Tag: Article 370

Article 370

  • PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্লগ লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেখানে তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syamaprasad Mukherjee) ভারতের ঐক্য ও অগ্রগতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবন আজও সাহস, আদর্শ এবং মাতৃভূমির প্রতি অটল নিষ্ঠার এক চিরন্তন উদাহরণ। ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘তিনি সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগ ও জনসেবার পথই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ঔপনিবেশিক শাসন, সাম্প্রদায়িকতা কিংবা মানবিক সঙ্কট— কোনও ক্ষেত্রেই তিনি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না।’

    ব্লগে শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনজীবনের অন্যতম প্রধান আদর্শ ছিল ভারতের অখণ্ডতা। তাঁর কথায়, “দেশভাগের অস্থির সময়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন যাতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যায়। কয়েক বছর পর সেই একই বিশ্বাস তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ে যায়। কারাবাস তাঁকে দমাতে পারেনি, বিচ্ছিন্নতাও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। অসংখ্য মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়েই বন্দি অবস্থায় তাঁর জীবনের আকস্মিক অবসান ঘটে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি ছিল তাঁর সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(ক) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় (PM Modi)।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গ্রন্থাগারের পরিকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং প্রত্নবস্তুর অধ্যয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের উন্নয়নের জন্য একটি বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গেও তিনি দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পকে দেশের মর্যাদা, কর্মসংস্থান এবং আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন এবং সিন্দ্রি সার কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী নেহরু সরকারের আনা প্রথম সংবিধান সংশোধনীর বিরোধিতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syamaprasad Mukherjee) অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের নীতির বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদ যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তা (PM Modi) পরবর্তীকালে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

  • Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম, স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের ভিত্তি নির্মাণ কিংবা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই—এই প্রতিটি অধ্যায়ে বারবার ফিরে আসে একটি নাম। তিনি ‘ভারত কেশরী’ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ, ৬ জুলাই, তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্ব, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে।

    কলকাতার এক মেধাবী ছাত্র থেকে জাতীয় নেতা

    ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মা যোগমায়া দেবী। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অসামান্য মেধার পরিচয় মিলেছিল। মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মেধাবৃত্তিসহ ম্যাট্রিক, প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ-তেও প্রথম স্থান—প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হওয়া ছিল সেই সময়ের এক বিরল নজির।

    শিক্ষাক্ষেত্রে যে সংস্কার আজও স্মরণীয়

    আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে তিনি কেবল আইনজীবী হয়ে থেমে থাকেননি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮—এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবর্তনগুলি তিনি আনেন, তা সময়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল। কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স, চীনা ও তিব্বতি ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের সূচনা—সবই তাঁর উদ্যোগে। তাঁর আমলেই প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন তিনি।

    বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের ভারত ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়। এই সময়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৪১ সালে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন শ্যামা-হক মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির দাঙ্গার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা সেই সময়ের নানা বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক ভোটাভুটি পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আজও আলোচিত।

    স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের প্রথম রূপরেখা

    স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ভারতের প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানা, সিন্ধ্রি সার কারখানা এবং একাধিক শিল্পপ্রকল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। খড়্গপুরে দেশের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠার ভাবনা এবং কলকাতায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। আজ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির যে আলোচনা হয়, তার প্রাথমিক শিল্পভিত্তি নির্মাণের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    মতাদর্শের প্রশ্নে মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসা

    ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এটি ছিল কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; তাঁর আদর্শগত অবস্থানেরও প্রকাশ। এরপরই তিনি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ: যে বীজ থেকে বিজেপির উত্থান

    ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই দলেই পরবর্তীকালে যুক্ত হন দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ বহু নেতা। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই জনসঙ্ঘই পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্ব কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক ধারার স্থপতি হিসেবেও মূল্যায়িত হয়।

    ৩৭০ ধারা নিয়ে যে আন্দোলন ইতিহাস হয়ে রয়েছে

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা। ‘এক দেশে দুই বিধান, দুই নিশান, দুই প্রধান চলবে না’— এই স্লোগান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পারমিট ব্যবস্থা অমান্য করে কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ১৯৫৩ সালের ১১ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৩ জুন বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা আজও নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর তাঁর এই আন্দোলন নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসে।

    ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক?

