Tag: America

America

  • MEA: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১.৩ লক্ষ ভারতীয় দেশে ফিরেছেন, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    MEA: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১.৩ লক্ষ ভারতীয় দেশে ফিরেছেন, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রক (MEA) নিশ্চিত করেছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ১,৩০,০০০ ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরেছেন। একটি আন্তঃদেশীয় প্রতিবেদন পেশ করার সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের অতিরিক্ত সচিব অসীম মহাজন এই প্রচেষ্টার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, আঞ্চলিক আকাশপথ এখনও অস্থিতিশীল থাকলেও যারা ফিরতে ইচ্ছুক তাদের সুবিধার্থে বাণিজ্যিক এবং অনির্ধারিত ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

    রিয়াদ, জেদ্দা, মদিনা এবং দাম্মাম থেকে আসছে বিমান (MEA)

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর থেকে নন-শিডিউল্ড বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু হয়েছে, যার ফলে যাতায়াতের সুবিধা বেড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যে (MEA) দেখা গেছে যে, কাতার এবং সৌদি আরবের মাধ্যমে প্রায় ২,৯০০ ভারতীয় ফিরে এসেছেন। কাতার এয়ারওয়েজ আগামী দিনগুলিতে ভারতের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুটি ফ্লাইট চালু রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৌদি আরবেও পরিস্থিতির একই রকম স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ইন্ডিগো রিয়াধ, জেদ্দা, মদিনা এবং দাম্মাম থেকে তাদের নির্ধারিত পরিষেবা পুনরায় শুরু করেছে। তবে আকাশপথ বন্ধ (Iran) থাকায় কুয়েত এবং ইরাকের পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। বর্তমানে এই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সৌদি আরবের স্থল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতে সহায়তা করছেন, যাতে তারা সেখান থেকে ফ্লাইটে উঠতে পারেন। এর পাশাপাশি, বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ১৭০ জন ভারতীয় নাগরিক ইরান থেকে স্থলপথে সফলভাবে আর্মেনিয়ায় প্রবেশ করেছেন যাতে সেখান থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেন।

    মাস্কাটের শিল্পাঞ্চলে ড্রোনের আঘাতে মৃত দুই ভারতীয়

    বিদেশমন্ত্রকের প্রতিবেদনে (MEA) সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনা করা হয়েছে। ‘সেফসি বিষ্ণু’ (Safesea Vishnu) নামক জাহাজের ১৫ জন ক্রু সদস্যের প্রত্যাবর্তন এবং বসরা-র কাছে একটি হামলায় মৃত ভারতীয়দের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সমন্বয় বজায় রেখে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। মাস্কাটের (Iran) একটি শিল্পাঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে বিদেশ মন্ত্রক  এবং জানিয়েছে যে আরও দশজন আহত ভারতীয় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • India US Trade Deal: সময়ের ফের! ভারতকে কটাক্ষ করা ট্রাম্প সহযোগী লুটনিক ‘লুকিয়ে’ এলেন নয়াদিল্লিতে, কেন জানেন?

    India US Trade Deal: সময়ের ফের! ভারতকে কটাক্ষ করা ট্রাম্প সহযোগী লুটনিক ‘লুকিয়ে’ এলেন নয়াদিল্লিতে, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে সময়ের ফের! শুল্ক-যুদ্ধের সময় ভারতকে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই সহযোগী হাওয়ার্ড লুটনিক চুপিসারে এসেছেন ভারত সফরে। অথচ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব বড় মুখে দাবি করেছিলেন— “শেষ পর্যন্ত ভারত শুল্কের চাপে নতি স্বীকার করবে, দুঃখপ্রকাশ করবে এবং একটি চুক্তি করার চেষ্টা করবে।” সেই ছবিটাই বদলে গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার লুটনিকই দিল্লিতে এসে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন, ঠিক সেই সময় যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেয় (India US Trade Deal)।

    লুটনিকের সফর (India US Trade Deal)

    এই গোপন বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত—কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। আদালতের রায়ের পর প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি, যা আগামী মাসে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়েল টুইট না করা পর্যন্ত ভারতে লুটনিকের সফরের খবর জানা যায়নি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন দূত সার্জিও গোর। গোয়েল টুইট করেন, “মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ও সার্জিও গোরকে আতিথ্য জানালাম। আমাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।” তবে বৈঠকের বিস্তারিত তিনি জানাননি। কিন্তু “বাণিজ্য” ও “অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব” শব্দের উল্লেখ থেকেই স্পষ্ট যে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি। তিন নেতাই ছবির জন্য পোজ দেওয়ার সময় হাসিমুখে ছিলেন। গয়ালের হাসি যেন একটু বেশিই চওড়া ছিল। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে আলোচনা শান্ত পরিবেশেই হয়েছে। গোরও বেশি কিছু জানাননি। তিনি টুইট করেন, “আমাদের দুই দেশের জন্য বহু সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে। হাওয়ার্ড লুটনিক ও পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ মধ্যাহ্নভোজ।”

    পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে

    লুটনিকের সফরের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খুব বেশিদিন আগে নয়, এক পডকাস্টে তিনি দাবি করেছিলেন যে— ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি গত বছর বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ প্রধানমন্ত্রী মোদি সরাসরি ট্রাম্পকে ফোন করতে অস্বীকার করেছিলেন। এখন পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে, কারণ ট্রাম্পের প্রভাব কমেছে। শুল্ক সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা বেশ কয়েকটি দেশ নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। কারণ ট্রাম্প এই পারস্পরিক শুল্ককে চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতও ওয়াশিংটনে নির্ধারিত তার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর স্থগিত করেছে, যা চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ছিল। ভারতের জন্য আদালতের এই আদেশ কার্যত নতুন করে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি করেছে এবং সম্ভবত আরও অনুকূল শর্ত আদায়ের পথ খুলে দিয়েছে (India US Trade Deal)।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। বুধবার তিনি ভারত-সহ অন্যান্য দেশকে “খেলা” না করার এবং বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে না আসার সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “যে কোনও দেশ যদি এই সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলা করতে চায়—বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়েছে—তাহলে তারা সম্প্রতি যে শুল্কে সম্মত হয়েছে তার চেয়েও অনেক বেশি শুল্ক এবং তার চেয়েও খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে।” বর্তমানে ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে। প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ  করেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণভাবে, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও তিনি তুলে নিয়েছিলেন (India US Trade Deal)। তবে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসবে না, বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এই প্রেক্ষাপটেই লুটনিকের নীরব সফর। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কি ফের আলোচনা হবে? উত্তর দেবে সময়ই।

     

  • Google: ‘বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠবে নয়া আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে’, ঘোষণা সুন্দর পিচাইয়ের

    Google: ‘বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠবে নয়া আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে’, ঘোষণা সুন্দর পিচাইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট” উদ্যোগ ঘোষণা করল গুগল। এটি একটি বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প, যার লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ডিজিটাল ও এআই (AI) সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। নয়াদিল্লিতে চলমান ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ এই ঘোষণা করা হয়।

    সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য (Google)

    গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “এর লক্ষ্য হল এআইয়ের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল বিভাজন যাতে এআই বিভাজনে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আজ আমরা ইন্ডিয়া-আমেরিকা কানেক্ট উদ্যোগ ঘোষণা করছি, যা ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের একাধিক জায়গার সঙ্গে এআই সংযোগ বাড়াতে নয়া আন্ডার-সি (সমুদ্রতল) কেবল রুট স্থাপন করবে।” এই প্রকল্পটি ভারতে এআই পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য গুগলের পাঁচ বছর মেয়াদি ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক আন্ডারসি গেটওয়ে স্থাপন। মুম্বই ও চেন্নাইয়ের মধ্যে থাকা কেবল ল্যান্ডিং পয়েন্টগুলির পাশাপাশি এই নতুন সংযোজন বৈচিত্র্য ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াবে।

    সমুদ্রতলে নয়া ৩ কেবল বসানোর পরিকল্পনা

    গুগল তিনটি নতুন আন্ডার-সি কেবল বসানোর পরিকল্পনাও করেছে, যা ভারতকে সরাসরি সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্ত করবে। ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনম থেকে চেন্নাই হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একটি সরাসরি ফাইবার-অপটিক সংযোগ গড়ে তোলা হবে। আর একটি সরাসরি রুট বিশাখাপত্তনমকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এসব বিনিয়োগের ফলে ভাইজাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

    কৌশলগত ফাইবার-অপটিক রুট

    নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত ও দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন গন্তব্যে চারটি কৌশলগত ফাইবার-অপটিক রুট গড়ে তোলা হবে। এগুলি গুগলের বৈশ্বিক আন্ডারসি কেবল ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত হবে—যার মধ্যে রয়েছে ইকিউয়ানো, নুভেম, বসান, টাবুয়া, তালয়ালিঙ্ক, অনোমোয়ানা, ব্লু, রামন এবং সল।  এসব সংযোগ একাধিক বিকল্প ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন পথ তৈরি করবে, যেমন আমেরিকার পূর্ব উপকূল থেকে আফ্রিকা ঘুরে ভাইজাগে সংযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর ও অস্ট্রেলিয়া হয়ে ভাইজাগে সংযোগ, এবং মুম্বই থেকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সহায়ক লিঙ্ক।

    উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র), এশিয়া (ভারত ও সিঙ্গাপুর), আফ্রিকা (দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং অস্ট্রেলিয়া/ওশেনিয়া—এই চার মহাদেশকে যুক্ত করে আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট ঐতিহাসিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলিকে আধুনিক শক্তিশালী ডিজিটাল রুটে রূপান্তর করতে চায়। উন্নত পরিকাঠামো ভারতের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এটি দেশে ব্যাপক এআই গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট প্রকল্প আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এআইয়ের প্রবেশাধিকারও বাড়াবে।

     

