Tag: 2026

  • National Honour (Amendment) Bill: রাজ্যসভায় পেশ ‘বন্দে মাতরম’ বিল, বিরোধীদের বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত অধিবেশন

    National Honour (Amendment) Bill: রাজ্যসভায় পেশ ‘বন্দে মাতরম’ বিল, বিরোধীদের বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত অধিবেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমান করলে পেতে হবে শাস্তি। এ বার এমন আইনি বন্দোবস্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। সংসদের বাদল অধিবেশনে তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই শুক্রবার রাজ্যসভায় ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ বা ‘বন্দে মাতরম’ বিল পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষে তিনি বিলটি উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত এই বিলে জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১-এ সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই ‘বন্দে মাতরম’ গানের জন্যও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য। তবে বিল পেশের সময়ই নিট-ইউ জি প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানান বিরোধী সাংসদরা।

    নতুন বিলে কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?

    এই বিলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আটকানো, বাধা দেওয়া বা তাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, জরিমানা অথবা দু’টিরই বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত বিলে। বর্তমান আইন মূলত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-কে অসম্মান করা, গানে বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার মতো বিষয়ের উপর প্রযোজ্য। নতুন সংশোধনী বিলে সেই ধারার আওতা বাড়িয়ে ‘বন্দে মাতরম’-কেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, কেউ একবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ফের একই অপরাধ করলে কমপক্ষে এক বছরের জেল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা রক্ষার জন্য এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়ার পরে ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হবে।

    বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

    এ বছর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরমের কথা ও ভাবনা। কংগ্রেস জমানায় জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসেছে বিজেপি।গত ফেব্রুয়ারিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিধি স্থির করে দিয়েছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করে জানায়, ‘জনগণমন’-এর মতো সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও। ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময়ে সকলকে উঠে দাঁড়ানোর কথাও বলা হয় ওই নির্দেশিকায়।

    জাতীয় গানের অপমান বরদাস্ত করা হবে না

    পরে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় গানের অপমান বরদাস্ত করা হবে না। সূত্রের খবর, ওই দিনেই ১৯৭১ সালের আইনে সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় মোদির মন্ত্রিসভা। বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডেরই বিধান আইনে রয়েছে। জাতীয় পতাকা বা সংবিধানের অবমাননার জন্যও অনুরূপ শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দিলে অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে, তাঁকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। একই ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাঁকে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা

    বিলটির বিরোধিতা করেন সিপিআই সাংসদ পি. সন্দোষ কুমার এবং জন ব্রিট্টাস। সন্দোষ কুমার বলেন, “আমি ‘বন্দে মাতরম’-কে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু এই বিলের বিরোধিতা করছি।” তাঁর অভিযোগ, এই আইন আনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই বিল আনা হয়েছে। যদিও সভার চেয়ারম্যান তাঁকে বিলের বিষয়েই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই বিলের মাধ্যমে “দেশপ্রেমকে আইনের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়ার” চেষ্টা করা হচ্ছে এবং নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে নজর ঘোরানো হচ্ছে।

    রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতবি

    বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের মধ্যেই বিলটি পেশ হয়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় রাজ্যসভার অধিবেশন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করে দেওয়া হয়। এর আগে দিনের প্রথমার্ধেও একই কারণে একবার অধিবেশন স্থগিত হয়েছিল। অন্যদিকে, লোকসভাতেও নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখালে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় অধিবেশন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

    প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে

    এদিকে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার নিট ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তিনি বিরোধীদের শর্ত ছাড়াই আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাবও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিবেচনা করবে। উল্লেখ্য, নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে বাদল অধিবেশনের টানা পঞ্চম দিনও সংসদের দুই কক্ষেই অচলাবস্থা বজায় থাকল। বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং গোটা বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সংসদে আলোচনা ব্যহত হচ্ছে।

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করলে হবে জেল-জরিমানা! সংসদে আসছে নয়া বিল

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করলে হবে জেল-জরিমানা! সংসদে আসছে নয়া বিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে একটি সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র, যার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান (Jail Law India Bill) করা বা গানটি গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রস্তাবিত আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেরই বিধান রাখা হয়েছে।

    ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর আওতায় জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে এই আইনের অধীনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’কে ইচ্ছাকৃত অবমাননা বা অসম্মান থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা গান বন্ধ করে দেওয়াও এই আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পাবে ‘বন্দে মাতরম’ও। জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। ২০ জুলাই শুরু হবে সংসদের বাদল অধিবেশন। তখনই বিলটি পেশ করা হতে পারে। বিলটি প্রথমে লোকসভা এবং পরে রাজ্যসভায় পাস হতে হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই তা আইনে পরিণত হবে এবং সংশোধিত বিধান কার্যকর হবে।

