Tag: মাধ্যম

  • Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য সতর্কতার অভাবেই বাড়ছে বিপদ! বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য নিঃশব্দে বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা জরুরি। না হলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এ দেশের জনস্বাস্থ্যে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে থাইরয়েড। গলায় থাকা এই হরমোন গ্রন্থি এখন উদ্বেগের কারণ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    ভারতীয় মহিলাদের জন্য কেন বাড়তি উদ্বেগ?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ১৫ শতাংশ মহিলা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা আরও বাড়ছে। বিশেষত বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোলেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতীয় পুরুষদের তুলনায় ভারতীয় মহিলারা ৪ গুন বেশি থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হন।

    থাইরয়েডের সমস্যা কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গলার কাছে থাকে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণ হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশি বা কম হরমোন নিঃসরণ শুরু হলে শরীরের একাধিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সেটাই থাইরয়েড সমস্যা হয়। ভারতে অধিকাংশ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্তের দেখা গিয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হয়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়ছে।

    কেন ভারতীয় মহিলারা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন?

    জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ভারসাম্যের ব্যাপাক পরিবর্তন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা থাইরয়েড সমস্যায় কয়েক গুণ বেশি ভুগছেন। তার প্রধান কারণ হলো হরমোন ঘটিত পরিবর্তন। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলাদের জীবনের একাধিক সময়ে শরীরে হরমোন ঘটিত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়। তার ফলে একাধিক হরমোন গ্রন্থির সক্রিয়তার সমীকরণ বদলে যায়। বয়ঃসন্ধিকালে ঋতুস্রাব শুরুর সময়, গর্ভাবস্থায়, সন্তান প্রসবের পরে এবং ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী সময়ে মহিলাদের শরীরের একাধিক হরমোন ঘটিত পরিবর্তন হয়। এর জেরে থাইরয়েড গ্রন্থির উপরেও গভীর প্রভাব পড়ে। থাইরয়েড নিঃসরণের পরিবর্তন ঘটে। তাই মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। বিশেষত মহিলাদের গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসব পরবর্তীকালে একাধিক শারীরিক পরিবর্তন হয়। তাই সেই সময়ে এই ধরনের হরমোন ঘটিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    আয়রনের ঘাটতি!

    ভারতীয় মহিলারা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগে। ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ ভারতীয় মেয়ের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। আয়রনের অভাব মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া, বহু মহিলা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। ভারতীয় মেয়েদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অপুষ্টি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    মানসিক চাপ এবং অনিদ্রা!

    ভারতীয় মহিলারা অধিকাংশ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভোগেন। পারিবারিক সমীকরণ এবং কাজের পরিবেশ‌ ভারতে বদলে যাচ্ছে। মহিলাদের জন্য চাপ বাড়ছে। পরিবারের একাধিক দায়িত্ব তাদের সামলানোর পাশপাশি পেশাগত জীবনেও দায়িত্ব বাড়ছে। একদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন, আবার আরেক দিকে সামাজিক চাপ বেড়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে ভারতীয় মহিলাদের মানসিক চাপ ও অবসাদের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শহুরে ভারতীয় মহিলারা অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। এগুলো শরীরের হরমোন নিঃসরণে প্রভাব ফেলছে। তাই থাইরয়েড গ্রন্থিতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    অটোইমিউন রোগের জেরে বিপদ বাড়ছে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় মহিলারা অটোইমিউন রোগের শিকার বেশি হন। অর্থাৎ, নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। তাই অটোইমিউন ডিজিজ থাকলে, তার থাইরয়েড গ্রন্থিও সমস্যায় পড়ে। রোগের জটিলতা বাড়ে।

    কেন থাইরয়েড বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনের বেশি বা কম পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হলে শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা একাধিক জটিলতা তৈরি করছে—

    • ● চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হলে মহিলাদের একাধিক হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়। যার ফলে মহিলাদের গর্ভধারণ জটিল হয়ে যায়। দেশ জুড়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে। আর তার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হলো থাইরয়েডের সমস্যা। এই সমস্যায় আক্রান্ত মহিলা গর্ভধারণ করলেও একাধিক ঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি হয়‌। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাছাড়া, গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই রোগের প্রভাব পড়তে পারে।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার রক্তচাপ ওঠানামা করে। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে দ্রুত হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলা করলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজমে শরীরে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে হাড় দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। এতে ক্যালসিয়াম কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে, বিশেষত মেনোপজের পর এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সময়মতো থাইরয়েড পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা, ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।
    • ● তবে যে দিকটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে, তা হলো মানসিক স্বাস্থ্য। দেশ জুড়ে একাধিক মানসিক সমস্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অবসাদ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপের মতো নানান মানসিক সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। থাইরয়েডের সমস্যা হলে মানসিক স্বাস্থ্যে তার গভীর প্রভাব পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই হরমোন ঘটিত সমস্যার জেরে খিটখিটে ভাব বাড়ে, কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়, ক্লান্তি বোধ বাড়ে, আবার রাগ এবং দুশ্চিন্তার মতো সমস্যা বেশি হয়। সব মিলিয়ে আক্রান্তের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। ভারতের এই বিপুল সংখ্যক মহিলার থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর জেরে আরও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    থাইরয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে সচেতনতা জরুরি। স্কুল স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক করলে, সামাজিক সচেতনতার মান বাড়বে। অত্যন্ত বেশি চুল পড়ার সমস্যা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, রুক্ষভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ এবং অকারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকার মতো সমস্যায় দিনের পর দিন ভুগলে, কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। সাধারণ সহজ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়, থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত কিনা! তাই সেই পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাহলেই পরিস্থিতি জটিল হবে না। বর্তমানে ভারতে থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার উপযুক্ত ওষুধ রয়েছে। তাই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রোগ চিহ্নিত হলেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হয়ে যাবে।

  • Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারের পর সোমবারেও রাজ্য সরকারের (BJP Government) বুলডোজার অ্যাকশন অব্যাহত। কোন্নগরে সরকারি জমি দখল করে গজিয়ে ওঠা তৃণমূলের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি কলকাতায় বেলেঘাটার ত্রাস রাজু নস্করের বহুতল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের কমপক্ষে ৬ জায়গায় বুলডোজার দিয়ে রাজু নস্কর, সোনা পাপ্পু এবং জাভেদ খানের বেআইনি নির্মাণ এবং বহুতলের ইমারত আগাম নোটিশ দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। দুর্নীতি, তোলাবাজি, জবর দখল, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার বিরুদ্ধে রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। এই তালিকায় তৃণমূল (Illegal Construction) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিও রয়েছে। কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি বাড়িতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করেছে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।

    প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে অবৈধ নির্মাণ (Illegal Construction)

    হুগলি জেলার কোন্নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে চালানো হয়েছে বুলডোজার। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর (Illegal Construction) খোকন পালের সেই বেআইনি নির্মাণটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত সরকারি জায়গা দখল করে তৎকালীন শাসক দলের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন এই তৃণমূল নেতা। এবার সরকার বদলে যেতেই চরম বিপাকে তৃণমূলের অবৈধ দখলদারিরা। অপরদিকে, রবিবার কলকাতার কসবা, তিলজলা এবং বেলেঘাটা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সরকারের (BJP Government) এই অভিযানের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণগুলি সগৌরবে টিকে ছিল? তৃণমূলের শাসনকালে কলকাতা পুরসভা কেন এদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি? রাজ্যের নবনিযুক্ত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল খোদ এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন। দিকে দিকে তৃণমূলের অবৈধ দখলকারী নেতা-নেত্রীরা এখন ব্যাপক অস্বস্তিতে।

    স্থানীয়দের চোখের সামনেই একটু একটু করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল বিশালাকার সব বহুতল। যার প্রতিটিই ছিল নিয়মবহির্ভূত এবং সম্পূর্ণ গায়ের জোরে নির্মিত। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যের নতুন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে নিয়ম লঙ্ঘন করে বহুতল নির্মাণ করতে দেওয়া হয়েছে। এই খবর কি তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে ছিল না? ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর দলবল, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—যাঁরা বড় বড় কথা বলতেন, তাঁরা কি কিছুই জানতেন না? আমরা মাত্র ১৫ দিন ক্ষমতায় এসেই যদি সব জানতে পারি, তবে তাঁরা কেন জানতেন না? আসলে অর্থ ও ঘুষের বিনিময়ে তাঁরা নীরব ছিলেন। যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের শাস্তি হবে।”

    পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশন

    রাজ্যে নতুন সরকার (BJP Government) গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কড়া বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরপরই কলকাতা পুরসভা পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশনে নামে। তিলজলা এলাকার দুটি বহুতলে ইতিমধ্যেই বুলডোজার চালানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এই দুটি বহুতলই তৃণমূল বিধায়ক (Illegal Construction) জাভেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খানের। এমনকি খোদ জাভেদ খানের কার্যালয়েও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল জমানায় রাজ্যজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ আবাসন ও নির্মাণ। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি কাজ কি সত্যিই প্রশাসনের অলক্ষ্যে ঘটছিল, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার যে এই অবৈধ নির্মাণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা স্পষ্ট।

    কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট অবৈধ

    সোমবার তৃণমূল নেতা (Illegal Constructইওন) তথা প্রোমোটার রাজু নস্করের একটি নির্মীয়মাণ বেআইনি বহুতলে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে বুলডোজার চালানো হয়। বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১ই ইস্ট কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। পুরসভার তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ভবন দুটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, পুর কর্তৃপক্ষ আবাসন দুটি ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করে এবং সোমবারই ইস্ট কুলিয়া রোডের বহুতলটির একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এই ভাঙচুরের খবর পাওয়া মাত্রই সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ফ্ল্যাটের ক্রেতা ও বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঠিক সেই সময় রাজু নস্করের এক সহযোগীকে স্কুটার চড়ে ওই এলাকা দিয়ে যেতে দেখে উত্তেজিত বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় তীব্র বাগবিতণ্ডা। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে মারধরও করে। স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তি আদতে একজন দালাল, যিনি রাজু নস্করের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিলেন। এদিন এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোকজন।

    বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ

    রাজুর বিরুদ্ধে বিজেপির (BJP Government) অভিযোগ রয়েছে, বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং তা গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই করা হয়েছিল। বুকিংয়ের সময় সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আজ পর্যন্ত তাঁদের কোনও ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ বা ‘অ্যাগগ্রিমেন্ট পেপার’ বা চুক্তিপত্র দেওয়া হয়নি; অথচ সম্পূর্ণ টাকা ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকটের মুখে ক্রেতারা বারবার রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কার্যালয়টি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    জোর কদমে চলছে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ

    পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (BJP Government), পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এলাকায় ঘুরে ঘুরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ পরিদর্শন করেছেন। কোথাও সরু গলির মধ্যে ৬-৭ তলা বিল্ডিং তুলে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার দুটো বিল্ডিংয়ের মাঝে ৩ ফুটও জায়গা নেই। বিল্ডিং ভাঙার জন্য সেখানে বুলডোজার পর্যন্ত ঢুকতে পারেনি। বাধ্য হয়ে হাতুড়ি দিয়ে ম্যানুয়ালি বিল্ডিং ভাঙার কাজ করছেন পুরসভার কর্মীরা। ২৩ তারিখ বেআইনি বিল্ডিং ভাঙতে নোটিস দিয়েছিল পুরসভা। এরপরেই রবিবার সকাল থেকে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিল্ডিং ভাঙতে অভিযানে নামে কলকাতা পুরসভা।

  • 114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান চুক্তির পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ (LoR) চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্র। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ফ্রান্স সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পের অধীনে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে এই বিপুল প্রতিরক্ষা ক্রয় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    কী এই ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’?

    প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা এলওআর হল একটি আনুষ্ঠানিক নথি, যার মাধ্যমে ক্রেতা দেশ বিক্রেতা দেশের সরকারকে জানায় তারা কত সংখ্যক যুদ্ধাস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে চায় এবং তার প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল চাহিদা কী। ভারতের পাঠানো এলওআর-এর ভিত্তিতে ফ্রান্স সম্ভাব্য মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠাবে। তারপর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ (RFP) জারি করে বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু করবে।

    ভারতে তৈরি হবে অধিকাংশ রাফাল

    প্রস্তাবিত ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রায় ৯০টি ভারতেই তৈরি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফরাসি সংস্থা ‘দাসো’র সঙ্গে একটি ভারতীয় সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই উৎপাদন হবে। বাকি বিমানগুলি ফ্রান্স থেকে সরাসরি ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেশীয় উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে বড়সড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বছরের শেষেই চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য

    সূত্রের খবর, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তি সই করতে চাইছে কেন্দ্র। তবে তার আগে প্রয়োজন হবে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বা সিসিএস-এর অনুমোদন। ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ডিফেন্স অ্যাকুইডিশন কাউন্সিল (DAC) এই প্রস্তাবকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আগামী মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এপি সিংয়ের ফ্রান্স সফর এবং জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সম্ভাব্য ফ্রান্স সফরকে ঘিরেও এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইতিমধ্যেই ৩৫টি রাফাল ব্যবহার করছে ভারত

    ভারতীয় বায়ুসেনা বর্তমানে ৩৫টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে, যা পূর্ববর্তী ভারত-ফ্রান্স চুক্তির অধীনে কেনা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২৬টি রাফাল-এম (Rafale Marine) যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছে, যা বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একই প্ল্যাটফর্মের আরও রাফাল অন্তর্ভুক্ত হলে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র সংযোজন এবং লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমবে। কারণ ইতিমধ্যেই রাফাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভারতীয় বাহিনীর হাতে রয়েছে।

    ভারতীয় অস্ত্র সংযোজনের চেষ্টা

    ভারত বর্তমানে ফ্রান্সের সঙ্গে ইন্টারফেস কনট্রোল ডকুমেন্ট, সংক্ষেপে আইসিডি (ICD) নিয়ে আলোচনা করছে। এই প্রযুক্তিগত নথি হাতে এলে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থা যেমন অ্যাস্ট্রা (Astra) ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভবিষ্যতের ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG) মিসাইল রাফাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এটি সফল হলে রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতীয় প্রতিরক্ষা চাহিদা অনুযায়ী আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে।

    কেন জরুরি এই চুক্তি?

