Tag: Amit Shah

Amit Shah

  • Amit shah: ভয়, দুর্নীতি, কুশাসন এবং অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে চরম অসন্তোষ! তৃণমূলকে তোপ আমিত শাহের

    Amit shah: ভয়, দুর্নীতি, কুশাসন এবং অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে চরম অসন্তোষ! তৃণমূলকে তোপ আমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit shah) মঙ্গলবার বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারকে (BJP Government) নির্বাচিত করার সংকল্প গ্রহণ করেছে। বিজেপিই বাংলায় উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনবে এবং গরিব কল্যাণ-এর উপর জোর দেবে। খুব দ্রুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কুশাসন মুক্ত হবে পশ্চিমবঙ্গ।”

    ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যে ভয় আর দুর্নীতি (Amit shah)

    তৃণমূল সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উৎসাহিত করে। এই অভিযোগ করে আমিত শাহ (Amit shah) বলেন, “৩০ ডিসেম্বর ভারতীয়দের জন্য গর্বের দিন, কারণ এই দিনেই ১৯৪৩ সালে বাংলার সুপুত্র সুভাষ চন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারে ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। আজ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই সময়টা বাংলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়েই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (BJP Government) অনুষ্ঠিত হবে। বাংলার মানুষ এমন একটি শক্তিশালী সরকার বেছে নেওয়ার সংকল্প করেছে যা ভয়, দুর্নীতি, কুশাসন এবং অনুপ্রবেশের বদলে ঐতিহ্য, উন্নয়ন এবং কল্যাণ নিয়ে আসবে। বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের গত ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যে ভয়, দুর্নীতি, কুশাসন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কারণে নাগরিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।”

    জাতীয় গ্রিড গঠনের ঘোষণা

    আমিত শাহ (Amit shah) পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা হবে এবং অন্যান্য রাজ্যে যেমন করা হয়েছে, তেমনি দরিদ্রদের কল্যাণের (BJP Government) ওপর অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।” অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত থেকে দূরে রাখার জন্য আমিত শাহ একটি জাতীয় গ্রিড গঠনের ঘোষণা করেন এবং পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “মানুষ ছেড়ে দিন, একটি পাখিও পা রাখতে পারবে না। আমরা এই ধরনের একটি শক্তিশালী গ্রিড তৈরি করব। আমরা কেবল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ বন্ধ করব না। আমরা নিশ্চিত করব যে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।” পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সুযোগ থাকবে

    তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজের বিরোধিতা করছে। এমন সময়েই অমিত শাহের (Amit shah) এই সফর হলো। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংশোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোটারদের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ আগামী ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত খোলা থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতির হিসেব নিলেন শাহ, আজ সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

    Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতির হিসেব নিলেন শাহ, আজ সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় এখনও পর্যন্ত মরসুমের শীতলতম দিন। ১২ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা। তবে ভোটের পারদ ক্রমশ চড়ছে বাংলায়। তিনদিনের সফরে সোমবারই শহরে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরেই সাংবাদিক বৈঠক করার কথাও আছে তাঁর। সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছে। সেই আবহে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে এ রাজ্যের বিজেপির প্রথম সারির নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে খবর, ভোটের আগে রাজ্য জুড়ে পথসভা, জনসভা বা রথযাত্রার যে পরিকল্পনা রয়েছে পদ্মশিবিরের, তার প্রস্তুতি বা ভাবনা সম্পর্কে শাহ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনেছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে।

    তিন দিনের সফরে কলকাতায় শাহ

    বছরশেষে তিন দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন শাহ। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর বিমান পৌঁছোয় দমদম বিমানবন্দরে। সেখান থেকে তিনি সোজা পৌঁছে যান সল্টলেকে বিজেপির দফতরে। রাতেই সেখানে রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক বৈঠক সারেন তিনি। রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারা ছাড়াও ওই বৈঠকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারাও। প্রায় ঘণ্টাখানেক রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই বৈঠকে মূলত জনসংযোগের বিষয় আলোচনা হয়েছে। জনসংযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব কী কী পরিকল্পনা করেছেন, সেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে— সেই সব সম্পর্কে জানতে চান শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সেই হিসেবই তুলে ধরেন তুলে ধরেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবারের বৈঠক মূলত ছিল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বিষয়ে। এ ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জেনেছেন শাহ।

    রথযাত্রার পরিকল্পনা রাজ্যে

    রাজ্যে ভোটের দামামা বাজার অনেক আগে থেকেই জনসংযোগের দিকে মনোনিবেশ করেছে রাজ্য বিজেপি। সদস্য সংগ্রহ থেকে মণ্ডলে মণ্ডলে পথসভা করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির কাজ করছে তারা। সূত্রের খবর, সেই সব বিষয়ে খোঁজখবর নেন শাহ। কোন কোন মণ্ডলে পথসভা হয়েছে, কাদের ডাকা হয়েছে, কারা এসেছিলেন, কেমন প্রতিক্রিয়া— এমন নানা প্রশ্নের উত্তর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের থেকে জেনে নিতে চান শাহ। জনসংযোগ হিসেবে এ রাজ্যে রথযাত্রারও আয়োজন করবে বিজেপি। পাঁচ দিক থেকে রথ এসে জড়ো হবে এক জায়গায়। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কেও শাহ জেনেছেন।

