Tag: asansol

asansol

  • Vedanta Invest in Bengal: ৮০ হাজার কোটির বিনিয়োগ! আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে আগ্রহী বেদান্ত

    Vedanta Invest in Bengal: ৮০ হাজার কোটির বিনিয়োগ! আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে আগ্রহী বেদান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বড় শিল্প গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন বেদান্ত গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল (Anil Agarwal Vedanta)। বুধবার নবান্নে এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল রাজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। সূত্রের খবর, আসানসোলে (Asansol) অ্যালুমিনিয়াম কারখানা (aluminium smelter) গড়তে চান অনিল। অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও ভাবছে বেদান্ত। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। রাজ্যে বিনিয়োগ করার জন্য বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যানকে বার্তা দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। বুধবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন অনিল আগরওয়াল।

    ৩ বছরের মধ্যে আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানার ভাবনা

    বাংলা তথা কলকাতার সঙ্গে অনিলের (Vedanta Invest in Bengal) পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। বড়বাজারের তুলাপট্টিতে ছিল অনিলদের পারিবারিক দোকান। কলকাতাতেই কেটেছে ছোটবেলার বেশ কয়েকটি বছর। সেই শহরে ফের কিছু করতে চান অনিল। বাংলার সঙ্গে নতুন বন্ধনে বাঁধতে চান। সূত্রের খবর, আসানসোলে (Asansol) অ্যালুমিনিয়াম কারখানা (aluminium smelter) গড়তে চায় বেদান্ত। প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী তারা। কয়লার জোগান এবং চালু পরিকাঠামোর সুবিধা থাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির জন্য আসানসোলকেই সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে বেদান্ত। তা ছাড়া আসানসোলে গোষ্ঠীর প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। সেখানে কারখানা গড়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে প্রকল্পের জন্য আরও জমির প্রয়োজন হতে পারে। অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমীক্ষার ফল অনুকূল হলে এবং সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে ৩ বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি চালু করা সম্ভব হতে পারে।

    কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার

    মুখ্যমন্ত্রীও বৈঠকে কর্মসংস্থানের বিষয়টিতেই বিশেষ জোর দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে খবর, অনিলকে তিনি বলেছেন, রাজ্যে ১০ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বেদান্তার বিবৃতিতেও বিনিয়োগ ও ১০ হাজার কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়েছে। বাংলায় শিল্পে বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ বাড়ানো রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন, তিনি শ্রমনিবিড় শিল্পে বিনিয়োগ টানতে আগ্রহী। সেই প্রেক্ষাপটে খনি ও ধাতুশিল্পের আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী বেদান্তর আগ্রহ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আগরওয়াল। আসানসোলে বড় কারখানা হলে তার চারপাশে ছোট ও মাঝারি শিল্পের সুযোগও তৈরি হতে পারে। আগরওয়ালের বক্তব্য, অ্যালুমিনিয়ামকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে নানা পণ্য তৈরির উদ্যোগ নিতে পারবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁর মতে, বড় শিল্পের সঙ্গে সরবরাহকারী সংস্থা ও ছোট উদ্যোগের যোগসূত্র তৈরি হলে কর্মসংস্থানের পরিসরও বাড়বে। বুধবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স এবং তার ইয়ং লিডার্স ফোরামের অনুষ্ঠানেও বাংলার শিল্পসম্ভাবনার কথা বলেছেন বেদান্তা চেয়ারম্যান। দক্ষ কর্মী, মেধাসম্পদ এবং শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে রাজ্যের বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে শিল্পমহলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • Samik Bhattacharya: কলকাতাকে কেন্দ্র করে চার রুটে দ্রুতগতির রেল! কেন্দ্রকে প্রস্তাব শমীকের

    Samik Bhattacharya: কলকাতাকে কেন্দ্র করে চার রুটে দ্রুতগতির রেল! কেন্দ্রকে প্রস্তাব শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত ও মসৃণ করতে আঞ্চলিক দ্রুতগতির গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব। দিল্লি-সহ জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে চালু ‘নমো ভারত’-এর ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও এমন রেলপথ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লালের কাছে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি একটি প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার রিপোর্টও জমা দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত চারটি করিডরের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে (NaMo-Bharat)।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কলকাতার ময়দানকে কেন্দ্রীয় সংযোগস্থল ধরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরকে চারটি করিডরের মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল, বন্দর, শিক্ষা ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গে কলকাতার দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তোলাই এই প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রস্তাবিত চার রুট (Samik Bhattacharya)

    প্রথম করিডরটি হবে কলকাতা-ময়দান থেকে কল্যাণী, কৃষ্ণনগর হয়ে মায়াপুর পর্যন্ত। প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে নদিয়া ও সংলগ্ন এলাকার সঙ্গে কলকাতার দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।

