Tag: Arctic Defense Cooperation

  • India Russia RELOS Agreement: ভারত-রাশিয়া ‘রেলোস’ চুক্তি কার্যকর, একে অপরের ভূমিতে সৈন্য, রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন, আর্কটিকে বড় কৌশলগত দখল ভারতের

    India Russia RELOS Agreement: ভারত-রাশিয়া ‘রেলোস’ চুক্তি কার্যকর, একে অপরের ভূমিতে সৈন্য, রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন, আর্কটিকে বড় কৌশলগত দখল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দিল এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে, উভয় দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সামরিক উপস্থিতির অনুমতি দিয়েছে। ২০২৫ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোক্যাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক্স সাপোর্ট বা রেলোস (RELOS) কার্যকর হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছিল। রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পাঁচ বছরের চুক্তির আওতায় দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫টি যুদ্ধজাহাজ, ১০টি সামরিক বিমান এবং প্রায় ৩,০০০ সেনা মোতায়েন করতে পারবে। প্রয়োজনে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোও সম্ভব। অর্থাৎ, ভারত-রাশিয়া রেলোস চুক্তি এখন আর কেবল কূটনৈতিক খসড়া নয়, এটি বাস্তব সামরিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

    ভারত-রাশিয়া রেলোস (RELOS) চুক্তি কী?

    রেসিপ্রোক্যাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক্স সাপোর্ট (RELOS) একটি দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি, যা ভারত ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একে অপরের সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করে। এটি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের লেমোয়া (LEMOA) চুক্তির মতো, তবে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উপযোগী করে তৈরি। এর মাধ্যমে জ্বালানি, খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ বিনিময় করা যাবে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, এটি রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে ভারতের একটি কাঠামোবদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করে, যা দ্রুত একটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

    চুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য

    রেলোস চুক্তি স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার ওপর ভিত্তি করে তৈরি—

    • ● মোতায়েন সীমা: উভয় দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সর্বোচ্চ ৩০০০ সেনা, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি যুদ্ধবিমান একসঙ্গে মোতায়েন করতে পারবে।
    • ● মেয়াদ: প্রাথমিকভাবে ৫ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে, পারস্পরিক সম্মতিতে আরও ৫ বছর বাড়ানো যাবে।
    • ● কৌশলগত অবস্থান: একদিকে, রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর যেমন মুরমানস্ক, সেভেরোমর্স্ক এবং ভ্লাদিভোস্তকে প্রবেশাধিকার পাবে ভারত। অন্যদিকে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে রাশিয়া।

    রেলোস চুক্তির আওতায় সহায়তা পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত—

    • ● নৌবাহিনী: জাহাজ নোঙর করা, মেরামত, জ্বালানি সরবরাহ, জল ও খাদ্য সরবরাহ।
    • ● বিমান পরিষেবা: এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বিমান সংক্রান্ত তথ্য এবং নিরাপদ পার্কিং।
    • ● পেমেন্ট ব্যবস্থা: লজিস্টিক সহায়তা পারস্পরিক ভিত্তিতে হবে, তবে বিশেষায়িত তরল, লুব্রিকেন্ট এবং উন্নত যন্ত্রপাতি মেরামতের ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধযোগ্য।

    এর ফলে কতটা লাভবান হবে ভারত?

    আর্কটিক অঞ্চলে সম্প্রসারণ:

    • ● এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত আর্কটিক অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি নৌ উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে, যা নর্দার্ন সি রুটের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ৭০% সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ সহজতর:

    • ● ভারতের অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ান উৎসের হওয়ায়, রেলোস চুক্তি আন্তর্জাতিক অভিযানে দ্রুত প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করবে এবং লজিস্টিক খরচ প্রায় ২০–২৫% পর্যন্ত কমাতে পারে।

    ভারত-রুশ যৌথ সামরিক মহড়ায় সমন্বয় বৃদ্ধি:

    • ● এই চুক্তি ইন্দ্র (INDRA) সামরিক মহড়ার জন্য একটি স্থায়ী লজিস্টিক ভিত্তি তৈরি করে, যা প্রশিক্ষণ থেকে বাস্তব অপারেশনাল সমন্বয়ে দ্রুত রূপান্তর সম্ভব করে।

    কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা:

    • ● ২০২৬ সালে এই চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারত তার বহুমুখী সামরিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক প্রদর্শন করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেমোয়া ও বেকা-র মতো চুক্তির পাশাপাশি ইউরেশীয় স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে, যাতে কোনও একক শক্তির প্রভাব প্রাধান্য না পায়।

    ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কতটা গভীর?

    সুইডেনের গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী ছিল রাশিয়া। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের মোট প্রতিরক্ষা ক্রয়ের প্রায় ৩৬ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। সব মিলিয়ে, এই নতুন চুক্তি ভারত-রাশিয়া সামরিক সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-রাশিয়া রেলোস (RELOS) চুক্তি দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরেশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। নয়াদিল্লি ও মস্কো এমন একটি কাঠামো নিশ্চিত করেছে যা ভারত মহাসাগর ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যে কৌশলগত সংযোগ স্থাপন করে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করে এবং ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে আরও শক্তিশালী করে। চুক্তির ফলে দুদেশের মধ্যে হওয়া ইন্দ্র (INDRA) সামরিক মহড়া পরিচালনা কিংবা নর্দার্ন সি রুটে নেভিগেশন আরও কার্যকর হবে। এই চুক্তি ইন্দো-প্যাসিফিক ও আর্কটিক অঞ্চলের স্বার্থকে অভূতপূর্ব দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। এই চুক্তি প্রমাণ করে যে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব একটি দৃঢ় ও অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে।

LinkedIn
Share