  • Pakistan: বিলম্বিত বোধোদয় পাকিস্তানের! ‘ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আমেরিকা’, কবুল খোয়াজা আসিফের

    Pakistan: বিলম্বিত বোধোদয় পাকিস্তানের! ‘ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আমেরিকা’, কবুল খোয়াজা আসিফের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিলম্বিত বোধোদয় পাকিস্তানের (Pakistan)! শেষমেশ ধরে ফেলল আমেরিকার (US) ‘চাল’। এবং পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তা স্বীকারও করে নিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “ওয়াশিংটন আমাদের কৌশলগত স্বার্থে ইসলামাবাদকে ব্যবহার করেছে এবং পরে টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপভাবে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।”

    কী বললেন আসিফ? (Pakistan)

    পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ বলেন, “১৯৯৯ সালের পর বিশেষ করে আফগানিস্তান ইস্যুতে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়েছে।” তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার প্রচেষ্টা ছিল একটি গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত, যার পরিণতি পাকিস্তান (Pakistan) আজও বহু দশক পর বহন করে চলেছে।” দীর্ঘদিনের সরকারি বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসিফ দাবি করেন, “আফগানিস্তান সংঘাতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত হয়েছিল—এই বক্তব্য ঠিক নয়।” তিনি কবুল করেন, “জেহাদের ব্যানারে পাকিস্তানিদের সংগঠিত করে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল।” এই সিদ্ধান্তকে তিনি বিভ্রান্তিকর ও ধ্বংসাত্মক আখ্যা দেন।

    যুদ্ধকে বৈধতা দিতে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাও পুনর্গঠন

    আসিফ বলেন, “এমনকি এসব যুদ্ধকে বৈধতা দিতে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাকেও পুনর্গঠন করা হয়েছিল এবং সেই মতাদর্শগত পরিবর্তনের অনেকাংশ আজও রয়ে গিয়েছে।” তিনি বলেন, “আটের দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধ মূলত (Pakistan) আমেরিকার ভূরাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, কোনও প্রকৃত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে নয়।” তাঁর মতে, সেই পরিস্থিতিতে ‘জেহাদ’ ঘোষণার কোনও যৌক্তিকতাও ছিল না। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, পাকিস্তানের নিজস্ব নয় এমন সংঘাতে অংশগ্রহণ দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক ক্ষতির জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব (US) হয়নি। আসিফ বলেন, “বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ১৯৯৯-পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় ঘনিষ্ঠতা স্থাপনের মূল্য ছিল ভয়াবহ।” তিনি প্রয়াত সামরিক শাসক জিয়াউল হক ও পারভেজ মুশারফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তাঁরা পাকিস্তানকে বহিরাগত যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছিলেন, যার ফল দেশকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করতে হয়েছে, এমনকি মিত্ররা সরে যাওয়ার পরেও।

    টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপ!

    এর পরেই আসিফ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, “পাকিস্তানকে টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, প্রয়োজন ফুরোলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।” ২০০১ এর পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গে আশিফ বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ সমর্থন করতে পাকিস্তান (Pakistan) তালিবানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন সরে গেলেও, পাকিস্তান হিংসা, উগ্রবাদ ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে নিমজ্জিত অবস্থায় থেকে যায়।” তিনি বলেন, “আমরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, তার কোনও ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়।” তিনি এসব সিদ্ধান্তকে অপরিবর্তনীয় ভুল হিসেবে (US) উল্লেখ করেন, যা পাকিস্তানকে অন্যদের পরিচালিত সংঘাতে একটি ‘ঘুঁটি’তে পরিণত করেছে (Pakistan)।

     

  • S Jaishankar: যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির পর এবার লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, আমেরিকায় পর পর বৈঠক জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির পর এবার লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, আমেরিকায় পর পর বৈঠক জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal)। এর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা সফরে গিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এই সফরের মাধ্যমে তিনি একটি স্পষ্ট বার্তা দেন, দুটি গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস্ (Critical Minerals) একটি মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    আমেরিকায় জয়শঙ্কর

    ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকায় রয়েছেন জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এই পর্বে তিনি একের পর এক বৈঠক করেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে। এই সময় নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার দিকে অগ্রসর হয়। তাঁর এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন এর আগের দিনই ট্রাম্প মোদির সঙ্গে আলোচনার পর ভারতের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) কথা ঘোষণা করেন। ওই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। এই শুল্কছাড়কে বিশেষ করে উৎপাদন, ওষুধ শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ভারতীয় রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে । ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির আধিকারিকরা এই চুক্তিকে বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং নিয়ন্ত্রক বাধা কমানোর ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।

