Tag: Abhishek Banerjee

Abhishek Banerjee

  • Sebashray Scam: সেবাশ্রয়-কাণ্ডে আরও বড় বিপাকে অভিষেক, নতুন মামলা দায়ের, বিধানসভায় ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Sebashray Scam: সেবাশ্রয়-কাণ্ডে আরও বড় বিপাকে অভিষেক, নতুন মামলা দায়ের, বিধানসভায় ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির (Sebashray Scam) অভিযোগে ফের তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে নাম না করেই অভিষেককে ‘‘চিটিংবাজ’’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, এই মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং যথাসময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কেলেঙ্কারি” (Sebashray Scam)

    বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু প্রথমেই সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে একাধিক অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কেলেঙ্কারি। বিষ্ণুপুরে একাধিক অভিযোগ হয়েছে।” এরপর নাম না করেই অভিষেককে ‘‘চিটিংবাজ’’ বলে আক্রমণ করেন। বিধানসভায় বক্তব্যের সময় শুভেন্দু বেশ কয়েকটি ছবিও দেখান। তাঁর দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে একাধিক মানুষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও পা কেটে ফেলতে হয়েছে, কাউকে খোয়াতে হয়েছে হাত। সেই সমস্ত ঘটনার ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এক্স-রে এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্র বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদেরও বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ তো খুনের মামলা। চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। সবক’টাকে তুলব। একবার কেউ জেলে ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না। কাউকে বাঁচানো যাবে না। আগে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সমস্ত যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’’

    সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয়

    মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, দিলীপ মণ্ডলের একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ২০২৫ সালের ওষুধের পাশাপাশি মিলেছে ২০২১ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া ওষুধও। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্যের সময় ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাসের লেখা একটি চিঠিরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই চিকিৎসক সেবাশ্রয় প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির অংশও তিনি বিধানসভায় পড়ে শোনান। এরপর রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের পরমাণু শক্তি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য দফতরের কাছে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার এবং নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয় এবং সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে (Sebashray Scam)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী এবং জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক তদন্ত চলছে। সেবাশ্রয় শিবিরে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের অভিযোগকে পৃথক মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নিশ্চিন্ত থাকুন, যাঁরা এত বড় অপরাধ করেছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। সময়ই সব কথা বলবে। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যথা সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Suvendu Adhikari)।”

    অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের মামলা

    এদিকে, অভিষেকের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, পৈলানের একটি রিসর্টে টানা চল্লিশ দিন ধরে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই রিসর্টের তরফে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিবির পরিচালনার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান টানা চল্লিশ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক এবং কর্মীর থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের সমস্ত ব্যবস্থা করতে হয়েছিল রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে। অথচ সেই সমস্ত খরচ তাঁদের (চিকিৎসক ও কর্মীদের) নিজেদেরই বহন করতে হয়েছে। এর ফলে পর্যটনের মরশুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। অভিযোগে অভিষেক ছাড়াও তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রিসর্টের মালিক সমীরণ রায়ের দাবি, শুধু থাকার খরচই নয়, স্থানীয় শিবির পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থও তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছিল। টাকা না দিলে রিসর্টে ভাঙচুর চালানো হবে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ (Sebashray Scam)।

    কী বলছেন অভিযোগকারী?

    অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ প্রকল্পের কারণে তাঁদের অন্তত বিশ থেকে পঁচিশ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তাঁরা ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাহস সঞ্চয় করে দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশের। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় অভিষেক-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। শুক্রবারই ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেন। সেই আবহেই নতুন অভিযোগ সামনে আসায় তৃণমূলের রক্তচাপ আরও বেড়েছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (Suvendu Adhikari)।

    সর্বাত্মক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়, জানাল আদালত

    এদিকে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অভিষেকের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে একের পর এক মামলা। তবে এই সব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলেই দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন। যদিও আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সামগ্রিকভাবে তাঁকে কোনও সর্বাত্মক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে প্রতিটি মামলায় আইন অনুযায়ী তদন্ত চলবে। রাজ্যের অন্যতম বহুল চর্চিত এই মামলায় আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগের পক্ষে কতটা প্রমাণ সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর (Sebashray Scam)।

     

  • Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০৩১ সালে হিসেব মেটানোর’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার পাল্টা আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Abhishek)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়াই করুন অভিষেক। ২০৩১ সালে তিনি কোথায় থাকবেন, তা বিজেপিই ঠিক করবে বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির প্রশ্নে বিধানসভা থেকে বুধবার বাম-তৃণমূল দুই প্রাক্তন শাসক দলকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তবে তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝ অনেক বেশি ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে।

