Tag: Asim Munir

Asim Munir

  • PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তারপর থেকে আর বড় কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (G7 Summit) মুখোমুখি হওয়া হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার। এবার হবে। জুন মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই ফের মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই ‘মহান বন্ধু’। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্টাইলের কারণে একটি ছোট্ট দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হল, এতে কি আর ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে জুন পর্যন্ত।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলন (PM Modi)

    ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে নিয়মিত যোগ দেয় এই সম্মেলনে। এ বছর ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ স্বয়ং আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (Evian-les-Bains) ১৫-১৭ জুন হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোদি ও ট্রাম্প। শুল্ক উত্তেজনার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে ‘মহান বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর অঙ্গীকারও করেছিলেন এই দুই রাষ্ট্রনেতা।

    নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্পের দাবি

    যদিও গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্প হঠাৎই দাবি করতে থাকেন, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাঁরই মধ্যস্থতায়। এর পর থেকে ট্রাম্প যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই বলে বেড়িয়েছেন, তাঁরই বাণিজ্যিক চাপের কারণে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পুরোপুরি যুদ্ধে জড়ায়নি। ট্রাম্পের এহেন ঘোষণায় খুব খুশি হয়েছিল শাহবাজ শরিফের দেশ। তবে পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও, ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতি হয়েছে সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা করেই, কারও মধ্যস্থতায় নয়। বস্তুত, এর পর থেকেই তলানিতে ঠেকে দুই ‘হুজুরে’র সম্পর্ক (G7 Summit)।

    ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

    গত বছর জুনে কানাডায় হয়েছিল জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে পার্শ্ব বৈঠকে ফের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল এই দুই নেতার। যদিও ট্রাম্প হঠাৎ করেই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাতিল হয়ে যায় প্রস্তাবিত বৈঠক। পরে অবশ্য ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা থেকে ফেরার পথে ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মোদির পূর্বনির্ধারিত ক্রোয়েশিয়া সফর থাকায়, সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ভারত। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সরকারি কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতের আশঙ্কা ছিল যে ট্রাম্প হয়ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মোদিকে নিয়ে একটি ছবি তোলার জন্য চাপ দিতে পারেন। সেই সময় একইসঙ্গে (PM Modi) হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুনিরকেও।

    ভারতকে শায়েস্তা করার চেষ্টা

    তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই অবনতি হয়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের। ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় ভারতকে শায়েস্তা করতে চেষ্টার কম কসুর করেননি ট্রাম্প। তাঁর সরকার প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। রাশিয়ার তেল কেনায় বসানো হয় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও। ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এবং পিটার নাভারো (Peter Navarro) বারবার অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল কিনে ঘুরপথে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সাহায্য করছে ভারত। এই শুল্ক-চাপ মূলত ভারতকে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে থাকা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করানোর মরিয়া চেষ্টা ছিল বলেই খবর (G7 Summit)।

    সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত

    এই পুরো পর্বটায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাথা নত করেননি ট্রাম্পের চাপের কাছে। শুধু তা-ই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শার্ম এল-শেখ এবং কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান (ASEAN) সম্মেলনের মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে যান। কারণ সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারত ট্রাম্পের। গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মেলে। ট্রাম্প জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফের গতি পায় বাণিজ্য আলোচনা। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক কমিয়ে করা হয় ১৮ শতাংশ। বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের করা মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আবারও শোনা কিংবা দেখা যায় পরিচিত বাক্য — “ইন্ডিয়া থেকে আমার বন্ধু” (PM Modi)।

    ট্রাম্পের মুখে মোদি-স্তুতি

    তবে ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের কারণে আটকে যায় আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি সই। ১৭ এপ্রিল টানা ৪০ মিনিট ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরে এটি ছিল তাঁদের তৃতীয় ফোনালাপ। যদিও সেই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে শোনা যায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মোদি-ট্রাম্প। ফোনালাপের পর (G7 Summit) সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওঁর (মোদির) সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। উনি ভারত থেকে আমার বন্ধু। উনি দারুণ কাজ করছেন।” এই প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ফের মুখোমুখি হতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্র প্রধানের এই সাক্ষাৎই কেড়ে নিতে পারে তামাম দুনিয়ার নজর (PM Modi)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসি, করমর্দন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের বাইরেও হবে আসল পরীক্ষা — দুই দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না। খুব সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত আলাপও দিকনির্দেশ করে দিতে পারে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের।

     

  • Pakistan: যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল ইরান

    Pakistan: যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান (Pakistan)। সেই পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েই গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করলেন এক ইরানি আইনপ্রণেতা (Iranian Lawmaker)। তার জেরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে নিরপেক্ষতা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগের।

    কী বললেন ইব্রাহিম রেজায়ি? (Pakistan) 

    দাশতেস্তানের প্রতিনিধি তথা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, “পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।” এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে তিনি পাকিস্তানকে “ভালো বন্ধু ও প্রতিবেশী” বলে উল্লেখ করলেও, বলেন, এটি (পাকিস্তান) উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে। রেজায়ির আরও অভিযোগ, ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের সমালোচনা এড়িয়ে চলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, যেমন লেবানন প্রসঙ্গ ও অবরুদ্ধ সম্পদ, সেগুলিও তুলে ধরে না। তিনি বলেন, “মধ্যস্থতাকারীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হয়। সব সময় এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে থাকা চলে না।”