    মঙ্গলবার দলের কোর গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক

    মঙ্গলবার দলের কোর গ্রুপের বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক ও কলকাতার দলের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর মত বিনিময় হবে বলেও এক্স হ্যান্ডলে লেখেন শাহ। শাহর নেতৃত্বে রাতের বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদাররা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও। রাজ্য নেতারা দলের সংগঠনিক প্রস্তুতি, প্রচার ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন শাহকে। সরকার গঠন হচ্ছেই, বৈঠকে জানান প্রত্যয়ী শাহ। প্রচারে কোন বিষয় জোর দিতে হবে সেটা ঠিক করে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি যেমন রয়েছে তেমনই শিল্প কৃষি, সড়ক পরিবহন, মহিলাদের ক্ষমতায়নের মতো বিকল্প উন্নয়নের মডেল প্রচারে আনার কথা বলেছেন বলে খবর। আজ মধ্যাহ্নভোজনের পর হোটেলে নির্দিষ্ট কয়েকজন শীর্ষনেতার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা।

    সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে

    মঙ্গলবার বিকেলে সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন অমিত শাহ। কেশব ভবনে হবে সেই বৈঠক। এর আগেও একাধিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে এবং প্রচারের অভিমুখ নির্ধারণে নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন‍্য আলাদা করে সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক আগে কখনও করেননি তিনি। এবার নির্বাচনী প্রচারে সর্বাত্মক ভাবে ঝাঁপানোর আগে সংঘের সঙ্গে সমন্বয় সেরে নিতে চাইছেন তিনি। শাহের কর্মসূচিতে সংঘের সঙ্গে এই বিশেষ বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কাল বুধবার সায়েন্স সিটিতে কলকাতা মহানগরীর মণ্ডল, জোন, জেলা এবং রাজ্যস্তরের নেতৃত্বদের নিয়ে সভা করবেন শাহ। তার আগে যাবেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে।

     

     

     

     

     

  • Amit Shah: “শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে ভারত, শুরু হবে রপ্তানি”, অমিত শাহ

    Amit Shah: “শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে ভারত, শুরু হবে রপ্তানি”, অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ধীরে ধীরে কেবল একটি বড় বাজার নয়, বরং একটি উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। সেই দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গোয়ালিয়রে অনুষ্ঠিত ‘অভ্যুদয় মধ্যপ্রদেশ গ্রোথ সামিট’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানালেন, সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors) ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে ভারত দ্রুত এডেস্কঃ এবং অদূর ভবিষ্যতেই এই খাতে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে ভারত।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কেবল স্লোগান নয় (Amit Shah)

    অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রবেশ করতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রবেশটা হয়েছে খুব শক্ত ভিতের উপর। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত শুধু এই ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরই হবে না, বরং বিশ্বের বাজারে সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors) রপ্তানি শুরু করবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এখন কেবল স্লোগান নয়, বরং প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে।

    মধ্যপ্রদেশের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থান ও উর্বর জমির বিশেষ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রদেশ এমন একটি রাজ্য যেখানে তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগেও বড় মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির রাজ্য থেকে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্যে রূপান্তর এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকেও তিনি ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে তুলে ধরেন।

    এই গ্রোথ সামিটে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগমূল্যের একাধিক শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-র ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে। বাজপেয়ীকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “অটলজি ছিলেন এক অসাধারণ বক্তা, সংবেদনশীল কবি, জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং রাজনীতিতে ‘অজাতশত্রু’ – যাঁর কোনও শত্রু ছিল না।”

    এদিন অমিত শাহ শ্রদ্ধা জানান সমাজ সংস্কারক পণ্ডিত মদন মোহন মালব্যের জন্মবার্ষিকীতে এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল সি রাজাগোপালাচারীর মৃত্যুবার্ষিকীতেও। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, আধুনিক ভারতের নির্মাণে এই মনীষীদের অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

    অটল মিউজিয়াম

    সামিট উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) গোয়ালিয়র মেলার উদ্বোধন করেন এবং অটল মিউজিয়ামের সংস্কার কাজ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। জানা গেছে, এই গ্রোথ সামিটে প্রায় ২৫ হাজার উপভোক্তা, পাশাপাশি হাজার হাজার উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী (Semiconductors) অংশগ্রহণ করছেন। সামিটে ঘোষিত ও উদ্বোধন হওয়া শিল্প প্রকল্পগুলির মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৯৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, এই সামিট কেবল একটি বিনিয়োগ সম্মেলন নয়-বরং তা ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আত্মনির্ভরতার দিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Bharat Taxi: আসছে দেশের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’! যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য দাবি শাহের

    Bharat Taxi: আসছে দেশের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’! যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য দাবি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) চালু হতে চলেছে দিল্লিতে। চালকদের আয় বাড়ানো এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার শীঘ্রই ‘ভারত ট্যাক্সি’ পরিষেবা চালু করতে চলেছে। সম্প্রতি এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিষেবা চালু করতে চলেছে। ট্যাক্সি পরিষেবার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর, চালকরা ভাড়ার লভ্যাংশ থেকে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। যার জন্য একটি মাসিক ক্রেডিট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে।

    যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য

    হরিয়ানার পঞ্চকুলায় অনুষ্ঠিত সহকারী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, সমবায় মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হতে যাওয়া এই পরিষেবায় অর্জিত সমস্ত লাভই চালকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। অমিত শাহের কথায়, “আমরা খুব শীঘ্রই ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) পরিষেবা চালু করব, যার প্রতিটি টাকার লাভ যাবে আমাদের চালক ভাইদের কাছে। এতে যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে এবং একই সঙ্গে চালকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।” দেশের অ্যাপ ক্যাব বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চলেছে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত ট্যাক্সি’। সূত্রের খবর, নতুন এই পরিষেবাটি জানুয়ারি মাসে নয়াদিল্লিতে পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু হতে চলেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দিল্লি এবং গুজরাটের বেশ কিছু অংশে পরীক্ষামূলক ভাবে পরিষেবা শুরু হয়েছিল ভারত ট্যাক্সির। এই নতুন পরিষেবা ওলা, উবর এবং র‌্যাপিডোর মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলিকে টক্কর জোর টক্কর দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভারত ট্যাক্সি কী?

    ভারত ট্যাক্সি (Bharat Taxi) পরিচালনা করছে সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড। এই প্ল্যাটফর্মকে চালক-মালিকানাধীন দেশীয় মোবিলিটি পরিষেবা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সংস্থার দাবি এটি বিশ্বের বৃহত্তম ড্রাইভার-ওনড মোবিলিটি নেটওয়ার্ক। বর্তমানে দিল্লি এবং গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে গাড়ি, অটো-রিকশা ও বাইক ট্যাক্সি মিলিয়ে এক লক্ষের বেশি চালক এই প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত রয়েছেন। ভারত ট্যাক্সি অ্যাপে স্বচ্ছ ভাড়া কাঠামো, একাধিক ভাষা, রিয়েল-টাইম গাড়ি ট্র্যাকিং এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহক সহায়তার সুবিধা রয়েছে। যাত্রী ও চালক—দু’পক্ষের নিরাপত্তার জন্য যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রেখে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    জিরো কমিশন মডেল

    ভারত ট্যাক্সির (Bharat Taxi) সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিরো-কমিশন মডেল। এই ব্যবস্থায় চালকরা ভাড়ার পুরো অর্থ নিজেরাই রাখতে পারবেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত চালকদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ক্যাব অপারেটর। এ ছাড়াও রয়েছেন অটো-রিকশা এবং বাইক ট্যাক্সির চালকেরা। সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ ইতিমধ্যেই ভারত ট্যাক্সির মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস— দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অ্যাপটি ৭৫ হাজারের বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে।

    ভাড়ার হার ও পরিষেবা

    এই প্ল্যাটফর্মে এসি, প্রিমিয়াম, নন-এসি এবং এক্সএল ক্যাবের অপশন মিলবে। সংস্থার দাবি, দু’মিনিটের মধ্যেই গাড়ি পাওয়া যাবে। ভাড়ার হারও তুলনামূলকভাবে অন্য সংস্থার থেকে কম থাকবে। এই অ্যাপে প্রথম ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ন্যূনতম ভাড়া ৩০ টাকা। ৪ থেকে ১২ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২৩ টাকা এবং ১২ কিলোমিটারের বেশি হলে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ টাকা ধার্য করা হবে। অন্যান্য অ্যাগ্রিগেটরদের মতোই ভারত ট্যাক্সি অ্যাপটি মেট্রোর মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পরিষেবার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে ব্যবহারকারীরা একটি মাত্র অ্যাপের মাধ্যমেই যাতায়াতের একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করে পুরো যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারবেন। বর্তমানে দিল্লি ও গুজরাটে পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালু রয়েছে। ব্যবহারকারীরা মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন আপ করতে পারবেন। পিক-আপ ও ড্রপ লোকেশন নির্বাচন করে পছন্দের রাইড বেছে নেওয়া যাবে। যাত্রার পুরো সময় রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করা যাবে। ব্যবহার প্রক্রিয়া অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার অ্যাপের মতোই সহজ।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন জনমুখী নীতি

    হরিয়ানার ওই অনুষ্ঠানে অমিত শাহ দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন জনমুখী নীতি নিয়ে কথা বলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাজেট বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে অমিত শাহ জানান, ২০১৪ সালে যেখানে কৃষি বাজেট ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। একইভাবে, গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৮০ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের উন্নয়নে হরিয়ানার অবদানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন শাহ। তিনি বলেন, “হরিয়ানা রাজ্যের কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও দুগ্ধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অসংখ্য পদক এনে জাতীয় পতাকাকে গর্বিত করেছেন।” পাশাপাশি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবকে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর করার ক্ষেত্রে কৃতিত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় হরিয়ানা থেকেই সর্বাধিক সংখ্যক সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য দেশকে রক্ষা করছেন।

     

     

     

     

     

  • PM Modi: লৌহ মানবের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী, শ্রদ্ধা জানালেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ

    PM Modi: লৌহ মানবের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী, শ্রদ্ধা জানালেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি ভারতের লৌহমানব সর্দার প্যাটেলকে এমন এক মহান নেতা হিসেবে অভিহিত করেন, যাঁর অতুলনীয় জাতি-গঠনের অবদান কৃতজ্ঞ জাতি কখনওই ভুলবে না।

