Tag: শিশুদের চোখের সমস্যা

  • Myopia in Children: চার বছর বয়স থেকেই চোখে সমস্যা! ভারতের শিশুদের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিপদঘণ্টা, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Myopia in Children: চার বছর বয়স থেকেই চোখে সমস্যা! ভারতের শিশুদের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিপদঘণ্টা, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতা বাড়ছে। অন্ধত্বই একমাত্র সমস্যা নয়। বরং দৃষ্টিশক্তি কমছে কিনা সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেলে কতখানি সতর্ক হতে হবে, এ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই। বিশেষত ভারতীয় শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই ওয়ার্ল্ড সাইট ডে উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চোখের যত্ন নিতে হবে। পাশপাশি ছোটো থেকেই চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। চোখের যত্ন নেওয়া প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। তবেই ভারতে চোখের সমস্যা কমবে।

    কেন শিশুদের নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশ জুড়ে চোখের সমস্যা বাড়ছে। ভারতে অন্ধত্ব আটকানোর কাজ যথেষ্ট ভালোভাবে হচ্ছে। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষত খুব কম বয়স থেকেই দূরের জিনিস দেখার ক্ষমতা কমছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে চার বছর বয়স থেকেই দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। খুব কম বয়স থেকেই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে পরবর্তীতে আরও নানান সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত খুব কম বয়সে চোখে ছানি কিংবা ড্রাই আই-য়ের মতো সমস্যাও দেখা দেয়। যার জেরে পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়‌।

    কেন ভারতীয়দের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ছে?

    শিশু ও কিশোরদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে!

    ভারতে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে চোখের সমস্যা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। মায়োপিয়া অর্থাৎ দূরের জিনিস অস্পষ্ট দেখার সমস্যা সবচেয়ে দেখা যাচ্ছে। স্কুল স্তর থেকেই শিশুরা এই ধরনের সমস্যায় ভুগছে।

    ডায়াবেটিস আক্রান্ত বৃদ্ধির কারণে!

    ভারতীয়দের মধ্যে চোখের সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, ডায়াবেটিস! এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চোখের উপরেও তার প্রভাব পড়ে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ডায়বেটিক রেটিনোপ্যাথি বলা হয়। প্রাথমিক পর্বে উপসর্গ দেখা না দিলেও, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি নজর দিতে হবে।
    ভারতে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের দাপট বাড়ছে। তাই তারাও চোখের সমস্যায় ভুগছে।

    উচ্চ রক্তচাপ চোখের বিপদ বাড়ায়!

    ভারতীয়দের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি উচ্চ রক্তচাপ। এই সমস্যা শুধু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এমন নয়। বরং শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে। এমনি হলো চোখ। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে চোখের উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। শরীরে রক্তচাপ বারবার ওঠানামা করলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    নিয়মিত চোখ পরীক্ষায় অনীহা!

    বছরে অন্তত একবার চোখের পরীক্ষা করানো জরুরি। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয়দের মধ্যেই সেই সচেতনতা নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালে তবেই চোখে কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা বোঝা যাবে। বিশেষত যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভোগেন কিংবা যাদের দিনের অধিকাংশ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে হয়, তাঁদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো‌ জরুরি। তবেই চোখের বড় সমস্যা আটকানো যাবে।

    দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা ও সতর্কতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    স্ক্রিন টাইম সম্পর্কে সচেতনতা!

    শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই এখন অধিকাংশ শিশু স্ক্রিন টাইমে অভ্যস্ত। কিন্তু একঘণ্টার বেশি একটানা স্ক্রিন টাইম কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। এতে চোখের উপরে মারাত্মক চাপ পড়ে। এই ব্যাপারে শিশুদের বোঝানো প্রয়োজন। নানান কাজে তাদের সময় ভাগ করে দিতে হবে। নূন্যতম সময় স্ক্রিন টাইম হিসাবে রাখতে হবে। এতে চোখে চাপ কম পড়বে।

    প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো!

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে বিশেষত দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমাতে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো জরুরি। অধিকাংশ ভারতীয় শিশু ও কিশোরদের আধুনিক জীবনে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। কিন্তু দিনে অন্তত আধঘণ্টা কোনো বাগান, পার্ক বা খোলা মাঠে কাটানো দরকার। প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

    পঞ্চাশ পেরোলেই বাড়তি নজর!