    আসরে আরাঘচি

    বস্তুত, রেজায়িরও এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন আব্বাস আরাঘচি অনিশ্চয়তার মধ্যেও আলোচনা চালিয়ে যেতে বাড়িয়েছেন কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রসঙ্গত, আরাঘচি সম্প্রতি তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইসলামাবাদ সফর করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাত এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়েও আলোচনা করেন (Iranian Lawmaker)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য প্রবীণ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর তিনি ইসলামাবাদ থেকে ওমানে পৌঁছন। সেখানে তিনি সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল-সঈদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয় (Pakistan)।

    আলোচ্য বিষয়

    ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব, ক্ষতিপূরণের দাবি, ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা  প্রত্যাহারের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে (Iranian Lawmaker)। উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে সংক্ষিপ্ত সফরের পর আরাঘচির মস্কো সফরে যাওয়ার কথা। কারণ তেহরান (ইরানের রাজধানী) আলোচনার গতি ধরে রাখতে চাইছে। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গতি হারাতে থাকায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনা চায় তবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের আগেই ওয়াশিংটন যোগাযোগ কমিয়ে দেয় এবং পাকিস্তানে পরিকল্পিত এক দফা আলোচনাও বাতিল করে দেয় (Pakistan)।

    সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আলোচনা ফের শুরু করতে চাইলে ইরান নিজেই যোগাযোগ করতে পারে। তিনি বলেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তারা আমাদের কাছে আসতে পারে, অথবা ফোন করতে পারে। আপনি (Iranian Lawmaker) জানেন, টেলিফোন আছে। আমাদের উন্নত এবং নিরাপদ যোগাযোগ লাইন রয়েছে।”

     

  • Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) গিয়ে ইরানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূতেরা। অন্তত এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়েছেন।

    ট্রাম্পের দাবি (Donald Trump)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগেই দাবি করেছিলেন, দু’মাসের সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছি, ‘না, তোমরা সেখানে যাওয়ার জন্য ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নেবে না। আমাদের হাতে সব কার্ড আছে। তারা চাইলে যে কোনও সময় আমাদের ফোন করতে পারে। কিন্তু তোমরা আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নিয়ে গিয়ে বসে বসে অর্থহীন আলোচনা করবে না।’”

    আরাঘচির বক্তব্য

    এদিকে, আরাঘচি ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ ছেড়ে গিয়েছেন। এটি ছিল তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের প্রথম গন্তব্য। এরপর তাঁর যাওয়ার কথা, ওমান এবং রাশিয়ায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি প্রেস টিভি জানিয়েছে, তিনি শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে আরাঘচি বলেন, তিনি পাকিস্তানি আধিকারিকদের সঙ্গে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে। তিনি এও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনীতিতে আন্তরিক কিনা, তা এখনও দেখা বাকি (Donald Trump)।”

    ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ওমান সফর শেষে এবং রাশিয়ায় যাওয়ার আগে আরাঘচি ফের পাকিস্তান সফর করতে পারেন (Pakistan)। বিদেশমন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, তার প্রতিনিধিদলের একটি অংশ তেহরানে ফিরে গিয়েছে যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে। তারা রবিবার রাতে ফের ইসলামাবাদে ফিরবে। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে যে কোনও আলোচনা ফোনের মাধ্যমে হতে পারে। তিনি লেখেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!!!” তাঁর আরও দাবি, ইরানে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা কেউ জানে না এবং সেখানে চরম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা চলছে।

    হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

    বিশ্লেষকদের মতে, “সব কার্ড আমাদের হাতে” কথাটি সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং অঞ্চলে ৫০,০০০-এর বেশি সেনার উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে, যারা প্রয়োজনে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত (Donald Trump)। এদিকে, এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করতে চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা চলছে, তার কারণে। এই প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস শনিবার জানিয়েছে, তারা এই জলপথে তাদের অবরোধ এখনই তুলে নিতে চায় না। যদিও এটি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে (Pakistan)। ট্রাম্প বলেন, “আমার দূতদের সফর বাতিল মানেই যুদ্ধ ফের শুরু হবে না। আমরা এখনও সেই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করিনি।”

    ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আরাঘচি শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকটে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ওমানি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি রাশিয়ায় যাবেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করেছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল (Donald Trump)।

     

  • India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের শেয়ার করা ভারতের একটি মানচিত্র (India Map) চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালও (Trade Deal) হয়েছে এই মানচিত্রটি। বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) যে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে (POK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মানচিত্রে আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও চিন এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে।

    নয়া মানচিত্র (India Map)

    অবশ্য ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু এই মানচিত্র আমেরিকার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। এটি ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, পাকিস্তানের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ভারতের মানচিত্রের সঙ্গেই সাযুজ্য রাখছে। এর আগে আমেরিকা বা তাদের বিদেশ দফতর যে মানচিত্রগুলি প্রকাশ করত, তাতে সাধারণত পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখে পিওকে-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে। এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় ট্রাম্প নেতৃত্ব এক টালমাটাল সময় পার করার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের সম্পর্ক নতুন করে সাজাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (India Map)।

    ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত

    এছাড়া ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে দেখার (re-hyphenation) নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শুরু করা ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও তা অনুসরণ করে এসেছিলেন। মানচিত্রে লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চলকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে (Trade Deal)। প্রসঙ্গত, ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অবশেষে ভারতের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা দ্রুত এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গৌরব আর্য টুইট করে লেখেন, “মানচিত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো নম্বর। খুব ভালো কাজ (India Map)।”

    পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    আর এক ইউজার লেখেন, “পাকিস্তান, (আসিম) মুনির এবং ওয়াশিংটন সফর নিয়ে প্রচারের পক্ষে এটা একটা বড় ধাক্কা”, যা ইসলামাবাদের ট্রাম্পকে তোষামোদ করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে (Trade Deal)। গত ছ’মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে জুন মাসের একটি বহুল আলোচিত মধ্যাহ্নভোজও রয়েছে। এটি ছিল প্রথমবার, যখন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন, কোনও বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়াই। এক সাংবাদিক টুইট-বার্তায় লেখেন, “বাণিজ্য গৌণ বিষয়। আসল বিষয় হল, এই মানচিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে পিওকে-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হত।”

    অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি

    তবে মধ্য-মার্চে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, বিশেষত ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরে। ভারত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ওষুধ, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজের ‘রেড লাইন’ অটুট রেখেছে (India Map)। এখন প্রশ্ন হল, এই মানচিত্র কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সূক্ষ্ম কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ভারতের দিকে ঝুঁকছে? এটি কি ট্রাম্পের সঙ্গে এক বছরের টানাপোড়েনের পর ভারতকে তুষ্ট করার কৌশল, নাকি নিছকই আমলাতান্ত্রিক অসাবধানতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই (Trade Deal) মানচিত্র ভারতকে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে এবং ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ডগত দাবিকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে (India Map)।

     

  • Pakistan: “আসিম মুনির হলেন স্যুট পরা ওসামা বিন লাদেন,” তোপ প্রাক্তন পেন্টাগন কর্তার

    Pakistan: “আসিম মুনির হলেন স্যুট পরা ওসামা বিন লাদেন,” তোপ প্রাক্তন পেন্টাগন কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আসিম মুনির (Asim Munir) হলেন স্যুট পরা ওসামা বিন লাদেন।” পাক (Pakistan) সেনাপ্রধান সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন পেন্টাগন কর্তা মাইকেল রুবিন। তিনি বলেন, “ইসলামাবাদ যুদ্ধোন্মাদ আচরণের মাধ্যমে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রের মতো আচরণ করছে।” রুবিন পাকিস্তানের কার্যত সামরিক শাসক মুনিরকে ৯/১১ হামলার মূল হোতা ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “মুনিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলি বিশ্বের কাছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বক্তব্যের মতো শোনাচ্ছে।”

    বিতর্কের সূত্রপাত (Pakistan)

    বিতর্কের সূত্রপাত মুনিরের একটি বক্তব্যকে ঘিরে। সোমবারই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় পাকিস্তানের কনসাল আদনান আসাদ আয়োজিত ব্ল্যাক-টাই ডিনারে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মুনির বলেছিলেন, “আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি আমরা মনে করি আমরা ডুবে যাচ্ছি, তাহলে আমরা বিশ্বের অর্ধেককে আমাদের সঙ্গে নিয়ে ডুবব।” ভারত মুনিরের পারমাণবিক যুদ্ধের এই হুমকির আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দে করেছে। বিদেশমন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “পারমাণবিক অস্ত্রের ঝনঝনানি পাকিস্তানের চিরাচরিত কৌশল এবং দুঃখের বিষয় হল এ ধরনের মন্তব্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ তৃতীয় দেশের মাটি থেকে করা হয়েছে (Asim Munir)।”

    মুনিরকে ধুয়ে দিলেন রুবিন

    কেবল ভারত নয়, মুনিরকে ধুয়ে দিয়েছেন রুবিনও। তিনি বলেন, “আমেরিকানরা সন্ত্রাসবাদকে ক্ষোভের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। তারা অনেক জঙ্গির আদর্শগত ভিত্তি বোঝে না।” এর পরেই তিনি বলেন, “আসিম মুনির হলেন স্যুট পরা ওসামা বিন লাদেন (Pakistan)।” প্রাক্তন মার্কিন আধিকারিক রুবিনের ইঙ্গিত, পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তাঁর যুক্তি, পাকিস্তান ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক বিরোধের তুলনায় মৌলিকভাবে এক ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে। রুবিন বলেন, “মুনিরের বক্তব্য অনেকের মনেই প্রশ্ন তুলছে, তাহলে কি পাকিস্তান একটি রাষ্ট্র হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম?” তিনি বলেন, “একজন ফিল্ড মার্শালের কথাবার্তা আমাদের ইসলামিক স্টেটের কাছ থেকে শোনা বক্তব্যের মতো শোনাচ্ছে।”

    রুবিনের প্রস্তাব

    রুবিনের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক (Asim Munir) সম্প্রদায়ের উচিত পাকিস্তানকে তার ভাষায় পরিকল্পিত পতনের মধ্যে দিয়ে যেতে দেওয়া, যার মধ্যে বালুচিস্তানের মতো বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তিনি এমনকি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সুরক্ষার জন্য সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “সময় প্রায় এসে গিয়েছে যখন ভবিষ্যতের কোনও প্রশাসনকে অন্য এসইএএল টিম পাঠিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে তার পারমাণবিক অস্ত্র সুরক্ষিত করতে হবে। কারণ বিকল্পটি এতটাই ভয়াবহ যে সেটি সহ্য করার মতো নয়।”

    পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত

    রুবিনের মতে, এমন (Pakistan) কোনও কারণ নেই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে একটি প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের হওয়া উচিত প্রথম প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র, যাকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে এবং তার আর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদস্য থাকা উচিত নয়।” কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে রুবিন বলেন, “আসিম মুনিরকে আমেরিকার উচিত অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করা এবং যেন কখনওই তিনি আমেরিকান ভিসা না পান। একই সঙ্গে কোনও পাকিস্তানি কর্মকর্তাও নয়, যতক্ষণ না পাকিস্তান নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এবং মুনিরের এহেন বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চায় (Asim Munir)।”