    সময়ের সঙ্গে রাজনীতি বদলেছে, দল বদলেছে, কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা থামেনি। কারণ, তাঁর জীবনকে একমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষাবিদ, সফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতির অন্যতম স্থপতি, সংসদীয় রাজনীতির প্রভাবশালী বক্তা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম সংগঠক। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন নেতা, যাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আদর্শগত ভিত্তির অংশ।

    ইতিহাসের মূল্যায়ন কখনও একরৈখিক নয়

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে একটি বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে— স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা এবং কাশ্মীর প্রশ্নের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সম্ভব নয়। ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাই তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন নেতাকে স্মরণ করা নয়; বরং স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখা।

  • Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র পরবর্তী ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রবীণ আইপিএস অফিসার মহেশ দীক্ষিত। বর্তমানে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে কর্মরত দীক্ষিত বিদায়ী ডিরেক্টর তপন কুমার ডেকা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি (ACC) তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

    কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের (DoPT) জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহেশ দীক্ষিতকে পরিষেবার মেয়াদ বাড়িয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে দুই বছরের জন্য, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন। সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, এফআর ৫৬(ডি) এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) রুলস, ১৯৫৮-এর রুল ১৬(১এ)-এর বিধান অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি আইবি-র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বর্তমান আইবি প্রধান তপন কুমার ডেকার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবেই দীক্ষিতের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    কে এই মহেশ দীক্ষিত?

    মহেশ দীক্ষিত ১৯৯৩ ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-র কর্মকর্তা। তিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের অফিসার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ বিষয় হল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পেশায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি চিকিৎসক (Medical Doctor) হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আইপিএস হন।

    দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা

    তিন দশকেরও বেশি কর্মজীবনে মহেশ দীক্ষিত সন্ত্রাসবাদ দমন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলেছেন। নিরাপত্তা মহলে তাঁকে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। আইবির সদর দফতরে স্পেশাল ডিরেক্টর হওয়ার আগে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (SIB)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।

    অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মহেশ দীক্ষিতের কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সময়কার দায়িত্ব। সেই সময় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য অশান্তি মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাঁর অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    জি-২০ বৈঠকের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন

    ২০২৩ সালে শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত জি-২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান। সেই সম্মেলনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছিলেন মহেশ দীক্ষিত।

    গত বছর হয়েছিলেন আইবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী

    ২০২৫ সালে মহেশ দীক্ষিতকে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে উন্নীত করা হয়। এই পদটি সংস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই থেকেই তিনি আইবির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এবার সংস্থার সর্বোচ্চ পদে বসে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার হুমকি, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

    কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

    ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সাইবার অপরাধ, উগ্রপন্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব এই সংস্থার উপরেই বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা কার্যক্রমে দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মহেশ দীক্ষিতকে আইবির নতুন ডিরেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

  • BJP Balidan Diwas: ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা— ৭৩তম বলিদান দিবসে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে

    BJP Balidan Diwas: ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা— ৭৩তম বলিদান দিবসে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৩ জুন মঙ্গলবার, ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালে আজকের দিনে জম্মু-কাশ্মীরে জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mookerjee Martyrdom Day)। দেশজুড়ে এই দিনটি বিজেপি পালন করে বলিদান দিবস (BJP Balidan Diwas) হিসেবে। এই প্রতিবেদনে আমরা জানব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আন্দোলন সম্পর্কে।

    জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই

    বিজেপির পূর্বতন ভারতীয় জনসংঘ গঠন, পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানে যেতে না দেওয়া, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন-এই সব গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বাঙালি নাম। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ‘বাংলার বাঘ’ বলে খ্যাত আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও যোগমায়াদেবীর পুত্র একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে একজন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর জন্মস্থান কলকাতার ৭৭ রসা রোডে (বর্তমানে আশুতোষ মুখার্জি রোড)।

    শিক্ষাজীবন ও বিবাহ

    • – ১৯০৬ সালের ২৩ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন।
    • – ১৯১৭ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় মেধা বৃত্তি (১০ টাকা প্রতি মাসে) সহ উত্তীর্ণ হন।
    • – ১৯১৯ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আর্টসে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
    • – ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন, ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।
    • – ১৯২২ সালের ১৬ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডাঃ বেণীমাধব চক্রবর্তীর কন্যা সুধাদেবীর সঙ্গে।
    • – ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

    মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো

    ১৯২৪ সালের ২৫ মে বিহারের পাটনায় স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনা গভীর রেখাপাত করে যুবক শ্যামাপ্রসাদের মনে। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, পিতার মৃত্যুতে তাঁর জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ উধাও হয়ে যায়। এরপরেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২৬ সালে আইন পড়তে তিনি ইংল্যান্ড যান। ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সম্মেলনে ওই বছরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। কলকাতায় ফিরে আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে যোগদান করেন। তবে হাইকোর্টের কর্মজীবনকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। ১৯৩৩ সালে তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে, প্রয়াত হন স্ত্রী সুধাদেবী।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

    ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। নতুন কোর্স হিসেবে এগ্রিকালচারের ওপর ডিপ্লোমা তিনিই চালু করেন। চিনা ও তিব্বতীয় ভাষাশিক্ষার ওপরে কোর্স চালু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর আমলে নতুনভাবে তৈরি হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি হল। তিনি উপাচার্য থাকাকালীন প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানান বক্তব্য রাখতে।

    হিন্দু মহাসভায় যোগদান

    ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ওই বছরেই হিন্দু মহাসভায় যোগদান করেন তিনি। ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৩৯ সালে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের সভাপতিত্বে কলকাতায় বসে হিন্দু মহাসভার অধিবেশন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪০ সালে তিনি হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হন।

    শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা

    ১৯৪১ সালে সাম্প্রদায়িক মুসলিম লিগকে বাংলার ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য হিন্দু মহাসভার সঙ্গে জোট হয় ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির। এই জোট জনপ্রিয় ছিল শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা নামে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

    দাঙ্গা বিধ্বস্ত বাংলায় উদ্বাস্তুদের পাশে

    ১৯৪৪ সালে মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরে বসে হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় অধিবেশন। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সে বছর থেকেই চালু করেন ‘ন্যাশনালিস্ট’ পত্রিকা। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালি দাঙ্গা করে মুসলিম লিগ। সে সময় আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে থাকা, উদ্বাস্তুদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, সবটাই তিনি নিজে হাতে করেছিলেন। সে সময় তিনি তৈরি করেছিলেন হিন্দুস্থান ন্যাশনাল গার্ড।

    পশ্চিমবঙ্গ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় এক ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পশ্চিমবঙ্গ। বাঙালি হিন্দু পায় তার নিজস্ব বাসভূমি। মুসলিম লিগের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তারপর থেকে এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’। হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়। পৃথক হয় পশ্চিমবঙ্গ। সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ঘোষণাও করে।

    স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী

    ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট নেহরুর মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর হিন্দু মহাসভাকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে আত্মনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। ভারতের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন শিল্প উন্নয়ন নিগম, প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ স্থাপন, সিন্ধ্রি সার কারখানা-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। খড়্গপুরে ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি স্থাপনা, কলকাতার প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্থাপনার ভাবনা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বেড়ে চলে। হত্যা, লুন্ঠন, নারীর সম্ভ্রমহানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫০ সালের ১৪ এপ্রিল নেহরু মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হয়েও এর প্রতিবাদে লোকসভায় গর্জে ওঠেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পদত্যাগ করেন।

    ভারতীয় জনসংঘ গঠন

    দেশভাগের পরবর্তীকালে হিন্দু শরণার্থীদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের বন্দোবস্ত তিনিই করেন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। একমাত্র জাতীয়তাবাদী সাংসদ হিসেবে তিনিই আইনসভায় হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হতেন। এমন সময় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল স্থাপনের উদ্দেশ্যে গুরুজি গোলওয়ালকারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুজি কয়েকজন স্বয়ংসেবককে পাঠান, তাঁরা হলেন, দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, জগদীশ মাথুর, সুন্দর সিং ভাণ্ডারি প্রমুখ। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লির রাঘোমাল গার্লস স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। তিনিই ছিলেন প্রথম সভাপতি। প্রতীক ছিল প্রদীপ। দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসঙ্ঘ তিনটি আসন পায়। যার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতা থেকে জেতেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজে।

    জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু

    দেশের প্রধান বিরোধী কণ্ঠস্বর তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপের জন্য তিনি আন্দোলন শুরু করেন। দাবি ছিল ‘এক প্রধান-এক নিশান-এক বিধান’। কারণ কাশ্মীরের জন্য ছিল তখন আলাদা পতাকা। কাশ্মীরে চালু ছিল না ভারতের সংবিধানও। বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল ৩৭০ ধারার মাধ্যমে। এই ধারা কার্যত কাশ্মীরকে পৃথক করে রেখেছিল ভারত থেকে। কাশ্মীরে প্রবেশ করতে ভারতীয়দের লাগত অনুমতিও। এর প্রতিবাদ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বিনা পারমিটে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে গেলে ফারুক আবদুল্লার সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে ১৯৫৩ সালের ১১ মে। জম্মু ও কাশ্মীরে জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয় ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন।

  • Jammu-Kashmir: জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের ৬ বছর পার, উপত্যকায় উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট, কতটা বদলেছে ভূস্বর্গ?