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৯-এ, যেখানে অনুমোদিত সংখ্যা ৪২। ফলে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে দেশীয় প্রকল্প যেমন হ্যাল-এর তেজসের মার্ক-১এ (Tejas Mk1A), মার্ক-২ (Tejas Mk2) সংস্করণ এবং পঞ্চম প্রজন্মের অ্যামকা (AMCA) সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে আরও অনেক সময় লাগবে। অ্যামকা পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের পর পরিষেবায় আসতে পারে বলে অনুমান।

    রাশিয়ার সু-৫৭ জেটও বিবেচনায়

    অন্তর্বর্তী সময়ে ভারত বিদেশি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে। তার মধ্যে রাশিয়ার সুখোই সু-৫৭ (Sukhoi Su-57) স্টেলথ ফাইটারের নামও উঠে এসেছে। তবে আপাতত রাফাল এফ-৪ সংস্করণই ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান পছন্দ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য কত?

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, ১১৪টি রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) মাল্টিরোল ফাইটার কেনার জন্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার সরকার-টু-সরকার চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। মার্কিন ডলারে যার মূল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটিই হবে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান ক্রয়।

  • Trinamool Bhavan: ভোটে ভরাডুবির পর চরম সঙ্কটে তৃণমূল ভবনও! রাজপাট শেষ হতেই ভাড়ার বাড়ি খালি করার নির্দেশ মালিকের

    Trinamool Bhavan: ভোটে ভরাডুবির পর চরম সঙ্কটে তৃণমূল ভবনও! রাজপাট শেষ হতেই ভাড়ার বাড়ি খালি করার নির্দেশ মালিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় একটি কথা আছে চিরদিন কাহার সমান না যায়, ক্ষমতার দম্ভ মানুষকে অহংকারী করে তোলে। তৃণমূলের সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে।  দেড় দশক পর অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে বাংলায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর শাসনক্ষমতা হারানোর পরপরই আরও এক বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হল ঘাসফুল শিবির। এবার খোদ দলের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় তথা ‘তৃণমূল ভবন’ (Trinamool Bhavan) ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ পেলেন শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)। উল্লেখ্য এই ভবন থেকেই অভিষেক রাজ্যের শাসক দলকে নিজের হাতের মুঠোয় করে দল চালাতেন বলে অভিযোগ তৃণমূলেরই একাংশের।

    ইএম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় ভাড়া নেওয়া যে বহুতল ভবনটি এতদিন ধরে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তার মালিক ইতিমধ্যেই জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ওই ভবনের বাইরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়, মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    দু’মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি হবে ভবন (Trinamool Bhavan)

    সূত্রের খবর, এই বিলাসবহুল বহুতলটির মালিক রাজ্যের অন্যতম খ্যাতনামা ডেকরেটার্স সংস্থা ‘মডার্ন ডেকরেটার্স’-এর কর্ণধার মন্টু সাহা। তিনি নিজেই তৃণমূল নেতৃত্বকে মৌখিকভাবে ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তা খালি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। মন্টুবাবু নিজে এই নোটিস দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, তৃণমূল নেতৃত্বের (Mamata Banerje) সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আগামী দু’মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হবে।

    কোনও রাজনীতি নেই

    রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলকে কেন এমন নোটিশ দেওয়া হল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মন্টু সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, চাপ বা অন্য কোনও সমীকরণ নেই। তিনি বলেন, ‘‘গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ওই ভবনের (Trinamool Bhavan) বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সম্পত্তির কোনও ক্ষতি হলে তো লোকসান আমারই। এর মধ্যে অন্য কোনও রাজনীতি নেই।”

    কোনও ক্ষোভ নেই

    মূলত নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি তৃণমূলকে এই ভবনটি (Trinamool Bhavan) ছাড়তে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তি অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া বাবদ যাবতীয় বকেয়া তৃণমূল নেতৃত্ব সর্বদা নিয়ম মেনে মিটিয়ে দিয়েছে এবং দলের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ক্ষোভ নেই। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷

    দু’বছরের চুক্তিতে এটি নেওয়া

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব তপসিয়ায় অবস্থিত দলের পুরনো ও মূল কার্যালয়টি সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পুরনো ভবনটি (Trinamool Bhavan) ভেঙে সেখানে কর্পোরেট ধাঁচের একটি আধুনিক বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেই কারণেই বিকল্প কার্যালয় হিসেবে ২০২২ সালে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকার এই ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মাত্র দু’বছরের চুক্তিতে এটি নেওয়া হলেও, তপসিয়ার মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানো হয়।

    সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু

    ফলে বিগত চার বছর ধরে এই মেট্রোপলিটন ভবনটিই ছিল তৃণমূলের সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই অস্থায়ী তৃণমূল ভবনেই (Trinamool Bhavan) দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পৃথক সুসজ্জিত কক্ষের ব্যবস্থা ছিল। দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক, নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণ এবং সাংবাদিক সম্মেলন—সবই পরিচালিত হতো এখান থেকে। প্রতিদিন দলের প্রথম সারির নেতা, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা এখানে সমবেত হতেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়টি পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের মূল দায়িত্বে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এখন চরম সঙ্কটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)।

    চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। শাসনক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই ব্যাকফুটে রয়েছে শাসকদল। তার ওপর দলের মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষ তথা এই অস্থায়ী ভবনটি (Trinamool Bhavan) ছেড়ে দিতে হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নেতৃত্ব। যেহেতু তপসিয়ার মূল ভবনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, তাই মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয় ছাড়তে হওয়ায় আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজকর্ম কোথা থেকে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে নতুন কোনও উপযুক্ত অস্থায়ী আস্তানা খুঁজে না পেলে ঘাসফুল শিবিরের দৈনন্দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলের পর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নবগঠিত বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই “ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট” নীতির কথা তুলে ধরেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব স্তরেও শুরু হতে চলেছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” তৈরির নির্দেশ পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।

    জেলায় জেলায় তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    রাজ্য প্রশাসনের তরফে সমস্ত জেলা শাসকদের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের অবৈধ বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের সীমান্ত পার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বিএসএফ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বিশেষভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার বা জেল থেকে মুক্তি পাওয়া যেসব বিদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, তাঁদেরও সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশ কার্যকর করল নতুন সরকার

    ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ, আটক এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নির্দেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্যের তরফে জেলাগুলিতে যে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে, তা মূলত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকার ভিত্তিতেই তৈরি।

    কারা সিএএ-র আওতায়, কারা ডিপোর্টের মুখে

    সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় পড়েন, তাঁদের বৈধ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, যাঁরা ওই আইনের আওতায় পড়েন না—বিশেষত বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা—তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করে ডিপোর্ট করা হবে বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।

    কেমন হবে এই হোল্ডিং সেন্টার

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলার কৃষক মান্ডি, সরকারি স্কুল বা সরকারি পরিকাঠামোকেই আপাতত হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আলাদা করে বড়সড় ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে ওই সেন্টারগুলিতে রাখা ব্যক্তিরা বাইরে অবাধে চলাফেরা করতে পারবেন না। নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    কীভাবে শনাক্ত করা হবে অনুপ্রবেশকারীদের

    কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ধরা পড়া বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি এবং অন্যান্য পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য। এই সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে (FIP)। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় অবৈধ বিদেশি শনাক্ত ও প্রত্যর্পণের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

    কেউ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে কী হবে

    যদি কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন, তাহলে তাঁর তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা বা রাজ্যের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হবে।

    অবৈধ প্রমাণিত হলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা

    যাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারেন।
    এছাড়া তাঁদের সমস্ত তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে এবং ইউআইডিএআই (আধার কর্তৃপক্ষ), নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ-সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আধার, ভোটার কার্ড বা অন্য সরকারি পরিচয়পত্র ও সুবিধা বাতিল করার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

    খরচ বহন করবে কে

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য প্রাথমিক পরিবহণ ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে। পরে সেই অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া যাবে। অন্যদিকে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

    রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করেছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে বিজেপি প্রশাসনিক কঠোরতা হিসেবে তুলে ধরলেও, বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দিনে এই হোল্ডিং সেন্টার ও ডিপোর্টেশন নীতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

  • Chingrighata Viaduct: তৃণমূল জমানায় থমকে ছিল ১৮ মাস, বিজেপি আসতেই চিংড়িঘাটায় মাত্র ১২০ ঘণ্টায় শেষ হল ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ

    Chingrighata Viaduct: তৃণমূল জমানায় থমকে ছিল ১৮ মাস, বিজেপি আসতেই চিংড়িঘাটায় মাত্র ১২০ ঘণ্টায় শেষ হল ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা, আদালত পর্যন্ত গড়ানো টানাপোড়েন এবং দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকার পর অবশেষে বড় সাফল্য পেল কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন প্রকল্প। ইএম বাইপাসের ব্যস্ত চিংড়িঘাটা মোড়ে মাত্র ১২০ ঘণ্টার মধ্যে দু’দফায় গুরুত্বপূর্ণ ভায়াডাক্ট বসিয়ে ‘মিসিং লিংক’-এর বড় অংশ সম্পূর্ণ করল রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)। এই কাজ শেষ হওয়ায় নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট করিডরের অরেঞ্জ লাইনের সেক্টর ফাইভ সংযোগের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেল।

