Tag: Ajit Pawar

Ajit Pawar

  • Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী! শনিবারই শপথ সুনেত্রা পাওয়ারের, অর্থ দফতর বিজেপির হাতে

    Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী! শনিবারই শপথ সুনেত্রা পাওয়ারের, অর্থ দফতর বিজেপির হাতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন সুনেত্রা পওয়ার (Sunetra Pawar)। রাজনীতির মঞ্চে শোক আর সিদ্ধান্ত—দুটোই পাশাপাশি। একদিকে অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর রেশ, অন্যদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় সিদ্ধান্ত। দলীয় সূত্রে খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অজিতের শূন্যস্থান পূরণের প্রস্তাব পাওয়ার পরে পাওয়ার পরিবারের অন্দরে এই বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। তার পরেই এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে রাজি হয়েছেন সুনেত্রা। শনিবার বিকেল পাঁচটায় হবে শপথ গ্রহণ। একই সঙ্গে তিনি এনসিপির প্রধানের দায়িত্বও নিতে চলেছেন বলে খবর। রাজভবনে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

    শনিবার সন্ধ্যায় শপথগ্রহণ

    এনসিপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চে বাজেট অধিবেশন থাকায় আপাতত অর্থ দফতর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের কাছেই থাকবে। অধিবেশন মিটলেই সেই দায়িত্ব এনসিপির হাতে যেতে পারে। এখন উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের আবগারি এবং ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন সুনেত্রা। দলের অন্দরমহলের মতে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পুনে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের দিশা স্পষ্ট করতেই অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব ওঠে। প্রস্তাব ঘিরে পওয়ার পরিবারের মধ্যেও আলোচনা হয়। পরিস্থিতি ও দায়িত্বের ভার বিচার করেই শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন সুনেত্রা। শনিবার সন্ধ্যার শপথগ্রহণের মধ্য দিয়েই রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটতে চলেছে। এনসিপি দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতা ছগন ভুজবল এ কথা জানান।

    অজিতকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শাহ-গড়কড়ি

    উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বরামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। অবতরণের সময় রানওয়ের কাছেই ভেঙে পড়ে চার্টার্ড বিমানটি। বিমানে থাকা পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়—অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, এক বিমানকর্মী ও দুই পাইলটও ছিলেন তাঁদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার বরামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, এনসিপি (এসসিপি) প্রধান শরদ পওয়ার, অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

    অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা দফতরগুলির বণ্টন

    শুক্রবার এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল, সুনীল তাটকারে এবং ধনঞ্জয় মুন্ডে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন বর্ষা বাংলোয় বৈঠক করেন। বর্তমানে অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি মহারাষ্ট্রে বিজেপি ও একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিব সেনার সঙ্গে জোট সরকারে রয়েছে। এনসিপি দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ছগন ভুজবল জানান, মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশ স্পষ্ট করেছেন যে শনিবারই যদি উপমুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ হয়, তাতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই—শর্ত একটাই, দলের বিধায়ক দলের পক্ষ থেকে সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হতে হবে। অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা দফতরগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি অর্থ, পরিকল্পনা ও আবগারি দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, অর্থ ও পরিকল্পনা দফতর বিজেপির হাতে যেতে পারে।

    এনসিপি প্রধানের পদে কে?

    এদিকে শনিবার দুপুর ২টায় এনসিপির বিধায়ক দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুনীল তাটকারে। বিধানসভা ও বিধান পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি সাংসদরাও উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকেই দলের প্রধান নির্বাচন করা হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে। এর আগে ভুজবল জানিয়েছিলেন, ৩১ জানুয়ারির বিধায়ক দলের বৈঠকেই সুনেত্রা পাওয়ারের নাম দলের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে সুনেত্রা পওয়ার রাজ্যসভার সাংসদ। তিনি মহারাষ্ট্র বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য নন। তবে অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ফলে পুণে জেলার বারামতী বিধানসভা কেন্দ্রটি শূন্য হয়েছে। ভুজবল আরও জানান, শোককাল কতদিন হবে—তিন দিন না দশ দিন—এই ধরনের কিছু প্রযুক্তিগত বিষয় খতিয়ে দেখছেন প্রবীণ নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল ও সুনীল তাটকারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বিধায়ক দলের বৈঠকেই।

    সুপ্রিয়া সুলের পরিবর্তে কেন সুনেত্রা পাওয়ার

    সুপ্রিয়া সুলের পরিবর্তে কেন সুনেত্রা পাওয়ার—এই প্রশ্নে দলীয় সূত্রের বক্তব্য, অজিত পাওয়ার শিবিরের অধিকাংশ নেতা সুনেত্রাকেই উপমুখ্যমন্ত্রী ও দলের মুখ হিসেবে চান।কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এনসিপি মূলত পরিবারকেন্দ্রিক দল এবং নেতৃত্ব পরিবারেই থাকা উচিত। পাশাপাশি দলটি মারাঠা ভিত্তিক হওয়ায় অ-মারাঠা নেতাদের নেতৃত্বে মানতে রাজি নন কর্মী ও সমর্থকদের বড় অংশ। সুনেত্রা পওয়ার মারাঠা মুখ এবং অজিত পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ পরিবারভুক্ত হওয়ায় এই ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন বলে মত নেতৃত্বের। গত কয়েক বছর ধরে তিনি দলের দৈনন্দিন কাজকর্মেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং এনসিপির দুই শিবিরেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দাবি।