    Jammu-Kashmir: জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের ৬ বছর পার, উপত্যকায় উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট, কতটা বদলেছে ভূস্বর্গ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরের উন্নতির পথে প্রধান বাধা ছিল ৩৭০ ধারা। কেন্দ্রের মোদি সরকার সেই বাধা অতিক্রম করেছে। দেশের অন্য অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন কাশ্মীরেও সমানভাবে উন্নতি হচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের ছয় বছর পর এমনই ভাবছে উপত্যকাবাসী। ৫ অগাস্ট— ২০১৯ সাল, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu-Kashmir) বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এই সঙ্গে রাজ্যটিকে বিভক্ত করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—তৈরি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে থাকা এই পদক্ষেপকে “জাতীয় সংহতির পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ” বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। উপত্যকাকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার পথে এই সিদ্ধান্ত সঠিক। এই পদক্ষেপ জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অখণ্ড অংশ করে তুলতে সাহায্য করেছে।

    ৩৭০ ধারা বিলোপের পর পরিবর্তনের ছবি

    ৩৭০ ধারা (Article 370) বিলোপের পর ব্যাপক পরিকাঠামো গত উন্নয়নের হাত ধরে বদলে গিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের চেহারা। নিত্যদিনের কার্ফিউ বা জঙ্গিদের সন্ত্রাস এখন নেই বললেই চলে। সেখানকার স্থানীয় মানুষই প্রতিহত করছেন প্রতিবেশী পাকিস্তানের যাবতীয় নাশকতার ছক। নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা এখন রাজ্যে চাইছেন শান্তি। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরে হিংসাত্মক ঘটনা কমে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে।

    সফল নির্বাচন ও ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর জম্মু-কাশ্মীর প্রথমবারের মতো একাধিক সফল নির্বাচন দেখেছে। কয়েক দশক পর প্রথমবার, সাধারণ মানুষ বিপুল উৎসাহে ভোটদান করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় উপত্যকায়। একইভাবে, বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাদাতাদের উপস্থিতি ছিল ৬৩.৮৮ শতাংশ, যা এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। নির্বাচনের সময় কোনও বড় ধরনের বিক্ষোভ বা বয়কটের ডাক দেখা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল নিয়ন্ত্রণে।

    পর্যটনে ব্যাপক উত্থান

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০২৩ সালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে ২.১১ কোটির বেশি পর্যটক ঘুরতে গিয়েছেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। যদিও পাহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু কিছুটা ধাক্কা দেয় পর্যটনে, তবুও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং আবারও পর্যটকের ঢল নামে।

    পাথর ছোড়ার ঘটনা একেবারে বন্ধ

    অতীতে জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ার ঘটনা নিয়মিত ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই ধরনের একটিও ঘটনা ঘটেনি। ২০১০ সালে যেখানে পাথর ছোঁড়ার সংখ্যা ছিল ২,৬৫৪টি, সেখানে আজ তা পুরোপুরি শূন্য বললেই চলে। পাশাপাশি, উপত্যকায় হরতালের ডাকও কার্যত নেই।

    পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ

    বড় ধরনের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটেছে জম্মু-কাশ্মীরে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ৪২ হাজার ৫০০ কোটির উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেল প্রকল্প, যার অংশ হিসেবে চেনাব নদীর উপর তৈরি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেল সেতু। এই রেল প্রকল্প কেবল জম্মু ও কাশ্মীরকে সংযুক্ত করে না, এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও ব্যবসায়িক সংযোগেও গতি এসেছে।

    চেনাব সেতু: কাশ্মীরের পরিকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে বড় উদাহরনই হল চেনাব সেতু। চেনাব নদীর ওপর গড়ে উঠেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ এই আর্চ রেলসেতু। ইতিমধ্যেই চেনাব সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সেতু কাশ্মীরের আর্থসামাজিক অবস্থাকেই বদলে দিচ্ছে। চন্দ্রভাগা নদীর ৩৫৯ মিটার উঁচুতে তৈরি চেনাব আর্চ রেলসেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩১৫ মিটার। চেনাব সেতু এখন কাশ্মীরিদের গর্ব। ভূমিকম্পেও অটল থাকবে এই সেতু।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় বদল: রেল ছাড়াও নির্মিত হয়েছে বিরাট বিরাট সড়ক। হাটবাজার, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ প্রভৃতি গড়ে উঠছে অতি দ্রুত। ভারত স্বাধীনতার বহু যুগ কেটে গেলেও কাশ্মীরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ২০১৯ সালের আগে খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু গত ৬ বছরে আমূল বদলে গিয়েছে উপত্যকার সড়ক ব্যবস্থা। ভারত নেট প্রকল্পে মার্চেই ৭ হাজার ৭৮৯ ফাইবার-টু-দ্য-হোম সংযোগ পৌঁছে দেওয়া বয়েছে। ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বিমানবন্দরেরও। ২০১৯ সালে যেখানে ৩৫টি বিমান প্রতিদিন যাতায়াত করতো এখন সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১২৫।