    জয়শঙ্করের বার্তা

    জয়শঙ্কর (S Jaishankar) এই চুক্তিকে দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পোন্নয়নের প্রসঙ্গে। তিনি একে সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভারতের উৎপাদন খাতকে আরও মজবুত করবে এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধিকে সাহায্য করবে। সফরের শুরুতেই তিনি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। আধিকারিকদের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতাকে বাস্তব নীতিতে রূপ দিতে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রবিবার ঘোষিত বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এই আলোচনাকে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের পর এক্স হ্যান্ডেলে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) লেখেন, “অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আধিকারিকরা জানান, বৈঠকে বাণিজ্য সরলীকরণ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং নিয়ন্ত্রক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে নতুন চুক্তি কার্যকর নিশ্চিত করা যায়।

    জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক

    ট্রেজারি দফতরের সঙ্গে এই যোগাযোগকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরের দিনেই জয়শঙ্কর (S Jaishankar) মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন বিদেশ দফতর জানায়, “আজ বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) অনুসন্ধান, খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “রুবিও এবং জয়শঙ্কর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং অভিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা লক্ষ্যে অগ্রসর হতে দুই গণতান্ত্রিক দেশের একসঙ্গে কাজ করাও অত্যন্ত জরুরি।”

    অভিন্ন স্বার্থ

    দু’পক্ষই কোয়াডের মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ ব্যাপারে তাঁরা একমত হন যে সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল আমাদের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপরিহার্য। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়, এবং ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্বের বিভিন্ন স্তম্ভ, যেমন, বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষই যৌথ অগ্রাধিকারগুলি এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় দ্রুত বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে।” রুবিও তাঁর পোস্টে জানান, আলোচনার মূল ফোকাস ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহযোগিতা এবং নয়া অর্থনৈতিক সুযোগ উন্মোচন, এবং তিনি বাণিজ্য চুক্তিকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর বাড়তি গুরুত্ব

    অপরিহার্য খনিজের (Critical Minerals) ওপর বাড়তি গুরুত্ব উভয় রাজধানীতেই কৌশলগত উদ্বেগের প্রতিফলন—বিশেষ করে সীমিত সংখ্যক সরবরাহকারীর ওপর, প্রধানত চিনের ওপর নির্ভরতার কারণে। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরের জন্য অপরিহার্য খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় করতে চান রুবিও। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টেরিয়ালে’র আয়োজন করছে। এতে ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, যার লক্ষ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য ও সমন্বয় বাড়ানো। সফরের অংশ হিসেবে জয়শঙ্করেরও (S Jaishankar) এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। সম্প্রতি মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব ডাগ বার্গাম জানান, খনিজ  সরবরাহে চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রস্তাবিত একটি জোটে যোগ দিতে প্রায় ৩০টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, এবং আরও অন্তত ২০টিও দেশ এতে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের আধিকারিকদের মতে, জয়শঙ্করের ওয়াশিংটন সফর ভারত–আমেরিকার সম্পর্ককে কেবলমাত্র বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলোচনায় অর্থনৈতিক সংযুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা, পারমাণবিক অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলিও উঠে আসে। বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহযোগিতার উদ্যোগ যুক্ত করে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক (India-US Trade Deal) স্বার্থকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে চাইছে।

     

  • US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনা (US Trade Deal) ডকুমেন্টেশনের পর্যায়ে এগোচ্ছে। তবে কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজেদের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানই বজায় রাখবে ভারত, এমনটাই (Agriculture Dairy) ইঙ্গিত মিলল সরকারের শীর্ষ কর্তাদের তরফে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে বড় ধরনের বাজার উন্মুক্তকরণ সংক্রান্ত কোনও প্রতিশ্রুতির আওতায় আনা হবে না।

    কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাত (US Trade Deal)

    সংবেদনশীল কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাতকে চুক্তির আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান অপরিবর্তিতই রয়েছে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “যে অবস্থান ছিল, সেটাই রয়েছে।” তিনি বলেন, “কৃষি ও দুগ্ধ খাতে সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত অবস্থানই বজায় থাকবে। আমাদের কৃষকদের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করা হবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ওই খাতগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

    বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, এই বক্তব্যটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কার্যকর হতে চলা পারস্পরিক শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে এবং ভারতের বাজারে প্রবেশকারী মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। তবে নয়াদিল্লির কর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উভয় পক্ষের আলোচকরা এখনও চুক্তির সূক্ষ্ম শর্তাবলি ও আনুষ্ঠানিক নথি চূড়ান্ত করার কাজেই ব্যস্ত রয়েছেন (Agriculture Dairy)।

    দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

    ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষি ও দুগ্ধ খাতের সঙ্গে যুক্ত। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই খাতগুলির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দুগ্ধ খাত মূলত ছোট, পারিবারিক স্তরের উৎপাদকদের দখলে—বড় কর্পোরেট খামার নয়। নীতিনির্ধারক ও মুক্ত বাণিজ্যের সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে— যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলির ভর্তুকিপ্রাপ্ত, বৃহৎ আকারের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় বাজার খুলে দিলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ধস নামতে পারে (US Trade Deal)। কৃষি খাতে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিতে ভারতের অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বারবার সংঘাতের কারণ হয়েছে। দুগ্ধ ও সয়াবিনের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল খাত খুলে দিতে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে, যদিও অন্যান্য আলোচনায় নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে (Agriculture Dairy)।