    এনসিপি’র দুই গোষ্ঠীর একত্রীকরণ

    এনসিপি’র দুই গোষ্ঠীর একত্রীকরণ প্রসঙ্গে দলের কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশই চান শরদ ও অজিত পাওয়ার শিবির এক হোক। প্রাক্তন মন্ত্রী অনিল দেশমুখের দাবি, দুই গোষ্ঠীর মিলনই ছিল অজিত পাওয়ারের আন্তরিক ইচ্ছা। তাঁর কথায়, অজিত পওয়ার জীবিত থাকতেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এখন তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই উচিত। অজিত পওয়ারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কিরণ গুজরও জানান, তিনি দুই গোষ্ঠীর একত্রীকরণ নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই বলেছিলেন, প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। ১৫ জানুয়ারির পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচন দুই শিবির যৌথভাবে লড়েছিল। এরপর আগামী মাসের জেলা পরিষদ নির্বাচনেও জোট বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

  • Ajit Pawar: অজিত প্রয়াত, ‘আসল’ এনসিপির নেতৃত্বে এবার কে?

    Ajit Pawar: অজিত প্রয়াত, ‘আসল’ এনসিপির নেতৃত্বে এবার কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar)। তার পরেই উঠছে সেই মোক্ষম প্রশ্নটি, ‘আসল’ এনসিপির (NCP) নেতৃত্বে এবার কে? ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত কমিটি নয়, ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্বে চলে। সংগঠনিক কর্তৃত্বের চেয়ে এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ক্যারিশমার গুরুত্ব বেশি, এনসিপিও এর ব্যতিক্রম নয়।

    ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ (Ajit Pawar)

    মহারাষ্ট্র রাজনীতির ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ শরদ পাওয়ারের হাতে গড়া ও লালিত এই দলটিতে বরাবরই নেতৃত্বে ছিলেন কোনও না কোনও ‘পাওয়ার’। ২০২৩ সালের মে মাসে এর এক আবেগঘন উদাহরণ দেখা গিয়েছিল। সেদিন ভাইপো অজিত পাওয়ারের বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে শরদ পাওয়ার দল ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।  কিন্তু তৎক্ষণাৎ দলীয় কর্মীরা তাঁকে স্লোগানে স্লোগানে ভরিয়ে দেন। এমনকি যখন এনসিপি ভেঙে দু’টি শিবির তৈরি হয়েছিল, তখনও দলের রাশ ছিল পাওয়ার পরিবারেরই হাতে। কিন্তু অজিত পাওয়ারের অকাল মৃত্যুর পর সেই সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অজিত-উত্তর ‘আসল’ এনসিপির মালিকানা নিয়ে শীঘ্রই টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। কারণ, এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেও সরকার চালাতে হবে, মন্ত্রিসভায় শূন্য পদ, এমনকি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদও পূরণ করতে হবে। এরই মধ্যে দু’টি স্পষ্ট ক্ষমতার ভরকেন্দ্র প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    প্রথম শিবির

    প্রথম শিবির পাওয়ার পরিবার। এই শিবিরের কেন্দ্রে রয়েছেন অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। অন্তত আপাতত তিনি বিপুল সহানুভূতির হাওয়া পাবেন, এমনকি তাঁদের কাছ থেকেও, যাঁরা সাধারণত এনসিপি বা অজিত পাওয়ারের রাজনীতির সমর্থক নন। রাজনীতিতে বংশানুক্রমের দৃষ্টিভঙ্গি ধরলে, স্বামীর উত্তরসূরি হিসেবে সুনেত্রাই দলীয় নেতৃত্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ। তবে সুনেত্রা রাজনৈতিকভাবে নবাগত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গিয়েছিলেন। বর্তমানে সুনেত্রা রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা প্রবীণ ও কৌশলী নেতা, যেমন ছগন ভুজবল বা সুনীল তটকরের পূর্ণ আনুগত্য আদায় করার পক্ষে যথেষ্ট নাও হতে পারে (Ajit Pawar)। এই শিবিরে (NCP) রয়েছেন অজিতের দুই ছেলে—পার্থ ও জয় পাওয়ার। তবে দু’জনকেই সুনেত্রার থেকেও কম বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পার্থকে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। পুনে জেলার মাভাল কেন্দ্র থেকে তিনি প্রার্থী হন। কিন্তু শিবসেনার শ্রীরং বার্নের কাছে বিরাট ব্যবধানে হেরে যান তিনি। পার্থ পাঁচ লাখের কিছু বেশি ভোট পেলেও, বার্নে পেয়েছিলেন ৭.২ লাখেরও বেশি ভোট। এর পর থেকে পার্থকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি। ভোটারদের মধ্যে আবেগ তৈরি করতে তাঁর প্রত্যাবর্তন কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারলেও, তাঁর বিরুদ্ধে চলা একাধিক আইনি মামলার কারণে সেই সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ।  অজিতের ছোট ছেলে জয় এই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বিকল্প বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। গত কয়েক বছর ধরে জয় মূলত পারিবারিক ব্যবসার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। বোর্ডরুমের কাজেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ বলে মনে করা হয়। যদিও বারামতিতে, পরিবারের শক্ত ঘাঁটিতে, গ্রামস্তরে কিছু সক্রিয়তার খবর পাওয়া গিয়েছে। এবং সেটাও সম্ভবত তাঁকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা হিসেবে করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, জয় কখনও কোনও নির্বাচনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, যা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় শিবিরে কারা?

