Tag: Anti Maoist Operation

  • gadchiroli: জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল মাওবাদীদের গোপন অস্ত্র কারখানা! বিশাল অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশ-সিআরপিএফের

    gadchiroli: জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল মাওবাদীদের গোপন অস্ত্র কারখানা! বিশাল অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশ-সিআরপিএফের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্য পেল মহারাষ্ট্র পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তবর্তী গড়চিরোলির ঘন জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অভিযানের ফলে মাওবাদীদের সংগঠন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে।

    গোপন সূত্রের ভিত্তিতে শুরু অভিযান

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ জুনের অভিযান ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাওবাদী-বিরোধী অপারেশন। গোপন সূত্রে খবর মিলেছিল, মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তের বালবেদা জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীরা একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্র উৎপাদন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও মজুত করা হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ জুন গড়চিরোলি জেলার পুলিশ সুপার এম রমেশের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অংশ নেয় গড়চিরোলি ও প্রণহিতা স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের ছয়টি দল, একটি বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিডিএস) এবং সিআরপিএফ-এর একটি বিশেষ দল।

    জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল অস্ত্র কারখানা

    ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি অভিযান ২৭ জুন আরও জোরদার করা হয়। বিডিডিএস-এর সদস্যরা সন্দেহজনক এলাকাগুলি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির যন্ত্রপাতি এবং সামগ্রী উদ্ধার করেন।

    উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

    • ● প্রায় ৫ থেকে ৬ টন ওজনের একটি ভারী লেদ মেশিন
    • ● ১৫০টি ক্লেমোর মাইন ও ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের (BGL) পাইপ
    • ● ২২০টি ১২-বোর বন্দুকের ব্যারেল বা পাইপ
    • ● ২০টি রাইফেলের রড ও ধাতব স্ট্রিপ
    • ● অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত আরও বহু ধরনের যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল

    তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই কারখানায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, মেরামত এবং বিস্ফোরক প্রস্তুতের কাজ চলত। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলি ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা হতে পারত।

    ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হল সব সামগ্রী

    উদ্ধারের পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সমস্ত অস্ত্র, যন্ত্রপাতি এবং কারখানার অবকাঠামো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বিডিডিএস ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভারী লেদ মেশিনসহ সমস্ত সরঞ্জাম নষ্ট করেন, যাতে ভবিষ্যতে মাওবাদীরা সেগুলি পুনরায় ব্যবহার করতে না পারে। পুলিশের মতে, শুধু অস্ত্র উদ্ধার করাই নয়, অস্ত্র তৈরির পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া আরও বড় সাফল্য। এর ফলে মাওবাদীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

    আগের অভিযানগুলির ধারাবাহিক সাফল্য

    এটি গত কয়েক মাসে গড়চিরোলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক সফল অভিযানেরই অংশ। এর আগে ২৩ মে এবং ২৭ মে পরিচালিত পৃথক অভিযানে মাওবাদীদের আরও বেশ কিছু অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই অভিযানের সূত্র ধরেই নতুন গোয়েন্দা তথ্য হাতে আসে এবং বালবেদা জঙ্গলে এই বৃহৎ অপারেশন চালানো সম্ভব হয়।

    মাওবাদী নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা

    পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ের সীমান্তবর্তী দুর্গম বনাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে মাওবাদীরা অস্ত্র তৈরি, বিস্ফোরক মজুত এবং যুদ্ধসামগ্রী লুকিয়ে রাখত। নির্বাচনের সময়, তথাকথিত ‘মাওবাদী পর্যবেক্ষণ সপ্তাহ’ কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার আগে এই গোপন ভাণ্ডারগুলি থেকে অস্ত্র বের করে ব্যবহার করা হত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই ধরনের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার ও উৎপাদন কেন্দ্র চিহ্নিত করে ধ্বংস করা গেলে ভবিষ্যতে মাওবাদী কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

    ‘গড়চিরোলিতে মাওবাদী প্রভাব প্রায় শেষ’

    পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য, গড়চিরোলি জেলায় মাওবাদী কার্যকলাপ এখন কার্যত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এবং জেলায় চরমপন্থী সংগঠনের প্রভাব শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী এবং সিআরপিএফ-এর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে একসময়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই জেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অধিকর্তাদের মতে, ভূগর্ভস্থ অস্ত্র কারখানা ধ্বংস এবং বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার নষ্ট করার এই অভিযান শুধু গড়চিরোলির জন্য নয়, সমগ্র মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তে মাওবাদী কার্যকলাপ নির্মূলের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। নিরাপত্তা বাহিনী ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই ধরনের অভিযান চালিয়ে মাওবাদীদের অবশিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।

