Tag: Anti-terrorist Squad (ATS) Maharashtra

  • Sagar Beg Threat Case: সাগর বেগকে ‘খুনের হুমকি’, পাকিস্তান-ভিত্তিক ‘জঙ্গি-গ্যাংস্টার’ সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস! নেপথ্যে কে?

    Sagar Beg Threat Case: সাগর বেগকে ‘খুনের হুমকি’, পাকিস্তান-ভিত্তিক ‘জঙ্গি-গ্যাংস্টার’ সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস! নেপথ্যে কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের হিন্দু নেতা সাগর বেগ (Sagar Beg)। এবার সেই হিন্দু নেতাকেই প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগের (Sagar Beg Threat Case) ঘটনায় চাঞ্চল্য। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (Intelligence Agencies) ও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তদন্তে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। এই হুমকির নেপথ্যে নাকি রয়েছে পাকিস্তানি কুখ্যাত “টেরর-ক্রাইম সিন্ডিকেট” (Terror-Gangster Syndicate)।

    কে এই হিন্দু নেতা?

    মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগর (পূর্বতন আহমেদনগর) জেলার শ্রীরামপুর (Shrirampur) এলাকার বাসিন্দা সাগর বেগ (Sagar Beg)।২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর আসন থেকে স্বতন্ত্র (Independent) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রায় ২১.৯৫% ভোটও পেয়েছিলেন সাগর বেগ (Sagar Beg)। তিনি মূলত হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন ইস্যুতে কড়া ও উগ্র বক্তব্য রাখার জন্য পরিচিত। সম্প্রতি শ্রীরামপুরের এই নেতার বাড়িতেই বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁকে খুনের জন্য গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির সিন্ডিকেট থেকে সরাসরি হুমকির অভিযোগ ওঠে।

    কী অভিযোগ সাগর বেগের?

    হিন্দু নেতার অভিযোগ,”পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং আজমল গুজ্জর তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বাড়ি পেট্রল বোমা বা আইইডি (IED) দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের স্থানীয় অপরাধীদের মোটা অঙ্কের টাকা ও অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে”। বান্টি জাহাঙ্গীরদার হত্যাকাণ্ডেও তাঁর নাম জড়ানো নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। সাগর বেগের আরও দাবি, তিনি একজন হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে সনাতন ধর্মের জন্য কাজ করেন এবং রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। তাই তাঁর বিরোধীরা পাকিস্তানের এই অপরাধী সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খুনের মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে ‘জেড প্লাস’ বা সর্বোচ্চ স্তরের কড়া নিরাপত্তা দাবি করেছেন সাগর বেগ (Sagar Beg)।

    পরিকল্পনা ‘টার্গেট কিলিং’!

    গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রাথমিক ধারণা, ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্যই এই ধরনের “টার্গেট কিলিং”-এর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হুমকিদাতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কুখ্যাত অপরাধী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অভ্যন্তরে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে।

    সরকারের পদক্ষেপ

    এদিকে, সাগর বেগের উপর হামলার হুমকির (Sagar Beg Threat Case) বিষয়টি জানার পরই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে মহারাষ্ট্র (Maharashtra) সরকার। তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জোরদার করা হয়েছে। সেরাজ্যের পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো হুমকিদাতাদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, আইপি অ্যাড্রেস এবং যোগাযোগের উৎসগুলো চিহ্নিত করার জন্য প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেছে। মহারাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    হত্যা-হুমকির মূল ট্রিগার

    তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, সাগর বেগকে হত্যার এই প্রকাশ্য হুমকির নেপথ্যে রয়েছে শ্রীরামপুর এলাকার সাম্প্রতিক তীব্র রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক শত্রুতা, যার ট্রিগার ছিল বান্টি জাহাঙ্গীরদার হত্যাকাণ্ড।

    কে এই বান্টি জাহাঙ্গীরদার? আসলাম সাব্বির শেখ ওরফে বান্টি জাহাঙ্গীরদার। ২০১২ সালের পুনে সিরিয়াল বম্ব ব্লাস্ট (Jangli Maharaj Road blasts) মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। ২০২৩ সালে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আহমেদনগরের শ্রীরামপুর এলাকায় ফিরে আসে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতে থাকে। ২০২৫-এর ৩১ ডিসেম্বর, দুই বাইক আরোহী শুটারের এলোপাথাড়ি গুলিতে খুন হয় আসলাম সাব্বির শেখ ওরফে বান্টি জাহাঙ্গীরদার। এই খুনের নেপথ্যে নাম জড়িয়েছিল সাগর বেগেরও। বান্টি জাহাঙ্গীরদারের এই খুনের পরই পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং আজমল গুজ্জরের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। জাহাঙ্গীরদারের হত্যার “প্রতিশোধ” নিতেই এই পাকিস্তানি নেক্সাসটি প্রকাশ্যে সাগর বেগকে তাদের পরবর্তী টার্গেট হিসেবে ঘোষণা করেছে, বলেও মনে করা হচ্ছে।

    নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড শাহজাদ ভাট্টি!

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি প্রথাগত কোনও একক জঙ্গি সংগঠন নয়। এটি অপরাধ ও সন্ত্রাসের মেলবন্ধনে তৈরি একটি “হাইব্রিড মডেল”, যার মাস্টারমাইন্ড পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি (Shahzad Bhatti)। সূত্রের খবর, শাহজাদ ভাট্টি ও তার সহযোগী আজমল গুজ্জর বর্তমানে পাকিস্তান অথবা বিদেশের কোনও নিরাপদ আস্তানা থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে অপরাধ চক্র পরিচালনা করছে। সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে ভারতের বেকার বা লক্ষ্যচ্যুত যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ও সুরক্ষায় ভাট্টি এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে।

    ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল

    সীমান্তপার থেকে পরিচালিত এই বিপজ্জনক নেক্সাসকে গুঁড়িয়ে দিতে এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। এই হাইব্রিড থ্রেট মোকাবিলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA), গোয়েন্দা ব্যুরো (IB), রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (R&AW) এবং বিভিন্ন রাজ্যের স্পেশাল সেল বা এটিএস (ATS) এখন যৌথভাবে কাজ করছে। রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে যে কোনও চক্রান্ত শুরুতেই নসাৎ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে ড্রোন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF) এখন অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, জ্যামার এবং থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। শাহজাদ ভাট্টির মতো গ্যাংস্টাররা যেহেতু ভারতের তরুণদের ফাঁদে ফেলতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে, তাই সাইবার উইংগুলো ডার্ক ওয়েব, সন্দেহভাজন ইনস্টাগ্রাম/টেলিগ্রাম গ্রুপগুলোর উপর কড়া নজর রাখছে। উস্কানিমূলক আইডিগুলো ব্লক করার পাশাপাশি এদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করা হচ্ছে। বিদেশে বসে ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা গ্যাংস্টারদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকার কঠোর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ (Red Corner Notice) জারি করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এদের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার জন্য কাজ চলছে।

    ভারতের অটল অবস্থান

    ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নীতি এখন অত্যন্ত স্পষ্ট—”জিরো টলারেন্স” (Zero Tolerance)। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি বিঘ্নিত করার কোনও অপচেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাগর বেগের মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন যেকোনও চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। পাকিস্তান-ভিত্তিক এই ধূর্ত ও হাইব্রিড নেটওয়ার্কের কোমর ভেঙে দিতে ভারতের এই সর্বাত্মক প্রতিরোধ যুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র হবে।

     

LinkedIn
Share