    বন্দে মাতরম’কে জাতীয় প্রতীকের সমান আইনি সুরক্ষা

    প্রস্তাবিত আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করা বা গানটির পরিবেশন ব্যাহত করার ঘটনাকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দুর্ঘটনাজনিত কোনও ভুল, অনিচ্ছাকৃত আচরণ বা প্রকৃত ভুলবশত ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সচেতনভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয় গানকে অসম্মান করেছেন বা গান পরিবেশন বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন (Jail Law India Bill)। কেন্দ্রের মতে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরমে’র গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে এই গান অসংখ্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই জাতীয় গানকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতীকের সমান আইনি মর্যাদা ও সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

    জাতীয় চেতনায় বিশেষ স্থান বন্দে মাতরমের

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জাতীয় সঙ্গীত, ‘বন্দে মাতরম’, বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সঙ্গীত এবং ভিনদেশের জাতীয় সঙ্গীত সরকারি অনুষ্ঠানে কীভাবে পরিবেশন করা হবে, সেই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সর্বত্র একই ধরনের সম্মান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল ওই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য। তার কিছুদিনের মধ্যেই ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠে’ প্রথম এই গান প্রকাশিত হয়। পরবর্তী কালে এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেই কারণেই গানটি আজও দেশের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনায় বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে (Jail Law India Bill)। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ হলেও, ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে গানটির প্রথম দুটি স্তবকই সরকারিভাবে স্বীকৃত এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে এই অংশই সাধারণত গাওয়া হয়। নতুন সংশোধনী আইন কার্যকর হলে জাতীয় সঙ্গীতের মতো জাতীয় গানকেও আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হবে।

    ‘বন্দে মাতরমে’র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দেড়শো বছর পূর্তি

    প্রস্তাবিত সংশোধনী এমন এক সময়ে আনা হচ্ছে, যখন ‘বন্দে মাতরমে’র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দেড়শো বছর পূর্তি পালন করা হচ্ছে। ফলে এই আইন কেবল প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই নয়, ঐতিহাসিক ও প্রতীকী দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তবে বিলটি এখনও আইন হয়ে যায়নি। সংসদের উভয় কক্ষে তা নিয়ে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাবও উঠতে পারে। উভয় কক্ষের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই সংশোধনী কার্যকর হবে। সেই পর্যন্ত এটি একটি প্রস্তাবিত আইন হিসেবেই বিবেচিত হবে। আইনটি কার্যকর হলে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। এর ফলে জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ও একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গানকে অপমান করা বা গান পরিবেশনে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে এবং আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে (Vande Mataram)।

    কী বলছে কেন্দ্র

    কেন্দ্র সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে আরও (Jail Law India Bill) দৃঢ়ভাবে সংরক্ষণ করা। সংসদের বাদল অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল নিয়ে কী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় (Vande Mataram), এখন তা-ই দেখার।

     

  • Manipur Violence: মণিপুরে ফের অশান্তি, কান্তো সাবালে পরিত্যক্ত মেইতেই বাড়িতে আগুন, বড় সংঘর্ষ এড়াল নিরাপত্তা বাহিনী

    Manipur Violence: মণিপুরে ফের অশান্তি, কান্তো সাবালে পরিত্যক্ত মেইতেই বাড়িতে আগুন, বড় সংঘর্ষ এড়াল নিরাপত্তা বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্য মণিপুরে (Manipur Violence)। শনিবার, ১১ জুলাই কান্তো সাবাল গ্রামে মেইতেইদের একাধিক পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইম্ফল (Kuki Miscreants) পশ্চিম জেলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, প্রায় ২০০ জন সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গি লেইমাখং এলাকার কান্তো সাবাল গ্রামের দিকে মিছিল করে এসে পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী (Manipur Violence)

    ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, বিকেলের দিকে প্রায় ৬০০ জনের একটি দল কান্তো সাবালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়ানো গিয়েছে। পুলিশের দাবি, দুষ্কৃতীরা আরও কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই ঘটনায় প্রাণহানির কোনও খবর নেই। ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

    মেইতেই বাড়িতে আগুন

    কান্তো সাবালের বাসিন্দা থোকচোম রেবুবালা দেবী সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার দুপুরে ২০০-রও বেশি কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ একটি মিছিল নিয়ে গ্রামের সেই অংশে প্রবেশ করেন, যেখানে এখন মেইতেই সম্প্রদায়ের প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে এসে ওই দলটি পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে আগুন লাগিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায় (Manipur Violence)। তিনি আরও জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় মেইতেই বাসিন্দারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের আটকে দেয়, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে না ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় মোট চারটি পরিত্যক্ত মেইতেই বাড়ি পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। এদিকে, ঘটনাস্থলের একাধিক ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওগুলিতে কান্তো সাবালের পরিত্যক্ত বাড়িগুলিকে আগুনে জ্বলতে দেখা গিয়েছে।স যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এই ঘটনাকে ঘিরে মণিপুরে ঘটে চলা জাতিগত উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইম্ফল পশ্চিম জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য যে কোনও (Kuki Miscreants) অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে (Manipur Violence)।