  • Gadchiroli Encounter: গড়চিরোলিতে মাওদমন অভিযানে খতম ৩ মাওবাদী, নিহত এক ‘সি-৬০’ জওয়ান

    Gadchiroli Encounter: গড়চিরোলিতে মাওদমন অভিযানে খতম ৩ মাওবাদী, নিহত এক ‘সি-৬০’ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছত্তিশগড় সফরের ঠিক আগে মহারাষ্ট্র–ছত্তিশগড় সীমান্তের গড়চিরোলি (Gadchiroli Encounter) জেলায় চলমান নকশাল-বিরোধী অভিযানে (Anti-Naxal Operation) তিন মাওবাদী খতম হয়েছে। ওই অভিযানে আহত এক সি-৬০ জওয়ানও মারা গেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এলাকা থেকে এক পুরুষ মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল ও একটি এসএলআর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আরও এক পুরুষ ও এক মহিলা মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়। তবে তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

    নিহত এক জওয়ান, আহত আরও এক

    আহত জওয়ান দীপক চিন্না মাদাভি (৩৮), যিনি আহেরির বাসিন্দা, তাঁকে শুক্রবার ভোরে অবুঝমাড় জঙ্গলের ভেতর থেকে এয়ারলিফট করে ভামরাগড়ের নিকটবর্তী সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অন্যদিকে, আরেক জওয়ান জোগা মাদাভি, যিনি কিষ্ট্যাপল্লির বাসিন্দা, বৃহস্পতিবার রাতে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকেও উদ্ধার করে এয়ারলিফটের মাধ্যমে ভামরাগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং শীঘ্রই তাকে গড়চিরোলিতে স্থানান্তর করা হবে।

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান

    এ বিষয়ে গড়চিরোলির পুলিশ সুপার নীলোৎপল বলেন, “নারায়ণপুর সীমান্তবর্তী অবুঝমাড় এলাকায় গত তিন দিন ধরে অবশিষ্ট মাওবাদী ক্যাডারদের ধরতে অভিযান চলছে। এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।” পুলিশ জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পর এই নকশাল-বিরোধী অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় ১০ নম্বর কোম্পানির মাও-ক্যাডারের সঙ্গে ছত্তিশগড়ের একটি অজ্ঞাত মাওবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিতির কথা পুলিশ জানতে পারে। এর পরেই অভিযান শুরু হয় নারায়ণপুর–গড়চিরোলি জেলা সীমান্তের কাছে, ফোদেওয়াদা গ্রামের কয়েক কিলোমিটার দূরে। এতে ভামরাগড়ের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে ১৪টি সি-৬০ ইউনিট অংশ নেয়।

    মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য গুলির লড়াই হয়। তল্লাশি অভিযানে দুটি মাওবাদী ক্যাম্প ধ্বংস করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ মাওবাদ-সম্পর্কিত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে মাওবাদীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার সকালে অভিযান আরও জোরদার করতে চারটি অতিরিক্ত সি-৬০ ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) একটি কুইক অ্যাকশন টিম মোতায়েন করা হয়। এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে।

    ছত্তিশগড়ে তিনদিনের সফরে শাহ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের সফরে ছত্তিশগড় যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি রাজ্যে বিদ্যমান মাওবাদ-পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ বা বামপন্থী চরমপন্থা (LWE) সম্পূর্ণ নির্মূল করার কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী অমিত শাহ ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রায়পুরে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    মাও-গড়ে শাহি বৈঠক

    ছত্তিশগড় বিশেষ করে বস্তার অঞ্চল মাওবাদ হিংসায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত রাজ্যগুলির অন্যতম হওয়ায়, কেন্দ্রের জোরদার মাওদমন অভিযান প্রেক্ষিতে এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়পুরে বামপন্থী চরমপন্থা (LWE) সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে চলমান মাও-বিরোধী অভিযানের অগ্রগতি, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রভাবিত জেলাগুলিতে উন্নয়নমূলক উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

  • Anti Maoist Operation: ‘অপারেশন সঙ্কল্পে’ বড়সড় সাফল্য বাহিনীর, খতম ৩১ মাওবাদী

    Anti Maoist Operation: ‘অপারেশন সঙ্কল্পে’ বড়সড় সাফল্য বাহিনীর, খতম ৩১ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সঙ্কল্পে’ (Anti Maoist Operation) বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের দাবি, অভিযানে এখনও পর্যন্ত নিকেশ হয়েছে অন্তত ৩১ জন মাওবাদী (Bijapur)।

    ‘অপারেশন সঙ্কল্প’ (Anti Maoist Operation)

