Tag: Antifa

  • France Unrest Threat: ফ্রান্সে অশান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আশঙ্কা প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধানের

    France Unrest Threat: ফ্রান্সে অশান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আশঙ্কা প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে সামাজিক অস্থিরতা আগামী দিনে আরও ঘন ঘন এবং হিংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করলেন দেশটির প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধান পিয়ের ব্রোশঁ। তাঁর দাবি, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও দাঙ্গার সময় কট্টর বামপন্থী কর্মী এবং অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার তরুণ মুসলিমদের একসঙ্গে সক্রিয় (France Unrest Threat) হতে দেখা যাচ্ছে। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন (Mass Migration) তিনি।

    গত সপ্তাহে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য ফিগারো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রোশঁ বলেন, ফ্রান্সের সামাজিক ও জনবিন্যাসগত টানাপোড়েন সম্পর্কে যাঁদের ধারণা রয়েছে, তাঁদের কাছে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁর মতে, সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা এবং জাতীয় আনুগত্যের অভাববোধে ভোগা কিছু মানুষের কারণে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে দেশের জনশৃঙ্খলা।

    দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে ব্রোশঁ ইজরায়েল, হাঙ্গেরি ও পর্তুগালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাতের দশকে ভিয়েতনামে জুনিয়র কূটনীতিক থাকাকালীন সায়গনের পতনের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসই-র প্রধান ছিলেন এই প্রাক্তন কূটনীতিক।

    দাঙ্গায় সংগঠকের ভূমিকা নিচ্ছে কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীগুলি (France Unrest Threat)

    ব্রোশঁর দাবি, কট্টর বামপন্থী সংগঠনগুলির সাংগঠনিক ক্ষমতাকে তিনি আগে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। বিশেষ করে ব্ল্যাক ব্লক এবং অ্যান্টিফা-র মতো গোষ্ঠীগুলি ফ্রান্সের বড় শহরগুলিতে অস্থিরতা তৈরির ক্ষেত্রে ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, রাস্তায় বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের সময় এই সংগঠনগুলি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে সক্ষম।

    তাঁর ব্যাখ্যা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারা কৌশলগতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কট্টর বামপন্থীরা আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে, অন্যদিকে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ সংখ্যার জোর এবং রাস্তায় সংঘর্ষের শক্তি জোগায়।

    অর্থাৎ, এটি কোনও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং স্বার্থের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা সাময়িক সমঝোতা। ব্রোশঁর মতে, অভিন্ন আদর্শ না থাকলেও এই ধরনের সমন্বয় বিক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলায় পরিণত করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি প্রশাসন ও পুলিশের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।

    এই পরিস্থিতি বোঝাতে প্রাক্তন চিনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের নামে প্রচলিত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর কথায়, “তারা একই বিছানায় ঘুমোয়, কিন্তু তাদের স্বপ্ন এক নয়।”

    সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ মুসলিমরাও

    ব্রোশঁর দাবি, প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী এবং অভিজ্ঞ দাঙ্গাকারীরা কট্টর বামপন্থীদের আন্দোলনের প্রথম সারির শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের অনেকেই ইউরোপীয় মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। অন্যদিকে, অভিবাসী অধ্যুষিত শহরতলির তরুণ মুসলিমদেরও পরবর্তী পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

    সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও দাঙ্গার বিভিন্ন দৃশ্যের উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জনতার মুখে বারবার আরবি শব্দ “ওয়াল্লাহ” শোনা গিয়েছে। শব্দটির অর্থ, “আল্লাহর নামে শপথ করছি।” সাক্ষাৎকারে মুসলিম অভিবাসন এবং ফরাসি সমাজে তাঁদের একীভূত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে (France Unrest Threat)।