     

  • Tamil Nadu: তামিলভূমে কাটল জট, সরকার গড়ল বিজয়ের জোট

    Tamil Nadu: তামিলভূমে কাটল জট, সরকার গড়ল বিজয়ের জোট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন টিভিকে-র সভাপতি সি জোসেফ বিজয়। তামিলভূমের আঞ্চলিক দল ভিসিকে অভিনেতা তথা রাজনীতিক ‘থলপতি’ বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করে। তাতেই খোলে জট। নয়া সরকার গড়ার পথে আর কোনও বাধা রইল না বিজয়ের। জোগাড় করে ফেললেন সরকার গড়ার মতো ‘ম্যাজিক ফিগার’। তাঁর শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে প্রায় ছ’দশক ধরে চলা রাজ্যের দুই প্রধান দ্রাবিড় দল-ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র পালাক্রমে শাসনের অবসান ঘটল। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর শনিবার বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। কারণ ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১২০ জন নির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করেছেন বিজয়।

    নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ (Tamil Nadu)

    রবিবার সকাল ১০টায় নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই শপথ নেওয়ার কথা টিভিকে-র আরও কয়েকজন মন্ত্রীর। রাজ্যপাল বিজয়কে আগামী ১৩ মে-র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটের নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে শনিবার সন্ধ্যায়, যখন ভিসিকে এবং আইইউএমএল টিভিকে-কে সমর্থন জানায়। এর ফলেই টিভিকে-র জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০। পরে বিজয় চেন্নাইয়ের লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখনই তিনি জমা দেন কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআইএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএলের সমর্থনপত্রও। তামিলনাড়ু বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৩৪।

    ‘ম্যাজিক ফিগার’

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। এই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি কোনও দলই। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের টিভিকে ১০৮টিতে জিতে হয় একক বৃহত্তম দল। যদিও বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। সরকার গড়ার জন্য ‘ম্যাজিক ফিগার’ পেতে বিজয়ের প্রয়োজন ছিল আরও ১১ জন বিধায়কের সমর্থন। তামিলনাড়ু কংগ্রেস প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল তারা টিভিকে-কে সমর্থন করবে। কংগ্রেসের ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি আসন। ‘ম্যাজিক ফিগারে’ পৌঁছতে টিভিকে-র প্রয়োজন ছিল আরও ছ’জন বিধায়কের সমর্থন।

    বিজয়কে সমর্থন করল যারা

    শুক্রবার সিপিএম এবং সিপিআই সমর্থন করার কথা জানিয়েছিল। তাদের জেতা আসনের সংখ্যা চার। তার পরে আরও দুই বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। শনিবার ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান জানান, তাঁরা সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের দলকে নিঃশর্ত সমর্থন করবেন। উল্লেখ্য, টিভিকে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের গড়ে তোলা একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এবারের নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে এই সংগঠনই। দলটি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ, তামিল সমাজভিত্তিক এবং সামাজিক ন্যায় ও সমতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরে। এই দলই এবার গড়ছে সরকার।

    মামলার জরুরি শুনানি

    এদিকে, ডিএমকে নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কেআর পেরিয়াকারুপ্পন মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন যাতে টিভিকে বিধায়ক শিনিবাস সেতুপাথিকে আস্থা ভোটে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ বেঞ্চের বিচারপতি এল ভিক্টোরিয়া গৌরি এবং এন সেন্থিলকুমারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি করার কথা আজ, রবিবার। পেরিয়াকারুপ্পানের অভিযোগ, শিবগঙ্গা জেলার তিরুপাত্তুর কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনা ঠিকঠাক হয়নি। তাই নির্বাচিত প্রার্থীকে আইনসভা গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত নয়।

     

  • Vivek Agnihotri: “মমতা আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন”, কুর্সি খোয়াতেই তৃণমূল নেত্রীকে তোপ বিবেকের

    Vivek Agnihotri: “মমতা আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন”, কুর্সি খোয়াতেই তৃণমূল নেত্রীকে তোপ বিবেকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘খাসতালুক’ ভবানীপুর কেন্দ্রেই গোহারা হেরেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁকে হারিয়ে মুখের মতো জবাব দিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুধু ভবানীপুর কেন, রাজ্যের ২০০টিরও বেশি আসনেও তৃণমূল প্রার্থীদের ধরাশায়ী করেছেন পদ্ম-প্রার্থীরা। ভবানীপুরের ফল প্রকাশের পর চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী (Vivek Agnihotri) একটি নোট শেয়ার করে এই ঘটনাকে বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত ৫ মে ইনস্টাগ্রামে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলসে’র পরিচালক একটি দীর্ঘ বিবৃতি পোস্ট করে দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর সিনেমা পশ্চিমবঙ্গে দর্শকদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    অগ্নিহোত্রীর তোপ (Vivek Agnihotri)

