Tag: Arms

Arms

  • Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) কান্ধমাল জেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা মাওবাদীদের অস্ত্র (Maoist Arms) ও বিস্ফোরকের ভাণ্ডারের হদিস পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দারিংবাড়ি থানার আওতায় মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে এই অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত পাঁচ দিনে ওড়িশার বিভিন্ন জঙ্গলে এটি তৃতীয় মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা।

    অভিযানে মিলল প্রচুর অস্ত্র (Odisha)

    ২৮ অগাস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কান্ধমাল জেলার একাধিক জঙ্গল এলাকায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় মাওবাদীদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য পাওয়ার পরেই অভিযান শুরু হয়। সশস্ত্র তল্লাশি অভিযানে বিশেষ অভিযান গোষ্ঠী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। রায়কিয়া, বালিগুড়া, দারিংবাড়ি এবং কোটগড় থানার আওতাধীন বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের আওতায় বাবুতি, জিমাবাড়ি, কারাহাপাঙ্গা, গারারমহা, জিমারাহা, তেলসি, সিদুপদর, পদলামালা, মাতাবাড়ি, তেরানিপাঙ্গা, ঝাঝিবাড়ি, টুকুবাড়ি, সাতারি, সালাকিঙ্গিয়া, পরিগড়া এবং পেনামাল-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে মাটির নীচে বা জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারটির সন্ধান পান।

    উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে একটি ১২ বোরের রাইফেল, একটি একনলা রাইফেল এবং একটি এসবিএল গ্রেনেড। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ১৯টি বৈদ্যুতিক ডেটোনেটর, দুটি টিফিন-বাক্স আইইডি, এক বান্ডিল কর্ডেক্স এবং দুটি জেলাটিন স্টিক। অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ১৩ রাউন্ড শূন্য দশমিক ৩০৩ ক্যালিবারের গুলি এবং একনলা রাইফেলের ১০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাওবাদীদের শিবিরে ব্যবহৃত আরও বেশ কিছু সামগ্রী, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিস্ফোরক সামগ্রী থাকায় সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় ও সরিয়ে নেওয়ার জন্য বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলকে অভিযানে মোতায়েন করা হয়।

    ন’টি দল নিয়ে অভিযান

    কান্ধমালের পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, এই অভিযানে একাধিক নিরাপত্তা দল অংশ নিয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযান গোষ্ঠীর পাঁচটি দল, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১০৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের তিনটি ইউনিট এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একটি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই জঙ্গলে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধানে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কান্ধমালকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, জেলায় তল্লাশি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব জঙ্গল এলাকায় অতীতে মাওবাদীদের সক্রিয়তা ছিল, সেখানে পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নজর দেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক এই উদ্ধার প্রাক্তন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় পড়ে থাকা অবশিষ্ট পরিকাঠামো চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

    অভিযান চলবে

    জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি এবং নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করার পাশাপাশি পুরনো মাওবাদী ঘাঁটিগুলিকে যাতে ফের সশস্ত্র কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য (Odisha)।

    পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতীতে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। সাম্প্রতিক অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা কান্ধমালে অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    আগেও মিলেছে মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ

    কান্ধমালে চলতি বছরে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৬ জুন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীতাগুড়হা, গঞ্জুগুড়হা, কুটিবারহি, গুড়িকিয়া এবং লাঞ্জাম গ্রামের আশপাশের জঙ্গল থেকে আরও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছিল। এলাকাগুলি কোটগড়, বালিগুড়া এবং তুমুড়িবান্ধা থানার আওতাধীন।

    এর আগে ১১ জুন বালিগুড়া এলাকাতেও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

    কান্ধমালকে ৩১ মার্চ ২০২৬ মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, বারবার অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো মাওবাদী পরিকাঠামোর সন্ধানে তল্লাশি এখনও জারি রয়েছে।