    শুভেন্দুর আল্টিমেটাম

    স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর হুমকি, ‘‘ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।’’ তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালকে তো শহিদ দিবস হয়নি। কেউ বলছে, ভাইপো প্যারাশুটে নেমেছে। আর ভাইপো বলছে, নোট-খাতা খুলে রাখো, একত্রিশে হিসেব হবে। আরে তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে।” রাজ্যে পালাবদলের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে কেন আর তাঁর কেন্দ্রে দেখা যায় না, তা নিয়ে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “৪ মের পর ডায়মন্ড হারবার গিয়েছ? জোকা পেরিয়েছ? যাও না ডায়মন্ড হারবার। পান্নালাল হালদার নিয়ে যান চ্যাম্পিয়ন এমপি-কে।”

    ৩১-এ কোথায় থাকে দেখব

    বুধবার ক্যাথিড্রাল রোডের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। কর্মীদের সাহস ও উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “যাঁরা ভয় উপেক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে আজ নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হল। এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ৩১ সালে সব হিসেব বুঝে নেবে।” মন্তব্যের পাল্টা শুভেন্দু বলেন, “গতকাল বড় বড় আওয়াজ দেওয়া হয়েছে। ও ৩১-এ কোথায় থাকে আমি দেখব।”

    ‘‘ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে’’

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটে লড়ুন, তারপর কোথায় থাকবেন, তা দেখবেন। ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহ—সবাই বলেছিলেন, ডি-জে বাজাবেন। কিন্তু ৪ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষই ডি-জে বাজিয়ে দিয়েছেন।” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “এই সরকার ভদ্রতা বজায় রেখেছে বলেই এখনও কেউ ২ হাজার লোকের সামনে নায়কোচিত ভঙ্গিতে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। প্রতিষ্ঠিত চোর ভিতরে থাকবেন না বাইরে থাকবেন, তা ভবিষ্যৎই বলবে।”

    ‘‘শওকত, পুষ্পার থেকেও অবস্থা খারাপ হবে’’

    ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে লড়ুন। সেখানে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। তারপরও আপনি যে ব্যবধানে জিতেছেন, সেই ব্যবধানেই যদি আপনাকে হারাতে না পারি, তাহলে আমার কথাই ভুল প্রমাণিত হবে। আপনার অবস্থা শওকত বা পুষ্পার থেকেও খারাপ হবে।’’ বিধানসভায় একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আগের রাজ্য সরকারেরও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পুলিশকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন? এই ভাইপোপন্থী তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, সেটাই আমার দায়িত্ব। ফলতা তো সবে শুরু, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম এখনও বাকি।’’

    ‘‘পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না’’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘তিনি বলছেন, আবার ফিরে আসবেন। সবাই নাকি গদ্দার, সব চোর নাকি অন্য দলে চলে গিয়েছে। এত বড় নেত্রী হয়েও মিত্র ইন্সটিটিউশনের চারটি বুথেই আমার কাছে হেরেছেন। পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না, অথচ নিজেকে জননেত্রী বলেন। একসময় অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ পেয়েছিলেন।’’

    আমফান দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে তোপ

    তার আগেই বিধানসভায় সিএজি (ক্যাগ) রিপোর্ট পেশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে আমফান নিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। আমপানের পর কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে আসা বিপুল অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। এমনকি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনে জয়ের পর সভা করার সময়ও আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুর্নীতি নিয়ে আগেও অভিষেককে নিশানা করেছেন তিনি। সেই আমফান দুর্নীতি নিয়ে সিএজি রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর করার অনুমতি চাওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    পুলিশের দুর্নীতি রুখতে দাওয়াই শুভেন্দুর

    পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘ওটা (অভিষেক) বাঘ না, বেড়াল। যত চুরি করেছে সব গর্ত খুঁড়ে বার করব।’’ ‘আঞ্চলিক দলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলে অভিষেককে কটাক্ষ করে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতার দিকেও। তাঁর নাম না-করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘আপনি বেঁচে থাকতে থাকতে প্রমাণ করে দেব আপনি প্রতিষ্ঠিত চোর।’’পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পুলিশের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কিছুই করেনি। রাজ্য পুলিশে অনুমোদিত পদের এক তৃতীয়াংশই (৪৩ হাজার ৭৩) শূন্য রয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তবে আশ্বাস দেন পুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল নিযুক্ত হবে। আরও ২০ হাজার পুলিশকর্মী অবিলম্বে নিয়োগ করা হবে বলেও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পুলিশের দুর্নীতি রুখতে তাঁর দাওয়াই, ‘‘হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছে। কোথাও কাউকে রাস্তায় হাত পাততে দেখলেই জানান।’’