    প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তব্য (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে লেখা একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাঁকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই। তিনি দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী ভারত গঠনে তাঁর অতুলনীয় অবদান কৃতজ্ঞ জাতি কখনও ভুলবে না।” হ্যা১৮৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। তিনি ভারতের জাতীয় ঐক্যের স্থপতি হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা-সহ আধুনিক সিভিল সার্ভিস গঠনের নেপথ্যের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন তিনিই।

    প্যাটেলকে শ্রদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা জানান। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, শক্তিশালী ভারতের স্থপতি, লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলজিকে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি শ্রদ্ধা জানাই।” তিনি এও বলেন (PM Modi), “অসংখ্য প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও সর্দার সাহেব একটি বিভক্ত স্বাধীন ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মাতৃভূমির সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠাকেই তিনি জীবনের লক্ষ্য করেছিলেন। সমবায় আন্দোলনের পুনরুজ্জীবন এবং নারী ও কৃষকদের স্বনির্ভরতার মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তি স্থাপন করে সর্দার সাহেব ‘জাতিই প্রথম’ নীতির পথে আমাদের সকলকে ধ্রুবতারা হয়ে পথ দেখিয়ে যাবেন।”

    মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সর্দার প্যাটেল স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় খেড়া সত্যাগ্রহ, ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন-সহ একাধিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি তাঁর বলিষ্ঠ বক্তৃতা ও অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিনটি প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় একতা দিবস হিসেবে পালিত হয়। এবার তাঁরই ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। সেকথা মাথায় রেখেই এবার কেন্দ্রীয় সরকার বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে (PM Modi)।

  • Amit Shah on SIR: ‘বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়েই কি এসআইআর-এর বিরোধিতা?’, নাম না করে মমতাকে তোপ শাহের

    Amit Shah on SIR: ‘বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়েই কি এসআইআর-এর বিরোধিতা?’, নাম না করে মমতাকে তোপ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে দু’দিনের আলোচনার শেষে জবাবি ভাষণে অনুপ্রবেশ প্রশ্নে সরব হলেন অমিত শাহ (Amit Shah on SIR)। কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতৃত্ব অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা কবচ দিতেই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সরব। এমনই দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘একজনও বিদেশিকে ভোট দিতে দেব না। আমাদের নীতি হল, ডিকেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট।’’ একই সঙ্গে ২২১৬ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এখনও ৫৬৩ কিলোমিটার বেড়া না হওয়ায় দায়ী করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেই।

    ভিনদেশিরা কেন ভোট দেবেন?

    লোকসভায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) আলোচনা-পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ- প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা কেন এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা করছেন? ভিনদেশি ভোটারদের কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার আছে? কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে? বিরোধীদের কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘‘এসআইআর আর কিছু নয়, এটা স্রেফ ভোটার তালিকার সংশোধন। আমি মেনে নিচ্ছি যে এটার কারণে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ঘা লাগবে। ওই দলগুলির প্রতি একদিক থেকে আমার সহানুভূতিও আছে। কারণ দেশের ভোটাররা তো ভোট দেন না। কয়েকটি ভোট বিদেশিরা দিয়ে দিতেন, সেটাও চলে যাবে। কিন্তু ভারতীয় হিসেবে আমাদের ঠিক করতে হবে যে এই দেশের সাংসদদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে, রাজ্যের বিধায়কদের নির্বাচনের জন্য বিদেশিদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত কি? আমাদের মতে, সেটা দেওয়া উচিত নয়।’’

    ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষ কেন?

    নাম না করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন যে বিজেপিও নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করেনি। এখন মমতা, হেমন্ত সোরেন, এমকে স্টালিনরাও কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন। আগে শুধু কংগ্রেস সেই কাজটা করত। কিন্তু বন্ধুত্বের ছোঁয়া লেগে গিয়েছে ইন্ডি জোটের দলগুলিতেও। তারইমধ্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপরে চটে যান শাহ। বুধবার লোকসভায় শাহ অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধীরা এসআইআর নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে। বুধবার লোকসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় শাহ বাংলার সীমান্তে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তোলেন। রাজ্যের দিকে অনুপ্রবেশকারী তোষণের অভিযোগ তোলেন তিনি।

    ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের’ স্বপ্ন শীঘ্রই পূর্ণ হবে

    পাশাপাশি, ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের’ স্বপ্ন খুব শীঘ্রই পূর্ণ হবে বলেই এদিন বার্তা দিলেন শাহ। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত হয়ে এদেশে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ছে। আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে মোট ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্য়ে ১ হাজার ৬৫৩ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শেষ। কিন্তু ৫৬৩ কিলোমিটার এখনও বাকি। অসম, ত্রিপুরায় কাজ শেষ। শুধু বাংলা এখনও বাকি।’ এই কাঁটাতার না বসানোর নেপথ্যে অনুপ্রবেশকারী তোষণকেই দায়ী করেছেন শাহ। তাঁর দাবি, ‘রাহুলের মতো অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করলে তৃণমূলেরও ওদের মতোই অবস্থা হবে। বিজেপি জয় ছিনিয়ে নেবে।’ অবশ্য শুধু অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই থেমে থাকেননি শাহ। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে আলোচনায় রাজ্য থেকে তৃণমূলকে ‘সাফ’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহের কথায়, ‘এসআইআর বিরোধিতা করলে বিহারের মতো বাংলা-তামিলনাড়ুতেও সাফ হয়ে যাবে।’

    রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র বিতর্ক

    এর পাশাপাশি বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর অতীতে করা অভিযোগেরও এদিন জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস সাংসদ হরিয়ানায় ভোটচুরির অভিযোগও করেছিলেন। এই নিয়ে রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক হয়। রাহুল সংসদে দাঁড়িয়ে শাহকে সাংবাদিক বৈঠক করা নিয়ে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহ বলেন, ‘‘সংসদ এভাবে চলবে না। আমি যে ক্রমে কথা বলব তা আমি সিদ্ধান্ত নেব। আমি এটি পরিষ্কার করতে চাই যে আমি ৩০ বছর ধরে বিধানসভা এবং সংসদে নির্বাচিত হয়েছি। সংসদীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।’’

    নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা শাহের

    নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে ভোটচুরি প্রসঙ্গে এদিন শাহ বলেন, ‘‘আপনার পরিবার ভোটচোর। স্বাধীনতার পরে কংগ্রেসের অন্দরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ২৮টি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সমর্থন পেয়েছিলেন, যেখানে নেহরু পেয়েছিলেন মাত্র দু’টি। কিন্তু প্যাটেলের বদলে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নেহরু। এটিই ছিল দেশের প্রথম ভোটচুরি।’’ নেহরু প্রসঙ্গের পরে জরুরি অবস্থার কথা টেনে শাহ নিশানা করেন ইন্দিরাকে। তিনি বলেন, ‘‘এলাহাবাদ হাইকোর্ট ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছিল। তখন তিনি গদি বাঁচাতে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন। এটি ছিল গণতন্ত্রের উপর আঘাত এবং ভোটচুরির দ্বিতীয় নির্লজ্জ উদাহরণ।’’ তাঁর নিশানা থেকে বাদ পড়েননি রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধীও। শাহ অভিযোগ করেন, ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন সোনিয়া। তিনি বলেন, ‘‘সোনিয়া গান্ধী ভারতের নাগরিক হওয়ার আগে কী ভাবে ভোটার হয়েছিলেন? ভোটচুরির এই তৃতীয় উদাহরণটি সম্প্রতি দেওয়ানি আদালতেও গিয়েছে।’’

  • Vande Mataram: “বন্দে মাতরমকে টুকরো টুকরো করেছিলেন পণ্ডিত নেহরু, তখন থেকেই তোষণ”, তোপ অমিত শাহের

    Vande Mataram: “বন্দে মাতরমকে টুকরো টুকরো করেছিলেন পণ্ডিত নেহরু, তখন থেকেই তোষণ”, তোপ অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে সংসদে চলছে বিশেষ আলোচনা পর্ব। সোমবার সূচনা ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন রাজ্যসভায় ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “বঙ্কিমের গানের ভিত্তিভূমি ছিল ভারতের আধ্যাত্মিক ও সংস্কৃতি রাষ্ট্রভক্তি। দেশকে মা বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ব্রিটিশরা যখন বিদেশী সংস্কৃতিকে আমদানি করেছিল সেই সময় বঙ্কিমচন্দ্র ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী’ মন্ত্রের জাগরণ ঘটান। গানে যদুনাথ ভট্টাটার্যের সুর দেওয়ারও ১৫০ বছর হয়েছে।” একই ভাবে লোকসভায় তিনি সোজাসুজি কংগ্রেসকে তোপ দেগে বলেন, “যে গান গাইলে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের বন্দি করত, ১৯৭৫ সালে সেই বন্দে মাতরম গান গেয়েই প্রচুর লোককে জেলে ঢুকিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাই যাঁরা গানের গুরুত্ব বুঝবেন তাঁদের আত্ম সমালোচনা করা উচিত।”

    দেশব্যাপী বিরাট আলোড়ন (Vande Mataram)

    রাজ্যসভায় বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “একথা সত্য বঙ্কিমচন্দ্র পরাধীন ভারতের বঙ্গভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আনন্দমঠের উৎপত্তিও বঙ্গভূমিতেই। গান প্রকাশিত হওয়ার বছর ত্রিশের মাথায় সারা দেশব্যাপী বিরাট আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এমনকি, দেশের বাইরেও এই গান ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও বন্দে মাতরম গান সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। আমাদের সেনা বাহিনী যেকোনও অভিযানে এই মন্ত্র উচ্চারণ করে থাকেন। এমনকি কোনও সেনা নিহত হলেও বন্দেমাতরম গানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।”

    আধ্যাত্মিক রাষ্ট্রবাদের পাঠ

    বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের আলোচনার প্রাসঙ্গিতাকে তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের পক্ষে থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে লোকসভায়। অভিযোগ, সামনেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট তাই ইতিহাসকে প্রাসঙ্গিক করে তোলা হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যসভায় বিরোধীদের অভিযোগকে তুলোধনা করে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “বন্দে মাতরম স্বাধীনতার সময়ে যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল বর্তমান সময়েও একই ভাবে প্রাসঙ্গিক। কেউ কেউ বাংলার ভোটের সঙ্গে যুক্ত করে গানের গুরুত্বকে ছোট করছেন। ভারতের এই সংসদ বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী বহন করে চলেছে। এবার বন্দে মাতরম গানকে চিরস্মরণীয় করতে এই আলোচনা। আগামী প্রজন্মকে আধ্যাত্মিক রাষ্ট্রবাদের পাঠ দিতে এই গানের বিরাট ভূমিকা পালন করবে।”