    ২৬ অগাস্ট মালকানগিরিতেও অস্ত্র উদ্ধার

    কান্ধমালের ঘটনার দু’দিন আগে, ২৬ অগাস্ট ওড়িশা-ছত্তিশগঢ় সীমান্তবর্তী মালকানগিরি জেলার একটি জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অস্ত্রভাণ্ডারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এরপর জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মথিলি থানার আওতাধীন চেরকোটলা, কিরমিটি, কোটওয়াপদর এবং কাদাভাটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালান।

    কৌশলগত দিক থেকেও এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্রতিবেশী ছত্তিশগঢ়ের বস্তার জেলার দরভা থানা এলাকা এবং সুকমা জেলার পুসপাল থানা এলাকার সংলগ্ন।

    অস্ত্র মিলেছিল সুন্দরগড়েও

    এর আগে ২৪ অগাস্ট সুন্দরগড় জেলার কে বালাং থানার আওতাধীন সিলকুটা সংরক্ষিত জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের একটি গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলের যৌথ অভিযানে এই উদ্ধার হয়।

    আত্মসমর্পণকারী নকশালদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। পুলিশের মতে, অস্ত্রভাণ্ডারটি প্রায় চার বছরের পুরনো। সেখান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক সামগ্রী, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়।

    অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভাঙতেই নজর

    মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওড়িশার তিনটি জঙ্গল এলাকা থেকে মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, চিরুনি তল্লাশি এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও মাওবাদী পরিকাঠামোর অবশিষ্ট অংশগুলি (Maoist Arms) সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করা গেলে ভবিষ্যতে নতুন করে মাওবাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমানো সম্ভব হবে (Odisha)।

     

  • Padma Shri: পদ্মশ্রী পেলেন সত্যনারায়ণ নুওয়াল, কে তিনি জানেন?

    Padma Shri: পদ্মশ্রী পেলেন সত্যনারায়ণ নুওয়াল, কে তিনি জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারম্যান সত্যনারায়ণ নুওয়ালকে (Satyanarayan Nuwal) বাণিজ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী (Padma Shri) সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। গত বছরের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ব্যবহৃত ‘নাগাস্ত্র’গুলি তাঁর সংস্থাই তৈরি করেছিল। তিনি সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড (এসডিএএল)-এরও চেয়ারম্যান। এই সংস্থাটি সম্ভবত দেশের প্রথম এবং বৃহত্তম বেসরকারি সামরিক মানের বিস্ফোরক উৎপাদন কেন্দ্র। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসডিএএল ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য বুস্টারও সরবরাহ করেছে।

    অসাধারণ অবদানের জন্য নির্বাচিত নুওয়াল (Padma Shri)

    শিল্প ও সমাজে অসাধারণ অবদানের জন্য নির্বাচিত নুওয়াল সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চল থেকে এই সম্মানপ্রাপ্ত একমাত্র ব্যবসায়ী। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এত বড় সম্মান পাব, তা আমি আশা করিনি। এই পুরস্কার দেশের প্রতি আমার দায়বদ্ধতাকেই আরও বাড়িয়ে দিল। প্রতিরক্ষা ব্যবসায় লাভই আমার মূল লক্ষ্য নয়।” প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তা নুওয়াল নয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডকে বাণিজ্যিক বিস্ফোরক সরবরাহের মাধ্যমে অত্যন্ত সাধারণভাবে ব্যবসা শুরু করেন। সেই সময় তিনি একাই ভ্রমণ করতেন এবং অনেক সময় রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই অপেক্ষা করতেন। তবে ২০১০ সালে সামরিক মানের বিস্ফোরক উৎপাদন শুরু করার মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। ৭৪ বছর বয়সি নুওয়াল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে এটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন ক্ষেত্র। সশস্ত্র বাহিনীর সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যার কথা আমি প্রায়ই শুনতাম এবং বুঝতে পারি যে দেশের আরও অংশগ্রহণকারীর প্রয়োজন। পরিস্থিতি বিচার করে আমরা দেশের প্রতিরক্ষায় সামান্য হলেও অবদান রাখার সিদ্ধান্ত নিই।”