    লগ্নি বেড়েছে উপত্যকায়: কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন নারীরা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষজন। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়়ে উঠছে উপত্যকায়। বর্তমানে ৮৩৭টি নতুন শিল্প উদ্যোগ চালু আছে। এরমধ্যে ৩০২টি প্রতিষ্ঠানই নারীদের দ্বারা পরিচালিত। শ্রীনগর শহর এখন স্মার্ট সিটি প্রকল্পের আওতায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ এ ফলে উপকৃত হচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার কোটি টাকার লগ্নি এসেছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও, এই ধারা রদের পর থেকে পরিসংখ্যান বলছে জম্মু-কাশ্মীরে ভোটার অংশগ্রহণ, পর্যটন, শান্তি ও উন্নয়নের দিক থেকে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

  • Article 370: ৩৭০ ধারা বাতিলের পদক্ষেপকে সমর্থন দেশের প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের

    Article 370: ৩৭০ ধারা বাতিলের পদক্ষেপকে সমর্থন দেশের প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিলোপ করা হয় ৩৭০ ধারা (Article 370)। তা নিয়ে দেশজুড়ে কম বিতর্ক হয়নি। মোদি সরকারকে তীব্র নিশানা করেন ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’র কারবারিরা। তবে কেন্দ্রের ৩৭০ ধারা বাতিল করার পদক্ষেপকে সমর্থন করেন দেশের প্রধান বিচারপতি (CJI) বিআই গাভাই। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সংঘবদ্ধ ভারতের জন্য একটি সংবিধানের ভাবনা ছিল বাবাসাহেব বিআর আম্বেডকরের। কিন্তু ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ তাঁর সেই ভাবনার পরিপন্থী।”

    বাবাসাহেবের কথা মনে পড়েছিল (Article 370)

    নাগপুরে কনস্টিটিউশনার প্রেম্বল পার্কের উদ্বোধনে গিয়েছিলেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি। সেখানেই তিনি বুঝিয়ে দেন, ৩৭০ ধারা বাবাসাহেবের মতাদর্শের পরিপন্থী। এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে গাভাই মনে করিয়ে দেন, “সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে উঠেছিল ৩৭০ ধারা বাতিলের মামলা। সেখানে পাঁচ বিচারপতিই কেন্দ্রের ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন।” এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। মামলা হয়। এ নিয়ে যথন শুনানি চলছিল, তখন আমার বাবাসাহেবের কথা মনে পড়েছিল।” তিনি বলেন, “দেশকে যদি সংঘবদ্ধ রাখতে হয়, তাহলে আমাদের একটা মাত্র সংবিধান চাই।” দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বলেন, “গোটা দেশের জন্য একটাই সংবিধান প্রয়োজন। দেশ পরিচালিত হবে একটি মাত্র সংবিধানের ভিত্তিতে।” এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা যদি দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চাই, তবে আমাদের একটাই সংবিধান প্রয়োজন (Article 370)।”

    সংঘবদ্ধ ভারতের জন্য একটিই সংবিধান

    তিনি বলেন, “সংঘবদ্ধ ভারতের জন্য একটিই সংবিধানের ভাবনা ছিল বিআর আম্বেডকরের। কিন্তু ৩৭০ নম্বর ধারা তাঁর সেই ভাবনার পরিপন্থী।” তিনি (CJI) বলেন, “সংসদ নয়, আমার কাছে সংবিধানই সর্বোচ্চ।” গাভাই বলেন, “সংসদ সংবিধানের মূল কাঠামো সংশোধন করতে পারে, কিন্তু তাকে বদলাতে পারে না।” তিনি বলেন, “বাবাসাহেব আম্বেডকর একাধিকবার সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন এই জন্য যে, ভারতীয় সংবিধানে অতিরিক্তভাবে ফেডারেলিজম রাখা হয়েছে, যা যুদ্ধ বা সংকটের সময় দেশের ঐক্যের পক্ষে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু (CJI) আম্বেডকর স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ভারতীয় সংবিধান সম্পূর্ণ কেন্দ্রভিত্তিক নয়, আবার পুরোপুরি ফেডারেলও নয়। এটি তার অ্যাডাপটাবিলিটির দিক থেকে একক এবং অনন্য (Article 370)।”

  • ICC Champions Trophy: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থাকে কার্যত বিদায় পাকিস্তানের, ভারতের জয়ে উৎসব বারামুলায়