    ‘জিরো টলারেন্সের’ নির্দেশ

    ধানতলা, বানতলা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা বা সূচপুরের ঘটনা উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, যে ঘটনাগুলিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে মানুষকে বিচার পাইয়ে দিতে পারেননি তিনি। মহিলা এবং নারীদের উপর অপরাধের ক্ষেত্রে ফের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বলে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘‘এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দেশের অপেক্ষা করবেন না। যা করার দরকার তাই করবেন। মনে রাখবেন আপনাদের সবচেয়ে বড় ঢাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’’ বিগত সরকারের জমানায় ধর্ষণের ঘটনায় নিম্ন আদালত একের পর এক ফাঁসির সাজা দিলেও তা কার্যকর কেন হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মূলত তাদের গাফিলতিকেই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বারুইপুরের শিশুকন্যা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে কার্যত মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ঘটনা ঘটলে তা কী ভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা বারুইপুরের ঘটনায় প্রমাণ করে দিয়েছে আমাদের সরকার।’’

    দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা তৃণমূলকে

    এর পরেই দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। গত পনেরো বছরে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি করেছেন, সেই সব বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বামেদেরও বিঁধেছেন শুভেন্দু। সিপিএমকে চিটফান্ডের ‘ক্যাম্পেইনার’ বলে অভিযোগ করে, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে এ রাজ্যের সিপিএম নেতাদের একাংশের ফাইল খোলার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।

    ডায়মন্ড হারবারে লড়বেন!

    কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে ভিড় নিয়ে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিড়লা তারামণ্ডলে ওইটুকু জায়গায় কত লোক হয়েছে? পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। আড়াই হাজারের একটু বেশি হয়েছে।” মমতা অভিষেককে বাঘ বলে উল্লেখ করেছেন। এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওটা বাঘ না বিড়াল। ওকে আমি কাউন্টার করব না। ও অনেক বড়-বড় কথা বলে। তবে একটাই কথা বলব, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে। যত ভোটে জিতেছে, তত ভোটে হারাব। আপনার অবস্থা পুষ্পার চেয়েও খারাপ হবে।”

  • Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার অফিসে চলল বুলডোজার। ৫ তলা অফিস বেআইনিভাবে তৈরির অভিযোগ, ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার ওই সাংসদ কার্যালয় চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থলে রয়েছে দমকল ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও। পাঁচতলা এই কার্যালয়টি ভাঙতে আনা হয়েছে ৩টি বুলডোজার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই জোড়া শুনানির নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেই নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় শনিবার বুলডোজার নিয়ে যাওয়া হল বিল্ডিং ভাঙার জন্য।

    বুলডোজার অ্যাকশন

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই কার্যালয়টি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। জেলা প্রশাসনের দাবি, এই কার্যালয়টি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনও নথি ছাড়া এই কার্যালয়টি তৈরি হয়। কার্যালয়ের নির্মাণের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি অভিষেক। যে কারণে বিল্ডিংটি ভেঙে ফেলা হল। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নামানো হয়েছে পুলিশ ব়্যাফ। বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর শুরু হয় বুলডোজারের অ্যাকশন। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের ৫ তলা কার্যালয়। শনিবার সকালে প্রথমে কার্যালয়ের সামনে থাকা নীল রঙের শেডটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবনের সামনে শেড ভাঙার পরে ভেঙে ফেলা হয় দোতলার সামনের দেওয়াল। সেখানে ততক্ষণে জড়ো হন এলাকাবাসীদের অনেকেই। কেউ কেউ ভবনের ভিতরেও ঢুকে পড়েন। তাঁদের ভবনের ভিতর থেকে বার করে দেয় পুলিশ।

    বিপত্তারিণীর দিনে বিপদ দূর!