    ব্রোশঁর বর্ণনা অনুযায়ী, একটি দিনের মধ্যেই কীভাবে বিক্ষোভের চরিত্র বদলে যেতে পারে, তার একটি ধারাবাহিক চিত্র রয়েছে। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল হতে পারে। এরপর কট্টর বামপন্থী কর্মীদের একাংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়তে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে শহরতলির তরুণ মুসলিমদের একাংশ লুটপাটে অংশ নিতে পারে বলে তাঁর দাবি।

    এই প্রক্রিয়াকে তিনি বহুস্তরীয় মহাকাশযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেখানে একের পর এক জ্বালানি-সহায়ক অংশ মহাকাশযানকে গতি জোগায় এবং কাজ শেষ হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একই সময়ে সক্রিয় হতে হবে, এমন কোনও প্রয়োজন নেই। তাদের পর্যায়ক্রমিক অংশগ্রহণই অশান্তিকে দীর্ঘায়িত করার পক্ষে যথেষ্ট।

    রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট

    ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে মুসলিম অভিবাসন এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ব্রোশঁ। তাঁর দাবি, আগামী বছরগুলিতে ফ্রান্সের জনসংখ্যায় ইউরোপের বাইরের দেশগুলি থেকে আসা জনগোষ্ঠীর প্রভাব বাড়বে। এর ফলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দূরত্বও ক্রমশ কমতে পারে।

    জনসংখ্যা সংক্রান্ত কিছু পূর্বাভাসের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ফ্রান্সে ইউরোপের বাইরের জনগোষ্ঠীর শিশু জন্মের হার মোট জন্মের সংখ্যার অর্ধেকের বেশি হতে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ক্ষেত্রেও এই জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁর পূর্বাভাস। তাঁর মতে, এই জনবিন্যাসগত পরিবর্তন দেশের ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশে হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে। বিষয়টিকে নিছক আশঙ্কা নয়, বরং নিশ্চিত পরিণতি হিসেবেই দেখছেন তিনি।

    ফ্রান্সে হিংসা ও লুটপাটের ঘটনা রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধান। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকরা কর দেন মূলত এই আশায় যে রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে। কিন্তু প্রশাসন যদি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলে প্রতীয়মান হয়, তা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের বিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে।

    সামাজিক আস্থার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র

    এই আস্থার সংকটকে ব্যাঙ্ক থেকে একযোগে আমানত তুলে নেওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর কথায়, হিংসা হল সামাজিক আস্থার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র। আর সামাজিক আস্থাই সম্মিলিত কল্যাণের মূল ভিত্তি। তাঁর সতর্কবার্তা, হিংসার শিকার মানুষের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন, এমনকী অসম্ভবও হয়ে উঠতে পারে।

    সাম্প্রতিক বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির সংশ্লিষ্টতায় সংঘটিত অশান্তির মধ্যেও সংযম বজায় রাখার জন্য সাধারণ ফরাসি নাগরিকদের প্রশংসা করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর মতে, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা এবং হিংসা ও লুটপাটের চাপ সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

    পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে

    তবে এই সংযমকে চিরস্থায়ী বলে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, সাধারণ মানুষ যদি মনে করতে শুরু করেন যে রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম এবং নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব তাঁদের নিজেদেরই নিতে হবে, তা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ ও অপূরণীয় পরিণতির দিকে এগোতে পারে।

    সব মিলিয়ে ব্রোশঁর সতর্কবার্তা, কট্টর বামপন্থীদের সাংগঠনিক তৎপরতা, অভিবাসী অধ্যুষিত শহরতলির তরুণদের একাংশের সংঘর্ষে অংশগ্রহণ এবং ক্রমবর্ধমান জনবিন্যাসগত পরিবর্তন—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে ফ্রান্সের জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সংহতি আগামী দিনে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে (France Unrest Threat)।

    উল্লেখ্য, জনসংখ্যা পরিবর্তন, অভিবাসন এবং ভবিষ্যৎ সংঘর্ষ নিয়ে ব্রোশঁ যে পূর্বাভাস দিয়েছেন, সেগুলি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও আশঙ্কা। এগুলিকে (Mass Migration) প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যানগত সত্য বা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

     

LinkedIn
Share