    পুলিশ জানিয়েছে, ছত্তিশগড়-তেলঙ্গানা সীমানায় চলছে ‘অপারেশন সঙ্কল্প’। তাতেই মিলেছে ৩১ জন নিকেশ হওয়ার খবর। এই অভিযান সম্পর্কে অবশ্য বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি ছত্তিশগড় পুলিশের তরফে। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, ছত্তিশগড়-তেলঙ্গানা সীমানায় কারেগুট্টা পাহাড়ের আশপাশের ঘন জঙ্গলে অপারেশন চলাকালীনই মৃত্যু হয় ওই মাওবাদীদের। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আনবেন বিজাপুরের পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র যাদব।

    ২০ জনকে শনাক্ত

    পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৩১ জন মাওবাদীর মধ্যে ২০ জনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার পরে ১১ জনের দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে তাদের পরিবারের হাতে। বাকিদের দেহ শনাক্তকরণের কাজ চলছে। ২১ এপ্রিল শুরু হয়েছে ‘অপারেশন সঙ্কল্প’। নিরাপত্তাবাহিনীর একাধিক ইউনিট – ছত্তিশগড় পুলিশের জেলা রিজার্ভ গার্ড, বাস্তার ফাইটার্স, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, সিআরপিএফ এবং কোবরা ইউনিট এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার জওয়ান ঘিরে রেখেছে এই জঙ্গল। জঙ্গলে প্রায় ৫০০ জন মাওবাদী রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ৪০০টিরও বেশি আইইডি, প্রায় ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র, প্রায় ২ টন বিস্ফোরক। পুলিশের দাবি, মাওবাদীদের ঘাঁটি (Anti Maoist Operation) চিহ্নিত করে একের পর এক সফল অভিযানের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে তাদের ঘাঁটি ও অস্ত্রভান্ডার।

    প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যেই মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পর থেকেই ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ডের মতো মাও-অধ্যুষিত রাজ্যগুলিতে ব্যাপক গতি পেয়েছে মাওবাদী অভিযান। জানা গিয়েছে, কারেগুট্টা পাহাড়ি এলাকাটি মাওবাদীদের অন্যতম শক্তঘাঁটি। এই এলাকা থেকে মাওবাদীদের নিশ্চিহ্ন করতে এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এখনও (Bijapur) পর্যন্ত ওই এলাকায় চালানো হয়েছে ৩৫টি অভিযান (Anti Maoist Operation)।

  • BJP: ১৩ মাস আগেই গঠিত হয় সরকার, বিজেপি জমানায় ছত্তিশগড়ে খতম ৩০০ মাওবাদী, গ্রেফতার ১,১০০

    BJP: ১৩ মাস আগেই গঠিত হয় সরকার, বিজেপি জমানায় ছত্তিশগড়ে খতম ৩০০ মাওবাদী, গ্রেফতার ১,১০০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী (Maoists) দমন অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়াল সরকার। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে ছত্তিশগড়ের বিজেপি (BJP) সরকার। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই বার্তা দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যেই দেশকে মাওবাদী মুক্ত করা হবে। এই কারণেই গত কয়েক মাস ধরে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    মাওবাদ দমনে বড় সাফল্য

    প্রসঙ্গত, রবিবারই বস্তারের জঙ্গলে প্রশিক্ষিত কমান্ডোদের একটি বাহিনী অভিযানে যায়। দলটিতে ছিলেন ৬০০ জন কমান্ডো। সেই অভিযানেই দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই সংঘর্ষে ৩১ জন মাওবাদী নিহত হন। শহিদ হন বাহিনীর দুই জওয়ানও। রবিবারের মাওবাদী দমনের ওই অভিযানকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বড় সাফল্য’ বলে দাবি করেন। এ বছরে এখনও পর্যন্ত ৮১ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

    ১৩ মাসে হত ৩৫৮ মাওবাদী

    ছত্তিশগড় রাজ্য প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিগত ১৩ মাসে ছত্তিশগড়ে বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৩৫৮ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১,১৭৭ জন মাওবাদীকে। আত্মসমর্পণ করেছেন ৯৮৫ মাওবাদী। এটাকেই মাওবাদ দমনে বড় সাফল্য বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। প্রতিনিয়ত অভিযানের গতি বাড়ছে। আরও বেশি ধারালো করা হচ্ছে মাওবাদ বিরোধী অভিযান। মাওবাদীদের নিকেশ করতে একেবারে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে বাহিনী।

    বিজেপি (BJP) সরকার ক্ষমতায় আসতেই শুরু জোরালো অভিযান

    ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ছত্তিশগড়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি (BJP)। গেরুয়া শিবিরের (BJP) মুখ্যমন্ত্রী হন বিষ্ণু দেও সাই। তিনি রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন, এমনটাই খবর সূত্রের। ঠিক এই কারণেই গত এক বছরের মধ্যে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানের গতি আরও জোরালো হয়েছে। ২০২৪ সালে ২১৯ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রের দাবি।

LinkedIn
Share