    চুক্তির অংশ

    এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে—এমন দাবিও করেছেন ট্রাম্প। তবে ভারতীয় সরকারি সূত্র এই দাবি খারিজ করে ‘মানুষ-প্রথম’ এবং বাজারনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা নীতির কথা আবারও একবার জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্তাদের। সরকারি এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “যে বাজারে সবচেয়ে ভালো চুক্তি পাওয়া যাবে এবং যেসব সংস্থা নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই, সেখান থেকেই আমরা তেল কিনব। আমাদের কৌশল নির্ধারিত হবে বাজারদরের ভিত্তিতে।” বিশ্বের তৃতীয় (US Trade Deal) বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ ভারত বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। অন্তত এমনটাই জানিয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্লেপলারের তথ্য।

    ভারতের অবস্থান

    এই অবস্থান ভারতের পরিশোধন শিল্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেও প্রতিফলিত হয়েছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিষেধাজ্ঞামুক্ত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ছাড়ে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা আবার শুরু করেছে এবং সেই তেল গুজরাটের জামনগর শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম রিফাইনারি সংস্থাটি আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কার ভাড়া করেছে এবং রুশ এক্সপোর্টের মতো সংস্থা থেকে তেল সংগ্রহ করে দৈনিক ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটে সরবরাহ করছে, যা মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায় (Agriculture Dairy)। আধিকারিকরা বলেন, “নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলি থেকে ভারত তেল কিনবে না, তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সেখান থেকে আমদানি পুনরায় শুরু হবে।” এক আধিকারিক বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনিনি। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, তাই আমরা কিনব (US Trade Deal)।”

    ট্রাম্পের দাবি

    ট্রাম্পের আরও দাবি, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—যার মধ্যে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা ও অন্যান্য খাত অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি শুল্ক ও অশুল্ক বাধা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য, এই বিপুল অঙ্কটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিমান কেনা এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকে নির্দেশ করে, তাৎক্ষণিক আমদানির বাধ্যবাধকতাকে নয় (Agriculture Dairy)। এর আগে এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, “মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি ওষুধ, টেলিকম, প্রতিরক্ষা, পেট্রোলিয়াম ও বিমান খাতের মতো ক্ষেত্রগুলির অন্তর্ভুক্ত। এটি বহু বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।” সরকারের দাবি, প্রস্তাবিত এই চুক্তি ভারতের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি বছরে প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি হয়েছে ৪৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (US Trade Deal)।

    তবে আপাতত নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে আলোচনার টেবিলের বাইরে রাখা হবে। বার্তা পরিষ্কার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে ভারত আগ্রহী হলেও, দেশের কৃষকদের জীবিকার (Agriculture Dairy) সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মার্কিন মুলুকেও

    Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মার্কিন মুলুকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান কর্মসূচি শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। শনিবার দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের কেন্দ্রে বিপুল (Hindus) সংখ্যক মানুষ সমবেত হয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হিংসার প্রতিবাদে র‍্যালি করে। মার্কিন মুলুকের অন্তত ২২টিরও বেশি শহরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ঘটনা প্রতিবাদের ব্যাপকতা, তীব্রতা এবং বাংলাদেশে হিংসার ভয়াবহতা ও তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

    বিরাট জমায়েত (Bangladesh)

    ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্টেসিয়া শহরে অন্যতম বৃহৎ জমায়েত দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ পরিস্থিতির ওপর অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মনোযোগ দাবি করেন এবং ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহির আহ্বান জানান। কারণ তাঁর শাসন কালেই দেশে উগ্রপন্থী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রতিবাদকারীরা বাংলাদেশে শান্তি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে “ওম শান্তি”-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলি জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভগুলি ছিল শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও রাজনৈতিকভাবে শালীন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য গঠিত গ্লোবাল কোয়ালিশনের মিডিয়া প্রতিনিধি গীতা সিকান্দ বলেন, “এই আন্দোলনের উদ্দেশ্যই হল বিশ্ববাসীর দৃষ্টি দুর্বল ও নির্যাতিত সম্প্রদায়ের যন্ত্রণার দিকে আকর্ষণ করা। আমরা সুরক্ষা, জবাবদিহি ও শান্তি চাই।”

    সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের নিদর্শন

    সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের নিদর্শন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ও এই বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি তোলে (Hindus)। আমেরিকার পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে র‍্যালি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শীতপ্রধান অঞ্চলে মাইনাস তাপমাত্রার মধ্যেও মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের সাফ কথা, বাংলাদেশের সঙ্কট আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানায়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হিংসার পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হবে এবং ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ নিরীহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে উগ্রপন্থী উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁরা বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষারও আহ্বান জানান (Bangladesh)।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতার বক্তব্য

