Tag: Argentina vs England

  • FIFA World Cup: খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি! ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের হাতে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিতর্কে মেসিরা

    FIFA World Cup: খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি! ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের হাতে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিতর্কে মেসিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই ম্যাচ শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না। এই ম্যাচ ছিল একে অপরকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার লড়াই। ৬০ বছর আগে যা শুরু হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে বাজিমাত করল আর্জেন্টিনা। দিয়েগো মারাদোনা যা করেছিলেন তা-ই করলেন লিয়োনেল মেসি। খানিকটা অন্য ভাবে। মারাদোনা জোড়া গোল করেছিলেন। মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট করলেন। আর তাতেই ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। মাঠের উত্তাপ ছড়াল মাঠের বাইরেও। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের বাইরে মারামারি হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের। বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    উত্তেজনা, হাতাহাতি মাঠ ও মাঠের বাইরে

    খেলার মাঝেই উত্তপ্ত হচ্ছিল গ্যালারির পরিস্থিতি। কথা কাটাকাটি চলছিল। শেষ দিকে জোড়া গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা জেতার পর সে দেশের সমর্থকেরা উল্লাস শুরু করেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের তরফে কটূ কথা ভেসে আসে। বিবাদ আরও বাড়ে। তার পরেই শুরু হয় মারামারি। একই পরিস্থিতি স্টেডিয়ামের বাইরেও হয়। নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা পুলিশকর্মীরা প্রথমে বিবাদ থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করলেন পদক্ষেপ করেন তাঁরা। দু’দলের বহু সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু আটলান্টা নয়, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সির মতো আমেরিকার বেশ কিছু শহরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এমনকি, বিশ্বকাপের কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামেও হাতাহাতি হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের।

    মেসির সতীর্থকে চড় বেলিংহ্যামের

    উত্তেজনা চরমে উঠেছে মাঠের ভিতরেও। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও হেরেছে ইংল্যান্ড। সাত মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এগিয়ে গিয়েও এই হার মানতে পারেননি জুড বেলিংহ্যাম। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার বেঞ্চে থাকা ভ্যালেন্টিন বার্কোকে চড় মারেন তিনি। খেলা শেষে উল্লাস করছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। সেখানে ছিলেন ভ্যালেন্টিন বার্কোও। কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন বেলিংহ্যাম। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম পিছন থেকে এসে বার্কোর ঘাড়ের কাছে চড় মারেন। এই ঘটনা ভাল ভাবে নেননি আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। শুরু হয় বিবাদ। যদিও রেফারি বেলিংহ্যামকে কার্ড দেখাননি। খেলা শেষে আবার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় ইংল্যান্ডের মর্গ্যান রজার্সের। আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা রজার্সের সামনে উল্লাস করছিলেন। সেটা পছন্দ হয়নি তাঁর। তিনি গিয়ে লাউতারোকে ধাক্কা মারেন। তার পর শুরু হয় ঝামেলা।

    মেসির সঙ্গেও বিবাদ বেলিংহ্যামের

    প্রথমার্ধেই অবশ্য লিয়োনেল মেসির সঙ্গে বিবাদ হয় বেলিংহ্যামের। একটি বলের দখল নিতে গিয়ে দুই তারকা পড়ে যান। মেসির মনে হয়েছিল, বেলিংহ্যাম তাঁকে ফাউল করেছেন। তিনি রেফারিকে বলেন। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম তাঁকে পাল্টা কিছু বলেন। মেসিও জবাব দেন। দুই তারকা একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। রেফারি তাঁদের সরিয়ে দেন। মেসির মুখ দেখে মনে হচ্ছিল, বেলিংহ্যামের কথায় অবাক হয়েছেন তিনি। অবশ্য সৌহার্দ্যের ছবিও দেখা গিয়েছে মাঠে। খেলা শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন মেসি ও হ্যারি কেন। দুই তারকা একে অপরের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথাও বলেন।