    দ্বিতীয় করিডরটি কলকাতা থেকে বর্ধমান, দুর্গাপুর হয়ে আসানসোল পর্যন্ত। প্রায় ২৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলকে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুর্গাপুর ও আসানসোলের সঙ্গে পৃথক দ্রুতগতির গণপরিবহণ সংযোগের কথাও প্রস্তাবে রয়েছে।

    তৃতীয় করিডরটি কলকাতা থেকে ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, হলদিয়া হয়ে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত। প্রায় ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প ও বন্দর এলাকার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    চতুর্থ করিডরটি কলকাতা থেকে সাঁতরাগাছি, কোলাঘাট, খড়গপুর হয়ে মেদিনীপুর পর্যন্ত। প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    রেললাইন-জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে করিডর তৈরির প্রস্তাব

    প্রস্তাবে জমি অধিগ্রহণের সমস্যা ও খরচ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাতীয় সড়ক ও রেলপথের পাশ দিয়ে নতুন দ্রুতগতির রেল করিডর তৈরির কথা বলা হয়েছে। এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কমতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শমীকের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নগর ও পরিকাঠামোগত বিকাশ এখনও মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক। অন্যদিকে দুর্গাপুর, আসানসোল, খড়গপুর, কৃষ্ণনগর ও হলদিয়ার মতো শহর শিল্প, শিক্ষা, বন্দর ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই শহরগুলির মধ্যে দ্রুত ও উচ্চক্ষমতার যাত্রী পরিবহণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে (Samik Bhattacharya)।

    যৌথ মালিকানায় নয়া সংস্থার প্রস্তাব

    প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ মালিকানায় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্থার নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল র‍্যাপিড ট্রানজিট কর্পোরেশন’। জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের পরিবহণ ব্যবস্থার আদলে এই সংস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের প্রকৌশলগত দিক, সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা এবং আর্থিক বিষয় খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Samik Bhattacharya) করার জন্য কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে (NaMo-Bharat) আবেদন জানিয়েছেন শমীক।

     

  • College Street Make Over: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট! বইয়ের দোকান নিয়ে ব্যতিক্রমী ভাবনা অগ্নিমিত্রার

    College Street Make Over: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট! বইয়ের দোকান নিয়ে ব্যতিক্রমী ভাবনা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে সেজে উঠবে বইপাড়া। ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া অর্থাৎ কলেজ স্ট্রিটের (College Street Make Over) এবার ভোলবদল করতে চলেছে বিজেপি সরকার। এক আন্তর্জাতিক রূপরেখায় এই বদল হবে। এবার আর যানজট বা হর্ন-এর শব্দ নয়, লন্ডনের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড স্ট্রিট’-এর আদলে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং ‘নো ভেহিকল জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে এই এলাকাকে। এমনকী, বইয়ের দোকানগুলিকেও নতুন থিমে সাজানো হবে। আসানসোলের জেলা গ্রন্থাগারে এসে এই অত্যন্ত অভিনব ও মেগা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।

    কেন এই উদ্যোগ

    আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে এনে ফের বইমুখী করতেই বইপাড়া হিসেবে পরিচিত কলেজ স্ট্রিটকে নতুন ভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুধু কলকাতাই নয়, মন্ত্রীর এই মেগা ভাবনার ছোঁয়া পেতে চলেছে শিল্পাঞ্চল আসানসোলও। তিনি জানান, আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে ফের বইমুখী করাই সরকারের লক্ষ্য।

    কীভাবে সাজবে কলেজ স্ট্রিট

    নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, কলেজ স্ট্রিটের একটি নির্দিষ্ট বৃত্তাকার অংশে সাধারণ কোনও গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কিছুটা দূরে সাইকেল স্ট্যান্ড থাকবে, যেখান থেকে পরিবেশবান্ধব সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। বয়স্ক মানুষদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকবে ব্যাটারিচালিত গাড়ি। শহরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কলেজ স্ট্রিটে বিশেষভাবে ডিজাইন করা ট্রাম চালানোর ইচ্ছা রয়েছে মন্ত্রীর। তিনি জানান, সম্পূর্ণ বইপাড়ার ফুটপাত ও রাস্তা সেজে উঠবে ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে। চারপাশের বইয়ের দোকানগুলোকে একই রকম থিমে সাজানো হবে। পুরনো দিনের ভিন্টেজ ল্যাম্পপোস্ট, বসার বেঞ্চ ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম শান্ত মনে বসে বই পড়তে বা হেডফোন নিয়ে গান শুনতে পারে। হেরিটেজ রেলিংগুলোকে সংস্কার করে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।

    আসানসোলেও অক্সফোর্ড স্ট্রিট!