    মানবাধিকার সংগঠনগুলি আরও উল্লেখ করে যে, ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশে একাধিকবার সাম্প্রদায়িক হিংসা ও উগ্রপন্থী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বারবার নিশানায় এসেছে। তবে ইউনূসের রাজত্বে এই নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুরেন্দ্র শর্মা বলেন,
    “সমষ্টিগত কণ্ঠস্বর তোলা হচ্ছে প্রথম ধাপ। আমরা সব সম্প্রদায়ের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা চাই।” প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে আরও গভীর সঙ্কটে তলিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তাও জানান তিনি। অভিযোগ, ইউনূস জমানায় উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলি আরও শক্তি সঞ্চয় করেছে, যার ফলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। প্রশাসনের ব্যর্থতায় দেশটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে (Hindus)। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা বাংলাদেশকে কার্যত নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক্ষমতালোভী গোষ্ঠীগুলি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রশ্নে নীরব রয়েছে (Bangladesh)।

    পরিস্থিতির গুরুত্ব

    বাংলাদেশে বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা পরিস্থিতির গুরুত্বই প্রতিফলিত করে। গত সপ্তাহে ব্রিটেনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে লেবার সরকারের কাছে বাংলাদেশে ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও হিন্দু সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দাবি জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চললেও এবং ঢাকায় নতুন ক্ষমতাকাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও, হিন্দু সংখ্যালঘুদের জীবন ও অধিকার এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে—যেখানে তাঁদের ওপর হামলা, মারধর, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে মানুষকে পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটছে (Bangladesh)। ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, ব্রিটেন এবং আমেরিকায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ ও কণ্ঠস্বর বাংলাদেশে হিন্দুদের জীবনরক্ষায় একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই (Hindus) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Epstein Files: আমেরিকায় কেলেঙ্কারি! তালিকায় বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালীর নাম

    Epstein Files: আমেরিকায় কেলেঙ্কারি! তালিকায় বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালীর নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারই প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (US) বিচার বিভাগের জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথিপত্রের (Epstein Files) একটি অংশ। তার জেরেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন মুলুকে। ওই নথিগুলোতে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে বলে খবর।

    যৌন অপরাধে দণ্ডিত (Epstein Files)

    এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টে যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি, ২ হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করেছে। এই উপকরণগুলির মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকারদের সাক্ষাৎকার এবং বিপুল সংখ্যক ই-মেইল যোগাযোগও রয়েছে। প্রকাশিত কিছু নথিতে ‘জর্জ বুশ ১’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তবে এখানে নামটি আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশকেই নির্দেশ করছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এপস্টাইনের ব্যক্তিগত লগবুকে বুশের নাম পাওয়া যায়নি। তবে এপস্টাইনের এক ভুক্তভোগী নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ডিটেকটিভ ব্যুরোয় দায়ের করা অভিযোগে এই নামটি উল্লেখ করেছিলেন। বিল গেটসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি এপস্টাইনের ১৮ জুলাই, ২০১৩ তারিখের খসড়া বার্তায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই বার্তাগুলির কিছু অংশে গেটসের তৎকালীন উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা ছিল।

    এপস্টাইনের দাবি

    একটি খসড়া বার্তায় এপস্টাইন দাবি করেন, গেটস ‘রুশ মেয়েদের’ সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং এতে তিনি যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হন। এপস্টাইনের অভিযোগ, গেটস নাকি অনুরোধ করেছিলেন যাতে গোপনে তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এপস্টাইন আরও দাবি করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-মেইলগুলি মুছে ফেলতে গেটস তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। একই খসড়া বার্তায় এপস্টাইন গেটসের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় তিনি অকল্পনীয়ভাবে হতাশ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। বার্তায় এপস্টাইন (Epstein Files) লিখেছিলেন, “কাটা ঘায়ে নুন ছেটানোর মতো তুমি এরপর আমায় অনুরোধ করো তোমার যৌনরোগ সংক্রান্ত ই-মেইলগুলি, মেলিন্ডাকে গোপনে দেওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চাওয়ার বিষয়টি এবং তোমার যৌনাঙ্গের বর্ণনা সংক্রান্ত লেখাগুলি মুছে ফেলতে।” এর আগে বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টাইন-সংক্রান্ত একাধিক ছবিতে বিভিন্ন স্থানে এপস্টাইনের সঙ্গে বিল গেটসকে দেখা গিয়েছিল। তবে এপস্টাইনের আনা সব অভিযোগই বিল গেটস সরাসরি অস্বীকার করেন।

