Tag: 42 Seats

  • Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা পূর্তির অনুষ্ঠানে গুজরাটের ভাডনগরে দাঁড়িয়ে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (Lok Sabha Elections 2029) পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনই বিজেপির দখলে আনার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদির নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি (Suvendu Adhikari) যে পথে গুজরাটের উন্নয়ন করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বাংলার উন্নয়ন করতে চান তিনি।

    সলতে পাকানোর কাজ শুরু বিজেপির (Lok Sabha Elections 2029)

    ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলার কোন কোন আসনে বিজেপির জয় তুলনামূলক ভাবে নিশ্চিত এবং কোথায় লড়াই কঠিন হতে পারে, তা নিয়েও দলের সাংগঠনিক স্তরে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

    এই আবহেই বুধবার শুভেন্দু দাবি করেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর লক্ষ্যে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবেন। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, পরবর্তী লোকসভা ভোটে বাংলার সব আসন মোদিজিকে উপহার দেব।”

    মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিজেপির তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়ে মোদির প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সেই যাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষেই বিজেপির তরফে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় এতদিন তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছিল। মোদিজি না-থাকলে বাংলাকে বাঁচানো মুশকিল হত। তাই মোদিকে কোটি কোটি প্রণাম। মোদিজি বাংলার সনাতনী এবং রাষ্ট্রবাদী জনতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।” এর পরেই মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ২০২৯ সালের ভোটে বাংলার সব আসন বিজেপিকে জেতানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    ‘গুজরাটের মতো বাংলার উন্নয়ন করতে চাই’

    শুধু লোকসভা নির্বাচনের আসন জয়ের অঙ্গীকার নয়, বাংলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুজরাটকে অনুসরণ করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় গুজরাটে যে ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, বাংলাতেও সেই ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে যে রকম কাজ করেছেন, সে রকম কাজ আমি পশ্চিমবঙ্গে করার চেষ্টা করছি (Lok Sabha Elections 2029)।”

    ভাডনগরে পৌঁছে নিজের অনুভূতির কথাও জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ভাডনগরের হেলিপ্যাডে নেমে প্রথমে এই মাটিকে প্রণাম করেছি। কপালে সেই মাটি ঠেকিয়েছি।”

    মোদি ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটের উন্নয়নকে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে আসছে। সেই উন্নয়নধারাকেই বাংলায় অনুসরণ করার কথা এ দিন স্পষ্ট করেন শুভেন্দু।

    ‘বিরোধীশূন্য বাংলা’র ডাক ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ

    তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে কার্যত বিরোধীশূন্য করার যে বার্তা শুভেন্দু দিয়েছেন, তা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন বিরোধীরা।

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মাত্র দু’টি বিধানসভার উপনির্বাচনে আমরা দেখলাম, পুলিশকে দিয়ে পোলিং এজেন্ট, ভোটারদের উপরে অত্যাচার করা হয়েছে। বিরোধী-শূন্য করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আগে যেভাবে পঞ্চায়েত দখল করতেন, এখন বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে তা আরও চরমে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, “বাংলার সব লোকসভা আসনে জেতার আশ্বাস তিনি জ্ঞানেশ কুমারের ভরসায় দিয়েছেন। কিন্তু জল অতদূর গড়াবে না। কেন্দ্রে বিজেপির সরকার হবে না। রাজ্যেও ওদের আসন কমবে।”

    কলকাতা থেকে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা

    এর আগে বুধবার সকালে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানে মোদির কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “উনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন না। বলেন প্রধান সেবক। শুধু বলেন না, সেভাবেই নিজের কাজ করেন। আমাদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা মোদিজি।”

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এ দিন কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’য় অংশ নেন। তিনি বলেন, “মোদিজির দীর্ঘ সেবাময় জীবনের এই অধ্যায় থেকে আমাদের শিক্ষা একটাই— সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন কর্মীরা মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হন। তাই আগামী দিনের পথেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে মানুষের পাশে থাকা, সমাজের জন্য কাজ করা এবং দেশের উন্নয়নের যাত্রায় নিজেদের ভূমিকা পালন (Suvendu Adhikari) করা।”

    ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এখনও বছর তিনেক দূরে। তার আগেই বাংলার ৪২টি আসন জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করে বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু। এখন দেখার, এই ‘৪২-এ ৪২’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে (Lok Sabha Elections 2029) আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপি কী কৌশল নেয়।

     

LinkedIn
Share