    কলকাতার এই মডেলের অনুপ্রেরণায় আসানসোলেও একটি আন্তর্জাতিক মানের পড়ার জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রীর। তাঁর নিজস্ব বিধানসভা এলাকা আসানসোল দক্ষিণে দামোদর নদের অববাহিকায় ভূতাবেরিয়া থেকে ছটঘাট পর্যন্ত যে দীর্ঘ এলাকা রয়েছে, সেটিকেও বিশেষভাবে উন্নত করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানেও অক্সফোর্ড স্ট্রিটের থিম মাথায় রেখে কোলাহলমুক্ত, শান্ত একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করা হবে। ডিজিটাল যুগে বইয়ের কোনও বিকল্প হয় না দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল স্ক্রিনে আটকে গিয়ে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই এই আধুনিক ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে আবার লাইব্রেরি ও বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনাই তাদের আসল লক্ষ্য।”

  • Asansol TMC Councillor: ত্রাণের ত্রিপল ‘চুরি’! গ্রেফতার আসানসোলের তৃণমূল কাউন্সিলর, দুর্নীতির অবসাদে বাদুড়িয়ায় ‘আত্মঘাতী’ পঞ্চায়েত প্রধান

    Asansol TMC Councillor: ত্রাণের ত্রিপল ‘চুরি’! গ্রেফতার আসানসোলের তৃণমূল কাউন্সিলর, দুর্নীতির অবসাদে বাদুড়িয়ায় ‘আত্মঘাতী’ পঞ্চায়েত প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি ত্রাণের ত্রিপল আত্মসাৎ এবং তা কালোবাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগে আসানসোল পুরনিগমের এক তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরকে (Arrested Asansol TMC Councillor) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত জনপ্রতিনিধির নাম মোহিত শর্মা (বাপ্পা), যিনি আসানসোলের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাসকদলের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজ বাসস্থান থেকে জাহিদুল হক বৈদ্য নামে এক তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ত্রাণের ত্রিপল চুরি মামলায় অভিযুক্ত। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত দুর্নীতির চাপে অবসাদ থেকে মৃত্যু।

    গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ লোগোযুক্ত সরকারি ত্রিপল উদ্ধার (Arrested Asansol TMC Councillor)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য সরকারি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল বরাদ্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ, কাউন্সিলর মোহিত শর্মা (Arrested Asansol TMC Councillor) সেই ত্রাণের ত্রিপল দুস্থদের মধ্যে বণ্টন না করে, নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা একটি গুদামে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ত্রিপলগুলি খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে এই দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার পর, পুলিশ আধিকারিকরা আসানসোলের সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালান। তল্লাশি চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ লোগোযুক্ত সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ মজুতকরণের বিষয়ে কাউন্সিলর কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় এবং নথিপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

    আরও বড় কোনো চক্র সক্রিয়

    এদিকে এই ঘটনার পর আসানসোলের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এই রূপ দুর্নীতি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দল কোনও রূপ দুর্নীতি বা অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। আইন আইনের পথেই চলবে এবং প্রশাসন এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বর্তমানে ধৃত কাউন্সিলরকে (Arrested Asansol TMC Councillor) পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারোও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

    মানসিক অবসাদেই আত্মহনন

    উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজ বাসস্থান থেকে জাহিদুল হক বৈদ্য নামে এক তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বাদুড়িয়ার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান (Baduria TMC Panchayat Pradhan) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদের কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে তীব্র আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছিল। গত ৩১ মে এলাকার অধিবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। স্থানীয়দের দাবি, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতাধীন যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য বরাদ্দ ১২টি অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার সরকারি গাড়ি তিনি গোপনে বিক্রি করে দেন এবং সেই অর্থ সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেন।

    তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপে ছিলেন

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা প্রধানের (Baduria TMC Panchayat Pradhan) বাসভবনের সম্মুখে সমবেত হয়ে তীব্র গণবিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। এই প্রেক্ষিতে স্থানীয় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপে ছিলেন ওই জনপ্রতিনিধি।

    বৈবাহিক জীবনেও চরম পারিবারিক অশান্তি

    মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন যে, জাহিদুল হক বৈদ্য নিজ গৃহের অভ্যন্তরে আত্মঘাতী হয়েছেন। খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঝুলন্ত অবস্থা থেকে প্রৌঢ়ের দেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল শেষে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মৃতের পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ ছাড়াও জাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে গভীর আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন। একই সাথে তাঁর বৈবাহিক জীবনেও চরম পারিবারিক অশান্তি চলছিল। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আকস্মিক প্রয়াণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

LinkedIn
Share