    এতো গেল প্রথম শিবিরের কথা। দ্বিতীয় শিবিরে রয়েছেন এনসিপির শক্তিমান নেতারা। এই শিবিরে রয়েছেন অজিত -ঘনিষ্ঠ প্রবীণ তিন নেতাও, ছগন ভুজবল, সুনীল তটকরে এবং প্রফুল্ল প্যাটেল (NCP)। এঁদের মধ্যে প্রফুল্ল প্যাটেলই বর্তমানে অজিতের এনসিপির সবচেয়ে সিনিয়র নেতা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্যাটেল একসময় দিল্লিতে শরদ পাওয়ারের দরকষাকষির প্রধান মুখ ছিলেন (Ajit Pawar)। সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় রাজধানীতে যোগাযোগের জোরে তিনি অজিতের এনসিপির স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তবে অনেকের মতে, দলের কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে অজিতের যে দাপট ছিল, তা প্যাটেলের নেই। তাই দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব তাঁর পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবুও, দল পুনর্গঠনের সময় তিনি একজন আদর্শ তত্ত্বাবধায়ক নেতা হতে পারেন। সুনীল তটকরে আবার একেবারে তৃণমূলস্তর থেকে উঠে আসা নেতা। রায়গড় জেলায় অজিতের এনসিপি গড়ে তুলতে তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিল। তিনি মহারাষ্ট্রের জলসম্পদ মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।

    অজিতের এনসিপি কি আবার শরদ পাওয়ারের দলে?

    তবে প্যাটেলের মতো তাঁরও রাজ্যজুড়ে পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই, যা ভবিষ্যতে দলের ভেতরে বিদ্রোহ হলে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশের মতে, সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পরিণতি হতে পারে এটিই – যে এনসিপি বিধায়কদের শরদ পাওয়ার ছেড়ে অজিত পাওয়ারের দিকে টানা হয়েছিল, তাঁরা ‘পাইড পাইপারে’র মৃত্যুর পর পুরানো শিবিরে ফিরে যেতে পারেন। এমনটা কি হতে পারে? অজিতের এনসিপি কি আবার শরদ পাওয়ারের দলে, বা কার্যত তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলের নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে (NCP)? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চলতি মাসের শুরুতেই পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনে শরদ ও অজিত সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। ফল আশানুরূপ না হলেও, এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোটে অজিতের কোণঠাসা হওয়ার ফলেই এই জোট গড়ে উঠলেও, পুনর্মিলনের সম্ভাবনা কিন্তু রয়েই গিয়েছে (Ajit Pawar)।

  • Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে তিনি ‘অজিত দাদা’ নামেই পরিচিত। শরদ পাওয়ারের ভাইপো হলেও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি ব্যাপক ভাবেই গড়ে তুলেছিলেন অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মোট ৬ বার। বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইট। অজিত পাওয়ার সহ কোনও যাত্রীই বেঁচে নেই। ডিজিসিএ জানিয়েছে, পুণে জেলা ও বারামতী অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ানের সময় অত্যন্ত ঘন কুয়াশার মুখে পড়ে বিমানটি, যার ফলে ফ্লাইটের শেষ পর্যায়ে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। মহারাষ্ট্রের বরামতীর কাছে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিলেন পাইলট, যাতে বাঁচানো যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভেঙে পড়ার পরেই মুহূর্তে আগুন ধরে যায় বিমানে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    ডিজিসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বারামতীর কাছে পাহাড়ি ভূখণ্ডের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি পাথুরে এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে, মুম্বই থেকে উড়ানের প্রায় এক ঘণ্টা পর। ঘটনার তদন্তে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। ডিজিসিএ-র সিনিয়র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার বিশ্লেষণ করা হবে। ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নথিভুক্ত ও ছবি তোলা হবে, যাতে আঘাতের সময় বিমানের গতি, দিক এবং কোণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে তদন্ত

    এছাড়াও বিমানটির ব্ল্যাক বক্স—যার মধ্যে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার রয়েছে—উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা হবে। এই যন্ত্রগুলি থেকে বিমানের অবস্থান এবং দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোতে পাইলটদের পদক্ষেপ ও কথোপকথন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ককপিট রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে হওয়া যোগাযোগও খতিয়ে দেখবেন, কোনও সতর্কবার্তা বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না তা জানার জন্য। একই সঙ্গে উড়ানের আগে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করে দেখা হবে, বিমানটি নিরাপদ ও সমস্ত নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেছিল কি না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও কম দৃশ্যমানতায়, বিশেষ করে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস-এর