    ওসামা বিন লাদেনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে

    রুবিন বলেন, “আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের এহেন হুমকি মেনে নেওয়া যায় না। ইসালামাবাদের এই হুমকি বিশ্বের সামনে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই দেশ কি আদৌ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করবে অথবা শেষ সময় চলে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানি (Pakistan) ফিল্ড মার্সালের উসকানিমূলক ধমক ওসামা বিন লাদেনের মুখের কথাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আমেরিকা সন্ত্রাসবাদকে দেখে অভাব-বঞ্চনার চশমা চোখে। তারা বোঝে না বহু জঙ্গির মনে আদর্শগত আক্রোশ চোরা স্রোতের মতো ঘুরে বেড়ায়।”

    ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    মার্কিন ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে মুনিরের এহেন মন্তব্যের পরেও ট্রাম্প কোনও পদক্ষেপ না করায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পেন্টাগনের এই প্রাক্তন কর্তা। তিনি বলেন, “আসিম মুনির যখন এই মন্তব্য করেছিলেন, তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে টাম্পা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে আমেরিকা থেকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো উচিত ছিল।” একই সঙ্গে ভারতের বক্তব্যকে সমর্থন করে (Asim Munir) পেন্টাগনের এই প্রাক্তন আধিকারিক বলেন, “পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ঘোষণা করা হোক (Pakistan)।”

  • India’s Response to Nuclear Threat: পরমাণু অস্ত্রধারী বোধবুদ্ধিহীন দেশ পাকিস্তান! মুনিরকে জবাব ভারতের, বার্তা আমেরিকাকেও

    India’s Response to Nuclear Threat: পরমাণু অস্ত্রধারী বোধবুদ্ধিহীন দেশ পাকিস্তান! মুনিরকে জবাব ভারতের, বার্তা আমেরিকাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরমাণু অস্ত্রধারী (Nuclear threat) একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন দেশ পাকিস্তান। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir) মন্তব্য নিয়ে এমনই বার্তা দিল নয়াদিল্লি। সোমবার ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আসিম মুনির যে অর্ধেক পৃথিবীকে ধ্বংস করার কথা বলেছেন,তাতেই বোঝা যায় দেশটি একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন (India’s Response to Nuclear Threat) দেশ যাদের হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও এ নিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল। ভারত জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের পরমাণু হুমকির সামনে মাথা নত করা হবে না। সেই সঙ্গে ‘বন্ধু দেশের’ মাটি থেকে এমন বার্তা দুর্ভাগ্যজনক বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

    দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়

    বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমেরিকা থেকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কিছু মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে হট্টগোল করা পাকিস্তানের প্রধান চালিকাশক্তি। এই ধরনের মন্তব্যে যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা প্রকাশ পেয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমন একটা দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ থাকায় যে সন্দেহগুলি দানা বেঁধেছিল, সেগুলিই আরও জোরদার হচ্ছে। সেখানে সামরিক বাহিনী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।’’পরমাণু অস্ত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে অর্থাৎ সেনাবাহিনীর হাতে চলে যাওয়াকেও ‘প্রকৃত বিপদ’ বলে মনে করে ভারত।

    মার্কিন-মুলুক থেকে কেন এই বার্তা

    এর পরেই আমেরিকার উদ্দেশে বার্তা (India’s Response to Nuclear Threat) দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এই ধরনের মন্তব্য বন্ধুত্বপূর্ণ তৃতীয় দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে করা হচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ভারত পরমাণু হুমকির সামনে মাথা নত করবে না। আগেও তা স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ করব।’’ উল্লেখ্য, আমেরিকায় গিয়ে পরমাণু বোমা (Nuclear bomb) ব্যবহার করে ভারতকে (India) ধ্বংস করার সরাসরি হুমকি দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir)। মার্কিন সফরে গিয়ে এক নৈশভোজের অনুষ্ঠানে মুনির বলেন, ‘‘আমরা যদি ডুবে যাই, তবে সঙ্গে অর্ধেক দুনিয়াকেও টেনে নেব।’’ মুনির বলেন, ‘‘আমরা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি শেষ হয়ে যাচ্ছি, তবে আমরা অর্ধেক দুনিয়াকে শেষ করে দেব।’’

    পাকিস্তানের বেস কি বাংলাদেশ

    মার্কিন মুলুকে দাঁড়িয়ে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির এ-ও বলেছেন, পাকিস্তান নাকি এবার ভারতের পূর্ব দিক থেকে আক্রমণ শুরু করবে। এই আবহে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশকে কি পাকিস্তান সেই ক্ষেত্রে ‘বেস’ হিসেবে ব্যবহার করবে? এ ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানের অপ্রশাসনিক শক্তিকে সাবধান করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণে বাইরে থাকা এইসব শক্তি পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ছেলেখেলার স্তরে পৌঁছে যাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের উপর নজরদারি করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ভারতের মতে, পাকিস্তানের বারবার পরমাণু অস্ত্রের হুমকিও ভারতের সন্ত্রাস বিরোধী কার্যকলাপ ঠেকাতে পারবে না। পাকিস্তানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকাটাই এই অবস্থায় বাঞ্ছনীয় কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে ভারত। কারণ এরকম পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের দায়িত্ববুদ্ধিহীন ও দুর্বৃত্ত দেশের উপর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজর রাখা জরুরি বলে মনে করেন রাজনাথ সিং।

