Tag: Anandapur Fire

  • Suvendu Adhikari: “দেহাংশ ফলের প্যাকেটে পাচার হয়ে যাচ্ছে”, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “দেহাংশ ফলের প্যাকেটে পাচার হয়ে যাচ্ছে”, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবৈধ কারখানায় আগুন লেগে আনন্দপুরে (Anandapur Fire) এখনও পর্যন্ত ২৪ টি পোড়া দেহ উদ্ধার হয়েছে। দুটো বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কাটাপুকুর মর্গে। এখনও নিখোঁজ অন্তত পক্ষে ২৭ জন। ২৭ জন পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। ১৬টি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে নাজিরাবাদে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দাঁড়িয়ে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এখান থেকে দেহাংশ ফলের প্যাকেটে পাচার হয়ে যাচ্ছে।”

    ৩৫-৪০টি মৃত দেহ উদ্ধারের কথা (Suvendu Adhikari)!

    রাজ্য সরকারের দমকল বাহিনীর চূড়ান্ত অবহেলা এবং ব্যর্থতার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের ধারণা ৩৫-৪০ জনের মতো মানুষের মৃত দেহ উদ্ধার হওয়ার কথা। ঘটনার চার দিন হয়ে গেল, মুখ্যমন্ত্রী কোথায়? শুধু ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে চিন্তিত। অধিকাংশ মেদিনীপুরের লোক, আমরা যতটা পেরেছি, পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ক্রেডিট নিতে চাই না, দুর্ভাগ্য একটাই, এটা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট ব্যাঙ্ক নয় বলে রাজ ধর্ম পালন করেননি। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে অবস্থিত (Anandapur Fire)। ওনার তো আসা উচিত ছিল।” উল্লেখ্য সিঙ্গুরের সভা থেকে মৃতদের ১০ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তবে শুভেন্দু তোপ দেগে কটাক্ষ করেছেন যে রাজ্যে দমকল বিভাগ এবং অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ অকেজো, এই টাকা সত্যই প্রহসনের চেয়ে কম কিছু নয়।

    জতুগৃহ কলকাতা!

    রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে তোপ দেগে শুভেন্দু আরও বলেন, “এই যে জতুগৃহ কলকাতা বা বৃহত্তর কলকাতায় তৈরি হয়েছে এর জন্য স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস ও স্থানীয় থানাগুলি দায়ী। এই যে গোডাউনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে দেড় লক্ষ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে। তার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা স্থানীয় বিধায়কের হাতে দিতে হয়। না আছে লাইসেন্স, না অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। এরপরও কেন সরকার চুপচাপ? কেন ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবেন না? চাকরি দেবেন না? জলাভূমিতে (Anandapur Fire) কেন নির্মাণ হবে?”

    প্রশাসনের মত ডিএনএ পরীক্ষা করাও বেশ কঠিন

    প্রশাসনিক সূত্রে আবার জানা গিয়েছে, পুড়ে যাওয়া দেহের অংশ বিশেষ ব্যাগে ভরে কাটাপুকুর মর্গে (Anandapur Fire) পাঠানো হয়েছে। যাদের দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁদের দেহ আপাতত শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে যা উদ্ধার হয়েছে তা সবটাই কয়লার মতো ছাই। এই উপানদানগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করাও বেশ কঠিন। রক্তের নমুনা দেখে দেহ শনাক্ত করণের কাজ চলছে। গত রবিবার রাত ১ টার কিছু পর আনন্দপুরে জোড়া গুদামে আগুন লেগে গিয়েছিল। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দেড় দিনের বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলে ঘটনাস্থলে। গুদামগুলিতে আগুনের তাপ এখনও দগদগে।

  • Suvendu Adhikari: “আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড ম্যান মেড”, প্রশাসনের গাফিলতি, ব্যর্থতা নিয়ে মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড ম্যান মেড”, প্রশাসনের গাফিলতি, ব্যর্থতা নিয়ে মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডকে (Anandapur Fire) ম্যান মেড তত্ত্ব দিয়ে তৃণমূল সরকারের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটলেও রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেন না। সেখানে দেখা গেল বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। এই প্রশ্নই শাসক দলের বিরুদ্ধে জনরোষ এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকার কীভাবে এই রকম একটি অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারে? অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