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি

    গত ৬০ বছর ধরে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই অন্য রকমের উত্তাপ। ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর তা আরও বেড়েছে। এই ম্যাচেও ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। ফলে লড়াই শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তা ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের বাইরেও। আর্জেন্টিনা থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের মধ্যে থাকা দ্বীপ ফকল্যান্ড। এই দ্বীপের দখল নেওয়া ঘিরে বার বার বিবাদে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৮২ সালের ২ জুলাই ইংল্যান্ডের অধিকারে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপ আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা। ৭৪ দিন ধরে চলেছিল সেই যুদ্ধ। শেষে আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা। সেই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ ও ইংল্যান্ডের ২৫৫ সেনা প্রাণ হারান। নিহত হয়েছিলেন ফকল্যান্ড দ্বীপের তিন বাসিন্দা।

    ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই

    এদিনও খেলার শেষে ফুটবলারদের হাতে ছিল ব্যানার। সেই একই ব্যানার ছিল সমর্থকদের হাতেও। খেলা শেষে বিশেষ ব্যানার নিয়ে উল্লাসে মাতলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেমিফাইনাল চলাকালীন আর্জেন্টিনার ফুটবলার জিয়োভানি লো সেলসোর হাতে একটি ব্যানার দেখা যায়। তাতে লেখা, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ স্প্যানিশে এই কথার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপকে মালভিনাস বলে ডাকেন আর্জেন্টিনার বাসিন্দারা। অর্থাৎ, ম্যাচের মধ্যে তাঁরা স্লোগান তোলেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই। খেলা শেষে নিকোলাস ওটামেন্ডি ও লো সেলসো সেই ব্যানার তুলে ধরেন। আর্জেন্টিনার বাকি ফুটবলারেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতেও ছিল একই ব্যানার। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি আরও এক বার উস্কে দিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেই ব্যানার হাতেই উল্লাস করলেন তাঁরা। রাজনৈতিক স্লোগান লেখা ব্যানার দেখিয়ে আর্জেন্টিনা নিয়ম ভেঙেছে কি না, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিফা সরকারী ভাবে কিছু বলেনি। তবে খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁর সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে।

  • FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ষোল বছর পর ফের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে স্পেন। গতবারের রানার্স ফ্রান্সকে প্রায় একপেশে ম্যাচে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালে ইয়ামালরা। তাদের সামনে ইউরো জয়ের দু’বছর পরে বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ। যে ‘ডাবল’ স্পেন আগেও করেছে ২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আবারও বড় মঞ্চে ফ্রান্সের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal)। আর আবারও শেষ হাসি স্পেনের। ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপেদের ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে উঠল লা রোজা।

    ডিগনে-র ভুলের খেসারত

    বক্সে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালের গায়ে সরাসরি পা চালিয়ে দেন ডিগনে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাচের ২০ মিনিটে এই ভুলের খেসারত দিতে হল দিদিয়ের দেশঁর দলকে। পেনাল্টি পায় স্পেন। গোল করতে ভুল করেননি মিকেল ওয়ারজাবাল। চলতি মরসুমে দেশের হয়ে ১৪টি গোল হয়ে গেল তাঁর। স্পেনের আর কোনও ফুটবলার এক মরসুমে দেশের জার্সিতে এত গোল করতে পারেননি। চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স। পিছিয়ে পড়লেও গুটিয়ে যায়নি ফ্রান্স। ধীরে ধীরে মাঝ মাঠে দাপট বাড়াতে থাকে তারা। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচ। দলগত কৌশল এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার লড়াইয়ে তবু বার বার আটকে গিয়েছে ফ্রান্স

    নজরবন্দি এমবাপে

    পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বকাপের সেরা দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল প্রথম সেমিফাইনালে। মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি আগ্রহ ছিল দুই কোচের কৌশলের টক্কর নিয়েও। তাতে দেশঁকে পিছনে ফেলে দিলেন লুই দে লা ফুয়েন্তে। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেছিল স্পেন। পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তেরা মাঝ মাঠেই অফসাইডের ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। ফর্মে থাকা এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে জুটিকে এক রকম অকেজো করে দেন অফসাইডের ফাঁদে ফেলে। প্রথমার্ধে একাধিক বার মাঝ মাঠ পেরিয়েই অফসাইডে আটকে যান এমবাপেরা! কুবারসি প্রায় সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখেন ফরাসি অধিনায়ককে।

