Tag: ₹52

  • Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে শুক্রবার বসা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি (AoN) বা প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।

    সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক দেশীয় ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই অনুমোদনের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ড্রোন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্ক সুরক্ষা, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সক্ষমতা এবং দীর্ঘক্ষণ নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি-তে জোর দেওয়া। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যে ধরনের প্রযুক্তি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেই ক্ষেত্রগুলিতেই একসঙ্গে সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে ভারত।

    সেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র

    ভারতীয় সেনার জন্য আকাশ তরঙ্গ (Akash Tarang) অ্যান্টি-ইউএভি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW Suite) ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, হামলা এবং লক্ষ্য চিহ্নিতকরণে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে সেনা গঠনের নিরাপত্তায় অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এছাড়াও সেনার জন্য ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM) কেনার অনুমোদন মিলেছে। হালকা ও বহনযোগ্য এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পদাতিক বাহিনীর হাতে শত্রুর সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্ক মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াবে। একইসঙ্গে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবেও। বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় মাঝারি পাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেনার সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

    স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা

    সেনার জন্য ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)-এরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ এই ব্যবস্থা শত্রুর পাল্টা ব্যবস্থা মোকাবিলা করে আকাশ প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি রয়েছে অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS)। ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করে ট্যাঙ্ক ও তার ভিতরে থাকা সেনাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা কেনারও অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের ড্রোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একইসঙ্গে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি ধ্বংসক্ষমতা, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচ—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নৌসেনার জন্য সমুদ্রের নিচে নতুন সক্ষমতা

    ভারতীয় নৌসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)। সমুদ্রে শত্রুর গতিবিধি ও চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষেত্রে এই মাইন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এছাড়াও নৌসেনার জন্য নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক সেন্সর-সমৃদ্ধ এই মানবহীন আকাশযানগুলি যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত হয়ে সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করবে। ফলে নৌসেনার সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।

    ভবিষ্যতের নৌযানের বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য ল্যান্ড বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF) তৈরিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিকাঠামোয় বৈদ্যুতিক মোটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা করা যাবে। ভবিষ্যতের আরও উন্নত ও বিদ্যুৎচালিত নৌ প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    বায়ুসেনায় হাপস্ প্রযুক্তির প্রবেশ

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্যও বড় পদক্ষেপ করেছে প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ। ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (FW-HAPS) এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নামেই স্যাটেলাইটের সঙ্গে মিল থাকলেও হাপস্ আসলে উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে সক্ষম বিশেষ ধরনের প্ল্যাটফর্ম। এগুলির মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ ধরে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকোনেসঁস (ISR) বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, যোগাযোগ এবং রিমোট সেন্সিংয়ের কাজ করা সম্ভব। ফলে বায়ুসেনার দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি ও অপারেশনাল পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে এফডব্লিউ-হাপস্ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রয়োজন হলে এই প্রযুক্তি প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

    ৫২ হাজার কোটি টাকার এই অনুমোদনের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে শুধু প্রচলিত অস্ত্র কেনার বদলে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কামিকাজে ড্রোন, মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্কের সুরক্ষা, সমুদ্রের নিচে মাইন যুদ্ধ, জাহাজভিত্তিক মানবহীন আকাশযান এবং উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি—প্রস্তাবগুলির পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনুমোদনগুলির মূল লক্ষ্য হল উন্নত দেশীয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং বাহিনীর টিকে থাকার ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত।

LinkedIn
Share