    আমেরিকাকেও জবাব

    পাকিস্তানে ভারতের সেনা অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তৎপরবর্তী দুই দেশের সংঘাতের পরে দু’মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার আমেরিকায় গিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান। ফ্লরিডার টাম্পায় শিল্পপতি আদনান আসাদ আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর সেখান থেকেই পাকিস্তানকে পারমানবিক শক্তিধর দেশ বলে দাবি করে ভারতকে খোঁচা দেন মুনির। এমনকি ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন। যা পহেলগাঁও হামলার পর স্থগিত করেছে ভারত। এপ্রসঙ্গে মুনির বলেন, ‘ভারত বাঁধ তৈরি করুক। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের কোনও অভাব নেই। বাঁধের কাজ হয়ে গেলেই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মেরে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’ পর্যবেক্ষকদের মতে, আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃতীয় কোনও দেশকে এ হেন পরমাণু হুমকির নজির বিরল। সম্প্রতি খনিজ তেল নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তি হয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সূত্রে পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ইসলামাবাদের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে দুই দেশকেই স্পষ্ট বার্তা দিল ভারত।

  • Asim Munir: মার্কিন-ভূমে দাঁড়িয়ে ভারতকে ফের পরমাণু বোমার হুমকি মুনিরের! নেপথ্যে ট্রাম্পের ইন্ধন?

    Asim Munir: মার্কিন-ভূমে দাঁড়িয়ে ভারতকে ফের পরমাণু বোমার হুমকি মুনিরের! নেপথ্যে ট্রাম্পের ইন্ধন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন-ভূম থেকে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir) পারমাণবিক হামলার হুমকি দিলেন ভারতকে। এর পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, মার্কিন ভূমে দাঁড়িয়ে ভারতকে সরাসরি হুমকি কী করে দিচ্ছেন মুনির? ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে নিশ্চয়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইন্ধন রয়েছে, নয়তো, এত দুঃসাহস মুনিরের হত না।

    ঠিক কী বলেছেন মুনির?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাম্পায় পাকিস্তানের কনসাল আদনান আসাদ আয়োজিত ব্ল্যাক-টাই ডিনারে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মুনির বলেন, “আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি আমরা মনে করি আমরা ডুবে যাচ্ছি, তাহলে আমরা বিশ্বের অর্ধেককে আমাদের সঙ্গে নিয়ে ডুবব।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শুরু করব ভারতের পূর্ব দিক থেকে, যেখানে তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ রয়েছে, তারপর পশ্চিম দিকে এগোব (Asim Munir)।” সিন্ধু জল চুক্তির প্রসঙ্গে মুনির বলেন, “এই চুক্তি স্থগিত করে ভারত ২৫ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আমরা অপেক্ষা করব ভারতের বাঁধ নির্মাণ করা পর্যন্ত। যখন তারা এটা করবে তখন ১০টি মিসাইল দিয়ে তা ধ্বংস করে দেব।” তিনি বলেন, “সিন্ধু নদ ভারতীয়দের পারিবারিক সম্পত্তি নয়। আমাদের মিসাইলের কোনও অভাব নেই (Asim Munir)।”

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য জটকে হাতিয়ার

    এর পরেই ভারত ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে (Inflammatory Nuke Speech) মুনির একটি মার্সিডিজ গাড়ি এবং নুড়ি-পাথর ভর্তি ট্রাকের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বোঝাতে আমি একটি সরল উদাহরণ ব্যবহার করছি। ভারত একটি চকচকে মার্সিডিজ, যা হাইওয়েতে ছুটছে, আর আমরা নুড়ি-পাথরে ভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক। যদি ট্রাকটি গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কে?”  ভারত-আমেরিকার মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও তোলেন মুনির। ট্রাম্পের অধীনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির বর্তমান বাণিজ্য উত্তেজনাকে নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, পাকিস্তানের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় মাস্টারক্লাস অফার করা। মুনির বলেন, “আমাদের সাফল্যের আসল কারণ হল আমরা কৃপণ নই। কেউ ভালো কাজ করলে আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁকে স্বীকৃতি দিই। এই কারণেই আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছি।”

    মুনিরের বক্তব্য ওড়ালেন বিশেষজ্ঞরা

    মুনিরের উসকানিমূলক ভাষণে কী বললেন সেটা নয়, বরং কোথায় দাঁড়িয়ে মুনির কথাগুলি বললেন, সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। মুনিরের এই বক্তব্যকে আসলে আমেরিকার তরফে একটি পরোক্ষ হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রাক্তন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র’)-এর প্রধান বিক্রম সুদ। তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানকে বোঝাতে মুনির যে উদাহরণ দিয়েছেন – ভারতকে মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং পাকিস্তানকে কাঁকরবাহী ট্রাকের সঙ্গে তুলনা—তা যথার্থ।  এক্স হ্যান্ডেলে বিক্রম বলেন, এক অর্থে, মার্কিন ভূমিতে মুনিরের ঘোরাঘুরি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরোক্ষ হুমকি। এটিকেই সেইভাবে দেখা উচিত। মার্সিডিজ আর ডাম্প ট্রাকের উদাহরণটি সঠিক—শুধু পার্থক্য হল, ডাম্প ট্রাকে এক কণা নুড়িও নেই (Inflammatory Nuke Speech)।” মুনিরের বক্তব্য খারিজ করে দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল পিকে সেহগলও। তিনি বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্র হল প্রতিরোধের অস্ত্র এবং সেগুলি কখনওই ব্যবহার করা যাবে না।”

    কেন আমেরিকার ভূমিকে বাছলেন মুনির?