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি লিয়ারজেট  মডেল ৪৫। এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম নন-শিডিউল বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা। লিয়ারজেট একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার-লাইট বিজনেস জেট, যা তার গতি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং উচ্চ-উচ্চতায় উড়ানের জন্য সুপরিচিত। এর ডানার বিস্তার ৪৭ ফুট এবং সর্বোচ্চ ওজন ৯,৭৫২ কেজি। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর এই বিমানে করে মহারাষ্ট্রের বরামতীতে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। অজিত পাওয়ার ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই পাইলট ও পাওয়ারের দুই নিরাপত্তারক্ষীর। লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমান অতীতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ানের সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমান। সেটিতেও অবতরণের সময়েই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এই মডেলের বিমানগুলিতে দু’টি ইঞ্জিন থাকে। সাধারণত এই বিজনেস জেট বিভিন্ন কর্পোরেট এবং ভিআইপি-দের সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। মাঝারি মাপের এই বিমানটি স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের উড়ানের জন্য উপযুক্ত। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়া এই লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি পরিচালনা করছিল ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’ নামে এক সংস্থা। সেই ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’-এর বিমান দুর্ঘটনাতেই এবার মৃত্যু হল মহরাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিতের।

    অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    অজিতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অজিতের উত্থান এবং রাজনৈতিক দক্ষতার কথা স্মরণ করে একটি এক্স পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সমাজের তৃণমূল স্তরের সঙ্গে অজিতের দৃঢ় যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন তিনি। পরিশ্রমী এবং সর্বজন সম্মানিত অজিতের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মোদির কথায়, ‘‘প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর (অজিত) বোধগম্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, গরিব এবং নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো।’’ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং — সকলেই শোকপ্রকাশ করেছেন। অজিতের মৃত্যুতে তিনি বিধ্বস্ত, এমনই জানিয়েছেন শরদ পাওয়ারের কন্যা অজিতের বোন সুপ্রিয়া সুলে।

    শোকবার্তা ভারতীয় ক্রিকেটারদের

    অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই মহারাষ্ট্র সহ গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, অনেকেই শোক জ্ঞাপন করেছেন। শচিন তিনি লিখেছেন, মহারাষ্ট্র আজ একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতাকে হারাল। এই রাজ্যের জন্য তিনি যথেষ্ট কাজ করেছেন। এই কঠিন সময়ে ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। ওম শান্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহানে লিখেছেন, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দাদার মৃত্যুকে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।

    বারামতীতেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু

    যে বারামতীতে আজ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এনসিপি নেতা, সেখানেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি অজিতের। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বরামতীতে চিনির কারখানায় কোঅপারেটিভ বোর্ডের মেম্বার হয়ে যান। এটাই অজিতের প্রথম ভোটে জয়। ১৯৯১ সালে বরামতী থেকেই লোকসভায় নির্বাচিত হন অজিত পাওয়ার। এটাই সংসদীয় রাজনীতিতে প্রথম জয় তাঁর। তবে তারপরে আর লোকসভায় লড়াই করেননি তিনি। একেবারে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। এরপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতেই নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি। আজ যেখানে প্লেন ক্র্যাশ হল, সেই বরামতীই পাওয়ার পরিবারের ঘাঁটি বলা যায়। বরামতী থেকেই বারবার বিধায়ক হয়েছেন অজিত পাওয়ার।

  • Ajit Pawar: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অজিত পাওয়ারের, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন মোদি-শাহের

    Ajit Pawar: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অজিত পাওয়ারের, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন মোদি-শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar Plane Crash)। মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে থাকা আরও পাঁচ যাত্রীর। বুধবার সাতসকালে এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। ওই বিমানেই ছিলেন শরদ পাওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা এনসিপি প্রধান অজিত। এই দুর্ঘটনার পর যে সমস্ত ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি দাউদাউ করে জ্বলছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে দমকল। ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশও। বিমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    তদন্ত কমিটি গঠন

    এনসিপি সূত্রে খবর, জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের জন্য মুম্বই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের ‘মহাজুটি’ সরকারের অন্যতম শরিক তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত। এদিন বারামতিতে তিনটি জনসভা ছিল ৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ারের। একটি ব্যক্তিগত বিমানে সফর করছিলেন তিনি। বারামতী বিমানবন্দরের (Baramati Airport) ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিবাজি তওয়ারে জানিয়েছেন, অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ের একদম ধারে চলে যায়। তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। টুকরো টুকরো হওয়ার পরেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডিজিসিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, কী কারণে দুর্ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যে এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি পাহাড় এবং জঙ্গলে ঘেরা। প্রাকৃতিক, যান্ত্রিক না অন্য কোনও কারণে দুর্ঘটনা, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই পাইলট ‘মে ডে’ ঘোষণা করেছিলেন। বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিমানের ব্ল্যাক বক্সের খোঁজে চলছে তল্লাশি। ফ্লাইট রেডারের তথ্য বলছে, ভেঙে পড়ার আগে ২৬০০ ফুট উঁচুতে ছিল বিমানটি। হঠাৎই উচ্চতা কমে আসে বিমানের। সে সময়ে বিমানের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫৩ কিমি।

    বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন

    রাজনৈতিক জীবনেও অজিত পাওয়ারের উত্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শরদ পওয়ারের দাদা অনন্তরাও পাওয়ারের ছেলে। নিজের কাকার পথ অনুসরণ করেই তিনি রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। মহারাষ্ট্রের সমবায় ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলে ধীরে ধীরে রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন অজিত পওয়ার। ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন অজিত পাওয়ার। ১৯৯১ সালে তিনি বারামতী লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন, পরে সেই আসনটি তাঁর কাকা ও এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের জন্য ছেড়ে দেন। তিনি মহারাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা উপ-মুখ্যমন্ত্রী—মোট ছয়বার, যদিও তা ছিল অসতত। পৃথ্বীরাজ চহ্বন, উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি এই পদে ছিলেন। ২০২৩ সালের ২ জুলাই অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবনে বড় মোড় আসে। তিনি শরদ পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি থেকে পৃথক হয়ে বিজেপি–শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে) জোটে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন তাঁর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকেই ‘আসল’ এনসিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দলীয় নাম ও ‘ঘড়ি’ প্রতীক বরাদ্দ করে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কৃষি, সমবায় ব্যাঙ্ক এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।

  • Assembly Election 2024: মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটে আসনরফা চূড়ান্ত, কোন আসনে লড়বেন শিন্ডে, অজিত?

    Assembly Election 2024: মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটে আসনরফা চূড়ান্ত, কোন আসনে লড়বেন শিন্ডে, অজিত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2024)। তার আগে রয়েছে দেওয়ালি। তাই উৎসব শুরুর আগেই বিজেপির সঙ্গে আসনরফা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা ও এনসিপি (অজিত)। এই আবহে বুধবার মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটে (Maharashtra) প্রথম দফায় ৪৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা। উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের এনসিপি (অজিত) ৩৮টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

    কোথায় লড়বে কে

    তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে ঠাণে জেলার কাপরি–পাচপাখিড়ি আসনে লড়বেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত টানা তিনটি বিধানসভা ভোটে অবিভক্ত শিবসেনার প্রার্থী হিসেবে ওই আসনে জিতেছেন তিনি। শিন্ডে শিবিরের মুখপাত্র সদা সরভঙ্কর তাঁর পুরনো আসন মুম্বইয়ের ফাহিম থেকে লড়বেন। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শিবসেনার প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরের ভাইপো রাজ ঠাকরের পুত্র অমিত। এছাড়া মনীষা রবীন্দ্র ওয়েকার লড়বেন যোগেশ্বরী–পূর্ব থেকে। সুহাস দ্বারকানাথ কান্দে (নন্দগাঁও), প্রদীপ শিবনারায়ণ জয়সওয়াল (ছত্রপতি সম্ভাজিনগর–মধ্য) থেকে লড়বেন। অন্যদিকে, এনসিপি প্রধান তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত লড়বেন তাঁর পুরনো আসন বারামতী থেকে। নাসিকের ইয়েলার বিদায়ী বিধায়ক, শিন্ডে মন্ত্রিসভার সদস্য ছগন ভুজবল এ বারও সেখান থেকেই প্রার্থী।

    আরও পড়ুন: “তৃণমূল সাংসদ কল্যাণের আচরণ গণতন্ত্রের লজ্জা!” তোপ বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখরের

    পুরোদমে প্রচার শুরু

    মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের (Maharashtra Assembly Election 2024) আর প্রায় এক মাস বাকি। পুরোদমে প্রচারে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলি। ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ৯৯ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। আগামী ২০ নভেম্বরে এক দফায় মহারাষ্ট্রে ২৮৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। গণনা ২৩ নভেম্বর। সেখানে শাসকজোটের বৃহত্তম দল বিজেপি লড়ছে ১৫৫টি আসনে। শিন্ডে সেনা ৭৮ এবং এনসিপি (অজিত) ৫৫টিতে লড়ছে। মূল লড়াই বিজেপি-শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে)-এনসিপি (অজিত)-এর জোট ‘মহাজুটি’ এবং কংগ্রেস-শিবসেনা (ইউবিটি)-এনসিপি (শরদ)-এর ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’র মধ্যে। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Lok Sabha Election 2024: ভাইপোর হাতে এনসিপি, শরদ গোষ্ঠীকে নতুন নাম দিল নির্বাচন কমিশন

    Lok Sabha Election 2024: ভাইপোর হাতে এনসিপি, শরদ গোষ্ঠীকে নতুন নাম দিল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরদ পাওয়ারের নিজের হাতে গড়া দল গেল ভাইপোর অজিত পাওয়ারের হাতে। অজিত পাওয়ারের গোষ্ঠীকেই ‘এনসিপি’ (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘড়ি’ ব্যবহারের অধিকার দিল দেশের নির্বাচন কমিশন। তবে কাকা শরদ পাওয়ারের কী হবে? বুধবারই নির্বাচন কমিশনের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শরদ গোষ্ঠীর নতুন নাম দেওয়া হবে ‘ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি-শরদচন্দ্র পওয়ার’। তবে দলের নির্বাচনী প্রতীক কী হবে, তা জানা যায়নি। প্রতীক পরে বরাদ্দ (Lok Sabha Election 2024) করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