    মুখপাত্রের বক্তব্য

    সংবাদ মাধ্যমে গেটসের এক মুখপাত্র বলেন, “এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। এই নথিগুলি কেবল এটুকুই প্রমাণ করে যে গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক চালু না থাকায় এপস্টাইন কতটা হতাশ ছিলেন এবং কীভাবে তিনি ফাঁদ পেতে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করতেন।” এপস্টাইনের এক ভুক্তভোগীর বিবরণ সংবলিত একটি ই-মেইলে লেখা রয়েছে, “ধন্যবাদ এম, আমি বুঝতে পারিনি বুশও তাকে ধর্ষণ করেছিল। ঠিক আছে।” ওই নথিতে ভুক্তভোগী সম্পর্কে আরও বলা হয়, “এই ইয়টে থাকার সময় সে দেখতে পেয়েছিল আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষরা শ্বেতাঙ্গ স্বর্ণকেশী নারীদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত ছিল, এবং যৌনক্রিয়ার সময় সবাই রক্তাক্ত হচ্ছিল (US)।” নথিতে আরও বলা হয়, “সে এক ধরনের আচারভিত্তিক বলিদানের শিকার হয়েছিল, যেখানে তার পা তরবারি দিয়ে কাটা হয়, যদিও কোনো স্থায়ী দাগ ছিল না। ইয়টে সে শিশুদের খণ্ডবিখণ্ড করা, তাদের নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলা এবং সেই নাড়িভুঁড়ির মল খাওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে।”

    ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ

    নথিতে আরও দাবি করা হয় যে ‘জর্জ বুশ ১’ ওই ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেছিলেন। “সে জর্জ বুশ ১-এর দ্বারাও ধর্ষিত হয়েছিল,” নথিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বলা হয়, “ভুক্তভোগী জানান, ট্রু পণ্ডিতের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল মুর তাঁকে এফবিআই ভবনে নিয়ে যান। বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে ট্রু পণ্ডিতকে একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্বনির্ভর সংবাদমাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা এফবিআইকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে (Epstein Files)।” আর এক পুরুষ ভুক্তভোগীর বয়ানে বলা হয়েছে, ২০০০ সালে একটি বড় ইয়টে তাঁকে এপস্টাইন এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। ভুক্তভোগী জানান, ওই সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়াও ইয়টে উপস্থিত ছিলেন (US)। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং দীর্ঘদিন থেরাপি নেওয়ার পর ২০১৬ সালে এসব স্মৃতি তাঁর মনে ফিরে আসে। ২০১৯ সালের অগাস্টে এফবিআই পরিচালিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য দেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ডিসেম্বরে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপ এবং কংগ্রেসে পাস হওয়া নতুন আইনের নির্ধারিত আইনি সময়সীমার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগ এপস্টাইন ফাইলস প্রকাশ করে (Epstein Files)।

     

  • Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বসভায় ভারতের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিল ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস ( Republic Day 2026)। ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি বিশ্বে শক্তিধর দুই দেশের। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ভারতকে পাশে চায় চিন ও আমেরিকা (India China US) উভয়েই। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিরোধ এবং নীতিগত পার্থক্য নিয়ে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রথা মেনে ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত এবং আমেরিকা— দু’দেশ ‘ঐতিহাসিক বন্ধনে’ আবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চিন এবং ভারত ভালো বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী! সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

    ভারতের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’

    বাণিজ্য বিরোধ, শুল্কনীতি ও কৌশলগত মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যখন চাপের মুখে, ঠিক সেই সময়েই ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’-এর কথা তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও জনগণকে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।”

    কেন ভারতকে পাশে চায় আমেরিকা

    ভারতের পণ্যের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ‘শাস্তিস্বরূপ’ ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। অন্য দিকে, কয়েকমাস আগেই সাংহাই সম্মেলনে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা দেখেও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন ট্রাম্প। তবে, তারপরই নিজের দেশে বিরোধিতার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার সেনেটেও ওঠে বিতর্কের ঝড়। ট্রাম্পের নির্বুদ্ধিতার জন্যই ভারতের মতো বন্ধুকে হারাতে চলেছে আমেরিকা, বলে দাবি করেন মার্কিন কূটনীতিকদের একাংশ। এরপরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ফের ভারতকে কাছে টানার চেষ্টা শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাম্পের পাশাপাশি আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন রুবিও। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়বে।’’ তিনি জানান, আগামী বছরেও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ভারতের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে ওয়াশিংটনের। কোয়াডের মাধ্যমে বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব—যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বাস্তব ফল দিচ্ছে, বলে মনে করেন রুবিও।

    কর্তব্য পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল কুচকাওয়াজে কর্তব্য পথে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে অংশ নিয়ে তিনি একে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চেতনার উদযাপন বলে অভিহিত করেন। গোর বলেন, “হ্যাপি রিপাবলিক ডে, ইন্ডিয়া! ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক আত্মার এই উদযাপনে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের আকাশে মার্কিন তৈরি বিমান উড়তে দেখা যুক্তরাষ্ট্র–ভারত কৌশলগত অংশীদারত্বের শক্তিশালী প্রতীক।”

    ভারত ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’

    প্রজাতান্ত্রিক দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত ও চিনকে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। চিনের রাষ্ট্রপতি আরও জানান, দুই দেশের সম্পর্ক উভয় দেশের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের সুসম্পর্ক উভয় দেশের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে। অন্য দিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি ও বেজিং। সীমান্ত সমস্যা দূর করতে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে।