    দু’দফায় ৬২ মিটার ভায়াডাক্ট বসানোর নজির

    প্রথম ধাপের কাজ শুরু হয়েছিল ১৫ মে রাত ৮টা থেকে। টানা ৬০ ঘণ্টার ট্র্যাফিক ব্লকের মধ্যে ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর পিলারের মাঝে ২৮ মিটার দীর্ঘ কংক্রিট ভায়াডাক্ট বসানো হয়। এই ভায়াডাক্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল মোট ১০টি কংক্রিট সেগমেন্ট। এর মধ্যে আটটির ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন এবং দু’টির ওজন প্রায় ৪০ টন। প্রথম পর্যায়ের কাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগেই শেষ হয়। ফলে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যেই উল্টোডাঙামুখী রাস্তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

    এরপর দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হয় ২২ মে রাত ৮টা থেকে। ২৫ মে সকাল পর্যন্ত চলা আরও একটি ৬০ ঘণ্টার ব্লকে ৩১৮ ও ৩১৯ নম্বর পিলারের মধ্যে ৩৪ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট বসানো হয়। এই অংশে ১২টি কংক্রিট সেগমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। দু’দফার কাজ মিলিয়ে মোট ৬২ মিটার ভায়াডাক্ট সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ৩১৭ থেকে ৩১৯ নম্বর পিলারের সংযোগ সম্পূর্ণ হয়েছে, যা এতদিন অরেঞ্জ লাইনের সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ চিংড়িঘাটা অংশ?

    চিংড়িঘাটা মোড়ের ৩৬৬ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ ছিল। এই ‘মিসিং লিংক’-এর কারণেই নিউ গড়িয়া থেকে চলা অরেঞ্জ লাইন এখনও সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। বর্তমানে এই লাইন নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা মেট্রোপলিটন স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার চালু রয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, চিংড়িঘাটার এই ভায়াডাক্ট সম্পূর্ণ হলে অরেঞ্জ লাইন সরাসরি সেক্টর ফাইভের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর গ্রিন লাইনের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করবে। এতে নিউ টাউন, সেক্টর ফাইভ, রুবি, গড়িয়া এবং বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের যাতায়াতে বড় সুবিধা হবে।

    দেড় বছর কেন আটকে ছিল কাজ?

    আরভিএনএল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই অংশে কাজ কার্যত থমকে ছিল। মূল সমস্যা ছিল ট্র্যাফিক ব্লকের অনুমতি। চিংড়িঘাটা মোড় কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ট্র্যাফিক করিডর হওয়ায় দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধে আপত্তি জানানো হয়েছিল। বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আরভিএনএল আইআইটি-গৌহাটির একটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাঝপথে কাজ থামালে নির্মাণের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক অনুমতি মেলায় টানা ৬০ ঘণ্টার ট্র্যাফিক ব্লকের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

    ৫০০ টনের লঞ্চার মেশিন এখন এগোবে নিক্কো পার্কের দিকে

    চিংড়িঘাটার গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ শেষ হওয়ার পর এবার ৫০০ মেট্রিক টনের বিশাল লঞ্চার মেশিন ধাপে ধাপে ৩২৯ নম্বর পিলারের দিকে এগোবে। সেখানেই নিক্কো পার্ক সংলগ্ন গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে ভায়াডাক্টের সংযোগ ঘটানো হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, এই সংযোগ সম্পূর্ণ হলে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ট্রায়াল এবং পরবর্তী পরিষেবা চালুর কাজ দ্রুত এগোবে।

    তৈরি হচ্ছে নতুন ৬০ মিটার রাস্তা

    ভবিষ্যতের কাজ সহজ করতে চিংড়িঘাটা সংলগ্ন সল্টলেক বাইপাসের ধারের খালের পাশে নতুন ৬০ মিটার রাস্তা তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ এবং আরভিএনএল যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেছে। এই রাস্তা তৈরি হলে ভবিষ্যতের ট্র্যাফিক ডাইভারশন এবং মেট্রো নির্মাণের কাজ আরও সহজ হবে।

    কবে চালু হতে পারে পরিষেবা?

    মেট্রো সূত্রের দাবি, সব কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষের দিকেই নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের পরিষেবা চালু হতে পারে। যদিও পুরো নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট করিডর চালু হতে ২০২৭ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অরেঞ্জ লাইন সম্পূর্ণ চালু হলে কলকাতার পূর্বাংশে যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ইএম বাইপাস এবং ভিআইপি রোডের উপর চাপ কমবে, পাশাপাশি সেক্টর ফাইভ ও বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের জন্য এটি হবে অন্যতম দ্রুততম গণপরিবহণ ব্যবস্থা।

  • TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত এক সপ্তাহে আইনশৃঙ্খল রক্ষায় ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা এবং নির্বাচন-পরবর্তী ও পূর্ববর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গত সাত দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (BJP Bengal)। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম ‘প্রভাবশালী’ মুখ প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু, যিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় নেতাকেও গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। কেবল শনিবারই রাজ্যজুড়ে অন্তত ১৭ জন তৃণমূল (TMC Leaders) নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    কলকাতা ও বিধাননগরে আইনি পদক্ষেপ (TMC Leaders)