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

    চলতি মাসে এসডিএএল কারখানা পরিদর্শনের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নিশ্চিত করেন যে, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে সংস্থার ‘নাগাস্ত্র’ ড্রোন-সংযুক্ত লইটারিং মিউনিশন শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হেনেছে। সেই সময় নুওয়াল তাঁকে জানান, “আমেরিকা বা অন্য দেশে এক সঙ্গে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায়। কিন্তু আমাদের ‘ভার্গবাস্ত্র’ একসঙ্গে ৬০টি মাইক্রো-মিসাইল নিক্ষেপ করতে পারে। এমন ব্যবস্থা এখনও পৃথিবীর কোথাও নেই (Padma Shri)।” ভার্গবাস্ত্র একটি বহুস্তরবিশিষ্ট মাইক্রো-মিসাইলভিত্তিক অ্যান্টি-ড্রোন বা কাউন্টার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS)। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ‘প্রলয়’ স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কেও জানানো হয়। সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, “আমরা প্রলয়ের বহু মোটর তৈরি করি, তবে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে পুরো ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের। সুযোগ পেলে মাত্র দু’মাসেই তা করা সম্ভব (Satyanarayan Nuwal)।” এছাড়া, এসডিএএল তৈরি করেছে ‘এসই-বেক্স-২’, যা পারমাণবিক বোমার পর সবচেয়ে শক্তিশালী উচ্চ-শক্তির বিস্ফোরক হিসেবে বিবেচিত এবং প্রচলিত টিএনটির তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী। সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ গোলাবারুদের ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রথম বেসরকারি সংস্থাও এটি। এর মধ্যে ছিল বহু-মোডের হ্যান্ড গ্রেনেড, যা পুরনো মডেলগুলির জায়গা নিয়েছে।

    রকেটের অর্ডার

    প্রথমদিকে সংস্থাটি পিনাকা রকেটের অর্ডার পূরণ করে সামরিক উৎপাদনে প্রবেশ করে। পরে এটি বহু-মোড গ্রেনেড তৈরি করে, যা কোনও বাণিজ্যিক সংস্থার দ্বারা নির্মিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিস্টেম। এরপর ধীরে ধীরে সংস্থাটি অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ও ড্রোন উৎপাদনেও সম্প্রসারিত হয়। সম্প্রতি এসডিএএল নাগপুরের মিহান-এসইজেডে জমি কিনেছে, যেখানে রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে (Padma Shri)। ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী নুওয়ালের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৬,৫০০ কোটি টাকা), যা তাঁকে ভারতের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় জায়গা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর সংস্থা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিস্ফোরক উৎপাদনের সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রথম সংস্থাও এটি। অথচ এই বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজস্থানের ভিলওয়াড়ার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন (Satyanarayan Nuwal)। তাঁর বাবা ছিলেন সরকারি হিসাবরক্ষক, যিনি ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক দক্ষতা গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

    ফোর্বসকে দেওয়া সাক্ষাৎকার

    আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দশম শ্রেণির পর নুওয়াল আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে তিনি এক বছর মথুরায় তাঁর গুরুর সঙ্গে কাটিয়ে বিভিন্ন ছোট ব্যবসায় হাত দেন। ফোর্বসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “শিক্ষার চেয়েও ব্যবসা করার আগ্রহই আমার বেশি ছিল।” তিনি ফাউন্টেন পেনের কালি তৈরি, লিজিং ব্যবসা এবং পরিবহণ সংস্থা, এমন নানা উদ্যোগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়, ফলে দায়িত্ব আরও বাড়ে। পরিবার চালানোর তাগিদে ১৯৭৭ সালে তিনি মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরে এক আত্মীয়ের সঙ্গে কাজ করতে যান। অর্থের অভাবে অনেক রাত তাঁকে রেলস্টেশনেও কাটাতে হয়েছে (Padma Shri)। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় আবদুল সাত্তার আল্লাভাইয়ের সঙ্গে, যিনি একটি গানপাউডার ডিপোর মালিক ছিলেন এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের লাইসেন্সধারী (Satyanarayan Nuwal)। নুওয়াল মাসিক এক হাজার টাকায় ডিপোটি ভাড়া নেওয়ার কথা বললেও সে অর্থ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল। পরে তাঁর সংস্থা কয়লা খনি থেকে বড় অর্ডার পেতে শুরু করে। ১৯৮৪ সালের মধ্যে এটি একটি কনসাইনমেন্ট এজেন্সিতে পরিণত হয় এবং ১৯৯০ সালের মধ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিস্ফোরক ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

    সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ

    ১৯৯৫ সালে নাগপুরে সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা করা তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানোর একটি অন্যতম সিদ্ধান্ত। ব্যাঙ্ক ঋণ ও সঞ্চয় মিলিয়ে ৬০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি স্লারি বিস্ফোরক উৎপাদন শুরু করেন এবং দ্রুতই বাল্ক বিস্ফোরক ও ডিটোনেটর উৎপাদন করতে শুরু করেন। এই সংস্থার অন্যতম প্রধান গ্রাহক হয় কোল ইন্ডিয়া (Padma Shri)। ২০০৬ সালে সংস্থাটি শেয়ারবাজারে আসে, তখন নিট মুনাফা ছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা এবং বার্ষিক টার্নওভার ৭৮ কোটি টাকা। সেই অর্থ মূলত সম্প্রসারণে ব্যয় হয় এবং ১৩টি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। পরে জাম্বিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, তানজানিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ছ’টি কারখানা গড়ে ওঠে। দেশে ন’টি রাজ্যের ২৯টি শহরে সংস্থার ইউনিট রয়েছে। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায়ও কারখানা তৈরি করা হয়েছে (Satyanarayan Nuwal)। পরবর্তী কালে এটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক উৎপাদনের সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রথম বেসরকারি সংস্থায় পরিণত হয়। নুওয়াল বুঝেছিলেন যে গোলাবারুদ উৎপাদন দেশেই করতে হবে। তাই তিনি গ্রেনেড, মাঝারি ও বড় ক্যালিবারের গোলাবারুদ, উচ্চ-শক্তির বিস্ফোরক, প্রপেল্যান্ট ও ওয়ারহেড তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলেন।

    গোলাবারুদের এত বড় অর্ডার

    সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার মাল্টি-মোড হ্যান্ড গ্রেনেড সরবরাহের অর্ডার পায়, যা দু’বছরে সরবরাহ করার কথা। ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বেসরকারি সংস্থাকে গোলাবারুদের এত বড় অর্ডার দেওয়া হয়। সান্দীপ মেটালিকসের চেয়ারম্যান সন্দীপ আগরওয়াল বলেন, “খনি শিল্পে বিস্ফোরক সরবরাহকারী হিসেবে শুরু করে নুওয়াল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এমন সব ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, যা আগে কোনও বেসরকারি সংস্থা করেনি। ২০১০ সালে তিনি এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ শুরু করেন, আর এখন এসে সংস্থা তার সুফল পেতে শুরু করেছে।” বর্তমানে সংস্থাটি প্রলয়, পিনাকা, আকাশ-সহ ডিআরডিও নির্মিত একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি অংশীদার। পাশাপাশি এটি কঠিন রকেট মোটর ও প্রপালশন সিস্টেমের বড় সরবরাহকারী। একই সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রেখে সোলার ইন্ডাস্ট্রিজকে বিশ্বমানের সংস্থায় রূপান্তর করার জন্য নুওয়াল সুপরিচিত। সমাজকল্যাণ, শিক্ষা ও সম্প্রদায় উন্নয়নে (Padma Shri) তাঁর নিরবচ্ছিন্ন অবদান দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে (Satyanarayan Nuwal)। পদ্মশ্রী সম্মান শুধু তাঁর পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিই নয়, জাতি গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রতিফলন।

LinkedIn
Share