Tag: act east policy

act east policy

  • Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাসে সূচনা হতে চলেছে এক নয়া অধ্যায়ের। এই প্রথমবার রাজধানী নয়াদিল্লির বাইরে অসমের (Assam) গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত-জাপান বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন (Japan Summit)। জুলাই মাসেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অসম সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অংশ নেবেন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Assam)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ আরও গতি পাবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে আন্তর্জাতিক স্তরে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। ফলে গুয়াহাটিতে এই শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে জাপান, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অসম-সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেই অনুমান। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে অসমকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষ যুবশক্তি এবং দ্রুত উন্নয়নশীল পরিকাঠামো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর

    জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পেলে পরিবহণ ব্যয় ও সময় কমবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের পক্ষে একটা বড় সমস্যার সমাধানে করবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচির এটি হবে প্রথম ভারত সফর। তাঁর সঙ্গে ভারতে আসবেন ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ শিল্পপতি ও কর্পোরেট প্রতিনিধি। প্রতিনিধি দলে থাকবেন সুজুকি মোটরের প্রেসিডেন্ট তোশিহিরো সুজুকি, ইতোচু কর্পোরেশন এবং টয়োটা সুশোর শীর্ষ আধিকারিকরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সানায়ে তাকাইচির বৈঠকে শুধু পরিকাঠামো নয়, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, সাপ্লাই চেন (Japan Summit) রেজিলিয়েন্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে (Assam)। এই বৈঠকের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে উৎপাদন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নয়া  বিনিয়োগের দ্বার খুলে দিতে পারে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।

    আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

    ইতিমধ্যেই জাপান অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিক পরিকাঠামো, এবং যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। ২০২৩ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরে ঘোষিত ‘বে অফ বেঙ্গল–নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেন কনসেপ্ট’ উত্তর-পূর্ব ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদন ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল। এদিকে, টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ইউনিট, রিলায়েন্সের ডেটা সেন্টার এবং আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় শিল্প লগ্নি শুরু হয়েছে অসমে। ফলে জাপানি সংস্থাগুলির আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে (Assam)। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব উত্তর-পূর্ব ভারতে নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও কৌশলগত মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করবে, এবং (Japan Summit) জাপান আত্মপ্রকাশ করবে এই অঞ্চলের (Assam) অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে।

     

  • Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল সরকারকে টান মেরে কুর্সি থেকে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।  সপ্তাহখানেকের কিছু বেশি সময় ধরে বাংলায় রাজও করতে শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম-দল। ঝমাঝম (Bengal Re-industrialisation Roadmap) শব্দ করে এগিয়ে চলেছে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পালাবদলের সরকার যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে নানা ক্ষেত্রে, ঠিক তখনই নয়াদিল্লি নীরবে (Jobs Investment) এমন এক দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে, যা পূর্ব- ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলির একটি হতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ

    আধিকারিকদের মতে, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রক এবং নীতি আয়োগকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। স্বাধীনতার আগে যে রাজ্যটি উপমহাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, সাতের দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায় তার শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক অশোক লাহিড়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি। অথচ ২০২১ সালে বালুরঘাট থেকে তিনি জয়ী হয়েছিলেন বিরাট ব্যবধানে। এই অশোকই নিতে চলেছেন নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আধিকারিকরা জানান, উৎপাদন শিল্পের পুনরুজ্জীবন, লজিস্টিক ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো, নদীপথ বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘পুনঃশিল্পায়ন রোডম্যাপে’র প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    শিল্পপতি তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, “একটা ভুল ধারণা আছে যে বাংলার মানুষ শুধুই চাকরির পেছনে ছোটে। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, এটাই স্যার আরএন মুখার্জির মার্টিন অ্যান্ড বার্ন, স্যার পিসি রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যালস এবং ঘনশ্যাম দাস বিড়লার মতো উদ্যোক্তাদের ভূমি। আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। কলকাতা আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির স্বাভাবিক কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।” স্বাধীনতার সময় (Bengal Re-industrialisation Roadmap) জিডিপির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের দ্বিতীয় ধনী রাজ্য। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে, যার অর্থনীতি ২২১ বিলিয়ন মার্কিন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। একসময় কলকাতা ছিল ভারতের বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের সদর দফতর—পাটকল, ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা, চা নিলাম কেন্দ্র, ব্যস্ত নদীবন্দর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ব-ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করত।

