Tag: Asaduzzaman Khan Kamal

  • Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। তাঁর সঙ্গেই স্বদেশে (Bangladesh) ফিরবেন নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। বর্তমানে ভারতে রয়েছেন হাসিনা। তিনি জানান, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও, বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।সংবাদসংস্থাকে দেওয়া ঘণ্টাখানেকের টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে আশি ছুঁইছুঁই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, “আমি দেশে ফিরব। আমায় গ্রেফতার করা হতে পারে। হত্যা করা হলেও, আমি ফিরব।”

    ‘যদি মৃত্যুই আসে…'(Sheikh Hasina)

    তিনি বলেন, “আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। যদি মৃত্যুই আসে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।” এটাই প্রথমবার, যখন হাসিনা প্রকাশ্যে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা জানালেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামি লিগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। হাসিনার পাশাপাশি এঁকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের জেরে টানা কয়েক সপ্তাহের হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশ (Bangladesh) ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। সেনাপ্রধানের পরামর্শেই নিরাপত্তার স্বার্থে দেশ ছাড়েন বলে সেই সময় জানা গিয়েছিল। এরপর থেকে হাসিনা রয়েছেন ভারতেই।

    মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হাসিনা

    গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকার অভিযোগে দেশে না থাকা অবস্থায়ও হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। যদিও প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন পড়শি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বারবার হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরাতে ভারতের কাছে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরব।” তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক অধিকার কোনও গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তাই এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’’ ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আবেদন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ঢাকার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা

    তাঁর বিরুদ্ধে (Sheikh Hasina) দায়ের হওয়া মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে হাসিনা বলেন, “আমি বিচারব্যবস্থার ওপর (Bangladesh) বিশ্বাস রাখি। আদালতে মামলা শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবেন এই বিচার কতটা প্রহসনের।” তিনি বলেন,  ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন। তাই আমি বলেছি, এ বার আমি ঘরে ফিরছি। এক দিন আপনাদের সকলকেই ফিরতে হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের প্রহসনমূলক চরিত্র প্রকাশিত হয়ে যাবে। আমি সেটাই চাই।’’ মহম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিষেধাজ্ঞার জেরে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামি লিগ। হাসিনা চান, তাঁর দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক বাংলাদেশের জনগণ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন।

    কারাবাসের ভয় নেই

    তিনি জানান (Sheikh Hasina), কারাবাসের ভয় তাঁর নেই। অতীতেও একাধিকবার তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালে, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। অবশ্য তাঁর কারাবাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো হাসিনা। হাসিনা এও জানান, নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও আওয়ামি লিগকে পুনর্গঠন করতে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন। তিনি মনে করেন, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত নয়।

    আত্মসমালোচনা হাসিনার

    দীর্ঘ ২০ বছরের রাজপাট নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেন হাসিনা। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি (Sheikh Hasina)।” আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। হাসিনা ভারত ছেড়ে নিজের দেশে না ফেরায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। চলতি বছরেই তিনি যে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফিরবেন, তা আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বার নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, ডিসেম্বরেই তিনি ফিরছেন বাংলাদেশে (Sheikh Hasina)।

     

  • Sheikh Hasina: হাসিনাকে গদিচ্যুত করার নেপথ্যে সিআইএ! বড় দাবি বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Sheikh Hasina: হাসিনাকে গদিচ্যুত করার নেপথ্যে সিআইএ! বড় দাবি বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেনা অভ্যুত্থানের গুজব এবং শীর্ষ পর্যায়ে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগকে ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশের রাজনীতির আঙিনা। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি বই। তাতেই চাঞ্চল্যকর দাবি (CIA) করা হয়েছে। কীভাবে নিপুণভাবে ঘুঁটি সাজিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তার উল্লেখ করা হয়েছে বইটিতে। হাসিনা মন্ত্রিসভার প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের অভিযোগ, দেশের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নাকি সিআইএ-সমর্থিত একটি পরিকল্পনার অংশ ছিলেন, যার লক্ষ্যই ছিল হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা। ‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভোল্যুশন’ শিরোনামের ওই বইটি লিখেছেন দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার এবং শহিদুল হাসান খোকন।

