মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রিপাবলিকানদের একাংশের ভারতবিরোধী প্রচার নির্বাচনে তাঁদের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠেছে বলে দাবি করলেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর বক্তব্য (Anti Indian Rhetoric), ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে বৈষম্য ও বিদ্বেষের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। তার প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনী রাজনীতিতে (MAGA)।
এক সাক্ষাৎকারে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য সতর্কবার্তা। বিশেষ করে যাঁরা ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রেখেছেন, তাঁদের এই ফল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদের নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Anti Indian Rhetoric)
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদের নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ওই নির্বাচনে ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত বো ফ্রেঞ্চের পরাজয়কে ভোটারদের প্রতিবাদের উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভারতবিদ্বেষী ব্যক্তিকে দেখেছি। তিনি টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদে নির্বাচনে লড়েছিলেন। কিন্তু জন রোজেনথালের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “জন রোজেনথাল নিঃসন্দেহে একজন ভালো প্রার্থী ছিলেন। তবে আমার বিশ্বাস, বো ফ্রেঞ্চের বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের ক্ষোভও তাঁর জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।”
বিদ্বেষের মূল্য চোকাতে হতে পারে
কৃষ্ণমূর্তির মতে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ালে তার রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হতে পারে রিপাবলিকান প্রার্থীদের। এই ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “দয়া করে এই পথে এগোবেন না। নইলে নির্বাচনে আপনাদেরও এর ফল ভোগ করতে হবে।”
তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানেই বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব থাকবেন। তবে নির্বাচনের ফলের এই ব্যাখ্যা যে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন, তা-ও স্পষ্ট। ভারতবিরোধী প্রচারই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ, এমন কোনও প্রমাণিত তথ্য তিনি তুলে ধরেননি।
ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটাররা?
ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে হিন্দুবিদ্বেষ এবং এশীয়বিরোধী মনোভাব বাড়ার কারণে তাঁদের ভোটদানের প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, “আমি নিশ্চিতভাবে জানি না।” তবে তাঁর পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে নিজেদের সম্প্রদায়কে ঘিরে বিরূপ মনোভাব ও বৈষম্যের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
কৃষ্ণমূর্তির অনুমান, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের হার কমে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তা ফের বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। তাঁর কথায়, “আমার ধারণা, এই পরিস্থিতি তাঁদের ভোটদানের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।” তবে এই পরিসংখ্যানগুলি কৃষ্ণমূর্তির ব্যক্তিগত অনুমান। এগুলির সমর্থনে কোনও পরিসংখ্যান (Anti Indian Rhetoric) তিনি পেশ করেননি।
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী কৃষ্ণমূর্তি
ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শিবিরের সমালোচনা করলেও, ওয়াশিংটনে ভারতের প্রতি দ্বিদলীয় সমর্থন এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর কথায়, “আমি মনে করি, ভারতের প্রতি আমেরিকায় এখনও দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেই যথেষ্ট জোরালো সমর্থন রয়েছে।”
তবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের প্রতি বিরূপ আচরণ, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইলিনয়ের অরোরা শহরের একটি হিন্দু মন্দিরে গণহত্যার চেষ্টার প্রসঙ্গও তোলেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর দাবি, অস্ত্রধারী এক হামলাকারী মন্দিরে পৌঁছনোর সময় তিনি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের আরও বেশি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান (MAGA) তিনি। তাঁর মতে, বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে জাতীয় আইনসভা পর্যন্ত সর্বস্তরে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো জরুরি। তবেই (Anti Indian Rhetoric) তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত করা সম্ভব হবে বলেই মনে করেন কৃষ্ণমূর্তি।