    অগ্নিহোত্রীর অভিযোগ, তাঁর ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’, যা নয়ের দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসনকে কেন্দ্র করে তৈরি, সেটি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা হল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে রাজ্যে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি। তিনি লেখেন, “নেভার এগেইন. যাঁরা জানেন না, @মমতাঅফিসিয়াল ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির পর আমায় বাংলায় বাতিল করে দেন। সিনেমা হল থেকে ছবিটি তুলে নেওয়া হয় এবং তিনি বলেন আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।” অগ্নিহোত্রী আরও বলেন, “গত বছর তিনি ‘দ্য বেঙ্গলস ফাইলস’ সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেছিলেন। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাদের ওপর হামলা হয়। আমার বিরুদ্ধে বহু এফআইআর দায়ের করা হয়। আমি বাংলায় কার্যত ‘ক্যানসেল’ হয়ে যাই। রাজ্যপালের কাছ থেকে পুরস্কার নিতেও যেতে পারিনি।”

    ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’

    এই দু’টি চলচ্চিত্র, যা অগ্নিহোত্রীর “ফাইলস” ট্রিলজির অংশ, প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযোগ, এগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ঐতিহাসিক ঘটনাকে বিকৃত করে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ করে। ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ বিশেষভাবে সমালোচিত হয় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসনের চিত্রায়ণের জন্য, আর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ১৯৪০-এর দশকের সহিংস ঘটনাকে তুলে ধরায় বিতর্কে জড়ায় এবং পশ্চিমবঙ্গে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে (Mamata Banerjee)। অগ্নিহোত্রীর দাবি, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনের সময় ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ পশ্চিমবঙ্গে দেখানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, গোপনে বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, “আমরা হাল ছাড়িনি। এই নির্বাচনের সময় আমরা নিশ্চিত করেছি যে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ যত বেশি সম্ভব মানুষ দেখতে পারেন (গোপনে)। আমরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছি।”

    বাংলার মানুষকে অভিনন্দন

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘হোয়্যার দ্য মাইন্ড ইজ উইদাউট ফিয়ার’ থেকে উদ্ধৃত করে বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান তিনি। বলেন, তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অগ্নিহোত্রী লেখেন, “অবশেষে এই অভূতপূর্ব জয়। বাংলার মহান মানুষদের অভিনন্দন (Vivek Agnihotri)। এখন আপনারা নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে হাঁটতে পারবেন।” ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তি পায় ভারতে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বিবেক অগ্নিহোত্রী এবং এতে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, পল্লবী জোশী, দর্শন কুমার, অনুপম খের এবং শিমরাত কাউর। ছবিটি ১৯৪৬ সালের ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ এবং ‘নোয়াখালি দাঙ্গা’কে কেন্দ্র করে নির্মিত।

    সামনের সারিতে ছিলেন কর্তাভজারা

    প্রসঙ্গত, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের রাজত্বে সামনের সারিতে ছিলেন কর্তাভজা (মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেবতার আসনে বসিয়েছিলেন এঁরা) করিৎকর্মারা। তৃণমূল নেত্রীর কাছের এই ধামাধরাধারীরাই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বঙ্গের সাংস্কৃতিক মঞ্চ। তাই সংখ্যালঘু সম্পর্কিত (সে প্রত্যক্ষই হোক কিংবা পরোক্ষ) কিংবা তৃণমূল বিরোধী কোনও কাজ (সিনেমা, ছবি ইত্যাদি) করলেই তাঁকে কার্যত ব্ল্যাকলিস্টে ফেলে দেওয়া হত (Mamata Banerjee)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁদেরই একজন (Vivek Agnihotri)।

     

  • Security Reduced: এবার ‘ভাতিজা’র বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হল দৈত্যাকার স্ক্যানার, ‘শান্তিনিকেতনে’ ফস্কা গেরো

    Security Reduced: এবার ‘ভাতিজা’র বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হল দৈত্যাকার স্ক্যানার, ‘শান্তিনিকেতনে’ ফস্কা গেরো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বুয়া’র পর এবার ‘ভাতিজা’! তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেকের (Abhishek Banerjee) প্রাসাদোপম বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’ থেকে সরিয়ে নেওয়া হল পুলিশের (Security Reduced) অতিকায় স্ক্যানার। পুলিশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেসব সামগ্রী ছিল ‘ভাইপো’র বাড়িতে, সে সবও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিষেকের বাড়িতে যে স্ক্যানার বসানো ছিল, সেই মানের স্ক্যানার বসানো থাকে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন কিংবা বড় কোনও প্রতিষ্ঠানে। বুধবার দুপুরে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে শান্তিনিকেতন থেকে নীচে নামানো হয়েছে সেই দৈত্যাকার স্ক্যানার।