    প্রশ্ন হল, কেন মুনির ভারতকে হুমকি দিলেন মার্কিন ভূখণ্ড থেকে? মুনিরের আমেরিকাকে তাঁর উসকানিমূলক মন্তব্যের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনার নেপথ্য কারণ হল ট্রাম্পের আমলে পাক-মার্কিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতি। তাই আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে মুনিরের (Asim Munir) এই হুমকি মোটেই বিস্ময়ের নয়। আয়ুব থেকে জিয়া এবং মোশাররফ থেকে মুনির—প্রত্যেকেই ভেবেছিলেন আমেরিকানরাই তাঁদের প্রকৃত বন্ধু। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁরা হচ্ছেন আদতে দাবার বোড়ে। তাই মুনিরের পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দেওয়ার মূল কারণ হল ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুরে’ পাকিস্তানের পারমাণবিক ভয় দেখানোর কৌশল ভেঙে দেওয়া।

    উগ্রপন্থীদের আশ্বস্ত করার প্রয়াস মাত্র!

    মুনিরের হুমকি ছিল ভারতের সাহসী সামরিক অভিযানের জবাব, যেখানে ‘অপারেশন সিন্দুরে’ পাক ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি শিবিরগুলিকে টার্গেট করা হয়েছিল। এমনকি প্রতীকী বার্তা হিসেবে কাইরানা পাহাড়েও আঘাত হানা হয়, যা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের (Asim Munir) ভান্ডার হিসেবে পরিচিত।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুনিরের এই সব মন্তব্য পাকিস্তানের উগ্রপন্থীদের আশ্বস্ত করার উদ্দেশ্যেও করা হয়েছে, বিশেষত যখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একের পর প্রশ্নবাণে বিদ্ধ মুনিরের নেতৃত্ব।

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে আমেরিকায় গিয়েছিলেন মুনির। সেবার ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও সেরেছিলেন তিনি। সেই প্রথম কোনও সরকারি আধিকারিক ছাড়াই পাক সেনাপ্রধানকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন কোনও প্রেসিডেন্ট। সেই সময় ভারত-পাক (Inflammatory Nuke Speech) উত্তেজনা প্রশমনেও মুনিরের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। তার পরেই পরমাণু যুদ্ধ রোখার জন্য ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব দেন পাক সেনাপ্রধান (Asim Munir)।

  • Asim Munir: “ভারত একটি চকচকে মার্সিডিজ, পাকিস্তান একটি ডাম্প ট্রাক”, অদ্ভূত তুলনায় হাসির খোরাক হলেন আসিম মুনির

    Asim Munir: “ভারত একটি চকচকে মার্সিডিজ, পাকিস্তান একটি ডাম্প ট্রাক”, অদ্ভূত তুলনায় হাসির খোরাক হলেন আসিম মুনির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir) সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন এক তুলনা টেনেছেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রবল ট্রোল ও সমালোচনা। ঘটনার সূত্রপাত হয় পাক সেনাপ্রধানের এক বক্তব্য ঘিরে। আসিম মুনির বলেন, “আমি একটি রূঢ় উপমা দিয়ে বোঝাতে চাইছি। ভারত একটি চকচকে মার্সিডিজ, যা হাইওয়েতে ছুটছে ফেরারির মতো। আর আমরা একটি ডাম্প ট্রাক, যা ভর্তি কাঁকর-নুড়িপাথর দিয়ে। এখন যদি এই ট্রাক গিয়ে মার্সিডিজকে ধাক্কা দেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে?” এই বক্তব্যে মুনির বোঝাতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তান হয়তো মার্সিডিজের মতো ঝকঝকে নয়, কিন্তু একটি ডাম্প ট্রাকের মতো ভারি ও ধাক্কা দিতে সক্ষম। তবে তাঁর এই উপমা ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল

    এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হন মুনির। এক নেটিজেন বলেন, “এই তুলনায় আসলে পাকিস্তানকেই তিনি ‘ডাম্প ট্রাক’ বলে স্বীকার করেছেন, যা একধরনের আত্ম-অপমান।” একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “মুনিরের বক্তব্যে একমাত্র সত্য হলো, ভারত একটি মার্সিডিজ, আর পাকিস্তান একটি ডাম্প ট্রাক। বাকিটা কল্পনা।” আরেকজন লিখেছেন, “অন্তত পাকিস্তান নিজেদের বাস্তবতা জানে… তারা ডাম্প ট্রাক ছাড়া অন্য কিছুই নয়। ব্যর্থ মার্শাল স্বীকার করলেন যে তারা কতটা করুণ অবস্থায় আছেন।” কেউ আবার এআই জেনারেটেড ছবি দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, মার্সিডিজ ও ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে কী হতে পারে। একজন মজা করে লেখেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম এটা মজা। পরে বুঝলাম, না — এটা আসলেই বলেছে! পাকিস্তান সত্যিই আসিম মুনিরের মতো সেনাপ্রধানকে ডিজার্ভ করে।”

    মার্কিন মুলুকে মুনির

    একদিকে ভারতের উপরে ক্রমাগত চাপাচ্ছেন ট্যারিফ, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা বাড়িয়েই চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিন কয়েক আগেই পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এবার ফের মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। বিগত দুই মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মার্কিন সফরে আসিম মুনির। আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি ভারতকে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকিও দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান যদি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে, তাহলে পাকিস্তান পুরো অঞ্চলকে পারমাণবিক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেবে।

  • Pakistan: পাকিস্তানে পালাবদলের ইঙ্গিত, জারদারিকে হঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে বসতে চলেছেন মুনির?

