসে নানান ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। বিশেষত ফুসফুস কাবু করতে পারে এমন ভাইরাসের দাপট আরও বেশি বাড়তে থাকে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সময়ে রুবেলার মতো ভাইরাসের দাপট বাড়ে।

    স্কুল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সংক্রামক রুবেলা

    তাছাড়া, বছরের এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকায় বহু মানুষ বেড়াতে যান। নানান উৎসব হয়। তাই এই সময়ে যে কোনও সংক্রামক রোগের দাপট বাড়ে। রুবেলা ভাইরাস (Rubella in Children) একটি সংক্রামক রোগ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রামিত হতে পারে। তাই এই ভাইরাসের ক্ষমতা এই সময়ে বাড়ে। বসন্ত ঋতুতে যেমন নানান উৎসব রয়েছে, তেমনি এটা পরীক্ষার মরশুম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্কুলে শিশুকে পাঠানোর সময় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি (Child Immunity Care)। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর-সর্দি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তবেই স্কুলে পাঠানো উচিত। না হলে অন্যদের মধ্যেও যে কোনও রোগ সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রুবেলার মতো ভাইরাস স্কুল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে।

    রুবেলা ভাইরাসের জেরে কী হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের (Rubella in Children) জেরে হাম হতে পারে। জ্বর-সর্দি-কাশির মতো নানান উপসর্গ দেখা দেওয়ার পাশপাশি হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই উপসর্গগুলো রুবেলা সংক্রমণের জানান দেয়।

    সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের দাপট রুখতে মূল হাতিয়ার টিকাকরণ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণকের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পরে ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই এমএমআর টিকার (MMR vaccination) প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। যা রুবেলা সংক্রমণ রুখতে পারে। এছাড়াও ১৫ থেকে ১৮ মাসের এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ এবং ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে এই টিকার তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়। সময় মতো নিয়ম মেনে টিকাকরণ করালে শিশুর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

    নিয়মিত মাস্ক পরে থাকা

    তবে বাড়তি কয়েকটি নজরদারি রাখলে রুবেলার (Rubella in Children) মতো যে কোনও ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সহজ হয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুকে নিয়মিত মাস্ক পরার অভ্যাস করানো জরুরি। বাইরে যাওয়ার সময় নাক ও মুখ ঢাকা দেওয়া মাস্ক পরার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে একাধিক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে (Child Immunity Care) । রুবেলা ভাইরাস মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রামিত হয়। তাই এই রোগের দাপট কমবে। শিশুর বারবার জ্বর হলে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। স্কুলে পাঠানোর আগে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে অন্যদের শরীরে এই রোগ না ছড়িয়ে পড়ে।

LinkedIn
Share