    ICC Champions Trophy: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থাকে কার্যত বিদায় পাকিস্তানের, ভারতের জয়ে উৎসব বারামুলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোহলির শট বাউন্ডারি পেরোতেই উচ্ছ্বসিত উপত্যকা। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বইয়ের মতোই আকাশে আতশবাজির রোশনাই বারামুলায়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে (ICC Champions Trophy) পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে ভারত। প্রথমবারের মতো, আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের পর,ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখল উপত্যকাবাসী। ভারত জিততেই বারামুলা শহর উৎসবের সুরে ভরে ওঠে, যা জম্মু এবং অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। এই জয় শুধুমাত্র ভারতের ক্রিকেট দক্ষতার নয়, বরং আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের পর কাশ্মির উপত্যকায় পরিবর্তিত মনোভাবের প্রতীকও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    চির প্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তান

    ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনা তুঙ্গে। শুরুতে দুবাইয়ের গ্যালারির কিছু অংশ ফাঁকা থাকলেও পরে তা ভরে যায়। ২৯ বছর পরে কোনও আইসিসি (ICC Champions Trophy) টুনার্মেন্ট পাকিস্তানে, অথচ ‘চিরশত্রু’ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ম্যাচটাই করাচি বা লাহোরের বদলে দুবাইয়ে। এতেই শেষ হচ্ছে না দুর্ভোগ। করাচিতে প্রথম ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের কাছে হারের পরে, রবিবারও রোহিতদের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই ছুটি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা মহম্মদ রিজওয়ানদের। লাহোর থেকে করাচি, ক্ষোভের আগুন জ্বলছে ধিকিধিকি। অন্যদিকে ওয়াঘার এপারে খুশির হাওয়া। আট বছর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ওভালে ভারতকে হারিয়ে জিতেছিল পাকিস্তান। ২০১৭ সালের সেই ম্যাচের বদলা নিল ভারত। এ বারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকেই প্রায় ছিটকে যাওয়ার অবস্থা পাকিস্তানের। প্রথমে ব্যাট করে ২৪১ রান করেছিল পাকিস্তান। বিরাট কোহলির শতরানে ৪৫ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জিতল ভারত।

    ভারতের জয়েই খুশি উপত্যকা

    বারামুলায় এদিন জয় উদযাপন ছিল এক উজ্জ্বল প্রদর্শন। বিশেষত যুবক-যুবতীদের মধ্যে জাতীয় গর্ব এবং উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। যখন আকাশে রঙিন আতশবাজি ফোটে এবং চারপাশে আতশবাজির শব্দ ভেসে আসে, তখন শহরটা জীবন্ত হয়ে ওঠে। বারামুলার মানুষের জন্য, এই জয় শুধু ভারতীয় ক্রিকেট দলের মাঠে সাফল্য নয়, বরং এক বৃহত্তর গর্ব এবং ঐক্যের প্রতীক। “এটি এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত, বন্ধুদের সঙ্গে উদযাপন করতে পারা এক বিশেষ অনুভূতি,” বলেন এক স্থানীয় যুবক, যার মুখ আলোয় ঝলমল করছে। “ক্রিকেট আমাদের জন্য শুধু খেলা নয়; এটি আমাদের একসাথে নিয়ে আসে।”

    কিং কোহলিতে মুগ্ধ

    এক দিনের ক্রিকেটে ৫১ নম্বর শতরান করে ফেললেন কোহলি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর ১১১ বলে করা শতরান বুঝিয়ে দিল কেন তিনি বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। ম্যাচ জেতানো বাউন্ডারিতেই শতরান পূর্ণ কোহলির। সেই শতরান করে হাত নেড়ে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি আছেন, স্বমহিমাতেই আছেন। কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর সারা দেশ রাজকীয় এই ইনিংসকে তাড়িয়ে উপভোগ করে। যে কাশ্মীরকে এতদিন ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করা হত। প্রধানমন্ত্রী মোদির জমানায় সেই কাশ্মীরে দাঁড়িয়েই বিরাট-রোহিতদের জয় উদযাপন করল উপত্যকাবাসী। এই জয় আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের পর উপত্যকাবাসীর মনের অবস্থা পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিল।

    ক্রিকেটই মেলবন্ধন, পরিবর্তিত কাশ্মীরের ছবি

    ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীর যে বিশেষ মর্যাদা পেত, ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট তার বিলোপ ঘটায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তারপর থেকেই কাশ্মীরে এসেছে পরিবর্তনের জোয়ার। পরিবর্তিত কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতা নয় মেলবন্ধনই প্রাধান্য পায়। তৈরি হয়েছে নয়া রেলপথ। যা জম্মুকে যুক্ত করেছে বারামুলার সঙ্গে। এখন কাশ্মীরে ভারতের পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এখন রোহিত-বিরাটদের হয়েই গলা ফাটায় কাশ্মীর। যার প্রতিফলন ঘটেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে (ICC Champions Trophy) ভারতের জয়ের পর বারামুলার উচ্ছ্বাসে। ক্রিকেটকে কেন্দ্র করেই কাশ্মীরের স্থানীয় যুবকদের মধ্যে যে নতুন এক সম্প্রদায়ভিত্তিক অনুভূতি গড়ে উঠেছে। এটি মুহূর্তের উৎসব নয়, বরং কাশ্মীরের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবর্তনের একটি চিহ্ন।

