মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আত্মনির্ভর ভারতের পথে আরও এক ধাপ। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বনির্ভর দেশ। শনিবার হিমাচল প্রদেশের কাসৌলিতে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গবেষণগার (Central Research Institute) দেশীয়ভাবে প্রস্তুত টিটেনাস ও অ্যাডাল্ট ডিপথেরিয়া (টিডি) ভ্যাকসিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। তিনি একে ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যখাতে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাড্ডা বলেন, “এই ভ্যাকসিনের সূচনা দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”
‘আত্মনির্ভর ভারত’ এর বাস্তব রূপ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টিডি ভ্যাকসিনকে দেশের ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রামের (Universal Immunization Programme) আওতায় সরবরাহ করা হবে। আগামী এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে সিআরআই প্রায় ৫৫ লক্ষ ডোজ সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে, যাতে সারা দেশে টিকাকরণ কর্মসূচি জোরদার করা যায়। নাড্ডা জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও ওষুধ উৎপাদন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য কেন্দ্র সরকার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশীয় টিডি ভ্যাকসিন সেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনারই বাস্তব রূপ। নাড্ডা বলেন, ভারত আজ বিশ্বে ‘ফার্মেসি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে পরিচিত এবং বৈশ্বিকভাবে অন্যতম প্রধান ভ্যাকসিন উৎপাদক দেশ। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিংয়ে ভারত ‘ম্যাচুরিটি লেভেল ৩’ অর্জন করেছে, যা দেশের শক্তিশালী ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার প্রমাণ।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের ডিজিটাল অগ্রগতি
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একসময় টিটেনাস ভ্যাকসিন তৈরি হতে বহু দশক সময় লেগেছে। এমনকি জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন আবিষ্কারেও দীর্ঘ গবেষণা প্রয়োজন হয়েছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারতের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র নয় মাসে দেশ দুটি দেশীয় টিকা তৈরি করে এবং ২২০ কোটিরও বেশি ডোজ প্রয়োগ করে, যার মধ্যে বুস্টার ডোজও ছিল। টিকাকরণ শংসাপত্র ডিজিটালভাবে প্রদান করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের ডিজিটাল অগ্রগতির নিদর্শন। ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে নাড্ডা জানান, ভারত প্রায় ১০০টি দেশে কোভিড টিকা সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ৪৮টি দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিআরআই-এর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