    Pakistan: পাকিস্তানে পালাবদলের ইঙ্গিত, জারদারিকে হঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে বসতে চলেছেন মুনির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) কি পালাবদল হতে যাচ্ছে? সে দেশের একটি সূত্রের খবরে ইঙ্গিত, ইতিমধ্যেই গঠিত হয়ে গিয়েছে একটি নীরব অভ্যুত্থানের রূপরেখা। এই জল্পনার ফোকাসে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir)। সম্প্রতি তাঁর পদমর্যাদা বৃদ্ধি, উচ্চ পর্যায়ের কাজকর্ম, কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং দৃশ্যমানতার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি – এই সব মিলিয়ে ইসলামাবাদে পট পরিবর্তনের একটি জল্পনা জোরালো হয়েছে।

    জোরালো হয়েছে অভ্যুত্থানের গুঞ্জন (Pakistan)

    গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং মুনিরের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। তার পর থেকে আরও জোরালো হয়েছে অভ্যুত্থানের গুঞ্জন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হতে পারে সেনাপ্রধানকে। যদিও এ সব পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের গতিবিধি দেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠিত হতে পারে। সেখানে মুনিরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী দেশের অসামরিক প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের কর্তৃত্ব আরও জোরদার করতে পারে।

    জল্পনার কারণ

    এহেন জল্পনার একটি কারণও রয়েছে। সেটি হল, এমন দৃষ্টান্ত পাকিস্তানে আগেও তৈরি হয়েছে। ১৯৫৮ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জাকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখলে করেন আয়ুব খান। পরে তিনি নিজেই রাষ্ট্রপতি হয়ে যান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আয়ুব খানেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারেন মুনির। তিনি ইতিমধ্যেই পাক সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সম্প্রতি ফিল্ড মার্শাল পদেও উন্নীত হয়েছেন। মুনিরই হলেন পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় সেই ব্যক্তি যিনি আয়ুব খানের পথে হাঁটছেন। সেই কারণেই ছড়িয়েছে যাবতীয় জল্পনা। পাক সেনার সব প্রধান পদে কোনও না কোনও সময় থেকেছেন মুনির। তিনি পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর জেনারেলও ছিলেন। ছিলেন কোর কমান্ডারের সর্বময় কর্তাও। জানা গিয়েছে, বর্তমানে তিনি প্রতীকী ও কৌশলগত উভয় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে দেশটির শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    আয়ুবের সঙ্গে তুলনা মুনিরের

    কেন ১৯৫৮ সালের আয়ুবের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে ২০২৫-এর মুনিরের? রাজনৈতিক মহলের মতে, এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে মুনিরের (Pakistan) সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই। চলতি বছরের শুরুতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, তুরস্ক, ইরান এবং আজারবাইজানের মতো ইসলামি রাষ্ট্র কিংবা মুললিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সফর করেছেন (Asim Munir)। ওই দেশগুলিতে তিনি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও করেছেন বলে খবর। এহ বাহ্য! সম্প্রতি মুনির গিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি সফরে। এই দুই দ্বীপরাষ্ট্রে তাঁর সঙ্গে না ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী, না ছিলেন পাকিস্তানের অন্য কোনও পদাধিকারী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এশিয় দেশগুলিতে মুনিরের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিও ইঙ্গিত দেয় যে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক আচরণে একটি নয়া মোড় এসেছে। শুধু তাই নয়, ফোকাসে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক মুনির।

    মুনিরকে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

    চমকের আরও বাকি আছে। গত মাসে মুনিরকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনাটি একটি বিরল কূটনীতির অঙ্গ। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাধারণত ভোজে আমন্ত্রণ জানান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের। মুনির রাষ্ট্রপ্রধান না হয়েও সেই আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। এতেই পাকিস্তানে পালাবদলের জল্পনার পারদ আরও চড়তে থাকে। হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট রুম এবং ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও মুনিরের বৈঠক হয়। এটাও বিশ্বমঞ্চে মুনিরের গুরুত্বকে তুলে ধরে (Asim Munir)। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এখনও এই ধরনের কোনও আমন্ত্রণ পাননি হোয়াইট হাউস থেকে। মুনিরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর সম্পর্কে বিবৃতি জারি করে পাক সেনাবাহিনী, ১০ জুলাই (Pakistan)। অথচ, রীতি অনুযায়ী, এটি করার কথা পাক বিদেশমন্ত্রকের। জানা গিয়েছে, বিদেশমন্ত্রককে স্রেফ অন্ধকারে রেখেই এহেন ব্যতিক্রমধর্মী একটি বিবৃতি প্রকাশ করে পাক সেনা।

    ইমরান খানের অভিযোগ

    মুনিরকে নিয়ে জল্পনা ছড়ানোর আরও একটি কারণ রয়েছে। সেটি হল, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের একটি অভিযোগ। বর্তমানে তিনি বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বন্দি অবস্থায় যদি তাঁর কিছু হয়, তাহলে তার দায় নিতে হবে মুনিরকেই। একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এহেন দাবি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পালাবদলের ইঙ্গিত দেয় বই কি! তাছাড়া, মুনির যেভাবে একের পর এক একক কূটনৈতিক মিশনে অংশ নিচ্ছেন, তাতে আরওই স্পষ্ট হচ্ছে যে মুনিরের রাষ্ট্রপতি পদে বসার চিত্রনাট্যটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত (Pakistan)।

    চিত্রনাট্যটি মঞ্চায়িত হয় কিনা, এখন তাই দেখার (Asim Munir)।

  • Trump Munir Meet: ট্রাম্প-মুনির বৈঠক! কেন পাকিস্তানের প্রতি ‘হঠাতই সদয়’ আমেরিকা?