    স্বাধীনতার মন্ত্র

    অমিত শাহ ব্রিটিশ শাসনের অন্যতম খারাপ দিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে তোপ দেগে বলেন, “ব্রিটিশ শাসনে শুধু রাজনৈতিক আগ্রাসন ছিল না, এক নতুন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি করতে চেয়েছিল। আর সেই সময় ভারতীয় সংস্কৃতির ঢাল হয়ে বঙ্কিম রচনা করেন বন্দে মাতরম। তবে তখনকার সময়ে কোনও সামাজিক মাধ্যম ছিল না। শাসকরাও ব্যাপক বাধা দিয়েছিল। এই গান মন্ত্ররূপে সমস্ত জনমানসের মনকে স্পর্শ করে শিহরিত করে তুলেছিল। তাই কীভাবে ভারত মায়ের মুক্তির স্লোগান হয়ে উঠেছিল তাও আগামী প্রজন্মের মানুষকে জানতে হবে। স্বাধীনতার মন্ত্র ছিল এই গান (Vande Mataram)।”

    তবে এই বঙ্কিমচন্দ্রের গানকে চরম আঘাত হেনেছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বন্দে মাতরম গানের যখন সুবর্ণজয়ন্তী সেই সময় পণ্ডিত নেহরু গানকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন। গানের শব্দ বুঝতে অভিধানের ব্যবহার করতে হয়েছিল। নেহরু সাফ জানান গানে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে তাই মুসলিম সমাজের জন্য পরিপন্থী। অমিত শাহ বলেন, “গানকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন জওহরলাল নেহরু। গানের মহিমাকে ক্ষুণ্ণ করেছে কংগ্রেস। সেখান থেকেই শুরু তোষণ, আর তার পরবর্তীতে হয় দেশভাগ।”

    দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গা তিন রূপই ভারত

    ১৯৭৫ সালে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। গানের যখন শতবর্ষ পূর্ণ হয় সেই সময় দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন তিনি। বন্দে মাতরম (Vande Mataram) স্লোগান দেওয়া, গান গাওয়া ভারতীয়দের জেলে ভরে ছিলেন। এই গানের সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও কালেই আত্মিকতা ছিল না। তাই অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “আমাদের দেশ অনন্য অসাধারণ। ভারত একমাত্র এমন দেশ যে দেশের সীমান্ত সংস্কৃতি দিয়ে ঘেরা। আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ এক সুতোতে গাঁথা রয়েছে। আর তাই একতার প্রতীক বন্দে মাতরম। বঙ্কিমবাবু একবার চিঠি লিখে বলেছিলেন আমার সব সাহিত্যকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলেও কোনও অসুবিধা নেই। কেবলমাত্র বন্দে মাতরম গান অনন্তকাল ধরে চলবে। এই গানকে ঋষি অরবিন্দ বলেছিলেন নতুন ধর্মমত। ভারত আবার পুনঃনির্মিত হবে। বঙ্কিমের স্বপ্ন স্বার্থক হয়েছিল। ভারত শুধু কয়েক হাত জমি নয়, ভারত ভূমি হল মায়ের স্বরূপা। দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গার তিন রূপই ভারত মাতা। আমাদের সমৃদ্ধি, সুরক্ষা, জ্ঞান সবটাই ভারত মায়ের কৃপা। বিরাট সংকল্প ছিল ভারতের এই গানে।”

  • PM Modi on Vande Mataram: “মমতা কিছুই করেননি, মোদিজির কাছে কৃতজ্ঞ”, বন্দে মাতরম নিয়ে অকপট বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র

    PM Modi on Vande Mataram: “মমতা কিছুই করেননি, মোদিজির কাছে কৃতজ্ঞ”, বন্দে মাতরম নিয়ে অকপট বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘অবহেলা করার’ অভিযোগ তুললেন তাঁরই প্রপৌত্র সজল চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপন -এর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi on Vande Mataram) তাঁর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সজল। তাঁর কথায়, এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন যে দিল্লি থেকে যদি কেউ আসেন, যেমন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আধিকারিক, তাঁরা সবসময় পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে প্রচার করার জন্য বিভিন্ন ভাবনাচিন্তা আলোচনা করেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের একবারও আমন্ত্রণ জানাননি।

    বাংলায় অবহেলিত বঙ্কিমচন্দ্র

    সোমবার এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে সজল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন প্রতীকী নাম। তিনি ব্রিটিশদের উপর চাপ তৈরি করে রেখেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার (কংগ্রেস) না বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে গুরুত্ব দিয়েছে, না তাঁর কাজকে। এমনকী, ওরা এখনও একই রকম অবহেলা করে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই ওরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করেছে। অবশ্য বলে রাখা প্রয়োজন, এখনকার কেন্দ্রীয় সরকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে গুরুত্ব দেয়। তবে বাংলার সরকার সেই একই রকম রয়েছে।” এ বছরে ‘বন্দে মাতরম’ স্তোত্রর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন হচ্ছে। বছরভর জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা নিয়ে যদুনাথ ভট্টাচার্যের সুরারোপিত এই গানের ১৫০ বছর পূর্তি পালন করা হবে। সোমবারই সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই আবহে বাংলার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে বিঁধলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র সজল চট্টোপাধ্যায়।

