Tag: শিশুদের ADHD

  • ADHD in children: বকুনি দিয়েও ‘দুষ্টু’ সন্তানকে সামলাতে পারছেন না? এই লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হোন অভিভাবকরা

    ADHD in children: বকুনি দিয়েও ‘দুষ্টু’ সন্তানকে সামলাতে পারছেন না? এই লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হোন অভিভাবকরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দিনভর শুধুই দৌড়াদৌড়ি, পড়তে বসতে চায় না! যদিও বা ছবি আঁকতে বসে, অতিরিক্ত চঞ্চলতার জন্য রঙ করতেও শিখতে পারছে না! নিত্যদিন স্কুল থেকেও নানান অভিযোগ, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় হঠাৎ রেগে যায়, এমনকি মারামারি শুরু হয়ে যায়! এমনি ‘দুষ্টু’ সন্তানকে নিয়ে নাজেহাল হন বহু বাবা-মা! বকুনি দিয়েও তাদের কাবু করা যায় না! আবার পড়াশোনায় মনোযোগ না থাকায় ‘অলস’ তকমাও জোটে। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানকে কি সত্যিই অলস বা নিছক দুষ্টু! নাকি সন্তানের এমন আচরণের নেপথ্যে রয়েছে নিউরোডেভালপমেন্টাল ইস্যু! সচেতনতা আর সতর্কতা না বাড়ালে আসলে সন্তানের ভয়ঙ্কর ক্ষতিও হতে পারে।

    কোন সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুর একাধিক মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেরকম একধরনের সমস্যা হলো এডিএইচডি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার পুরো নাম, Attention-Deficit/Hyperactivity Disorder. যা একধরনের স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা।‌ অর্থাৎ, মস্তিষ্কের বিকাশের সমস্যা থাকলে শিশুর আচরণে সেটা প্রকাশ পায়। অতিরিক্ত চঞ্চলতা, মনোযোগের অভাব, হঠাৎ করেই মারামারি করা, বন্ধু বা শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার মতো সমস্যা দেখা যায়। যা নিছক দুষ্টুমি বা অলসতা নয়।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তান এই সমস্যায় আক্রান্ত?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন সন্তান অতিরিক্ত চঞ্চল বা মনযোগের অভাব রয়েছে মানেই কিন্তু এডিএইচডি আক্রান্ত নয়। বরং এই সমস্যার কিছু স্পষ্ট দিক রয়েছে। অভিভাবকদের সে সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। তবেই এই সমস্যা সহজে চিহ্নিত হবে এবং শিশুর সুন্দর জীবন যাপন সম্ভব হবে।

    বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আচরণ কেমন!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দুই-তিন বছরের শিশু পড়তে বসতে চাইছে না। খেলাধূলো করতে চাইছে, এগুলো খুব স্বাভাবিক ব্যবহার। ভারতে বর্তমানে অধিকাংশ শিশুদের আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের মধ্যে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো‌ হয়। ওই বয়সীরা অনেকেই লিখতে চায় না, কিংবা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। তাদের সেই আচরণ স্বাভাবিক। তবে, পাঁচ-ছ বছর বয়সেও যদি পড়াশোনার প্রতি তীব্র অনীহা , অমনোযোগীভাব স্পষ্ট হয়, তাহলে অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে।

    কখনওই একজায়গায় বসতে না চাওয়া!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কখনোই একজায়গায় বসতে না চাওয়া, যেকোনো ছোটো ছোটো কাজ যেমন রঙ করা, ছবি আঁকা কিংবা বসে গল্প শোনার সময়েও যদি সন্তান লাগতার ঘোরাঘুরি করে, একদম বসতে না চায়, তাহলে বুঝতে হবে তার স্নায়বিক জটিলতা থাকতে পারে।

    দৈনন্দিন সহজ কাজেও অনীহা!