    নিরাপত্তার ‘বিলাসিতা’ নেই শান্তিনিকেতনে (Security Reduced)

    প্রসঙ্গত, সোমবার ফল প্রকাশ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের। এদিনই জানা যায়, ২০০-এর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। হেরে গিয়েছেন জেনেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা। মঙ্গলবার রাতেও পুলিশি প্রহরা ছিল ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের শান্তিনিকেতনে। বুধবার দুপুরে দেখা গেল, শান্তিনিকেতনের সামনে কোনও বাড়তি নিরাপত্তা নেই। বাড়ির সামনে যে পুলিশ বুথটি রয়েছে, সেটিও ফাঁকা। পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমের একটি গাড়ি অবশ্য দাঁড়িয়ে ছিল বাড়ির সামনে। স্থানীয় থানার এক পুলিশকর্মীকে ‘রাউন্ড’ দিতেও দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের বাড়ির সামনে। সূত্রের খবর, একজন সাংসদ হিসেবে যতটা নিরাপত্তা পাওয়া প্রয়োজন, সেইটুকুই পাবেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)।

    পালাবদলের ছবি!

    রাজ্যে পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মমতার বাড়ি যাওয়ার পথে থাকা ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’ সরিয়ে নেওয়া (Security Reduced) হয়। পরে লালবাজার থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বাড়তি কোনও নিরাপত্তা থাকবে না। তবে এক জন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রোটোকল অনুযায়ী যতটা নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, ততটাই পাবেন মমতা। শেক্সপিয়র সরণি থানার অধীনে ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে রয়েছে অভিষেকের কার্যালয়। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দফতর এখানে তৈরি হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তার কড়া বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল এলাকা (Abhishek Banerjee)। সেখান থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয় নিরাপত্তা। এবার অতিরিক্ত পুলিশি প্রহরা সরিয়ে নেওয়া হল শান্তিনিকেতনের সামনে থেকেও। কয়েকজন (Security Reduced) নিন্দুকের সরস মন্তব্য, নামকরণ সার্থক হল অভিষেকের বাড়ির!

     

  • TMC Violence: পদ্মের দখলে রাজ্য, তার পরেও বঙ্গে অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল! নিহত ২ বিজেপি কর্মী

    TMC Violence: পদ্মের দখলে রাজ্য, তার পরেও বঙ্গে অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল! নিহত ২ বিজেপি কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ‘বধ’ হয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বস্তত, গোটা রাজ্যেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান তৃণমূল। প্রত্যাশিতভাবেই ২০০-এরও বেশি বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়ার দাবিদার বিজেপি (BJP Workers Killed)। এহেন আবহে রাজ্যে অশান্তি পাকাতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা (TMC Violence)। বিজেপির তরফে প্রথম থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বদলা নয়, বদল চাই। তার পরেও দলনেত্রীর মতোই মাজা ভাঙলেও, মচকায়নি তৃণমূলের জার্সিধারীরা।

    হাওড়ায় বিজেপি কর্মী খুন (TMC Violence)

    রাজ্যজুড়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর বিক্ষিপ্ত হামলা চালাতে শুরু করেছে গোহারা হেরে যাওয়া তৃণমূলের লোকজন। মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। স্থানীয় ও বিজেপি সূত্রে খবর, মৃতের নাম যাদব বর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাঁকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বলে অভিযোগ। বিজেপির এই কর্মীর বাড়ি উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪৮ নম্বর বুথ এলাকায়। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, যাদব বিজেপির সমর্থক ছিলেন। বিজেপির জয়ের আনন্দ দলের সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করছিলেন তিনি। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান কয়েকজন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয় বিজেপির ওই কর্মীকে।

    নিউটাউনেও পিটিয়ে খুন, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মঙ্গলবারই নিউটাউনের বালিগড়ি চক পাচুড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (BJP Workers Killed)। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কমল মণ্ডল পলাতক। জানা গিয়েছে, পুনর্গণনার পরে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রে ৩১৬ ভোটে জয়ী হন বিজেপির পীযূষ কানোরিয়া (TMC Violence)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এর পরেই মধু দলবল নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য কমল মণ্ডলের বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ওই সময় কমল বাড়িতে ছিলেন না। বিকেলে মধু ফের উজিয়ে কমলের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। মধুর হুমকি শুনে বেরিয়ে আসেন কমল। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এক সময় ওই তৃণমূল নেতা মধুকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান ওই বিজেপি কর্মী। তখন সে মধুর বুকে সজোরে লাথি মারে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান মধু। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে। খবর পেয়ে রাতেই মধুর বাড়িতে যান বিজেপির সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সঙ্গে। সব রকমভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বিজেপি কর্মী অরূপ মণ্ডল বলেন, “মধুকে বুকে লাথি মেরে পিটিয়ে খুন করেছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।” অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা (TMC Violence)।

