Tag: 1971 indo pak war

1971 indo pak war

  • Vijay Diwas: ঢাকায় ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ ৯৩ হাজার পাক ফৌজের, ফিরে দেখা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান

    Vijay Diwas: ঢাকায় ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ ৯৩ হাজার পাক ফৌজের, ফিরে দেখা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বর্তমান যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হিসেবে পরিচিত আত্মসমর্পণ করেছিল পাক বাহিনী। পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরি হয় স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। একদিকে বাংলাদেশ যেমন এই দিনটিকে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিজয়ের দিবস হিসাবে পালন করে, তেমনই ভারতীয় সেনাবাহিনীও একাত্তরের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় ও পাক সেনার আত্মসমর্পণের দিনটিকে বিজয় দিবস হিসাবে উদযাপন করে। আজ বিজয় দিবসের ৫৪ বছর পূর্ণ হল।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও সামরিক শাসক ছিলেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। তার আদেশেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাক সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে এই ইয়াহিয়া খান বলেছিলেন, “তিরিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করো, তখন দেখবে বাকিরা আমাদের হাত চাটবে।” সেই পরিকল্পনা মতোই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট আরম্ভ করে, যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেওয়া। এরই অংশ হিসাবে পাক সামরিক বাহিনীতে বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়, বুদ্ধিজীবিদের নিধন করা হয়। আর তৎকালীন সারা পূর্ববঙ্গ জুড়ে চলে নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে হত্যা। ২৫ মার্চের রাতেই শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। বলা হয়, গ্রেফতার হওয়ার একটু আগে ২৫ মার্চ রাত ১২টায় (অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে) তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।

    এরপর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে সহজ ছিল না নয় মাসের সেই লড়াই, যার শুরুটা হয়েছিল ওই বছরের ২৫ মার্চ। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে পাকিস্তানি সেনা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল। এরই প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। এই সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতায় ৩০ লক্ষ বাঙালি মারা যায়, দুই লাখ নারী ধর্ষিত হয় এবং এক কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় সংঘটিত এই যৌন হিংসাকে আধুনিক ইতিহাসে গণধর্ষণের সবচেয়ে বড় ঘটনা বলা হয়। প্রায় এক কোটি মানুষ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আসে। সে সময় এই লোকেরা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অসমের মতো এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল।

    পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করেছিল, তাতেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী অংশ নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে।ভারতের দাপটে ১৩ দিনের মধ্যেই অস্ত্র নামিয়ে রাখতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি বাহিনী। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঘড়ির কাঁটায় তখন ৪ টে ৩১ মিনিটে (বাংলাদেশের স্থানীয় সময়) ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন পাকিস্তানের ৯৩ হাজার পাক ফৌজ। যুদ্ধের ইতিহাসে যা সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণ হিসেবে বর্ণিত। পূর্ব পাকিস্তানে (আজ বাংলাদেশ) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণপত্রে স্বাক্ষর করেন। যুদ্ধে ভারত জয়ী হয়।

    এর ফলে পাকিস্তানে ইয়াহিয়া খান প্রশাসনের পতন ঘটে এবং জুলফিকার আলি ভুট্টোকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই ক্ষতি হয়৷ ২ হাজার ৯০৪ ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হন। চারটি পরমবীর চক্র, ৭৬টি মহাবীর চক্র এবং ৫১৩টি বীর চক্র-সহ অসংখ্য অফিসার ও সৈন্যকে বীরত্বের পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে লড়াই করা সৈনিকদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশ ১৬ ডিসেম্বরকে স্মরণের দিন হিসাবে পালন করে। এই বিজয় শুধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেনি, বরং বিশ্বব্যাপী ভারতের অবস্থানকেও সুদৃঢ় করেছে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের আজ ৫৪ বছর পূর্ণ হল।

  • Vijay Diwas 2023: ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয়দের অবদান অনস্বীকার্য, বললেন বাংলাদেশি সেনা-কর্তা

    Vijay Diwas 2023: ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয়দের অবদান অনস্বীকার্য, বললেন বাংলাদেশি সেনা-কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামরিক ব্যান্ডের সুরের মুর্চ্ছনায় ও আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টির মধ্য দিয়ে শহিদ স্মরণ করল ভারতীয় সেনা। 

    ১৯৭১ সালে পাকিস্কানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধ জয় (1971 Indo Pak War) এবং স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের বর্ষপূর্তি প্রতি বছর এই সময় পালিত হয়ে থাকে (Vijay Diwas 2023) । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সামিল হয়েছিল ভারতও। সেই যুদ্ধে বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ রেখে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল ভারতীয় ফৌজ। সেই লড়াইয়ে যাঁরা শহিদ হয়েছেন, প্রতি বছর এই দিনটিতে তাঁদের স্মরণ করা হয় ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরে। এবছরও তার অন্যথা হয়নি। 

    শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

    শুক্রবার সকালে, কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এক ছিমছাম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হল ৫২ তম বিজয় দিবস (Vijay Diwas 2023)। এদিন শহিদ জওয়ানদের স্মৃতিসৌধ বিজয় স্মারকে পুষ্পস্তবক রেখে বীরদের স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আরপি কলিতা। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন বাহুর বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্তারা। এদিন বিজয় স্মারকে পুষ্পস্তবক প্রদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকারীদের মধ্যে ছিলেন কলকাতার নগরপাল কমিশনার বিনীত গোয়েল, জিওসি বেঙ্গল সাব-এরিয়া মেজর জেনারেল এইচ ধর্মরাজন, চিফ-অফ-স্টাফ হেডকোয়ার্টার ইস্টার্ন কমান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল আরসি শ্রীকান্ত, প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) অরূপ রাহা, প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শঙ্কর রায়চৌধুরী প্রমুখ। 

    ৭১ জনের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল ভারতে

    প্রতি বছরের মতো এবছরও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিদল এসেছে ভারতে (Vijay Diwas 2023) । এবছর ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী ৬ জন কর্মরত অফিসার সমেত মোট ৭১ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। এদিন বিজয় স্মারকে (1971 Indo Pak War) পুষ্পস্তবক প্রদান করেন মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি সেনাও। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেন মহম্মদ মোমিনউল্লাহ পাটওয়ারি। বাংলাদেশি সেনা থেকে আসা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল মহম্মদ হোসিন আল মোরশেদ। এদিনের অনুষ্ঠানের শেষে সেনা এভিয়েশন কোরের হেলিকপ্টার থেকে বিজয় স্মারক স্থলে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। 

    ভারতের অবদানকে স্বীকৃতি বাংলাদেশ সেনার

    বিজয় দিবস নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে (1971 Indo Pak War) ভারতের বিরাট অবদানের কথা স্মরণ করেন সেনা কমান্ডার আরপি কলিতা। তিনি বলেন, ভারতই ছিল প্রথম দেশ যে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছিল (Vijay Diwas 2023)। তিনি মনে করেন, ভারতের ওই পদক্ষেপের ফলে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভীষণ মজবুত হয়েছে। বাংলাদেশি সামরিক কর্তা মেজর জেনারেল মহম্মদ হোসিন মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও ভারতীয়দের অবদানের কথা স্বীকার করেন। 

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share