    জলাভূমির চরিত্র বদলে ফেলা হয়েছে (Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড (Anandapur Fire) কোনও দুর্ঘটনা নয়। এই সরকারের গাফিলতির ফল। এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দীর্ঘদিনের গাফিলতি, অযোগ্যতা এবং শাসন ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার সরাসরি পরিণতি। প্রশাসনিক নজরদারির অভাবের ফলেই নিয়ম-কানুন উপেক্ষিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পূর্ব কলকাতার জলাভূমির চরিত্র বদলে ফেলা হয়েছে। রাজ্যে কারখানা বলে কিছু নেই। বেআইনি নির্মাণ রুখতে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ এই সরকার। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো নিরীহ শ্রমিকেদের পরিবারগুলোর প্রতি আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আন্তরিক সমবেদনা জানাই। সব মিলিয়ে ৮ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে আগামী সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। অনেক মৃত দেহকে সঠিক ভাবে শনাক্ত করা যায়নি।”

    জরুরি বেরনোর পথ ছিল না

    বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও নিখোঁজ অধিকাংশ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন অত্যন্ত তরুণ এবং তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁদের বড় অংশ তো বড় অংশই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলার বাসিন্দা। আনন্দপুরের (Anandapur Fire) নাজিরাবাদ এলাকায় এই মানবসৃষ্ট বিপর্যয় ঘটেছে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি অঞ্চলে, যেখানে বেআইনিভাবে জমির চরিত্র বদলে দেওয়া হয়েছে। একেরপর অবৈধ শিল্প ইউনিট গড়ে উঠেছে। সরকারি বিধিনিষেধকে অমান্য করে অবৈধ নির্মাণের জন্যই এই বিরাট অগ্নিকাণ্ড। দাহ্য পদার্থে ভর্তি তালাবদ্ধ গুদামের ভেতরে মানুষ আটকে পড়েছিলেন। সেখানে কোনও জরুরি বেরনোর পথ ছিল না, সংকীর্ণ গলির কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কোনও সরঞ্জামও ছিল না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে-এটা কীভাবে সম্ভব হল? কলকাতার একেবারে কাছেই এত বিপজ্জজনক গুদামে শ্রমিকদের রাত কাটাতে বাধ্য করা হল? কেউ কীভাবে কিছু জানতে পারলেন না কেন? রাজ্যের দমকল দফতর, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কোথায় ছিল? একাধিক নানা প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী।”

    ৩০ ঘণ্টার পর কেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু?

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দমকলমন্ত্রীকে তোপ দেগে বলেন, “৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। যাঁর বাড়ি ওই এলাকা থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে। অথচ তিনি নির্লজ্জভাবে প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষ গুদামের ভেতরে ছিল। লজ্জাজনক! প্রশ্ন তোলার বদলে তাঁর প্রশাসনের উচিত ছিল এর উত্তর দেওয়া। এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা, দুর্নীতি ও অপশাসনের ওপরই বর্তায়। এএমআরআই হাসপাতাল থেকে বড়বাজার, আর এবার আনন্দপুর (Anandapur Fire)—একটির পর একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে, অথচ কোনও শিক্ষা নেওয়া হচ্ছে না, কোনও দায়ও স্বীকার করা হচ্ছে না। এটাই পশ্চিমবঙ্গের ‘নো গভর্নমেন্ট’-এর প্রমাণ।”

    আগুন লাগিয়ে জমি দখল!

    উল্লেখ্য আনন্দপুরের (Anandapur Fire) মতো রাজ্যে প্রত্যেকবার শীতের মরশুমে ঝুপড়ি, ছোট ছোট গুদাম, কারখানা এবং বস্তি এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি বড়বাজার, বাগরি মার্কেট, গড়িয়াহাট, সখের বাজার, খিদিরপুর, মঙ্গলাহাট সহ একাধিক এলাকায় বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই ভাবে বেআইনি নির্মাণের ফলে অধিক ঘন বসতি, বিদ্যুৎ চুরি, শর্ট সার্কিটের ঘটনায় বার বার আগুন লাগানোর ঘটনা পুরসংস্থা, দমকল বাহিনী, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবহার ঠিক ভাবে করা হয় না বলে বিরোধীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বার বার অভিযোগ তুলেছে। একবার আগুন লাগিয়ে এলাকা দখলের গভীর ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও যুক্ত থাকেন তৃণমূলের নেতারা। মুখ্যমন্ত্রী বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কথা এবং কাজের সঙ্গে মিল নেই বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

LinkedIn
Share