  • Amit Shah: শরদ পাওয়ারের চার প্রজন্মও ৩৭০ ধারা ফেরাতে পারবে না, মহারাষ্ট্রে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহের

    Amit Shah: শরদ পাওয়ারের চার প্রজন্মও ৩৭০ ধারা ফেরাতে পারবে না, মহারাষ্ট্রে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে (Maharastra Poll) নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ইন্ডি জোটকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‘জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং কংগ্রেস প্রস্তাব পাশ করেছে যাতে সেখানে ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনা যায়। কারণ তাদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ অংশ নয়। আমি আজ সম্ভাজি মহারাজের ভূমিতে দাঁড়িয়ে তাঁদের বলতে চাই, শরদ পাওয়ার সাহেব যদি আপনার চার প্রজন্ম চলে আসে, তাহলেও জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ফেরাতে পারবে না। মহারাষ্ট্রের (Maharastra Poll) ঔরঙ্গাবাদের নাম করা উচিত ছিল সম্ভাজিনগর। কিন্তু সেটা করা হয়নি।’’

    ওয়াকফ বোর্ড প্রসঙ্গে 

    তিনি আরও বলেন, ‘‘পুরো দেশ কংগ্রেস আমলে তৈরি ওয়াকফ বোর্ডের বেশ কিছু বিধিনিয়ম নিয়ে হতাশ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওয়াকফ সংশোধনী বিল এনেছেন। কারণ ওয়াকফ বোর্ডের অনিয়মগুলিকে তিনি পরিবর্তন করতে চান। দেখা যাচ্ছে কর্নাটকের একটি গ্রামে মন্দির সমেত পুরো গ্রামকেই ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি বলে ঘোষণা করা হচ্ছে।’’ উদ্ধব থ্যাকারেকে উদেশ্য করে তিনি (Amit Shah) আরও বলেন, ‘‘আপনারা কি এই বিলকে সমর্থন করবেন, নাকি এর বিরোধিতা করবেন? কিন্তু তাঁরা কোনও উত্তর দিতে পারছেন না। যদি তাঁরা ক্ষমতায় আসেন, তাহলে তাঁরা সর্বদাই চেষ্টা করবেন কৃষকের সাধারণ জমি ও মন্দির ওয়াকফ বোর্ডের হাতে তুলে দিতে।’’

    রামমন্দির প্রসঙ্গে কী বললেন শাহ (Amit Shah)? 

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত এনডিএ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও রকমের মন্দিরের জমি বা কৃষকদের জমি আমরা অন্য কাউকে দখল করতে দেব না।’’ এদিন অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্যে উঠে আসে অযোধ্যার রামমন্দির প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘‘৫০০ বছর ধরে তাঁবুতে ছিলেন রামলালা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছরের মধ্যে রাম জন্মভূমিতে ভূমিপূজন করেছেন। মন্দির তৈরি করেছেন। বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন।’’
     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Article 370: ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে ফের উত্তাল জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা, ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ বিজেপি বিধায়কদের

    Article 370: ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে ফের উত্তাল জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা, ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ বিজেপি বিধায়কদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩৭০ ধারা (Article 370) নিয়ে শুক্রবারও উত্তপ্ত হল জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা। বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়করা। এদিন বিজেপি বিধায়কদের পাশাপাশি মার্শালের নিশানা হলেন আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টির বিধায়ক খুরশিদ আহমেদ শেখ। স্পিকার আব্দুল রহিম রাথেরের নির্দেশে শুক্রবার খুরশিদের পাশাপাশি ১২ জন বিজেপি বিধায়ককেও সভা থেকে বার করে দেন মার্শাল। এর প্রতিবাদে বিজেপির বাকি ১১ বিধায়ক ওয়াকআউট করেন।

    এদিন ঠিক কী ঘটেছিল? (Article 370)

    এই নিয়ে টানা তিন দিন ৩৭০ ধারা (Article 370) নিয়ে অশান্তি হল দেশের নবীনতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভায়। শুক্রবার সভার শুরুতেই বিরোধী বিজেপির বিধায়কেরা জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ফেরানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জবাবে বারামুলার সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার রশিদের ভাই খুরশিদ জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার দাবিতে স্লোগান তোলেন। আর এক বিরোধী দল পিডিপির বিধায়কেরাও তাঁর সঙ্গে গলা মেলান। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে মার্শালকে তলব করেন স্পিকার। পরে, বিজেপি বিধায়কদের বের করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারও দু’পক্ষের অশান্তির কারণে মার্শাল ডেকে কয়েক জন বিজেপি বিধায়ককে বার করে দিয়েছিলেন স্পিকার। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সরকার বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ফেরাতে চেয়ে প্রস্তাব পাশ করেছিল সেখানকার বিধানসভায়। তার পর থেকেই শুরু হয়েছে অশান্তি।