    মুখ্যমন্ত্রীর এটা আগে করা উচিত ছিল

    রাজ্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে গিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের তৈরি হওয়া তাঁর ভাল সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন সজল। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা যে তাঁর মাঝে মধ্যেই খোঁজ নেন সেটাও জানিয়েছেন তিনি। সজল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “২০১৮ সালে অমিত শাহ আমাদের কলকাতার বাড়িতে এসেছিলেন। তখন তো এখানে কোনও নির্বাচন ছিল না। তিনি তাও এসেছিলেন। রাজ্য সরকারের মানসিকতা আমি বুঝতে পারি না।” রাজ্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে সজল বলেন, “এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। আমি এর জন্য নরেন্দ্র মোদিকে স্যালুট জানাই। বন্দে মাতরমকে জাতীয় মন্ত্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই মন্ত্রটি জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে ছিল। আমার প্রপিতামহের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ কিছু করেনি। এমন একটা সময়ে যখন পরবর্তী প্রজন্ম এই (বন্দে মাতরম) গানটি ভুলে যাচ্ছে, তখন মোদিজি যা করেছেন তা খুবই ভালো। আমি গর্বিত বোধ করছি। উনি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এখনও পর্যন্ত কিছুই করেননি; ওনার এটা আরও আগে করা উচিত ছিল। উনি মুখ্যমন্ত্রী; এত ক্ষমতা দিয়ে উনি এটা করতেই পারতেন। এই সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চেষ্টাই করা হয়নি।”

    কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই

    তিনি জানান যে, তিনি কোনও রাজনৈতিক কারণ দেখাচ্ছেন না, শুধু নিজের সত্যিটা তুলে ধরছেন। তাঁর কথায়, “আমরা রাজনৈতিক মানুষ নই। আমরা রাজনীতি করি না। আমরা শুধু সত্যি কথা বলি।” তিনি বলেন যে তিনি শুধু চান ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে জানুক এবং তাঁর অবদানের মূল্য দিক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ভারতের প্রথম স্নাতক ছিলেন, কিন্তু দেশে এখনও তাঁর নামে কিছুই নেই। সোমবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র বলেন, “আমাদের বঙ্কিম ভবন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় চাই। সংসদে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত বাজে, এটা মৌখিক ভাবে হয়। তারপর ‘বন্দে মাতরম’ বাজে, কিন্তু সেটা হয় শুধু সুরের মাধ্যমে অর্থাৎ ইনস্ট্রুমেন্টাল। আমাদের দাবি, এটাও গাইতে হবে।”

    ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্রকে 

    দিল্লিতে দেশের আইনসভায় বঙ্কিমচন্দ্রকে নিয়ে এত আলোচনা হলেও লেখকের প্রপৌত্রের অভিযোগ, নিজের রাজ্য অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গেই বঞ্চিত ‘আনন্দমঠের’ লেখক। তাঁর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু রাজ্য সরকার বঙ্কিমচন্দ্র বা তাঁর পরিবারকে কোনওদিন উপযুক্ত সম্মান দেয়নি। তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখকের প্রপৌত্রের আরও দাবি, অনেক লেখক, সাহিত্যিকের নামে রাজ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্য়ালয় রয়েছে। কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রের নামে কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর অবদান দেশের এবং রাজ্যের মানুষ ভুলে যাচ্ছে। সাহিত্য সম্রাটের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করা যায় না?  বঙ্কিম ভবন কোথায়? নেই। অথচ থাকা উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার যদি তা করতে উদ্যোগী হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে বন্দেমাতরম কী, কেন লেখা হয়েছিল ইত্যাদি। যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকে, তাহলে সেখানকার পড়ুয়ারাও বঙ্কিম চর্চা করতে পারবেন।

  • Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বুধবার দিল্লি গেলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে। শাহের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি, এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও (Election Commission) যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে।

    অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাত

    বুধবার দিল্লি গিয়েছিলেন শুভেন্দু। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। সংসদে অমিত শাহের অফিসে তাঁদের বৈঠক হয়। মিনিট ২৫ কথা হয়। তবে কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি শুভেন্দু। সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে শুভেন্দুর।

    নির্বাচন কমিশনের দফতরে শুভেন্দু

    সেইসঙ্গে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, কমিশনে একাধিক অভিযোগ জানান তিনি। দলের নির্দেশে তিনি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন বলে বিরোধী দলনেতা জানান। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২৬, ২৭ ও ২৮ নভেম্বর বিএলও-দের কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে যেভাবে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম ডিজিটাইজড করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক গতিবিধি। অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর বাবার নাম, মায়ের নাম পাল্টে দিয়ে এটা করা হয়েছে। একাধিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এটা দেখবেন।”

