Tag: Anandamath

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করলে হবে জেল-জরিমানা! সংসদে আসছে নয়া বিল

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করলে হবে জেল-জরিমানা! সংসদে আসছে নয়া বিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে একটি সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র, যার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান (Jail Law India Bill) করা বা গানটি গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রস্তাবিত আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেরই বিধান রাখা হয়েছে।

    ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর আওতায় জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে এই আইনের অধীনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’কে ইচ্ছাকৃত অবমাননা বা অসম্মান থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা গান বন্ধ করে দেওয়াও এই আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পাবে ‘বন্দে মাতরম’ও। জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। ২০ জুলাই শুরু হবে সংসদের বাদল অধিবেশন। তখনই বিলটি পেশ করা হতে পারে। বিলটি প্রথমে লোকসভা এবং পরে রাজ্যসভায় পাস হতে হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই তা আইনে পরিণত হবে এবং সংশোধিত বিধান কার্যকর হবে।

    বন্দে মাতরম’কে জাতীয় প্রতীকের সমান আইনি সুরক্ষা

    প্রস্তাবিত আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করা বা গানটির পরিবেশন ব্যাহত করার ঘটনাকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দুর্ঘটনাজনিত কোনও ভুল, অনিচ্ছাকৃত আচরণ বা প্রকৃত ভুলবশত ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সচেতনভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয় গানকে অসম্মান করেছেন বা গান পরিবেশন বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন (Jail Law India Bill)। কেন্দ্রের মতে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরমে’র গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে এই গান অসংখ্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই জাতীয় গানকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতীকের সমান আইনি মর্যাদা ও সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

    জাতীয় চেতনায় বিশেষ স্থান বন্দে মাতরমের

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জাতীয় সঙ্গীত, ‘বন্দে মাতরম’, বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সঙ্গীত এবং ভিনদেশের জাতীয় সঙ্গীত সরকারি অনুষ্ঠানে কীভাবে পরিবেশন করা হবে, সেই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সর্বত্র একই ধরনের সম্মান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল ওই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য। তার কিছুদিনের মধ্যেই ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠে’ প্রথম এই গান প্রকাশিত হয়। পরবর্তী কালে এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেই কারণেই গানটি আজও দেশের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনায় বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে (Jail Law India Bill)। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ হলেও, ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে গানটির প্রথম দুটি স্তবকই সরকারিভাবে স্বীকৃত এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে এই অংশই সাধারণত গাওয়া হয়। নতুন সংশোধনী আইন কার্যকর হলে জাতীয় সঙ্গীতের মতো জাতীয় গানকেও আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হবে।

    ‘বন্দে মাতরমে’র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দেড়শো বছর পূর্তি

    প্রস্তাবিত সংশোধনী এমন এক সময়ে আনা হচ্ছে, যখন ‘বন্দে মাতরমে’র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দেড়শো বছর পূর্তি পালন করা হচ্ছে। ফলে এই আইন কেবল প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই নয়, ঐতিহাসিক ও প্রতীকী দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তবে বিলটি এখনও আইন হয়ে যায়নি। সংসদের উভয় কক্ষে তা নিয়ে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাবও উঠতে পারে। উভয় কক্ষের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই সংশোধনী কার্যকর হবে। সেই পর্যন্ত এটি একটি প্রস্তাবিত আইন হিসেবেই বিবেচিত হবে। আইনটি কার্যকর হলে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। এর ফলে জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ও একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গানকে অপমান করা বা গান পরিবেশনে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে এবং আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে (Vande Mataram)।

    কী বলছে কেন্দ্র

    কেন্দ্র সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে আরও (Jail Law India Bill) দৃঢ়ভাবে সংরক্ষণ করা। সংসদের বাদল অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল নিয়ে কী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় (Vande Mataram), এখন তা-ই দেখার।

     

  • Bankim Chandra Chattopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রভাব, জাতীয় চেতনার অমর পথপ্রদর্শক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    Bankim Chandra Chattopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রভাব, জাতীয় চেতনার অমর পথপ্রদর্শক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসংখ্য আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বের অবদানে সমৃদ্ধ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। সেই সব মহাপুরুষদের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনন্য। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী মন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। সশস্ত্র বিপ্লবী থেকে শুরু করে অহিংস জাতীয় আন্দোলনের কর্মী—সবার কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে এই গান, যা ভারতবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে শক্তি জুগিয়েছিল।

    বঙ্কিমচন্দ্রের দেশপ্রেম (Bankim Chandra Chattopadhyay)

    ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন (কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে অবশ্য ২৬ জুন উল্লেখ রয়েছে) বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সমৃদ্ধ ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারের সদস্য। মা দুর্গাদেবী ছিলেন ভারতীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধে গভীরভাবে আস্থাশীল। শৈশব থেকেই বঙ্কিমচন্দ্রের মনে রোপিত হয় দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও সাংস্কৃতিক চেতনার বীজ। প্রথমে হুগলি কলেজ এবং পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষালাভ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় তিনি স্নাতক স্তরের ছাত্র ছিলেন। ব্রিটিশদের নির্মম দমননীতি এবং গণহত্যার খবর তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। বিদ্রোহের কারণ ও ব্যর্থতার পেছনের বাস্তবতা তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন। একই বছরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম ভারতীয় স্নাতক হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগ দেন। পরে বঙ্গ সরকারের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৬৯ সালে আইনশাস্ত্রে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে সমাজের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন।

    ‘বঙ্গদর্শন’

    ভারতের গৌরবময় অতীত এবং ঔপনিবেশিক শাসনের কাছে অনেক ভারতীয়ের আত্মসমর্পণের মানসিকতা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। তাই সাহিত্যকে তিনি জাতীয় চেতনা জাগরণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা ‘Rajmohan’s Wife’ ইংরেজিতে লেখা হলেও, সেখানে ঔপনিবেশিক সমাজের বাস্তব চিত্র উঠে আসে। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্নিহিত শক্তিকে তুলে ধরে পাঠকদের নতুনভাবে প্রাণিত করে। এরপর প্রকাশিত হয় ‘কপালকুণ্ডলা’। ১৮৭২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রভাবশালী মাসিক পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন’, যা দ্রুতই জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়। ‘বঙ্গদর্শনে’ নিয়মিতভাবে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ও ভারতের প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হত। এখানেই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ‘বিষবৃক্ষ’, যেখানে সমাজের দুর্বলতা ও সংকীর্ণতার প্রতীকী বিশ্লেষণ করা হয়। একইভাবে ‘কৃষ্ণকান্তের উইলে’ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গও ফুটে ওঠে।

    কালজয়ী সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’

    ১৮৭৬ সালের ৭ নভেম্বর কাঁঠালপাড়ায় তিনি রচনা করেন কালজয়ী সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘আনন্দমঠে’ গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘বন্দে মাতরমে’র প্রথম দু’টি স্তবক সংস্কৃত ভাষায় এবং পরবর্তী অংশ বাংলা ভাষায় রচিত। শ্রীঅরবিন্দ এই গানের প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত ‘আনন্দমঠ’ শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং জাতীয়তাবাদ, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রকাশের পর থেকেই ‘বন্দে মাতরম’ দেশজুড়ে জনসভা, আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়।

    বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের প্রভাব

    বঙ্কিমচন্দ্রের শেষ উপন্যাস ‘সীতারামে’ (১৮৮৬) মধ্যযুগীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্র ফুটে ওঠে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘মৃণালিনী’, ‘ইন্দিরা’, ‘রাধারাণী’, ‘দেবী চৌধুরাণী’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ এবং ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’। ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ এবং কবিতাও লিখেছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধকে নতুনভাবে তুলে ধরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ‘কৃষ্ণচরিত্র’ গ্রন্থে তিনি আদর্শ সমাজ গঠনের নৈতিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। ‘ধর্মশাস্ত্রে’ দেশপ্রেমকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। ‘লোক রহস্যে’  পরনির্ভরশীল রাজনীতির সমালোচনা করে আত্মনির্ভরতার আহ্বান জানান। ‘আমার দুর্গোৎসবে’ বিধবা বিবাহ, নারীর স্বাধীনতা এবং অন্ধ পাশ্চাত্য অনুকরণের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, মাতৃভূমি কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং পূজার যোগ্য এক জীবন্ত জননী।

    হিন্দু সমাজের সমালোচনা

    হিন্দু সমাজের সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য—“হিন্দু সমাজ কুমারসম্ভব ছেড়ে সুইনবার্ন পড়ে, ভগবদ্গীতা ছেড়ে মিল পড়ে, আর ওড়িশার পাথরের ভাস্কর্য উপেক্ষা করে ইংরেজদের পোর্সেলিন পুতুলের প্রশংসা করে”—আজও সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা ও বৌদ্ধিক স্বাধীনতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল প্রয়াত হন বঙ্কিমচন্দ্র। তাঁর মৃত্যু কেবল একটি জীবনের সমাপ্তি, যদিও তাঁর চিন্তা, সাহিত্য, আদর্শ এবং ‘বন্দে মাতরম’ আজও ভারতের জাতীয় চেতনা, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও স্বাধীনতার ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে রয়েছে।

     

LinkedIn
Share