    প্রতিদিনের কোনো কাজ সন্তান করতে চায় না। বারবার বলার পরেও স্নান করা, পোশাক পরিবর্তনের কাজেও দীর্ঘ সময় লাগলে বুঝতে হবে, তার কোনো সমস্যা রয়েছে।

    হঠকারী আচরণের নেপথ্যে নজর!

    তবে, যে আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল, হঠাৎ করেই হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া। অর্থাৎ, হঠাৎ একজন শিশু আরেকজনকে মারতে শুরু করলো, কামড়ে দিতে যাচ্ছে কিংবা একটা সুন্দর জিনিস ভেঙে ফেলে দিলো, এই ধরনের আচরণ করলে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

    প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি!

    তবে, শিশুর এই আচরণের নেপথ্যে এডিএইচডি সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো, নির্দিষ্ট কিছু স্নায়বিক এবং মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর এই সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

    অসচেতনতা কেন বিপদ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সন্তানের আচরণের নেপথ্যে আসল কারণ কী এই সম্পর্কে জানতে না পারলে, শিশুর আচরণ দিনের পর দিন আরও খারাপ হবে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে। অতিরিক্ত বকাবকির ফলে তার মানসিক চাপ তৈরি হবে। এতে আচরণে আরও নানান সমস্যা দেখা দেবে‌।

    কীভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করবেন?

    অক্টোবর মাস এডিএইচডি সচেতনতা মাস। এ বছরের সচেতনতার মূল বিষয়, পরিবারের পাশপাশি সমাজের সব মহলেই এডিএইচডি আক্রান্তের পাশে থাকতে হবে। তবেই তারা সুস্থ জীবন যাপন করতে হবে।‌

    প্রয়োজনীয় থেরাপি করানো দরকার!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সন্তান এই সমস্যায় আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়ার পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় থেরাপি করাতে হবে। যাতে শিশুর এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা তৈরি!

    নিয়মিত তাকে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে বাড়ির ছোটো ছোটো কাজ ও দায়িত্ব দিতে হবে। যেমন জল ভরা, গাছে জল দেওয়ার মতো নানান কাজের দায়িত্ব দিতে হবে, যাতে সে দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা করতে পারে আবার নিয়মিত কাজ সময় মতো করতেও শেখে।

    রুটিনমাফিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত করা!

    তাকে দৈনন্দিন জীবন যাপনে নিয়মানুবর্তিতা শেখানো জরুরি। তাই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমোতে যাওয়া এবং খাওয়া এগুলো করতে হবে। তাহলে সে সময় মতো কাজ করা সম্পর্কেও ধারণা তৈরি করতে পারবে।

    একসঙ্গে অতিরিক্ত পড়ার চাপ না দেওয়া!

    একসঙ্গে অনেক পড়ার চাপ নয়। বরং এক ঘণ্টা পড়া এবং আধঘণ্টা খেলাধুলা এই ভাবে পড়াতে হবে। তাহলে মনোযোগের সমস্যা ধীরে ধীরে কমবে।

    খেলাধুলার জন্য সময় বরাদ্দ করা!

    প্রতিদিন কিছু এমন খেলার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে শারীরিক কসরত হয়। যেমন সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ফুটবল খেলা! তাহলে এই শিশুদের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়‌। আবার ঘুম ভালো হয়। স্নায়বিক জটিলতা কমানোর জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    স্কুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ!

    তবে, অভিভাবকদের স্কুল কর্তৃপক্ষকে সন্তানের সমস্যা সম্পর্কে জানানো জরুরি। নিয়মিত স্কুলের সঙ্গে ও যোগাযোগ রাখতে হবে। কারণ, শিশু দিনের একটা বড় সময় স্কুলে কাটায়। তাকে ভয় দেখানো বা শাস্তি দেওয়া বা সকলের সামনে অবহেলা করা নয়। বরং, তার সমস্যা বুঝে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেই এডিএইচডি আক্রান্তের জীবন যাপন সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share