    উত্তরেও অশান্তি হেরো তৃণমূলের

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরেও অশান্তি পাকানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় সেই তৃণমূল-ই। বিধানসভা নির্বাচনে দলের জয়ের পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক (BJP Workers Killed)। আচমকাই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ির রংধামালি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ছড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। বিজেপির অভিযোগ, জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের হেরে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের লোকজনই একাজ করেছে। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ৬ জন বিজেপি কর্মী। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁরা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, কৃষ্ণের নেতৃত্বে একদল যুবক লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পথ আগলায়। গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে শুরু হয় মারধর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকেই বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে জখম হন বেশ কয়েকজন।

    উলটপুরাণ!

    খবর পেয়েই এলাকায় যান জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বিজেপির দাবি, পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, হেরে গিয়েও বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ওপর তৃণমূল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ (BJP Workers Killed)। যদিও বিজেপির তরফে পাল্টা মার দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, পদ্মশিবিরের ওপরতলার (TMC Violence) নেতাদের নির্দেশেই পাল্টা মারের রাস্তায় হাঁটেনি পদ্মশিবির। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুই ফুলের (বিজেপির পদ্মফুল এবং তৃণমূলের ঘাসফুল) রূপ-রস-গন্ধ সবই যে আলাদা, এই সব ঘটনাই তার প্রমাণ।

     

  • Election Commission: সিসিটিভি বন্ধ করে শারীরিক নিগ্রহ! মমতার সব ‘ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত’ অভিযোগ খারিজ কমিশনের

    Election Commission: সিসিটিভি বন্ধ করে শারীরিক নিগ্রহ! মমতার সব ‘ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত’ অভিযোগ খারিজ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবাসীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও গদি ছাড়েননি রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হেরো তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! উল্টে তাঁর এবং তাঁর দল তৃণমূলের (নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন, কোম্পানি) হারের জন্য কাঠগড়ায় তোলেন নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission)। সেই কারণেই হেরে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা ইস্তফা দেননি বুধবার সকাল পর্যন্তও।

    নির্বাচন কমিশনের সাফ কথা (Election Commission)

    যদিও তাদের বিরুদ্ধে মমতার তোলা সব অভিযোগই খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সিসিটিভি বন্ধের অভিযোগ ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না বলা পর্যন্ত গণনা থামানো হয়নি। তারপর তাঁকে জানিয়ে, গাইডলাইন মেনে ফের শুরু হয় গণনা। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, “আমি ৩২ হাজার ভোটে জিতছিলাম। তারপরেই বিজেপির প্রার্থী ২০০-র বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকে হুমকি দেওয়া শুরু করে। কাউন্টিং সেন্টারে যাওয়ার সময় আমাকে আটকে দেয়। আমাকে নিগ্রহ করা হয়। তখন সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আমি বলেছিলাম যে কাউন্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি থাকব। কিন্তু আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বের করে দেয়। দল কর্মীদের সঙ্গে আছে। আমরা লড়াই করে ফিরব। এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, যেমন অন্য রাজ্যেও হয়েছিল।”

    মমতার তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন

    দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকের (DEO) পক্ষ থেকে দেওয়া রিপোর্টে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভবানীপুরে মমতার তোলা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। কমিশনের সাফ কথা, ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম-আইন মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা কখনওই বন্ধ করা হয়নি। ভবানীপুরের প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কমিশন এও জানিয়েছে, প্রার্থীর জেদের কারণে গণনার কাজ কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পরে নিয়ম মেনে তাঁকে জানিয়েই আবারও গণনার কাজ শুরু করা হয়েছিল (Election Commission)।

    ভবানীপুরে গোহারা মমতা

    প্রসঙ্গত, সোমবার, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার দিন গোটা দেশের (Mamata Banerjee) নজর ছিল হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রেই দ্বৈরথ হয়েছে মমতা ও তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর। গণনা শুরুর পর থেকেই সমানে সমানে টক্কর চলছিল মমতা-শুভেন্দুর। যদিও শেষ দিকে এগোতে থাকেন শুভেন্দু। তার পর আর তাঁর নাগাল পাননি মমতা। হাজার পনেরো ভোটে হেরে যান ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ মমতা। রাজ্যে গোহারা হারে তাঁর দল, তৃণমূলও। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে, সব অফিসারকে বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে (Mamata Banerjee) লাগিয়ে ভোট লুঠ করেছে।’ এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি! হারলে পদত্যাগ করতাম (Election Commission)।”