    ‘সিআইএ-র চক্রান্ত’ (Sheikh Hasina)

    বইটির তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের এক সকালে দিল্লির একটি হোটেলে লেখকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় খান কামাল এসব ঘটনা জানিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলকে ‘একটি নিখুঁত সিআইএ (মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা) চক্রান্ত’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে সুচারুভাবে এই ষড়যন্ত্রের ছক কষা হয়েছিল। বইটিতে তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “আমরা জানতামই না যে সিআইএ ওয়াকারকে কব্জা করে ফেলেছে।” কামালের দাবি, দেশের প্রধান দুই গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এবং এনএসআই প্রধানমন্ত্রীকে এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করতেও ব্যর্থ হয়েছিল। তাঁর ইঙ্গিত, এই দুই সংস্থার প্রবীণ কর্তারাও এতে জড়িত থাকতে পারেন, যেহেতু সেনাপ্রধান নিজেই ছিলেন এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম চাঁই।

    কেন নেপথ্যে আমেরিকা?

    বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের জন্য আমেরিকা কেন জড়াতে চাইবে? এ প্রশ্নের উত্তরে কামাল দুটি কারণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন দক্ষিণ এশিয়ায় একই সময়ে অতিরিক্ত শক্তিশালী নেতাদের দেখতে চায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চিনের শি জিনপিং এবং শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী আঞ্চলিক নেতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ চাপিয়ে দেওয়ার কাজটা কঠিন করে তোলে (Sheikh Hasina)। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত কৌশলগত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বিষয়টির কথা। মায়ানমারের উপকূল থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের বাড়তি প্রভাবের কারণেই বেড়েছে এই দ্বীপের গুরুত্ব (CIA)।

    হাসিনার নিশানায় আমেরিকা

    ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আগে হাসিনা নিজেই সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকাকে দিতে ওয়াশিংটন তাঁর ওপর চাপ দিচ্ছিল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে একটি প্রেস কনফারেন্সে তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁকে জানানো হয়েছিল দ্বীপটির অ্যাক্সেস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দিলে তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি একে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আপস বলেও উল্লেখ করেছিলেন। পদচ্যুত হওয়ার পরেও ১১ জুন ফেসবুক লাইভেও তিনি একই দাবি করেন। তিনি বলেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নয়া সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে কাজ করছে। বইটিতে কামালের উদ্ধৃতি থেকে জানা গিয়েছে, “ভারতের সংবাদমাধ্যম এখন এটি রিপোর্ট করছে। কিন্তু আমাদের সরকার পতনের অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের সতর্ক করেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য (Sheikh Hasina)।”

    বাংলাদেশকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেবে

    প্রসঙ্গত, বইটি এমন একটি সময়ে প্রকাশিত হয়েছে যখন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী যার নেতৃত্বে এখনও রয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান—ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে (CIA)। ১১ অক্টোবর সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে স্বীকার করে যে তাদের ১৫ জন আধিকারিক নিখোঁজ ও গুমের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক রয়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছিল হাসিনার জমানায়। এই পরিস্থিতি সেনাবাহিনীর ভেতরে উত্তেজনা ও বিভেদের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ওয়াকারের সৌদি আরব সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে তিনি আপাতত বাতিল করেছেন তাঁর সফর। দীপ বলেন, “এটি বাংলাদেশকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেবে।”

    লেখকের বক্তব্য

    দীপ বলেন, এই তথ্যগুলি বাংলাদেশের রাজনীতিকে গভীরভাবে অস্থির করে তুলবে। তিনি জানান, জেনারেল ওয়াকারকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন হাসিনা নিজেই। তিনি বলেন, “দুই শীর্ষ ব্যক্তি জেনারেল ওয়াকার এবং রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে নানা গুজব ও তত্ত্বের কেন্দ্রে ছিলেন।” তিনি জানান, গোপালগঞ্জের দাঙ্গা থেকে শুরু করে সেনা কর্তাদের গ্রেফতার সব ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। গত এক বছর ধরে গুজব ছিল যে জেনারেল ওয়াকার ‘ভারতের এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু নতুন দাবি হল, তিনি নাকি সিআইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রশ্ন উঠছে, তিনি আসলে কোন পক্ষে রয়েছেন?