    স্পেনের রক্ষণে তাল কাটল ফ্রান্সের

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। স্পেনের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। তবে বক্সের মধ্যে তাল কেটে যায় এমবাপেদের। কয়েক বার পরিস্থিতি সামলান সিমন। স্পেন এ সময় খেলছিল প্রতি আক্রমণমূলক ফুটবল। ৫৮ মিনিটে তেমনই একটি আক্রমণে ভুল করে বসে ফরাসি রক্ষণ। বক্সের একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের শটে পরাস্ত করেন মাইক মাইগনান। আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। বলটা তো আমার, কাউকে দেব কেন— টিপিক্যাল স্প্যানিশ ফিলসফির এই চেনা ছবিটাই ডালাসের স্টেডিয়ামে প্রকট হয়ে ওঠে। অপ্রতিরোধ্য এমবাপে–ওলিজে–দেম্বেলেরা মঙ্গলবার রাতে স্প্যানিশ ডিফেন্সের সামনে যেন খোলসে ঢুকে পড়লেন।

    জমাট রক্ষণে বিশ্বকাপের স্বপ্ন

    গোটা বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের মতো অ্যাটাক সামলাতে হয়নি স্পেনকে। আবার স্পেনের মতো ডিফেন্সের সামনেও পড়েনি ফ্রান্স। শেষ চারের এই টক্করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনই দেখিয়ে দিল, কী ভাবে এমবাপে–ওলিজদের ডিফেন্ড করতে হয়। ফ্রান্সের ফ্লুইড গতি থামিয়ে দিল স্পেনের মাঝমাঠ ও ডিফেন্সিভ অর্গানাইজেশন। বিশ্বকাপের সেরা সেন্টারব্যাক জুটি কুবার্সি–লাপোর্তে এবং তাঁদের সামনে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস বারবার রুখে দিচ্ছিলেন দেম্বেলে–ওলিজেদের। আর বলতেই হবে স্প্যানিশ লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেইয়ার কথা। মাঠের প্রায় সব জায়গাতেই যেন হাজির হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সে রকমই তৎপর ছিলেন কিপার উনাই সিমোন। কখনও বক্সের ভিতরে লাফিয়ে, কখনও বক্সের বাইরে বেরিয়ে সামাল দিচ্ছিলেন ফরাসি আক্রমণ। সাত ম্যাচে এটি তাঁর ছয় নম্বর ক্লিনশিট। পুরো টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন (Spain vs France)। ফাইনালে তাদের সামনে মেসিই থাকুন বা কেন-বেলিংহ্যাম বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে স্পেন।

    স্পেনের সামনে কে?

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। দুটো দেশের অতীত ফুটবল ইতিহাসে গৌরব আর কলঙ্ক হাত ধরাধরি করে থাকলে কী হবে, এই সেমিফাইনালে এখন সেগুলো স্রেফ পুরোনো অলঙ্কার বিশেষ। স্বয়ং মেসি ইতিহাস না টেনে বলছেন, ‘সত্যিটা হলো, এটা স্পেশ্যাল ম্যাচ, কারণ সব টিমের বিরুদ্ধে খেললেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমি কখনও খেলিনি। বিগ টিম, পাওয়ার হাউস। সেটা মাথায় আছে টিমের।’ আবার ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ওরিলির বক্তব্য, ‘মেসির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়াটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু ইংল্যান্ডকে জেতাতে মাঠে আসুন।’

    ইংল্যান্ডের সামনে মেসি-ফ্যাক্টর

    ২০০২ সালে যখন বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ইংল্যান্ড জিতেছিল, জুড বেলিংহ্যাম জন্মাননি, মেসির বয়স ছিল ১৫! মোট ২০৫টা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৫ গোল, কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কোনওদিন মেসিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামতে হয়নি। বিশ্বকাপে টানা আটটা ম্যাচে গোলের পরে নয় নম্বর ম্যাচে সুইসদের বিরুদ্ধে প্রথমবার গোল আসেনি। মেসিকে সামান্য ক্লান্তও দেখিয়েছে। ওয়েন রুনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন সে কথা, ‘মেসি ডিফেন্সকে সাহায্য করতে নীচে নেমে আসে না। মেসি মানে মুহূর্তের মনোসংযোগ ও কমিউনিকেশন। এমন জায়গায় পৌঁছে যাওয়া, যা কেউ ভাববে না। এখানেই সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ডকে।’