     

  • Kalita Majhi: আউশগ্রামে পদ্ম ফোটালেন গৃহপরিচারিকা কলিতা, এক হার-না মানা মহিলার উত্থানের কাহিনি

    Kalita Majhi: আউশগ্রামে পদ্ম ফোটালেন গৃহপরিচারিকা কলিতা, এক হার-না মানা মহিলার উত্থানের কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গেরস্থের ঘর থেকে সটান বিধানসভায় গেলেন পেশায় গৃহপরিচারিকা কলিতা মাজি (Kalita Majhi)। চারটে বাড়িতে কাজ করে মাস গেলে তিনি রোজগার করতেন আড়াই হাজার টাকা (BJP)। সামান্য এই আয়েই সংসার চালাচ্ছিলেন কলিতা। বিধানসভায় তিনিই এখন বিজেপির অন্যতম মুখ। বিজেপির পদ্ম প্রতীকে লড়ে জয়ী হয়েছেন কলিতা। গত বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। আউশগ্রাম কেন্দ্রে সেবার হেরে গিয়েছিলেন কলিতা। সেই তিনিই এবার ওই একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে।

    হার-না মানার গল্প (Kalita Majhi)

    গুসকরা পুরসভার বাসিন্দা কলিতা। এলাকারই চারটি বাড়িতে কাজ করে টানেন সংসারের জোয়াল। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মীও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে হাজার ১২ ভোটে তৃণমূলের অভেদানন্দ থান্ডারের বিরুদ্ধে লড়ে হেরে যান কলিতা। যদিও হাল ছেড়ে দেননি তিনি। গৃহস্থের বাড়ির কাজ শেষ করে সংসার সামলে কলিতা চালিয়ে গিয়েছেন সংগঠনের কাজও। সেই কারণেই এবারও ওই কেন্দ্রে পদ্মশিবির প্রার্থী করে জীবনযুদ্ধে হার না-মানা কলিতাকে। তবে এবার আর হারেননি, বরং তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে আউশগ্রামের বুকে পদ্ম ফুটিয়ে ছেড়েছেন তিনি।

    বিধানসভায় গিয়ে যা বলবেন কলিতা 

    কলিতা পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট। তৃণমূলের প্রার্থী শ্যাম প্রসন্ন লোহারকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে হারিয়ে উজ্জ্বল করেছেন বিজেপির মুখ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতার এই উত্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলার বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতারও প্রতিফলন। কলিতা বলেন, “গুসকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যা রয়েছে। দমকল কেন্দ্র লাগবে। রাস্তাঘাটের সমস্যাও রয়েছে। রয়েছে পানীয় জলের সমস্যাও। এই কাজগুলিই সবার আগে করতে চাই (Kalita Majhi)।”

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা পদ্মময় করে দিয়েছে বিজেপি। ভবানীপুরে খোদ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দিয়ে গেরুয়া ঝান্ডা তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাতারাতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করে দিয়েছেন মমতাকে। এই ‘মহাপতনে’র আবহেও লোকমুখে ঘুরছে কলিতার উত্থানের গল্প। যিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে পরিবারের সদস্যদের মুখে তুলে (BJP) দেন অন্ন, সেই তিনিই এবার যাচ্ছেন বিধানসভায়, গণতন্ত্রের মন্দিরে। সমাজের নিচুতলার মানুষও যে বিধানসভায় গিয়ে স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরতে পারেন, কলিতার জয় সেটাই প্রমাণ করে ছাড়ল। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশে তো এটাই কাম্য। তাই নয় কি (Kalita Majhi)?

     

  • Mamata Banerjee: গোহারা হেরেও সম্বিত ফেরেনি! “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!”, বলছেন মমতা

    Mamata Banerjee: গোহারা হেরেও সম্বিত ফেরেনি! “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!”, বলছেন মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একই বন্ধনীতে চলে এলেন বঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! কীভাবে? গেল বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গিয়েও পদত্যাগ করতে চাইছিলেন না ট্রাম্প। অথচ, সেবার তাঁকে হারিয়েছিলেন জো বাইডেন (Constitutional Crisis)। বেনজিরভাবে হোয়াইট হাউস লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়েছিল ট্রাম্পের অনুগামীদের একাংশ। অনেক ‘নাটকে’র পর অবশ্য বাইডেনকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন পরাজিত ট্রাম্প।

    ট্রাম্পের পদাঙ্ক অনুসরণ মমতার! (Mamata Banerjee)

    এদিক থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে একই বন্ধনীতে চলে এলেন মমতা। সোমবার দুপুরেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভাগ্য। জনাদেশে গোহারা হারে তৃণমূল এবং তার প্রধান কান্ডারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতি অনুযায়ী, হেরে গেলে লোকভবনে (রাজ্যপাল ভবনের বর্তমান নাম) গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে দেন শাসক দলের মুখ্যমন্ত্রী। নয়া সরকার গড়ার দাবিতে সেই লোকভবনেই যান বিজয়ী দলের নেতা-নেত্রীরা। এবার এই নিয়মেই সমস্যার সৃষ্টি করতে চাইছেন তৃণমূলেশ্বরী। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না।

    “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!”

