Tag: Arpita Sarkar

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের বছর বাইশের এক তরুণীকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃতের নাম অর্পিতা সরকার। এসটিএফের দাবি, সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্রে প্রেমিক মহম্মদ হামিম মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। পরে হামিমের মাধ্যমেই পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারদের সংস্পর্শে এসে নাশকতার ছকের শরিক হয়ে ওঠেন অর্পিতা।

    ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার (Jharkhand Arrest) অর্পিতা

    প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় হামিম ও অর্পিতার। শনিবার ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Arrest) সাহেবগঞ্জ জেলার বরহারওয়া এলাকা থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। তার একদিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে ধরা পড়েছিল তাঁর প্রেমিক হামিম। এসটিএফের (STF) অভিযোগ, হামিম পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। সেই কাজে অর্পিতাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছিল। হামিমের মাধ্যমেই অর্পিতা ওই চক্রে যুক্ত হয় এবং পরে সরাসরি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মতো কাজ করতে শুরু করে।

    ডিজিটাল তথ্য থেকেই সূত্র!

    এসটিএফ (STF) সূত্রে খবর, হামিম ও অর্পিতার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে হওয়া কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন অর্পিতা। তদন্তকারীদের নজরে তাঁর মোবাইল, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং এনক্রিপ্টেড চ্যাট।

    ‘হানি ট্র্যাপে’র অভিযোগ

    এসটিএফের (STF) আইজি গৌরব শর্মার দাবি, হামিমের নির্দেশে অর্পিতা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর ছেলেকে টার্গেট করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে কোনও অর্থ এসেছে কি না? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর?

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিম নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর নজর রাখারও অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। এসটিএফের (STF) দাবি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে হামিমকে পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে সম্প্রতি হওয়া ছাত্র বিক্ষোভে একটি দল নিয়ে গিয়ে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনাও করেছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    বড় নেটওয়ার্কের জাল?

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, হামিম একটি বড় ISI-সমর্থিত নেটওয়ার্কের অংশ। লক্ষ্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ আধিকারিক এবং ভিআইপিদের ওপর নজরদারি চালানো। হামিমকে কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেয় বলে অভিযোগ। অর্পিতা ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের সহযোগীদের একজন।

    একাধিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার

    STF জানিয়েছে, যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, এলিমেন্ট এক্স এবং সেশনের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করা হত। তদন্তে চারটি পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলের নাম উঠে এসেছে- আবির জাট৩৩৩, উজাইর, রানা এবং হামাদ। পুলিশের দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কট্টরপন্থী প্রচার চালিয়ে যুবকদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা করা হত। কথপোকথনের সময় ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ডও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজত

    তদন্তকারীরা অর্পিতার কলেজ জীবনে কলকাতায় তাঁর মামারবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। সেই সময় হামিমের সঙ্গে তাঁর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ হত কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারির পর অর্পিতাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে এবং আগামী দিনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও রয়েছে।

  • Hamim Mondal Case: এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! ‘হানিট্র্যাপ’ করে চলত রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ?

    Hamim Mondal Case: এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! ‘হানিট্র্যাপ’ করে চলত রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-যোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরা করে বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা। অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁসিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হতেন অর্পিতা। তদন্তকারীদের দাবি, এই তথ্যের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য হামলার ছক তৈরি করা হত।

    হামিমকে জেরা করেই সামনে আসে অর্পিতার নাম

    শুক্রবার বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্স থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। আদালত তাকে ১৪ দিনের STF হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। এসটিএফ সূত্রের দাবি, জেরার সময় হামিমের কাছ থেকেই অর্পিতা সরকারের নাম উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার রাতেই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে চলত তথ্য সংগ্রহ?

    তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতাকে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হত। তাঁর কাজ ছিল বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, প্রশাসনিক আধিকারিক, আমলা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা। অভিযোগ, সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হত। এসটিএফ-এর হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, হামিমের নির্দেশেই এই যোগাযোগ তৈরি করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটসহ একাধিক ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামিমের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে চাইছেন। একই সঙ্গে জানতে চাইছেন, গোটা নেটওয়ার্কে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল এবং আর কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

    বাংলার রাজনৈতিক নেতাদের নিশানায় রাখার অভিযোগ

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামিমকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি ও আরএসএস নেতার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর। সেই উদ্দেশ্যে একটি নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে হামিম সেই পরিকল্পনায় কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল এবং সেই তথ্য কীভাবে বিদেশি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছত, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করার অভিযোগ

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হামিমের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি এসটিএফ-এর। এমনকি, শুভেন্দু অধিকারী নিউটাউনের ফ্ল্যাটে যে রাস্তায় যাতায়াত করতেন, সেই রুটে হামিম রেকিও করেছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আন্তর্জাতিক যোগ মিলেছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। এসটিএফ তদন্ত করছে। ধৃতের মোবাইল-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    জিম থেকেই ধরা পড়ে হামিম

    শুক্রবার সকালে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন রেনেসাঁ হাউজিং কমপ্লেক্সের জিম থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে পূর্ব বর্ধমান জেলার কুসুমগ্রামের বাসিন্দা। তবে তার পরিবারের শিকড় মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগর গ্রামেও রয়েছে। হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বসবাস করতেন। কয়েক মাস আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্সের রোহিনী টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা সেখানে পৌঁছে দেখেন ফ্ল্যাটে তালা ঝুলছে। প্রতিবেশীদের দাবি, হামিমের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের কথা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্য, আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা কখনও চোখে পড়েনি।

    হাওড়ায় চাকরির আড়ালে চলছিল নাশকতার প্রস্তুতি?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিম হাওড়ার পিলখানার একটি রেডিমেড পোশাক কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করত। কিন্তু এসটিএফ-এর দাবি, এই চাকরির আড়ালেই সে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল নিউটাউনেও।তদন্তকারীরা এখন হামিম ও অর্পিতার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে গোটা নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ এবং আরও কোনও সহযোগী এই চক্রে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে হামিম ও অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে STF। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আগামী কয়েক দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

LinkedIn
Share