    দুই কোচের স্বপ্ন

    ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এ বার বারবার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে উঠেছে। কিন্তু সে সব ছাপিয়ে টিম শেষ চারে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থাকাটা ফ্লুকে অসম্ভব। গোটা টিম মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, গোটা টিম আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, যাতে ফুটবল ঈশ্বরের জীবনের শেষ বিশ্বকাপ হঠাৎ যেন শেষ না হয়ে যায়। কোচ স্কালোনি বলছেন, ‘এই টিম কী করে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসে, আমি নিজেই বলতে পারব না। একটাই বোধহয় ব্যাখ্যা হয়। এরা জানে, জেতা ছাড়া আর্জেন্তিনার কোনও বিকল্প নেই।’ ১৯৬৬ সালের পরে ৬০ বছর পরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। সে দেশের মিডিয়াই মেনে নিচ্ছে, জুড বেলিংহ্যাম না থাকলে ইংল্যান্ড মোটেই সেমিফাইনালে যায় না। হ্যারি কেন নন, রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডারই এ বার থ্রি লায়ন্সের আসল নায়ক। মেক্সিকো এবং নরওয়ে, পরপর দুটো ম্যাচে ব্রেস (জোড়া গোল), ১৯৮৬ সালে মারাদোনার পরে একটা বিশ্বকাপে পরপর দুটো নক আউটে জোড়া গোল করার রেকর্ড এখন বেলিংহ্যামের।

     

     

  • FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ফিফা (FIFA) র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারটি দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠল। ৪৮ দলের লড়াই, একাধিক আনকোরা দলের সঙ্গে ছিল রাউন্ড অফ ৩২-এর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে কোনও অঘটন ঘটল না বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালে প্রবেশ করল ফিফা (FIFA World Cup 2026) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। সেমি ফাইনালে ওঠা চার দলই অতীতে অন্তত একবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। অর্থাৎ, এ বারও কোনও নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না। চারটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার শেষ চারে লড়বে শিরোপার জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপজয়ী দেশ। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

    সেমিফাইনালের সূচি (ভারতীয় সময়)

    প্রথম সেমিফাইনাল:

    ফ্রান্স বনাম স্পেন

    তারিখ : ১৫ জুলাই (বুধবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

    ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

    তারিখ : ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

    বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

    ৬০ বছর পর কেন, বেলিংহ্যামদের পায়ে আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সুইৎজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কথায়, “জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম করে জিততে হয়েছে। আমরা জানতাম খুব কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু এই ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আরও এক বার আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এই দলটা কখনও বিশ্বাস করা থামায় না। আরও এক বার আমরা বিশ্বের সেরা চার দলের একজন।” মেসির সংযোজন, “জানি না আবার বিশ্বকাপ জিতব কি না। হওয়ার থাকলে নিশ্চয়ই হবে। গত বার জেতার আগে অনেক দিন বিশ্বকাপ পাইনি। তাই এখনকার প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করা দরকার।”

    বিশেষ নজরে কারা

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের নকআউট ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার। পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে মেসি বলেছেন, “ওই গোলের (মারাদোনা) সম্পর্ক যা কিছু জেনেছি তা সবই ভিডিয়ো বা ছবি দেখে। আর্জেন্টিনীয়রা নিয়মিত সেই ছবি দেখেন। তবে এই দলটা প্রতিপক্ষের কথা না ভেবেই ফুটবল খেলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। কারণ ওরা ফুটবলের মহাশক্তি। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। প্রথম বার ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশের বিরুদ্ধে খেলেছি। সেরা ছন্দে থেকে খেলার চেষ্টা করব।” বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম এবং লামিনে ইয়ামাল-এর মতো তারকাদের ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

LinkedIn
Share