মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে রাজ্যে শিল্পায়নের খরা! বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হতেই হইহই করে শুরু হয়ে গেল শিল্পায়নের কাজ। পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ শিল্পের হতশ্রী দশা ঘোচাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করল দেশের শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধ সমবায় সংস্থা ‘আমূল’ (Amul)। রাজ্যের শিল্প ও কৃষি অর্থনীতিতে বড়সড় গতি আনতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৭৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে (700-cr Dairy Plant) একটি অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরি করতে চলেছে তারা। ১৪ জুন, রবিবার এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনিই এই প্রকল্পের সূচনা করবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। প্রথমে বাম জমানা এবং পরে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের রাজত্বে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যে দেখা দেয় শিল্পের খরা। বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার আসতেই কাটতে চলেছে হা-শিল্প দশা। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সূচনা বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।
শিল্পের নয়া গন্তব্য হাওড়া (Amul)
গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF), যারা ‘আমূল’ (Amul) ব্র্যান্ডের পরিচালক, তারা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় এই বিশাল প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হবে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাওড়াকেই এই বিনিয়োগের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি কারখানা নয়, বরং এটি পূর্ব ভারতের দুগ্ধ বিপণন ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র (Hub) হিসেবে কাজ করবে।
উৎপাদন ক্ষমতায় বড় চমক
আমূল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্ল্যান্টটি যখন পূর্ণ মাত্রায় কাজ শুরু করবে, তখন এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে ঈর্ষণীয়। ‘আমূল’ (Amul) জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ লিটার তরল দুধ প্রক্রিয়াকরণ করার ক্ষমতা থাকবে এই কেন্দ্রে। তবে শুধু তরল দুধ নয়, বাঙালির খাদ্যতালিকায় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে প্রতিদিন ১০ লাখ কেজি দই, মিষ্টি দই, ইয়োগার্ট, লস্যি এবং ঘোল বাটারমিল্ক (700-cr Dairy Plant) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের এই বিশাল পরিকাঠামো রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে টাটকা ও উন্নতমানের দুগ্ধজাত পণ্য পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব
এই ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ (700-cr Dairy Plant) পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে এক ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পটি সরাসরি কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন রাজ্যের হাজার হাজার দুগ্ধ খামারি ও পশুপালক। ‘আমূল’ (Amul)-এর সমবায় মডেল অনুযায়ী, স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা হবে, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের জোগান বাড়বে এবং পশুপালকরা তাঁদের পণ্যের ন্যায্য ও সঠিক মূল্য নিশ্চিতভাবে পাবেন।
প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও ‘সরলাবেন’
‘আমূল’ (Amul) কেবল ইঁট-পাথরের কারখানা তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকছে না, দুগ্ধ চাষের আধুনিকীকরণে তারা নিয়ে আসছে এআই (AI) প্রযুক্তি। দুগ্ধ খামারিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে তারা ‘সরলাবেন’ (Sarlaben) নামক একটি এআই-চালিত ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেবা চালু করতে চলেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশুপালকরা পশুর স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং দুধের গুণমান (700-cr Dairy Plant) বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার সমাধান নিমেষের মধ্যে ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন।
পূর্ব ভারতে আমূলের মাস্টারপ্ল্যান
গত কয়েক বছর ধরেই ‘আমূল’ (Amul) উত্তর ও পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। পশ্চিমবঙ্গের এই ৭০০ কোটি টাকার (700-cr Dairy Plant) প্রকল্প সেই পরিকল্পনারই অংশ। এর মাধ্যমে তারা বিহার, ওডিশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাদের সাপ্লাই চেন আরও মজবুত করতে পারবে।
শিল্পায়নের পথে বড় মাইলফলক
সব মিলিয়ে, ১৪ জুনের এই শিলান্যাস অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের পথে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে। একদিকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ—এই দুইয়ের মিশেলে আমূল রাজ্যে এক নতুন দুগ্ধ বিপ্লবের ডাক দিয়েছে। রাজ্যে তৃণমূলের বিসর্জন হতেই একের পর এক বিনিয়োগ আসছে বলে মনে করছে বিজেপির একটা বড় অংশ। সিঙ্গুর থেকে টাটা বিতাড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে শিল্পায়নের কফিনে পোঁতা হয়ে গিয়েছিল শেষ পেরেকটি। তৃণমূলের আমলে বছর বছর ঘটা করে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মলেন হলেও, তার ছাপ বিশেষ পড়েনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বঙ্গে শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যাপক আলো দেখিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। টাটাকে বাংলায় এনে ফের কারখানা গড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে পদ্ম সরকার।