    আরও পড়ুন: ৯৭ বছরে পা দিলেন লালকৃষ্ণ আডবানি, জন্মদিনে বর্ষীয়ান নেতাকে শুভেচ্ছা মোদি-শাহের

    বিশেষ মর্যাদা বিলোপের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক নয়

    জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট নরেন্দ্র মোদি সরকার ৩৭০ নম্বর (Article 370) ধারা বাতিল করে। ফলে, বিশেষ মর্যাদা হারায় জম্মু ও কাশ্মীর। এমনকি, কেড়ে নেওয়া হয় রাজ্যের তকমাও। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভেঙে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ-দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হয়। এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বরের রায়ে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক নয়।

    জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে!

    পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, ওই বিধায়কের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল (Article 370) এবং কংগ্রেস। বিজেপির (BJP) জম্মু- কাশ্মীর সভাপতি রবীন্দ্র রায়না ন্যাশনাল কনফারেন্স-কংগ্রেস জোটকে নিশানা করে বলেন, “ওরা পাকিস্তানের হাত শক্ত করছে। জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Jammu And Kashmir: ৩৭০ ধারা ফেরাতে প্রস্তাব পাশ জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায়

    Jammu And Kashmir: ৩৭০ ধারা ফেরাতে প্রস্তাব পাশ জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূস্বর্গে (Jammu And Kashmir) দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “পৃথিবীর কোনও শক্তিই আর ৩৭০ ধারা ফেরাতে পারবে না।” আর ৬ নভেম্বর, বুধবার জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu And Kashmir) ফের ৩৭০ ধারা ফেরাতে চেয়ে প্রস্তাব পাশ হল জম্মু-কাশ্মীর বিধাসভায়। এদিন সভায় প্রস্তাবটি পেশ করে রাজ্যের শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স।

    বিধানসভায় হট্টগোল (Jammu And Kashmir)

    প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন বিজেপি বিধায়করা। দু’পক্ষের চিৎকার-চেঁচামেচিতে বিধানসভা কার্যত পরিণত হয় হট্টমেলায়। পরে অবশ্য ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে যায় প্রস্তাবটি। এনিয়ে এদিন বিধানসভায় কোনও আলোচনাই হয়নি। ছ’বছর পরে গত সোমবার অধিবেশন বসে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায়। প্রথম দিনেই ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বিধানসভায়। সেদিন বিধানসভার স্পিকার ন্যাশনাল কনফারেন্স বিধায়ক রহিম রাঠেদার জানিয়েছিলেন এই ধরনের প্রস্তাব তিনি অনুমোদন করছেন না। সেদিন প্রস্তাবটি পেশ করেছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির দল।

    প্রস্তাব পেশ উপমুখ্যমন্ত্রীর

    বুধবার শাসক দলের তরফে প্রস্তাবটি পেশ করেন উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর কুমার চৌধুরী। তিনি বলেন, “কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপের কারণে বাইরের লোকজনও সেখানকার জমি কিনছেন। তাই অসুবিধার মুখ পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।” প্রস্তাবের বিরোধিতা করে (Jammu And Kashmir) রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা বলেন, “উপরাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।” এনসির আনা প্রস্তাবকে সমর্থন করে কংগ্রেস। বিরোধিতা করে বিজেপি। পদ্ম-বিধায়করা স্লোগান দিতে থাকেন ‘অগাস্ট ৫ জিন্দাবাদ’, ‘জয় শ্রীরাম’, ‘বন্দে মাতরম’, ‘জাতীয় বিরোধী অ্যাজেন্ডা নেহি চলেগা’, ‘পাকিস্তানি অ্যাজেন্ডা নেহি চলেগা’।

    আরও পড়ুন: জয়ী হতে চলেছেন ট্রাম্প, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনূস

    প্রস্তাবে কেন্দ্রের কাছে ৩৭০ ধারা ফেরানোর বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার আর্জি জানানো হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা সরব হয়েছেন স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে (Jammu And Kashmir)। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে খবর আছে যে আপনি গতকাল মন্ত্রীদের একটি বৈঠক ডেকেছিলেন এবং নিজেই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছেন।”

    প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার লোপ করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ৩৭০-এ জম্মু ও কাশ্মীরকে যে বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছিল (Article 370), তা সাময়িক (Jammu And Kashmir)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

     

LinkedIn
Share