    বুধবার প্রস্তাব পাঠায় শরদ গোষ্ঠী

    শরদ পাওয়ার গোষ্ঠীর তরফে বুধবারই দেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাতে নাম এবং প্রতীক হিসাবে তিনটি ‘পছন্দ’ জানানো হয় কমিশনকে। সূত্রের খবর, নতুন দলের নাম হিসাবে ‘এনসিপি শরদ পওয়ার’, ‘মি রাষ্ট্রবাদী’ এবং ‘শরদ স্বাভিমানী’-র মধ্যে যে কোনও একটি চেয়েছিল শরদ গোষ্ঠী। তবে নির্বাচন কমিশন নতুন দলে, শরদের প্রতিষ্ঠিত দলের সঙ্গে তাঁর নাম জুড়ে দিল। জানা গিয়েছে, নির্বাচনী প্রতীক হিসাবে শরদ পাওয়ারের গোষ্ঠী তিনটি পছন্দ জানিয়েছে (Lok Sabha Election 2024) কমিশনকে— ‘কাপ-প্লেট’, ‘সূর্যমুখী ফুল’ এবং ‘উদীয়মান সূর্য’। এব্যাপারে কমিশন কিছু জানায়নি এখনও। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই ভারতের নির্বাচন কমিশন ভাইপো অজিত গোষ্ঠীকে ‘আসল এনসিপি’ বলে স্বীকৃতি দেয়। 

    কবে গঠিত হয় এনসিপি?

    ১৯৯৯ সালের জুন মাসে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরোধিতা করে কংগ্রেস ছেড়েছিলেন শরদ পাওয়ার। তখনই গড়েন নতুন দল এনসিপি। ২৫ বছর পরে সেই দলও হাতছাড়া হল তাঁর। দলের সমস্ত কিছু গেল ভাইপোর হাতে। ঘটনাচক্রে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের পুত্র উদ্ধবের আবেদন খারিজ (Lok Sabha Election 2024) করে দিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের গোষ্ঠীকে দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক তিরধনুক ব্যবহারের অধিকার দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। শিন্ডের মতোই মহারাষ্ট্রের অন্যতম উপমুখ্যমন্ত্রী অজিতও এবার পেলেন এনসিপির পুরো অধিকার। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২ জুলাই এনসিপিতে বিরাট পটপরিবর্তন হয়। অজিত-সহ ন’জন বিদ্রোহী এনসিপি বিধায়কের মন্ত্রিত্ব বিজেপি-শিবসেনা জোটে ভিড়ে যান। এই পরিস্থিতিতে দলের বিধায়ক-সাংসদরাও তাঁর দিকে যান। দলের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অজিতের হাতে।

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • NDA: ভাইপো অজিতের সঙ্গে গোপন বৈঠক পাওয়ারের, এনডিএ-তে শামিল হচ্ছে এনসিপি?

    NDA: ভাইপো অজিতের সঙ্গে গোপন বৈঠক পাওয়ারের, এনডিএ-তে শামিল হচ্ছে এনসিপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাইপো অজিত পাওয়ারের সঙ্গে গোপন বৈঠক (NDA) শরদ পাওয়ারের। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিরোধী শিবির। বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়া জোটের শেষ বৈঠকে হাজির ছিলেন শরদ পাওয়ার। পরবর্তীকালে লোকমান্য তিলকের নামাঙ্কিত  একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেখা গিয়েছিল মারাঠা ম্যানকে। যা নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছিল বিরোধী শিবির।

    শরদ পাওয়ার কি এনডিএ তে (NDA) শামিল হচ্ছেন?

    স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, শরদ পাওয়ারের দল কি তবে এনডিএ তে (NDA) শামিল হচ্ছে?  শনিবার রাতে তাঁর দলত্যাগী ভাইপো এবং বর্তমান মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণের বৈঠক হয় পাওয়ারের। পুনের কোরেগাঁও পার্কে শিল্পপতি অতুল চোরদিয়ার বাংলোতে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারনা, ভাইপো অজিত বিজেপি শিবিরে চলে যাওয়ায় ভালোই ধাক্কা লেগেছে এনসিপিতে। আবার অন্যদিকে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদির জোরালো প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধী জোটের জেতার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমতো অবস্থায় দল বাঁচাতে ভাইপোর সঙ্গে বিজেপি জোটে (NDA) শামিল হতে পারেন পাওয়ার। 

    চলতি মাসেই মুম্বইতে বসছে বিরোধী জোটের বৈঠক

     চলতি মাসেই মুম্বইতে (NDA) বিরোধীরা ফের বৈঠকে বসতে চলেছে, যার অন্যতম উদ্যোক্তা শরদ পাওয়ারের এনসিপি। তার আগে বিজেপি শিবিরের অজিত পাওয়ারের সঙ্গে শরদ পাওয়ারের এই  বৈঠক বিরোধী জোটকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলেছে।  যদিও এই বৈঠকে নিছক কাকা ভাইপোর সাক্ষাৎকার হিসেবে এবং পারিবারিক বিষয় হিসেবেই বোঝাতে চাইছেন শরদ পাওয়ার। তাঁর মন্তব্য, ‘‘অজিত আমার ভাইপো হয়, নিজের ভাইপোর সঙ্গে দেখা করায় কাকার দোষ রয়েছে? যদি পরিবারের গুরুজন আর এক সদস্যের সঙ্গে দেখা করতে চান তা নিয়ে কোনও সমস্যা থাকা উচিত নয়।’’ আবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে পাওয়ার বলছেন, ‘‘আমার কিছু ‘শুভানুধ্যায়ী’ আমাকে বিজেপিকে সমর্থনের কথা বলছেন। কিন্তু আমি স্পষ্ট বলছি, ‘আমার দল এনসিপি বিজেপির সঙ্গে যাবে না। কারণ এনসিপির রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে বিজেপির মতাদর্শ মেলে না।’’ অর্থাৎ প্রথমে পাওয়ার বলছেন কাকা-ভাইপোর কথা, আবার পরক্ষণেই বলছেন, রাজনৈতিক আলোচনাও হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     