    কমিশনকে চিঠিতে শুভেন্দুর দাবি

    এসআইআর এর প্রথম দফার কাজকর্মে বাংলায় বুথ লেবেল অফিসারদের নানাভাবে তৃণমূল ম্যানেজ করেছে বলে বিজেপির অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে এসআইআর (SIR) এর দ্বিতীয় দফা প্রক্রিয়া শুরুর আগে কমিশনকে মঙ্গলবার চিঠি দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে শুভেন্দু সতর্ক করেছেন, “এই পর্যায়ে কোনও আপস হলে চিরস্থায়ী ক্ষতি হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সততায়।” চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর দ্বিতীয় ধাপ পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, এই ধাপেই দাবি-আপত্তি, নথি জমা ও খতিয়ে দেখার কাজ হয়। সেই কাজেই নাকি ‘অতিমাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব’ খাটানো হচ্ছে বলে “নির্ভরযোগ্য ও ধারাবাহিক রিপোর্ট” পাচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই অভিযোগগুলির কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে এসআইআর-এর নিরপেক্ষতা।

    মাইক্রো অবজার্ভারের তত্ত্বাবধানে স্ক্রুটিনি

    শুভেন্দুর দাবি, এসআইআর এর দ্বিতীয় ধাপকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে দু’টি ব্যবস্থা নিতে হবে। এক, পুরো প্রক্রিয়াই রাখতে হবে মাইক্রো অবজার্ভারের কঠোর তত্ত্বাবধানে। এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই মাইক্রো অবজার্ভারদের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হওয়া জরুরি। দুই, দাবি-আপত্তি শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ ১০০ শতাংশ সিসিটিভি–র আওতায় রাখতে হবে। এবং সেই সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে এসআইআর-এর শেষ দিন পর্যন্ত। তাঁর দাবি, এটা না হলে কারচুপি আটকানো অসম্ভব। চিঠিতে আরও লেখা আছে, ভোটার তালিকা দ্রুত ত্রুটি মুক্ত না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নির্বাচন কমিশনকে “অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও কঠোর নজরদারি” নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

  • Amit Shah: নাড্ডার নৈশভোজে ‘মিশন বেঙ্গল’ রণনীতি স্থির বিজেপির, অমিত শাহ দিলেন জয়ের টনিক

    Amit Shah: নাড্ডার নৈশভোজে ‘মিশন বেঙ্গল’ রণনীতি স্থির বিজেপির, অমিত শাহ দিলেন জয়ের টনিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহার জয়ের পর বাংলাকে টার্গেট করে দিল্লিতে রণনীতি স্থির করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডার বাড়িতে নৈশভোজনে বাংলা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষণ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ‘মিশন বেঙ্গল’-এর উল্লেখ করে বলেন, “যেখানে শক্তি কম সেখানেই যেতে হবে।” আগামী ২৬ সালের নির্বাচনে (WB Election 2026) কীভাবে বঙ্গ জয় হবে সেই রণকৌশল ঠিক করল কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। নেতাদের মধ্যে যেমন বিহার জয়ের উল্লাস ছিল, ঠিক তেমনি তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

    লোকের দুয়ারে পৌঁছে যেতে হবে (Amit Shah)

    প্রবীণ বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah) এদিন বলেন, “এখন বাংলাকে জয় করতে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। যেখানে আমাদের শক্তি কম সেখানে আমাদের পৌঁছাতে হবে। আরও বেশি বেশি করে লোকের দুয়ারে পৌঁছে যেতে হবে। নেতাদের ভূমিকা কেবল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়াই নয়। যেখানে যেখানে আমাদের লোকজন কম সেখানে সেখানে আমাদের কাজ বৃদ্ধি করতে হবে। সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস এবং আস্থা দিতে হবে। আমাদের উপস্থিতি যে সর্বত্র তা প্রমাণ করতে হবে। কোনও নেতা মনে করবেন না কেবলমাত্র নিজেদের গুণেই জয়ী হয়েছেন। আর যদি তা ভাবেন তাহলে তাকে আত্মতুষ্টি বলতে হবে। অহংকার যেন মনে তৈরি না হয়। বিহারের পর আমরা বাংলার দিকে এগিয়ে যেতে চাইছি। যেকোনও নেতাকেই যে কোনও কাজে যে কোনও এলাকায় কাজের জন্য পাঠানো যেতেই পারেই।”

    বাংলার ভিত্তি বিরাট শক্ত

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি কয়েক দিন আগেই সংবাদ মাধ্যমকে বিশেষ বার্তা দিয়ে অমিতা শাহ (Amit Shah) বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাই করুন না কেন আগামী বছর নির্বাচনে (WB Election 2026) বিজেপি জয়ী হবে। বিজেপি একসময় তিনটি আসনে ছিল এখন ৭৭ আসনে জয়ী হয়েছে। শতাব্দীর প্রাচীন দল প্রায় ৫০ বছর ধরে বাংলায় ছিল কংগ্রেস, এখন সেই দল শূন্যে পৌঁছে গিয়েছে। ৩৪ বছর কমিউনিস্ট সরকার শাসন করেছে তারাও আজ শূন্য। বাংলার পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পেয়ে গিয়েছে বিজেপি। ভিত্তি স্থাপন হয়ে গিয়েছে আগেই। এবার ভিত্তির উপর নির্ভর করে বাড়ি গড়তে হবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিশ্চিত ভাবে বিজেপি জয়ী হবে। তৃণমূলের সমস্ত অপশাসন থেকে বাংলা দ্রুত মুক্ত হবে।”

LinkedIn
Share