    Trump Munir Meet: ট্রাম্প-মুনির বৈঠক! কেন পাকিস্তানের প্রতি ‘হঠাতই সদয়’ আমেরিকা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি অভিবাসীদের হাতে ট্রোলড হন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির (Trump Munir Meet)। জনসমক্ষে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে এতকিছুর পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এক গোপন বৈঠক হয়। এই বৈঠক ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের প্রতি ‘হঠাতই সদয়’ হওয়ার পিছনে একাধিক কৌশলগত স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে।

    পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণ কেন্দ্র

    প্রথমত, ধারণা করা হচ্ছে যে, পাকিস্তানের (Trump Munir Meet) কয়েকটি অঞ্চলে — বিশেষ করে নূর খান ও কিরানা হিলস এলাকায় — আমেরিকার গোপন পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ রয়েছে। ভারতের বিমান হামলার পর ওই অঞ্চলগুলিতে মার্কিন উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবে বেড়ে যায় বলে অনেকেই দাবি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিও, যেখানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ গুল দাবি করছেন, নুর খান এয়ারবেস এখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। পাকিস্তানের সেনা আধিকারিকরাও প্রবেশ করতে পারছেন না। তাদের কোনও কিছু করতে দেওয়া হচ্ছে না। ওই বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে আমেরিকার কার্গো আসা-যাওয়া করত। ওই কার্গোর ভিতরে কী থাকে, সেই সম্পর্কে পাকিস্তান সেনাও জানে না। একদিন যখন মালপত্র নামানো হচ্ছিল, পাক বায়ুসেনার এক শীর্ষ আধিকারিক, মার্কিন মেরিনকে প্রশ্ন করেন যে কার্গোর ভিতরে কী রয়েছে। মার্কিন নৌসেনা সাফ জানায়, তারা কিছু জানাতে পারবে না। জোরাজুরি করতেই, সঙ্গে সঙ্গে তার মাথায় পিস্তল তাক করে ওই মার্কিন সেনা। অর্থাৎ এখন পাকিস্তানের এয়ারবেসের ভিতরে কী হচ্ছে, তা পাকিস্তান নিজেই জানতে পারছে না। আমেরিকা এই এয়ারবেসের কার্যত দখল নিয়ে নিয়েছে। তাই পাকিস্তানকে ভেঙে পড়তে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নিরাপদ নয়। প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক দীপক ভোরার মতে, আসলে পাকিস্তানের নিজের বলে কিছুই নেই পুরোটাই অন্যের থেকে নেওয়া।

    ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা

    দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প (Trump Munir Meet) পরিবারের পাকিস্তানে বড়সড় ক্রিপ্টো ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে বলে গুঞ্জন। পাকিস্তানের মুদ্রার প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাওয়ায় অনেকেই এখন ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন। এই নতুন বাজারে প্রবেশের একটি সুবর্ণ সুযোগ দেখছে ট্রাম্প পরিবার। পাকিস্তানে ব্লকচেইন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে প্রবেশ করছে ট্রাম্প পরিবার-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ (ডব্লিউএলএফ)। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ডিফাই ও ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানির ৬০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই পুত্র এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের হাতে। ডব্লিউএলএফ-এর সহ-সভাপতি হিসেবে আছেন জ্যাকারি উইটকফ, যিনি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার স্টিভ উইটকফের পুত্র। কোম্পানিটি ব্লকচেইন প্রযুক্তি, স্টেবলকয়েন এবং ডিফাই খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

    ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল, ইসলামাবাদে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রকের উদ্যোগে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিলের সঙ্গে একটি ‘লেটার অফ ইনটেন্ট’ (প্রস্তাবপত্র) সই করে ডব্লিউএলএফ। এই কাউন্সিলটি গঠিত হয় মাত্র এক মাস আগে, যার নেতৃত্বে আছেন বিলাল বিন সাকিব – পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীর উপদেষ্টা। চুক্তির আওতায় পাকিস্তানে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার, সম্পদ টোকেনাইজেশন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্সের জন্য স্টেবলকয়েন চালু এবং ডিফাই পাইলট প্রকল্পের জন্য নিয়ন্ত্রক স্যান্ডবক্স তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব রক্ষা করা আমেরিকার নিজেদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

    ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহ

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেও ট্রাম্প (Trump Munir Meet) কাছে টানছেন মুনিরকে। আমেরিকা এই যুদ্ধে সরাসরি যোগ দিলে হয়তো ইরানের পাশের দেশ পাকিস্তানে ফের ঘাঁটি গাড়তে চাইবে তারা। সেই লক্ষ্যেই পাকিস্তানকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে বাধ্য করছে আমেরিকা। ইসলামিক বিশ্বের যে কথা এতদিন ইসলামাবাদ বলে এসেছে। তা-ও আসলে ভাঁওতা। ইসলামিক বিশ্বে সংঘাত একটি জটিল সমস্যা। তা সে শিয়া-সুন্নি বিভেদই হোক বা বিভিন্ন দেশ ও গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা এবং প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্খা। আর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলেও কিছু নেই — আছে কেবলমাত্র স্থায়ী স্বার্থ। ভূরাজনীতির জগৎ আবেগের উপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের চাহিদার উপর নির্ভর করে। একটি দেশের জন্য যা কিছু ভালো তা তার স্থায়ী স্বার্থ এবং যে দেশ এটি অর্জনে তাকে সহায়তা করে সেই দেশ তার বন্ধু। এই নীতিকেই সামনে রেখে ভারতও তার বিদেশনীতি পরিচালনা করছে, যেখানে দেশের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হচ্ছে।

LinkedIn
Share