    শনিবার কলকাতা এবং বিধাননগর এলাকা থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা সুদীপ পোল্লে। তোলাবাজির অভিযোগে বাগুইআটি থানার পুলিশ বিধাননগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। সম্রাট প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল নেত্রী তথা কীর্তনিয়া অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান এবং কোচবিহার থেকেও একাধিক নেতাকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ (TMC Leaders)

    হাওড়া ও হুগলি

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গুরুপদ মাঝি ও তাঁর ভাই রাজুকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হুগলির দাদপুর থানার পুলিশ হারিট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য আলতাব হোসেন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। হুগলির কোন্নগর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলু পাল ওরফে খোকনকে সরকারি জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, অবৈধ ব্যবসা এবং জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক (BJP Bengal) দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিধায়কের অভিযোগ, গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারে এই বেআইনি কাজ চলেছে এবং এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ধৃত কাউন্সিলরের কাছে থেকেই আদায় করা হবে।

    দিয়ায় গ্রেফতার

    নদিয়ার আড়ংঘাটায় সমান্তরাল প্রশাসন চালানো এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেট’ থেকে চড়া দামে নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা (TMC Leaders) রমজান আলি মণ্ডল। তাঁর গ্রেফতারির পর পুলিশ (BJP Bengal) তাঁর সহযোগী প্রদীপ সাঁতরাকেও হেফাজতে নিয়েছে। ধানতলা থানার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে রানাঘাট আদালতে পেশ করেছে।

    মুর্শিদাবাদ

    বড়ঞা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে নেতা আবু বক্করকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সেলিম বারি নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তাঁকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।

    পশ্চিম বর্ধমান

    পাণ্ডবেশ্বরের ছোড়া পঞ্চায়েতের প্রধানের পর এবার ভোটের সময় সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও কোলিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক শেখ কামরুদ্দিন। তবে কামরুদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন।

    কোচবিহার

    কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি কর্মীদের মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে দিনহাটা-২ ব্লকের বড় শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভবরঞ্জন বর্মণকে (TMC Leaders)  গ্রেফতার করেছে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। আদালত তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আইনজীবী নিহাররঞ্জন গুপ্ত জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের (BJP Bengal) ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এই ভাবেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ এবং ভোট পরবর্তী হিংসায় নেতৃত্ব দেওয়া তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করে জেলে ভরার কাজ করছে বিজেপি সরকার। সময় যত যাচ্ছে ধরপাকড়ের সংখ্যা আরও বাড়ছে।

  • Keralam: কেরল সরকারের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে জাল আইএএস পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ ভিএইচপির

    Keralam: কেরল সরকারের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে জাল আইএএস পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ ভিএইচপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরল (Keralam) রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়ো আইএএস (IAS) পরিচয় ধারণ এবং জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। কেরল রাজ্য জনশিক্ষা অধিকর্তা (Director of Public Instruction – DPI) আসিফ কে ইউসুফের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন। ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে।

    নন-ক্রিমি লেয়ার সার্টিফিকেট (Keralam)

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেরল রাজ্য নেতৃত্ব এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, আসিফ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করে, এবং ভুয়ো নথির সাহায্যে নিজেকে আইএএস পরিচয় দিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ (Keralam) থেকে আরও অভিযোগ, এর আগেও ইউসুফের ওবিসি (OBC) নন-ক্রিমি লেয়ার সার্টিফিকেট নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। সেখানে তিনি নিজের পারিবারিক আয় গোপন করে কেন্দ্রীয় লোকসেবা আয়োগের (UPSC) সুবিধা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এই ধরনের একজন ব্যক্তিকে কেন সরকারি পদে রাখা হবে?

    প্রশাসন কতটা স্বচ্ছ?

    ভিএইচপি (VHP) নেতৃত্ব কেরল সরকারের সমালোচনা করে আরও জানিয়েছে, এই ধরনের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পদে একজন বিতর্কিত এবং জালিয়াতিতে অভিযুক্ত আধিকারিককে বসিয়ে রাখা রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। সংগঠনের হুঁশিয়ারি, যদি রাজ্য সরকার অবিলম্বে ওই কর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং তাঁকে পদ থেকে অপসারণ না করে, তাহলে তারা রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরালার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কেরল (Keralam) রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেরলে বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে কংগ্রেস-ইউডিএফ জোট সরকার গড়েছে। রাজ্যে মুসলিম লীগের দল ক্ষমতায় আসতেই হিন্দুদের নানা ধর্মীয় আচার নিয়ে উসকানিমূলক কাজকর্ম শুরু হয়েছে বলেও দাবি ভিএইপির।