    ধসে পড়ে শিল্পের ভিত্তি

    কিন্তু পরবর্তী কালে অতিবামপন্থী নকশালপন্থী আন্দোলন, কড়া শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলা থেকে পুঁজি সরে যেতে শুরু করে অন্যত্র। যার জেরে ধসে পড়ে ক্রমক্ষীয়মান শিল্পের ভিত্তি। অবনতি দেখা দেয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। বাজোরিয়া বলেন, “অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে যখন পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করছিল, তখন বাংলা বড় মাপের উৎপাদন শিল্পে লগ্নি টানতে ব্যর্থ হয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের মতো ঘটনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সব সরকারই শিল্প সম্প্রসারণের বদলে কল্যাণমূলক রাজনীতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে (Jobs Investment), অবশ্য দু’টি ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ছিল (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাত—সল্টলেক ও নিউটাউনের আইটি হাবে বহু নতুন সংস্থা আসে। পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কম ভাড়া এবং উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণে কলকাতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভারতীয় বিদেশ বাণিজ্য সংস্থার (IIFT) প্রাক্তন ডাব্লুটিও (WTO) চেয়ার অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধর বলেন, “এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৮-১০ শতাংশ। এর উন্নয়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং বাংলার বাইরে কাজের জন্য মানুষের যাতায়াত কমবে। উদ্যানপালন, নতুন ধরনের চা, ব্যান্ডেলের প্রসেসড চিজের মতো পণ্য রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, প্রস্তাবিত নকশা কয়েকটি প্রধান খাতে জোর দেবে। প্রথমত, লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি বলে অনুমান। কলকাতা এবং হলদিয়াকে কেন্দ্র করে বন্দর-সংযুক্ত পরিকাঠামো, মালবাহী করিডর এবং বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।দ্বিতীয়ত, উৎপাদন শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলা। ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক শিল্প, ফাউন্ড্রি, বস্ত্রশিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল এবং কর-ভিত্তিক উৎসাহ দানের কথা ভাবা হচ্ছে (Jobs Investment)। কিছু নীতিনির্ধারক পূর্ব-ভারতের খনিজ সম্পদ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স করিডরের পক্ষেও সওয়াল করছেন (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। তৃতীয়ত, শক্তি ও ভারী শিল্প। কয়লা ও লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়া, বন্দরের সুবিধা এবং বঙ্গোপসাগরীয় জ্বালানি রুটের কাছে অবস্থান—এসবকে শক্তিনির্ভর শিল্প ও ডাউনস্ট্রিম শিল্পের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বোপরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হবে, বিশেষ করে সেই তরুণ বাঙালিদের জন্য যারা কাজের খোঁজে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে চলে যাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

    অর্থনীতিবিদরা অবশ্য সতর্ক করে দিচ্ছেন এই বলে যে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংবেদনশীলতা, পুরনো শিল্প পরিকাঠামো, দুর্বল পুর-অর্থনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বাড়লেও, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নীতিগত স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। অধ্যাপক ধর বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে পুনঃশিল্পায়ন মানে শুধু কারখানা খুলে দেওয়া নয়। এজন্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত অভিযোজন, আর্থিক গভীরতা এবং নিয়ন্ত্রক বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রাজ্যগুলির সঙ্গে (Jobs Investment) প্রতিযোগিতা করতে হবে।”

     

  • PM Modi: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন মোদি

    PM Modi: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পর এবার মালয়েশিয়ার (Malaysia) প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দু’দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সেখানেই দেখা গেল দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে একটি কমিউনিটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান। যাত্রাপথের একটি ছবি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এই মুহূর্তটি ভারত ও মালয়েশিয়ার জনগণের মধ্যে দৃঢ় পারস্পরিক সম্পর্কের উদযাপন।”

    প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা (PM Modi)

    এর আগে, বিমানবন্দরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিশেষ সৌজন্য প্রদর্শন করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁকে স্বাগত জানান। এই আন্তরিক অভ্যর্থনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি এতে গভীরভাবে আপ্লুত এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।” ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো’ সেরি আর রামানন এবং উপ-বিদেশমন্ত্রী দাতো’ লুকানিসমান বিন আওয়াং সাউনি। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) বিবৃতি অনুযায়ী, আগমনের পর ভারত ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় (Malaysia)।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’

    এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বিদেশমন্ত্রক জানায়, ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’, ‘ভিশন মাহাসাগর’ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘সেলামাত দাতাং মোদিজি’ শীর্ষক একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে প্রবাসী ভারতীয়রা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোকনৃত্যের নানা ধারার সমন্বয়ে একটি বৃহৎ দলগত নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তোলারও প্রচেষ্টা থাকবে (PM Modi)।

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ৭–৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই সফরের মূল লক্ষ্য ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারত–মালয়েশিয়া ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে ভারতীয় সম্প্রদায় ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করবেন (Malaysia)। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয়বার মালয়েশিয়া সফর, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততারই ইঙ্গিত বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

     

  • PM Modi: “একবিংশ শতাব্দীর ভবিষ্যৎ ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির হাতেই”, বিশ্বকে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “একবিংশ শতাব্দীর ভবিষ্যৎ ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির হাতেই”, বিশ্বকে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরালো করার পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি ভার্চুয়ালি আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের ( ASEAN Summit) ভাষণে ঘোষণা করেন যে একবিংশ শতাব্দীতে ভারত ও আসিয়ান দেশগুলোর যৌথ নেতৃত্বেই গঠিত হবে নতুন ভবিষ্যৎ। মোদি তাঁর বক্তব্যে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আসিয়ান ভারতের (India-ASEAN Relations) অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি–র অন্যতম মূল স্তম্ভ।

    উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে

    মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির গোষ্ঠী আসিয়ান-এর বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত না-থাকলেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)। নিজের বক্তব্যে ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “একবিংশ শতাব্দী আমাদের শতাব্দী। এটা ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি নিশ্চিত যে, আসিয়ান কমিউনিটি ভিশন ২০৪৫ এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭ গোটা মানবতার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।” বক্তৃতায় আসিয়ান গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন বিষয়ে বোঝাপড়ার দিকটি তুলে ধরেন মোদি। একই সঙ্গে এ বছর সফল ভাবে আসিয়ান গোষ্ঠীর সম্মেলন আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার ইব্রাহিমকে। ২০২৬ সালের সম্মেলন আয়োজন করবে ফিলিপিন্স। প্রসঙ্গত, এই বছরের আসিয়ান সম্মেলনকে ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্ব তিমুর-লেস্তে আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ানের ১১তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত ২৬ বছরের মধ্যে এমনটা প্রথম হল। প্রায় ১৪ লক্ষ জনসংখ্যার এই ছোট দেশটি এখন আসিয়ানের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হয়ে উঠবে।

    আসিয়ানে ভারতের গুরুত্ব

    আসিয়ান সম্মেলনে ভারতের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক কারবারিরা। ভারত যে আসিয়ান (India-ASEAN Relations) দেশগুলোর নেতৃত্ব দিতে চায়, তা পরিষ্কার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে আসিয়ান গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিল ভারত। ভারত ওই বছর আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত হয় এবং ১৯৯৫ সালে পূর্ণাঙ্গ ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হয়। তার পরে এই গোষ্ঠীতে ভারতের প্রভাব ক্রমশ বেড়েছে। ২০১৮ সালে দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত ১০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ করেছিল ভারত। আসিয়ান সম্মেলনে রবিবার সকালেই মালয়েশিয়ায় পৌঁছন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে শোনা গিয়েছিল আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকেই মোদি এবং ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। পরে অবশ্য জানা যায়, মোদি মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন না। এদিন ভার্চুয়ালি মোদি বলেন, “ভারত সর্বদা আসিয়ানের নেতৃত্ব এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এর নীতিকে সমর্থন করে। ভারত এবং আসিয়ান একসঙ্গে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশর প্রতিনিধিত্ব করে। কেবল ভৌগোলিক নয়, গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কও রয়েছে এই দেশগুলোর। বলা যায়, আমরা গ্লোবাল সাউথের সহযাত্রী। একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করি। একইসঙ্গে নানাক্ষেত্রের নীতি নির্ধারণে নিজেদের বক্তব্য পেশ করি।”

    মূল বিষয় হল অন্তর্ভুক্তি এবং স্থায়িত্ব

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) কথায়, “বর্তমান আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের মূল বিষয় হল অন্তর্ভুক্তি এবং স্থায়িত্ব। ভারত সর্বদা আসিয়ান-কেন্দ্রিকতা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে আসছে। অনিশ্চয়তার এই যুগেও, ভারত-আসিয়ান অংশীদারিত্ব অগ্রগতি করেছে। একবিংশ শতাব্দী ভারত এবং আসিয়ানের শতাব্দী, এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। ভারত আসিয়ানের দেশগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে। সব রকমের সঙ্কটে একসঙ্গে কাজ করবে।” উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রায় সব আসিয়ান–ভারত সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, শুধু ২০২২ সালের সম্মেলন ব্যতিক্রম। বর্তমানে ১০টি দেশ আসিয়ানের সদস্য। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, তাইল্যান্ড, ব্রুনেই, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস এবং ভিয়েতনাম। এ বারের সম্মেলনে পূর্ব তিমুরও আসিয়ানের সদস্য হয়েছে। মোদি তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘ভারত ও আসিয়ানের অংশীদারিত্ব আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মূল্যবোধে আমরা অভিন্ন।’

    ভারত–আসিয়ান সামুদ্রিক সহযোগিতার বছর

    মোদি (PM Modi) আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নীল অর্থনীতিতে ভারত ও আসিয়ানের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালকে ‘ভারত–আসিয়ান সামুদ্রিক সহযোগিতার বছর’ হিসেবে উদযাপন করা হবে, যা ভারত মহাসাগরজুড়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায় সূচিত করবে। এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী মোদি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনার উল্লেখ করে ‘এক্স’–এ লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তাঁকে মালয়েশিয়ার আসিয়ান চেয়ারম্যানশিপের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছি এবং আসন্ন সম্মেলনগুলোর সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছি।” মোদির অনুপস্থিতিতে সোমবার আসিয়ানের ইস্ট এশিয়া সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।

LinkedIn
Share