    তিনি বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?” তৃণমূল নেত্রীর এহেন পদক্ষেপে সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে বলে কারও কারও অভিমত। যদিও এমন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সংবিধানে কিছু বলা নেই। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বেশ কিছু ধারণার কথা বলছেন। যদিও ভোটে হেরে গিয়েও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না-দেওয়ার নজির ভারতে নেই। তাই মমতা শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না দিলে নয়া নজির সৃষ্টি হবে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে।

    সাংবিধানিক সঙ্কট!

    কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত এক প্রধান বিচারপতি জানান, মধ্যবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘কেয়ারটেকার’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালানোর অনুরোধ করেন রাজ্যপাল। তিনি নিজেও এক-দু’দিন তদারকি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার সংস্থানও রয়েছে। যদিও সাধারণত এত কম সময়ের জন্য ‘সঙ্কট’ না-হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা না-ও হতে পারে।। অবশ্য এ সবই নির্ভর করছে বিজেপি পরিষদীয় দল শপথের দিনক্ষণ কবে চূড়ান্ত করে, তার ওপরে (Constitutional Crisis)। তবে মমতা ইস্তফা না দিলে কোনও সঙ্কট সৃষ্টি হবে না। কারণ, বিধানসভার মেয়াদ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও (Mamata Banerjee)।

    অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথ নিতে পারেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। তবে পদ্মশিবিরের মুখ্যমন্ত্রী যদি ৮ মে শপথ নেন, তাহলে তেমন কোনও সমস্যা হবে না। কারণ মমতা সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে ৭ এপ্রিল। তাই ৯ তারিখ বা তার পরের কোনও দিন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলে মধ্যবর্তী স্বল্পসময়ের জন্য পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন রাজ্যপাল। অবশ্য তা হবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষেই। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, “সংবিধানের ১৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল যতদিন চাইবেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা ততদিনই স্বপদে বহাল থাকেন৷ মন্ত্রিসভার মেয়াদ ৫ বছর৷ কমিশন এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন-পর্ব শেষ করে৷ ভোটের ফল বেরনো মাত্রই নতুন সদস্যরা জয়ী হন (Constitutional Crisis)৷ সেই তালিকা রাজ্যপালকে দেয় নির্বাচন কমিশন৷ এর পরেই সরকার গঠনের দাবি জানায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল৷ তাই আগের সরকারের মেয়াদ এমনিতেই শেষ হয়ে যায় (Mamata Banerjee)৷”

    কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবি হওয়া এবং দলের সুপ্রিম কমান্ডারের মহাপতনের পর ইস্তফা দিতে পারতেন মমতা। কারণ সোমবার রাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে জনাদেশ। জনতার রায় মাথা পেতে নিয়ে পদত্যাগ করতে পারতেন তিনি। কিন্তু মমতা তা করেননি। উল্টে সাংবাদিক বৈঠকে ঘনিষ্ট বৃত্তের লোকজনকে নিয়ে হাত ধরাধরি করে তৃণমূলের ঐক্যের ছবিটাই আরও একবার তুলে ধরলেন হেরো মমতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যেহেতু মমতা নিজেও হেরেছেন তাই বিধানসভার বিরোধী দলনেত্রীর পদের শিকেটাও ছিঁড়ছে না তাঁর ভাগ্যে। (অবশ্য তৃণমূলের জয় নিশ্চিত জেনে কোনও আসনে উপনির্বাচন করিয়ে বিধানসভায় যেতে পারেন মমতা। এমনিও যেতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচন করিয়ে জিতে আসতে হবে তাঁকে।) যেহেতু এসবের কোনওটাই হচ্ছে না, তাই রীতিমতো চিত্রনাট্য তৈরি করে মঙ্গল-বিকেলে একপ্রস্ত নাটক করলেন তৃণমূলেশ্বরী। কারণ তিনি পিকচারে না থাকলে আর খবর হবেন না। অগত্যা মঞ্চস্থ করতেই হল নয়া নাটক (Constitutional Crisis)।

    বিরোধীদের মতে, সব খুইয়ে কেলেঙ্কারির বোঝা মাথায় নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো পদত্যাগ করলেই বোধহয় ভালো করতেন (Mamata Banerjee)!

     

LinkedIn
Share