  • Ajit Pawar: ভাঙন এনসিপিতে! ৯ জন বিধায়ক নিয়ে শিবসেনা-বিজেপি জোটে অজিত পাওয়ার

    Ajit Pawar: ভাঙন এনসিপিতে! ৯ জন বিধায়ক নিয়ে শিবসেনা-বিজেপি জোটে অজিত পাওয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই, তা সত্যিও হল। কাকা-ভাইপোর সংঘাতে ভাঙন এনসিপিতে। শরদ পাওয়ারের দল এনসিপির ৯ জন বিধায়ককে নিয়ে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা-বিজেপি জোট সরকারে যোগ দিলেন তাঁর ভাইপো অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। জানা গিয়েছে, অজিতের সঙ্গে রয়েছেন দলের ২৯ জন বিধায়ক। প্রসঙ্গত, এনসিপির বিধায়ক সংখ্যা হল ৫৩। এই ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অনেক নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। গত বছরেই শিবসেনা ভেঙে এনডিএ-তে সামিল হয়েছিলেন একনাথ শিন্ডে। এবার অজিত পাওয়ার সেই একই পথে হাঁটলেন। বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট, তার আগে এনডিএ শিবির বাড়তি মাইলেজ পেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা বেশি থাকলেও শিবসেনাকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ তারা ছেড়ে দেয়। দলত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, এনসিপিতে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছিলেন শরদ পাওয়ার। এমনকী, পাটনায় বিরোধীদের বৈঠকে যোগদান করার সিদ্ধান্ত একাই নিয়েছিলেন শরদ পাওয়ার।

    রবিবার রাজভবনে গিয়ে শপথ নেন অজিত

    রবিবার মহারাষ্ট্রের রাজভবনে গিয়ে শপথ নেন অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন অজিত। এদিন তাঁর সঙ্গে হাজির ছিলেন অন্য এনসিপি নেতারাও। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে দেখা যায় প্রবীণ এনসিপি নেতা ছগন ভুজবলকেও। জানা গিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে চলেছেন অন্য এনসিপি বিধায়করাও।

    সকালেই নিজের বাসভবনে বৈঠক করেন অজিত (Ajit Pawar)

    মহারাষ্ট্র রাজনীতির অন্দরের খবর, রবিবার নিজের বাসভবনে দলীয় বিধায়কদের একাংশকে নিয়ে বৈঠকে বসেন অজিত পওয়ার। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত হয়। এনসিপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই বিধায়কদের প্রত্যেকেই দলের অন্দরে ‘অজিত অনুগামী’ বলে পরিচিত। অজিতের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রবিবারই অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকারে যোগ দিতে পারেন তিনি। সে ক্ষেত্রে দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সঙ্গে মহারাষ্ট্রের দ্বিতীয় উপ মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে তাঁকে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • NCP: মহারাষ্ট্রে জারি ‘পাওয়ার’ গেম! এনসিপি-র দুই গোষ্ঠী আজ বিধানসভায় মুখোমুখি

    NCP: মহারাষ্ট্রে জারি ‘পাওয়ার’ গেম! এনসিপি-র দুই গোষ্ঠী আজ বিধানসভায় মুখোমুখি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে জারি ‘পাওয়ার’ গেম। অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) শিবিরে চলে যাওয়া দুই সাংসদ ও ন’জন বিধায়ককে বৃহস্পতিবার দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে সবুজ সঙ্কেত দিল শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) নেতৃত্বাধীন এনসিপি (NCP)। দিল্লিতে শরদের নেতৃত্বে হওয়া জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে দলের বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে ওই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। অজিতের পাল্টা দাবি, যেহেতু তিনি দলের সভাপতি, তাই শরদ পওয়ারের নেতৃত্বে হওয়া দিল্লির বৈঠক গুরুত্বহীন। আজ, শুক্রবারই মহারাষ্ট্রের বিধানসভা অধিবেশনে মুখোমুখি হতে চলেছেন এনসিপির দু’শিবিরের যুযুধান নেতারা। অজিত শিবিরের দাবি, সেখানেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, কত জন এনসিপি বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন।