    বয়স পঞ্চাশ পেরোলেই চোখে ছানি পড়েছে কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন। নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করা দরকার। তবেই প্রৌঢ় কালের অন্ধত্বের মতো সমস্যা আটকানো যাবে।

    স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস!

    শিশু হোক বা বয়স্ক, দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জরুরি। গাজর, কুমড়ো, টমেটোর মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমে। রেটিনা ভালো থাকে।

    ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে বাড়তি গুরুত্ব!

    ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে বাড়তি নজরদারি জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষত কম বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যার প্রকোপ মারাত্মক। তাই প্রথম থেকেই চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা থাকা জরুরি।‌ তবেই এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেও চোখের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Eye Problems in Children: শুধু মোবাইল নয়, এই সব কারণেও ছোটদের চোখে বাড়ছে সমস্যা, জানুন চোখ ভালো রাখার সহজ উপায়

    Eye Problems in Children: শুধু মোবাইল নয়, এই সব কারণেও ছোটদের চোখে বাড়ছে সমস্যা, জানুন চোখ ভালো রাখার সহজ উপায়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা আর বয়সের চৌকাঠে আটকে থাকছে না। বরং, খুব ছোটো থেকেই বিপদ বাড়ছে। ফলে আগাম সচেতনতা না থাকলে জীবনভর ভোগান্তির আশঙ্কা থাকছে। ভারতে দৃষ্টিশক্তি নিয়ে সমস্যা সম্পর্কে এমনটাই জানাচ্ছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা। অগাস্ট মাসে দেশ জুড়ে ন্যাশনাল আই এক্সাম মান্থ পালন হয়। চলতি বছরের থিম, ‘হেলদি লাইফ, হেলদি আইস’! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক রোগের ঝুঁকির নেপথ্যে থাকে জীবনযাপনের ধরণ। আর সেই তালিকায় বাদ নেই চোখের সমস্যা।

    দেশ জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বাড়ছে। যার ফলে জীবনভর নানান ভোগান্তি হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যার পাশাপাশি চোখে নানান রকম ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনাও বাড়ছে। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, মোবাইল দেখার জেরেই কমবয়সীদের মধ্যে চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, শুধুমাত্র মোবাইল বা ল্যাপটপের জন্যই চোখের সমস্যা হচ্ছে না। বরং নেপথ্যে থাকছে একাধিক কারণ।

    কেন ভারতে চোখের সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে স্কুল পড়ুয়াদের চোখের সমস্যা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশ জুড়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মায়োপিয়ার সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট দেখতে না পারার সমস্যায় তারা ভুগছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাইরের জগতের সঙ্গে কম মেলামেশার সুযোগের জেরেই চোখের এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ ভারতীয় স্কুল পড়ুয়াদের এখন মাঠে খেলাধুলা করা কিংবা বাগানে ঘোরার জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ নেই। ফলে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। খোলা মাঠ, বাগান, সবুজ গাছপালা চোখের জন্য খুবই উপকারী। সেখানে সময় কাটানোর সুযোগ না থাকার জেরেই দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত নানান সমস্যা তৈরি হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে চোখে ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনাও বেড়েছে। যা অনেক সময়েই চোখের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে।

    পঞ্চাশ পেরোলেই বাড়ছে ছানির ঝুঁকি

    তবে ছোটোদের পাশাপাশি ভারতে পঞ্চাশোর্ধ্বদের মধ্যেও মারাত্মক হারে চোখের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ছানির সমস্যা দেখা দিচ্ছে।চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখের নিয়মিত পরীক্ষা না করানোর জেরেই প্রৌঢ়দের মধ্যে চোখের সমস্যা জটিল হচ্ছে।ছানি হয়েছে কিনা, সেটা নির্ণয় করা জরুরি। বয়স চল্লিশ বছর পেরোলেই বছরে অন্তত একবার চোখের পরীক্ষা করা দরকার। কিন্তু অনেকেই নিয়ম মেনে তা করেন না। ফলে রোগ নির্ণয় হয় না এবং সমস্যা আরও বাড়ে। এমনকি কর্ণিয়ার ক্ষতি হয়, যা অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।