    এই কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর আগে ১৫ জুলাই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে শুনানির জন্য জোড়া নোটিস পাঠায় প্রশাসন। বহু বিজেপি কর্মীকে দেখা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)আমতলার অফিসের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। সেখান থেকে এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক বলেন, ‘‘এখান থেকে বিগত দিনে আমাদের এত অত্যাচার করা হয়েছে, আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হত না। মারধর করা হত। এই সেই জায়গা, যেখান থেকে আমাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আজ বিপত্তারিণীর দিনে বিপদের খনিটাকেই উপড়ে দেওয়া হবে।’’

    বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস

    অপর এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘‘এখান থেকে তৈরি হয়েছে শাহজাহান, জাহাঙ্গির। অবৈধ সন্তান তৈরি হয়েছে এখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজত্ব করার জন্য। বাবর থেকে ঔরঙ্গজেবের জন্ম এই অফিস থেকে। যার জন্য় এই সমাজের অবস্থা। আজ আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রসাতলে চলে গিয়েছে। সবার আগে দরকার এখান থেকে এটা তুলে ফেলা। এটা অবৈধ। এখান থেকে বসে বসে আমাদের ওপর কী পরিমাণ অত্যাচার করা হয়েছে, আমরা জানি।’’ বিজেপি কর্মীরা অভিষেকের আমতলার সাংসদ কার্যালয়ের সামনে ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। ওই সময় বিজেপি কর্মীদের জমায়েত সরিয়ে ফেলতেও দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তারই মাঝে এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘‘এই সেই ঘাঁটি যেখান থেকে অভিষেক পাপী তৈরি করেছিল।’’ প্রসঙ্গত, আমতলায় নিজের কার্যালয় নিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়লেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় সই জাল করার মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আরও এক মাসের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন।

    কেন কড়া পদক্ষেপ

    ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূলের তরফে কোনও সভা হলে তা এই কার্যালয়ে আয়োজন করা হত। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন গত ৩০ জুন প্রথম নোটিস পাঠিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আমতলার কার্যালয়ে। সেই নোটিসে কার্যালয় নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও অনুমোদন নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। পরে ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের দফতরে হাজির হয়ে বিষয়টি নিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, পরপর দুটি নোটিস পাঠানো হলেও তার কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের দফতরেও হাজির হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই প্রশাসন আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা শাসক, এসডিও, বিডিওও সকলে মিলে এই বিল্ডিংটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যে জমির ওপর এই কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে, সেটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে কেনা হয়েছিল। সেই জমির নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে দাবি। এই সমস্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েই নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। পরপর দু’বার নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

    মাঠপুকুর-এর পর আমতলা!

    গত ২৪ মে ইএম বাইপাসের ধারের মাঠপুকুর এলাকায় দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডের উপরে থাকা তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ট্যাংরা থানার পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে একটি বাড়ির সামনের অংশ দখল করে প্রথমে ‘মাঠপুকুর ব্যায়াম সমিতি’ নামে ক্লাব তৈরি হয়। পরে সেটিই তৃণমূলের কার্যালয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মদ-জুয়ার আসর ও নানা অসামাজিক কাজ চলত বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসীরা। এবার স্থানীয় লোকেদের অভিযোগে ভেঙা ফেলা হল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার কার্যালয়।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেককে হাই কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে উঠতে পারে রক্ষাকবচ

    Abhishek Banerjee: অভিষেককে হাই কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে উঠতে পারে রক্ষাকবচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বারবার কণ্ঠস্বরের নমুনা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁর জন্য দেওয়া আদালতের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সিআইডি চাইলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির ক্ষেত্রেও আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে সম্মত হন অভিষেক।

    তদন্তে সহযোগিতা না করলে রক্ষাকবচ থাকবে না

    শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কখন কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। তদন্তে সহযোগিতা না করলে আমি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করব। পুলিশের নোটিসে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করুন। না হলে মামলা খারিজ করে জরিমানা করব।” পরে অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির আরও মন্তব্য, “রক্ষাকবচের নির্দেশ প্রত্যাহার করব? হ্যাঁ কি না, উত্তর দিন। না হলে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন।”

    কেন কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইছে সিআইডি?

    নির্বাচনী প্রচারের সময় ডিজে-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। আগেই আদালত জানিয়েছিল, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। সেই সঙ্গে নির্দেশ ছিল, তদন্ত চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে অভিষেকের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য তাঁরই— তা তিনি অস্বীকার করছেন না। তাই আলাদা করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই।

    দ্বিতীয়বারও হাজিরা এড়িয়ে যান

    গত বুধবার বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল অভিষেকের। কিন্তু তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সেই হাজিরা এড়িয়ে যান। সিআইডি আধিকারিকেরা প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও তিনি উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আগামী ১৮ জুলাই ফের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার হাইকোর্টে মামলার শুনানি হয় এবং আদালত তদন্তে দেরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।

    আইনজীবীর সওয়াল কী?

    শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, “আমার মক্কেল স্বীকার করছেন সেটি তাঁর কণ্ঠস্বর। গত ২৩ জুন কণ্ঠস্বর নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমার মক্কেল মন্তব্যের দায়বদ্ধতা স্বীকার করছেন। আমি একবারও দাবি করিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশে রক্ষাকবচ রয়েছে। এই নির্দেশ নিয়ে আমার দু’টি বক্তব্য রয়েছে। এক, নির্দেশ দেওয়ার সময় আমার মক্কেলের বক্তব্য শোনা হয়নি। দুই, ওই নির্দেশ জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।” পরবর্তীতে তিনি আদালতের কাছে স্বীকার করেন যে, আদালতের আগের নির্দেশ ব্যাখ্যা করতে তাঁর ভুল হয়েছিল। একই সঙ্গে মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতিও চান।

    বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

    বিচারপতি জানান, সংবিধানের ২২৬ ধারার অধীনে অভিষেককে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা। তাই তদন্তকারী সংস্থা কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইলে সেটিও সেই নির্দেশের আওতার মধ্যেই পড়ে। একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের করার বিষয়েও আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতির মন্তব্য, “একই বিষয়ে এই আদালত একটি নির্দেশ জারি করেছে। রক্ষাকবচ পেয়েছেন। অন্য দিকে, একই বিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন মামলা করলেন। এটা কী ধরনের আচরণ? বিচার পদ্ধতির অপব্যবহার করছেন। আমার নির্দেশে স্পষ্ট বলা ছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ফলে তদন্তকারী সংস্থা যদি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চায়, সেটাও নির্দেশের মধ্যেই পড়ে।”

    অভিষেককে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    রীতিমতো ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, “আপনি ভয়েস দিন। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেওয়ার পরেও যাননি কেন? কোনও মামলাই শুনব না। সম্পূর্ণ প্রটেকশন দেওয়া হয়েছিল। আপনি মামলা তুলে নিন।” বিচারপতি উল্লেখ করেন, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নমুনা দিতে যেতে হবে না, এ কথা বলা হয়নি। আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যেতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুনানির শেষে অভিষেকের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, এই মামলার জন্য নেওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনা যেন অন্য কোনও মামলায় ব্যবহার করা না হয়। তবে এই বিষয়ে আদালত কোনও নির্দেশ বা মন্তব্য করেনি।

    ডিম ছোড়ার আশঙ্কা, রাজ্যকে নির্দেশ

    এর পর ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন তোলেন অভিষেকের আইনজীবী। তাঁর দাবি, ওই সময়ে কেউ যেন অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম না ছোড়ে, তার নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। এ বিষয়ে বিচারপতি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ডিম ছোড়ার ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত। জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে।” আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৫ জুলাই এমন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্যের।

  • TMC Party Fund: তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দিয়েই বিমান ও হেলিকপ্টার কিনেছিল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন! দাবি ইডির

    TMC Party Fund: তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দিয়েই বিমান ও হেলিকপ্টার কিনেছিল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন! দাবি ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের ব্যাঙ্ক লেনদেন তদন্তে নেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাওয়ার দাবি করেছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের খোঁজ মিলেছে। ইডির দাবি, এই বিপুল অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চার্টার্ড বিমান পরিষেবা প্রদানকারী কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে গিয়েছে।

    কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনকে ঘিরে কী দাবি ইডির?

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার পরিষেবা দিত। ইডির অভিযোগ, দলীয় তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করেই সংস্থাটি একটি বিমান এবং একটি অগুস্টা হেলিকপ্টার কিনেছিল। পরে সেই উড়ানযানগুলিই আবার তৃণমূলের নেতাদের কাছে ভাড়ায় ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং পরিষেবার বিনিময়ে অর্থপ্রদানের পদ্ধতি নিয়েই এখন বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।

    কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি

    মঙ্গলবার কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন, সল্টলেক-সহ একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডির বিভিন্ন দল। তদন্তের অংশ হিসেবে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের মালিকের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি, সংস্থার আর্থিক নথি এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়। সল্টলেকের একটি সংস্থার অফিস এবং তাদের পরিচালকদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, ওই সংস্থারও চার্টার্ড বিমান পরিষেবার সঙ্গে যোগ রয়েছে। এছাড়া সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের কর্ণধার-সহ সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও জেরা করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

    চার্টার্ড বিমানের খরচের উৎস খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা

    ইডির তদন্তে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের খরচ কীভাবে মেটানো হতো এবং সেই অর্থের উৎস কী ছিল। বিমান ভাড়ার বাবদ কত টাকা দেওয়া হয়েছে, কতদিন পরিষেবা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্টে কোন কোন উৎস থেকে অর্থ জমা পড়েছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গিয়েছে।

    শিক্ষা ও রেশন মামলার অর্থের যোগ খতিয়ে দেখছে ইডি

    ইডি সূত্রে দাবি, শিক্ষা দুর্নীতি এবং রেশন দুর্নীতির মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও অর্থ দলীয় তহবিলে এসেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক ট্রানজ্যাকশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির হিসাব পরীক্ষা করছেন।

    পুরনো অভিযোগও তদন্তের আওতায়

    তদন্তে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বের অভিযোগকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তিনি দাবি করেছিলেন, চার্টার্ড বিমানের খরচের জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস ছিল কাটমানি ও তোলাবাজির টাকা। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও নেই

    এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অন্যদিকে, ইডির বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সমস্ত আর্থিক লেনদেন এবং উদ্ধার হওয়া নথি বিশদে পরীক্ষা করার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই মধ্যে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, তৎকালীন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগে বিজেপি নেতার দাবি, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের নামে ওষুধ কেনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধের উৎস, ব্যবহার এবং কেন সেগুলি মাটির নীচে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

    মাটি খুঁড়ে ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা-হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন। পরে পারুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেও, অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও পৃথক মামলা রুজু করা হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, ওই উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির সঙ্গে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।

    কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?

    নতুন অভিযোগে প্রথমেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, জাহাঙ্গির খান, শামিম আহমেদ মোল্লা, গৌতম অধিকারী, মেহবুব গায়েন-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। এছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কী কী অভিযোগ তুলেছে বিজেপি?

    অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, সরকারি ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য শিবিরের নামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ খোলা বাজার থেকে কেনা হয়েছিল কি না, সেই প্রক্রিয়ায় কোনও আর্থিক অনিয়ম বা তছরুপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ওষুধ কী কারণে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র ওষুধ সংরক্ষণের গাফিলতি নয়, বরং এর সঙ্গে ওষুধ পাচার বা অন্য কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন

    বিজেপি নেতার দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে কিছু ওষুধের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, আবার কিছু ওষুধের মেয়াদ তখনও বাকি ছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হয়েছিল কি না। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া কিছু ওষুধের বাজারদর এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP)-এর মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান ছিল। তাঁর অভিযোগ, যে ওষুধের প্রকৃত বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম, তার এমআরপি অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। এ ধরনের ওষুধ স্থানীয় সংস্থার তৈরি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন।

    বিজেপি নেতার দাবি

    অভিজিৎ দাস ববির বক্তব্য, কারা এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নীচে চাপা দিয়েছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে কোটি কোটি টাকার ওষুধ গোপনে মাটির নীচে চাপা দিতে হল? তাঁর মতে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং তাদের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

    এখনও দলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি

    এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পুলিশের তরফেও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে সম্পর্কেও এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত এগোলে এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। এ নিয়ে বুধবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সন্ধ্যায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অধীন বিষ্ণুপুরের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের হাসপাতালের একটি ইউনিটের উদ্বোধন করতে যান তিনি। সেখানেই তাঁকে সেবাশ্রয় সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তদন্তের কথা জানিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ যখন এসেছে, তখন পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।’’

    সেবাশ্রয় কী

    পুরো ডায়মন্ড হারবার জুড়ে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। ‘সেবাশ্রয়ে’ চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ভিড় করতেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ। মাঝেমধ্য়েই ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলতেন। সে সব ছবি পোস্ট করা হত তৃণমূল ও অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। সেই সেবাশ্রয় নিয়েই এবার উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। বিষ্ণুপুর থানা সূত্রে খবর, ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অননুমোদিত চিকিৎসার পাশাপাশি ভুয়ো নথি ব্যবহার, বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করা হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এছাড়াও দাবি, চিকিৎসক পড়ুয়াদের এনে চিকিৎসা করানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিজিৎ দাস। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে প্রচারপত্র, নথি, ছবি, ভিডিয়ো দেওয়া হয়েছে। ববির আরও অভিযোগ, ওই ক্যাম্পগুলিতে আল্ট্রাসাউন্ড, পোর্টেবল এক্স-রের মতো নিয়ন্ত্রিত ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে বিধি ভাঙা হয়েছে। বিজেপি নেতার দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে জোর করে বিভিন্ন মেশিনপত্র সেবাশ্রয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হত।

    কী কী অভিযোগ?

    বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাবি করেছেন, ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্যশিবিরে আলট্রাসনোগ্রাফি, পোর্টেবল এক্সরে-সহ একাধিক আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই স্বাস্থ্যশিবিরের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। বিজেপি নেতার দাবি, অযোগ্যদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হত ‘সেবাশ্রয়ে’। অভিযোগ, ওই শিবিরে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন দেওয়া হত। এ ছাড়াও, স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ওই স্বাস্থ্যশিবিরে বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি ছিল। এ ছাড়াও, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কথাও রয়েছে অভিজিতের অভিযোগপত্রে। তাঁর আরও দাবি, সরকারি প্রচারপত্র, কনসালটেশন শিট, রেফারেল স্লিপ, ছবি, ভিডিয়ো যাচাই করে এবং সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরই অভিযোগ করা হয়েছে।

    তদন্তে অনেক কিছু বেরোবে

    সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, তদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ এমবিবিএস চিকিৎসক ছিল, ৯০ শতাংশই হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা করানো হত। বুধবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় ও সুমিতের ঘনিষ্ঠ অয়ন ঘোষদস্তিদার-সহ সমস্ত সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্তির দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ববি। তাঁর অভিযোগ, “ডায়মন্ডহারবারবাসীর স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কত মানুষের ক্ষতি করে দিয়েছেন তদন্ত করলেই তা বোঝা যাবে। ‘সেবাশ্রয়’ থেকে স্থানান্তরিত হওয়া একজন সুস্থ মহিলার অপারেশনের নামে পা কেটে বাদ দেওয়াও হয়। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রে অভিষেকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপি নেতা অভিজিতের অভিযোগ, “হোমিওপ্যাথির ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের সাদা অ্যাপ্রন পরিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক সাজিয়ে আনা হয়েছিল শিবিরগুলিতে। রোগীদের যে সমস্ত প্রেসক্রিপশন করা হয়েছিল সেগুলি দেখলেই বোঝা যাবে এমন প্রেসক্রিপশন কোনও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের হতে পারে না।”

    তদন্তের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ এসেছে। আমি দেখেছি, এখানে এসপি আছেন, তিনি তদন্ত করবেন। জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের যা সাহায্য লাগবে, তা করা হবে। ইটস আ ক্রাইম। আর ক্রাইম হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতে যা করার করা হবে।’’ জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালের অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের পাশে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যাবেলা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেবাশ্রয়-এ অনিয়ম নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেন মুখ্যুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা অভিযোগকারীদের

    বিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের জোরাল দাবিও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে সেবাশ্রয় শিবির বিতর্ক ইসুতে ‘এটা ক্রাইম’ বলে পুলিশি তদন্তের কথা বলাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খোদ পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ‍্যমন্ত্রীর মুখে এদিন পুলিশি তদন্তের বিষয়টি উঠতেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের সেবাশ্রয় নিয়ে পুলিশের তদন্তে আরও গতি পাবে বলেও মত অনেকেরই। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্সের নীতিতে সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগকারীরাও বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের ভরসা আছে।’’ বলছেন অভিযোগকারীরা।

     

     

     

     

  • Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। শেষ পর্যন্ত সেই লুকিয়ে থাকাও কাজে এল না। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

    কীভাবে ধরা হল অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেরবাজকে?

    পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে তদন্তকারীরা। এরপর বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেবরাজ চক্রবর্তীকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি সম্পত্তি লেনদেন এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ।

    আগাম জামিন খারিজ হতেই গা-ঢাকা

    এর আগে হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেও দ্বিতীয় দফার শুনানিতে আদালত দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি আগাম জামিন পেলেও দেবরাজের ক্ষেত্রে আদালত সেই সুবিধা দেয়নি। এরপর থেকেই তাঁর গ্রেফতার প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছিল। এর পরেই, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী।

    দেবরাজ গ্রেফতার হতেই উচ্ছ্বাস বাগুইআটিতে

    দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগুইআটি এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়-পরিজন ও বেনামি ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যাতে প্রকৃত সম্পদের হিসাব গোপন রাখা যায়।

    ভয় দেখানো, তোলাবাজি, জমি দখলের অভিযোগ

    হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকেও একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, রাজারহাট-নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটারদের ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। আদালতে আরও দাবি করা হয়, ভোটের আগে কালিম্পংয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

    জমি কেনাবেচায় ভয়ঙ্কর কারচুপি!

    তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুপরিকল্পিত আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মিলছে। অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্য দেখিয়ে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তর করা হত। পরে নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সেই জমিতে আবাসন প্রকল্প তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। আদালতে এমনও দাবি করা হয়, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের একটি জমি নথিতে মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় দেবরাজের নামে হস্তান্তর দেখানো হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীদের অনুমান।

    রাজনীতিতে আচমকা উত্থান….

    দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন। পরে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সি ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অর্থপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। আদালতের রক্ষাকবচ সরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া থেকে তাঁর গ্রেফতার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে সতর্ক ‘আসল’ তৃণমূল! নিউটাউনের বৈঠকে কোর্ট পেপারে স্বাক্ষর করতে হল উপস্থিত নেতাদের

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে সতর্ক ‘আসল’ তৃণমূল! নিউটাউনের বৈঠকে কোর্ট পেপারে স্বাক্ষর করতে হল উপস্থিত নেতাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাব ঘিরে সই জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে সিআইডি (CID)। তদন্তকারীদের আতশ কাচের তলায় একাধিক রাজনৈতিক নেতা। এমন (Ritabrata Banerjee) পরিস্থিতিতেই সই জালিয়াতি বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল (TMC)। অন্তত, রাজনৈতিক মহলের দাবি তো তেমনই।

    কোর্ট পেপারে সই (Ritabrata Banerjee)

    সূত্রের খবর, সোমবার নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত গোপন বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেককে একটি কোর্ট পেপারে সই করিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বলা ছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন। শুধু তাই নয়, গোটা বৈঠকের ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সই সংক্রান্ত কোনও ধরনের বিতর্ক এড়াতেই এই নজিরবিহীন ব্যবস্থা। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের ওই বৈঠকে কলকাতা পুরসভার ৬০ থেকে ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর। হাজির ছিলেন প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক জাভেদ খান, জুঁই বিশ্বাস, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতানেত্রী। ঋতব্রতর পাশাপাশি কিছু বিধায়কও অংশ নেন সোম-সন্ধ্যার ওই বৈঠকে।

    নেপথ্য কথন

    প্রসঙ্গত, সই জালিয়াতি বিতর্কের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিধানসভায় পাঠানোকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, যে রেজ্যুলিউশন বুকে ৭০ জন বিধায়কের সই দেখানো হয়েছিল, সেখানে কয়েকজন বিধায়ক বাস্তবে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের স্বাক্ষর ছিল। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রতর দাবি, ওই রেজ্যুলিউশন বুকে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। তাঁরা স্পিকারের কাছেও এ ব্যাপারে অভিযোগ জানান। এরপরেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে, এবং (Ritabrata Banerjee) যার অনিবার্য পরিণতিতে কার্যত দুটুকরো হয়ে যায় তৃণমূল- একটি ঋতব্রত শিবির এবং অন্যটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।

    নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের নয়া কর্মসমিতির তালিকা

    এদিকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও সাংগঠনিক কর্তৃত্বের বার্তা দিতে সোমবারই নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের পরিমার্জিত কর্মসমিতির তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন মমতা। কালীঘাট সূত্রে খবর, নতুন তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর গত ৫ জুন কালীঘাটে দলের নয়া কর্মসমিতি গঠন করেছিলেন মমতা। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলত্যাগী নেতাদের অবস্থান বদলের পর সেই তালিকা সংশোধন করা হয়েছে বলেই অনুমান। নতুন কর্মসমিতি থেকে বাদ পড়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া একাধিক নেতা। যুব সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি সায়নী ঘোষ এবং মহিলা সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি মালা রায় বর্তমানে (TMC) ঋতব্রত শিবির-ঘনিষ্ঠ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত। একই কারণে নয়া তালিকায় ঠাঁই হয়নি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও অন্যান্য বিদ্রোহী নেতাদেরও।

    পৃথক কর্মসমিতি ‘বিদ্রোহী’ শিবিরেরও 

    অন্যদিকে, ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরও নিজেদের পৃথক কর্মসমিতি ঘোষণা করেছে (Ritabrata Banerjee)। সেখানে চেয়ারম্যান করা হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ঋতব্রত, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সহ-সভাপতি করা হয়েছে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকে। কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে সই জালিয়াতি বিতর্কের তদন্ত, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব— এই দুইয়ের জেরে রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তুঙ্গে। তৃণমূলের যুযুধান মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের উপুর্যপরি কর্মসমিতি গঠন (TMC) অদূর ভবিষ্যতে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করতে পারে (Ritabrata Banerjee) বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

     

LinkedIn
Share