    শক্তি পরীক্ষায় সক্রিয় দুই শিবির

    ইতিমধ্যেই  রাজ্যস্তরে  নিজেদের শক্তি পরীক্ষায় নেমেছিল অজিত বনাম শরদ শিবির। এরপরই  স্পষ্ট হয়ে যায় মহারাষ্ট্রে এনসিপির ৫৩ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ২৯ জনের সমর্থন অজিতের পক্ষে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে জাতীয় কর্মসিমিতির বৈঠক ডাকেন শরদ। দাবি করা হয়, আঠাশটি রাজ্য শাখার নেতৃত্ব শরদের পাশে রয়েছেন। সংসদের দু’কক্ষের ৯ সাংসদের মধ্যে সাত জনই সমর্থন জানিয়েছেন শরদকে। এদিন দিল্লিতে শরদ পাওযারের সঙ্গে দেখা করেন রাহুল গান্ধী। 

    আরও পড়ুন: “নন্দীগ্রামে আর একটা ১৪ মার্চ ঘটাতে চায় মমতা ব্যানার্জি”, আশঙ্কা শুভেন্দুর

    ভাঙা দলকে গোছানোর লক্ষ্য নিয়ে শরদ জানিয়ে দেন, তিনি এখনও দলের সভাপতি। শরদের কথায়, ‘‘যে যা বলুক, আমিই দলের সভাপতি।’’ দলের প্রকৃত নেতা কে, এ নিয়ে যে বিতর্কের মীমাংসার ভার নির্বাচন কমিশনের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন শরদ। তিনি বলেন, ‘‘এর পরে যা বলার, তা নির্বাচন কমিশনেই বলব আমরা। আমাদের পক্ষ থেকে দলের নাম ও নিশানের জন্য কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ গত কাল ৮২ বছরের শরদকে বাণপ্রস্থে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন অজিত। জবাবে তিনি বলেন, ‘‘৮২ হোক বা ৯২— প্রয়োজনে আবার দলকে গড়ে তুলব আমি।’’ 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • NCP: শরদকে সরিয়ে অজিত ‘মনোনীত’ এনসিপির সর্বভারতীয় সভাপতি, ভাতিজার সঙ্গে কত বিধায়ক?

    NCP: শরদকে সরিয়ে অজিত ‘মনোনীত’ এনসিপির সর্বভারতীয় সভাপতি, ভাতিজার সঙ্গে কত বিধায়ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দলের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তখন এনসিপি (NCP) নেতা শরদ পাওয়ারকে অনুনয়-বিনয় করেছিলেন তাঁর দলের সিংহভাগ বিধায়ক। মাস দুয়েকের ব্যবধানে মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) বদলে গেল এনসিপির সমীকরণ। এঁদের অনেকেই ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে। কেবল তাই নয়, শরদকে সরিয়ে সর্বভারতীয় সভাপতি পদে বসানো হয়েছে তাঁরই ভাইপো অজিত পাওয়ারকে।

    বান্দ্রায় বৈঠক

    অজিত শিবিরের দাবি, বান্দ্রায় তাঁদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৪০ জন বিধায়ক। মহারাষ্ট্রের শিবসেনার শিন্ডে শিবির-বিজেপি জোট সরকারে যোগ দিয়েছে এনসিপির অজিত গোষ্ঠীও। মন্ত্রী হয়েছেন অজিত সহ ৯ এনসিপি বিধায়ক। বুধবার অজিত বলেন, সরকারে যোগ দেওয়ার দুদিন আগেই এনসিপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি আমি। বান্দ্রায় যাঁরা অজিতের (NCP) বৈঠকে হাজির ছিলেন, সেই বিধায়কদের ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের হলফনামায় সই করিয়ে সমর্থনের অঙ্গীকার করতে হয়েছে। অজিতের বৈঠকেও শরদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। তবে শরদের কন্যা সুপ্রিয়া সুলের ছবি ছিল না। শরদকে নিয়ে এদিন স্লোগানও দিতে দেখা গিয়েছে এনসিপির অজিত গোষ্ঠীকে।

    শরদের নামে জয়ধ্বনি

    এদিন শরদের নামে জয়ধ্বনি দিতে দেখা যায় মন্ত্রী ছগন ভুজবলকে। তিনি বলেন, শরদজি আমাদের গুরু। তাই আমরা গুরুদক্ষিণা দিয়েছি। ওঁর ভাইপোকে উপমুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছি। এর পরে পরেই অজিতকে মনোনীত করা হয় এনসিপির সর্বভারতীয় সভাপতি। এদিকে, মঙ্গলবারই এনসিপির (NCP) পতাকা ও নির্বাচনী প্রতীক ঘড়ির অধিকার দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে অজিত গোষ্ঠী। তার আগেই অবশ্য কমিশনের কাছে হলফনামা দিয়ে ক্যাভিয়েট দাখিল করে শরদ-শিবির।

    আরও পড়ুুন: পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোট গণনাও করতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে, নির্দেশ আদালতের

    প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রে এনসিপির বিধায়ক সংখ্যা ৫৩। দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে অজিত গোষ্ঠীর প্রয়োজন ৩৬ জনের সমর্থন। শরদ শিবিরের অভিযোগ, ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে বিধায়কদের বন্দি বানিয়েছে অজিত গোষ্ঠী। মঙ্গলবার রাতে অজিত গোষ্ঠী থেকে শরদ শিবিরে ফেরা দুই বিধায়ক কিরেন লহমাটে এবং অশোক পাওয়ারও চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। এদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর অজিত (NCP) বলেন, আমিও একদিন মুখ্যমন্ত্রী হব।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share