  • Pakistan: পাকিস্তানে রেললাইনের কাছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৪, দায় স্বীকার বালুচ গোষ্ঠীর

    Pakistan: পাকিস্তানে রেললাইনের কাছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৪, দায় স্বীকার বালুচ গোষ্ঠীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালুচিস্তানের (Baloch Group) একটি রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে হত অন্তত ২৪ জন। এই হামলায় জখম হয়েছেন বহু মানুষ। এঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার প্রধান রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের কাছে এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

    ঘটনার সময় স্টেশন চত্বরে সেনাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় ছিল (Pakistan)

    পুলিশ ও স্থানীয় (Pakistan) প্রশাসন সূত্রে খবর, ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকায় ঘটনার সময় স্টেশন চত্বরে সাধারণ যাত্রী ও সেনাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। ট্রেনটি কোয়েটার চমন পট্টকে একটি সিগন্যাল পার হওয়ার সময় বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি এর ট্রেনের একটি বগিতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। এর পরেই ঘটে বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের অভিঘাতে প্ল্যাটফর্মের ছাউনির একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আর্তদের উদ্ধার করে কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতাল চত্বরে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। নিহতদের মধ্যে অনেক সেনা সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। এঁরা পেশোয়ার যাচ্ছিলেন। সংবাদ সংস্থার দাবি, তাঁরা ঈদের ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ট্রেনের দুটি বগি উল্টে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই তাতে ধরে যায় আগুন। 

    অত্যন্ত সুসংগঠিত ফিঁদায়ে হামলা

    এই হামলার দায় স্বীকার (Baloch Group) করেছে ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA) । এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, রেল স্টেশনে উপস্থিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি দলকে লক্ষ্য করেই তারা এই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। বিএলএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আজ সকালে, বালুচ লিবারেশন আর্মির ফিঁদায়ে অর্থাৎ আত্মত্যাগী ইউনিট মজিদ ব্রিগেড একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ফিঁদায়ে হামলায় কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে দখলদার বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেনকে টার্গেট করেছেএই অভিযানের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করছে বালুচ লিবারেশন আর্মি।”

    তীব্র সমালোচনা পাকিস্তানে

    এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী ও বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁরা এই হামলাকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। দিয়েছেন ঘটনার নেপথ্যে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার আশ্বাস। এই ঘটনার পর কোয়েটা-সহ বালুচিস্তান (Baloch Group) প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: স্বাস্থ্যখাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রের, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: স্বাস্থ্যখাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রের, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই এল বড় সুখবর। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। নবগঠিত বিজেপি সরকারের আশা, এতদিন ধরে বকেয়া থাকা বাকি অর্থও দ্রুত পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”

    ২,১০৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে (Suvendu Adhikari)

    শনিবার নবান্নের সভাঘরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) এই সুখবরটি দেন। তিনি বলেন, “আজ পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ (NHM)-এর আওতায় ভারত সরকার চলতি অর্থবর্ষের জন্য আমাদের ২,১০৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি বাবদ এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তহবিলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।”

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকারের সময় ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের বরাদ্দ অর্থ রাজ্য নেয়নি। আমি সেই বকেয়া অর্থ ছাড়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছি। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষের ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ (খরচের শংসাপত্র) তাঁরা পাননি। আগামী ৩০ মে-র মধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব ও অর্থসচিব তা পাঠিয়ে দিলে, গত দুই অর্থবর্ষের বকেয়া টাকাও দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

    যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবার

    পাশাপাশি, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পেও কেন্দ্রের তরফে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। ফলত, সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাতে ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ মঞ্জুর করেছে কেন্দ্র, যার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে হস্তান্তরিত হয়েছে। এছাড়া, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের (15th Finance Commission) তহবিলও শীঘ্রই আসতে চলেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রের কাছ থেকে বকেয়া অর্থ আদায় নিয়ে বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে, রাজ্যের বিজেপি নেতাদের পরামর্শেই কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যবাসী এর সুফল পেতে শুরু করবেন।”

    উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার প্রস্তাব

    রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, বর্তমানে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান—এই চার প্রশাসনিক জেলায় কোনও মেডিকেল কলেজ নেই। এই জেলাগুলিতে মেডিকেল কলেজ গড়ার জন্য জমি চিহ্নিত করে কেন্দ্রের কাছে দ্রুত প্রস্তাব পাঠাবে নতুন সরকার। এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গে একটি এইমস (AIIMS) গড়ে তোলার জন্যও প্রস্তাব পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের (In-house Training) জন্য কেন্দ্রের তিনটি বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসবে। শুভেন্দু জানান, বাংলার নবনির্মাণে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের উন্নয়নে অর্থ কোনও বাধা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন।

LinkedIn
Share