    স্ক্রিন টাইম কি চোখের সমস্যার একমাত্র কারণ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু শুধুমাত্র মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখার জন্যই চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন ধারণা ভুল। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখলেই চোখ খারাপ হয় না। বরং দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, নানান সংক্রমণের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকে। বিশেষত শিশুদের চোখের সমস্যার নেপথ্যে নানান কারণ থাকে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই কারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

    শিশুদের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজন শিশু কতক্ষণ স্ক্রিন টাইম পাচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। দিনের অধিকাংশ সময়েই কি সেই শিশু মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখছে, নাকি মোবাইল দেখার পাশাপাশি সে বাইরে খেলাধুলা করছে, সেটা বোঝা জরুরি। পাশাপাশি কমবয়সীদের জীবনযাপনের ধরন কতখানি স্বাস্থ্যকর, সেটার উপরেও তাদের চোখের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভ্যাসের উপরেও চোখের স্বাস্থ্য নির্ভরশীল।

    স্কুল পড়ুয়াদের কতটা স্ক্রিন টাইম কম ঝুঁকিপূর্ণ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতো, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের দিনে গড়ে ১ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম দেওয়া উচিত নয়।তবে একটানা এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম হলে তার মাঝে ২০ মিনিট অন্তর চোখকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। বহু স্কুল পড়ুয়াকেই এখন নানান অনলাইন ক্লাস করতে হয়। সেক্ষেত্রেও ২০-২৫ মিনিট অন্তর চোখ-মুখ ধোয়ার অভ্যাস রাখতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম থাকলে এক ঘণ্টা খেলাধুলার জন্যও বরাদ্দ করতে হবে। মাঠে বা বাগানে শারীরিক পরিশ্রম হয়, এমন খেলার সময় বের করতে হবে। তবেই চোখের সমস্যার ঝুঁকি কমবে।

    চোখ ভালো রাখতে খাবারে কী রাখবেন?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে নিয়মিত নানান রকমের সব্জি খেতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, গাজর, কুমড়ো, টমেটোর মতো সব্জি নিয়মিত খেলে চোখ ভালো থাকবে। কারণ এই ধরনের সব্জিতে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা ভিটামিন এ-র জোগান দেয়। এর ফলে চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    ডিম, ফল ও ডালেও নজর দিন

    চোখ ভালো রাখতে নিয়মিত স্কুল পড়ুয়াদের ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিমে থাকে জিঙ্ক-সহ একাধিক মিনারেল, যেগুলো চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষত, ডিমের কুসুম চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি প্রয়োজনীয়।কমলালেবু, পেয়ারার মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলও চোখের জন্য উপকারী। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন সি-র চাহিদা পূরণ হলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত এই ধরনের ফল খাওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি বাদাম, ছোলা এবং বিভিন্ন রকমের ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    পর্যাপ্ত ঘুমও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি

    খাবারের পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস পালন জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করতে হবে। দিনে অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমোনো জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম হলে চোখ বিশ্রাম পাবে এবং চোখের কার্যক্ষমতা বজায় থাকবে। তাছাড়া ভালো ঘুমের জন্য ঘুমোতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন টাইম বন্ধ করতে হবে। যাতে মস্তিষ্ক এবং চোখের স্নায়ু অতিরিক্ত উত্তেজিত না থাকে।

    প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটান প্রকৃতির মাঝে

    নিয়মিত বাইরে কিছুটা সময় কাটাতে হবে। বাগান, পার্ক কিংবা মাঠে খেলাধুলা করার জন্য সময় দিতে হবে। পরিবেশের মধ্যে কিছুটা সময় কাটালে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার হতে পারে। একটানা কাজ করাও যাবে না। বরং নির্দিষ্ট সময় অন্তর চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।

    বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা জরুরি

    তবে সবকিছুর পাশাপাশি প্রতি বছর চোখের পরীক্ষা করানো জরুরি। তাহলে সমস্যা হলেও প্রাথমিক পর্বেই তা নির্ণয় করা যাবে। ফলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। ছোটো থেকে বড়—প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এবং নিয়মিত পরীক্ষা ভবিষ্যতের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

LinkedIn
Share