মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে যাদবপুর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার, গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ৮বি পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়েছে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
রাখি পূর্ণিমার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু।
‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Suvendu Adhikari)
এবার দ্বিতীয় দফায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র (Gerua Samman Yatra) ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে ঢাকুরিয়া হয়ে যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছবে মিছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দিতেই এই কর্মসূচি বলে দাবি আয়োজকদের।
রাখির দিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি পূর্বতন বাম শাসনকেও নিশানা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কমিউনিস্টদের আমলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি স্থান পেত না। তাঁর দাবি, সেই সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘তোজোর কুকুর’ এবং রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জোয়া কবি’ বলা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “এখানকার ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী রাষ্ট্রবাদী ও দেশপ্রেমিক। অথচ চে গেভারার গেঞ্জি পরা কিছু গোষ্ঠী রানাঘাটের পড়ুয়ার মতো পরিণতি করার হুমকি দিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়। তৃণমূলের ২৬ হাজার চাকরি চুরি কিংবা পিএসসি-এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে তাদের মুখে স্লোগান নেই, তাদের মুখে একটাই স্লোগান— ‘আজাদি’!”
ফায়দা লোটার ধান্ধা!
তৃণমূল জমানার সমালোচনা করতে গিয়ে যাদবপুরের বহুচর্চিত স্বপ্নদীপের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “র্যাগিংয়ের প্রতিবাদে আমি যখন এখানে এসেছিলাম, আমার গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ে মাওবাদী পরিচয় দিয়ে আমাকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী ফোন করে গ্রেফতার হওয়া দুই মাওবাদীকে ছাড়িয়ে দেন। তৃণমূল ও বামেদের এই গোপন বোঝাপড়ার উদ্দেশ্য ছিল একটাই— নির্বাচনে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগান তুলে তার ফায়দা লোটা।”
গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত মিছিলে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রবিবার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জানানো হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল ৩টেয় মিছিল শুরু হবে। গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হবে যাদবপুরে গিয়ে।
আয়োজকদের বক্তব্য, গেরুয়া শুধুমাত্র একটি রং নয়, এটি ত্যাগ, আত্মনিবেদন এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই গেরুয়া রঙের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং তার তাৎপর্য নতুন করে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এর আগে একাধিকবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, গেরুয়া রংকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কয়েক দিন আগে একটি সংবাদপত্রে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, গেরুয়ার সঙ্গে ‘তাণ্ডব’ শব্দ জুড়ে দেওয়া হলে গেরুয়ার মাহাত্ম্যই খাটো করা হয়।
তবে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র পিছনে আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু করে যাদবপুরে শেষ করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে তাদের মত।
‘প্রতিষ্ঠিত’ হচ্ছে রাষ্ট্রবাদ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধিতা’র সুরের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সেখানে ‘রাষ্ট্রবাদ’ প্রতিষ্ঠার কথা আগেই বলেছিলেন শুভেন্দু। সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। শনিবার ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির একাধিক স্লোগান মুছে তার জায়গায় রাষ্ট্রবাদী স্লোগান লিখেছেন গেরুয়াপন্থী ছাত্ররা।
ফলে আগামী সপ্তাহে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Gerua Samman Yatra) শুধুমাত্র একটি মিছিল নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদী রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।