    অভিমন্যুর সঙ্গে হাসিনার তুলনা

    বইটিতে খান কামাল শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ভাগ্যকে মহাভারতের অভিমন্যুর সঙ্গে (CIA) তুলনা করেছেন। তিনি লেখকদের বলেছেন, “যেমন অভিমন্যুকে তাঁরই বিশ্বস্ত মানুষরা ঘিরে ধরে হত্যা করেছিল, ঠিক তেমনই ওয়াকার বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তিগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে হাসিনাকে পদচ্যুত করার কাজটি করেছেন।” তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠী, যারা বহু বছর ধরে পরস্পর শত্রু ছিল, তারা প্রথমবারের মতো একজোট হয়েছিল হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিন্ন লক্ষ্যে।” কামালের মতে, এই ইসলামি দলগুলির জোট জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল এবং এর পেছনে ছিল বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মদত।

    প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি

    কামাল বলেন, “ওয়াকার ২০২৪ সালের জুনে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন। তারই কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ৫ অগাস্ট ২০২৪ তিনি হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন। কামালের বিশ্বাস, হাসিনাকে সরানোই ছিল ওয়াকারের প্রথম গোপন মিশন, এমন একটি মিশন যার জন্য তাঁকে সেই নেত্রীরই প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করতে হয়েছিল, যিনি তাঁকে সর্বোচ্চ পদে উন্নীত করেছিলেন।” কামাল এও জানান, পাকিস্তানের আইএসআই দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিল। আইএসআই-প্রশিক্ষিত লোকেরা জামায়াতে যোগ দিয়েছিল এবং জুনের শেষ দিকে হিংসা উসকে দিতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল। এর মধ্যে পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলাও ছিল। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় পুলিশের (CIA) শীর্ষ কর্তারা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন এই বলে যে বিদেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গিরা বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে মিশে যাচ্ছে। তিনি (Sheikh Hasina) ততক্ষণাৎ খবরটি দেন হাসিনাকে। কিন্তু হাসিনা তাঁকে জানিয়েছিলেন, সেনাপ্রধান ইতিমধ্যেই তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীই যথেষ্ট।”

    সেনাপ্রধানের দ্বিচারিতা!

    কামালের দাবি, আইএসআই জড়িত থাকার খবর দেওয়ার পরেও ওয়াকার বারবার তাঁকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পুলিশ মোতায়েনের  প্রয়োজন নেই, সেনাবাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার আগের দিন গণভবনে পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে একটি বৈঠক হয়। তাতে সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কামাল প্রস্তাব দেন, বিক্ষোভকারীরা যাতে ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্য পুলিশ যেন সব প্রবেশপথ সিল করে দেয়। কিন্তু ওয়াকার সহমত হননি। তিনি বলেছিলেন, পুলিশের ওপর আর ভরসা নেই জনগণের। তাই সেনাবাহিনীরই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। কামাল জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষায় পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। ওয়াকার সেই প্রস্তাবও খারিজ করে দেন এবং কামাল ও হাসিনা দু’জনকেই আশ্বস্ত করেন যে গণভবনের দিকে কাউকে এগোতে দেওয়া হবে না (CIA)। তিনি বলেন, “সেদিন রাতে তিনি (হাসিনা) তাঁর কথায় বিশ্বাস করেছিলেন। তার পরের দিন কী হয়েছিল, তা তো আমরা সবাই জানি (Sheikh Hasina)।”

LinkedIn
Share