    কাছাকাছি ভারত-চিন

    চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতে, গত এক বছরে ভারত ও চিন দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিন সব সময় বিশ্বাস করে ভাল বন্ধু এবং প্রতিবেশী হওয়া দুই দেশের জন্যই সঠিক পথ। সেই বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে জিনপিং আবার ‘ড্রাগন-হাতি’ যৌথ নাচের প্রসঙ্গ টেনেছেন। জিনপিং আশাবাদী, ভারত-চিন উভয় দেশই পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিনিময়, সহযোগিতার পথ আরও সম্প্রসারণ করবে। সুস্থ এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়গুলি সমাধান করা হবে। এই বক্তব্যে সুর মিলিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং। তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের জন্য ভাল প্রতিবেশী বন্ধু ও অংশীদার হওয়াই সঠিক পথ—যেখানে ড্রাগন ও হাতি একসঙ্গে নাচবে।” একই দিনে চিনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

    ভয় পাচ্ছে আমেরিকা!

    ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে। ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। পাশাপাশি কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু, সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ভিসা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সেই আবহে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি উড়ান পরিষেবা চালু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের আবহে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। কড়া বার্তা দিয়েছে আমেরিকাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জিনপিঙের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    ভারত-এর গুরুত্ব

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এমনটাই মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, “সফল ভারতই পারে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, উন্নত এবং নিরাপদ করে তুলতে।” এই আবহে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার মাঝেই প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের। চিন ও আমেরিকার এই বার্তাই বুঝিয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের স্থান।

  • India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে চলে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (India US Trade Deal)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে মার্কিন সেনেটর টেড ক্রুজের একটি অডিও রেকর্ডিং। ওই রেকর্ডিংয়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান এই সেনেটর বাণিজ্যনীতি ও থমকে থাকা ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance), হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং কখনও কখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মিনিটের ওই অডিওটি এক রিপাবলিকান সূত্র শেয়ার করেছে। এটির সময়কাল ২০২৫ সালের শুরু ও মধ্যভাগ। এতে ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে ক্রুজ নিজেকে ঐতিহ্যবাহী, মুক্তবাণিজ্যপন্থী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতিতে বিশ্বাসী রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানের বিরোধিতা করেন, যা সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা (India US Trade Deal)

    অডিওতে ক্রুজ ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, এই নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে শুল্ক আরোপের পর তিনি ও কয়েকজন সেনেটর গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি ফোনালাপে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে সেই আলোচনা ভালোভাবে শেষ হয়নি (India US Trade Deal)। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রুজ দাতাদের জানান মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়া ওই ফোনালাপে ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। ক্রুজ বলেন, “ট্রাম্প সেদিন খুব খারাপ মেজাজে ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে এমন কথোপকথনেও ছিলাম, যখন তিনি খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু এটি সেরকম ছিল না।”

    সতর্ক করেছিলেন প্রেসিডেন্টকে

    ক্রুজ আরও জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি অবসরভিত্তিক বিনিয়োগ হিসেব ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। ক্রুজের ভাষায়, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, “আপনি প্রতিনিধি পরিষদ হারাবেন, সেনেট হারাবেন, আর পরবর্তী দু’বছর প্রতি সপ্তাহে একবার করে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হবেন (JD Vance)।” এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প খুবই খারাপ কথা বলেছিলেন। ক্রুজ প্রশাসনের শুল্ক আরোপকে ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘মুক্তির দিন’ নামে ব্র্যান্ডিং করার বিষয়টিও ব্যঙ্গ করেন। এক দাতা ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে ক্রুজ মন্তব্য করেন, তাঁর দলে কেউ এই শব্দটি ব্যবহার করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হত।

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ

    ক্রুজের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ। তিনি দাতাদের বলেন, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং যারা এই ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নামও উল্লেখ করেন (India US Trade Deal)। আমেরিকার অগ্রগতি কে আটকে দিচ্ছে, এই প্রশ্নে ক্রুজ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং কখনও কখনও স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও নেন। রেকর্ডিংয়ে ক্রুজ বারবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে রক্ষণশীল পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্লসন বিদেশনীতি বিতর্কে হস্তক্ষেপবিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষী অবস্থানকে উসকে দিচ্ছেন এবং ভ্যান্স মূলত কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ক্রুজ বলেন, “টাকারই জেডিকে তৈরি করেছে। জেডি টাকারের শিষ্য, আর তারা দু’জন একই (JD Vance)।”

    যদিও ক্রুজ গত কয়েক মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কার্লসনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, এবং অডিও রেকর্ডিংটি দেখায় যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কার্লসন ও ভ্যান্সের মধ্যে আরও স্পষ্ট ও কঠোর সীমারেখা টেনেছেন, যা প্রকাশ্যে তিনি এতটা স্পষ্ট করেননি, যদিও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই পডকাস্টারের বন্ধুত্ব সুপরিচিত (India US Trade Deal)।

LinkedIn
Share